Tag: bangla news

bangla news

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বই প্রকাশ ও পুনর্মুদ্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম (CPM)। স্বামী বিবেকানন্দ থেকে আদি শঙ্করাচার্য, গৌতম বুদ্ধ থেকে হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সাধনা—এবার পুজোর বইয়ের স্টলে এই সমস্ত বিষয়কে সামনে আনতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশভাগ নিয়ে নতুন বই প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। বুকস্টল নিয়ে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সিপিএমের প্রকাশনা সংস্থা ন্যাশনাল বুক এজেন্সির (এনবিএ) এই উদ্যোগ (Puja Bookstall Row) তাৎপর্যপূর্ণ।

    শঙ্করাচার্য-বিবেকানন্দের বই (Puja Bookstall Row)

    এবার এনবিএর পুনর্মুদ্রণের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেরলের প্রথম কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের লেখা ‘আদি শঙ্করাচার্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’। একই সঙ্গে বেশি সংখ্যায় ছাপানো হচ্ছে বিভিন্ন বামপন্থী নেতার লেখার সংকলন ‘মার্ক্সবাদীর দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বামী বিবেকানন্দ’। প্রকাশনা সংস্থা সূত্রে খবর, গৌতম বুদ্ধের দর্শন সংক্রান্ত বই এবং ক্ষিতিমোহন সেনের ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’ও পুনর্মুদ্রণের পরিকল্পনায় রয়েছে। পুজোর বুকস্টলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বই রাখার প্রশ্নে ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে বামেদের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বামেদের স্টলে বিদেশি কমিউনিস্ট নেতাদের বই থাকলেও বিবেকানন্দের বই কেন থাকে না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের স্টলে বিবেকানন্দ ও চৈতন্যদেবকে নিয়ে বই আগেও ছিল। বিজেপি এবং আরএসএসের বইয়ের স্টলে ভগৎ সিংয়ের লেখা কেন দেখা যায় না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বাম নেতারা। এই পরিস্থিতিতে পুরনো বই পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী এনবিএর দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই বইগুলি আমাদের প্রকাশনা সংস্থা আগেই এনেছে। নতুন নয়। তবে হ্যাঁ, এবার নানাবিধ প্রশ্ন আসছে বলেই আমাদের বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।”

    মিলবে দেশপ্রেমের বই

    এবারের পুজোয় নতুন বইয়ের তালিকাতেও থাকছে রাজনৈতিক ইতিহাস। সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাভাগ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আমাদের চেয়ারম্যান’। বইটি সম্পাদনা করেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত। প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, মহম্মদ সেলিম এবং সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ একাধিক নেতা তাঁদের স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন বিমান বসুকে। আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সুদীপ বলেন, “আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই এই বইয়ের উদ্বোধন হবে। বিমান বসু বরাবরই আত্মপ্রচারবিমুখ। কেউ তাঁকে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসী’ বলেন, কেউ বলেন ‘রাজনৈতিক বিপ্লবী’। এরকম একজন মানুষকে নিয়ে তাঁর সহকর্মীদের লেখা নিশ্চয়ই সকলের ভালো লাগবে।”

    এদিকে, পুজোর বুকস্টল নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে। বিধানসভায় তিনি বামেদের ধর্মাচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুজোমণ্ডপের পাশে বইয়ের স্টল বসিয়েও সেখানে ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা হয় কেন, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, “বুকস্টলে দুর্গাপুজো না-লিখলে স্টল করতে দেবেন না (Puja Bookstall Row)।”

    পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু সিপিএমের

    বিতর্কের মধ্যেই পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। দক্ষিণবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে কলকাতার সূর্য সেন স্ট্রিটে এনবিএর দফতরে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তীর পাশাপাশি বিমান বসুরও উপস্থিত থাকার কথা। উত্তরবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে শিলিগুড়িতেও পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা হয়েছে। সেখানে সুজনের সঙ্গে দলের পলিটব্যুরোর সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের যোগ দেওয়ার কথা।

