Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের (India) নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ৯.৪০ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯,৪৩,৭৪৩.৯৭ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এই একই সময়ের ১৭,৭৬,৭২৮.১১ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। বুধবার আয়কর দফতর প্রকাশিত তথ্যে এ খবর জানানো হয়েছে (Direct Tax Collections)।

    গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় (India)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২২,৭৮,০৬৮.৬০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ২১,৮৮,৫৫৪.৮৬ কোটি টাকার তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। এই সময়ে জারি করা কর ফেরতের পরিমাণ ১৮.৮২ শতাংশ কমে ৩,৩৪,৩২৪.৬৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে গত অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪,১১,৮২৬.৭৫ কোটি টাকা। কর্পোরেট করের (নিট) আদায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৮৯,৭৫২.৯০ কোটি টাকা। আগের বছরের এই একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭,৭৭,০৪৭.৬৩ কোটি টাকা। অ-কর্পোরেট কর আদায়, যার মধ্যে ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত কর অন্তর্ভুক্ত, বেড়ে হয়েছে ১০,০৩,৩৮৫.৫২ কোটি টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৯,৪৭,৪৭৭.৩০ কোটি টাকা। সিকিউরিটিজ লেনদেন কর আদায় প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে ৫০,২৭৯.১৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবর্ষে ছিল ৪৯,২০১.৪০ কোটি টাকা (India)।

    নির্মলা সীতারামনের আশ্বাস

    লোকসভায় ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আশ্বাস দেন, করের ৪১ শতাংশ অংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা বিভাজ্য করের তহবিলের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করেছি। কোনও রাজ্যের অংশ কমানো হয়নি (Direct Tax Collections)।” তিনি আরও বলেন, “আগামী বছরে রাজ্যগুলির অংশ আনুমানিক ২৫.৪৪ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের দেওয়া হবে। এটি গত বছরের তুলনায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা বেশি।” তিনি ১৬তম অর্থ কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, কমিশনটি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তহবিল বণ্টন বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে প্রতিটি বছরে কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলিতে অর্থ হস্তান্তর হয়েছে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই (India)।

     

  • BJP MLA’s Car Attacked: ‘পুড়িয়ে মারার চেষ্টা’! বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে তৃণমূলের হামলা, আক্রান্ত পরিবার

    BJP MLA’s Car Attacked: ‘পুড়িয়ে মারার চেষ্টা’! বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে তৃণমূলের হামলা, আক্রান্ত পরিবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিজেপি বিধায়কের (BJP MLA’s Car Attacked) পরিবারের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর। পুড়িয়ে মারার চেষ্টার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার পরিবার এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারে শাশুড়ির উপরে আক্রমণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার বেলডাঙায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    কী ঘটেছিল, জানালেন বিধায়ক

    বিধায়ক অশোক কির্তনীয়ার দাবি, তাঁর পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চক্রান্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ, যে গাড়িতে করে বিধায়কের পরিবার ভ্রমণ করছিল, তাতে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েক মাস আগে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপরেও হামলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর এবার হামলার শিকার হল বিজেপি বিধায়কের পরিবার। জানা গিয়েছে, গোপালনগরের বেলডাঙায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার পরিবার এবং বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের শাশুড়ি। সেই অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথেই বিধায়কের পরিবারের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর চালানো হয় গাড়িতে। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত তৃণমূলের গুন্ডারা আমার স্ত্রীকে গাড়ির ভেতরে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা পুরো গাড়িটিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সঠিক বিচার না হলে বনগাঁর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হবে।

