Blog

  • Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে তাঁর মতে, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা কোনও অপরাধ নয় এবং তরুণদের রাজনীতিতে আসা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক বিষয়। প্রখর গুপ্তের সঙ্গে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেন, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার ভূমিকা দেখে তাঁর মনে হয়েছে যে তাঁদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে তাঁরা সরাসরি তাঁকে রাজনীতিতে প্রবেশের ইচ্ছার কথা জানাননি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

    ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে রাজনীতি নয়!

    ওয়াংচুক বলেন, তিনি সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের এমন কোনও ‘সাধু’ হিসেবে দেখেন না, যাঁদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা নিয়ে ‘কোনও সমস্যা নেই’। বরং তরুণদের জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করতে করতে রাজনীতিতে আসাকে তিনি উৎসাহিত করবেন। প্রয়োজনে তাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন অথবা নতুন রাজনৈতিক সংগঠনও গড়ে তুলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ছাত্র আন্দোলনকে (Sonam Wangchuk on CJP Protest) রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ওয়াংচুক। প্রায় দু’মাস ধরে যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আন্দোলনের মঞ্চকে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

    ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখা উচিত!

    ওয়াংচুকের বক্তব্য,সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখতে সেটিকে নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক এবং একটি চাপসৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবে রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আন্দোলনটি সমর্থন পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল মানুষ সেটিকে বিজেপি, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির (AAP) আন্দোলন হিসেবে দেখেননি। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল। সিজেপি (CJP)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অতীতে আপ-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওয়াংচুক জানান, এতে তাঁর কোনও আপত্তি ছিল না। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র—এই দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা উচিত।

  • Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হলদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানকে (Purification Controversy) কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, এই ঘটনাকে ঘিরে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও অপমান করা হয়েছে।

    রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর (Rahul Gandhi)

    হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে হলদ্বানির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি ওই শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ও ২৯৯ ধারা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    অমিত কুমার এবং বিনোদ কুমার আর্য এর আগে রাহুলের মন্তব্য নিয়ে হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ নিয়ে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মামলা রুজু করা হয়।

    খাড়গের সভার পর থেকেই বিতর্ক

    গত ৮ অগাস্ট হলদ্বানির রামলীলা ময়দানে একটি জনসভায় ভাষণ দেন খাড়গে। সভা শেষ হওয়ার পর বিজেপির নেতা ও কর্মীরা ওই ময়দানে শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গোটা চত্বরে গঙ্গাজল ছড়ানো হয় বলেও জানা যায়।

    এই শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির পক্ষে সওয়াল করেন বিজেপির উত্তরাখণ্ড সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট-সহ দলের একাধিক নেতা। এদিকে, কংগ্রেস এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানায়। দলের অভিযোগ ছিল, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণেই তাঁর সভাস্থল শুদ্ধিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় কংগ্রেস।

    বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাহুল

    পরবর্তী সময়ে রাহুলের বক্তব্যেও উঠে আসে রামলীলা ময়দানের শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ। তিনি শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির সঙ্গে দলিতদের মর্যাদার প্রশ্নটি যুক্ত করেন এবং খাড়গের সভার পর কেন এমন কর্মসূচির প্রয়োজন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন (Rahul Gandhi)।

    কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, খাড়গের সভার পর অনুষ্ঠানস্থল শুদ্ধিকরণ করা আসলে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান এবং বৈষম্যের প্রকাশ।

    অন্যদিকে, রাহুলের মন্তব্যকেই অপমানজনক বলে অভিযোগ করেছেন মামলার অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ওই মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষদেরও অসম্মান করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা?

    মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধারায় ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, ভাষা, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করা কিংবা তা বাড়ানোর চেষ্টা-সহ সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারা ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার উদ্দেশ্য কোনও শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা তাদের ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে ক্ষোভ সৃষ্টি করা।

    অন্যদিকে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারায় কোনও সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা বা জাল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার উদ্দেশ্য সেই কর্মচারীকে তাঁর আইনসিদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহার করে তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির কোনও সদস্যের ক্ষতি বা হয়রানি করার দিকে পরিচালিত করা।

    রাজনৈতিক বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ে

    রামলীলা ময়দানের তথাকথিত শুদ্ধিকরণকে ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ এবার আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কংগ্রেস যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের মর্যাদা ও বৈষম্যের (Purification Controversy) প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে, সেখানে মামলার অভিযোগকারী রাহুলের মন্তব্যকেই দলিত সম্প্রদায় এবং শুদ্ধিকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি অপমানজনক বলে দাবি করেছেন (Rahul Gandhi)।

     

  • Nepal Flood: নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩! উদ্ধার দেহ শনাক্তে কাঠমান্ডুতে ভারতের ১৯ সদস্যের ফরেন্সিক দল

    Nepal Flood: নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩! উদ্ধার দেহ শনাক্তে কাঠমান্ডুতে ভারতের ১৯ সদস্যের ফরেন্সিক দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে (Nepal Flood) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২৪৭ জন। এঁদের মধ্যে ২৮৭ ভারতীয়ও রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃতদেহের সন্ধান মিলেছে চিতওয়ান জেলায়। নদীর স্রোত বেশি থাকায় দেহগুলি অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে গিয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃতদেহ শনাক্ত করতে এবার নেপালের পাশে দাঁড়াল ভারত (Indian Forensics Team in Nepal)। নেপালের বন্যা পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য ভারত ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ ফরেন্সিক দল কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় ফরেন্সিক পরীক্ষা চালাবে এই দল। নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ভারত একের পর এক জরুরি সামগ্রীও পাঠিয়ে চলেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৮.৫ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছে দিয়েছে ভারত।

    কাজ শুরু করেছে ভারতের ফরেন্সিক দল

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সমাজমাধ্যমে ভারতের চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফরেন্সিক দলের সদস্যরা কাঠমান্ডুতে নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবও দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন। ভারত ইতিমধ্যে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন ভারত থেকে বায়ুসেনার চারটি বিমান এখনও পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছেছে।

    ফরেনসিক সহায়তার আশায় নেপাল

    বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেপাল আরও সহায়তা চেয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, “আমরা ফরেনসিক ল্যাবরেটরিগুলোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা চাইছি। আমরা যা মৃতদেহ উদ্ধার করেছি, সেগুলোর মধ্যে বেশীরভাগই শনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না। আমাদের দ্রুত ডিএনএ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, তাই আমরা সেই ধরনের সহায়তা চাইছি এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” এই কঠিন সময়ে ভারতের সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এবং সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই দ্রুত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিন থেকে নিরাপদে নেপালে ঢুকেছেন ৪০৩ ভারতীয়

    বন্যা ও দুর্যোগের কারণে নেপাল-চিন সীমান্তে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চিনের দিক থেকে ৪০৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। চিনের স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই সংখ্যা জানানো হয়েছে। এদিকে আরও প্রায় ৫০০ ভারতীয় নাগরিক এখনও চিনের দিকে রয়েছেন এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন, বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ১৪০ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে দেশে।

    হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান

    নেপালের দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় দল। চিলিমে ও লাংটাংয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ভারতের টানেল রেসকিউ টিম। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও লাংটাং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাংটাং প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দল। বন্যার ভয়াবহতায় নেপালের আটটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকেই দেহ উদ্ধার হয়েছে। বিপর্যয়ের মাত্রা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকারীদের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। নিখোঁজ ও আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ভারতীয় দলগুলিও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    ভারত থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছল নেপালে

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, রবিবার ১১ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চতুর্থ বিমানটি নেপালে পৌঁছেছে। এই ত্রাণের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির কিট, কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, জল পরিশোধক এবং জেনারেটর সেট। উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ভারত ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিগত দল নেপালে পাঠিয়েছে। চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের নিয়ে গঠিত এই দলটি শুক্রবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারেও সাহায্য