    বুকস্টলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় রাতপাহারার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা করেছে সিপিএম। ক্ষমতা হারানোর পরেও দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবে বইয়ের স্টল বসানোর সাংগঠনিক কর্মসূচি বজায় রেখেছে দল (CPM)। এবারের রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে সেই কর্মসূচি পরিচালনা এবং বইয়ের সম্ভার সাজানোর প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে (Puja Bookstall Row) বঙ্গের লাল পার্টির ভরকেন্দ্র আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

     

  • Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র তুরস্ক এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিজেল (Turkey Buys Diesel From India) আমদানি করল ভারত থেকে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কের ডিজেল আমদানি ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিনেরও বেশি হয়েছে বলে পণ্যবাজার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটিই তুরস্কে ভারতীয় ডিজেল রফতানির সর্বোচ্চ মাসিক স্তর। তুরস্কের জ্বালানি বাজারে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতদিন রাশিয়াই ছিল দেশটির ডিজেলের প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলিতে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে তুরস্ককে বিকল্প উৎসের দিকে তাকাতে হচ্ছে। সেই জায়গাতেই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভারত।

    রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে বড় ধাক্কা

    তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার আধিপত্য ছিল। ২০২৫ সালে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। তুরস্কের এনার্জি মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (EMRA)-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর মস্কো ডিজেল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে তুরস্কে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ জুলাইয়ে কমে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেল এবং আগস্টে প্রায় ৮০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। আগস্টে তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশও নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।

    ভারতের ডিজেল রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    এই ঘাটতি পূরণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কে প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি ডিজেল গিয়েছে। অন্য একটি সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টস অবশ্য এই পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন বলে অনুমান করেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ডালাসের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগস্টে তুরস্কে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সরবরাহের বড় অংশ এসেছে রিলায়েন্সের কাছ থেকে। ২০২৫ সালে ভারত তুরস্কে মোট ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৪২১ টন ডিজেল রফতানি করেছিল। রাশিয়া ও মিশরের পর ভারত ছিল তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজেল সরবরাহকারী।

    শুধু ভারত নয়, আমেরিকাও বাড়িয়েছে সরবরাহ

    তুরস্কের বিকল্প জ্বালানি উৎসের তালিকায় শুধু ভারতই নেই। আগস্টে আমেরিকা থেকেও তুরস্কে ডিজেল সরবরাহ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল ডিজেল এসেছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের হিসাব কিছুটা কম—প্রায় ৭০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন। তবুও ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ। অর্থাৎ রাশিয়ার সরবরাহ কমতেই তুরস্ক একাধিক বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ শুরু করেছে।

    ভারত কীভাবে এত ডিজেল রফতানি করছে?

    ভারত নিজে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কিন্তু দেশের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন ক্ষমতা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে তা শোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করে ভারতীয় সংস্থাগুলি বিদেশে রফতানি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকাঠামো ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলির উৎপাদিত ডিজেলের জন্য নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের সামগ্রিক পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮.৮ শতাংশ এবং অ-তেল পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৪.৪ শতাংশ। টানা তিন বছর পতনের পর ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।

    রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের যোগসূত্রও

    ভারতের বাড়তে থাকা ডিজেল রফতানির সঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। সেই অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর সেই পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭.৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২৫.৭ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। অর্থাৎ ভারত একই সময়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক। তবে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত ডিজেলকে একই পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। ভারতে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল শোধনের পর উৎপাদিত ডিজেল একটি পৃথক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য। কোন দেশে সেটি বিক্রি হবে, তা নির্ধারিত হয় চাহিদা, দাম, পরিবহণ খরচ এবং সরবরাহের পরিস্থিতির উপর।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কি রয়েছে?

    তুরস্কের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের পিছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026-এ রুশ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা কিছু দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল ক্রেতা ভারত। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর এর প্রভাব ভারত পর্যালোচনা করবে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের পক্ষেও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতের দিকে তাকাচ্ছে তুরস্ক?

