SSC Scam: ১৭টি বিভিন্ন উপায়ে নিয়োগে দুর্নীতি করেছে এসএসসি! কী বলল হাইকোর্ট?

SSC

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Scam) ২০১৬ সালে এসএসসি নিয়োগের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ২৫ হাজার ৭৫৩জনের চাকরি বাতিল করেছে হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত জানিয়েছে, এসএসসি প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সুদ-সহ বেতন ফেরত দিতে হবে। সুদের হার হবে বছরে ১২ শতাংশ। চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে বলেছে আদালত। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায় দিতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, ১৭টি পন্থায় দুর্নীতি হয়েছে। কী কী উপায়ে দুর্নীতি হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট করে জানিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।

কী কী উপায়ে দুর্নীতি

১) মেধাতালিকায় নম্বর গোপন: ‘কুকীর্তি’ লুকোতে প্রার্থীদের নম্বর-সহ মেধাতালিকা কখনও প্রকাশই করেনি এসএসসি। নম্বর-সহ মেরিট লিস্ট প্রকাশ না করেই চাকরি দেওয়া হয়েছে।

২) ‘গোপন’ টেন্ডার : সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ নম্বর ধারা অমান্য করে, ‘গোপন’ টেন্ডারে ওএমআর মূল্যায়নকারী সংস্থা নাইসাকে বেছে নেয় এসএসসি।

৩) ওএমআর নষ্ট : স্ক্যান কপি না রেখেই ওএমআর শিট নষ্ট করে দেওয়া হয় (এক্ষেত্রে আরটিআইতে স্ক্যান কপি পেলেও, তদন্ত করতে গিয়ে সেই এএমআর-এর হদিশ পায়নি সিবিআই)।

৪) নিয়োগে প্রশ্ন : নাইসা-র তরফে ওএমআর স্ক্যানের জন্য় নিয়োগ করা হয় ‘ডেটা স্ক্যানটেক’ নামক সংস্থাকে। ওএমআর স্ক্যান হত এসএসসি-র অফিসে। অথচ, ‘ডেটা স্ক্যানটেক’-কে নিয়োগ করার কথা অস্বীকার করে এসএসসি।

আরও পড়ুন: ঝাঁঝাঁ রোদ! ভোট দেবেন কী ভাবে? বৈঠক নির্বাচন কমিশনের

৫) ওএমআর নিরুদ্দেশ: মিরর ইমেজের নামে যা করা হয়েছে সেটা বেআইনি।  আসল ওএমআর শিট পাওয়া যায়নি।সিবিআই এসএসসি সার্ভার থেকে ওই ধরনের কোনও ‘মিরর ইমেজ’ খুঁজে পায়নি।

৬) প্রমাণ লোপাট : সার্ভারে ওএমআর-এর স্ক্যান করা ছবিও রাখা হয়নি।

৭ ) ভুয়ো দাবি: ২০১৮ থেকে ২০২৩ অবধি, আরটিআই আবেদনকারীদের ওএমআর-এর স্ক্যান কপি দিয়ে, এসএসসি দাবি করত, এগুলি তাদের ডেটাবেসে ছিল। যা অসত্য।

৮) পদ কম, নিয়োগ বেশি: ৪টি ক্যাটাগরিতেই ঘোষিত শূন্যপদের থেকে বেশি সংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ করা হয়।

৯) নাম নেই, চাকরি আছে: প্যানেলে নামই নেই, এমন প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়।

১০) সাদা খাতায় চাকরি: সাদা খাতা জমা দিয়েও মিলেছে চাকরি 

১১) ‘এক্সপায়ার্ড’ চাকরি: প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও, সেখান থেকে চাকরি দেওয়া হয়।

১২ )  র‍্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি: মেধাতালিকার প্রথমে থাকা প্রার্থীদের বদলে, অগ্রাধিকার দেওয়া হয় শেষের দিকে থাকা প্রার্থীদের।

১৩ ) বেআইনি কাউন্সেলিং: অযোগ্য প্রার্থীদের কাউন্সেলিং করা হয়।

১৫ ) দুর্নীতি খুঁজতে অসহযোগিতা: দুর্নীতির সমস্ত সুবিধাভোগীকে এখনও চিহ্নিত করা বাকি। রাজ্য সরকার ও এসএসসি-র সহযোগিতা ছাড়া করা সম্ভব নয়।

১৬ ) চুরি ঢাকতে বাড়তি পদ: অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ করে দিতে, অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির আবেদন জানানো হয়।

১৭ ) সর্বত্রই বিধি ভঙ্গ: গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ—চারটি ক্যাটেগরির ক্ষেত্রেই, কখনও নিয়োগের কোনও বিধি মানা হয়নি। 

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share