    শুধু ত্রাণসামগ্রী নয়, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারেও সাহায্য করছে ভারত। ২৩০ ফুট দীর্ঘ একটি মডিউলার স্টিল বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৭টি সেতু নির্মাণের সামগ্রী ১৬টি ট্রাক এবং চারটি বিমানে করে নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপ বা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ভারত বিশেষায়িত টানেল রেসকিউ দলও নেপালে পাঠিয়েছে। বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে ভারতের এই ধারাবাহিক ত্রাণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক এক বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। ‘বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, আপনজনের মতো একাত্মতা এবং সমাজের প্রতি যৌথ দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কানাডার হিন্দু সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মিলনমেলায় পরিণত হয় (Hindu Vishwa Bandhu)।

    উদ্যোক্তাদের বক্তব্য (Mohan Bhagwat)

    কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের একত্রিত করে এই সমাবেশের আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুজ ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়লগ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন সহযোগিতা করে। আয়োজকদের বক্তব্য, কানাডার বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ভারতীয় হিন্দু সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, “সমস্ত পৃথিবীই এক পরিবার।” এই দর্শনকে ভিত্তি করে আয়োজিত সমাবেশে হিন্দু পরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্‌যাপনের পাশাপাশি কানাডার বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও অর্থবহ অবদানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দু সভ্যতা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসা ভাগবতকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজগঠন ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। চরিত্রগঠন, সামাজিক ঐক্য, সেবা, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে। ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ সমাবেশে সেই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও কীভাবে বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেই ভাবনা অনুষ্ঠানের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে (Mohan Bhagwat)।

    অনুষ্ঠান মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন যাঁরা

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আলবার্টার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কানাডার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জনজীবনের যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা ও ভারতের মধ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন (Hindu Vishwa Bandhu)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে কানাডার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভিত্তি।

    হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্ব

    সমাবেশে হিন্দু পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে এই পরিচয়কে কেবল নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। সেবা, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনটির লক্ষ্যও মূলত এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কানাডিয়ান হিন্দু সমাজের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে দেশের মূলধারার আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি (Mohan Bhagwat)। কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এই বৈচিত্র্যকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করার পাশাপাশি কানাডার সমাজজীবনে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রেখেও যে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ তারই একটি উদাহরণ (Hindu Vishwa Bandhu)।

    দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিন্দু সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং কানাডার সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে (Mohan Bhagwat)।

    লক্ষ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, আলাপ-আলোচনা, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে একটি আরও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ১৭৫টিরও বেশি সংগঠনের সহযোগিতা এই উদ্যোগের ব্যাপকতাকেও স্পষ্ট করেছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন (Hindu Vishwa Bandhu) ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধারকাজে নেমেছে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। বুধবার হিমবাহ ধসের জেরে পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীপথে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়ঙ্কর স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার পর্যন্ত দুই দেশের প্রশাসনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৯০০ পার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    আবহাওয়ার অবনতি, পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নেপালের ত্রিশূলী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একাংশকে নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে আরও বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নেপালেই মৃত ৭৮১, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশে ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৫০২ জন। অন্যদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ। বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে চিন জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মোট ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা যতটা সামনে এসেছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তার থেকেও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

    বিপর্যয়ের পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধসের কারণে একটি জলাধারের মতো জল জমে যায়। সেই জলাধার উপচে পড়তে শুরু করলে নেপালের লেহেন্দে খোলা এবং ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে জল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শুক্রবার থেকেই খারাপ আবহাওয়া এবং জলাধারটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় একাধিকবার উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। যদিও চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিপজ্জনক জলাধারটির জল অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ড্রোনের মাধ্যমে শনিবার রাতে আরও একটি বড় ধসের সন্ধান মেলে। জলাধারের প্রায় ২.৮ কিলোমিটার নীচের দিকে ধস নেমে নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ এবং জলাশয় তৈরি হয়েছে। ফলে ফের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আপার ত্রিশূলি প্রকল্পে সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন ৩৫০ জন

