Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Swami Vivekananda Birth Anniversary: আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী, ফিরে দেখা স্বামীজির অমর বাণী

    Swami Vivekananda Birth Anniversary: আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মজয়ন্তী, ফিরে দেখা স্বামীজির অমর বাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda Birth Anniversary) জন্মজয়ন্তীতে (National Youth Day 2026) পালিত হয় ‘জাতীয় যুব দিবস’। ভারতবর্ষে সমগ্র যুব সমাজের কাছে আদর্শের প্রাণ কেন্দ্র হলেন স্বামীজি। তিনি হলেন ‘আইকন’। তাঁর উজ্জ্বলদীপ্ত দৃষ্টিকোণ, অগ্নিপ্রজ্বলিত লেখা এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কর্মনিষ্ঠা, এক কথায় ভারতবর্ষের পুনঃজাগরণের অনুপ্রেরণস্থল হলেন তিনি। তিনি ভারতীয় সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরে ভাষণ দিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে হিন্দু ধর্মের জয়জয় করেছেন। ভারত পৃথিবীকে যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়েছেন তা সভ্যতা ধ্বংসের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত চির শাশ্বত, অক্ষয় ও অমর-অজয় হয়ে থাকবে। আজ বিবেকানন্দের ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী। দেশজুড়ে পালিত হবে বিবেক উৎসব, মেলা, আলোচনা চক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা-সহ নানা কর্মকাণ্ড।

    আধ্যাত্মিক জাগরণেরই স্বাধীনতার ‘স্ব’ (National Youth Day 2026)

    বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda Birth Anniversary) উনিশতকের একজন আধ্যাত্মিক এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁর গুরু ছিলেন ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ। শাক্ত মায়ের সাধনা এবং মূর্তিপুজোর অন্যতম পুরধা ছিলেন তিনি। নিজের জীবনের জ্ঞান-বিদ্যাবুদ্ধি দিয়ে নরেন্দ্রনাথকে বিবেকানন্দ গড়তে বিশেষ ভাবে সচেষ্ট হয়েছিলেন। একই ভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং ঔপনিবেশিকবাদের বিরুদ্ধে প্রবল ভাবে সরব হয়েছিলেন বিবেকানন্দ। দেশের বৃহত্তর মানুষের জাগরণের জন্য কাজ করেছেন। কীভাবে পাঠান-মুঘল-ইংরেজরা দেশের সম্পদ লুট করে দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছিল সেই কথাই সমাজের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাই পরাধীন ভারতকে পুনরায় স্বমহিমায় নিয়ে যেতে ব্রাহ্মণ, চর্মকার, চণ্ডাল এবং শূদ্রের একসঙ্গে জাগরণের কথা বলেছিলেন। সকলকে একত্রিত হতে হবে। ভারতের আধ্যাত্মিক জাগরণের মধ্যেই স্বাধীনতার ‘স্ব’-কে দেখেছিলেন বিবেকানন্দ (National Youth Day 2026)।

    শিকাগোতে বিশ্বজয়

    ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে স্বামীজি (National Youth Day 2026) ভারতের হয়ে বিশ্ববাসীকে হিন্দুধর্মের গূঢ়অর্থকে তুলে ধরেছিলেন। ধর্মসভায় তাঁকে সকলের শেষে মাত্র সামান্য কয়েক মিনিটের জন্য বলতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সেই সময়ের বক্তৃতায় প্রিয় ‘ভাই ও বোনেরা’ সম্বোধনে গোটা আমেরিকাবাসী চমকে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি সেই দেশ থেকে এসেছি যে দেশে হাজার হাজার বছরের পুরাতন সন্ন্যাসীরা বসবাস করছেন। তাঁদের আবহমান কালের ধর্ম পরম্পরার পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীকে আমি শ্রদ্ধা এবং অভিনন্দন জানাই। ভারতীয় ব্রাহ্মণের মহাজ্ঞান, পাণ্ডিত্য এবং বুদ্ধের বিনয় বিশ্বকে শান্তির বাণী উপহার দিয়েছে। পাশ্চাত্য এবং মধ্য-প্রাচ্য থেকে কেবল হিংসা এবং ধ্বংসের কথাই বার বার বার এসেছে। এরপর গোটা ইউরোপ, আমেরিকা সহ একাধিক দেশে ভারতীয় ধর্ম কথাকে প্রচার করে বিশ্বকে জয় করেছেন স্বামীজি। তাঁর দ্বারা আরও প্রভাবিত হয়েছিল আইরিশ বিদেশী নারী ভগ্নী নিবেদিতা। তিনি বিবেকানন্দর (Swami Vivekananda Birth Anniversary) শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনিও অনুপ্রাণিত হয়ে ভারত মুক্তির লড়াইতে বিপ্লবীদের সঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী কাজে যোগদান করেছিলেন।