    শুভেন্দুর দাবি, পরিকল্পিত আক্রমণ

    এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলের স্থানীয় নেতা। গোপালনগর ব্লক ১ তৃণমূলের সভাপতি তাপস পাল দাবি করেন, এসআইআর আতঙ্কে এলাকার একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সম্প্রতি। এই নিয়ে বিধায়কের গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। তবে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এরপরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অশোক কীর্তনীয়ার গাড়ি বলে আক্রমণ করা হয়েছে। বিধায়কের দুটি একই রকমের গাড়ি ছিল। অশোক কীর্তনিয়া গাড়িতে আছেন ভেবেই পরিকল্পনা করে হামলা করা হয়। গাড়িতে স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা ছিলেন, মূলত মহিলারা ছিলেন। প্রকাশ্যে লোক দেখেছে কারা হামলা চালিয়েছে। তিনটি মুসলিম ছেলে ছিল, দুটি হিন্দু ছেলে। প্রত্যেকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতি।” রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন। বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাতেই তৃণমূলের এই কৌশল বলে মনে করেন শুভেন্দু।

  • Swami Dayanand Saraswati: ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’, এটাই ছিল স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মূল বাণী, আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী

    Swami Dayanand Saraswati: ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’, এটাই ছিল স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মূল বাণী, আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বৃহস্পতিবার, আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর ২০২তম জন্মবার্ষিকী (Dayanand Saraswati Birth Anniversary)। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। উনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী দার্শনিক এবং সনাতন ধর্মের প্রচারক হিসাবে সামাজিক এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Swami Dayanand Saraswati) মূল বাণী ছিল, ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’। এই আদর্শেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন। সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ঊনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী মাত্র ৫৯ বছর বয়সে ৩০ অক্টোবর ১৮৮৩ সালে প্রয়াত হন।

    জন্ম ও প্রথম জীবন

    স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Swami Dayanand Saraswati) জন্ম ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ দশমী তিথিতে হয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমান গুজরাটের কাঠিয়ার নামক স্থান ছিল তাঁর পৈতৃক বাসস্থান। বাল্যকালে তাঁর নাম ছিল শঙ্কর তেওয়ারি। কর্শানজি লালজি তিওয়ারি ছিলেন তাঁর পিতা এবং মাতার নাম ছিল যশোদাবাঈ। ১৮৪৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেন। সাংসারিক জীবনে আবদ্ধ না হওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই নেন। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী জীবনের পরবর্তী সময়কাল সত্যের সন্ধানে একজন সন্ন্যাসী হয়ে কাটান। এই সময়ে গুরু হিসাবে তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ব্রিজানন্দর। কথিত আছে, গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি সনাতন সমাজে বেদের আদর্শকে পুনঃস্থাপনের ব্রত নেন।

    সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক নানা সংস্কার আন্দোলন

    সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক নানা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (Swami Dayanand Saraswati)। এর মধ্যে ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্থাপন করেন আর্য সমাজ। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেদের প্রচার এবং ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনের সর্বাঙ্গীন বিকাশ। বেদের যুগে ফিরে যাওয়া ছাড়াও আর্য সমাজের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি শুদ্ধি আন্দোলনও শুরু করেছিলেন। যে সমস্ত হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হতেন, শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরায় তাঁদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হত।

    ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’

    বৈদিক সাহিত্যের প্রচার এবং বৈদিক শিক্ষার জন্য সারা জীবন প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছেন স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (Swami Dayanand Saraswati)। কারণ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ধর্মের আধ্যাত্মিকতা, শারীরিক, মানসিকভাবে যে কোনও হিন্দুর বিকাশ সম্ভব বেদকে অধ্যয়ন করে, বেদের অন্তর্নিহিত সত্যকে উপলব্ধি করে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্ঞানের বিকাশের জন্য বৈদিক সাহিত্য অপরিহার্য বলেই তিনি মনে করতেন। বৈদিক সাহিত্যের প্রচারের জন্য তিনি স্কুল এবং কলেজ স্থাপনও করতেন। দয়ানন্দ সরস্বতী ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন। পত্রিকার মাধ্যমে সামাজিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলতেন।

    বৈদিক শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের সমাজ এবং সভ্যতার পুনর্জাগরণ সম্ভব