    সমীকরণটি আপাতদৃষ্টিতে সরল। তুরস্কের ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহও বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত। অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার কাছে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। ভারতের বিশাল শোধন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে তা ডিজেলে রূপান্তরের সক্ষমতা দেশটিকে এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। ফলে আগস্টে তুরস্কে ভারতীয় ডিজেলের রেকর্ড রফতানি মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহের পরিবর্তিত সমীকরণেরই প্রতিফলন। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তুরস্ক নতুন উৎস খুঁজছে, আর সেই সুযোগে ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের ভারত থেকে রেকর্ড ডিজেল কেনার ঘটনাটি তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়; রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

  • Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশই ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar on UN Reform)। তাঁর অভিযোগ, যে দেশগুলি রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে, তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, কিন্তু আদতে রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

    রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।” তাঁর মতে, গুরুতর সংস্কার করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত খসড়া বা ‘টেক্সট-বেসড নেগোশিয়েশন’। কারণ, কোনও লিখিত প্রস্তাব ছাড়া প্রকৃত অর্থে আলোচনা সম্ভব নয়। ‘Ruptures & Ramparts: Building Bridges for a Changing World’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করেছিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF), রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, রাষ্ট্রসংঘের ভারতীয় দফতর এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন। অনুষ্ঠানে আলোচনা পরিচালনা করেন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি সমীর সরণ। উপস্থিত ছিলেন জামাইকার বিদেশমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ, সুরিনামের বিদেশমন্ত্রী মেলভিন বুভা, ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেটো আব্লাকওয়া এবং ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সেলেস্ট কনর্স।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই

    জয়শঙ্কর বলেন,“প্রতি বছরই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবার সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের হতাশা বাড়ছে। কারণ, কোনও লিখিত খসড়া ছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু সময় নষ্ট করার জন্য আলোচনা চলতে পারে না।” রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সংস্কার করতে পারবেন না।’’ তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে তার আগে প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের মতামত পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

    সংস্কারের জন্য খসড়া তৈরি জরুরি

    জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের জন্য একটি খসড়া তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই খসড়ায় সব দেশের মতামত ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়েও সরব হন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় রাষ্ট্রসংঘ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবি তোলা মানেই রাষ্ট্রসংঘ-বিরোধী হওয়া নয়। বরং যারা রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তিত, তারাই সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে

    গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে পুরনো নির্ভরতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বও আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে একজন মহিলাকে নির্বাচিত করার ভাবনা কোনও উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নিচ থেকে উঠে আসা একটি ধারণা।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার প্রয়োজন

    এদিকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে নিজের শেষ ভাষণেও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে এবং এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিতে সরব ভারত। ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ সদস্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ একবিংশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না বলে ভারতের বক্তব্য। তাই স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদই সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্যও ভারত প্রার্থী হয়েছে। আগামী বছর জুনে এই পদের নির্বাচন হওয়ার কথা।

    জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাকের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারত ও ইরাকের অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

    আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রী মার্গুস তসাখনার সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও এস্তোনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর জানান, চলমান ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও আলোচনায় উঠে আসে। ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যাম ওকুজেতো আব্লাকওয়ার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। ব্রিটেনের বিদেশসচিব এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। তাজিকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভারত-তাজিকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বার্বাডোসের বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টোফার পিটার সিনকলেয়ার, আর্মেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ান এবং সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    Asian Games 2026: ইতিহাস সুরুচি-কমলজিতের! হকিতে জয় মেয়েদের, এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা-রুপো ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ে সোনা জিতল ভারত। শুক্রবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনার পদক জিতলেন সুরুচি সিং ও কমলজিৎ। ফাইনালে মোট ৪৮৪.৬ স্কোর করে শুধু সোনা জয়ই নয়, নতুন এশিয়ান রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় জুটি। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ এই নিয়ে দ্বিতীয় সোনা জিতল ভারত। এর আগে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সোনা জিতেছে। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ভারতের জন্য এটি ছিল শেষ পদকের সুযোগ।

