Blog

  • NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড্রাগ-মুক্ত ভারত অভিযানে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই  প্রথমবার বিপুল পরিমাণ ক্যাপ্টাগন (Captagon) নামক সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো, (এনসিবি) যার (NCB) আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১৮২ কোটি টাকারও বেশি।

    ‘অপারেশন রেজপিল’ (NCB)

    আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই সাফল্যের খবর জানান। তিনি এও জানান, ‘অপারেশন রেজপিল’ (Operation Ragepill) সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের লক্ষ্যে পাঠানো এই মাদকের চালান আটক করা এবং এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা ভারতের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির উজ্জ্বল উদাহরণ।” এনসিবি কর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের ভেতরে ঢোকা বা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাইরে পাঠানো প্রতিটি গ্রাম মাদক চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’ কী? 

    প্রশ্ন হল, কী এই ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’? ‘ক্যাপ্টাগন’ হল ফেনেথাইলিন (Fenethylline) নামের একটি সিন্থেটিক অ্যাম্ফেটামিন-জাতীয় উত্তেজক মাদকের ব্র্যান্ড নাম। এটি ছয়ের দশকে অ্যাম্ফেটামিন এবং থিওফাইলিনের যৌগিক ওষুধ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমদিকে এডিএইচডি, নারকোলেপসি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হত। কিন্তু উচ্চ মাত্রার অপব্যবহারের ঝুঁকির কারণে আটের দশকে বিশ্বজুড়ে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে অবৈধভাবে তৈরি হওয়া ক্যাপ্টাগনে (বিশেষ করে সিরিয়া ও লেবাননে উৎপাদিত) সাধারণত অ্যাম্ফেটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন বা অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত সতর্কতা, উচ্ছ্বাস, খিদে কমে যাওয়া এবং টানা বহুদিন না ঘুমিয়ে থাকার মতো প্রভাবও অনুভব করে।

    ‘কেমিক্যাল সাহস’

    মধ্যপ্রাচ্যের (NCB) সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলিতে ক্যাপ্টাগন ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিতি পায়। সিরিয়ায় আইএসআইএস-সহ বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন একে ‘কেমিক্যাল সাহস’ (chemical courage) হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই মাদকের অবৈধ উৎপাদন ও পাচার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অর্থায়নের অন্যতম উৎস। এই মাদক জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেরা ব্যবহারও করে, আবার বিক্রিও করে। অভিযান চালিয়ে এনসিবি (NCB) প্রায় ২২৭.৭ কেজি এই মাদক উদ্ধার করেছে। এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ভারতে (Amit Shah) অবৈধভাবে ঢুকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মাদক পাচারের চেষ্টা করছিল।

     

  • PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নিদর্শন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মিলল বিরাট সাফল্য (PM Modi)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ভারতকে ফিরিয়ে দিল একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন। এই ফলকগুলি ‘লেইডেন প্লেটস’ নামেও পরিচিত। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকা ঐতিহাসিক দলিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই পদক্ষেপটি নেয় সে দেশের সরকার।

    ২১টি তাম্রফলক (PM Modi)

    ভারত সরকার, ডাচ সরকার এবং লেইডেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে বহু বছরের পুনরুদ্ধার চেষ্টার ফলস্বরূপ মিলল এই সাফল্য। সব মিলিয়ে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে। ওজন প্রায় ৩০ কেজি। একটি ব্রোঞ্জের বৃত্তের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা, যাতে রাজেন্দ্র চোল একের রাজমোহরও লাগানো রয়েছে। এই তাম্রফলকের লিপিগুলি সম্রাট রাজারাজা চোল এক এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলের শাসন কালের। সংস্কৃত অংশে চোল বংশের বংশলতিকার উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষ্ণুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক বৈধতা দাবি করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়