    এছাড়াও স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (Swami Dayanand Saraswati) রচনা করেছিলেন বেদভাষ্য ভূমিকা এবং বেদভাষ্য। একইসঙ্গে আর্য পত্রিকাও তিনি সম্পাদনা করতেন বলে জানা যায়। যেখানে প্রতিফলিত হত, তাঁর চিন্তাধারা। তিনি মনে করতেন, স্বার্থপর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন পুরোহিতরাই হিন্দু ধর্মকে বিপথগামী করে তুলছে। হিন্দু সংস্কৃতিকে তিনি ভারতবর্ষের ভিত্তি মানতেন। এছাড়াও জানা যায়, যেকোনও ধরনের জাতিভেদ প্রথারও বিরোধী ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত সামাজিক ব্যধির বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলনও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। নারী স্বাধীনতা এবং সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির ক্ষমতায়নের পক্ষেও তিনি বারবার আওয়াজ তুলেছেন। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী মনে করতেন, বৈদিক শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের সমাজ এবং সভ্যতার পুনর্জাগরণ সম্ভব। এজন্য তিনি অসংখ্য গুরুকুল স্থাপন করেন। পুরুষ-নারীদের আলাদা আলাদা গুরুকূল তিনি স্থাপন করেছিলেন।

    তিনিই প্রথম স্বরাজ কথাটি ব্যবহার করেছিলেন

    এটা মনে করা হয় যে ভারতবর্ষের চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের বিকাশেও স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Swami Dayanand Saraswati) চিন্তাধারা যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব থেকে এ দেশকে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে দয়ানন্দ সরস্বতী সারা জীবন সচেষ্ট ছিলেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র এবং জাতির গঠন নিয়ে তিনি অনেক জায়গাতেই বক্তৃতা করেছেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্যও তিনি আওয়াজ তুলতেন। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি স্বরাজ কথাটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীকালে লোকমান্য তিলক যে ‘স্বরাজ’-এর কথা বলতেন, সেই ধারনা তিনি স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayanand Saraswati Birth Anniversary) কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।

  • BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন বিরোধী দলের নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে একেবারে ধুয়ে দিলেন বিজেপির (BJP) মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল (Rahul Gandhi) যাচাই না করেই অভিযোগ করেছেন এবং সংসদে অশোভন আচরণ করেছেন।

    রাহুলের বিষাক্ত মিথ্যা কথা (BJP)

    সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিবেদী অভিযোগ  করেন, রাহুল বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন। ত্রিবেদী বলেন, “বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী যেন বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ ঠিকঠাক ছিল না। লোকসভায় কংগ্রেসের আচরণ কলতলার ধারে দেখা আচরণের চেয়ে ভালো নয়। এ ধরনের আচরণ সংসদের পক্ষে অশোভন।” রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়কার সাম্প্রতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন ত্রিবেদী, যখন কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরে স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লোকসভায় না আসার অনুরোধ জানান, কারণ তিনি আগেই জেনেছিলেন, কংগ্রেস সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে গিয়ে “অভূতপূর্ব ঘটনা” ঘটাতে পারেন।

    মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার

    ত্রিবেদী বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন কিছু সদস্য ব্যানার হাতে ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন। এটি শাহিনবাগের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছিল।” অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও (BJP) বাজেট বিতর্কে কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কোনও অভিযোগ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। তাঁর নিয়ম বা প্রমাণীকরণের অর্থ সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। তাই তিনি যা খুশি বলে যান (Rahul Gandhi)।” তাঁর অভিযোগ, রাহুল তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর মনোযোগ দেননি, বরং অসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিষয় উত্থাপন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “তাঁদের (কংগ্রেস) ইতিহাস সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। তিনি বাজেট নিয়ে কথা বলেননি।”

    বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদা

    অধিবেশনের সময় সভাপতির আসন নিয়ে করা মন্তব্যের বিরোধিতা করে জোশী বলেন, “যখন কোনও সদস্য সভাপতির আসনে থাকেন, তখন তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। সভাপতির আসনে বসলে তিনি কোনও দলের নন। তাঁকে তাঁর আগের দলীয় পরিচয় উল্লেখ করে অপমান করা বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদাকে খাটো করে। রাজনৈতিক লাভের জন্য তিনি বাজেট ছাড়া সব বিষয়ে কথা বলেছেন (Rahul Gandhi)।” প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলি করা হয়। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর (BJP), স্পিকার অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন, ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী সাংসদদের জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নোটিশে ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর ঘটনার উল্লেখ চারবার করা হয়েছিল, যা নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের কারণ হতে পারত। তবে স্পিকার লোকসভার সচিবালয়কে নোটিশের ত্রুটি সংশোধন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বিরোধী দল অভিযোগ করে যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুলকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। রাহুল ২০২০ সালের চিন-ভারত সংঘাত প্রসঙ্গে জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র উল্লেখ করেন। স্পিকার তাঁকে অপ্রকাশিত সাহিত্য উদ্ধৃত না করার নির্দেশ দেন (Rahul Gandhi)। এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ করেন। প্রশ্ন করেন, তারা কি ভারত বিক্রি করতে লজ্জা পান না? তাঁর অভিযোগ, “ভারতমাতাকে কার্যত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে (BJP)।”

    রাহুলের অভিযোগ

    তিনি বলেন, “আপনারাই স্বীকার করছেন যে আমরা এক বৈশ্বিক ঝড়ের মুখোমুখি, একক পরাশক্তির যুগ শেষ, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, এবং জ্বালানি ও অর্থব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি ও আর্থিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে দিয়েছেন, যা আমাদের প্রভাবিত করছে। যখন আমেরিকা বলে আমরা কোনও নির্দিষ্ট দেশ থেকে তেল কিনতে পারব না, তখন এর মানে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বাইরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আপনি কি এতে লজ্জিত নন? আমি বলছি, আপনি ভারতের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন। আপনি কি লজ্জা পান না? যেন আপনি ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন (Rahul Gandhi)।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে রাহুল জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না যে প্রধানমন্ত্রী ভারত বিক্রি করবেন, তবে তাঁর ওপর যে বাহ্যিক চাপ রয়েছে তাও মনে করিয়ে দেন রাহুল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চোখে ভয়ের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন এবং “এপস্টাইন ফাইলস” তালাবদ্ধ থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে (Rahul Gandhi) ইঙ্গিত করেন, কিছু অপ্রকাশিত চাপ কাজ করছে (BJP)।

     

  • Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বাংলায় এখন ‘বোমের সংস্কৃতি’ চলে বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। জিএসটি নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বুধবার লোকসভায় বাংলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন নির্মলা। তুললেন দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের প্রসঙ্গও। একই সঙ্গে বাজেটে (Central Budget) কোনও রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়নি বলেও দাবি নির্মলার।

    বাংলায় বোমার সংস্কৃতি

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তীব্র আক্রমণ করলেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, অভিষেক তাঁর বক্তব্যে সাংসদদের ‘বেওকুফ’ বানিয়েছেন। রীতিমতো অঙ্গভঙ্গি করে নাটুকে টোনে অভিষেকের উদ্দেশ্যে কটাক্ষবাণ শানিয়ে নির্মলা বলেন, ‘হে ভগবান কেউ এত মিথ্যে কথা কী করে বলতে পারে!’ তুলোধনা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বোমা ফেটে মৃত্যুর ঘটনায় নির্মলার দাবি, বাংলায় আইন নয়, বোমা চলে। বাংলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্মলা। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে তুলে আনেন এনসিআরবি তথ্য। সেই তথ্য তুলে ধরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালীগঞ্জে বোম ফেটে একজন শিশু মারা গিয়েছে। একজন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। মেদিনীপুরে বোমা নিয়ে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। বাংলায় বোমা চলে, আইন নয়। এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী ক্রাইম রেটে ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে আছে বাংলা। এরা আমাদের কথা বলে!”

    নারী নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা

    আইনের শাসন চালাতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড ও নারীদের বিরুদ্ধে অগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যদি মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুর্গাপুরে ঘটে যাওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্মলা বলেন, “ওড়িশার একজন এমবিবিএস ছাত্রী দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পাবলিকলি বলেছেন, মহিলাদের রাতে বেরোনো ঠিক নয়। একজন সাংসদ বলেছেন, যদি বন্ধু ধর্ষণ করে তাহলে আমরা কী করতে পারি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ধর্ষণ রোধে আমরা আইন বানিয়েছি। রাজ্যপালকে পাঠিয়েছি। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজ্যের এই হাল, আইন দিয়ে সবকিছু হয়ে যাবে?”