    নেপালে উদ্ধার অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে খবর আসে, প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে থাকতে পারেন। রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আকাশপথে পৌঁছে দিয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন এবং সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং ক্যামেরা নিয়ে বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ এত বেশি যে দ্রুত ভিতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসাবশেষ এত বেশি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

    ১০ হাজার নেপালি সেনা, পাশে ভারত ও চিন

    বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ১০ হাজার নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছে চিন ও ভারতের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। চরম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া, ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমঘর এবং পচন ধরা দেহের ফরেন্সিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল।

    শনাক্ত করা যাচ্ছে না দেহ, শুরু গণকবর

    বিপর্যয়ের কয়েক দিন পর নেপালে উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ দ্রুত পচতে শুরু করেছে। ফলে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে। চিটওয়ান জেলার দেবঘাট এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে শত শত মৃতদেহের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাসুওয়া অঞ্চলের বহু দেহ নদীর স্রোতে বহু দূরে চলে এসেছিল।

    চিটওয়ানের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলির গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় শবদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। রবিবার আরও ১০০টির বেশি দেহ সমাধিস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যরা যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ সনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    নেপালের পুলিশ আধিকারিক অনিল থাপা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের অর্ধেকেরও বেশি এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাঁদের সনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক দেহে মুখের কোনও চিহ্ন নেই। কোথাও শুধু হাত বা পা পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র খুঁজছে চিন

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিন। চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তিব্বত মালভূমিতে বরফনির্ভর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নতুন ও ক্রমবর্ধমান বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    চিনের বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা কাদা, বরফ, পাথর ও জলের প্রবল স্রোত মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছে যায়। নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত একের পর এক বাড়ি ও স্থাপনা গ্রাস করছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে ছুটে পালাতেও দেখা যায়।

    ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত বিপর্যয়’

    চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই বিপর্যয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলির “সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওয়াং ই জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের মাত্রা নজিরবিহীন এবং পরিস্থিতির জটিলতাও অত্যন্ত বেশি। সীমান্তের দুই পাশে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা, বাড়তে থাকা জলস্তর এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি চিনা উদ্ধারকর্মী মোতায়েন

    চিন জানিয়েছে, তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। চিনের উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় বিমানপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জীবন শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করছে। তবে উদ্ধারকাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম হিমালয়, নতুন ধসের আশঙ্কা এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন।

    সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল নিখোঁজদের সন্ধান, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা। একই সঙ্গে নদীর জলস্তর এবং নতুন করে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই বিপর্যয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বরফ ও জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের বসতি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্তবর্তী পরিকাঠামোর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    একদিকে চলছে নিখোঁজদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পচনশীল মৃতদেহের গণসমাধি এবং নতুন বন্যার আশঙ্কা। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান শুধু একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার লড়াই নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল হিমালয় পরিবেশের বিরুদ্ধে এক কঠিন পরীক্ষাতেও পরিণত হয়েছে।

  • PM Modi in Uzbekistan: ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই! প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান

    PM Modi in Uzbekistan: ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই! প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi in Uzbekistan) দু’দিনের উজবেকিস্তান সফরের শেষে ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। রবিবার (৩০ আগস্ট) তাশখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশ নিজেদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের (Uranium Supply Deal) ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহে জোর

    মোদির সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইউরেনিয়াম সরবরাহ। ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করতে উজবেকিস্তানের সঙ্গে এই সমঝোতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমরা ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব।” এই ব্যবস্থার বিস্তারিত শর্ত ও সরবরাহের কাঠামো আগামী দিনে দুই দেশ চূড়ান্ত করবে। পরমাণু শক্তির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনাকে তা আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও গবেষণায় জোর

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। মোদি জানান, আগামী দিনে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যৌথ উৎপাদন এবং যৌথ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছে ভারত ও উজবেকিস্তান। দুই দেশই এই সমস্যাগুলিকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে জোর দিয়েছে। মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উজবেকিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোদি দেশটিকে মধ্য এশিয়ার ‘হৃদয়স্থলে’ অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন।

