Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Amit Shah: আদিবাসীদের ওপর অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কোনও ধারা চাপানো হবে না, ‘ষড়যন্ত্রের’ ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান অমিত শাহের

    Amit Shah: আদিবাসীদের ওপর অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কোনও ধারা চাপানো হবে না, ‘ষড়যন্ত্রের’ ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) আদিবাসীদের ওপর কোনওভাবেই প্রভাব ফেলবে না। একই সঙ্গে তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে ছড়ানো ‘ষড়যন্ত্র’ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) শাসিত যে রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করা হয়েছে, সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়কে এর আওতার বাইরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সংস্থান রেখেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।”

    দিল্লিতে ভগবান বিরসা মুণ্ডার ১৫০ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে আরএসএস ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। দেশের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব এবং পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাজার হাজার আদিবাসী বনবাসী এবং জনজাতি সমাজের মানুষ যোগদান করেন।

    ‘জনজাতীয় সাংস্কৃতিক সমাগম’

    রবিবার দিল্লির লালকেল্লা ময়দানে ভগবান বিরসা মুন্ডার সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জনজাতীয় সাংস্কৃতিক সমাগম’-এ বক্তব্য রাখার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ (Amit Shah) বলেন, “বর্তমানে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) কারণে আদিবাসী সম্প্রদায় তাঁদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নিজস্ব রীতিনীতি অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আজ এই মঞ্চ থেকে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) কোনও ধারাই আদিবাসী সম্প্রদায় বা বনবাসী সমাজের ওপর জোরপূর্বক চাপানো হবে না।”

    প্রস্তাবিত আইন নিয়ে ভয় পাবেন না 

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “যেসব রাজ্যে বিজেপি সরকার ইউসিসি (UCC) চালু করেছে, সেখানে নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যাতে সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায় এর আওতার বাইরে থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসী সমাজকে এই প্রস্তাবিত আইন নিয়ে ভয় না পাওয়ার অনুরোধ জানান এবং গ্রাম ও বনাঞ্চলে এই বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আপিল করেন।”

    বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আমি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বলতে চাই যে, ইউসিসি (UCC) কোনও আদিবাসী বা বনবাসী ভাই-বোনের ঐতিহ্য ও রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। এই বার্তা প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি অঞ্চলে, পাহাড়ে ও জঙ্গলে পৌঁছে দিন এবং প্রতিটি আদিবাসী সম্প্রদায়কে সচেতন করুন যে ইউসিসি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ অংশ নেন।

    নকশালবাদের অবসান ও উন্নয়ন

    নকশালবাদ প্রসঙ্গে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “মোদি সরকার গত পাঁচ দশক পুরোনো এই অভিশাপকে নির্মূল করেছে এবং বর্তমানে দেশ নকশাল সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার পথে। আজ আদিবাসী সম্প্রদায়ের এই মহাসমাবেশে আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, আমাদের দেশ নকশাল সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা হিংসার মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, তাদের কারণে প্রায় ৪০,০০০ আদিবাসী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এখন সেই সংকট থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছি। এখন পাহাড়, জঙ্গল ও আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে দ্রুত উন্নয়নের সময় এসেছে।” উল্লেখ্য দিল্লিতে আরএসএস (RSS)-এর সহযোগী সংগঠনগুলির দ্বারা আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

    আদিবাসী কল্যাণ ও বাজেট বরাদ্দ

    আদিবাসী কল্যাণে বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারগুলিকে আক্রমণ করেন। মোদি সরকার আদিবাসী সমাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। আগে আদিবাসী কল্যাণের মোট বাজেট ছিল মাত্র ২৮,০০০ কোটি টাকা। নরেন্দ্র মোদিজি তা বাড়িয়ে ১.৫ লাখ কোটি টাকা করেছেন।”

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রথম পৃথক আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক (Ministry of Tribal Affairs) গঠন করেছিলেন এবং আদিবাসী কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কৃতিত্ব বিজেপিরই প্রাপ্য।”

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ

    দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দ্রৌপদী মুর্মুর নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “এটি আদিবাসী সমাজের জন্য সর্বোচ্চ স্তরে সম্মান ও প্রতিনিধিত্ব বয়ে এনেছে। স্বাধীনতার ৭৬ বছরে কোনও আদিবাসী ব্যক্তিত্ব দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসেননি। নরেন্দ্র মোদিজি একটি দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের নারী, দ্রৌপদী মুর্মুজিকে রাষ্ট্রপতি পদে উন্নীত করে সমগ্র আদিবাসী সমাজকে সম্মানিত করেছেন।”

  • Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    Thyroid Problem: পুরুষদের তুলনায় ৪ গুণ বেশি ঝুঁকি! কেন ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে ভারতীয় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য সতর্কতার অভাবেই বাড়ছে বিপদ! বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য নিঃশব্দে বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের জনস্বাস্থ্যে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে থাইরয়েড। গলায় থাকা এই হরমোন গ্রন্থি এখন উদ্বেগের কারণ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    ভারতীয় মহিলাদের জন্য কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ১৫ শতাংশ মহিলা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে মহিলাদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষত বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় পুরুষদের তুলনায় ভারতীয় মহিলারা ৪ গুন বেশি থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

    থাইরয়েডের সমস্যা কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গলার কাছে থাকে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি বা কম হরমোন নিঃসরণ শুরু হলে শরীরের একাধিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেটাই থাইরয়েড সমস্যা হয়। ভারতে অধিকাংশ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তের দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় মহিলারা থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন?

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্যের ব্যাপাক পরিবর্তন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা থাইরয়েড সমস্যায় কয়েক গুণ বেশি ভুগছেন। তার প্রধান কারণ হলো হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের জীবনের একাধিক সময়ে শরীরে হরমোন ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়। তার ফলে একাধিক হরমোন গ্রন্থির সক্রিয়তার সমীকরণ বদলে যায়। বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময়, গর্ভাবস্থায়, সন্তান প্রসবের পরে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে মহিলাদের শরীরের একাধিক হরমোন ঘটিত পরিবর্তন হয়। এর জেরে থাইরয়েড গ্রন্থির উপরেও গভীর প্রভাব পড়ে। থাইরয়েড নিঃসরণের পরিবর্তন ঘটে। তাই মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। বিশেষত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তাই সেই সময়ে এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    আয়রনের ঘাটতি!

    ভারতীয় মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। ১২ বছরের পর থেকেই অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে। আয়রনের অভাব মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া, বহু মহিলা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ভারতীয় মেয়েদের থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা!

    ভারতীয় মহিলারা অধিকাংশ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভোগেন। পারিবারিক সমীকরণ এবং কাজের পরিবেশ‌ ভারতে বদলে যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য চাপ বাড়ছে। পরিবারের একাধিক দায়িত্ব তাদের সামলানোর পাশপাশি পেশাগত জীবনেও দায়িত্ব বাড়ছে। একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন, আবার আরেক দিকে সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ভারতীয় মহিলাদের মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শহুরে ভারতীয় মহিলারা অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। এগুলো শরীরের হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলছে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অটোইমিউন রোগের জেরে বিপদ বাড়ছে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় মহিলারা অটোইমিউন রোগের শিকার বেশি হন। অর্থাৎ, নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাই অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে, তার থাইরয়েড গ্রন্থিও সমস্যায় পড়ে। রোগের জটিলতা বাড়ে।

    কেন থাইরয়েড বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে প্রয়োজনের বেশি বা কম পরিমাণ হরমোন নিঃসরণ হলে শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা একাধিক জটিলতা তৈরি করছে—

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মহিলাদের একাধিক হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে মহিলাদের গর্ভধারণ জটিল হয়ে যায়। দেশ জুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হলো থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যায় আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারণ করলেও একাধিক ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি হয়‌। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া, গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব পড়তে পারে।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার রক্তচাপ ওঠানামা করে। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
    • ● থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এতে ক্যালসিয়াম কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে, বিশেষত মেনোপজের পর এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সময়মতো থাইরয়েড পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
    • ● তবে যে দিকটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। দেশ জুড়ে একাধিক মানসিক সমস্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অবসাদ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের মতো নানান মানসিক সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে তার গভীর প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই হরমোন ঘটিত সমস্যার জেরে খিটখিটে ভাব বাড়ে, কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, ক্লান্তি বোধ বাড়ে, আবার রাগ এবং দুশ্চিন্তার মতো সমস্যা বেশি হয়। সব মিলিয়ে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। ভারতের এই বিপুল সংখ্যক মহিলার থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর জেরে আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    থাইরয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে সচেতনতা জরুরি। স্কুল স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করলে, সামাজিক সচেতনতার মান বাড়বে। অত্যন্ত বেশি চুল পড়ার সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, রুক্ষভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার মতো সমস্যায় দিনের পর দিন ভুগলে, কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণ সহজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত কিনা! তাই সেই পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না। বর্তমানে ভারতে থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার উপযুক্ত ওষুধ রয়েছে। তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগ চিহ্নিত হলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে।

  • Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারের পর সোমবারেও রাজ্য সরকারের (BJP Government) বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। কোন্নগরে সরকারি জমি দখল করে গজিয়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের কমপক্ষে ৬ জায়গায় বুলডোজার দিয়ে রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং জাভেদ খানের বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতলের ইমারত আগাম নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি, জবর দখল, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূল (Illegal Construction) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিও রয়েছে। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

    প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction)

    হুগলি জেলার কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে চালানো হয়েছে বুলডোজার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (Illegal Construction) খোকন পালের সেই বেআইনি নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত সরকারি জায়গা দখল করে তৎকালীন শাসক দলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার সরকার বদলে যেতেই চরম বিপাকে তৃণমূলের অবৈধ দখলদারিরা। অপরদিকে, রবিবার কলকাতার কসবা, তিলজলা এবং বেলেঘাটা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারের (BJP Government) এই অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণগুলি সগৌরবে টিকে ছিল? তৃণমূলের শাসনকালে কলকাতা পুরসভা কেন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি? রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল খোদ এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন। দিকে দিকে তৃণমূলের অবৈধ দখলকারী নেতা-নেত্রীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে।

    স্থানীয়দের চোখের সামনেই একটু একটু করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল বিশালাকার সব বহুতল। যার প্রতিটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নির্মিত। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণ করতে দেওয়া হয়েছে। এই খবর কি তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে ছিল না? ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলবল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁরা বড় বড় কথা বলতেন, তাঁরা কি কিছুই জানতেন না? আমরা মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় এসেই যদি সব জানতে পারি, তবে তাঁরা কেন জানতেন না? আসলে অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হবে।”

    পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশন

    রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই কলকাতা পুরসভা পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশনে নামে। তিলজলা এলাকার দুটি বহুতলে ইতিমধ্যেই বুলডোজার চালানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দুটি বহুতলই তৃণমূল বিধায়ক (Illegal Construction) জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এমনকি খোদ জাভেদ খানের কার্যালয়েও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ আবাসন ও নির্মাণ। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি কাজ কি সত্যিই প্রশাসনের অলক্ষ্যে ঘটছিল, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার যে এই অবৈধ নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট।

    কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট অবৈধ

    সোমবার তৃণমূল নেতা (Illegal Constructইওন) তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মাণ বেআইনি বহুতলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার চালানো হয়। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরসভার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন দুটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, পুর কর্তৃপক্ষ আবাসন দুটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে এবং সোমবারই ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক সহযোগীকে স্কুটার চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি আদতে একজন দালাল, যিনি রাজু নস্করের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এদিন এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

    বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ

    রাজুর বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP Government) অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং তা গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছিল। বুকিংয়ের সময় সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত তাঁদের কোনও ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা ‘অ্যাগগ্রিমেন্ট পেপার’ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পূর্ণ টাকা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটের মুখে ক্রেতারা বারবার রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (BJP Government), পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেছেন। কোথাও সরু গলির মধ্যে ৬-৭ তলা বিল্ডিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে ৩ ফুটও জায়গা নেই। বিল্ডিং ভাঙার জন্য সেখানে বুলডোজার পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হাতুড়ি দিয়ে ম্যানুয়ালি বিল্ডিং ভাঙার কাজ করছেন পুরসভার কর্মীরা। ২৩ তারিখ বেআইনি বিল্ডিং ভাঙতে নোটিস দিয়েছিল পুরসভা। এরপরেই রবিবার সকাল থেকে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা।

  • India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) রবিবার ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কিছু বোকা মানুষের মন্তব্য” কখনও আমেরিকার (India-US Relation) প্রকৃত চরিত্রকে তুলে ধরে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে গোটা দেশের মানসিকতা বলে মনে করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বোকা কথা বলে। এগুলোর অনেকই ট্রোল বা বট অ্যাকাউন্ট থেকেও হতে পারে।”