    মৃত্যুর পরেও দিতে হয় কাটমানি

    গত মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026-27) নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু গোটা জীবনটাই কাটছে ট্যাক্সের ফাঁদে।’ বর্তমানে ধূপের উপরে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিতে হয়। সেই নিয়ে তাঁর কটাক্ষ ছিল, ‘মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ এ দিন জিএসটি প্রসঙ্গ তোলেননি নির্মলা। তবে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও জিএসটি, খুবই দুঃখের কথা। আসলে বাংলায় মৃত্যুর পরে কাটমানি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের দাম কেন ১০ টাকা বেশি? এভাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাংলা

    এদিন অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য প্রস্তাব দিলে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সহজ হবে, বিশেষ করে জুট, লেদার শিল্প ও রফতানিতে সুবিধা মিলবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে গতি আনবে এবং শিলিগুড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, চলতি বাজেটে ডানকুনির উল্লেখ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই।

    তৃণমূলের মিথ্যাচার

    বাজেটে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর গড়ার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ দাবি করেন, এটি একেবারেই পুরনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যা পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্মলা (Nirmala Sitharaman) বলেন, “আমরা ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরি করতে চাই। তাই এই বাজেটে ডানকুনির কথা বলা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ঘোষণা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লুধিয়ানা থেকে কলকাতা হয়ে ডানকুনি পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে কিছুই বেরিয়ে আসেনি। আমি যা ঘোষণা করেছি তা নতুন। তাই, সবকিছুতেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”

    ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ

    এদিন বক্তৃতায় সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সহায়তাসহ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কার্যকর মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪.৪ শতাংশ। এর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ। বাজেট আলোচনায় জিএসটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুধ, শিক্ষা, বই, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফিউনারেল এসেনশিয়ালে জিএসটি নেই। পাশাপাশি হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামেও শূন্য হার বজায় আছে। বিরোধীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় জোর, উদ্যোগপতিত্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেগা টেক্সটাইল পার্ক, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতিতে রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

  • Bangladesh Elections 2026: সাধারণ নির্বাচন চলছে বাংলাদেশে, কড়া নিরাপত্তার বলয়

    Bangladesh Elections 2026: সাধারণ নির্বাচন চলছে বাংলাদেশে, কড়া নিরাপত্তার বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশান্তরিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোটের ময়দানে নেই তাঁর দল আওয়ামি লিগও। এহেন আবহে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Elections 2026)। শেখ হাসিনার অপসারণের পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হওয়ার কথা। একজন প্রার্থীর অকাল মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Bangladesh Elections 2026)

    ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই সঙ্গে একটি জটিল ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোটের সঙ্গেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তা কর্মী। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। যেহেতু লড়াইয়ের ময়দানে নেই আওয়ামি লিগ, তাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি এবং তাদের প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে (Bangladesh Elections 2026)। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর আওয়ামি লিগকে বিলুপ্ত করে এবং তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    লড়াইয়ের ময়দানে যারা

    মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১,৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন নির্দল প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে ৮৩ জন মহিলা। নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউনূস রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ভোটের দিন সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিন ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধও করেন (Bangladesh Elections 2026)।

    রয়েছেন ৪৫টি দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষকরা

    তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি-সহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ জানান যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাঁজোয়া যান এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলির একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ঢাকার ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,৬১৪টি সংবেদনশীল। তবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঢাকা শহরে দুটি কেন্দ্রকে “ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নির্বাচনী নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো ড্রোন এবং শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের ভোটার প্রায় ৩.৫৮ শতাংশ। এই প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন (Bangladesh Elections 2026)।

     

  • Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন।” বুধবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।”

    ভূপেন্দ্রর নিশানায় মমতা (Mamata Banerjee)

    কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন। ২০ লাখ মানুষ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন, অথচ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এসআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে গিয়েছেন, কিন্তু ডিএর ক্ষেত্রে নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হেরে গিয়েছেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি নিজের কর্মচারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন।” তোষণমূলক রাজনীতির জন্যও মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    মন্ত্রী দাবি

    মন্ত্রীর দাবি (Mamata Banerjee), পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাই মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক খুন ও হিংসার ঘটনা এখানে সর্বাধিক। এখানে রাজনৈতিক তোষণও সর্বাধিক।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ অর্থ রাজ্য সরকার সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে চালু করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলায় তা করা হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বহু বিধান ছিল। অসম সরকার কমিটি গঠন করে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে।”

    এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব

    যাদব বলেন, “সুরাট–ডানকুনি ফ্রেট করিডর পরিবহন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর এবং দুর্গাপুরে উন্নয়ন সামগ্রিক লজিস্টিক দক্ষতা বাড়াবে।” তিনি জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্বল প্রশাসনের কারণে বাংলা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তালিকাভুক্ত ৬,৮০০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক একাই পশ্চিমবঙ্গকে (Mamata Banerjee) ১.১০ লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, তবুও তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল সরকার দুর্বল প্রশাসনের প্রতীক।

    মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি

    তিনি বলেন, “মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শংসাপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এবং কেন্দ্র নির্ধারিত ‘দিশা’ বৈঠকগুলি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।” মন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম-কিষানের মতো প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কম মূলধনী ব্যয়ে চলছে এবং আয় না বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এটি শুধু তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, বিদায়ী দলিল।” তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মহান বিজ্ঞানীদের ভূমি, তবুও বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়নি, কিন্তু মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা (Mamata Banerjee) বরাদ্দ করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে ৩ কোটি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। মন্ত্রী বলেন, “বস্ত্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের এই খাতে উন্নয়নের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই (Mamata Banerjee)।”

     

  • Netflix: “ঘুষখোর পণ্ডত”-এর নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আদালতে জানাল নেটফ্লিক্স

    Netflix: “ঘুষখোর পণ্ডত”-এর নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আদালতে জানাল নেটফ্লিক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত আসন্ন চলচ্চিত্র “ঘুষখোর পণ্ডত”-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে জানাল নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া। শিরোনামটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলচ্চিত্রটির মুক্তি স্থগিতের দাবিতে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানির সময় বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরবের বেঞ্চে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ছবির শিরোনামটি “অপমানজনক” এবং “মানহানিকর”।

    স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বিবৃতি (Netflix)

    স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতি নথিভুক্ত করে আদালত উল্লেখ করে যে প্রযোজক উত্থাপিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সচেতনভাবে ছবির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারপতি কৌরব তাঁর আদেশে বলেন, “উত্থাপিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রযোজক সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ‘ঘুষখোর পণ্ডত’ নামটি পরিবর্তন করে এমন একটি বিকল্প শিরোনাম রাখা হবে, যা ছবির কাহিনি ও উদ্দেশ্যকে আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত করবে।” নেটফ্লিক্সের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী আদালতকে জানান, ছবিটি একটি কাল্পনিক পুলিশ-ভিত্তিক নাটক এবং বর্তমানে সম্পাদনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “শিরোনাম ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা অনিচ্ছাকৃত বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, যা ছবির প্রকৃত বিষয়বস্তু বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” আদালতকে আরও জানানো হয় যে আগের শিরোনাম বহনকারী সমস্ত প্রচারসামগ্রী ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

    নাম পরিবর্তনের আশ্বাস

    নেটফ্লিক্স নাম পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়ায় দিল্লি হাইকোর্ট মামলাটি নিষ্পত্তি করে জানায়, এ বিষয়ে আর কোনও সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নীরজ পাণ্ডে। চলতি মাসের শুরুতে ছবিটির কথা ঘোষণা করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে। একাধিক ব্যবহারকারী শিরোনামটিকে জাতিগত বিদ্বেষমূলক ও অপমানজনক বলে আখ্যা দেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি অন্যায়ভাবে একটি ধর্মীয় পরিচয়কে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। “ঘুষখোর” শব্দের অর্থ ‘ঘুষ গ্রহণকারী’। সমালোচকদের মতে, এটি “পণ্ডত” (হিন্দু পুরোহিতদের সঙ্গে সম্পর্কিত) শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা অবমাননাকর।