    ২০৩০-এর মধ্যে বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য

    অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। উজবেক প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ জানান, ভারত-উজবেকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা এবং নতুন পরিকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একটি যৌথ বিজনেস সামিটও আয়োজন করা হবে। মির্জিয়োয়েভ জানান, ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সংখ্যা গত কয়েক বছরে প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগও বেড়েছে—বর্তমানে সপ্তাহে ১৪টি সরাসরি বিমান চলাচল করছে।

    এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি, মহাকাশ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজেও সহযোগিতা

    নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মহাকাশ এবং পরমাণু শক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মোদি। দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে শুধু ঐতিহ্যগত কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।

    ‘সিস্টার সিটি’ চুক্তি, নজরে নিউ তাশখন্দ ও গুজরাট

    ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে তিনটি ‘সিস্টার সিটি’ এবং ‘সিস্টার স্টেট’ চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মোদি বলেন, এই ধরনের চুক্তি যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, তার জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন। উজবেকিস্তানের নতুন নগর প্রকল্প নিউ তাশখন্দ নিয়েও আলোচনা হয়। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুজরাটের গিফ্ট সিটি-র অভিজ্ঞতা উজবেকিস্তানের কাজে আসতে পারে বলে জানান মোদি। উজবেকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলকে গুজরাটে আমন্ত্রণ জানিয়েগিফ্ট সিটি-র উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা সরেজমিনে দেখার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও বাড়ছে ঘনিষ্ঠতা

    দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মোদি বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তানের উন্নয়নের লক্ষ্যগুলির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘নিউ উজবেকিস্তান’-এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে যুবসমাজ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। উজবেকিস্তানে ভারতীয় সংস্কৃতির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। তাশখন্দের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান কালচার এবং মহাত্মা গান্ধী সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজ দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উজবেকিস্তানে যোগচর্চার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ২০১৮ সাল থেকে সেখানে জাতীয় যোগ ফেডারেশন রয়েছে এবং চলতি বছরের জুনে একটি আঞ্চলিক যোগ উৎসবও আয়োজন করা হয়।

    মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান

    সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ওলি দরাজলি দোস্তলিক’-এ ভূষিত করা হয়। এই সম্মান (Order of Oliy Darajali Do‘stlik’) প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ। ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মোদির অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্ত ৩৬তম আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সম্মান গ্রহণ করে মোদি বলেন, এই পুরস্কার দুই দেশের বন্ধুত্ব এবং ভারত ও উজবেকিস্তানের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন। ‘দোস্তলিক’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব—উল্লেখ করে মোদি বলেন, এই শব্দটিই দুই দেশের সম্পর্কের মূল চেতনাকে তুলে ধরে।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ আরও জোরদার

    দু’দিনের সফর শেষে ভারত ও উজবেকিস্তান প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করেছে। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এ উন্নীত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের উদ্যোগ ভারতের পরমাণু ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি মোদির চতুর্থ উজবেকিস্তান সফর। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

  • Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ওই যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলিত সম্প্রদায়েরই এক ব্যক্তি সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন (BJP)।

    অঙ্কিত পাল নামে ওই ব্যক্তি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। সংগঠনটির সদস্যরাই গত ১০ অগাস্ট হালদ্বানির রামলীলা ময়দানে যজ্ঞ ও কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছিলেন। এর দু’দিন আগে, ৮ অগাস্ট ওই একই জায়গায় কংগ্রেসের একটি জনসভা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি আবার দলিত সম্প্রদায়ের নেতা।

    ২৯ অগাস্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অঙ্কিত দাবি করেন, খাড়গে দলিত হওয়ার কারণে ওই যজ্ঞ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের সভার পর রামলীলা আয়োজনের ঐতিহ্যবাহী ওই জায়গাটি নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। সভায় আসা কিছু মানুষ সেখানে প্রস্রাব ভর্তি বোতলও ফেলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

