Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেট মরশুম শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জানুয়ারি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়া ঘরোয়া সিরিজ, বিদেশ সফর এবং আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের কাছে।

    জানুয়ারি থেকে জুনের লড়াই

    ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। ১১, ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি খেলা তিনটি হবে বরোদা, রাজকোট ও ইন্দোরে। এরপর রয়েছে কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। ২১, ২৩, ২৫, ২৮ ও ৩১ জানুয়ারি খেলাগুলি হবে নাগপুর, রায়পুর, গুয়াহাটি, বিশাখাপত্তনম ও তিরুঅনন্তপুরমে। এরপর রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টুর্নামেন্ট। খেলা শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল ৮ মার্চ। এরপর মার্চের শেষে শুরু হয়ে যাবে আইপিএল। চলবে মে মাস অবধি। আইপিএলের পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে টিম ইন্ডিয়া। জুনে আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে। দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ড সফর

    জুলাইয়ে ভারত যাবে ইংল্যান্ড সফরে। খেলবে পাঁচটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে। ১, ৪, ৭, ৯, ১১ জুলাই টি–টোয়েন্টি ম্যাচগুলি হবে চেস্টার লি স্ট্রিট, ম্যাঞ্চেস্টার, নটিংহ্যাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনে। আর ১৪, ১৬ ও ১৯ জুলাই একদিনের ম্যাচগুলি হবে বার্মিংহাম, কার্ডিফ ও লর্ডসে। আগস্টে ভারত যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। খেলবে দুই টেস্টের সিরিজ। এই সিরিজের দিনও এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২২ গজের লড়াই

    সেপ্টেম্বরে ভারত যাবে বাংলাদেশ সফরে। খেলবে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর চলবে এশিয়ান গেমসে। জাপানে এই টুর্নামেন্টে আবার ক্রিকেট ফিরছে। এরপর আবার আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর দেশের মাটিতে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি–টোয়েন্টির সিরিজ। অক্টোবর–নভেম্বরে ভারত যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। খেলবে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি–টোয়েন্টি। এই সিরিজের দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা আসবে ভারত সফরে। রয়েছে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ।

    টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দখলে রাখার লড়াই

    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই দেশের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই বিশ্বকাপ রক্ষার দায়িত্ব এবার সূর্যদের। দলও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারত। কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের একবার যাচাই করে নেবেন সূর্যরা।

     

  • Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেও জাঁকিয়ে শীত (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম। গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারিতে কখনও এতটা পারদ পতন হয়নি কলকাতায়। ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪। তার পর ২০২৬-এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। গত বছরের শেষ দিনে শহর কলকাতার তারপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। জাঁকিয়ে শীতকে সঙ্গে নিয়ে এবার ভরা পৌষে চলছে কল্পতরু উৎসবও। বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানা, ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়ায়। কল্পতরু উপলক্ষে ভিড় দক্ষিণেশ্বর, জয়রামবাটী-কামারপুকুরে।

    ফের পারদ পতনের সম্ভাবনা

    বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়ে ফেলেছে কলকাতা। বুধবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোরে তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হয়েছে। আজ শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমবে। তার পরের চার দিন তাপমাত্রায় হেরফের হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে খানিক রেহাই মিলতে পারে। তার পর ফের পারদ পতনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে এর পরের চার দিন ধীরে ধীরে কমতে পারে শীত।

    জেলায় জেলায় কুয়াশার দাপট

    নদিয়া, সিউড়ি, শ্রীনিকেতন, আসানসোলের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও তা ১২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। উপকূলের জেলাতে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার-পাঁচ দিনই কুয়াশা থাকবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকবে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও হতে পারে। থাকবে কুয়াশাও।

  • PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০২৬! নতুন বছরে পা রাখল বিশ্ব। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন নতুন বর্ষবরণের আনন্দ, সেই সময়ে দেশের মানুষকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Wishing New Year) ও রাষ্ট্রপতি (President of India) দ্রৌপদী মুর্মু। দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার বার্তা দিলেন। দেশবাসীর উন্নতিতে প্রার্থনা করলেন। আহ্বান জানালেন সমৃদ্ধ ভারত গঠনের।

    প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির বার্তা

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) ভারতে এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে (Indian) শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, “নতুন বছর শক্তির পুণর্নবীকরণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি আত্ম দর্শনের এবং নতুন সংকল্পেরও সুযোগ এনে দেয়। এই অবসরে জাতির উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করি।” নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য প্রার্থনা করেন, যেন আগামী বছর প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সকল প্রচেষ্টায় সফলতা ও সকল কার্যপূরণ হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের শান্তি এবং সুখ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করি। আশা রাখি ২০২৬ আমাদের জীবনে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক এবং আমাদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চারিত করুক যাতে আমরা আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তুলতে পারি। “

    বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণ

    নববর্ষের আগের রাত শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ আতশবাজি, পারিবারিক জমায়েত এবং নতুন বছরের সংকল্পের মাধ্যমে আগামী বছরকে স্বাগত জানানো শুরু করেছিলেন সকলে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সবাই উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন। এই বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সূচনা করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি, যা ক্রিসমাস আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মধ্যরাত যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ভারতের নানা শহরও। বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর—সর্বত্রই পার্টি, আলোর সাজ, আতশবাজি এবং পারিবারিক ও বন্ধুমহলের জমায়েতে উচ্ছ্বাসের আবহ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও খোলা প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অনেকেই আবার বাড়িতেই প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা করছেন। মন্দিরে প্রার্থনা, বাড়িতে বিশেষ রান্না এবং শুভেচ্ছা বার্তা আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে অনেক পরিবার নতুন বছরের সূচনা করতে চান।

  • Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের পয়লা দিন বলে কথা। বাঙালি মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। এ আর নতুন কী! তবে ফি বছর ১ জানুয়ারির গুরুত্ব বাঙালির কাছে অন্যভাবেও রয়েছে, এদিন কল্পতর উৎসব (Kalpataru Utsav)। এদিনই বিশ্ববন্দিত হিন্দু ধর্মের প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দের গুরু, ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’। সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বত্র ভক্তরা পালন করছেন কল্পতরু দিবস। ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna) স্মৃতি। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।

    ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দরিদ্র বৈষ্ণব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমণি দেবীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কথিত আছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে গয়া তীর্থ ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, গদাধর বিষ্ণুকে স্বপ্নে দর্শন করেন। তাই নিজের চতুর্থ সন্তানের নাম তিনি রাখলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৮৫৫ সালে গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় আগমন ঘটে। কারণ মাহিষ্য সমাজের জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। রানিমা প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন কামারপুকুরের রামকুমারের হাতে। তরুণ গদাধর দাদাকে পুজোতে সাহায্য করবেন। ১ বছরের মধ্যে ছন্দপতন। আকস্মিকভাবেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যু হল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। মন্দিরের ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে তরুণ পুরোহিতের জন্য একটি ছোট্ট ঘর বরাদ্দ করা হল। শোনা যায়, এরপরেই রানি রাসমনির জামাতা মথুরামোহন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের নামকরণ রামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) করেন, তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ কেউ বলেন যে তাঁর এই নামকরণ করেন ঠাকুরের অন্যতম গুরু তোতাপুরী। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর কিছুই ছিল না সেভাবে। কিন্তু মুখে মুখে বলে দিতেন হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব, অতি সরলভাষায়, একেবারে গল্পের ছলে। এজন্য তাঁকে গল্পের রাজাও বলা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর এই বাণী সংকলিত হয় কথামৃত নামক গ্রন্থে। এরমধ্যে ঠাকুরের (Kalpataru Utsav) বিবাহ সম্পন্ন হয় কামারপুকুরের তিন মাইল উত্তর-পশ্চিমে জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা সারদাদেবীর সঙ্গে। সেটা ১৮৫৯ সালে। এতদিনে বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেছে। শিষ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেশবচন্দ্র সেন সমেত অন্যান্য গন্যমান্যরা।

    ১ জানুয়ারী ১৮৮৬

    শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে তিনি নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন প্রায় এক মাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০জন মতো গৃহী ভক্ত। সকলে হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত। আজ ঠাকুরের দর্শন পাওয়া যাবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। পরনে সেই চিরাচরিত পোশাক। লাল পেড়ে ধুতি। উপস্থিত গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, ‘‘হ্যাঁ গো, তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী?’’ গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, ‘‘তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী-তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন।’’ সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করলেন এবং ঠাকুর (Sri Ramakrishna) বললেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’।

    এদিনের উৎসবকে কল্পতরু (Kalpataru Utsav) কেন বলা হয়?

