Blog

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একই গাড়িতে চড়ে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Modi-Putin Car Diplomacy)। সোমবার বিশকেক অ্যারেনায় ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই রাষ্ট্রনেতার এই গাড়ি সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গাড়ির ভিতর থেকে পুতিনের সঙ্গে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের পথে।”

    পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত

    মোদির বিদেশ সফরে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক গাড়ি সফর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে উজবেকিস্তান সফরেও প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। তাসখন্দে পৌঁছনোর পর মিরজিয়য়েভ নিজে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান এবং পরে দু’জনকে একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুই নেতার এই আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত তাঁদের পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Modi-Putin Meet) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন নয়

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে সফর এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার দুই রাষ্ট্রনেতাকে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের পর পুতিনের লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করেছিলেন মোদি ও পুতিন। জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান হোটেলে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ফের একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় পুতিনের ভারত সফরের সময়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দর থেকে দু’নেতা একসঙ্গে গাড়িতে করে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে মোদি ও পুতিনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজও হয়। মোদি-পুতিনের ফের একই গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ও দুই নেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

  • Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক যুগের অবসান! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi Retirement। ৩১ অগাস্ট, ২০২৬। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে পাকাপাকিভাবে ইতি টানলেন নব্য ফুটবলের জাদুকর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজয়ের ঠিক ছ’সপ্তাহ পর এল এই ঘোষণা। আকস্মিক ঠিকই কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়৷ শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগের অগাস্ট মাসে। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্রের। সেই অগাস্টেই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রায় ইতি টানলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মেসি। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৬ সালে সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু তা হয়নি। তবে, ২০৩০-আর নয়। থামতেও জানতে হয়। সঠিক সময়েই থামলেন রাজপুত্র।

    কবে নিয়েছিলেন অবসরের সিদ্ধান্ত

    মেসি জানিয়েছেন, স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মাত্র দু’দিন পরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সেই সময় তাঁর পরিবারও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ইন্টার মায়ামিতে ফিরে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন মেসি। সোমবার, যখন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ অবসরের বার্তাটি সামনে আসে, বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন! কিন্তু কেউ জানত না, এই চিঠি লেখা হয়েছিল পাক্কা ৪১ দিন আগে! খোলা চিঠিতে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২১ জুলাই তিনি এই বয়ান ড্রাফট করেছিলেন। দ্রুতই সেটি পোস্ট করার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা নেমে আসে এক ভয়ংকর পারিবারিক বিপর্যয়। গত ৭ অগাস্ট রাতে রোজারিওর এক ক্লিনিকে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যান বাবা জর্জ মেসি (Jorge Messi Death)। তাঁর শেষ সময়ে পাশে থাকতে মায়ামি থেকে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন লিও। জর্জ নিছক বাবা নন, ছিলেন মেসির কেরিয়ারের মূল স্থপতি। ২০০০ সালে গ্রোথ-হরমোনের সমস্যায় ভোগা ১৩ বছরের কিশোরকে রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় নিয়ে যাওয়া, ন্যাপকিনে প্রথম চুক্তির সই—সবই তাঁর হাত ধরে। শোকস্তব্ধ লিও (Argentina National Football Team) নিজেকে সব ধরনের জনসমক্ষ থেকে গুটিয়ে নেন। অবশেষে ৩১ অগাস্ট চিঠিটি প্রকাশের সময় নীচে একটি ব্যক্তিগত নোট জুড়ে দেন তিনি। জানান, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি, বরং সঠিক সময়ে ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার বিষয়ে তাঁকে ‘আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী’ করে তুলেছে। মেসির কথায়, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কষ্টের ছিল এবং এখনও সেই কষ্ট রয়েছে। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এবার সেই অধ্যায় বন্ধ করার সময় এসেছে।

    অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মেসি রেখে গেলেন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল ও ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা ছিল সাফল্য ও হতাশার এক অনন্য মিশেল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়—একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পান মেসি। এর পরের বছরই আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ফাইনালে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও মেসির নাম লেখা থাকবে বিশেষ জায়গায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেছেন। তাঁর আগে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দু’জনেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরনো গোলের রেকর্ড পেরিয়ে যান।

    তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার

    মেসির বিদায়ের খবরে চোখে জল বিশ্ব জুড়ে ফুটবল প্রেমিদের। মহাতারকার অবসরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান সতীর্থরাও। কোপা জয় হোক আর বিশ্বকাপ জয়, দেশের জার্সিতে মেসির ট্রফি জয়ের সাফল্যে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার অবদান কতটা তা সকলের জানা। সেই বয়স ভিত্তিক দল থেকে মেসির সঙ্গে জুটিতে খেলেছেন ডি মারিয়া। মেসির অবসরে আবেগাপ্লুত তিনি। মেসির অবসরের পোস্টে কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ তাঁকে বলা হয় মেসির ‘বডিগার্ড’। প্রিয় বন্ধুর অবসরে মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, ‘তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন। সর্বকালের সেরা তুমি। আমাদের এতটা খুশি করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। তুমি সর্বসেরা।’

    আমরা তোমায় ভালোবাসি

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে খেলা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অধিনায়কের অবসরের লিখেছেন, “সত্যি বলতে, খুব খারাপ লাগছে। কখনও এ রকম মুহূর্তের জন্য আমাদের তৈরি থাকতে বলোনি। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে জানাচ্ছি, ধন্যবাদ!! তুমি আমার কাছে এবং গোটা বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ। ফুটবলের বিজয়ী এবং জীবনের বিজয়ী!! ওর বাবা যে অসাধারণ একটা দলের সদস্য ছিল, এটা ভেবে আমার মেয়ে খুব গর্বিত হবে। তুমি বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ। কারণ ফুটবলের তুলনা টানতে গেলে, তোমার মতো কেউ নেই। তোমাকে খুব ভালোবাসি।” বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে ১০ ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মেসির অবসরে তিনিও চুপ থাকেননি। লিখেছেন, “সব কিছুর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!!! তুমি ছিলে এবং বরাবরের জন্য সর্বকালের সেরাই থাকবে। অধিনায়ক, আমরা তোমায় ভালোবাসি।” আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। তারা লেখে, “আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর একটা যাত্রার জন্য তোমায় ধন্যবাদ। তোমার উত্তরাধিকার এবং পেশাদারিত্ব সারাজীবন আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে। ধন্যবাদ অধিনায়ক। আমরা তোমায় ভালোবাসি।” ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রাসিয়াস’।

    ফুটবল মাঠে এখনও মেসি ম্যানিয়া

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর না খেললেও ফুটবলকে এখনই বিদায় বলছেন না আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে, আর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না এল এম টেন-কে। বিদায়-বার্তায় মেসি লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। চলো, আর্জেন্টিনা।”

  • West Bengal Weather: নিম্নচাপও সরছে না, বৃষ্টিও থামছে না! মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৪ জেলায় সতর্কতা

    West Bengal Weather: নিম্নচাপও সরছে না, বৃষ্টিও থামছে না! মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৪ জেলায় সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাব কাটার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সোমবার রাত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের শুরু হয়েছে দফায় দফায় বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালেও সেই পরিস্থিতির কোনও বড় পরিবর্তন হয়নি। ভোর থেকেই মুখ ভার আকাশের, সঙ্গে চলছে একটানা বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    এখনও দক্ষিণবঙ্গের উপরেই নিম্নচাপ

    প্রাথমিক পূর্বাভাসে মনে করা হয়েছিল, সোমবারের মধ্যেই নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে সরে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি তেমন হয়নি। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় রয়েছে। এর জেরেই বৃষ্টির পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এই নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর ওড়িশা হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখাও। নিম্নচাপ ও মৌসুমি অক্ষরেখার যুগল প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

    পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

    মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা সর্বত্র এক রকম হবে না। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এর মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। মধ্যবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি দফায় দফায় চলতে পারে।

    কলকাতায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

    কলকাতাতেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তবে মহানগরে আজ খুব ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি চললে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে জলজট তৈরি হলে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ফলে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে বৃষ্টির দাপট

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও সমতল—দুই এলাকাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে ধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় তুলনামূলকভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস।

    নজরে আজকের আবহাওয়া

    সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাজ্যের আবহাওয়ায় এখনই বড়সড় স্বস্তির ইঙ্গিত নেই। দক্ষিণবঙ্গের উপর নিম্নচাপের অবস্থান এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টি চলবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও কলকাতায় মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিই হওয়ার সম্ভাবনা। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির জেরে ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

  • Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    Kolkata Dengue Malaria: রাজ্যে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার জোড়া হানা! কলকাতা-সহ ৬ জেলায় বাড়ছে উদ্বেগ, বড় পদক্ষেপের পথে সরকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি! তবে একা ডেঙ্গি নয়! কলকাতা ও তার আশপাশের জেলায় মশাবাহিত জোড়া রোগ, ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রমণে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বাড়তি সক্রিয়তার পথে হাঁটছে প্রশাসন। আজ, মঙ্গলবার, প্রশাসনের শীর্ষ মহলের জরুরি বৈঠক হতে চলেছে! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য দফতর।

    কেন প্রশাসনের উদ্বেগ?