    তামিল ভাষায় লেখা অংশে রাজরাজা চোলের পক্ষ থেকে নাগাপট্টিনমের চূড়ামণি বিহার নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে জমির রাজস্ব ও কর দেওয়ার নথি রয়েছে। এই বিহারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক শ্রী মারা বিজয়োতুঙ্গ বর্মণ নির্মাণ করেছিলেন। ভূমিদানের আদেশ প্রথমে রাজরাজা চোল জারি করলেও, পরে তাঁর পুত্র সম্রাট রাজেন্দ্র চোল সেই আদেশ তাম্রফলকে উৎকীর্ণ করান, যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। এই লিপিগুলি দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চোল যুগের শীর্ষ সময়ে বিদ্যমান সামুদ্রিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কে বিরল তথ্য দেয়। নথিগুলি থেকে জানা যায়, সেই সময়ের হিন্দু শাসকরা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য তুলে ধরে (PM Modi)।

    কীভাবে তাম্রফলকগুলি পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে তাম্রফলকগুলি লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল? প্রায় ১৭০০ সালের দিকে ডাচ মিশনারি ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার এই তাম্রফলকগুলি সংগ্রহ করেন। তখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুলিকট থেকে তাদের কোরোম্যান্ডেল সদর দফতর নাগাপট্টিনমে স্থানান্তর করার পর ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। পরে ১৮৬২ সালে অধ্যাপক হেনড্রিক আরেন্ট হামাকারের সম্পত্তির মাধ্যমে এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে ফলকগুলি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। খোলা ছিল কেবল গবেষক ও পণ্ডিতদের জন্যই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (Netherlands), আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল (PM Modi)।

     

  • TMC Rule: তৃণমূল রাজত্বে ইস্যু হওয়া সব কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ রাজ্যের

    TMC Rule: তৃণমূল রাজত্বে ইস্যু হওয়া সব কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। ওই শংসাপত্রগুলির সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী জেলাশাসকদের ১.৬৯ কোটি তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) শংসাপত্র (Caste Certificates) আবার যাচাই করতে হবে। গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে (TMC Rule) ইস্যু হওয়া বহু কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকা (TMC Rule)

    ১৪ মে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিবের জারি করা এক নির্দেশে বলা হয়েছে, “আপনারা অবগত আছেন যে ২০১১ সাল থেকে প্রায় ১.৬৯ কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ২০১১ সালের পর ইস্যু হওয়া কিছু শংসাপত্রের সত্যতা ও বৈধতা বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।” নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, “অতএব, মহকুমা শাসকদের (যাঁরা সার্টিফিকেট দেন) ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।” যেসব ব্যক্তির নাম বিশেষ সংশোধিত তালিকা (SIR) প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের দেওয়া শংসাপত্রও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে বাতিল করা হতে পারে।

    ‘দুয়ারে সরকার’

    উল্লেখ্য, ১.৬৯ কোটির মধ্যে প্রায় ৪৭.৮০ লাখ শংসাপত্র ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল। চিঠি অনুযায়ী, এই পর্বে কিছু দ্বিতীয় প্রজন্মের কাস্ট সার্টিফিকেটও ইস্যু হয়ে থাকতে পারে। মোট শংসাপত্রের মধ্যে প্রায় ১ কোটি তফশিলি জাতির জন্য, ২১ লাখ তফশিলি উপজাতির জন্য এবং ৪৮ লাখ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ইস্যু করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত (TMC Rule), ‘দুয়ারে সরকার’ ছিল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের একটি জনসংযোগমূলক কর্মসূচি। এটি চালু হয়েছিল ১ ডিসেম্বর, ২০২০। এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং ওয়ার্ড স্তরে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে সরকারি প্রকল্প, কাস্ট সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য জনসেবামূলক সুবিধা সরাসরি নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিব আরও জানান, ফের যাচাই করার সময় যদি দেখা যায় যে কোনও শংসাপত্র বেআইনিভাবে ইস্যু (Caste Certificates) করা হয়েছে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (শনাক্তকরণ) আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৯ ও ১০ এবং ১৯৯৫ সালের সংশ্লিষ্ট বিধির ৩ থেকে ৭ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে (TMC Rule)।

     

  • New Namaz Guidelines: শহরের মসজিদগুলিতে নমাজ আদায়ের নয়া গাইডলাইন কার্যকর করার নির্দেশ

