Ramakrishna12: “মাঝে মাঝে সাধুসঙ্গ আর মাঝে মাঝে নির্জনে থেকে ঈশ্বরচিন্তা করতে হয়”

Sri_Ramakrishna Kathamrita12

৭ম পরিচ্ছেদ 

যো মামজমনাদিঞ্চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্‌।

অসংগমূঢ়ঃ স মর্তেষু সর্বপাপৈঃ প্রমচ্যতে।।

উপায়-বিশ্বাস

একজন ভক্ত—মহাশয়, এরূপ সংসারী জীবের কি উপায় নাই?

শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)-অবশ্য উপায় আছে। মাঝে মাঝে সাধুসঙ্গ আর মাঝে মাঝে নির্জনে থেকে ঈশ্বরচিন্তা করতে হয়। আর বিচার করতে হয়। তাঁর আছে প্রার্থনা করতে হয়, আমাকে ভক্তি বিশ্বাস দাও।

বিশ্বাস হয়ে গেলেই হল। বিশ্বাসের চেয়ে আর জিনিস নাই।

(কেদারের প্রতি)—“বিশ্বাসের কত জোর তা তো শুনছে, পুরাণে আছে, রামচন্দ্র যিনি সাক্ষাৎ পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ, তাঁর লঙ্কায় যেতে সেতু বাঁধতে হল। কিন্তু হনুমান রামনামে বিশ্বাস করে লাফ দিয়ে সমুদ্রের পারে গিয়ে পড়ল। তার সেতুর দরকার হয় নাই। (সকলের হাস্য)

“বিভীষণ একটি পাতায় রামনাম লিখে ওই পাতাটি একটি লোকের কাপড়ের খোঁটে বেঁধে দিছিল। সে লোকটি সমুদ্রের পারে যাবে। বিভীষণ তাকে বললে, তোমার ভয় নাই, তুমি বিশ্বাস করে জলের উপর দিয়ে চলে যাও, কিন্তু দেখ যাই অবিশ্বাস করবে, অমনি জলে ডুবে যাবে। লোকটি বেশ সমুদ্রের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল; এমন সময়ে তার ভারী ইচ্ছা হল যে, কাপড়রের খোঁটে কি বাঁধা আছে একবার দেখে! খুলে দেখে যে, কেবল রামনাম লেখা রয়েছে! তখন সে ভাবলে, এ কি! শুধু রামনাম (Ramakrishna) একটি লেখা রয়েছে! যাই অবিশ্বাস, অমনি ডুবে গেল।

যার ঈশ্বরে বিশ্বাস আছে, সে যদি মহাপতক করে-গো, ব্রাহ্মণ, স্ত্রী হত্যা করে, তবুও ভগবানে এই বিশ্বাসের বলে ভারী ভারী পাপ থেকে উদ্ধার হতে পারে। সে যদি বলে আর আমি এমন কাজ করব না, তার কিছুতেই ভয় হয় না।”

এই বলিয়া ঠাকুরের গান ধরিলেনঃ

মহাপাতক ও নামমাহাত্ম্য

আমি দুর্গা দুর্গা বলে মা যদি মরি।

আখেরে এ-দীনে, না তারো কেমনে জানা যাবে গো শঙ্করী।।

নশি গো ব্রাহ্মণ, হত্যা করি ভ্রূণ, সুরাপান আদি বিনাশ নারী।

এ-সব পাতক, না ভাবি তিলেক, ব্রহ্মপদ নিতে পারি।।

এই ছেলেটিকে দেখছ, এখানে একরকম। দুরন্ত ছেলে বাবার কাছে যখন বসে, যেমন জুজটি, আবার চাঁদনিতে যখন খেলে, তখন আর এক মূর্তি। এরা নিত্যসিদ্ধের থাক। এরা সংসারে কখনও বদ্ধ হয় না। একটু বয়স হলেই চৈতন্য (Ramakrishna) হয়, আর ভগবানের দিকে চলে যায়। এরা সংসারে আসে জীবশিক্ষার জন্য। এদের সংসারের বস্তু কিছু ভাল লাগে না-এরা কামিনীকাঞ্চনে কখন আসক্ত হয় না।

আরও পড়ুনঃ “ভালো লোকের সঙ্গে মাখামাখি চলে, মন্দ লোকের কাছ থেকে তফাত থাকতে হয়”

আরও পড়ুনঃ “সাধু, অসাধু, ভক্ত, অভক্ত-সকলেরই হৃদয়ে নারায়ণ আছেন, কিন্তু দুষ্টু লোকের সঙ্গে মাখামাখি চলে না”

আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

 

তথ্যসূত্রঃ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত, ৭ম পরিচ্ছেদ,

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share