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত

    রুবিও আরও বলেন, “এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। বিশ্বের সব দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ খারাপ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে থাকে। কিন্তু কয়েকজনের বক্তব্য দিয়ে পুরো আমেরিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি দেশ। একইসঙ্গে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভারতকে ভালোবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। যদি তিনি ভারতকে গুরুত্ব না দিতেন, তাহলে আমাকে এখানে পাঠাতেন না।”

    ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মার্কো রুবিও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পরমাণু সহযোগিতা এবং মাদক পাচার রুখতে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদিক সম্মেলনও করেন তাঁরা। সেখানেই চিন ও ভারত সফরের তুলনা করতে গিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাঁর কথায়, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।”

    পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন!

    এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটি থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রুবিও বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। সেই উদ্বেগ তাদের সবসময়ই রয়েছে।”

    অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক

    রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গেও এক মেগা বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। উল্লেখ্য, রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব হওয়ার পাশাপাশি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) দায়িত্বেও রয়েছেন। ফলে দুই দেশের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে লিখেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ট্রাস্ট’ (TRUST বা Transforming the Relationship Utilising Strategic Technology) উদ্যোগ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রকল্পটির তদারকি সরাসরি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (অজিত ডোভাল ও মার্ক রুবিও) অফিস থেকে করা হচ্ছে। এর অধীনে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত আধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করছে:

    • ● সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): দুই দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই প্রযুক্তির আদানপ্রদান।
    • ● কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও মহাকাশ: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং স্পেস বা মহাকাশ গবেষণায় যৌথ কোলাবোরেশন।
    • ● গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়োটেকনোলজি: ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ এবং জৈবপ্রযুক্তি।
    • ● এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ: এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ভারতে মার্কিন প্রযুক্তির এআই সিস্টেমের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

    নজরে ইন্দো-প্যাসিফিক ও সন্ত্রাসবাদ দমন

    বৈঠকের পর ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকেও এক্স-এ এক পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার বিষয়ে দুই এনএসএ-ই নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের আসল ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি। আগামিকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘কোয়াড’ (QUAD Foreign Ministers’ Meeting) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে এই মেগা সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন আমেরিকার মার্কো রুবিও ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা।

  • 114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান চুক্তির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পের অধীনে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিরক্ষা ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কী এই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’?

    প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর হল একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যার মাধ্যমে ক্রেতা দেশ বিক্রেতা দেশের সরকারকে জানায় তারা কত সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় এবং তার প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চাহিদা কী। ভারতের পাঠানো এলওআর-এর ভিত্তিতে ফ্রান্স সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। তারপর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (RFP) জারি করে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করবে।

    ভারতে তৈরি হবে অধিকাংশ রাফাল

    প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফরাসি সংস্থা ‘দাসো’র সঙ্গে একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই উৎপাদন হবে। বাকি বিমানগুলি ফ্রান্স থেকে সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বছরের শেষেই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য

    সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে চাইছে কেন্দ্র। তবে তার আগে প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস-এর অনুমোদন। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইডিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংয়ের ফ্রান্স সফর এবং জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য ফ্রান্স সফরকে ঘিরেও এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই ৩৫টি রাফাল ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে, যা পূর্ববর্তী ভারত-ফ্রান্স চুক্তির অধীনে কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৬টি রাফাল-এম (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে, যা বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্ল্যাটফর্মের আরও রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র সংযোজন এবং লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে। কারণ ইতিমধ্যেই রাফাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতীয় বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের চেষ্টা

    ভারত বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে ইন্টারফেস কনট্রোল ডকুমেন্ট, সংক্ষেপে আইসিডি (ICD) নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রযুক্তিগত নথি হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থা যেমন অ্যাস্ট্রা (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG) মিসাইল রাফাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সফল হলে রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

    কেন জরুরি এই চুক্তি?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রকল্প যেমন হ্যাল-এর তেজসের মার্ক-১এ (Tejas Mk1A), মার্ক-২ (Tejas Mk2) সংস্করণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যামকা (AMCA) সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। অ্যামকা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের পর পরিষেবায় আসতে পারে বলে অনুমান।

    রাশিয়ার সু-৫৭ জেটও বিবেচনায়

    অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত বিদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। তার মধ্যে রাশিয়ার সুখোই সু-৫৭ (Sukhoi Su-57) স্টেলথ ফাইটারের নামও উঠে এসেছে। তবে আপাতত রাফাল এফ-৪ সংস্করণই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান পছন্দ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কত?