    বছরের এই মরশুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসেই রাজ্যে ভেক্টর বোর্ন ডিজিজের প্রকোপ বাড়ে। অর্থাৎ, বিভিন্ন পতঙ্গ বাহিত রোগের দাপট বাড়ে। বিশেষত মশাবাহিত রোগের প্রকোপে জেরবার হয় বঙ্গবাসী। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়া। তাই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই প্রশাসন কড়া হাতে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে তাই সবরকম প্রশাসনিক পরিকল্পনা জরুরি। সেটা আগাম না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ডেঙ্গি রুখতে বিশেষ বৈঠক হবে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগাস্ট মাসে রাজ্যে নতুন করে ১০০০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং দুই চব্বিশ পরগনায়। ইতিমধ্যে ৭ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু তালিকায় রয়েছে ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়! আর এই মৃত্যু মিছিল রুখতেই প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা। ডেঙ্গির পাশপাশি কলকাতার কসবা, যাদবপুর, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কলেজ স্ট্রিট সহ একাধিক এলাকায় ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনক। আবার হাওড়াতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা জানান, কলকাতায় একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একাধিক কেস পাওয়া যাচ্ছে। এক ব্যক্তি একসঙ্গে এই দুই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যায়।

    ডেঙ্গি রুখতে কী নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার?

    ডেঙ্গি রিভিউ মিটিংয়ে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হতে পারে!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে রিভিউ মিটিং করবেন। বিশেষত কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এলাকাগুলো নিয়ে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। কারণ এই দুই এলাকাতেই গত এক মাসে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ায় জোড়া দাপট বেশি দেখা গিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তাদের পাশপাশি বৈঠকে অন্যান্য বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। যাতে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত বিভাগের মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় থাকে। কোনো রকম জটিলতা তৈরি না হয়‌।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই পরিকল্পনা!

    চলতি বছরে ডেঙ্গি কতখানি ভয়ানক হতে পারে সে নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসনের একাংশ। এক কর্তা জানান, ২০২৩ সালে এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি পরিস্থিতি হয়েছিল। চলতি বছরে এই মশাবাহিত রোগ কতটা দাপট বাড়াতে পারে, সে সম্পর্কে আগাম ধারনা করা জরুরি। তাই এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। তাঁরা রোগ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রশাসনকে রোগের দাপট সম্পর্কে একটা ধারনা দেবেন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

    বাড়ি-বাড়ি নজরদারিতে বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমেছে, কোথায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, সে সম্পর্কে সমস্ত তথ্য থাকা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
    এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে কে কে আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই পুর কর্মীরা নিজেদের এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যাতে জ্বর হলে তাঁদের কাছে তথ্য থাকে। ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর থাকলে, সেই এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়া হবে। যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। সংক্রমণ দ্রুত আটকানো সম্ভব হয়।
    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, ডেঙ্গি টিকা এলেও চলতি বছরে নানান আইনি জটিলতার জন্য সেই টিকা করণ সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রচলিত পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে। প্রশাসন সক্রিয় থাকবে। এলাকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হবে আবার জনসচেতনতাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের (SCO Summit) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হল। বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী (PM Modi) ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    দুই ‘হুজুরের গপ্পো’ (SCO Summit)

    ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

    এর আগে জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন (SCO Summit) তিনি।

    আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে সওয়াল

    পেজেশকিয়ান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বৈঠকের আগেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। একই সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।”

    এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালানোর পর পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। বরং এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের দেশগুলির ওপর পড়ে। তাই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি (PM Modi)।

    বৈঠকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ নেতাই এতে উপস্থিত থাকবেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বে একটি অভিন্ন পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

    মোদির আঞ্চলিক কূটনীতিতে আর্মেনিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধশিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে দিল্লি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি। এর ফলে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে (SCO Summit)।

    পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদি

    এদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলেই খবর।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করতে পারেন। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ায় দু’দিনের সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই আলোচনার পর এবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে (PM Modi)।

    মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। আসন্ন বৈঠকটি চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে (SCO Summit)।

    ইরান, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের দিকটিও সামনে আনছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত একদিকে যেমন নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাও বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময়েও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসছে (SCO Summit)।

     

  • Jammu & Kashmir: পর্ন সাইটের চ্যাটে জঙ্গি যোগাযোগ! কাশ্মীরে নিয়োগ করা সদস্যদের সঙ্গে গোপন বার্তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের

    Jammu & Kashmir: পর্ন সাইটের চ্যাটে জঙ্গি যোগাযোগ! কাশ্মীরে নিয়োগ করা সদস্যদের সঙ্গে গোপন বার্তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নজরদারি এড়াতে এবার পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের চ্যাট পরিষেবা ব্যবহার করে জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) নিয়োগ করা জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তানভিত্তিক (Pakistan) জঙ্গি সংগঠনগুলি। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে নিরাপত্তা আধিকারিকদের তদন্তে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-সহ (ISI) একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীও এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে নজরদারি বাড়ায় যোগাযোগের নতুন মাধ্যম (Terrorists Using Porn Websites) খুঁজছে জঙ্গি হ্যান্ডলাররা। কয়েকটি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে থাকা রিয়েল-টাইম চ্যাট সুবিধা, যা সাধারণত কাছাকাছি এলাকার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তৈরি, সেই পরিষেবাকেই গোপন বার্তা আদানপ্রদানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    টর-ভিত্তিক অ্যাপেও নজর

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও বেশ কিছু বিশেষ ডিজিটাল টুলের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গি হ্যান্ডলাররা টর-ভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপ কোটক্স (Cotecks) এবং কনিয়ন (Conion)-এর মতো পরিষেবাও ব্যবহার করছে। এই ধরনের প্রযুক্তিতে এনক্রিপ্টেড নোডের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ। ভারতে কনিয়ন-এর এপিকে ফাইলের অ্যাক্সেস ইতিমধ্যেই ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এপিকে হল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে অ্যাপ ইনস্টল ও বিতরণের জন্য ব্যবহৃত ফাইল ফরম্যাট।

    ফ্রান্স, ভিয়েতনাম ও অজ্ঞাত অ্যাপও নজরে

    নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি অ্যাপও। ওই অ্যাপে সিম কার্ড বা ফোন নম্বর ছাড়াই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মেসেজ পাঠানো যায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ভিয়েতনামভিত্তিক কয়েকটি অ্যাপ এবং মুন চ্যাট (MoonChat)-এর মতো অ্যানোনিমাস প্ল্যাটফর্মও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, মুন চ্যাট-এর কয়েকটি পিজিপি-এনক্রিপ্টেড সংস্করণের উৎস নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং সেগুলির কিছু সংস্করণে প্রচলিত রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাও নেই।

    ভিপিএন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ অ্যাপ ডাউনলোড

    নজরদারি এড়াতে নয়া চাল (Terrorists Using Porn Websites) জঙ্গিদের, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে পর্ন সাইটের মাধ্যমে চলছে যোগাযোগ। ভারতে নিষিদ্ধ থাকা বেশ কিছু পর্নোগ্রাফিক অ্যাপও ভিপিএন ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ডাউনলোড করা হচ্ছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি। ভিপিএন ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা আড়াল করা এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিক এনক্রিপ্ট করা সম্ভব হয়। ফলে অনলাইন কার্যকলাপ শনাক্ত করা আরও কঠিন হতে পারে।

    টুজি নেটওয়ার্কেও চলছে যোগাযোগ

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, উপত্যকায় (Jammu & Kashmir) কিছু জঙ্গি হ্যান্ডলার ও তাদের নিয়োগ করা সদস্য এমন কিছু অ্যাপ ব্যবহার করছিল, যেগুলি টুজি বা এজ নেটওয়ার্কেও কাজ করতে সক্ষম। কয়েকটি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফোন নম্বর বা ই-মেল ঠিকানার প্রয়োজন হয় না বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