    হরিবংশ ইত্যাদি পুরাণে ‘কল্পতরু’র উল্লেখ রয়েছে। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থন হয়েছিল, পুরাণ অনুযায়ী সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে একটি বৃক্ষ-ও। যাকে পারিজাত বৃক্ষ বলা হত। পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই পারিজাত বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই পারিজাত বৃক্ষকে-ই ‘কল্পতরু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ সেই বৃক্ষ, যার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsav) দিন ঠাকুরের ভক্তরা তাঁকে অবতার রূপে মেনে নেন। কথিত আছে, সেদিন উপস্থিত সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা ঠাকুরের কৃপায় পূরণ হয়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

  • Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে। রাজ্যে এসে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এখন অনেকগুলি জনকল্যাণমূলক (WB Scheme) প্রকল্প চালায়। আর বাংলায় বিজেপি সরকার (BJP) এলেই নাকি সেই সব স্কিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূলের এই দাবি উড়িয়ে শাহ জানালেন, “এটা ভুল ধারণা। আমি এখানে বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড (Lakshmir Bhander)।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায়

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তার বদলে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী— যা তাঁর মতে আরও দুর্বল একটি প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ কি ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর (Swasthya Sathi) সুবিধা পাবেন?” শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের সঙ্গে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও যোগ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই রকম কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদরা মেয়েদের হাতে সরকারের এই টাকা দেওয়াকে ‘অপচয়’ বলতে রাজি নন। শাহ জানান মেয়েদের, বিশেষত দরিদ্র, প্রান্তিক মেয়েদের হাতে নগদ টাকা থাকলে তা সংসার ও সন্তানের কাজেই লাগে। বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারও নগদ পাওয়ার এই প্রকল্পে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তিকে সক্ষমতার একটি সূচক বলেই দেখে।

    আজ শহরে শাহের সফর

    দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। চড়ছে রাজনীতির পারদ। আর নতুন বছর শুরুর আগেই রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনদিনের সফরে আজ, বুধবারই শেষ দিন। আজ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিজেপি সূত্রে খবর, হোটেলে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পাশাপাশি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটিতে বৈঠক রয়েছে অমিত শাহের। কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই শাহ জানিয়েছেন, আগামী বছর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

  • India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত আগেই তা খারিজ করেছে। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চিনের (India China) মধ্যস্থতা করার দাবিকেও উড়িয়ে দিল ভারত। নয়াদিল্লি ফের জানিয়ে দিল, ভারত–পাকিস্তান সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সরাসরি দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেই গৃহীত হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

    বুধবার চিনের (India China) বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দাবি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে ভারত জানাল, সংঘর্ষবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। দুই দেশের ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস’ (ডিজিএমও)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরই ১০ মে যুদ্ধ স্থগিত করা হয়। সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়েছে, “আমরা এই ধরনের দাবি ইতিমধ্যেই খারিজ করেছি। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। অতিতেও একাধিকবার আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও-দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে।”

    চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    সম্প্রতি বেজিংইয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Conflict) কৃতিত্ব দাবি করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনও এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাত দেখা যায়নি। যা এই বছর দেখা গিয়েছে। কঠিন এই সময়ে চিন নিরপেক্ষ ও ন্যায় সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে।” উদাহরণ তুলে ধরে একইসঙ্গে তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষে চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।” ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চিনের এহেন দাবি সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নেয়। এবার সে দাবি স্পষ্টভাষায় খারিজ করল ভারত।

    কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই এই প্রথম নয়

    এই প্রথম নয়—এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করেছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেমেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই রাজি করিয়েছেন। ভারত সরকার এই দাবি উড়িয়ে দেয় প্রথম থেকেই। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সামরিক স্তরে ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়নি, হবেও না।

    চিনের দ্বিচারিতা

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চিনের সাম্প্রতিক এই দাবি তাদের দ্বিচারিতা তুলে ধরে। কারণ, সংঘাত চলাকালীন বেজিং প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ভারতের হামলায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১১টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং সম্প্রতি জানান, এই সংঘাতকে চিন কার্যত একটি “লাইভ ল্যাব” হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তান ছিল সামনে, আর চিন সব রকম সহায়তা দিচ্ছিল। গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই চিনের। নিজেদের অস্ত্র অন্য দেশের অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।”

    কেন এই দাবি চিনের 

    চিনের উপর নতুন বছরের শুরু থেকেই কিছু ইস্পাত পণ্যে ১১-১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন বছরের মেয়াদে এই শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপে চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানির বাণিজ্যে লাগাম পরানো যাবে বলে অনুমান। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম বছরে ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.৫ শতাংশ ও তৃতীয় ও শেষ বছরে ১১ শতাংশ হারে শুল্ক বসাতে চলেছে ভারত। দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই আবহে ভারতকে কিছুটা চাপে রাখতে হঠাতই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যস্থতার দাবি করল বেজিং। খানিকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই অযৌক্তিক দাবি করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।

