৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে
দশম পরিচ্ছেদ
১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর
জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আমার লাগবে!
গিরিশ-ভাল হয়ে যা! (ফুঁ)। ভাল যদি না হয়ে থাকে তো—যদি আমার ও-পায়ে কিছু ভক্তি থাকে, তবে অবশ্য ভাল হবে! বল, ভাল হয়ে গেছে।
শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া)—যা বাপু, আমি ও-সব বলতে পারি না। রোগ ভাল হবার কথা মাকে বলতে পারি না। আচ্ছা ঈশ্বরের ইচ্ছায় হবে।
গিরিশ—আমায় ভুলোনো! তোমার ইচ্ছায়!
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—ছি, ও-কথা বলতে নাই। ভক্তবৎ ন চ কৃষ্ণবৎ। তুমি যা ভাবো, তুমি ভাবতে পারো। আপনার গুরু তো ভগবান—তাবলে ও-সব কথা বলায় অপরাধ হয়—ও-কথা বলতে (Kathamrita) নাই।
গিরিশ—বল, ভাল হয়ে যাবে।
শ্রীরামকৃষ্ণ—আচ্ছা, যা হয়েছে তা যাবে।
গিরিশ নিজের ভাবে মাঝে মাঝে ঠাকুরকে সম্বোধন করিয়া বলিতেছেন,
“হ্যাঁগা, এবার রূপ নিয়ে আস নাই কেন গা?”
কিয়ৎক্ষণ পরে আবার বলিতেছেন, ‘এবার বুঝি বাঙ্গালা উদ্ধার!’
কোন কোন ভক্ত ভাবিতেছেন, বাঙ্গালা উদ্ধার, সমস্ত জগৎ উদ্ধার!
গিরিশ আবার বলিতেছেন, “ইনি এখানে রয়েছেন কেন, কেউ বুঝেছো? জীবের দুঃখে কাতর হয়ে সেছেন; তাঁদের উদ্ধার করবার জন্যে!”
গাড়োয়ান ডাকিতেছিল। গিরিশ গাত্রোত্থান করিয়া তাহার কাছে যাইতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মাস্টারকে বলিতেছেন, “দেখো, কোথায় যায়—মারবে না তো।” মাস্টারও সঙ্গে সঙ্গে গমন করিলেন।
গিরিশ আবার ফিরিয়াছেন ও ঠাকুরকে স্তব করিতেছেন “ভগবন্, পবিত্রতা আমায় দাও। যাতে কখনও একটুও পাপ-চিন্তা না হয়।”
শ্রীরামকৃষ্ণ তুমি পবিত্র তো আছ।—তোমার যে বিশ্বাস-ভক্তি! তুমি তো আনন্দে আছ।
গিরিশ—আজ্ঞা, না। মন খারাপ—অশান্তি—তাই খুব মদ খেলুম।
কিয়ৎক্ষণ পরে গিরিশ আবার বলিতেছেন (Kathamrita), “ভগবন্, আশ্চর্য হচ্ছি যে, পূর্ণব্রহ্ম ভগবানের সেবা করছি! এমন কি তপস্যা করিছি যে এই সেবার অধিকারী হয়েছি!”
ঠাকুর মধ্যাহ্নের সেবা করিলেন। অসুখ হওয়াতে অতি সামান্য একটু আহার করিলেন।
ঠাকুরের সর্বদাই ভাবাবস্থা — জোর করিয়া শরীরের দিকে মন আনিতেছেন। কিন্তু শরীর রক্ষা করিতে বালকের ন্যায় অক্ষম। বালকের ন্যায় ভক্তদের বলিতেছেন, “এখন একটু খেলুম — একটু শোব! তোমরা একটু বাহিরে গিয়ে বসো।”
ঠাকুর (Ramakrishna) একটু বিশ্রাম করিয়াছেন। ভক্তেরা আবার ঘরে বসিয়াছেন।

Leave a Reply