    New Namaz Guidelines: শহরের মসজিদগুলিতে নমাজ আদায়ের নয়া গাইডলাইন কার্যকর করার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার শহরে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই দেখা গেল পরিবর্তনের ছবি। শহরের বিভিন্ন মসজিদে (Mosques) মুসল্লিরা রাস্তার ওপর নন, মসজিদ চত্বরের মধ্যেই নমাজ আদায় করেন (New Namaz Guidelines)। নয়া সরকারের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়ার নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পুলিশ মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় সমাজের প্রবীণ ব্যক্তি, মসজিদ কমিটি এবং পুলিশ একসঙ্গে সমন্বয় করে যাতে কোনও বিঘ্ন ছাড়াই নমাজ আদায়-পর্ব সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করেন। অনেক মসজিদে ইমামরা খুতবার সময় মুসল্লিদের রাস্তার ওপর নমাজ না পড়ার অনুরোধ জানান।

    মৌখিক নির্দেশেই হয়েছে কাজ (New Namaz Guidelines)

    রাজ্যের নয়া সরকার সম্প্রতি উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছিল। সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার সোমবার পুলিশকে নির্দেশ দেয় যে ধর্মীয় স্থানের বাইরে লাউডস্পিকারের শব্দ যেন না যায় এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া প্রার্থনার জমায়েত যেন রাস্তা অবরুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি না করে। যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় থানাগুলি থেকে মৌখিক নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার বড় বড় মসজিদের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল, যাতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা যায়।

    নমাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরেই হবে

    রবীন্দ্র সরণির কাছে নাখোদা মসজিদে শুক্রবার সকাল থেকেই পুলিশ ঘোষণা করে, নমাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরেই হবে। নমাজের সময় ঘনিয়ে আসতেই বহু মুসল্লি মসজিদে প্রবেশের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। অনেককে ভেতরে জায়গা দেওয়া হলেও, কিছু মানুষ জায়গা না পেয়ে পাশের ফুটপাথে নমাজ পড়ার অনুমতি চান (New Namaz Guidelines)। প্রথমে পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি, তবে জায়গার অভাবের কারণে পরে সীমিত সংখ্যক মুসল্লিকে ফুটপাথে নমাজ পড়তে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা জানান, এই ব্যবস্থা সাময়িক। এক পুলিশ অফিসার বলেন, “আগামী সপ্তাহ থেকে সবাইকে মসজিদের ভেতরেই নমাজ পড়তে হবে (Mosques)।”

    নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টির বক্তব্য

    নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টিরা জানান, আগামী শুক্রবার থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। মসজিদের ট্রাস্টি নাসের ইব্রাহিম বলেন, “আমরা দুই দফায় নমাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছি।” নমাজ শুরু হওয়ার আগে ইমাম শফিক কাসমি মুসল্লিদের মসজিদের ভেতরে নমাজ পড়ার আহ্বান জানান। কলকাতার রয়েড স্ট্রিট, বেনিয়াপুকুর, খিদিরপুর, মোমিনপুর, তপসিয়া এবং পার্ক সার্কাস-সহ বিভিন্ন এলাকায়ও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সর্বত্রই অধিকাংশ মুসল্লি মসজিদের ভেতরেই নমাজ আদায় করেছেন।কিছু জায়গায় যাঁরা ভেতরে জায়গা পাননি, তাঁরা মসজিদ লাগোয়া ফুটপাথে নমাজ আদায় করেন। যদিও মূল রাস্তা খোলা রাখা হয়েছিল যান চলাচলের জন্য।

    কী বললেন রয়েড স্ট্রিট মসজিদের ইমাম

    রয়েড স্ট্রিট মসজিদের ইমাম মওলানা শাব্বির মিসবাহি বলেন, “স্থানীয় থানা থেকে আমাদের বলা হয়েছিল, বাইরে নমাজ আদায় করায় নিরুৎসাহিত করতে হবে (New Namaz Guidelines)।” স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান, অনেক মুসল্লি স্থানীয় মসজিদে জায়গা না পেয়ে স্বেচ্ছায় কাছাকাছি অন্য মসজিদে চলে গিয়েছিলেন। রাজাবাজার এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কিছু মানুষের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির সহায়তায় দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হয়। পরে মুসল্লিদের পাশের মসজিদগুলিতে নমাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। জুম্মার নমাজের সময় কলকাতার অধিকাংশ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল (Mosques)।