    স্বামীজির বাণী

    তাঁর লেখা উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে হল, ‘সঙ্গীতকল্পতরু’ ১৮৮৭, ‘কর্মযোগ’ ১৮৯৬, ‘রাজযোগ’ ১৮৯৬, ‘বেদনান্ত ফিলোজফি’ ১৮৯৬, ‘বর্তমান ভারত’ ১৮৯৯, ‘মাই মাস্টার’ ১৯০১, ‘পরিব্রাজক’। ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন। তাঁর বাণী রামকৃষ্ণ মিশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। স্বামীজি (National Youth Day 2026) বলতেন—

    ১> “জেগে ওঠো, সর্বদা সচেতন থাকো, যতক্ষণ না লক্ষ্যে পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত থেমে যেও না।”

    ২> “যাঁরা তোমাকে সাহায্য করেন, তাঁদের কখনও ভুলেও যেও না। যাঁরা তোমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের কখনও ঘৃণা করো না। আর যাঁরা তোমাকে সব সময় বিশ্বাস করেন, তাঁদের কখনও ঠকিও না।”

    ৩> “প্রতিদিন একবার হলেও নিজের সঙ্গে কথা বলো। নাহলে পৃথিবীতে বুদ্ধিমান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হবে না তোমার।”

    ৪> “যতক্ষণ না আপনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারবেন, ততক্ষণ আপনি ভগবানকেও বিশ্বাস করতে পারবেন না।”

    ৫> “নিত্যদিনের চলার পথে যদি আপনি কোনও সমস্যায় না পড়েন, তাহলে বুঝবেন আপনি ভুল পথে যাচ্ছেন।”

    ৬> “সবচেয়ে পাপ হল নিজেকে দুর্বল ভাবা’। তাই নিজেকে দুর্বল ভাববেন না।… নিজের দোষ থাকা সত্ত্বেও যদি আমরা নিজেকে ভালোবাসি। তবে অন্যদের দোষের কারণে কীভাবে তাঁদের ঘৃণা করব, কি করে?”

    ৭> “প্রতিটি মানুষের ধর্ম হল, নিজেকে সৎ রাখা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন’। তাহলে জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন। মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তি সকলের মধ্যে রয়েছে। আমরাই চোখের সামনে হাত রেখে কেঁদেছি, যে কি অন্ধকার! যে কাজের জন্য আপনি প্রতিশ্রুতি দেন, তা সঠিক সময়ে করা উচিত, অন্যথায় মানুষ তাদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজের মনের মতো কাজ পেলে অতি মূর্খও করতে পারে। যে সকল কাজকেই মনের মতো করে নিতে পারে, সেই বুদ্ধিমান। কোনও কাজকেই আপনি ছোট মনে করবেন না।”

    ৮> “ধ্যান মূর্খদের ঋষিতে পরিণত করতে পারে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বোকারা কখনই ধ্যান করে না।”

    ৯> “অন্যদের কাছ থেকে যা ভালো তা শিখুন, ভুল জিনিস জীবন থেকে সরিয়ে ফেলুন। তবেই জীবনে এগোতে পারবেন।”

  • Pakistan: সিন্ধুতে হিন্দু যুবক খুন, উত্তাল পাকিস্তান, রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ

    Pakistan: সিন্ধুতে হিন্দু যুবক খুন, উত্তাল পাকিস্তান, রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সিন্ধু প্রদেশে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন এক যুবক হিন্দু কৃষক তথা সংখ্যালঘু অধিকারকর্মী কৈলাশ কোহলি (Kailash Kohli)। এই হত্যাকাণ্ডের পর সিন্ধু জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলিও রাস্তায় নেমে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।কৈলাশের বয়স মাত্রই ২৫। তিনি শুধু একজন কৃষকই নন, একই সঙ্গে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় একজন সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, ইসলামাবাদ-নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থার অধীনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ক্রমেই বিপন্ন হয়ে উঠছে এবং এই হত্যাকাণ্ড তারই এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

    প্রকাশ্য দিবালোকে খুন (Pakistan)

