PM Modi: ‘‘২০৩৬ অলিম্পিক্সের জন্য প্রস্তুত ভারত’’, জাতীয় গেমসের উদ্বোধনে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

games_(1)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পোর্টস থেকে স্পেসে উড়বে ভারতের পতাকা। আচ্ছে দিন এসে গিয়েছে। দেশের পরিবেশটাই অন্যরকম।  আগামী ১৩ বছরে ভারত আর্থিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী হবে। ৩৭তম জাতীয় গেমসের সূচনা (National Games Opening ceremony) করে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে জাতীয় গেমস। ১০ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেবেন গেমসে। 

গোয়ায় শুরু জাতীয় গেমস 

গোয়ার মারগাওয়ে ফতোরদার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে (Pandit Jawaharlal Nehru Stadium) আতশবাজির অপূ্র্ব রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেল ভারতের (India) ৩৭তম জাতীয় গেমস (37th National Games)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) হাতে জাতীয় গেমসের মশাল তুলে দেন ভারতীয় পুরুষ হকি দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং ও গোয়ার উইন্ডসার্ফার কাত্যা ইদা কোয়েলহো। এদিন হুড খোলা গাড়িকে রথের মতো সাজিয়ে তাতে চড়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে  ‘জয় হো’ গান হচ্ছিল। মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার প্রধান পিটি ঊষা, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাবন্ত, গোয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী গোবিন্দ গৌড়ে।

ক্রীড়া বিশ্বে এগিয়ে চলেছে ভারত

জাতীয় গেমসের সূচনা করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা যখন বিশ্বের মঞ্চে নতুন ইতিহাস তৈরি করছে ঠিক সেই মুহূর্তে জাতীয় গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমস্ত খেলোয়াড়দের জন্য এই জাতীয় গেমসগুলো হল শক্তিশালী একটা লঞ্চ প্যাড। তাই সমস্ত খেলোয়াড়দের নিজেদের সর্বোত্তম পারফরম্যান্স দিতে হবে আর সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভাঙতে হবে।” আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় গেমসের টর্চ জ্বালিয়ে মোদি বলেন, ”গোয়া থেকে অনেক তারকার উত্থান হয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার জন্য বিখ্যাত গোয়া। এমন একটা সময়ে জাতীয় গেমস হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে ভারত। এশিয়ান গেমসে নজিরবিহীন রেকর্ড করেছে ভারত। ৭০ বছরেও যা হয়নি, এবারের এশিয়ান গেমসে তাই হয়েছে। এশিয়ান প্যারা গেমস চলছে এখন। ইতিমধ্যেই ভারতীয় খেলোয়াড়রা ৭০-এর বেশি মেডেল জিতে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে  ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমস হয়েছিল। সেখানেও ভারত নজির গড়ে।” 

সরকারের সাহায্য

ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সরকার যে যে পদক্ষেপ করেছে তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। এই দেশ অনেক চ্যাম্পিয়নকে তৈরি করেছে। ২০১৪ সালের পর দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের পরিকাঠামোতে (sports infrastructure) বদলের জন্য প্রচুর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। নির্বাচনী প্রক্রিয়া (selection process) ও ক্রীড়াবিদদের সাহায্যের জন্য আর্থিক প্রকল্প (financial schemes supporting athletes) চালু করা হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ভারত আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে অনেক পিছিয়ে থাকত। আগের সরকার মনে করত খেলাধুলোর পিছনে কেন অর্থ খরচ করবো।” 

দেশে যদি নিরাশার পরিবেশ থাকে, তাহলে প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বলে অভিমত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সবক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা এবং গতির সঙ্গে অনেকেই এঁটে উঠতে পারছে না, বলে মনে করেন মোদি। তিনি বলেন, “২০৩০ সালের যুব অলিম্পিক্স এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্সের জন্য তৈরি দেশ।” প্রতিযোগীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি বলেন, “ময়দান যাই হোক, চ্যালেঞ্জ যেমনই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। এই সুযোগ খোয়ানো চলবে না।”   

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share