     

  • BJP Bengal: “বেসামাল আচরণ করলে, রেয়াত করা হবে না”, বিজেপি কর্মীদের বার্তা শমীকের

    BJP Bengal: “বেসামাল আচরণ করলে, রেয়াত করা হবে না”, বিজেপি কর্মীদের বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম বাংলার মসনদে এসেছে বিজেপি (BJP Bengal)। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে কার্যত পর্যুদস্ত করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়েছে পদ্ম-পার্টি (Indiscipline)। এমতাবস্থায় গেরুয়া দলের গায়ে যাতে কলঙ্কের কালি না লাগে, সেই ব্যবস্থাই করলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির কোনও নেতা-কর্মী বেসামাল আচরণ করলে, রেয়াত করা হবে না। প্রত্যেকের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। দল-বিরোধী আচরণ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেমে আসতে পারে বহিষ্কারের মতো শাস্তির খাঁড়াও। শুক্রবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে দলীয় বৈঠকে বসেছিল বিজেপি। সেখানে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বেসামাল কোনও আচরণ করলে রেয়াত করা হবে না সদ্য বিজয়ী বিধায়কদেরও।

    শমীকের সাফ কথা (BJP Bengal)

    জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, কোনও সিন্ডিকেট, তোলাবাজি চলবে না (Indiscipline)। টোটো-অটোর দখলদারিও বরদাস্ত করা হবে না। বিরোধী দলের কার্যালয়ও দখল করা যাবে না (BJP Bengal)।  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, জেলা সভাপতি এবং জেলা ইনচার্জরাও। দলে যাতে ‘বেনো জল’ ঢুকে না পড়ে, সেজন্যও এদিন সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বিজেপি নেতাদের। শমীক বলেন, “এই মুহূর্তে তৃণমূলের অনেকেই বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করছেন। তবে আপাতত অন্য দল থেকে কাউকে নেওয়া যাবে না। এমন অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হবে। শুধু নেতা-কর্মীরাই নন, বিধায়করাও এই নির্দেশিকার ঊর্ধ্বে নন। তাঁদেরও রেয়াত করা হবে না।”

    জনসংযোগ বৃদ্ধিতে জোর

    বিধায়কদের জনসংযোগ বৃদ্ধিতেও জোর দেন শমীক। বলেন, “বিধায়কদের গ্রামে গ্রামে যেতে হবে। স্থানীয়দের ধন্যবাদজ্ঞাপন করতে হবে।” এদিনের বৈঠকে জেলা সভাপতিদের কোর কমিটির নির্দেশমতো চলার কথাও বলেন বনশন। বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বলেন, “একা কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। উন্নয়নের সিদ্ধান্তও নয়। ১৫ জনের কোর কমিটি গঠন হবে (Indiscipline)। ওই কমিটির সঙ্গে একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” আগামী সপ্তাহের মধ্যে কোর কমিটি গড়ার নির্দেশও জেলাগুলিকে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব (BJP Bengal)।

     

  • Suvendu Adhikari: জেল-তল্লাশিতে মিলল প্রচুর ফোন, সাসপেন্ড জেল-সুপার-সহ ২, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    Suvendu Adhikari: জেল-তল্লাশিতে মিলল প্রচুর ফোন, সাসপেন্ড জেল-সুপার-সহ ২, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল জমানায় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধে ছিল ঘুঘু। সেই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে কোমর কষে ময়াদানে নেমে পড়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জেলে বসেই ফোনের (Prison Phone) সাহায্যে দিব্যি সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছিল সন্দেশখালির শাহজাহান-সহ অনেক দাগি। গারদের আড়ালে থাকা এই চক্র ভাঙতেই সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার-চিফ কন্ট্রোলার-সহ ২ জনকে। ওই জেল থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর মোবাইল ফোন। ওই সব ফোনের সিমকার্ড কাদের নামে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলবন্দিদের সঙ্গে যাঁরা ফোনে কথা বলেছেন, তাঁরাও অভিযুক্ত।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু বলেন, “প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে প্রচুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। অপরাধীরা জেলের মধ্যেও অপরাধচক্র চালিয়ে যাচ্ছিল। বছরের পর বছর এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। দমদম জেল-সহ বিভিন্ন জেলে এই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আগের সরকারের অপদার্থতায় এই ঘটনা ঘটেছে।”  তিনি বলেন, “সন্দেশখালির কুখ্যাত শাহজাহান-সহ অনেকে জেলে বসেই নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে (Suvendu Adhikari)। জেলে বসে অপরাধচক্র চালানোর ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে ২ জনকে। প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মোবাইলের সিমকার্ড কাদের নামে, তা জানতে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে (Prison Phone)। জেলবন্দিদের সঙ্গে যাঁরা ফোনে কথা বলেছেন, তাঁরাও অভিযুক্ত। সবার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    জেলে বসেই চালাচ্ছিল অপরাধের নেটওয়ার্ক!