    জানা গিয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি সিন্ধুর বাদিন জেলার তালহার তহশিলের অন্তর্গত গোথ দাহো, পীরু লাশারি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে কৈলাশ কোহলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাঁর বুকে পরপর দু’টি গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।স্থানীয়দের দাবি, সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে সরব হওয়ায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা পাকিস্তানে, বিশেষত সিন্ধু থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত, ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে (Pakistan)।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা, গুম, জোরপূর্বক অপহরণ, ধর্মান্তর, হত্যাকাণ্ড এবং নানা অত্যাচারের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন (Kailash Kohli)। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তদন্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়, দোষীরা শাস্তি পায় না। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সিন্ধুর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাস্টিসফরকৈলাশকোহলি হ্যাশট্যাগে টুইটার, ফেসবুক-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ (Pakistan)। পাকিস্তানের মাইনরিটি রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান শিবা কাচ্চি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ ও ‘ঠান্ডা মাথায় করা খুন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিরপরাধ হিন্দু যুবক কৈলাশ কোহলির এই বর্বর হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। কৈলাশ কোহলির রক্ত আমাদের সকলের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে (Kailash Kohli)।” তিনি বলেন, “আগামীকাল বাদিনের ডিসি অফিসের সামনে যে অবস্থান-বিক্ষোভ হবে, আমরা তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। এটি শুধু একজন মানুষের খুন নয়—এটি মানবতা, ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার এবং সিন্ধুতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার উপর সরাসরি আঘাত। অপরাধীরা আইনের আওতায় না আসা পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।”

    বর্তমানে সিন্ধুর রাস্তায় রাস্তায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা ক্রমশ বেড়েই চলেছে, যার প্রধান শিকার হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অথচ (Kailash Kohli) ইসলামাবাদের অস্থির ও কার্যত নিষ্ক্রিয় প্রশাসন এই পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করছে না (Pakistan)।

  • Bangladesh Crisis: মায়ানমার সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির জেরে কক্সবাজারে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী

    Bangladesh Crisis: মায়ানমার সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির জেরে কক্সবাজারে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলেছে তীব্র সংঘর্ষ। বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের ছিটকে আসা গুলিতে বিদ্ধ হয়েছে কক্সবাজারের (Bangladesh Crisis) টেকনাফের বছর বারোর এক স্কুলছাত্রী। এদিন সীমা এলাকায় শুরু  নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীরা (স্থানীয় সময়) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং পর্যন্ত ইউনিয়নের হোয়াইক্যং এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে খেলছিল আফনান নামে ওই নাবালিকা। এই সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে তাকে আঘাত করে। সে মহম্মদ জসিমের মেয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়ালেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ভয়াবহ সংঘর্ষ (Bangladesh Crisis)

    এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের টোটার দ্বীপ এলাকায় দেশটির সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA)-এর মধ্যে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ভারী গোলাগুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ এবং ড্রোন হামলার শব্দ বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায় (Bangladesh Crisis)। টোটার দ্বীপটি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। সীমান্তের দুই পাশেই ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির শব্দে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা টেকনাফ-কক্সবাজার হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং মায়ানমারের যুদ্ধের প্রভাব থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষার দাবি জানান (Bangladesh Crisis)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ ও জেলেদের সীমান্তের কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করা হয়েছে।

    বিজিবির টহল জোরদার

    এদিকে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের নাফ নদীতে বিজিবির (Border Guard Bangladesh) টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে রবিবার সন্ধে পর্যন্ত পাল্টা কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়ার খবর মেলেনি।সংঘর্ষের জেরে মায়ানমার থেকে অন্তত ৫২ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। পরে টেকনাফে স্থানীয় পুলিশ তাদের আটক করে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মায়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে জখম হন বাংলাদেশি জেলে মো. আলমগীর। যদিও নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, তবুও জীবিকার তাগিদে অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন (Bangladesh Crisis)। বর্তমানে বাংলাদেশে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে সংঘর্ষের কারণে নতুন করে আরও রোহিঙ্গার বাংলাদেশে ঢোকার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • PM Modi: “ভারতের প্রতি বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতের প্রতি বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত (India) দ্রুতগতিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের দিকে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভারতের প্রতি বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।” ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলনের মঞ্চ থেকে রবিবার কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসাও করলেন তিনি। রাজকোটে আয়োজিত এই সম্মেলনকে তিনি ২১ শতকে ভারতের আত্মবিশ্বাসী অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে ভারত (PM Modi)

    সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত দ্রুতগতিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভারতের প্রতি বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৃষি উৎপাদন নতুন রেকর্ড গড়ছে। দুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে।” ২০২৬ সালে গুজরাটে এটি তাঁর প্রথম সফর বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বছরের শুরুতেই তিনি সোমনাথ মন্দিরে প্রার্থনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক অনুভূতি নিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেছেন। এরপর সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সম্মেলনে অংশ নেন তিনি (PM Modi)।

    ভাইব্র্যান্ট গুজরাট

    গুজরাটের ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সুষম সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রাজ্য ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল। যখনই ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনের আয়োজন দেখি, আমি শুধু একটি সম্মেলন দেখি না, আমি দেখি আধুনিক ভারতের ২১ শতকের যাত্রা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন দিয়ে, আর আজ তা অটল আত্মবিশ্বাসে পৌঁছেছে। গত দুদশকে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০টি সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং প্রতিটি সংস্করণের সঙ্গে এই সম্মেলনের গুরুত্ব ও পরিচিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে (India)।” প্রধানমন্ত্রী ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রশংসাও করেন। বলেন, “রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রতি আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভাইব্র্যান্ট গুজরাটের মতো মঞ্চ ভারতের বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে (PM Modi)।”

    ভারত বিশ্বে এক নম্বরে

    ভারতের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে। বিশ্বের সর্বাধিক ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশও ভারত। গত ১১ বছরে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে। আমাদের ইউপিআই আজ বিশ্বের এক নম্বর রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ (India)। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে আমরা বিশ্বে তৃতীয় স্থানে। বেসামরিক বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রেও ভারত তৃতীয় বৃহত্তম বাজার। মেট্রো নেটওয়ার্কের দিক থেকে আমরা বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছি (PM Modi)।”

  • Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে।” প্রয়াগরাজে (Uttar Pradesh) জগতগুরু রামানন্দাচার্যের ৭২৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথাগুলি বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (CM Yogi)। জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বলেন, “এ ধরনের বিভাজন সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

    ধ্বংস করে দেবে (Uttar Pradesh)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষদেরও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে এবং হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তারা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব (Uttar Pradesh)।”

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে (CM Yogi)। বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁদের মুখে যেন ফেভিকল লাগানো রয়েছে,  অথবা কেউ সেলোটেপ এঁটে দিয়েছে। কারও মুখ থেকে একটি কথাও বেরোচ্ছে না” (Uttar Pradesh)।এদিন ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জগদগুরু রামানন্দাচার্যকে। তিনি বলেন, “প্রায় ৭০০ বছর আগে জগদগুরু রামানন্দাচার্য ভগবান সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরের শরণ নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন জাতের শিষ্যও গ্রহণ করেছিলেন।”

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার

    এদিকে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান- ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে অন্তত ৫১টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে, ১০টি খুন, ১০টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা, ২৩টি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও জমি দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, ৪টি ক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননা ও ‘র’-এর এজেন্ট তকমা দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার এবং নির্যাতন,  ১টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা এবং ৩টি শারীরিক হামলার ঘটনা। হিংসার এই প্রবণতা নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে বলে খবর। ৩ জানুয়ারি, শরীয়তপুরে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় (Uttar Pradesh)।

    এদিনই ভোরবেলায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলন দাসের পরিবারকে ডাকাতির সময় বন্দি করে রাখা হয়। ওই দিনই কুমিল্লার হোমনা এলাকায় সোনু দাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ ভরি সোনার গয়না, ১২ ভরি রুপো এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ (CM Yogi)।

  • Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু ও হিন্দুধর্মের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Hindus Under Attack)। বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিয়েছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার চেহারা নিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা (Roundup Week)। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে, যার নেপথ্যে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মুখোমুখি এক অভূতপূর্ব সংকটের। ৪ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল, যাতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এই মানবাধিকার সঙ্কটের দিকে ফেরানো যায়। প্রথমেই দেখে নেওয়া ভারতের ছবিটা।

    কর্নাটক (Hindus Under Attack)

    উত্তর কানাড়া জেলার ইয়েল্লাপুর শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কালাম্মা নগরের বাসিন্দা রঞ্জিতা নামের এক তরুণী ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মারা যায়। অভিযোগ, ইসলামপন্থী যুবক রফিক তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর জেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার চেয়ে ইয়েল্লাপুর বন্‌ধের ডাক দেয়। ঘটনায় লাভ জেহাদের সন্দেহ আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে (Hindus Under Attack)।

    পূর্ব মেদিনীপুর

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গড়কমলপুর পঞ্চায়েতের কাঁঠালপট্টি এলাকায় নির্মীয়মাণ মা বসন্তী দুর্গা এবং দেবী সরস্বতীর একাধিক প্রতিমা অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    হিন্দুদের মিছিলে পাথর