    ফাইনালে দুরন্ত সুরুচি-কমলজিৎ

    ম্যাচের শুরু থেকেই সুরুচি ও কমলজিৎ এগিয়ে ছিলেন। প্রথম সিরিজ শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে ৪.৯ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল ভারত। দ্বিতীয় সিরিজে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.২ পয়েন্টে। তবে চাপের মুখেও খেই হারাননি দুই ভারতীয় শুটার। ক্রমাগত হাই স্কোর করে ফের ব্যবধান বাড়াতে শুরু করেন তাঁরা। ১৮তম শটে ইন্দোনেশিয়া চতুর্থ হয়ে ছিটকে যাওয়ার পরে ভারত ৫.৮ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এর ঠিক দু’টি শট পরেই সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৭.১ পয়েন্টে। শেষ দুই শটে ৭.২ পয়েন্টের লিড নিয়ে নামেন সুরুচি ও কমলজিৎ। পেনাল্টিমেট শটে সুরুচি ১০.৫ এবং কমলজিৎ ৯.৫ স্কোর করলেও ভারতের লিড কমে দাঁড়ায় ৬.২ পয়েন্টে। শেষ শটে সুরুচি ১০.৮ স্কোর করে ভারতের সোনা নিশ্চিত করেন। ফাইনাল শেষে ভারতীয় জুটির মোট স্কোর দাঁড়ায় ৪৮৪.৬। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টের ফাইনালে রুপো জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সুহিয়ন হং ও গেউন চু জুটি। ৪৭৮.০ স্কোর করেন তাঁরা। অর্থাৎ, কোরিয়ান জুটির থেকে ৬.৬ পয়েন্ট এগিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতের দুই শুটার। ইরান ৪১৫.৮ স্কোর করে ব্রোঞ্জ জেতে।

    হকিতে জয় মেয়েদের

    ব্যক্তিগত ইভেন্টে অবশ্য সুরুচি ও কমলজিৎ, দু’জনেই হতাশ করেন। কমলজিৎ ব্যক্তিগত ইভেন্টের বাছাই পর্বে নবম হয়ে ফাইনালে জায়গা করতে পারেননি। সুরুচি শেষ করেন ২৬ নম্বরে। পুরুষ ও মহিলাদের দলগত ইভেন্টেও পদক আসেনি। তবে মিক্সড টিম ইভেন্টে সেই হতাশা কাটিয়ে এশিয়ান রেকর্ড-সহ সোনা জিতলেন তাঁরা। শুটিংয়ে আরও একটি পদক আসে পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশন টিম ইভেন্টে। ঐশ্বর্য প্রতাপ সিং তোমর, নীরজ কুমার এবং রুদ্রাক্ষ পাটিলের ভারতীয় দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রুপোর পদক জিতে নেয়। ফলে শুক্রবার শুটিং থেকে ভারতের ঝুলিতে যোগ হল একটি সোনা এবং একটি রুপো। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় মহিলা হকি দলের (Indian Women Hockey Team) দুরন্ত ছন্দ অব্যাহত। শুক্রবার পুল বি-র ম্যাচে আয়োজক জাপানকে (India vs Japan) ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় দল। পরে আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় তারা। জাপান একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি ভারত।

  • India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের সংঘাতকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) সেই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করল ভারত। ভারতের বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ৮০তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট। তিনি বলেন, “ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি জয় বলে মনে হয়, তা হলে পাকিস্তান সেই জয় উপভোগ করতেই পারে।”

    পাকিস্তানের ‘জয়ের’ দাবি নিয়ে ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণে শাহবাজ শরিফ মে মাসের সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ জিতেছে এবং এখন তারা শান্তি জিততে চায়। ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। এর জবাবে গেহলট বলেন, সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানায়। ভারতের প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের উপর একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ ছিল। ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

    ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলার ছবি তার প্রমাণ’

    অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় ভারতীয় হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরেন গেহলট। তাঁর দাবি, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার পর নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একটি ছবি হাজার কথার সমান।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক আধিকারিকরা যেসব সন্ত্রাসবাদীকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে থাকেন, তা পাকিস্তানের নীতির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীর সন্ত্রাসবাদী শিবির নিয়ে করা মন্তব্যের উল্লেখ করে গেহলট ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। একইসঙ্গে পারমাণবিক হুমকির আড়ালে সন্ত্রাসবাদ চালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

