Tag: bangla news

bangla news

  • Supreme Court: জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয় রাজ্য সরকারের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া উচিত নয় রাজ্য সরকারের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেওয়া নিজেদের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ও সরকারি বা সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানের আশপাশ থেকে পথকুকুর সরাতে হবে। বিভিন্ন আবেদন সত্ত্বেও আদালত এই রায়ে কোনও শিথিলতা বা পরিবর্তন আনতে অস্বীকার করে। আদালত আরও জানায়, রাজ্য সরকারের উচিত (Euthanasia) নয় জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও আরোগ্যহীন পথকুকুরদের মৃত্যু দিতেও পিছপা হওয়া।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (Supreme Court)

    বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, লোকালয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষদের যে বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা বিচারব্যবস্থা উপেক্ষা করতে পারে না। আদালতের মন্তব্যে “যোগ্যতমের বেঁচে থাকা” (Survival of the Fittest) তত্ত্বের উল্লেখ করে বলা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানবজীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো জলাতঙ্কগ্রস্ত, আরোগ্যহীন বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কুকুরদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন হলে মৃত্যুও দিতে হবে।

    আদালতের বক্তব্য

    আদালত জানায়, ছোট শিশুদের কুকুরে কামড়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের ওপর হামলা হয়েছে, এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও আক্রান্ত হয়েছেন। মনে হচ্ছে চার্লস ডারউইনের “যোগ্যতমের বেঁচে থাকা” তত্ত্ব বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে। সরকারি পদক্ষেপের অভাবে শিশু ও বয়স্কদের নিজেদের বাঁচার লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া যায় না। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব (Supreme Court)।

    ডগ বাইটের পরিসংখ্যান

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে পথকুকুরে কামড়ানোর ঘটনা বাড়ছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে তিন মাসে ১,৪৮৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, উদয়পুরে ২০২৬ সালে ১,৭০০-র বেশি ঘটনা ঘটেছে। তামিলনাড়ুতে এ বছর ২,৪০,০০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসেই ঘটে ছিল ৭১,০০০টি ঘটনা এবং ৩৪ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এই সমস্যা এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায়ও পৌঁছে গিয়েছে, যেমন ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যেখানে টার্মিনাল এবং রানওয়েতেও পথকুকুর দেখা গিয়েছে। এটি জননিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার প্রমাণ।

    শীর্ষ আদালতের সাফ কথা

    রাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আদালতও এই কঠোর বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না, যেখানে শিশু, আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং প্রবীণ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। সংবিধান এমন সমাজ কল্পনা করে না, যেখানে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের কেবল শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হবে। এছাড়া, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পশুচিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধি, আশ্রয়কেন্দ্র শক্তিশালী করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সমন্বয়ে টিকাকরণ অভিযান-সহ বিস্তৃত সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপও করতে হবে। আদালতের নির্দেশ (Euthanasia) বাস্তবায়নের জন্য সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও আধিকারিক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফআইআর বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না (Supreme Court)।

     

  • Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের রাজধানী অসলোয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং বৈচিত্র্যের পক্ষে সওয়াল করল (Sibi George) বিদেশমন্ত্রক (MEA)।   সোমবার এই আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময়। এই সময় সে দেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় ভারতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে (Norway Journalist Row)। অসলোয় বিদেশমন্ত্রকের সেক্রেটারি (ওয়েস্ট) সিবি জর্জ নরওয়ের সাংবাদিকের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নরওয়ের এক সাংবাদিক বারবার ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, “আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করব?”

    কী বললেন জর্জ (Sibi George)?

    এর জবাবে জর্জ বলেন, “আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা জনগণের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। আমাদের দেশে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালেই আমরা নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এবং তাঁরাও সেই স্বাধীনতা পেয়েছেন।” তিনি এও বলেন, “অনেক দেশে নারীদের ভোটাধিকার ভারতের বহু দশক পরে এসেছে। কারণ আমরা সমতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কী? সরকার পরিবর্তনের অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার। আর সেটাই ভারতে হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত।” প্রশ্নোত্তর-পর্বে ওই সাংবাদিক বারবার বাধা দিলে জর্জ দৃঢ়ভাবে বলেন,
    “দয়া করে আমায় উত্তর দিতে দিন, বাধা দেবেন না। আপনি প্রশ্ন করেছেন—এটি আমার প্রেস কনফারেন্স। আপনি জানতে চেয়েছেন কেন একটি দেশ ভারতের ওপর ভরসা করবে, আমায় সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিন।”