    জগজীবনরাম নগর এলাকায় ওম শক্তি ও আয়্যাপ্পা স্বামী ভক্তদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুই মহিলা আহত হন, তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের শিওপুর জেলায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় বজরং দলের হস্তক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটির দাবি, ‘প্রার্থনা সভা’ ও ‘হিলিং সেশনে’র আড়ালে সমাজের দুর্বল অংশকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সমাজকে ভাঙার চেষ্টা চলছে (Hindus Under Attack)।

    বৃন্দাবনে নাবালিকা উদ্ধার

    উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে হোটেলের একটি ঘর থেকে দিল্লির এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরী ও এক মুসলিম যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায় ওই হোটেলে। ঘটনাটি হিন্দু মেয়েদের যৌন ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরণের ধারাবাহিক চেষ্টার আরও একটি উদাহরণ বলে দাবি স্থানীয়দের।

    নাবালিকা ধর্ষণ

    উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে ২২ বছরের রেহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের ছলে সে ১৭ বছরের এক হিন্দু নাবালিকাকে দুবছর ধরে ধর্ষণ করে এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালায়।
    মেয়েটিকে আজমীর দরগায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরের পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মথুরা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অব্যাহত রয়েছে দুষ্কৃতীদের হামলা। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন এমনভাবে চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দুই অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। এই নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, পাশাপাশি লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য। উদ্দেশ্য একটাই, ভয় দেখিয়ে হিন্দুদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা (Hindus Under Attack)।

    সাংবিধানিক আধিকারিককে ভয় দেখানোর চেষ্টা

    সাম্প্রতিক এক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামির ক্যাডাররা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথের দফতর ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল একজন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

    এই বিক্ষোভে আইন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও স্লোগান ছিল না। তোলা হয় সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক ও আদর্শগত স্লোগান। অন্নপূর্ণা দেবনাথকে প্রকাশ্যে ‘ইসকন ভক্ত’ এবং ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তাঁকে এই হুমকিও দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশে তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।

    হিন্দু ব্যবসায়ী খুন

    ঢাকার উপকণ্ঠে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চারসিন্দুর বাজারে ভয়াবহ হামলার শিকার হন বছর চল্লিশের হিন্দু দোকানদার শরৎ চক্রবর্তী মানি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Hindus Under Attack)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।

    জানা গিয়েছে, ইসলামি কর ‘জিজিয়া’ দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে খুন করা হয়।

    ধর্ষণ

    আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার খেদা পাড়া গ্রামের এক সংখ্যালঘু মহিলা নদীপাড় সংলগ্ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দোতলা একটি বাড়ি ও তিন শতক জমি বৈধভাবে ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন। ওই জমি তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে কেনেন। জমি কেনার পর থেকেই ওই মহিলাকে হেনস্থা করতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, শাহীন ও তার সহযোগী হাসান জোর করে বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলাকে (Roundup Week) ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তারা তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবিও করে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বসংবাদ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লরেন্সভিল শহরের একটি কস্টকো ওয়্যারহাউসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সংস্থাটির খাদ্য নমুনা বিতরণ ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি সামনে এনেছে। অভিযোগ, এই ত্রুটির ফলে বহু সদস্যের ধর্মীয় ও নৈতিক খাদ্যাভ্যাস লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একটি নিয়মিত কেনাকাটার সময় কস্টকোর তৃতীয় পক্ষের স্যাম্পলিং পার্টনার সিডিএস সেখানে জিনিয়াস গার্মেটের স্পার্কলিং ক্লিয়ার প্রোটিন ওয়াটারের নমুনা বিলি করছিল। অভিযোগ, স্যাম্পলিং স্টলে পণ্যের অন্যতম উপাদান বোভাইন কোলাজেন (গরু থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন) ব্যবহারের বিষয়টি সদস্যদের জানানো হয়নি।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিষয়টি অবহেলার নয়। বহু হিন্দু কেবল নিরামিষভোজী নন, তাঁরা বিশেষভাবে গরু থেকে প্রাপ্ত যে কোনও উপাদান গ্রহণ থেকেও বিরত থাকেন। ফলে এই ধরনের তথ্য গোপন করা তাঁদের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।