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা আগের সরকারে ছিলেন, তাঁদের সাপোর্টও থাকতে পারে, আবার গাফিলতিও থাকতে পারে। শাসকদলের একাংশের সহযোগিতায় গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের মধ্যেও তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে। আমি স্বরাষ্ট্রসচিবকে বলব কেসটা সিআইডিকে হস্তান্তর করতে। সিমগুলো কাদের নামে আছে, কী করে ঢুকল, এটার রুটটাকে বের করতে হবে, তাহলে এটা বন্ধ হবে।” তিনি বলেন, “এর মধ্যে তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক চাপ কাজ করতে পারে, থাকতে পারেন কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিও।” প্রসঙ্গত, গত বছর বরানগরের একটি সোনার দোকানে ডাকাতি ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রেসিডেন্সি জেলে বসেই সোনার দোকানে হামলার ছক কষা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জেলে ঘুঘুর বাসা ভাঙতে উদ্যোগী হন মুখ্যমন্ত্রী।

    জেল থেকে উদ্ধার মোবাইল ফোন

    শুক্রবার বিকেলে প্রেসিডেন্সি জেলে তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। লিড ধরে বন্দিদের সেলে ঢুকে চালানো হয় খানাতল্লাশি। তার পরেই এক এক করে প্রকাশ্যে আসে (Suvendu Adhikari) কী ভীষণ অপরাধ চক্রের কারবার চালানো হচ্ছিল স্রেফ জেলে বসেই। এসবই হচ্ছিল মোবাইলের মাধ্যমে। জেলের ডাস্টবিন, ইটের খাঁজে থাকা সামান্য ফাটল, বাথরুমের ঘুলঘুলি, ভেন্টিলেটরের কোণ মায় একজস্ট ফ্যানের ব্লেডের পেছনেও লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ফোন। এদিনের তল্লাশিতে সব মিলিয়ে মোট ২৩টি ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টিই অত্যন্ত ছোট আকারের ‘মাইক্রো ফোন’ এবং একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যান্ড্রয়েড’ ফোন। জানা গিয়েছে, ফোনগুলি কোনও বন্দির কাছে থাকত না, লুকোনো থাকত ‘কমন স্পেসে’। সহজে যাতে কারও নজরে না পড়ে (Prison Phone), তাই এই ব্যবস্থা। এই অপরাধচক্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তার নাগাল পেতে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ‘ভয়েস স্যাম্পলিং’ পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হবেন, ফোনগুলির সাহায্যে ঠিক কারা এবং কতবার বাইরে যোগাযোগ করেছে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিলজলার ঘটনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অবৈধ নির্মাণের (Illegal Construction) ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেই সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যত এই ধরনের বিল্ডিং আছে, যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, সেই সব কারখানা, বিশেষ করে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর, একবালপুর-সহ এলাকাগুলিতে দ্রুত ইন্টারনাল অডিট করা হবে। প্ল্যানের অনুমোদন না থাকলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ডিসকানেক্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

    পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ

    মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একদিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য। কলকাতা পুরসভার (KMC) উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। কেএমসি-কেও বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ, বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন কেটে দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে হাঁটবে সরকার। শুভেন্দুর বার্তা, ‘যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান। যাঁরা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদের আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দিচ্ছি।’ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। আলাদা করে উল্লেখ করেছেন কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো এলাকার কথা।

