Rash Yatra 2024: ঐতিহ্য আর থিমের মেলবন্ধন! শান্তিপুরে রাসযাত্রা শুরুর পিছনে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব!

Rash_Yatra_2024_(2)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ৫৫০  বছর আগে অদ্বৈত আচার্যের হাত ধরে প্রথম শুরু হয় শান্তিপুরের (Santipur) রাসযাত্রা। আজও একইভাবে নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হচ্ছে রাস উৎসব। এবারও রাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি তুঙ্গে। নিত্যনতুন থিমে সেজে উঠেছে গোটা শহর। পুরানো ঐতিহ্যের সঙ্গে থিমের মেলবন্ধনে রাসযাত্রা (Rash Yatra 2024) আরও জাঁকজমক হয়ে উঠেছে।

শান্তিপুরে রাস লীলার ইতিহাস (Rash Yatra 2024)

কথিত আছে, দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনে তখন প্রতিদিন রাসলীলা (Rash Yatra 2024) হচ্ছে। যেখানে শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত কোনও পুরুষের প্রবেশ নিষেধ ছিল। তখন মহাদেবের মনে প্রশ্ন জাগল, রাসলীলা কীভাবে হয়। সেখানে কেন পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ? এই প্রশ্ন থেকেই তিনি মহিলা রূপে রাসলীলায় প্রবেশ করেন। সেদিন শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারেন, রাসলীলার মধ্যে কোনও পুরুষ প্রবেশ করেছে। তিনি কাউকে কিছু না বলেই রাসলীলা থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যান। তখন যোগমায়া অর্থাৎ দুর্গা বুঝতে পারেন, রাসলীলার ভিতর কোনও পুরুষ প্রবেশ করেছেন। তিনি জানতে পারেন, মহাদেব নিজে নারীরূপ ধারণ করে রাসলীলায় সামিল হয়েছেন। তখন তিনি মহাদেবকে রাসলীলা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। মহাদেব বলেন, দ্বাপরে আমার রাসলীলা দেখার সৌভাগ্য না হলেও আমি অন্য যুগে রাসলীলা দেখব এবং প্রসার ঘটাব।

শান্তিপুরের অদ্বৈত আচার্যকে মহাদেব এবং বিষ্ণুর অবতার বলা হত। প্রায় ৫৫০ বছর আগে তিনি প্রথম নারায়ণ পুজো করে রাসের শুভ আরম্ভ করেন। প্রথমে মূলত বিভিন্ন গোস্বামী এবং বিগ্রহ বাড়িতেই শান্তিপুরে রাসযাত্রা চলত। এরপর হঠাৎ গোস্বামী বাড়ি থেকে রাধারমন জিউ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্ৰহ চুরি হয়ে যায়। এরপর অদ্বৈত আচার্যের পৌত্র মথুরেশ গোস্বামী বাংলাদেশের যশোর থেকে পুনরায় সেই মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। গোস্বামী বাড়ির পরবর্তী বংশধররা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ একাই মন্দিরে আছেন, তাকে যুগল রূপে পুজো করতে হবে। এরপরই রাধারানিকে স্থাপন করার উদ্দেশ্যে বৈষ্ণবদের মতামত নিয়ে একটি ভালো দিন দেখে রাধারানির বিগ্রহ স্থাপন করা হয়। আর সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে আসছে শান্তিপুরের রাসযাত্রা। আর ঠিক যখন রাধারানির মূর্তি স্থাপন করা হয়, তখন বাড়ির সকলেই বলেন, যেহেতু রাধা কৃষ্ণের মিলন ঘটেছে সে কারণে একটি অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। সেই কারণেই শান্তিপুরে তিন দিন উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে শান্তিপুরের রাসযাত্রা। শেষ হবে রবিবার।

কোথায় কী থিম?

আজও শান্তিপুরে সেই একই নিয়ম মেনে রাসযাত্রা (Rash Yatra 2024) হয়ে আসছে। এই রাসযাত্রা এখন শুধুমাত্র গোস্বামী বাড়ি বা বিগ্রহ বাড়িতে থেমে নেই। ছোট-বড় অনেক বারোয়ারি বিভিন্ন মণ্ডপ সাজিয়ে রাসযাত্রা করছে। এবারও বিভিন্ন বারোয়ারি তাদের সেরা উপহার তুলে দিতে চাইছে দর্শনার্থীদের মধ্যে। শ্যামবাজার রাস উৎসব কমিটি এ বছর বিভিন্ন প্রকার লৌহসামগ্রী দ্বারা নির্মিত করেছে মণ্ডপ। থানার মাঠ রাস উৎসব কমিটির এ বছরের নিবেদন অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ। শান্তিপুর লিডার্স ক্লাবের এবছর থিম, ‘এবার রাসে শান্তিপুর, আলোক মালায় ভরপুর’। অন্যদিকে লক্ষ্মীতলা বারোয়ারির এ বছরের থিম বদ্রিনাথ ধাম। পঞ্চাননতলা যুব সঙ্ঘর এ বছরের নিবেদন ময়ূর মহল। রাধাকৃষ্ণ কলোনি ক্লাব এবার তাদের থিম রেখেছে যন্ত্রই জীবন। এর পাশাপাশি একাধিক উল্লেখযোগ্য বারোয়ারি রয়েছে যারা বিভিন্ন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে। আলোকসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছে গোটা শান্তিপুরকে।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share