Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

https://madhyom.com/ramakrishna-kathamrita-by-mahendranath-gupta-602nd-copy

৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
বিজয়াদি ভক্তসঙ্গে প্রেমানন্দে

এই বলিয়া শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna )পাদমূলে পতিত হইলেন ও নিজের বক্ষে তাঁহার চরণ ধারণ করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তখন ঈশ্বরাবেশে বাহ্যশূন্য চিত্রার্পিতের ন্যায় বসিয়া আছেন।

এই প্রেমাবেশ, এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখিয়া উপস্থিত ভক্তেরা কেহ কাঁদিতেছেন, কেহ স্তব করিতেছেন। যাঁহার যে মনের ভাব তিনি সেই ভাবে একদৃষ্টে শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে চাহিয়া রহিলেন! কেহ তাঁহাকে পরমভক্ত, কেহ সাধু, কেহ বা সাক্ষাৎ দেহধারী ঈশ্বরাবতার দেখিতেছেন, যাঁহার যেমন ভাব।

মহিমাচরণ সাশ্রুনয়নে গাহিলেন (Kathamrita) — দেখ দেখ প্রেমমূর্তি — ও মাঝে মাঝে যেন ব্রহ্মদর্শন করিতেছেন, এই ভাবে বলিতেছেন —

“তুরীয়ং সচ্চিদানন্দম্‌ দ্বৈতাদ্বৈতবিবর্জিতম্‌।”

নবগোপাল কাঁদিতেছেন। আর একটি ভক্ত ভূপতি গাহিলেন:

জয় জয় পরব্রহ্ম            অপার তুমি অগম্য
পারাৎপর তুমি সারাৎসার।
সত্যের আলোক তুমি    প্রেমের আকর ভূমি,
মঙ্গলের তুমি মূলাধার।
নানা রসযুত ভব,           গভীর রচনা তব,
উচ্ছ্বসিত শোভায় শোভায়,
মহাকবি আদিকবি,        ছন্দে উঠে শশী রবি,
ছন্দে পুনঃ অস্তাচলে যায়।
তারকা কনক কুচি,        জলদ অক্ষর রুচি,
গীত লেখা নীলাম্বর পাতে।
ছয় ঋতু সম্বৎসরে,          মহিমা কীর্তন করে,
সুখপূর্ণ চরাচর সাথে।
কুসুমে তোমার কান্তি,     সলিলে তোমার শান্তি,
বজ্ররবে রুদ্র তুমি ভীম;
তব ভাব গূঢ় অতি,          কি জানিবে মূঢ়মতি,
ধ্যায় যুগযুগান্ত অসীম।
আনন্দে সবে আনন্দে,    তোমার চরণ বন্দে,
কোটি চন্দ্র কোটি সূর্য তারা!
তোমারি এ রচনারি,        ভাব লয়ে নরনারী,
হাহাকারে নেত্রে বহে ধারা।
মিলি সুর, নর, ঋভু,        প্রণমে তোমায় বিভু
তুমি সর্ব মঙ্গল-আলয়;
দেও জ্ঞান, দেও প্রেম,    দেও ভক্তি, দেও ক্ষেম,
দেও দেও ওপদে আশ্রয়।

ভূপতি আবার গাহিতেছেন:

ঝিঁঝিট—খয়রা কীর্তন

চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী।
মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি
বিবিধ বিলাস রসপ্রসঙ্গ,                 কত অভিনব ভাবতরঙ্গ,
ডুবিছে উঠিছে করিছে রঙ্গ,              নবীন নবীন রূপ ধরি,
(হরি হরি বলে)
মহাযোগে সমুদয় একাকার হইল,
দেশ-কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুচিল,
(আশা পুরিল রে, আমার সকল সাধ মিটে গেল!)
এখন আনন্দে মাতিয়া দুবাহু তুলিয়া, বলরে মন হরি হরি (Kathamrita)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share