    ভারতে রয়েছে আইনের শাসন

    ভারতের বহু ভাষাভিত্তিক এবং প্রাণবন্ত সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে জর্জ (Sibi George) বলেন, “আপনারা জানেন প্রতিদিন কত খবর প্রকাশিত হয়? শুধুমাত্র দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে—ইংরেজি, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায়। মানুষ ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে বোঝেন না।” তিনি বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ, যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সবসময় নিয়ম মেনে চলেছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করি। এটাই ভারতের সুনাম।”

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্য

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কার্যকলাপ এবং গণিত, সংস্কৃতি ও বিশ্ব ঐতিহ্যে ভারতের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন জর্জ। তিনি (Sibi George) বলেন, “চারদিকে তাকালেই আপনি ভারতের সংযোগ দেখতে পাবেন। আপনার ফোনে যে সংখ্যা ব্যবহার করেন, তার উৎপত্তিও ভারতে। ‘শূন্যে’র উৎপত্তিও ভারতে। দাবার উৎপত্তি ভারতে। এই সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্বিত (Norway Journalist Row)। আজ বিশ্ব যে যোগব্যায়ামকে সম্মান করে, তারও জন্ম ভারতে। ভারতের মহাকাব্য ও প্রাচীন গ্রন্থ রয়েছে।”

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরসভার নজরে, ২১টি বাড়ির নকশা তলব করে নোটিস, অবৈধ নির্মাণ থাকলেই ভাঙা হবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্থাবর সম্পত্তি এবার কলকাতা পুরনিগমের (KMC) আইনগত নজরদারির আওতায় এসেছে। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির (21 Properties Plans) অনুমোদিত নকশা বা ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। মূল নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ থাকলে নিজেথেকেই ভাঙতে হবে, নয়তো প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনসমক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির একটি খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন। তার পরপরই কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

    ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি দেওয়ার নির্দেশ (Abhishek Banerjee)

    লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর সম্পত্তি ও পুরনিগমের আইনি ধারা অনুযায়ী বৈধ কিনা সেই মর্মে নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সম্পত্তিগুলির বৈধতা যাচাই করাই পুরনিগমের মূল লক্ষ্য। কলকাতা পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবকটি ঠিকানায় (21 Properties Plans) নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা পুরসংস্থার বিল্ডিং আইনের ৪০১ ধারা (Section 401) মোতাবেক এই নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সম্পত্তিগুলির বৈধ কাগজপত্র ও নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত নথি জোগাড় করতে না পারলে, নিয়মানুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হতে পারে।

    তথ্য আগেই এসে গিয়েছিল শুভেন্দুর হাতে

    গত রবিবার ফলতার এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরনিগম থেকে আমি নির্দিষ্ট তালিকা আনিয়েছি। কলকাতায় এবং আমতলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি বিলাসবহুল (21 Properties Plans) সম্পত্তি ও প্রাসাদোপম কার্যালয় রয়েছে।’’ পুরনিগমের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, যেসব সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি ভবন এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল আবাসন রয়েছে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার পুর প্রশাসন

    প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে উল্লেখ্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Abhishek Banerjee) সংস্থাটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির (CBI ও ED) নজরদারিতে রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রাক্কালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তী সময়ে তিনি এর সিইও (CEO) হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী এই সংস্থার ডিরেক্টর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

    রাজ্যের বিগত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন এই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার স্বয়ং কলকাতা পুরনিগম এই সম্পত্তিগুলির নির্মাণগত বৈধতা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    নিজেস্ব নিয়মে নোটিশ জারি করেছে