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ১১৪টি রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) মাল্টিরোল ফাইটার কেনার জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার সরকার-টু-সরকার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মার্কিন ডলারে যার মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটিই হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগের সূচনা। ২০২৬ ন্যাশনাল ফেডারেশন সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইতিহাস গড়লেন গুরিন্দেভির সিং (Gurindervir Singh)। তিনিই প্রথম ভারতীয় স্প্রিন্টার যিনি ১০.১০ সেকেন্ডের বাধা ভেঙে ‘১০.০’ সেকেন্ডের ঘরে প্রবেশ করলেন। এই নজির গড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা, অনেকেই তুলনা টানছেন কিংবদন্তী উসেইন বোল্ট-এর (Usain Bolt) সঙ্গে। রাঁচির বীরসা মুন্ডা অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে (Birsa Munda Athletics Stadium) যেন গত ২৪ ঘণ্টায় বদলে গেল ভারতীয় স্প্রিন্টের ইতিহাস। সেমিফাইনালেই প্রথমে ১০.১৭ সেকেন্ড সময় করে জাতীয় রেকর্ড ভাঙেন গুরিন্দেভির।

    গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন ক্রীড়ামন্ত্রীর

    গুরিন্দেভির-এর সেমিফাইনালের রেকর্ড মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ১০.১৫ সেকেন্ড দৌড়ে সেই নিজের নামে তুলে নেন অনিমেষ কুজর। ফাইনালে নামার আগে থেকেই তাই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। একদিকে অনিমেষের দীর্ঘ স্ট্রাইড ও দুরন্ত গতি, অন্যদিকে গুরিন্দেভিরের বিস্ফোরক স্টার্ট— দুই ভিন্ন ধাঁচের স্প্রিন্টারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেন পাঞ্জাবের এই তরুণ। শেষ ২০ মিটারে গতি আরও বাড়িয়ে ১০.০৯ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন তিনি। অনিমেষও ১০.২০ সেকেন্ড সময় করেন, যা কয়েক মাস আগেও জাতীয় রেকর্ড হিসেবে গণ্য হত। তবে লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি, বলে জানান গুরিন্দেভির। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দৌড়ের ভিডিওও শেয়ার করেছেন।

    সাফল্যের পথ সহজ ছিল না

    এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একসময় গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন গুরিন্দেভির। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং পেশিশক্তি হারানোর মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর কেরিয়ার প্রায় থমকে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। পরে বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও আধুনিক রিকভারি ব্যবস্থার সাহায্যে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পাঞ্জাবের জালন্ধরের কাছের গ্রাম থেকে উঠে আসা গুরিন্দেভিরের পাশে শুরু থেকেই ছিলেন তাঁর বাবা, যিনি পাঞ্জাব পুলিশের কনস্টেবল। ২০১৭ সালে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে প্রথমবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর দীর্ঘ সংগ্রাম, চোট ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই পেরিয়ে আজ তিনি ভারতের দ্রুততম মানব।

    ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে

    ভারতের ‘ফ্লাইং শিখ’ মিলখা সিং (Milkha Singh)-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্বরেকর্ডধারী উসেইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ড এখনও অনেক দূরের পথ, তবু ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরিন্দেভির ও অনিমেষ— দু’জনেই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনের পথে। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, তাঁরা বদলে দিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্ট নিয়ে ধারণা। এতদিন যেখানে ১০.৩০-১০.৪০ সেকেন্ডকেই বড় সাফল্য মনে করা হত, সেখানে এখন লক্ষ্য ১০ সেকেন্ডের নিচে নামা। দৌড় শেষে গুরিন্দেভিরের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “খুব শিগগিরই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে।” ক্রীড়া মহলে গুঞ্জন, রাঁচির ট্র্যাক শুধু একটি রেকর্ডের সাক্ষী থাকল না, বরং ভারতীয় স্প্রিন্টের নতুন স্বপ্নেরও সূচনা করল।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভার বিকাশ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে এক অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ফলে দেশের ক্রীড়াজগতে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিন ধরেই জাতি গঠনের শক্তি হিসেবে খেলাধুলার বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি ঐক্য প্রচারে, যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ভারতকে একটি আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলাধুলার ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (TOPS)-এর মতো প্রধান কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের ক্রীড়া জগৎকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং ভারতকে খেলার দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ক্রীড়া পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়াই এর প্রমাণ। এই আর্থিক সহায়তার ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের উত্থান মূলত তরুণ প্রতিভা শনাক্তকরণ ও লালন-পালনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। অকৃত্রিম প্রতিভাকে সম্ভাব্য পদকজয়ী খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    লক্ষ্য অলিম্পিক্স

