Sikkim: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কালিম্পঙের বহু অংশ, উত্তর সিকিমে আটকে হাজারেরও বেশি পর্যটক

GQA-pEGbEAIJENi

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি চলছেই সিকিমে (Sikkim)। ধস নেমে একের পর এক পাহাড়ি রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর সিকিম। লাচুং, চুংথাম, জঙ্গুতে এখনও আটকে রয়েছেন প্রায় ১২০০ পর্যটক। সিকিমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। কালিম্পং-এর (Kalimpong) বিভিন্ন অঞ্চল অবরুদ্ধ। ফুঁসছে তিস্তা, রঙ্গীত-সহ ছোট বড় পাহাড়ি নদীগুলি। একটানা বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। তিস্তাবাজার সংলগ্ন বহু এলাকা জলের তলায়।

নতুন করে ধস

শুক্রবার সকালে নতুন করে ধস নামে উত্তর ও দক্ষিণ সিকিমে (Sikkim)। এদিন টুং, দক্ষিণ সিকিমের লিঙ্গসে, লিঙ্গে ও পাইয়ংয়ের মূল রাস্তা এবং কাওখোলা ও সুন্তালে এলাকাতেও ধস নামে। যার ফলে সিংথামের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মূল সড়ক ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আটকে রয়েছে উদ্ধারকাজ। বৃহস্পতিবার রাতে সিকিম থেকে লাচেন যাওয়ার মূল রাস্তার উপর থাকা সাঙ্গেকেলাংয়ের সেতু ভেঙে পড়েছে। ফলে লাচেন সহ অন্যান্য এলাকায় আটকে থাকা পর্যটকদের টুং চেকপোস্ট পর্যন্ত নামিয়ে আনার পর আর নিচের দিকে আনা যায়নি। 

আকাশপথে পর্যটকদের উদ্ধারের ভাবনা

এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের গ্যাংটকে (Sikkim) ফেরাতে হলে আকাশপথ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এয়ারলিফটও করা সম্ভব হচ্ছে না। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে ভারতীয় সেনার কাছে সাহায্যের আবেদন জানাতে চলেছে সিকিম প্রশাসন। আবহাওয়া ভাল হলে যাতে পর্যটকদের বিমানে উদ্ধার করা যায়, তার জন্য ইতিমধ্যেই সিকিমের মুখ্যসচিব কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সিকিম প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাচুংয়ে আটকে রয়েছে ১২০০ ভারতীয় পর্যটক। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন তাইল্যাণ্ড, নেপাল এবং বাংলাদেশের ১৫ জন পর্যটক। সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে পর্যটকেরা সকলেই সুরক্ষিত আছেন, এমনকী খাবারও মজুত রয়েছে, তবে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নিষেধ করা হয়েছে। কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম বলেন, “নর্থ সিকিমের মঙ্গনের জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আটকে থাকা পর্যটকেরা সুরক্ষিত আছেন। রংপোয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিম সীমানায় ট্যুরিস্ট হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে। পর্যটকেরা সীমানায় পৌঁছলে কালিম্পং (Kalimpong) জেলা প্রশাসন পর্যটকদের উদ্ধার করে বাড়ি ফেরাতে প্রস্তুত”।

বাড়ছে তিস্তার জলস্তর

সিকিমে (Sikkim) প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে বৃষ্টির প্রভাব। শুক্রবার কালিম্পংয়ের (Kalimpong) তিস্তাবাজার, মাল্লির প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে গিয়েছে তিস্তা নদীর জল । কোথাও কোথাও বাড়ির ভিতরে জমে গিয়েছে পলি। এদিনও কালিম্পং, দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে। বড় কোনও গাড়ি চলছে না। ঘুরপথে বিরিকধারা-মংপু-সিটং-তাকদা হয়ে চলছে ছোট গাড়ি। বৃষ্টি আরও বাড়লে উত্তরের সমতলও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে তিস্তার জলস্তর। এদিন সকালে তিস্তার বাঁধ থেকে ১৭৬৩.৪২ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, ফলে জলস্তর বেড়েছে তিস্তা নদীর। বিপদের আশঙ্কায় জলপাইগুড়ি তিস্তা সেতু সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বসিয়েছে পুলিশ। নদীতে নেমে কাঠ সংগ্রহ করতে বারণ করা হয়েছে। 

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share