    উত্তরপ্রদেশে ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনকারী মহেন্দ্র চতুর্বেদী, যিনি নিজেকে একজন ‘আচার্য’ হিসেবে পরিচয় দেন, দাবি করেন যে “পণ্ডত” শব্দটিকে ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণভাবে যুক্ত করা তাঁর সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। আবেদনে বলা হয়, এই শিরোনাম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি অবমাননা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার অধিকার মানহানিকর উপস্থাপনার পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। নেটফ্লিক্স শিরোনাম পরিবর্তনে রাজি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টে চলা আইনি চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটেছে।

     

  • T20 World Cup 2026: আমেদাবাদে জমজমাট ক্রিকেট! জোড়া সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার আফগানিস্তানের

    T20 World Cup 2026: আমেদাবাদে জমজমাট ক্রিকেট! জোড়া সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার আফগানিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাটকের পর নাটক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) জোড়া সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা (Afghanistan vs South Africa)। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল গুরবাজদের। আমেদাবাদের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। টান টান খেলায় শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান ১৮৭ রানে অল আউট হয়ে যায়। ফলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেটিও টাই হয়। ফলে দ্বিতীয় সুপার ওভার হয়। সেখানে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তীরে এসে তরী ডুবল আফগানিস্তানের।

    ভিত গড়ে দিয়েছিলেন গুরবাজ

    রান তাড়া করতে নেমে ৪২ বলে ৮৪ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন গুরবাজ। কিন্তু তা কাজে এল না। নাটকের শুরু আফগানিস্তানের ইনিংসের শেষ ওভারে। ৬ বলে দরকার ছিল ১১ রান। পড়ে গিয়েছিল ৯ উইকেট। প্রথম বলেই নুর আহমেদকে আউট করেন কাগিসো রাবাডা। গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা দল যখন জয়ের উল্লাস করছে, তখন আম্পায়ার হাতের ইশারায় দেখিয়ে দেন, নো বল করেছেন রাবাডা। ফলে জীবন পান নুর। ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন নুর। পরের বলে আরও দু’রান আসে। আরও একটি নো বল করেন রাবাডা। ফলে ৩ বলে দরকার ছিল ২ রান। চতুর্থ বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ফজলহক ফারুকি। দু’রান নেওয়া উচিত ছিল তাঁর। কিন্তু দৌড়োতে কিছুটা দেরি করেন তিনি। শেষমুহূর্তে ডাইভও দেননি। দু’বল বাকি থাকতে আফগানিস্তান আউট হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।

    হতাশ আফগানিস্তান

    আফগানিস্তানের হয়ে ব্যাট করতে নেমে আজমাতুল্লা ওমরজাই ভাল ব্যাট করেন। ৬ বলে ১৭ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ বলে দরকার ছিল ৭ রান। ফারুকির সেই বলে ছক্কা মেরে সুপার ওভার টাই করে দেন ট্রিস্টান স্টাবস। ফলে দ্বিতীয় সুপার ওভার হয়। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে ২৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মনে হচ্ছিল, আফগানিস্তান হেরে যাবে। কিন্তু তা-ও লড়াই ছাড়েননি গুরবাজ। চার বলে ২৪ রান করতে হত। তিন বলে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু শেষ বলে আউট হয়ে যান। কাছে এনেও দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি। হতাশ গুরবাজ। হতাশ আফগানিস্তানের ক্রিকেট অনুরাগীরা।