    কঠোর প্রশাসনিক বার্তা

    উল্লখ্যে, মঙ্গলবার তিলজলায় একটি চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দু’জনের মৃত্যু হয়। তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। মঙ্গলবারের ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি রিপোর্ট তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি জানান, ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। পুরোপুরি অবৈধ ওই কারখানা। কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ— এই দুই ইস্যুতেই নতুন সরকার শুরু থেকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছে। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত থেকেই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কী বললেন অগ্নিমিত্রা

    রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যে অবৈধ ভবনগুলির ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকদের প্রথমে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেও নিয়ম না মানলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করা হবে। তিনি আরও জানান, তপসিয়ার ওই ভবনটিতে সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে, সেখান থেকে লোকজন নামতে পারেননি। পিছন দিকে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

     

     

  • India-UAE Oil Deal: জ্বালানি সুরক্ষায় মোদির মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের জন্য ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করবে আমিরশাহি

    India-UAE Oil Deal: জ্বালানি সুরক্ষায় মোদির মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের জন্য ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত করবে আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিল ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সংক্ষিপ্ত আবুধাবি সফরের পর শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আমিরশাহি ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (SPR) সর্বাধিক ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত করার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে।

    ভারতের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে আমিরশাহির তেল মজুত

    চুক্তি অনুযায়ী, আবুধাবি জাতীয় তেল সংস্থা, সংক্ষেপে অ্যাডনক (ADNOC)-এর অপরিশোধিত তেল ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে সংরক্ষণ করা হতে পারে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত বিদ্যমান স্টোরেজ সুবিধা যেমন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তেমনই ওডিশার চণ্ডিখোলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলিকেও এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হতে পারে। ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশের কাছে জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকবে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ এবং তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর।

    ফুজাইরাহে তেল মজুতের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    দুই দেশ ভারতের বৃহত্তর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে আমিরশাহির ফুজাইরাতে অপরিশোধিত তেল মজুতের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এর পাশাপাশি, ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর ফলে ভারত ভবিষ্যতে গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি সুরক্ষায়ও আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।

    কৌশলগত চুক্তি ও এলপিজি সরবরাহে সমঝোতা

    এই সফরে ভারত ও আমিরশাহি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। পাশাপাশি, এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত পৃথক চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি আমদানি ঝুঁকি কমাবে এবং ভবিষ্যতের সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

    পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

    এই চুক্তিগুলি এমন সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট। যদি এই রুটে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ফলে ভারত, চীন, জাপানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলি বিকল্প কৌশল খুঁজছে।

    আমিরশাহির বড় পাইপলাইন প্রকল্পে গতি

    একই সময়ে আমিরশাহি তাদের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন (West-East Pipeline) প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাডনককে এই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এই পাইপলাইনটি আমিরশাহির রফতানি সক্ষমতা বাড়াবে এবং হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ফুজাইরার মাধ্যমে তেল রফতানির সুযোগ দেবে। এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

    ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক আরও গভীর

    সাম্প্রতিক এই চুক্তিগুলি স্পষ্ট করে যে ভারত ও আমিরশাহি কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং কৌশলগত সহযোগী হিসেবেও নিজেদের সম্পর্ক আরও গভীর করছে। জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরবরাহ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজস্ব কৌশলগত মজুত বাড়াতে যে পথে এগোচ্ছে, আমিরশাহির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই পরিকল্পনাকে নতুন গতি দিল।

  • CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও চিকিৎসকেরা। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার ১২টি মেডিক্যাল কলেজ সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেডিক্যাল সুপারদের সঙ্গে এদিন বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির দুই জয়ী ডাক্তার বিধায়ক, বিধাননগর থেকে জয়ী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী ইন্দ্রনীল খাঁও এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন

    অতীতে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এই অভিযোগের জায়গাগুলিতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, কীভাবে ভুলত্রুটি সংশোধন করা যায় এবং এ বিষয়ে সরকারি আধিকারিকদের কী কী করণীয়, সেই নিয়ে কথা বলতেই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in SSKM)। কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্র সরকারের অধীনস্ত চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা। রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। কলকাতার সবকয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে।