    বৈষম্যের অভিযোগ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। যদিও ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির  প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে আরও এক ধরনের সূক্ষ্ম ও নীরব হিন্দু-বিরোধী মানসিকতা কাজ করে (Roundup Week)। এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় চোখে পড়ে না, যতক্ষণ না বিদ্যমান আইন, নীতি ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি পরিবেশ দূষণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকা এবং যুক্তির অভাব দ্বিচারিতার ইঙ্গিত দেয় বলেই মত পর্যবেক্ষকদের (Hindus Under Attack)।

    এই প্রেক্ষাপটে কস্টকোর ঘটনায় ওঠা প্রশ্ন শুধু একটি পণ্যের উপাদান গোপন রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বৃহত্তর এক সমস্যার প্রতিফলন, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং নীরব বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কস্টকো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে সদস্যদের ধর্মীয় ও নৈতিক অধিকার রক্ষায় কী ধরনের স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।

  • Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে অব্যাহত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের (Iran Update) ঘটনা।দেশটির অন্তত তিনটি বড় হাসপাতাল (Hospitals) মৃত ও আহত রোগীর চাপে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে খবর। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক সংবাদ মাধ্যমে জানান, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “তরুণদের মাথায় সরাসরি গুলি করা হয়েছে, এমনকি বুকেও গুলি লেগেছে।”

    ইরানের পরিস্থিতি (Iran Update)

    এদিকে, রাজধানীর একটি চক্ষুরোগের হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে হাসপাতালটিকে ‘ক্রাইসিস মোড’ বা জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিচালনা করতে হচ্ছে।” দুই চিকিৎসাকর্মী জানান, তাঁরা এমন বহু রোগীর চিকিৎসা করেছেন যাঁদের শরীরে তাজা গুলি এবং পেলেট গান- উভয়েরই ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে (Iran Update)। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে উসকে দিয়ে সহিংস ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম ও ব্যাপক ভাঙচুরে পরিণত করেছে। বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের (Iran Update)।

    বিক্ষোভের জেরে ভয়ঙ্কর অবস্থা

    জানা গিয়েছে, ইরানে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তা দিন দিন ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে প্রায় দুসপ্তাহ আগে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সব প্রদেশের অন্তত ১০০টির বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে (Hospitals)। বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত বা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অনুমান, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। সূত্রের খবর, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ছ’জন শিশুও রয়েছে। বহু মানুষকে আটকও করেছে নিরাপত্তা বাহিনী (Iran Update)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা অন্তত ১৪।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান সম্ভবত ইতিহাসের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!” জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশত শহরের পুরসিনা হাসপাতালে অন্তত ৭০টি মৃতদেহ আনা হয়েছিল। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ মৃতদের স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য মৃতদেহ ছাড়াতে ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করেছে (Iran Update)।

    ভয়াবহ দৃশ্য

    তেহরানের একটি হাসপাতালের কর্মী জানান, “ভয়াবহ দৃশ্য। এত বেশি আহত মানুষ এসেছিল যে অনেকের ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩৮ জন মারা গিয়েছেন, এঁদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। তরুণদের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।” তিনি জানান, “মর্গে জায়গা না থাকায় মৃতদেহগুলি একটির ওপর আর একটি রাখা হয়েছিল। পরে প্রার্থনাকক্ষেও সেগুলিকে ডাঁই করে রাখা হয় (Hospitals)।” ওই হাসপাতাল কর্মীর ভাষায়, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। তিনি বলেন, “অনেকের দিকে তাকানোই যায়নি, এতটাই কাঁচা বয়স তাদের (Iran Update)।” ইরানে বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কারণে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সরাসরি ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করতে পারছে না।

    ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট

    এদিকে, ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, তাকে ঘিরে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল বর্তমানে চরম সঙ্কটে রয়েছে। জরুরি পরিষেবা চাপে পড়ে গিয়েছে। ওই চিকিৎসকের দাবি, শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নন-ইমার্জেন্সি ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয় (Hospitals)।চিকিৎসকদের বক্তব্য, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই পেলেট ভর্তি কার্তুজ ছোড়ে এমন শটগান ব্যবহার করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে জখম হচ্ছেন, বিশেষ করে চোখে গুলি লাগার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, চোখে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে” (Iran Update)।