    সংঘাতের পটভূমি

    উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি। এরপর সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ। চারদিন টানা উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে। ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ চলাকালীন একাধিক দেশ উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছিল। সৌদি আরব, আমেরিকা, রাশিয়া, চিন দুই দেশের সঙ্গেই কথা বলে এবং সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানায়। তবে নয়াদিল্লির বক্তব্য, চূড়ান্ত স্তরে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

  • Winter in Bengal: বছরের শেষ দিনই শীতলতম! নতুন বছরের শুরুতেও কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস

    Winter in Bengal: বছরের শেষ দিনই শীতলতম! নতুন বছরের শুরুতেও কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং চলছে বাংলায়। নেটিজেনদের ভাষায় কলকাতাও হয়ে গিয়েছে ‘কোল্ডকাতা’। বুধবার ভোরে কলকাতায় এক ধাক্কায় পারদ নেমে গেল ১১ ডিগ্রিতে! এখনও পর্যন্ত শহরে এটাই এই মরসুমের শীতলতম দিন (Winter in Bengal)। এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা হয়েছিল মঙ্গলবার। তবে বুধবার তার চেয়েও অনেকটা পারদপতন হয়েছে। পুরু কুয়াশার চাদরে মুড়ে আছে শহরতলির পথঘাট। তার ফলে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

    কনকনে কলকাতা

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার এক ধাক্কায় তা হয়েছে ১১ ডিগ্রি। অর্থাৎ, এক দিনে পতন প্রায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়েও তা ২.৮ ডিগ্রি কম। এ ছাড়া মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৯.৬ ডিগ্রির উপরে ওঠেনি, স্বাভাবিকের চেয়ে যা ৫.৮ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত শহরে কমবেশি কুয়াশা থাকবে। দুপুরের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার এবং মেঘমুক্ত হবে। গত কয়েক দিনে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে শহরে। অনেকেই মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এমন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়েছিল। গত বছরের সঙ্গেও চলতি মরসুমের শীতের তুলনা টানা যাচ্ছে না।

    বাংলায় শীতের সুনামি

    শীতের (Winter in Bengal) প্রবল স্রোত বয়ে যাচ্ছে গোটা বাংলা জুড়ে। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা, সর্বত্রই মারকাটারি ঠান্ডায় কাঁপছে বঙ্গবাসী। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, উত্তুরে হাওয়ার পথে এই মুহূর্তে কোনও বাধা নেই। ফলে রাজ্য জু়ড়ে অবাধে তা প্রবেশ করছে। তার প্রভাবেই শীত বাড়ছে। অর্থাৎ নতুন বছরের শুরুর দিকেও জেলায় জেলায় বইবে শীতের সুনামি। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বীরভূমে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। এই সব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। অন্যদিকে উপকূলবর্তী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

    কুয়াশায় ঢাকা উত্তরবঙ্গ

    উত্তরবঙ্গে কুয়াশার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোচবিহার, জলপাইগুড়ির মতো জায়গায় বিকেলের দিকে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা থাকবে ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত। আপাতত আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজ্যজুড়ে এই শীতের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিন পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে হাওয়ার গতিও কিছুটা কমতে পারে।

  • Indian Army: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিথিলতা আনল ভারতীয় সেনা, তবে অব্যাহত রইল কড়া শর্ত

    Indian Army: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিথিলতা আনল ভারতীয় সেনা, তবে অব্যাহত রইল কড়া শর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনা (Indian Army) তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নীতিতে কিছুটা শিথিলতা এনেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন সেনা জওয়ান ও অফিসাররা ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র দেখার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনও পোস্ট করা, লাইক দেওয়া বা মন্তব্য করার অনুমতি নেই। আগের সব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর নিয়মই বহাল থাকবে। এই নির্দেশিকা সেনার সব ইউনিট ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য—জওয়ানদের অনলাইনে সচেতন রাখা, প্রয়োজনীয় তথ্য নজরে আনা এবং ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য চিহ্নিত করা। এমন তথ্য ধরা পড়লে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন সেনা সদস্যরা।

