চতুর্থ পরিচ্ছেদ
১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও অবতারবাদ
Reconciliation of Free will and Predestination
আমি কে?
ডাক্তার—তবে এই ‘আমি’ যা বলছ, এগুলো কি? এর তো মানে বলতে হবে। তিনি কি আমাদের সঙ্গে চালাকি খেলছেন?
গিরিশ—মহাশয়, কেমন করে জানলেন (Kathamrita), চালাকি নয়?
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সহাস্যে—এই ‘আমি’ তিনিই রেখে দিয়েছেন। তাঁর খেলা—তাঁর লীলা! এক রাজার চার বেটা। রাজার ছেলে।—কিন্তু খেলা করছে—কেউ মন্ত্রী, কেউ কোটাল হয়েছে, এই সব। রাজার বেটা হয়ে কোটাল কোটাল খেলছে!
(ডাক্তারের প্রতি)—“শোন! তোমার যদি আত্মার সাক্ষাৎকার হয়, তবে এই সব মানতে হবে। তাঁর দর্শন হলে সব সংশয় যায়।”
Sonship and the Father—জ্ঞানযোগ ও শ্রীরামকৃষ্ণ
ডাক্তার — সব সন্দেহ যায় কই?
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আমার কাছে এই পর্যন্ত শুনে যাও। তারপর বেশি কিছু শুনতে চাও, তাঁর কাছে একলা একলা বলবে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে, কেন তিনি এমন করেছেন।
“ছেলে ভিখারীকে এক কুনকে চাল দিতে পারে। রেলভাড়া যদি দিতে হয় তো কর্তাকে জানাতে হয়। ডাক্তার চুপ করিয়া আছেন।
“আচ্ছা, তুমি বিচার ভালবাস। কিছু বিচার করি, শোন। জ্ঞানীর মতে অবতার নাই। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন,—তুমি আমাকে অবতার অবতার বলছ, তোমাকে একটা জিনিস দেখাই—দেখবে এস। অর্জুন সঙ্গে সঙ্গে গেলেন। খানিক দূরে গিয়ে অর্জুনকে বললেন, ‘কি দেখতে পাচ্ছ?’ অর্জুন বললেন, ‘একটি বৃহৎ গাছ, কালো জাম থোলো থোলো হয়ে আছে।” শ্রীকৃষ্ণ বললেন, ‘ও কালো জাম নয়। আর একটু এগিয়ে দেখ।’ তখন অর্জুন দেখলেন, থোলো থোলো কৃষ্ণ ফলে আছে। কৃষ্ণ বললেন (Kathamrita), ‘এখন দেখলে? আমার মতো কত কৃষ্ণ ফলে রয়েছে!’
“কবীর দাস শ্রীকৃষ্ণের কথায় বলেছিল, তুমি গোপীদের হাততালিতে বানর নাচ নেচেছিলে!
“যত এগিয়ে যাবে ততই ভগবানের উপাধি কম দেখতে পাবে। ভক্ত প্রথমে দর্শন করলে দশভূজা। আরও এগিয়ে দেখলে ষড়ভুজ। আরও এগিয়ে গিয়ে দেকছ দ্বিভুজ গোপাল! যত এগুচ্ছে ততই ঐশ্বর্য কমে যাচ্চে। আরও এগিয়ে গিয়ে দেখছে দ্বিভুজ গোপাল! যত এগুচ্ছে ততই ঐশ্বর্য কমে যাচ্ছে। আরও এগিয়ে গেল, তখন জ্যোতিঃদর্শন কল্লে—কোনও উপাধি নাই।

Leave a Reply