    দালাল-রাজ মানা হবে না

    হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৈঠকে হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র এবং রোগী রেফার করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত

    রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ জমছিল। রোগী ভোগান্তি, বেডের অভাব, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার নানা ত্রুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী

    হাসপাতালের সেই ওয়ার রুমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সংযোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি, বেডের অবস্থা, রোগী পরিষেবা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে অ্যাপ নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে।

    হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ

    বাংলায় সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেহাল দশা স্বাস্থ্য পরিষেবার। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক সময় মেলে না বেড। মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা চলে রোগীদের। এই নিয়ে রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বোর্ডে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা, কতগুলি বেড খালি রয়েছে এবং কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে দেখাতে হবে। প্রশাসনের মতে, এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের বিষয়েও খুব শীঘ্রই বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় হসপিটালের বেড নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হবে।

    হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার

    এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মীর জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কে কর্মরত এবং কে বহিরাগত, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশগুলো দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-রোগী কল্যাণ সমিতিতে পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। বৈধ আইডি কার্ড দিতে হবে ৩১ মে’র মধ্যে। এর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সহজ হবে। ডাক্তার ও স্টাফেদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বৈঠকে।

    রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং

    এবার থেকে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং হবে। রোগী কল্যাণ সমিতি চালু রাখতে হবে। পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত না এমন লোক রাখবেন না। অবৈধ স্ট্রাকচার থাকলে হসপিটাল ভাঙতে হবে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পুনর্গঠন করতে হবে। আর এই রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের সাহায্যে কোথায় কয়টি বেড আছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন রোগীর পরিজনরা।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব

    আগামী পাঁচ বছর স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে চলবে, কীভাবে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো যায়, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, অভিযোগ কমে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই গতিপ্রকৃতিই নির্ধারণ করা হয় বলে অনুমান। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই অবস্থিত রাজ্যের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু বলেছিলেন, কথা কম কাজ বেশি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুভেন্দুকে একেবারে দাবাং মুডে দেখা যাচ্ছে। এদিন এসএসকেএম-এর বৈঠকে মূলত ‘দালালরাজ’ নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

     

     

  • Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১ জৈষ্ঠ্য শনিবার, ফলহারিণী কালীপুজো। বাংলায় কালীপুজোর চল সারা বছর ধরেই দেখা যায়। দুর্গাপুজোর পরে যে কালীপুজো হয় তা জনপ্রিয় দীপান্বিতা কালী পুজো নামে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে রক্ষাকালী পুজো। স্থানীয়ভাবেও বাংলার নানা প্রান্তে কালীপুজো হয়। কোনও কোনও গৃহস্থের বাড়িতেও কালী পুজো বছরের বিশেষ সময়ে দেখা যায়। জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে যে কালীপুজো হয় তা ফলহারিণী কালীপুজো (Falharini Kali Puja 2026) নামে প্রসিদ্ধ।

    ফলহারিণী অমাবস্যা কতক্ষণ থাকবে?

    এবছর, শনিবার এই অমাবস্যা তিথি (Falharini Amavasya) থাকায়, দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে, ফলহারিণী অমাবস্যা ১৬ মে ২০২৬ সালে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে পড়েছে। অর্থাৎ তিথি শনিবার পড়েছে। আর তিথি শেষ হচ্ছে, ১৭ মে রবিবার ভোররাত ১টা ১৩ মিনিটে। উল্লেখ্য, এই পঞ্জিকামতে, তিথি ১ জ্যৈষ্ঠ শুরু, তিথি শেষ ২ জ্যৈষ্ঠ। অন্যদিকে, অমাবস্যা ১৫ মে শুক্রবার ভোর ৪টে ১ মিনিটে পড়ছে। অমাবস্যা তিথি শেষ হবে ১৬ মে শনিবার রাত ১টা ৪৯ মিনিটে।

