Tag: bangla news

bangla news

  • Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা (Bhojshala)-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরকে ‘মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর, শুক্রবার ভোজশালা চত্বরে ‘মহা আরতি’র (Maha Aarti) জন্য সমবেত হলেন শত শত হিন্দু পুণ্যার্থী। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে নিজেদের ঘরেই শুক্রবারের জুম্মার নমাজ আদায় করলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

    হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার পুজো করতো (Bhojshala)

    গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানায়, বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরটি আসলে  বাগদেবী সরস্বতীর একটি মন্দির। একই সঙ্গে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)-এর পুরনো একটি নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়, যার মাধ্যমে এতদিন মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার ওই চত্বরে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    হাইকোর্টের এই রায়ের আগে পর্যন্ত, বিগত বহু বছর ধরে হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার সেখানে পুজো (Maha Aarti) করার অনুমতি পেতেন এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার নমাজ আদায় করতেন। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাবর সম্পত্তির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিল।

    দুই দশকের মধ্যে প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ

    আদালতের রায়ের পর এটিই ছিল প্রথম শুক্রবার বা জুম্মার দিন। হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই দিনটিকে গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম বড় আকারের শুক্রবারের ধর্মাচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ‘ভোজ উৎসব সমিতি’ এবং ‘ভোজশালা (Bhojshala)  মুক্তি যজ্ঞ সমিতি’র উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চত্বরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন এবং ‘মহা আরতি’র আয়োজন করা হয়।

    ভোজশালা মুক্তি যজ্ঞ সমিতির আহ্বায়ক গোপাল শর্মা বলেন, “ধার এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদিন ধরে সমস্ত ধর্মীয় আচার ও পুজোয় (Maha Aarti) অংশ নিয়েছেন। গর্ভগৃহসহ চত্বরের বিভিন্ন অংশ ফুল ও আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল এবং দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।”

    মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ

    এদিকে, আদালতের এই ধাক্কার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন কামাল মৌলা মসজিদ অংশে যাননি। তার বদলে তাঁরা নিজেদের বাড়ির উঠোন ও ব্যক্তিগত চত্বরে কালো ব্যাজ পরে জুম্মার নমাজ পড়েন।

    স্থানীয় মুসলিম নেতা আব্দুল সামাদ বলেন, “আমরা হাইকোর্টের রায়কে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই কালো ব্যাজ পরে ঘরে নমাজ পড়ে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নথিভুক্ত করেছি।”

    তিনি আরও  জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভোজশালার (Bhojshala) আশেপাশে কিছু কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। তবে শহরের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু কর্মসূচি ও অনুমতি প্রশাসন বাতিল করায় তিনি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ধার

    পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে গোটা ধার জেলা (Bhojshala) জুড়ে প্রায় ২,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, গাড়ি তল্লাশি এবং মোবাইল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

    ধারের পুলিশ সুপার (SP) শচীন শর্মা বলেছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে এবং জেলার কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

  • Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) শনিবার কলকাতায় পৌঁছলেন। ভারত সফরের প্রথম দিনেই তাঁর কলকাতায় আগমনকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগামী চারদিনের এই সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা এই সফরকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোয়াড (Quad) জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর।

    ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব

    কলকাতায় কোনও মার্কিন বিদেশ সচিবের সফর শেষবার হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন শহরে এসেছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর ফের কলকাতায় সেই পর্যায়ের সফর হওয়ায় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) সামাজিক মাধ্যমে জানান, কলকাতা সফরের পরই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রুবিও। তিনি লেখেন, “বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগামী কয়েকদিনে আলোচনা ও অগ্রগতি হবে।”

    মাদার হাউস সফরের সম্ভাবনা

    কলকাতা দিয়ে চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন রুবিয়ো। তবে, শহরে তিনি কয়েক ঘণ্টাই কাটাবেন। মার্কিন বিদেশ দফতর রুবিওর ভারত সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সোজা গিয়েছেন তালতলার মাদার হাউসে। এটি হল মাদার টেরেসা (Mother Teresa) প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর। মাদার হাউস পরিদর্শনের পর তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি পরিচালিত কলকাতার একটি চিলড্রেনস হোমে যাবেন। সেখান থেকে দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিয়ো। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর ভারত সফর চলবে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগরা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    দিল্লিতে মোদি-রুবিও বৈঠক

    দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই জোর দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী ভূমিকাকে মাথায় রেখে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে দুই দেশই।

    জ্বালানি সহযোগিতায় বড় বার্তা

    ভারত সফরে রওনা হওয়ার আগে মায়ামিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, “ভারত যতটা জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।” তিনি জানান, বর্তমানে আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে এবং ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। স্ট্রেট অফ হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে “দারুণ অংশীদার” বলে উল্লেখ করেন।

    কোয়াড বৈঠকে নজর

    ২৬ মে নির্ধারিত কোয়াড বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির। এই বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুবিওর ভারত সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে শুরু হয়েছে পদ্ম-শাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে দিয়েছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ (TMC)। উন্নয়নের রথ এগোচ্ছে অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার মতো। চালকের আসনে বিজেপির তুর্কি নেতা, ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-শমীকের (শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি)টি২০ ধাঁচের খেলায় আক্ষরিক অর্থেই ছক্কা (Municipal Poll) হাঁকানোয় ভোট-ময়দানে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। এক সময় যে দল ৩৪ বছরের বাম-শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল, পদ্ম-ঝড়ে সেই ঘাসফুলই হেরে ভূত।

    বিজেপির পাখির চোখ (TMC)

    রাজ্যের কুর্সি দখলের পর এবার বিজেপির পাখির চোখ কলকাতা পুরসভার মসনদ। যে চেয়ারে বর্তমানে বসে রয়েছেন সদ্য-মন্ত্রিত্ব খোয়ানো ফিরহাদ হাকিম, সেই কুর্সিই যে টলোমলো, তা বিলক্ষ্মণ বুঝতে পারছেন তৃণমূলের এই সংখ্যালঘু ‘মুখ’। তবে তিনি না বুঝলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে রাজ্যবাসীর মতো কলকাতার বাসিন্দারাও চান, চেয়ার ছেড়ে এবার মানে মানে কেটে পড়ুন হাকিম মশাই। যে হাকিমকে একই সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার চেয়ারে বসিয়ে বছরের পর বছর বিরোধীদের মাত দিয়ে যাচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল, সেখানে যে তলে তলে ঘোঘের বাসা হয়ে গিয়েছে, তা আদৌ টের পাননি হাকিম মশাই কিংবা তাঁর নেত্রী। যখন বুঝলেন, তখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে! ঘাসফুল উপড়ে ফেলে রাজ্যের বাগানে পদ্ম ফুটিয়ে ছেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। এঁদেরই একটা অংশ বাস করেন কলকাতায়। রাজ্যের রাজধানীর সেই বাসিন্দারাই চাইছেন, ‘অনেক হয়েছে আর নয়…’।

    দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতা পুরসভার দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তার পরেই খাতা-পেন্সিল নিয়ে আঁক কষতে বসে গিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। তাতেই রাজ্যের শাসক দল যেখানে ‘পৌষমাসে’র আগমনী-বার্তা শুনতে পাচ্ছেন, সেখানে বিরোধীরা দেখতে পাচ্ছেন ‘সর্বনাশে’র কালো ছায়া। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১০২টি আসনে, আর তৃণমূল মাত্র ৪২টিতে। যার নির্যাস, কলকাতার এই ছোট লালবাড়ির তখতে বিজেপির বসাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪টি। এগুলি রয়েছে রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। এই বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে ১০টিতে জিতেছে বিজেপি, ঘাসফুল আঁকা ঝুলিতে গিয়েছে ৭টি আসন।