    অলিম্পিক্সের মঞ্চে এখন ভারতীয়দের দাপট বেড়েছে। প্রতিটা অলিম্পিক্সেই সোনা জিতছে ভারতের অ্যাথলিটরা। ভারত সরকারও অলিম্পিক্স ও অলিম্পিক্সের খেলা অ্য়াথলিটদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, অনুশীলনের ব্য়বস্থায় জোর দিয়েছে। আগামী ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আয়োজক হিসেবে নিজেদের নাম দেখতে চায় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব পেলে ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। এখানে অ্য়াথলিটদের জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল পরিকাঠামো দেওয়ার। অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ পেলে, সেই বিষয়ে আরও জোর দেওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, দেশের উন্নতিতে স্পোর্টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁর কাজের ষোল আনা রিটার্ন তিনি পেয়েছেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থেকেও। উঠে এসেছে গুরিন্দেভিরের মতো প্রতিভা। যাদের লক্ষ্য জাতীয় গেমস নয়, অলিম্পিকের পোডিয়াম।

     

     

     

     

     

  • Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় একটি কথা আছে চিরদিন কাহার সমান না যায়, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে অহংকারী করে তোলে। তৃণমূলের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে।  দেড় দশক পর অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে বাংলায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর শাসনক্ষমতা হারানোর পরপরই আরও এক বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হল ঘাসফুল শিবির। এবার খোদ দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় তথা ‘তৃণমূল ভবন’ (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেলেন শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)। উল্লেখ্য এই ভবন থেকেই অভিষেক রাজ্যের শাসক দলকে নিজের হাতের মুঠোয় করে দল চালাতেন বলে অভিযোগ তৃণমূলেরই একাংশের।

    ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় ভাড়া নেওয়া যে বহুতল ভবনটি এতদিন ধরে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তার মালিক ইতিমধ্যেই জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ওই ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়, মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি হবে ভবন (Trinamool Bhavan)

    সূত্রের খবর, এই বিলাসবহুল বহুতলটির মালিক রাজ্যের অন্যতম খ্যাতনামা ডেকরেটার্স সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’-এর কর্ণধার মন্টু সাহা। তিনি নিজেই তৃণমূল নেতৃত্বকে মৌখিকভাবে ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তা খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। মন্টুবাবু নিজে এই নোটিস দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, তৃণমূল নেতৃত্বের (Mamata Banerje) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে।

    কোনও রাজনীতি নেই

    রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলকে কেন এমন নোটিশ দেওয়া হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্টু সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চাপ বা অন্য কোনও সমীকরণ নেই। তিনি বলেন, ‘‘গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ভবনের (Trinamool Bhavan) বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হলে তো লোকসান আমারই। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনীতি নেই।”

    কোনও ক্ষোভ নেই

    মূলত নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি তৃণমূলকে এই ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছাড়তে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া বাবদ যাবতীয় বকেয়া তৃণমূল নেতৃত্ব সর্বদা নিয়ম মেনে মিটিয়ে দিয়েছে এবং দলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

    দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তপসিয়ায় অবস্থিত দলের পুরনো ও মূল কার্যালয়টি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরনো ভবনটি (Trinamool Bhavan) ভেঙে সেখানে কর্পোরেট ধাঁচের একটি আধুনিক বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কারণেই বিকল্প কার্যালয় হিসেবে ২০২২ সালে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকার এই ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মাত্র দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া হলেও, তপসিয়ার মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়।

    সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু

    ফলে বিগত চার বছর ধরে এই মেট্রোপলিটন ভবনটিই ছিল তৃণমূলের সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনেই (Trinamool Bhavan) দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পৃথক সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক, নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ এবং সাংবাদিক সম্মেলন—সবই পরিচালিত হতো এখান থেকে। প্রতিদিন দলের প্রথম সারির নেতা, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এখানে সমবেত হতেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের মূল দায়িত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এখন চরম সঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)।

    চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। শাসনক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে শাসকদল। তার ওপর দলের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ তথা এই অস্থায়ী ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দিতে হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব। যেহেতু তপসিয়ার মূল ভবনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় ছাড়তে হওয়ায় আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম কোথা থেকে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে নতুন কোনও উপযুক্ত অস্থায়ী আস্তানা খুঁজে না পেলে ঘাসফুল শিবিরের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট” নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব স্তরেও শুরু হতে চলেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির নির্দেশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

    জেলায় জেলায় তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের সীমান্ত পার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বিএসএফ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে মুক্তি পাওয়া যেসব বিদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, তাঁদেরও সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করল নতুন সরকার

    ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ, আটক এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিতে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই তৈরি।

    কারা সিএএ-র আওতায়, কারা ডিপোর্টের মুখে

    সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না—বিশেষত বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা—তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করে ডিপোর্ট করা হবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

    কেমন হবে এই হোল্ডিং সেন্টার

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, সরকারি স্কুল বা সরকারি পরিকাঠামোকেই আপাতত হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড়সড় ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে ওই সেন্টারগুলিতে রাখা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    কীভাবে শনাক্ত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের

    কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। এই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (FIP)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

    কেউ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে কী হবে

    যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা বা রাজ্যের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

    অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা

    যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারেন।
    এছাড়া তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে এবং ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার, ভোটার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্র ও সুবিধা বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

    খরচ বহন করবে কে

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য প্রাথমিক পরিবহণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে। পরে সেই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। অন্যদিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

    রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিজেপি প্রশাসনিক কঠোরতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার ও ডিপোর্টেশন নীতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬তম অসম বিধানসভার (Assam Assembly) প্রথম অধিবেশনেই তৈরি হল ইতিহাস। ২১ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল অসম ও ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বিরল প্রতিচ্ছবি। এদিন মোট ১২৪ জন বিধায়ক ৯টি ভিন্ন ভাষায় শপথ নেন। এর মধ্যে কয়েকটি ভাষা এই প্রথম কোনও ভারতীয় বিধানসভার অন্দরমহলে শোনা গেল। ফলে দিনটি অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে

    সংস্কৃতে শপথ নিলেন বিধায়করা

    সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে সংস্কৃত ভাষায় শপথগ্রহণ। বিজেপি-এনডিএ জোটের ১৭ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেন, যা অসম বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন স্পিকার বিশ্বজিৎ দইমারি, বিজেপি নেতা বিমল বরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, ভবেশ কলিতা, ডঃ মৃদুল কুমার দত্ত, এজিপি নেতা পৃথ্বীরাজ রাভা-সহ একাধিক বিধায়ক সংস্কৃতকে বেছে নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিধায়কদের একযোগে সংস্কৃত ভাষা বেছে নেওয়া ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐক্যের বার্তা।

    জনজাতি ভাষার ব্যবহার

    এই অধিবেশনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক ছিল তিনটি জনজাতি ভাষার ব্যবহার। প্রথমবার অসম বিধানসভায় কর্বি, রাজবংশী ও রাভা ভাষায় শপথ নেওয়া হয়। পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক কর্বি ভাষায়, তিনজন বিধায়ক রাজবংশী ভাষায় এবং একজন বিধায়ক রাভা ভাষায় শপথ নেন। এই ভাষাগুলি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সরকারি স্বীকৃতিও সীমিত। তবু বিধানসভার ভিতরে এই ভাষাগুলির উচ্চারণ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে এক বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাষাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী, ৭৫ জন বিধায়ক অসমিয়া ভাষায় শপথ নেন। ১৭ জন সংস্কৃতে, ৯ জন বাংলায়, ৮ জন বোড়ো ভাষায়, ৫ জন কর্বি ভাষায়, ৩ জন রাজবংশী ভাষায় শপথ নেন। এছাড়া ৪ জন ইংরেজিতে, ১ জন হিন্দিতে এবং ১ জন রাভা ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেন, বিধায়কেরা যাতে নিজেদের সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ভাষায় শপথ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা এবং প্রো-টেম স্পিকার চন্দ্রমোহন পাটোয়রি-র সঙ্গে আলোচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নিয়ম কখনও মানুষের ভাষা ও পরিচয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।”

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

LinkedIn
Share