    ভার্চুয়াল সিম নিয়েও তদন্ত

    বিদেশি সংস্থার তৈরি ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার বন্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় এই নতুন যোগাযোগ কৌশলের বিষয়টি সামনে আসে। ভার্চুয়াল সিম প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোনে ফোন নম্বর তৈরি বা ব্যবহার করা যায়, ফলে প্রচলিত টেলিকম ব্যবস্থার তুলনায় কম ডিজিটাল চিহ্ন রেখে যোগাযোগ করা সম্ভব হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার তদন্তেও ভার্চুয়াল সিম-এর ব্যবহার সামনে এসেছিল। ওই হামলায় ৪০ জন সিারপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন এই সমস্ত বিকল্প ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে উপত্যকার স্থানীয় নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং নজরদারি এড়ানোর নতুন প্রযুক্তিগত কৌশলগুলিকে প্রতিহত করা।

    কেন এই নয়া পদ্ধতির ব্যবহার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারির ফাঁদ এড়াতে মারাত্মক চাল চেলেছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতারা (Terror groups porn sites)। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং নতুন সদস্য নিয়োগ করতে সাধারণ অ্যাপ ছেড়ে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট ও গোপন এনক্রিপ্টেড অ্যাপকে নিজেদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে তারা (ISI Jammu and Kashmir surveillance)। পাকিস্তানভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকদের মগজধোলাই ও গোপন বার্তা পাঠাতে এই ছক কাজে লাগাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা সিগন্যালের মতো পরিচিত মাধ্যমে ইদানিং কড়া নজরদারি চলায় জঙ্গি সংগঠনগুলো বিকল্প পথ ধরেছে। বর্তমানে তারা এমন কিছু পর্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, যেগুলোতে ডেটিংয়ের নামে ‘লাইভ চ্যাট’ বা গোপন বার্তা পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু এনক্রিপ্টেড অ্যাপ বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডির প্রয়োজন হয় না।

  • INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে সাবমেরিন উদ্ধার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (ডিএসভি) আইএনএস নিপুণ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়েছে। মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জাহাজটিকে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডুবুরি অভিযানেই নয়, গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়া সাবমেরিনের দ্রুত উদ্ধার, জটিল আন্ডারওয়াটার অপারেশন এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে আইএনএস নিপুণ। দেশের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতারও বড় উদাহরণ এই যুদ্ধজাহাজ।

    কী এই আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর নিস্তার শ্রেণির ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (এইচএসএল), বিশাখাপত্তনমে জাহাজটি নির্মাণ করেছে। ‘নিপুণ’ একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ হল কোনও কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম। জাহাজটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিযানের ক্ষমতার সঙ্গে নামটিরও রয়েছে যথেষ্ট সামঞ্জস্য। জাহাজটি ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা এবং নৌবাহিনীতে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    ৩০০ মিটার গভীরেও চলবে ডাইভিং অপারেশন

    আইএনএস নিপুণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে এর গভীর সমুদ্রে ডাইভিং এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন ক্ষমতা। জাহাজটি সমুদ্রের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত ডাইভিং অপারেশনকে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ উদ্ধারকারী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি গভীরতায় গিয়ে জটিল ডুবুরি অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে নিপুণের। জাহাজে রয়েছে আধুনিক ডাইভিং সিস্টেম, পানির তলায় হস্তক্ষেপ বা মেরামতির জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ডুবুরিদের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের তলায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির পরিদর্শন বা প্রয়োজনীয় কাজেও জাহাজটি ব্যবহার করা যাবে।

    সাবমেরিন বিপর্যয়ে ‘নিপুণ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু গভীর সমুদ্রে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার মুখে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন। এই জায়গাতেই আইএনএস নিপুণের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাহাজটি সাবমেরিন রেসকিউ অপারেশনে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি। প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গিয়ে উদ্ধারকারী দল, ডুবুরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে অপারেশন এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে এটি। একই সঙ্গে জাহাজটির উন্নত স্টেশন কিপিং ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রেখে আন্ডারওয়াটার অপারেশনে সহায়তা করতে পারবে। এর ফলে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দলের কাজ আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    শুধু সামরিক অভিযান নয়, দুর্যোগেও কাজে আসবে

    আইএনএস নিপুণের ব্যবহার কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র দুর্ঘটনা কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময়ও জাহাজটিকে কাজে লাগানো যাবে। প্রয়োজনে এটি ডিজাস্টার রিলিফ এবং হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ (এইচএডিআর) অভিযানে অংশ নিতে পারবে।

    অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে জাহাজকে ধরে রাখার প্রযুক্তি থাকায় প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধরনের জটিল উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাইভিং, আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন এবং মেডিক্যাল সাপোর্ট—এই সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করে আইএনএস নিপুণকে একটি ইন্টিগ্রেটেড আন্ডারওয়াটার অপারেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি

    আইএনএস নিপুণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর দেশীয় নির্মাণ। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদান সম্পূর্ণ দেশীয়। ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এর নির্মাণে। এর ফলে গভীর সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার মিশনের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণে এই ধরনের দেশীয়ভাবে নির্মিত প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বাধা তৈরি হলেও দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।

    পূর্ব ও পশ্চিম—দুই উপকূলেই বাড়ল উদ্ধার ক্ষমতা

    আইএনএস নিপুণকে বোঝার ক্ষেত্রে ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শ্রেণির প্রথম জাহাজ আইএনএস নিস্তার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়। সেটি ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে মোতায়েন রয়েছে। এবার পশ্চিম উপকূলে মুম্বইয়ে আইএনএস নিপুণের মোতায়েনের ফলে ভারতের দুই প্রান্তেই ডাইভিং সাপোর্ট এবং সাবমেরিন উদ্ধার সক্ষমতা তৈরি হল। এর কৌশলগত গুরুত্ব যথেষ্ট। পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি আরব সাগর ও পশ্চিম উপকূলেও দ্রুত কোনও গভীর সমুদ্র উদ্ধার অভিযানে সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় দুই দিক থেকে দ্রুত রেসপন্স দেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণকে শুধু আর একটি নৌবাহিনীর জাহাজ হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর মাধ্যমে ভারত একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বাড়াল—গভীর সমুদ্রে ডাইভিং, সাবমেরিন উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন। বিশেষ করে মুম্বইয়ে মোতায়েনের ফলে পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও আরব সাগর এলাকায় এই সক্ষমতা আরও সহজলভ্য হবে। পূর্বে আইএনএস নিস্তার এবং পশ্চিমে আইএনএস নিপুণ—দুই জাহাজকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সাবমেরিন উদ্ধার ও গভীর সমুদ্র অভিযানে একটি বিস্তৃত সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে। সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, গভীর সমুদ্র অভিযান এবং সাবমেরিন নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই আইএনএস নিপুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

  • PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (SCO Summit 2026) যোগ দিতে কিরগিজস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে বিশকেকে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৩০ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছন তিনি। এই সফরে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    বিশকেকে মোদি (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। বিশকেকে পৌঁছনোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ঐতিহ্যবাহী কিরগিজ নৃত্যের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির এই উপস্থাপনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দিকটিও তুলে ধরে।বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছনোর পরেও মোদিকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়রা “বন্দে মাতরম” ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি মোদি একটি যোগ প্রদর্শনীও দেখেন। দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালামে”র সঙ্গে পরিবেশিত হয় সেই যোগ প্রদর্শনী। পরে ভগবান শিবকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যও দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    ২৫ বছর পূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

    এবারের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, চলতি বছর এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে প্রথম দিকে ছিল চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। পরবর্তীতে সংগঠনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় সংগঠনটির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    সম্মেলনের আগে সফর শুরুর সময় দেওয়া বিবৃতিতে মোদি এই অঞ্চলের জন্য ভারতের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক অগ্রগতির ভিত্তি হওয়া উচিত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জমুক্ত একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

    মোদির এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য (SCO Summit 2026) দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

    নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য, আলোচনায় একাধিক বিষয়

    সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    এই সম্মেলনে মোদির উপস্থিতি ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে অভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

    উজবেকিস্তান সফরের পর কিরগিজস্তানে মোদি

    কিরগিজস্তানে পৌঁছনোর আগে মোদি শেষ করেন দু’দিনের উজবেকিস্তান সফর। সেখানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয় (PM Modi)।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত ও উজবেকিস্তান যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

    উজবেকিস্তানের পর কিরগিজস্তান সফরও সেই একই কৌশলগত ধারার অংশ। কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও মোদির আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (SCO Summit 2026)।

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ

    মোদির বিদেশ সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিরগিজস্তানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশকেকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফরের আবেগঘন দিকটিও সামনে এনেছে।

    যোগ প্রদর্শনী এবং শিবকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা—দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি

    মোদির এই সফরকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রয়াসের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সময়ে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে (SCO Summit 2026)।

    সম্মেলন শেষে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও অনুমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে বৃহত্তর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share