    বেহাল দশা তৃণমূলের

    এবার যে রেজাল্ট বেরিয়েছে, তাতে (TMC) চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর-টালিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলা, বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা। উত্তর কলকাতার চৌরঙ্গী, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, এন্টালি-এই সাতটি বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৪০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল মাত্রই ২০টিতে। দক্ষিণ কলকাতার চারটি আসন-রাসবিহারী,বালিগঞ্জ,কলকাতা বন্দর এবং ভবানীপুরেও লেজেগোবরে দশা ‘বুয়া-ভাতিজা’র দলের। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল ১২টিতে। যাদবপুর-টলিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা- যাদবপুর, টালিগঞ্জ এবং কসবা এই তিন জায়গায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২২টি ওয়ার্ডে। করুণ দশা তৃণমূলের। তারা এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৩টি আসনে। বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র- বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং মেটিয়াবুরুজের ২০টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল মাত্র ৭টিতে।

    ভবানীপুরেও প্রত্যাখ্যাত মমতার দল!

    কলকাতার মধ্যে শ্যামপুকুর,বেহালা পশ্চিম, মানিকতলা এবং যাদবপুরের মতো বিধানসভাও রয়েছে (TMC)। এগুলির অধীনে থাকা কোনও ওয়ার্ডেই তৃণমূল এগিয়ে নেই। বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-মমতা দ্বৈরথের ফল জানতে অধীর আগ্রহে বসেছিলেন তামাম ভারতবাসী। কারণ, এই কেন্দ্রে মূল লড়াইটা ছিল বিজেপি বনাম তৃণমূলের নয়, বরং ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো এবং তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২ হাজার ভোটের লিড পেলেও, বাকি ৭টি ওয়ার্ড মমতাকে প্রত্যাখ্যান করে এগিয়ে দিয়েছে শুভেন্দুকে (Municipal Poll)। মমতা যে যে এলাকায় আবাসনে গিয়ে জনসংযোগ করেছেন, সেই সবক’টি ওয়ার্ডেই ৪-৫ হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। খোদ হাকিম মশাইও বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিলেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার, এবং বেলগাছিয়ার মতো এলাকার সিংহভাগ ভোটার তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্পের কথা ভাবেননি। তাই ওই ওয়ার্ডগুলিতে লিড পেয়েছে মমতার দল।

    তৃণমূলের কাঁদুনি!

    পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার যেসব ওয়ার্ডে হাজার হাজার ভোটে তৃণমূল লিড পেত, এবার সেই সব ওয়ার্ডেই ৩ থেকে ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন মেয়র পারিষদ এবং বরো চেয়ারম্যানরা। কলকাতা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, “মানুষ পরিষেবা নিয়েছেন, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় মাথায় রেখেছেন অন্য সমীকরণ। সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভির প্রচারের ঝড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে এলাকার উন্নয়ন।’ কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর তথা বরাহনগর কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির সজল ঘোষ বলেন, “পুর পরিষেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এরপর ভোট হলে মানুষ আমাদেরই সমর্থন করবেন (TMC)।”

    কী বলছেন হাকিম মশাই?

    পরিসংখ্যানের হিসেব-নিকেশ শুনে দৃশ্যতই হতাশ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যদিও পাঁচ বছরের কাজের ভিত্তিতে ফের পুরসভায় আসতে পারবেন কি না, প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এটা নিয়ে এখনও বিশ্লেষণ করিনি। পরে জানাব।” বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “আগামী যে সময় আসছে গোটা বাংলা গেরুয়াময় হবে। ভারত আগেই হয়ে গিয়েছে। বাংলাও হবে (Municipal Poll)।”

    ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনেও বিপুল জনাদেশ পেয়ে বোর্ড গড়বে পদ্ম-শিবির। অন্তত এমনই আশা বিজেপির। দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “এই ফল আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে আমাদের অবশ্যই বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষ আস্থা রেখেছেন পদ্ম প্রতীকে (TMC)।’

     

  • Daily Horoscope 23 May 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 23 May 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বন্ধুদের সহযোগিতা পাবেন।