    কোন অ্যাপে কী নিয়ম

    দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় সেনা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আলাদা গাইডলাইন জারি করে আসছে। অতীতে বিদেশি গোয়েন্দাদের ‘হানি ট্র্যাপ’-এ পড়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণ তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, স্কাইপ-এ। তবে কেবল পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাবে। প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যবহারকারীর। ইউটিউব, এক্স, কোরা, ইনস্টাগ্রাম-এ কেবল তথ্য ও জ্ঞান অর্জনের জন্য ‘প্যাসিভ অংশগ্রহণ’ অনুমোদিত। কোনও ভিডিও, পোস্ট বা ব্যবহারকারী-তৈরি কনটেন্ট আপলোড করা নিষিদ্ধ। লিঙ্কডইন-এ শুধু চাকরি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য এবং জীবনবৃত্তান্ত আপলোডের অনুমতি রয়েছে।

    সেনাপ্রধানের বার্তা

    সম্প্রতি চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সমাজমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তরুণ জেন জি রিক্রুটদের মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সেখানে। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “রিঅ্যাক্ট করা আর রেসপন্ড করার মধ্যে পার্থক্য আছে।” রিঅ্যাক্ট মানে না ভেবে তৎক্ষণাৎ জবাব দেওয়া, আর রেসপন্ড মানে বিশ্লেষণ করে, পরিকল্পনা করে উত্তর দেওয়া। তাই সেনার নির্দেশ—এক্স বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম দেখুন, কিন্তু এখনই উত্তর দেবেন না; সেটা অবসরের পরের জন্য তুলে রাখুন। এতে শত্রুপক্ষের কাছেও স্পষ্ট বার্তা যায় যে ভারতীয় সেনা কখনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয় না।

    অতীত থেকে বর্তমান

    ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরে সংসদে জানিয়েছিলেন, এই নিয়মগুলির উদ্দেশ্য তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা। ২০১৯ পর্যন্ত, সেনা সদস্যদের কোনও সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ২০২০ সালে, অপব্যবহারের ঘটনার পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ ৮৯টি অ্যাপ ডিলিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে কঠোর নজরদারির মধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি মেলে—ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স, লিঙ্কডইন, কোরা, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন আপডেটে সেনা সদস্যরা খবর পড়া, চাকরির খোঁজ বা রেজিউমে আপলোড করতে পারবেন, তবে প্রতিটি নিরাপত্তা নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে।

    অপারেশন সিঁদুরের উদাহরণ

    অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সেনার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলই ছিল নির্ভরযোগ্য তথ্যের একমাত্র উৎস। পাকিস্তানের একাধিক এক্স অ্যাকাউন্ট আগেই বাহাওয়ালপুর ও কোটলিতে অভিযান নিয়ে গুজব ছড়ালেও, ভারতীয় সেনা রাত ১টা ৫১ মিনিটে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করে পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়। এই নতুন নীতিতে একদিকে যেমন ডিজিটাল সচেতনতা বাড়বে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সেনার কঠোর অবস্থানও অটুট থাকছে।

  • Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৭ রানে ৮ উইকেট নয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ভুটানের সোনম ইয়েশি। গত শুক্রবার ক্রিকেট দুনিয়ার নজর যখন ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অ্যাশেজ সিরিজের টেস্টে তখনই বাইশ গজে নয়া ইতিহাস রচনা করলেন ভুটানের তরুণ। নিঃশব্দে মায়ানমারের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়েন ২২ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজির ছিল মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুসের দখলে। ২০২৩ সালে চিনের বিরুদ্ধে তিনি ৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

    সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণি

    চলতি বছরের শুরুতে বাহরিনের আলি দাউদ ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ভুটানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে সকলকে ছাপিয়ে গেলেন সোনম। গোলফু আন্তর্জাতিক মাঠে টস জিতে ভুটানকে ব্যাট করতে পাঠায় মায়ানমার। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১২৭ রান তোলে। ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম চারটি বলের মধ্যে তিনটিতেই উইকেট তুলে নেন সোনম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে নেন চতুর্থ উইকেট। শেষ দুই ওভারে নেন আরও চারটি উইকেট। সোনমের ধাক্কায় মাত্র ৪৫ রানে শেষ হয়ে যায় মায়ানমারের লড়াই। ৮২ রানে জয়ী হয় ভুটান।

    অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন সোনম 

    ২০২২ সালের জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় সোনাম ইয়েশির। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে আসছেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রান খরচ করে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এখন পর্যন্ত খেলা ৩৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। ভুটান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) সহযোগী সদস্য। এই স্তরের বহু দেশের ক্রিকেটার এখনও অপেশাদার। তবে ভুটান ব্যতিক্রম। পুরুষ ও মহিলা জাতীয় দল মিলিয়ে ৩৬ জন ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় বেতন পান। বর্তমানে ভুটান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ নম্বরে, মায়ানমার রয়েছে ৯৫ নম্বরে।

     

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share