    পাপক্ষয়, আত্মশুদ্ধি ও মাতৃশক্তির আরাধনার বিশেষ তিথি

    হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মনে করা হয়—মা কালী এই তিথিতে ভক্তদের পাপ, দুঃখ, ক্লেশ ও কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। ‘ফলহারিণী’ শব্দটির অর্থই হল— যিনি কর্মফল হরণ করেন। তাই সাধারণ কালীপুজোর তুলনায় এই পূজার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অনেক গভীর। ফলহারিণী কালীপুজো মূলত তন্ত্রসাধনা, আত্মশুদ্ধি এবং ঈশ্বরচিন্তার একটি বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচিত। বাংলার বহু বাড়ি, মন্দির ও আশ্রমে এই দিন মা কালীর বিশেষ পুজো, হোম-যজ্ঞ, চণ্ডীপাঠ ও নামসংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা উপবাস পালন করে মাতৃশক্তির কৃপা প্রার্থনা করেন।

    ফলহারিণী কালীপুজোর পৌরাণিক তাৎপর্য

    শাস্ত্র মতে, জগজ্জননী মা কালী শুধু সংহারক নন, তিনি মুক্তিদাত্রীও। জীবনের সঞ্চিত কর্মফল, অহংকার, লোভ, ক্রোধ এবং মোহ দূর করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার শক্তি রয়েছে তাঁর মধ্যে। এই কারণেই ফলহারিণী অমাবস্যায় মা কালীর পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ জন্মে জন্মে নিজের কর্মের ফল বহন করে। শুভ কর্মে যেমন ভালো ফল আসে, তেমনই অশুভ কর্ম দুঃখ ও বাধার কারণ হয়। ফলহারিণী কালীপুজো সেই কর্মফলের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির প্রতীক। এই দিনে আন্তরিক ভক্তি ও প্রার্থনার মাধ্যমে মা কালীর কাছে জীবনের নেতিবাচক শক্তি দূর করার আবেদন জানানো হয়।

    ফলের মালা পরানোর রীতি দেখা যায়

    ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী জীবের কর্মফল অনুসারে তাদের আশীর্বাদ প্রদান করেন। তিনি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। পাশাপাশি জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ফলহারিণী অমাবস্যায় দেবীকে বিভিন্ন মরশুমি ফল দিয়ে পুজো দিলে দেবী সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। আম, জাম, কলা, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের মালা তৈরি করে দেবীকে পরানোর রীতি দেখা যায়।

    কেন এই পুজো ফলহারিণী কালীপুজো নামে পরিচিত?

    শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈষ্ঠ্য মাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল সমেত নানারকম মরসুমী ফল পাওয়া যায়। ভক্তরা তাঁদের ইষ্টদেবীকে এই ফল নিবেদন করে থাকেন। দেবী ভক্তদের কর্মফল হরণ করে তাদেরকে মোক্ষফল প্রদান করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ফলহারিণী কালীপুজো করলে বিদ্যা, কর্ম এবং অর্থ ভাগ্যের উন্নতি ঘটে প্রেম প্রণয়ের বাধা দূর হয়, দাম্পত্য সংসারী জীবনেও সুখ শান্তি বিরাজ করে। এককথায় এই বিশেষ পুজোয় ভক্তরা আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানসিক শক্তি পেয়ে থাকেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

    এই দিনেই সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    ফলহারিণী কালীপুজোর আরেকটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। জানা যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ফলহারিণী কালীপুজোর দিনে সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। এই ঘটনা হিন্দু আধ্যাত্মিক জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঠাকুর দক্ষিণেশ্বরে ষোড়শী রূপে পুজো করেছিলেন সারদা মা’কে। শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর সাধনার পরম পরিণতি হিসেবে স্ত্রী সারদা দেবীর মধ্যে আদ্যাশক্তির প্রকাশ দেখেছিলেন। ফলহারিণী কালীপুজোর রাতেই তিনি সারদা দেবীকে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেন। এর মাধ্যমে নারীশক্তি, মাতৃত্ব ও দেবীত্বের এক অনন্য ব্যাখ্যা সামনে আসে। পরবর্তীতে এই সময়ের কালী পুজো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ফলহারিণী কালী (Falharini Kali Puja 2026) পুজো নামেই প্রসিদ্ধি পায়।

LinkedIn
Share