    ২) দাম্পত্য জীবন সুখে কাটবে।

    ৩) জীবনসঙ্গীর পূর্ণ সহযোগিতা লাভ করবেন।

    বৃষ

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) কাঙ্খিত ফল লাভের ইচ্ছা পূরণ হবে।

    ৩) সন্ধ্যাবেলা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

    মিথুন

    ১) পরিবারের ছোট সদস্য বা বাচ্চারা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

    ২) বদহজমের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

    ৩) পরিবারে সমস্ত জটিলতার অবসান ঘটবে।

    কর্কট

    ১) পারিবারিক জীবনে সমস্যা হতে পারে।

    ২) তাড়াহুড়োয় কোনও কাজ করলে তা ভেস্তে যেতে পারে।

    ৩) সন্ধ্যা নাগাদ ধর্মীয় কাজে রুচি বাড়বে।

    সিংহ

    ১) আপনার কাজের বিরোধিতা হবে।

    ২) শত্রুদের থেকে সাবধান।

    ৩) পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

    কন্যা

    ১) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে।

    ২) সন্ধ্যাবেলা পরিবারের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

    ৩) মানসিক অবসাদ কমবে।

    তুলা

    ১) মনের মধ্যে আনন্দ অনুভূতি থাকবে।

    ২) চাকরিজীবী জাতকরা রোজগারের নতুন সুযোগ পাবেন।

    ৩) কাউকে টাকা ধার দেবেন না, কারণ সেই টাকা ফিরে পাবেন না।

    বৃশ্চিক

    ১) পরিবারে কোনও শুভ অনুষ্ঠান হতে পারে।

    ২) বাড়িতে অতিথি আগমন হবে।

    ৩) সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন আজ।

    ধনু

    ১) ধর্মীয় কাজে রুচি বাড়বে।

    ২) অধিক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে আজ।

    ৩) চোখে সমস্যা হতে পারে।

    মকর

    ১) বাণী নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    ২) দাম্পত্য সুখ বৃদ্ধি হবে।

    ৩) ব্যবসায়ে উন্নতি হবে।

    কুম্ভ

    ১) প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    ২) ব্যবসায়ীদের অর্থাভাবের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) সাবধানে গাড়ি চালান।

    মীন

    ১) অধিক পরিশ্রম করতে হবে আজ।

    ২) ব্যবসার জন্য দিনটি ভালো নয়।

    ৩) সবার সাহায্য নিয়ে এগিয়ে যাবেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের (West Bardhaman Industrial Growth) বিরাট রোড ম্যাপ করতে চলেছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের এই দলগত অনুপস্থিতিকে ‘গণতান্ত্রিক সৌজন্যের অবমাননা’ এবং ‘উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা’ বলে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না (Suvendu Adhikari)

    এদিন শিল্পাঞ্চল নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “দুর্গাপুরের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পরে যে কোনও সময় নির্বাচন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বা রাজ্য সরকার সাহায্য করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পঞ্চায়েত, পুরসভা বন্ধ থাকার জন্য সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিস অধিকার করে রাখার অধিকার কোনও ব্যক্তি বা কোনও দলের নেই। তাই আমরা বলে দিয়েছি পঞ্চায়েতের সচিব গোটা বিষয়টা দেখবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে কীভাবে এখানে শিল্পে জোয়ার আনতে পারি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারি, এটাও আছে। তবে, আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না, বলবও না।”

    প্রশাসনিক বৈঠক বয়কট ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ (Suvendu Adhikari)

    শিল্পাঞ্চলের (West Bardhaman Industrial Growth) সামগ্রিক পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলার পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দুর্গাপুরের এই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রোটোকল বা প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এলাকার সমস্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা সজ্ঞানে এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন।

    এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠক কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কর্মসূচি নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে জনগণের স্বার্থে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করার মঞ্চ। সেখানে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা বজায় রেখে বৈঠক বয়কট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ সরকারের দরবারে তুলে ধরার জন্য; কিন্তু দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা করার মানসিকতা বর্তমান বিরোধী শিবিরের নেই।”

    জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “কোনও পক্ষের অসহযোগিতার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন থমকে থাকবে না। জনপ্রতিনিধিরা না এলেও জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আইন অমান্যকারী বা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে, সেই বার্তাও এই বৈঠক থেকে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের এই প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জেলা স্তরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল।”

    তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি ও অভিযোগ

    অন্য দিকে, বৈঠক বয়কটের বিষয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কদের তরফ থেকেও পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের যথোপযুক্ত সম্মান দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসনিক বৈঠকগুলিকে আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ধরণের প্রশাসনিক বৈঠকের নামে আসলে বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোণঠাসা করার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার একটি অলিখিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই সদ্বিচ্ছার অভাব দেখে এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই তাঁরা এই বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এলাকার মানুষের পাশে তাঁরা সর্বদা আছেন, তবে সরকারি অনুষ্ঠানের মোড়কে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে তাঁরা মান্যতা দেবেন না।

    শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুরের মতো (West Bardhaman Industrial Growth) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে এই ধরনের রাজনৈতিক রেষারেষি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। এই বৈঠকে এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, কলকারখানার আধুনিকীকরণ, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অনুপস্থিতির কারণে স্থানভিত্তিক অনেক সমস্যা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সামনে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

  • Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Modi-Suvendu Meeting)। মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। শুক্রবার দিনভর দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। বিকেলের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেন তিনি। তাতে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়াও মোদির হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আগামী দিনে রাজ্যের অগ্রগতির রূপরেখা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বাংলায় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

    ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এ পশ্চিমবঙ্গ

    মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পরে শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সেবা করার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং সর্বোপরি, আমাদের রাজ্যের অগ্রগতির প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনার সময়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ) এই রূপকল্পের উপর পুনরায় জোর দেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বছরের পর বছর ধরে চলা স্থবিরতা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে উদ্ধার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং যুব ক্ষমতায়নের দ্রুত পথে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য, নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় সমর্থনের আশ্বাস দেওয়ায় আমি তাঁর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। কেন্দ্রের আশীর্বাদ এবং জনগণের আস্থায়, আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য দ্বৈত-ইঞ্জিন প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছ শাসন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করতে প্রস্তুত’।

    রাজনাথের প্রশংসা

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম বার নয়াদিল্লি গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ১০টা নাগাদ রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। দেখা করেন উপরাষ্ট্রপতি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গেও। দেখা করেন সুনীল বনশালের সঙ্গেও। শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজনাথ সিং লেখেন, “বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন ব্যক্তি তিনি। শুভেন্দু বাংলাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেই আমি আত্মবিশ্বাসী।” শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

    রীতি মেনে মোদি-শুভেন্দু সাক্ষাত

    গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। তার পরে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন মোদি। তিনি দেশে ফেরার পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, বিজেপির রীতি অনুযায়ী, দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নিজের রাজ্যের দাবিদাওয়া তাঁর কাছে তুলে ধরেন। মনে করা হচ্ছে, সেই রীতি মেনেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি শাসিত সরকারকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের গতিপথ কোন দিশায় এগোবে, সে বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ পরামর্শ দেন মোদি।

    বাংলার উন্নতিতে ডবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শুভেন্দুর সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনী প্রচারে এসে মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার কী কী কাজ করেছে এখনও পর্যন্ত তাঁর হিসেবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের আয়ের বড় অংশই ঋণের সুদ ও কিস্তি শোধে ব্যয় হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পরবর্তী ভাবনা এবং সে ক্ষেত্রে রাজ্যের আশু কর্তব্য কী হতে পারে, তা-ও এই আলোচনায় উঠে এসেছে, বলে খবর। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প স্থাপন-সহ অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আগামী দিনে কীভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে, তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে সদর্থক আলোচনা হয়।

  • Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন (Sanjay Vatsayan)। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৪৫টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পাশাপাশি আগামীদিনে আরও ১৯৫টি অতিরিক্ত জাহাজ নির্মাণ ও অধিগ্রহণের অনুমোদনও মিলেছে। এর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১৭৫ থেকে ২০০-তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি, কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers)-এর কারখানায় ভারতের প্রথম নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (NGOPV) ‘সঙ্ঘমিত্রা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চিফ অফ নেভাল স্টাফ বা নৌসেনা উপপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাটসায়ন। সেখানেই তিনি নৌবাহিনীর এই বৃহৎ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

    চলতি বছর ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন

    বর্তমানে দেশের ছয়টি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মোট ৫৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। শুধু চলতি বছরেই ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক বছরে সর্বাধিক সংযোজন। ২০২৭ সালেও আরও ১৩টি জাহাজ সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার ৭৪টি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫টি সারফেস শিপ এবং ৯টি সাবমেরিন। ভারতের এই সমগ্র নৌ-আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৯৯,৫০০ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ দেশেই তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। রাশিয়া থেকে নির্মিত শেষ বিদেশি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তমাল (INS Tamal) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কমিশন হওয়ার পর বিদেশ নির্ভরতা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

    প্রতি ৪০ দিনে একটি নতুন জাহাজ কমিশন

    নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নীলগিরি শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট, ১১ হাজার টন ওজনের নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ভেসেল এবং আধুনিক প্যাট্রোল জাহাজ। বর্তমানে গড়ে প্রতি ৪০ দিনে একটি করে নতুন জাহাজ কমিশন করছে ভারতীয় নৌবাহিনী, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনী এখন শুধু যুদ্ধ প্রস্তুত বাহিনী নয়, বরং সমুদ্র নিরাপত্তা, কৌশলগত উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর কথায়, “এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল প্রকল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

    কোথায় উপযোগী এনজিওপিভি?

    জিআরএসই-র উদ্বোধন করা ‘সঙ্ঘমিত্রা’ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মীয়মাণ চারটি এনজিওপিভি-র মধ্যে প্রথম জাহাজ। নৌবাহিনীর দাবি, এই এনজিওপিভিগুলি প্রচলিত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক। প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার প্রশস্ত এই জাহাজের ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন। ১৪ নট গতিতে চললে এর অপারেশনাল রেঞ্জ ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩ নট। মাত্র চার মিটার ড্রাফটের (জলের নিচে থাকা অংশ) কারণে উপকূলীয় অগভীর জলেও এই জাহাজ সহজে মোতায়েন করা যাবে।

    কেন কার্যকরী হবে এনজিওপিভি?

    অফশোর সম্পদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি, মাইন ওয়ারফেয়ার, ভিজিট-বোর্ড-সার্চ-সিজার (VBSS) অপারেশন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে ভাইস চিফ গার্ডেনরিচের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, গত আর্থিক বছরে সংস্থাটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে মোট আটটি জাহাজ তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তিকে মোকাবিলা করতেই ভারত এই বৃহৎ নৌ সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৪৩৫-এ পৌঁছে যাবে।

  • Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার (BJP Government)। এই পরিষেবাকে মসৃণ করতে এবং কলকাতার পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়াতে তৎপর হয়েছে পরিবহন দফতর। তবে বিগত সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানাবিধ কারণে বহু সরকারি বাস বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাস কীভাবে দ্রুত রাস্তায় নামানো যায়, তা নিয়ে পরিবহন দফতরের ময়দান তাঁবুতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) এবং দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিখরচায় এই যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্তাবলি ও নির্দেশিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে এই বৈঠকে।

    বিনামূল্যে সফরের প্রাথমিক শর্তাবলি (Free Bus Service)

    বৈঠক সূত্রে খবর, এই সুবিধার মূল শর্ত (Free Bus Service) হল— সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ভিড়ের মধ্যে কন্ডাক্টররা কীভাবে তা যাচাই করবেন, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:

    • ● কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত (BJP Government) যে কোনও একটি বৈধ পরিচয়পত্র (মোট ১১টি বিকল্পের মধ্যে) যাত্রীদের সঙ্গে রাখতে হবে।
    • ● বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন।
    • ● যাচাইকরণের পর, কন্ডাক্টর তাঁর টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য একটি ‘শূন্য মূল্যের’ কুপন বা টিকিট ইস্যু করবেন।
    • ● প্রতি মাসে ইস্যু করা এই টিকিটের সমপরিমাণ অর্থ রাজ্য সরকার গড় হিসেব অনুযায়ী পরিবহন নিগমকে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।

    ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড

    পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাসে যে জটিলতা বা জাল নথির সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা (BJP Government)। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিবহন দফতর আগামীদিনে রাজ্যবাসী মহিলাদের জন্য কিউআর (QR) কোড সমৃদ্ধ বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড চালু (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসডিও (SDO) বা বিডিও (BDO) অফিসের মাধ্যমে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। বাসে এই বিশেষ কার্ড দেখালেই সরাসরি কুপন মিলবে, অন্য কোনো নথি দেখানোর প্রয়োজন হবে না।

    স্মার্ট কার্ডের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি:

    আবেদনকারীকে সাম্প্রতিক রঙিন ছবির সঙ্গে নিচের যেকোনও একটি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে:

    • ● ভোটার আইডি (EPIC)
    • ● আধার কার্ড
    • ● ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড
    • ● আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
    • ● ড্রাইভিং লাইসেন্স
    • ● প্যান কার্ড
    • ● পাসপোর্ট
    • ● ছবিসহ পেনশনের নথি
    • ● স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পরিচয়পত্র
    • ● রাজ্য সরকার অনুমোদিত অন্য যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র

    পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

    বিজেপি সরকারের পরিবহন দফতর (BJP Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, কোটি কোটি মহিলার জন্য স্মার্ট কার্ড (Free Bus Service) তৈরি ও তা বণ্টন করা সময়সাপেক্ষ। তাই কার্ড বিলি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক নিয়ম (পরিচয়পত্র দেখানো) অনুসারেই যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে থাকা অচল বাসগুলির দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করে ধাপে ধাপে রাস্তায় নামানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নতুন সরকারি বাস কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করছে পরিবহন দফতর।

  • Punjab: জাতীয় সড়কে সিসিটিভি বসিয়ে সেনার গতিবিধির তথ্য পাকিস্তানে পাচার! পঞ্জাবে ধৃত ১

    Punjab: জাতীয় সড়কে সিসিটিভি বসিয়ে সেনার গতিবিধির তথ্য পাকিস্তানে পাচার! পঞ্জাবে ধৃত ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড়সড় সাফল্য পেল পঞ্জাব পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পঞ্জাবের (Punjab) ফিরোজপুর সেক্টরে ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে জাতীয় সড়কের ওপর সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন গতিবিধির তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের (Pakistani Handlers) কাছে পাচার করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তির নাম বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু।

    আইএসআই যোগের সন্দেহ (Punjab)

    তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, ধৃত বলজিৎ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (Pakistani Handlers)  আইএসআই (ISI) বা সীমান্তপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ফিরোজপুর (Punjab) সীমান্তে ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) গাড়ি ও জওয়ানদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতেই কৌশলগতভাবে ওই হাইওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরাটি বসানো হয়েছিল। ক্যামেরার লাইভ ফিড বা সরাসরি সম্প্রচার সোজা পৌঁছে যাচ্ছিল পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে। বিনিময়ে ওই ব্যক্তি মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

    গোপন সূত্রে অভিযান

    গোয়েন্দা সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়ার পর, পঞ্জাব পুলিশের (Punjab) একটি বিশেষ দল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে ফিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টুকে। তার কাছ থেকে এই তথ্য পাচারের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং সিসিটিভি সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত (Pakistani Handlers) করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (Official Secrets Act)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    সীমান্তবর্তী এলাকায় (Punjab) সেনাবাহিনীর গতিবিধির লাইভ ফুটেজ ও সিসিটিভি ফিড যেভাবে সীমান্তের ওপারে পাচার (Pakistani Handlers)  করা হচ্ছিল, তা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং সুখদেবকে স্থানীয় স্তরে কেউ সাহায্য করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