    অঙ্কিত আরও দাবি করেন, ওই কংগ্রেস সভায় হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য ব্যবহৃত মঞ্চ থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই স্লোগান ঠিক কোথা থেকে এবং কী পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও, খবরের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ! (Rahul Gandhi)

    অঙ্কিত বলেন, “শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করা হয়েছিল কারণ ওই মঞ্চে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। প্রথমত, এটি একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং কোনও রাজনৈতিক দলকে ওই মঞ্চ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। ওই মঞ্চ থেকেই ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আমরা যে ভিডিয়োগুলি পেয়েছি তাতে তা দেখা গিয়েছে। তাই জায়গাটির শুদ্ধিকরণের জন্য সেখানে যজ্ঞ করা হয়েছিল।”

    অঙ্কিতের এই বক্তব্য কংগ্রেসের সেই অভিযোগকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে খাড়গে দলিত হওয়ার কারণেই সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে, যজ্ঞের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অঙ্কিত জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন; তিনি ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের অভিযোগ, ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা

    এর আগে কংগ্রেস এই ঘটনাকে দলিত-বিরোধী মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, খাড়গের মতো একজন দলিত নেতা সভায় আসার পর মঞ্চের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা আসলে অস্পৃশ্যতারই একটি রূপ।

    ২৯ অগাস্ট রাহুল এই ইস্যুতে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি সংবিধানবিরোধী এবং বিজেপি-আরএসএসের মানসিকতার প্রতিফলন।

    রাহুল বলেন, “এটি একটি অপরাধ। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অপরাধ।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলিতরা যত বেশি সাফল্য অর্জন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তত বেশি আক্রমণ হয়। তাঁর দাবি, হালদ্বানির ঘটনাটি শুধু খাড়গের বিষয় নয়, দেশের সমস্ত দলিত মানুষের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।

    বিজেপির পাল্টা দাবি

    কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানটি খাড়গের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। হালদ্বানি ময়দানে সভার পর (BJP) পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার পর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল (Rahul Gandhi)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের (New York) ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ভাষণ ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভাগবত সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তাঁর সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থী শিখদের একাংশ ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিসে’র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা (Mohan Bhagwat)

    ঘটনার কয়েকটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক খালিস্তানপন্থী ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা নিজের পায়ের চারপাশে বেঁধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং পতাকা নিয়ে অবমাননাকর আচরণ করছেন। অন্য একটি ভিডিয়োতে কয়েকজন প্রতিবাদকারী ভারতের তেরঙ্গা পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলছেন এবং নাচতে নাচতে উল্লাস করছেন দেখা যায়।ভাগবতের আমেরিকা সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থীদের একটি দল ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বার্তা দেখা যায়। এমনই একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “মোদি হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ।” পাশাপাশি তারা খালিস্তানের সমর্থনে এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা মোহন ভাগবতের একটি প্রতিকৃতি-সহ পোস্টারও প্রদর্শন করেন। সেই প্রতিকৃতির গলায় জুতোর মালা পরানো হয় বলে অভিযোগ।

    মোহন ভাগবতকে আমেরিকান হিন্দুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংলাপ বিষয়ক সংগঠনের পক্ষ থেকে “সার্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ভিতরের ইনফোসিস থিয়েটারে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    খালিস্তানপন্থীদের অতি সক্রিয়তা

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনটি দেশ সফরে বেরিয়েছেন ভাগবত। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার তিনি আমেরিকায় পৌঁছন। তবে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাধিক ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই সুযোগে তারা নিজেদের ভারতবিরোধী প্রচার চালায় বলে অভিযোগ (Mohan Bhagwat)।

    ভারত সরকার ‘শিখস ফর জাস্টিস’কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অতীতেও ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এবং ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ।

    ভাগবতের সফরকে ঘিরে প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিবাদের ঘটনায় আমেরিকার মাটিতে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে (New York) কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী প্রচার কতটা সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে (Mohan Bhagwat)।

     

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

LinkedIn
Share