Cancer: ক্যান্সার আক্রান্তের সামনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নয়া দিশা “প্রোটন বিম থেরাপি”

Proton_Beam_Therapy

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যান্সার (Cancer) এক এমন মারাত্মক রোগ, যার সঙ্গে লড়াই শুধু আক্রান্তের নয়, আক্রান্তের পরিবারেরও। এই মারণ রোগ এখন বর্তমানে এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, খোঁজ নিলে আশপাশে বেশ কয়েকটি বাড়িই মিলবে, যে বাড়ির সদস্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে টিউমার থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। তবে এখন এই রোগ থেকে মানুষ অনেকটাই ঝুঁকিহীন। কারণ বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে নানান চিকিৎসা পদ্ধতিরও আবিষ্কার হয়েছে, যা সহজেই মানুষকে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ থেকে অনায়াসেই সুস্থ করতে পারে। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলস্বরূপই আমরা আজ পেয়েছি “প্রোটন বিম থেরাপি”। এই থেরাপির মাধ্যমে অনেক ক্যান্সার রোগীকে আজ নতুন জীবন দান করা সম্ভব হয়েছে।

কী এই প্রোটন বিম থেরাপি (Cancer)?

প্রোটন বিম থেরাপি হল এক ধরনের উচ্চ রেডিয়েশন থেরাপি, যা বর্তমানে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হয় ক্যান্সার (Cancer) আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলার জন্য। এটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তির রশ্মি যা অনায়াসে আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলতে পারে। প্রোটন থেরাপি এক ধরনের বাহ্যিক রশ্মি বিকিরণ থেরাপি, যার সাহায্যে শরীরের বাইরে থেকেই ব্যথাহীন ভাবে ত্বকের ওপর থেকেই বিকিরণ করা সম্ভব।

প্রোটন থেরাপির (Cancer) উদ্দেশ্য কী?

টিউমার থেকে উৎপন্ন ক্যান্সারকে ধ্বংস করতে এটি সাহায্য করে। টিউমারকে অস্ত্রোপচারের আগেই সঙ্কুচিত করা সম্ভব এই থেরাপির সাহায্যে। সাধারণত অনেক সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার পরও ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এই প্রোটন বিম থেরাপির মাধ্যমে সেই ঝুঁকিকে (Cancer) একেবারেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব। এই থেরাপি ক্যান্সার কোষ বা টিউমারের ডিএনএ পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। তার সঙ্গে আক্রান্ত জায়গার আশেপাশে আরও সুস্থ টিস্যু তৈরিতে এটি সাহায্য করে।

কী ধরনের ক্যান্সারের (Cancer) ক্ষেত্রে এই থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে?

গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত শিশুদের ক্যান্সার (Cancer) বা পেডিয়াট্রিক টিউমার, ব্রেন টিউমার, স্পাইনাল টিউমার, স্কাল বা করোটিতে টিউমার ইত্যাদিতে এই থেরাপি কার্যকর। একাধিক রেডিয়েশন দেওয়ার পরেও যাদের টিউমার বারবার ফিরে আসে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রোটন বিম থেরাপি খুবই উপযোগী। প্রস্টেট ক্যান্সার, কিছু ধরনের স্তন ও ফুসফুস ক্যান্সার, হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার, প্যাংক্রিয়াটিস ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার, সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার-এর ক্ষেত্রেও এটি এখন বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

কী কী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে এই থেরাপিতে?

কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে এই থেরাপিতে (Cancer), যেগুলিও জেনে নেওয়া প্রয়োজন। যেমন শরীরে ক্লান্তি ভাব, সারা শরীরে ব্যথা অনুভব করা, চুল পড়া, মাথা ব্যথা, হজমের সমস্যা, ডায়ারিয়া প্রভৃতি।

ভারতের কোথায় এই প্রোটন বিম থেরাপি (Cancer) চিকিৎসা হয় এবং খরচ কত? 

ভারতের নানা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে এই চিকিৎসা পদ্ধতি (Cancer) আছে। তার মধ্যে অ্যাপোলো হসপিটাল থেকে শুরু করে অনেক হাসপাতালেই এর সুবিধা উপলব্ধ। এই প্রোটন বিম থেরাপি অনেকটাই ব্যয়বহুল, যা এখনও ভারতবর্ষে সর্বসাধারণের পক্ষে বহন করা খুব একটা সহজলভ্য নয়। ভারতে প্রোটন থেরাপির মোট খরচ প্রায় ১৫ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। এটি বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তাই এ সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা সহজ নয়। 

 

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share