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি এবং পারিবারিক সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর কার্যালয়গুলিতে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) নোটিস পাঠানো নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার এই আকস্মিক আইনি পদক্ষেপের দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই নোটিস জারির বিষয়ে পৌর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবগত ছিল না। কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ আইন ও নিয়মের নিজস্ব পরিধির মধ্যে থেকে এই নোটিস জারি করেছে। এটি কোনও রাজনৈতিক নির্দেশ বা মেয়রের দফতর থেকে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়।” ফিরহাদ আরও জানান, পুরসভার ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে পাঠানো এই নোটিসের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনও ভবনের নকশা বা নির্মাণে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যে রুটিন নোটিস পাঠায়, এটিও তেমনই একটি পদক্ষেপ।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভেতরের সমীকরণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Abhishek Banerjee) প্রকাশ্য বিবৃতির পরদিনই কলকাতা পুরনিগমের মতো একটি তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড যেভাবে সক্রিয় হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১টি সম্পত্তির নকশা তলব করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের “কিছুই না জানার” এই বয়ান অত্যন্ত সুকৌশলী। একদিকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পুর প্রশাসন সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে দলের অন্দরে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে (21 Properties Plans) কেন্দ্র করে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়, সেই কারণেই তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে এই আইনি নোটিসকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন পুরসভার অন্দরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: মেধাবৃত্তির পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি নিয়ন্ত্রণে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু? ফি নিয়ন্ত্রণে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং মেধার মূল্যায়নে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কৃতী শিক্ষার্থীদের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “রাজ্যে বিদ্যমান সমস্ত ধরনের ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত মন্ত্রিসভা। এই খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। রাজ্যের কোনও মেধা যেন বাইরে না যায়।”

    ফি পদ্ধতিতে লাগাম টানার আহ্বান (CM Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির (Private School) লাগামহীন ফি বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি বেশ কিছু কড়া কিন্তু ইতিবাচক বার্তা দেন। শুভেন্দু বলেন, “বর্ণ, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে পুনরায় চালু করা হচ্ছে স্থগিত হয়ে থাকা বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা। আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে কোনও শিক্ষার্থীই যেন কেবল আর্থিক অনটনের কারণে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    বেতন কাঠামোয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সেমিস্টার ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের ঊর্ধ্বগতির প্রতি ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “অর্থনৈতিক দিক থেকে আপনারা যেভাবে শিক্ষার্থীদের থেকে ফি নিচ্ছেন, সেখানে সরকারের একটি সুস্থ নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে (Private School) এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানাই। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে বিপাকে না পড়ে এবং সরকারকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সেই দিক মাথায় রেখে বিবেচনা করবেন।”

    মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সহজ প্রবণতার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “দয়া করে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান ও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করুন। যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন সর্বভারতীয় বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন এক অস্বাস্থ্যকর অসমতার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার (Private School) মানোন্নয়নে দুই মাধ্যমের মধ্যেই একটি সুস্থ ও গৌরবময় প্রতিযোগিতা থাকা বাঞ্ছনীয়।”

    সরকারি ও সামাজিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি উৎসাহ প্রদান

    মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) তাঁর ভাষণে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। শুভেন্দু বলেন, “আজকের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে জনকল্যাণে শিক্ষাদান করে চলেছে।” আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের (Private School) উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, বৃত্তিসংক্রান্ত যেকোনও সহায়তার জন্য তারা যেন সরাসরি শিক্ষা দফতর বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) সঙ্গে যোগাযোগ করে।

  • PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সুইডেন থেকে নরওয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সোমবার অনুষ্ঠিত ভারত-নরওয়ে বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। ভারত-ইএফটিএ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (TEPA) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করল নরওয়ে। এদিন নরওয়ের রাজা হারাল্ড (King Harald V) ভি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মান প্রদান করেন। নেতৃত্ব ও ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হল প্রধানমন্ত্রীকে। এটি কোনও নাগরিককে দেওয়া নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট পেয়ে সম্মানিত। ভারতের নাগরিক এবং নরওয়ে ও ভারতের অটুট বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করছি এই সম্মান। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের অগ্রগতিতে আমাদের মিলিত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে।’ ঠিক একদিন আগেই সুইডেনের ঐতিহ্যশালী ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোদিকে এই সম্মান প্রদান করে সুইডেন।

    ৪৩ বছর পর প্রথম

    সুইডেন সফর শেষ করেই সোমবার দু’দিনের সফরে নরওয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর প্রথম নরওয়ে সফর। ৪৩ বছর পর প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এলেন তিনি। অসলোর রয়্যাল প্যালেসে রাজা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদিও। জানান নতুন করনীতির কথাও। অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদি। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।

    ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থা

    এই সামিটে ভারত ও নরওয়ের ব্যবসা ও গবেষণা মহলের ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও নরওয়েজিয়ান বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মূল সম্মেলনের আগে অসলোর বিভিন্ন স্থানে চারটি বিশেষ রাউন্ডটেবল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুতায়ন এবং বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা

    ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা হবে।’

    বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান

    সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদি। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’

    ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

    সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সম্প্রতি ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি দুই দেশের শিল্পমহলকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৃহৎ যুবশক্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নরওয়ের সংস্থাগুলিকে ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, সবুজ জ্বালানি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, হেলথ-টেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যত

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক খাতে কার্বন নির্গমন হ্রাস, সমুদ্র সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

     

     

     

  • Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Post Poll Violence: নতুন করে ৪৫৮টি জিডি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের! ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা (Post Poll Violence) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ওই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত রাজনৈতিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনাগুলি জাতীয় স্তরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের (BJP Bengal) উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত পাঁচ বছরের পুরোনো হিংসার মামলাগুলিকে নতুন করে আইনি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ইতিমধ্যেই সাড়ে চারশোরও বেশি পুরনো মামলার (BJP Bengal) নতুন করে ওপেন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের জমানায় যে সমস্ত মামলার ‘চূড়ান্ত রিপোর্ট’ জমা পড়ে ফাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেইসব ক্লোজড ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে। বিগত দিনগুলিতে যেসব ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল কিংবা চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশের মাধ্যমে আইনি নথিপত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও আইনগত সক্রিয়তা (Post Poll Violence)

    রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (ADG, Law and Order) পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) শিকার হওয়া নাগরিকদের অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন (Review) নিশ্চিত করা। প্রশাসনের (BJP Bengal) এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পূর্ববর্তী বহু মামলার নথিপত্র আরেকবার নতুন করে খোলা হয়েছে।

    কঠোর আইনি পদেক্ষেপ

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার অধীনে ইতিমধ্যে ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:

    তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) পুনর্বিবেচনা

    বিগত সময়ে যেসব মামলায় (Post Poll Violence) পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল, তেমন অন্তত ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলার ফাইল পুনরায় খোলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কোনও রকম খামতি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নতুন অনুসন্ধান ও এফআইআর (FIR) দায়ের

    পূর্ববর্তী অভিযোগ এবং নতুন করে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যে ৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক অনুসন্ধান (Enquiry) শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১৮১টি এফআইআর দায়ের করে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

    নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার

    এই নতুন আইনি সক্রিয়তার অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, বিশেষত দুর্গাপুর, বর্ধমান, মাথাভাঙ্গা এবং হুগলি অঞ্চল থেকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি, নারী নির্যাতন এবং তোলাবাজির (Extortion) মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

    তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা

    এবারের তদন্ত প্রক্রিয়াগুলিকে (Post Poll Violence) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) ব্যক্তিগতভাবে এই মামলাগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পেশ করার পর বিচারপ্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য নিয়মিত আইনি সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপরাধমূলক সিন্ডিকেট বা চক্রগুলির গতিবিধি ও তাদের আর্থিক উৎসের সন্ধান করতে বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২রা মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (Post Poll Violence) প্রকাশের পরপরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করে। শাসকদল বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের হতাহত করে এক তরফা আক্রমণ করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তৎকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কয়েক ধাপে ৫৭ জনের বেশি খুন করা হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি বিগত দিনে স্থানীয় পুলিশের এক্তিয়ারে থাকা সাধারণ ও মাঝারি স্তরের অপরাধের মামলাগুলির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় (Post Poll Violence)

    গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় (BJP Bengal) যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ২০২১ সালের নির্বাচন-উত্তর সহিংসতার মামলাগুলি পুনরায় খোলার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন এটিই স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অপরাধের তীব্রতা বা সময়কাল যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুদীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি সক্রিয়তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে, তেমনই এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি দূরগামী ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো অন্ধকার সময় ফিরে আসবে।” কথাগুলি বললেন বাংলাদেশের (Bangladesh) পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। প্রসঙ্গত, ওই সময় বাংলাদেশের রাশ ছিল বিএনপির হাতে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। আওয়ামি লিগের এই নেত্রী ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রয়েছেন ভারতে।

    জনকল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “ফিরে আসার বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভর করে না। আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এটি শুধু আমার ফিরে আসার জন্য নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।” তিনি বলেন, “আমি একটি বিষয় খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমার অনুপস্থিতি মানে আমার নীরবতা নয়। আমি প্রতিটি মুহূর্তে দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।” চলতি বছর সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তার পরেই দেশটিতে ভারতবিরোধী নানা মন্তব্য করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

    ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু

    এ প্রসঙ্গে হাসিনা জানান, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রতিবেশী (Sheikh Hasina)। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি বলেন, “অবশ্য আমাদের দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও আদর্শগতভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীগুলির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা প্রায়ই আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) ভারতের কাছে নতি স্বীকার করা এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করার অভিযোগ তুলত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসন কালে কিংবা বিএনপি—কেউই এমন একটি চুক্তিরও প্রমাণ দিতে পারেনি, যা জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

    ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে দুই দেশ

    বছর দেড়েকের অস্থিরতার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত ও বাংলাদেশ পুরো মাত্রায় ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে এগোচ্ছে (Bangladesh)। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সব ধরনের ক্যাটাগরিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করেছে। এদিকে, ভারতও ফের ধীরে ধীরে ভিসা কার্যকলাপ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরের এক মাস পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল। উল্লেখ্য, ভারতে থাকা বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লির হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগ (Bangladesh), এখন আগের মতোই কাজকর্ম শুরু করেছে (Sheikh Hasina)।

     

  • Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের প্রায় সব সভায় বিজেপির ‘সঙ্কল্প-বার্তা’ ছিল, ক্ষমতায় এলে রুখে দেওয়া হবে বাংলাদেশিদের বঙ্গে অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গবাসী হাত উপুড় করে ভোট দেওয়ায় এ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পদ্ম-রাজ। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই শুরু করে দিয়েছেন ‘অ্যাকশন’। সেই শুভেন্দুই এবার আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামিকে (Jamaat)।

    ‘বাংলাদেশে যাও’ (Suvendu Adhikari) 

    তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস তো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। দেখুন ভাই, আমি ভয় পাই না। তাই ওই সব চেষ্টা করেও লাভ নেই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ডারকে সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও… যাও যেখান থেকে এসেছিলে, সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও।”

    পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে শুরু হওয়া পুরোহিত-ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা (Suvendu Adhikari)। শুধু অনুপ্রবেশকারী নয়, পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু। রবিবার পার্ক সার্কাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রীনগরেও পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। কলকাতায়ও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন, আগের সরকার আছে, আগের মতো পুলিশ ফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তাহলে ভুল করছেন। গুন্ডামি, অসামাজিক কাজকর্মে অনুমতি দেব না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম, পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এজন্য যতদূর যেতে হয়, যাব (Jamaat)। শুধু গ্রেফতারি নয়, শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করবে সরকার (Suvendu Adhikari)।”

  • BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, সামরিক লজিস্টিকস এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেক করিডর এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-কে ১২০ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস্ নেক?

    বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মাঝে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে। চিকেনস্ নেক বা সিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য এক ধরনের লাইফলাইন। এই সরু ভূখণ্ডটি বিচ্ছিন্ন হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় পদক্ষেপ

    তাই বহুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিরক্ষা মহল এই অঞ্চলকে বিশেষ নজরে রাখছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জমি হস্তান্তরের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে এবার গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন রাজ্য সরকার।

    জাতীয় সড়কও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে

    শুধু জমি হস্তান্তরই নয়, রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়কের অংশ রাজ্যের গণপূর্ত দফতর থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই রাস্তা হস্তান্তর করা হবে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এবং জাতীয় মহাসড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর কাছে। এই সাতটি রাস্তার মধ্যে পাঁচটিই চিকেনস নেক করিডরের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● সেবক – কালিম্পং – সিকিম সীমান্ত (১০ নম্বর জাতীয় সড়ক)
    • ● শিলিগুড়ি – কার্শিয়াং – দার্জিলিং
    • ● হাসিমারা – জয়গাঁও (ভুটান সীমান্ত)
    • ● চ্যাংরাবাঁধ (বাংলাদেশ সীমান্ত)

    বিশেষ করে ১০ নম্বর এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই ধস, অতিবৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এর ফলে সিকিম এবং দার্জিলিঙের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যা সরবরাহ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহণে বড় প্রভাব ফেলে।

    উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন

    মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা সরকারি প্রেস নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি রাস্তা উন্নয়নের ফলে উত্তরবঙ্গ, ডুয়ার্স, দার্জিলিং পাহাড়, সিকিম, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। এছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে জাতীয় সড়ক সংযোগ উন্নত হবে। বিশেষ করে ঘোজাডাঙা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও সীমান্ত লজিস্টিকসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

    দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পে গতি

    সরকারি মহলের দাবি, আগের সরকারের আমলে এই জমি হস্তান্তর এবং রাস্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকেনস নেক করিডরে অবকাঠামো শক্তিশালী হলে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়াও অনেক সহজ হবে।

LinkedIn
Share