    চোখে গুলি

    মধ্য ইরানের কাশান শহরের এক চিকিৎসক জানান, শুক্রবার রাতের অশান্তির সময় বহু বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে একই ধরনের রিপোর্ট এসেছে বলেও জানান তিনি। তেহরানের এক চিকিৎসক বলেন, “আহত ও মৃতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। আমি নিজে একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলি লেগে মাথার পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “রাত প্রায় বারোটার দিকে হাসপাতালের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন একদল মানুষ দরজা ভেঙে এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভিতরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।” এরকম ছবি ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের সিরাজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, “বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্জেন ছিলেন না। চোখে গুলি লাগার একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    ইরানজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাজধানী লাগোয়া কারাজ শহরে একটি সরকারি ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয় (Iran Update)। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় নামবে। সেনার এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল, যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে (Hospitals)।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপ

    শুক্রবার ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একাধিক সমন্বিত সতর্কবার্তা জারি করে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তথাকথিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইরানি পুলিশের দাবি, শুক্রবার রাতে তেহরানে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, তেহরানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করছেন জেনারেশন জেড। তাঁর কথায়, “তরুণরা তাঁদের বাবা-মা ও প্রবীণদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছেন এবং ভয় না পেতে আহ্বান জানাচ্ছেন।” ইরানের এই বিক্ষোভের আঁচ কবে স্তিমিত (Hospitals) হয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Iran Update)।

  • Bangladesh Hindu Attack: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু যুবক! ইউনূস সরকারকে কড়া বার্তা ভারতের

    Bangladesh Hindu Attack: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু যুবক! ইউনূস সরকারকে কড়া বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনা থামছেই না। ফের খুন এক হিন্দু যুবক (Another Hindu man killed in Bangladesh)। ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা উগ্রতার জেরে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হতে পারে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে (Bangladesh Violence) হিন্দুসহ সংখ্যালঘু (Minority Safety) সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান নৃশংসতা ও বেলাগাম হিংসার ঘটনায় এবার মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে চরম বার্তা দিল ভারত। দিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মৌলবাদে লাগাম টেনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনূস প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।

    বিষ খাইয়ে মারা হল হিন্দু যুবককে

    বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলায় জয় মহাপাত্র (Joy Mahapatra killed in Bangladesh) নামে এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবার সূত্রে দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর করা হয় এবং বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় আইসিইউ-তে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। এদিকে, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের (Dipu Chandra Das Murder Case) মামলায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ (Main accused arrested)। ইয়াসিন আরাফাত নামে অভিযুক্তকে স্থানীয়রা ‘শিক্ষক’ হিসেবে চিনত। পুলিশ জানিয়েছে, দীপুর ওপর ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ’ তুলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়। প্রথমে জনতাকে উস্কানি এরপর সুযোগ বুঝে দীপুকে টেনে বের করে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়, আর এর ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন ইয়াসিন আরাফাত।

    বাংলাদেশকে কড়া বার্তা ভারতের

    সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়তে থাকা এই পরিকল্পিত হামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়ান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal)। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্রপন্থীদের হামলার এক উদ্বেগজনক প্রবণতা বারবার লক্ষ্য করছি। তাঁদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” তাঁর মতে, এই ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলোকে অনেক সময় ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’ বা ‘রাজনৈতিক বিরোধ’ হিসেবে তকমা দিয়ে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রবণতা অপরাধীদের আড়াল করে এবং তাঁদের আরও সাহসী করে তোলে। এর ফলে সাধারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। ভারত চায়, বাংলাদেশ সরকার কোনও অজুহাত না দিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় আইনি ব্যবস্থা নিক।

     

     

     

  • ISRO: ২০২৬-এর প্রথম উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি ইসরোর, ১২ জানুয়ারি মহাকাশে পাড়ি দেবে পিএসএলভি-সি৬২

    ISRO: ২০২৬-এর প্রথম উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি ইসরোর, ১২ জানুয়ারি মহাকাশে পাড়ি দেবে পিএসএলভি-সি৬২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে ১২ জানুয়ারি পিএসএলভি-সি৬২ (PSLV-C62)  মিশনের মাধ্যমে নতুন বছরের প্রথম উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো (ISRO)। ইসরোর এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে কৃত্রিম উপগ্রহটির উৎক্ষেপণ করা হবে। পাশাপাশি, এই বছর ইসরোর প্রধান মিশন হবে চালকবিহীন গগনযান পাঠানো। এই অভিযানে ব্যোমমিত্র নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে মহাকাশে পাঠানো হবে। এটি ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযানের আগে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। ২০২৭ সালে তিনজন মহাকাশচারীকে কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যে ইসরো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    কী কাজ করবে এই নয়া স্যাটেলাইট

    ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) ২০২৬ সালের মহাকাশ উৎক্ষেপণ কর্মসূচির সূচনা করতে চলেছে পিএসএলভি-সি৬২ (PSLV-C62) মিশনের মাধ্যমে। আগামী ১২ জানুয়ারি, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হবে। এই রকেটের প্রধান পেলোড হল ইওএস এন-ওয়ান (EOS-N1)। এটি একটি উন্নত পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী (Earth Observation) স্যাটেলাইট। এটি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও দ্বারা নির্মিত। কৌশলগত উদ্দেশ্যে তৈরি এই স্যাটেলাইট ভারতের নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে জানা গেছে। নির্ভরযোগ্য পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (PSLV)-এর মাধ্যমে ইওএস এন-ওয়ান-কে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।

    উৎক্ষেপণের সময়সূচি ও স্থান

    ইসরো (ISRO) জানিয়েছে, ১২ জানুয়ারি সকাল ১০টা ১৭ মিনিট (IST)-এ উৎক্ষেপণ করা হবে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের ফার্স্ট লঞ্চ প্যাড থেকে এই মিশন শুরু হবে। এই মিশনটি প্রায় ১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট স্থায়ী হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাউন্টডাউনের আগে সব প্রস্তুতি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। এই মিশনে ইওএস এন-ওয়ান ছাড়াও একাধিক আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক পেলোড থাকার কথা রয়েছে, যা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। ইসরো জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ চাইলে শ্রীহরিকোটার লঞ্চ ভিউ গ্যালারি থেকে সরাসরি উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। প্রবেশের সময় আধার কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি সঙ্গে রাখতে হবে। ইসরো-র মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল দেশের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আরও বেশি সম্পৃক্ততা বাড়ানো।

  • Iran Protest: ইসলামিক শাসনের প্রতিবাদকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি! দেশজুড়ে বাড়ছে সংঘর্ষ, ইরানে মৃত ২১৭

    Iran Protest: ইসলামিক শাসনের প্রতিবাদকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি! দেশজুড়ে বাড়ছে সংঘর্ষ, ইরানে মৃত ২১৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে (Iran Protest) রাজনৈতিক সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিয়েছে। শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মোকাবিলায় বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ইরানের সরকার। যার ফলে অন্তত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক চিকিৎসক। তেহরানের ৬টি হাসপাতালেই এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    বিক্ষোভ শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নয়

    প্রথমে ইরানে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ইরানি রিয়ালের দ্রুত পতনের প্রতিবাদে। তবে ধীরে ধীরে তা সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। এখন এই বিক্ষোভ আর শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীর ৬ হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। খবর যাতে ছড়াতে না পারে, তাই সরকার সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকী ফোনের কানেকশনও স্তব্ধ করা হয়েছে।

    বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লক্ষের বেশি মানুষ

    সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২,০০০-এরও বেশি মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষের বেশি মানুষ। সারা দেশে প্রায় ৪০০টি স্থানে আন্দোলন চলছে। শুধু তেহরানেই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। পুলিশ অন্তত ২,৩০০ জনকে আটক করেছে। বিদ্রোহের আগুন ইরানের ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ১১০টিরও বেশি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তেহরানে অন্তত ২৬টি ব্যাঙ্ক লুট করা হয়েছে, ২৫টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ১০টি সরকারি ভবন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, ৪৮টি দমকলের গাড়ি ও ৪২টি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সরকারি দমন-নীতি

    ইরানের সেই চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে জানান, বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হলে সিকিউরিটি ফোর্স সরাসরি গুলি চালাতে শুরু করে। যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু জনের বডি হাসপাতাল থেকে শুক্রবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই অল্প বয়সি। এছাড়া উত্তর তেহরানের পুলিশ স্টেশনের বাইরে মেশিন গান থেকে গুলি চালিয়েও বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে মেরে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি। যতদূর খবর, ইরানে সরকার বিরোধী মিছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ছিল। তবে কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা অশান্ত হয়ে ওঠে। তারা তেহরানের আল রাসুল মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    ইরান ঝুঁকবে না কোনও শক্তির কাছে

    যদিও এই চিকিৎসক যতটা দাবি করেছেন, মৃতের সংখ্যা এতটাও বেশি নয় বলে দাবি করেছে কিছু মানবাধিকার সংগঠন। ওয়াশিংটনের মানবাধিকার সংগঠন এবং সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মোটামুটি ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। মৃত্যের মধ্যে ৪৯ জন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনি জানান, এই ইসলামিক দেশ কারও কাছে মাথা নত করবে না। যারা বিক্ষোভ করছে তাদের কাছে হার মানার প্রশ্নই নেই।

LinkedIn
Share