Rash Yatra 2024: শান্তিপুরে ভাঙা রাসে ‘রাইরাজা’, শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা

Rash_Yatra_2024_(3)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিপুরে ভাঙা রাসের (Rash Yatra 2024) প্রধান আকর্ষণ ‘রাইরাজা’, রাধার কৃষ্ণ সাজার পটভূমিতে পৌরাণিক বিশ্বাস। জানা যায় বিশ্বে শুধু শান্তিপুরেই (Santipur) এই রীতি আজও বিরাজমান। নদিয়ার শান্তিপুর শহরে ভাঙা রাসের মূল আকর্ষণ রাধিকা রাজা, যাকে সাধারণভাবে রাইরাজা বলেন এলাকার মানুষ।

রাইরাজার ইতিহাস (Rash Yatra 2024)

চৈতন্য চরিতামৃত অনুয়ায়ী, দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনে শ্রী কৃষ্ণ যখন ষোলশ গোপিনীর সঙ্গে রাস লীলায় মত্ত ছিলেন তখন স্বয়ং মহাদেব গোপিনীর ছদ্মবেশে বৃন্দাবনে প্রবেশ করেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ মহাদেবকে চিনে ফেলতে সক্ষম হন। মহাদেবকে দেখার পরমুহূর্তেই শ্রী কৃষ্ণ অন্তর্হিত হন। কিন্তু, শ্রীকৃষ্ণ ব্যাতিত রাসলীলা অসম্ভব, আর ঠিক সেই কারণেই সমস্ত গোপিনীরা রধিকাকেই রাজা সাজিয়ে রাসলীলা (Rash Yatra 2024) সম্পন্ন করেন। সেই থেকেই রাধিকা রাজা বা রাই রাজার উদ্ভব। অন্যদিকে আরেকটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ, শ্রীকৃষ্ণ যে মুহূর্তে রাসলীলার মঞ্চ থেকে অন্তর্হিত হলেন, সেই মুহূর্ত বা সময়টি ভাঙা রাস নামে সুপরিচিত। অর্থাৎ একদিকে ভাঙা রাস ও অন্য দিকে রাই রাজা একই সন্ধিক্ষণ থেকেই সৃষ্ট। সেই কারণেই ভাঙা রাসে রাই রাজাকে নগর পরিক্রমা করানোর রীতি রয়েছে প্রায় প্রতিটি পরিবারিক বিগ্রহের।

প্রতিটি বিগ্রহ পরিবারে হয় ‘রাইরাজা’

সুসজ্জিত রাইরাজাকে বিগ্রহ বাড়ির হাওদায় তোলার আগে তাকে বরণ করার রীতিও রয়েছে বিগ্রহ পরিবারগুলির মধ্যে। মূলত, ব্রাহ্মণ পরিবারের কুমারী নাবালিকাকে সুসজ্জিত ও দৃষ্টি নন্দন সাজসজ্জায় সাজিয়ে তুলেই নগর পরিক্রমায় (Rash Yatra 2024) বের করার রীতি রয়েছে। শান্তিপুর শহরের প্রতিটি বিগ্রহ পরিবার যেমন  বড় গোস্বামী, পাগলা গোস্বামী, বাঁশ বুনিয়া গোস্বামী, চাক ফেরা, মদন গোপাল সহ আরও অন্যান্য বিগ্রহ পরিবারগুলি রাইরাজা সহ তাদের রাধাকৃষ্ণের নয়নাভিরাম যুগল মূর্তি সহ শোভা যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপুর শহরে বেশ কিছু অব্রাহ্মণ পরিবারেরও রাইরাজাকে নগর পরিক্রমা করানোর রীতি রয়েছে। যেমন সাহা বাড়ি, পুট পুঁটি জিউ আবার আশানন্দ বারোয়ারি র শোভা যাত্রায় রাই রাজা দেখতে পাওয়া যায়। শান্তিপুরের ভাঙা রাসের শোভাযাত্রায় আরাধ্য শ্রীবিগ্রহদের পাশাপাশি এক বিশেষ আকর্ষণ থাকে এই রাইরাজা। পূর্বে গোস্বামীদের গৃহ থেকে বিভিন্ন নিয়ম আচার মেনে, নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ বংশের অরজস্বলা, সুন্দরী এবং সুলক্ষণা কিশোরীদের নির্বাচন করা হত, তাঁরাই বস্ত্রালঙ্কারে সেজে হাতির পিঠে রাইরাজা-রূপে শোভাযাত্রায় অংশ নিতেন। এখন নিয়ম কিছুটা শিথিল হয়েছে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর তরফ থেকেই রাইরাজারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। আর এই শোভাযাত্রা দেখতে উপচে পড়ে ভিড়।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share