    বিশ্বকাপ অভিযান প্রশ্নের মুখে

    আফগানদের জন্য এটা ছিল ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। প্রোটিয়দের কাছে লড়াই করে হার মানল আফগানিস্তান। এর ফলে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান এখন প্রশ্নের মুখে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে পরের রাউন্ড কার্যত নিশ্চিত। এক কথায় বলতে গেলে এই ম্যাচ অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব! তবে আফগানিস্তানের জন্য ‘অপূর্ণ’। ক্রিকেট চরম অনিশ্চয়তার খেলা! একই সঙ্গে ক্রিকেট যে কতটা উত্তেজক হয়ে উঠতে পারে, তা ফের প্রমাণিত হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এই জয়ে শুধু দুই পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসও পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। চাপের মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে ম্যাচ টেনে নেওয়ার মানসিক শক্তি দেখাল তারা। আফগানিস্তান হেরে গেলেও লড়াইয়ে কোনও খামতি রাখেনি। সব মিলিয়ে আমেদাবাদের দুপুর অনুরাগীদের মনে থাকবে বহুদিন। ডবল সুপার ওভারের এমন নাটক বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল।

  • Pakistan: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের! ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা’, কবুল খোয়াজা আসিফের

    Pakistan: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের! ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা’, কবুল খোয়াজা আসিফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিলম্বিত বোধোদয় পাকিস্তানের (Pakistan)! শেষমেশ ধরে ফেলল আমেরিকার (US) ‘চাল’। এবং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তা স্বীকারও করে নিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন আমাদের কৌশলগত স্বার্থে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে এবং পরে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।”

    কী বললেন আসিফ? (Pakistan)

    পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, “১৯৯৯ সালের পর বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়েছে।” তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টা ছিল একটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত, যার পরিণতি পাকিস্তান (Pakistan) আজও বহু দশক পর বহন করে চলেছে।” দীর্ঘদিনের সরকারি বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসিফ দাবি করেন, “আফগানিস্তান সংঘাতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত হয়েছিল—এই বক্তব্য ঠিক নয়।” তিনি কবুল করেন, “জেহাদের ব্যানারে পাকিস্তানিদের সংগঠিত করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল।” এই সিদ্ধান্তকে তিনি বিভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক আখ্যা দেন।

    যুদ্ধকে বৈধতা দিতে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাও পুনর্গঠন

    আসিফ বলেন, “এমনকি এসব যুদ্ধকে বৈধতা দিতে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকেও পুনর্গঠন করা হয়েছিল এবং সেই মতাদর্শগত পরিবর্তনের অনেকাংশ আজও রয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, “আটের দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধ মূলত (Pakistan) আমেরিকার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, কোনও প্রকৃত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে নয়।” তাঁর মতে, সেই পরিস্থিতিতে ‘জেহাদ’ ঘোষণার কোনও যৌক্তিকতাও ছিল না। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, পাকিস্তানের নিজস্ব নয় এমন সংঘাতে অংশগ্রহণ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক ক্ষতির জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব (US) হয়নি। আসিফ বলেন, “বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ১৯৯৯-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় ঘনিষ্ঠতা স্থাপনের মূল্য ছিল ভয়াবহ।” তিনি প্রয়াত সামরিক শাসক জিয়াউল হক ও পারভেজ মুশারফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাঁরা পাকিস্তানকে বহিরাগত যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছিলেন, যার ফল দেশকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করতে হয়েছে, এমনকি মিত্ররা সরে যাওয়ার পরেও।

    টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপ!

    এর পরেই আসিফ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, “পাকিস্তানকে টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, প্রয়োজন ফুরোলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।” ২০০১ এর পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গে আশিফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ সমর্থন করতে পাকিস্তান (Pakistan) তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরে গেলেও, পাকিস্তান হিংসা, উগ্রবাদ ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে নিমজ্জিত অবস্থায় থেকে যায়।” তিনি বলেন, “আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, তার কোনও ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।” তিনি এসব সিদ্ধান্তকে অপরিবর্তনীয় ভুল হিসেবে (US) উল্লেখ করেন, যা পাকিস্তানকে অন্যদের পরিচালিত সংঘাতে একটি ‘ঘুঁটি’তে পরিণত করেছে (Pakistan)।

     

LinkedIn
Share