  • High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের আগে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র , তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান-সহ একাধিক আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের আবশ্যিক ধর্মীয় প্রথা নয়।” সেই সঙ্গে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি

    গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষ জবাই করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া “অযোগ্যতার শংসাপত্র” প্রয়োজন হবে এবং শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে। বলা হয়েছে, যে বা যিনি ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুপত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাবাস বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, অথবা উভয় সাজাই দেওয়া হতে পারে।

    কারা কারা আদালতের দ্বারস্থ হন

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ‘রামকৃষ্ণ পাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও একাধিক আবেদন। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রতিনিধিরা, গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং অন্যান্যরা। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। তাঁদের বক্তব্য, ইদ-উল-আজহায় কোরবানির জন্য বড় পশু জবাই বহু মুসলিম পরিবারের কাছে অর্থনৈতিকভাবে জরুরি, কারণ উৎসবের আগে ছাগল ও ভেড়ার দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী শাদান ফারাসত আদালতে যুক্তি দেন, ইসলামে কোরবানির জন্য সুস্থ পশু বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে, অসুস্থ বা অক্ষম পশু নয়। তাই ইদ-উল-আজহার ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

    রিভিউ না চেয়ে কেন বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ?

    পাল্টা রাজ্যের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজ্য সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশ্ন, ‘কেউ হাইকোর্টের সেই মূল নির্দেশের রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা চায়নি, সবাই শুধু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি রাজ্যের একটি ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা জনস্বার্থ মামলায় এ ভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।’ কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিজ্ঞপ্তি হুট করে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছরই নিয়ম মেনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। তারা আরও জানিয়েছে, আইন ভাঙার দায়ে ইতিমধ্যেই ৬১০টি ঘটনায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিকাঠামোর অভাবের কথাও মানতে চায়নি কলকাতা পুরসভা। তারা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব চিহ্নিত কসাইখানা, পরিকাঠামো এবং কর্মী-চিকিৎসক রয়েছে।

    “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়

    আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে যে ইদ-উল-আজহায় গরু কোরবানি “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়। সেই কারণে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করার কোনও ভিত্তি নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৮ সালের একটি মামলায় হাইকোর্টের সমন্বয় বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, বর্তমান বিজ্ঞপ্তি মূলত তারই বাস্তবায়ন। হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার যেন বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত দুটি নতুন শর্ত যোগ করে—
    ১) খোলা বা জনসমক্ষে কোনও পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
    ২) ইদ-উল-আজহার সঙ্গে গরু কোরবানি ধর্মীয়ভাবে আবশ্যিক নয়— এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    পশু হত্যার অনুমতি মিলবে কী করে?

    পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাঁদের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন। যদি তাঁরা উভয়েই নিশ্চিত হন ও লিখিতভাবে মত প্রকাশ করেন যে পশুটি ১৪ বছরের বেশি বয়স্ক ও কাজ বা প্রজননের পক্ষে অনুপযুক্ত তখন তাঁরা শংসাপত্র দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে যদি এই শংসাপত্র দিতে কেউ অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত শংসাপত্র না পাওয়ার ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।

    ছাড় দেওয়া যায় কিনা, বিবেচনা করুক সরকার

    বকরি ইদে ‘ধর্মীয় কারণে’ গো বলিতে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বকরি ইদকে সামনে রেখে কসাইখানা চালানো ও গো বলি নিয়ে দায়ের ১১ মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিই বজায় রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খারিজ করেছে মামলাকারীদের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, যেহেতু ১৯৫০ সালের এই সংক্রান্ত আইনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কারণে পশু বলিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে ধর্মাীয় কারণে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করুক সরকার। অর্থাৎ, এই বিষয়ে বল এখন রাজ্যের কোর্টেই। রাজ্যকে শংসাপত্র ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা চলবে, কিন্তু আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, বিহার রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা। শীর্ষ আদালত বলেছিল, গরু জবাই ইদ-উজ-জোহার অংশ নয়, ইসলামে তা ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তাও নয়।

LinkedIn
Share