    শাহবাজের বক্তব্য ‘নাটক’

    কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রসংঘে তারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল “অযৌক্তিক নাটক”। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা মিথ্যা তথ্য বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আড়াল করেছিল। ভারতীয় পক্ষ ওই সংগঠনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে দাবি করেছে।

    শান্তি চাইলে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বন্ধ করতে হবে

    শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তির পথ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। গেহলট বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়, তা হলে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করতে হবে। দিল্লির নিশানায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় ডুবে থাকা একটি দেশ” রাষ্ট্রসংঘে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে অন্য দেশকে উপদেশ দিচ্ছে—বিষয়টি “অত্যন্ত পরিহাসের”।

    তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও ফের খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই একমত যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার জায়গা নেই—এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের জাতীয় অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব”-এর প্রশংসা করেন। তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (DGMO) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সমঝোতা হয়েছিল।

    অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

    ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার, গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মে মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির বিস্ফোরণের ছবি এবং রহিম ইয়ার খান বিমানঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ের দৃশ্য প্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় পক্ষের দাবি, করাচির মালির ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ

    ভারতের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারত সেগুলির অনেকগুলি প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে নয়াদিল্লির দাবি। চার দিনের এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত সেই ঘটনাপ্রবাহই তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকাশ্যে আসা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাকিস্তানের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

     

     

     

     

  • Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠক (Suvendu Adani Meeting)। আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্প পরিকাঠামোকে পুনরায় মজবুত করতে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানির কাছে খোলাখুলি সাহায্যের আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আদানিদের পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ‘আদানিজি আমাকে সাহায্য করুন।’ ভরসার হাত বাড়ালেন আদানিও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করে শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে! ভারত এখন নতুন আশা নিয়ে পূর্ব ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় আদানি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আদানি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে। উন্নতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বাংলা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে আপনিই প্রমাণ করেছেন যে আপনিই প্রকৃত ভূমিপুত্র। আপনার নেতৃত্বেই রাজ্য নতুন করে গড়ে উঠবে।” বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, নতুন বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে।

    কোথায় কোথায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    বৃহস্পতিবারই নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে; প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। একই মঞ্চ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন গৌতম আদানি। বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স এবং বৃহৎ ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন অনুষ্ঠান থেকে গৌতম আদানি বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার – একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে।

    ‘সৌজন্য’ বৈঠকের মূল লক্ষ্য

    সেই ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যে আদানি গোষ্ঠীর আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের বক্তব্য, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলায় শিল্পের প্রসার, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। পালাবদলের পরে থেকেই রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পই যে বিজেপি সরকারের পাখির চোখ, বারে বারে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। বাম ও তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেননি। শুধু নেগেটিভ রাজনীতি করেছেন। তাঁর জন্যই টাটাকে চলে যেতে হয়েছে।’ গোটা ভারত যখন আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তখন মমতা ৫০০ টাকা দিয়ে ভাতার রাজনীতি করছিলেন বলেও তোপ দাগেন তিনি। একই সুরে আক্রমণ শানান বাম আমলকেও। রাজ্যকে শিল্পের বধ্যভূমি করার পিছনে কমিউনিস্টদের অবদান রয়েছে বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্টরা সব শেষ করে দিয়েছে। শুধু ইনকিলাব জিন্দাবাদ। হরতাল করে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’ তাদের জন্যই আসানসোল, চিত্তরঞ্জনও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারে ফের শিল্পের পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

    মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্প

    নিউটাউনে ২,০০০ বেডের হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতালে মোট ২,০০০টি বেড থাকবে। তার মধ্যে ১,০০০টি বেড দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এই বেডগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাকি ১,০০০টি বেড বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে। ৫২ একর জমির উপরে হাসপাতাল, ২৫০০ কোটির বিনিয়োগ, আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্পের কথাও বলা হয় এদিন৷

     

     

     

     

     

  • White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    White House Ban On CNN: সিএনএন-সহ শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের উপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump’s Ban On Media Outlets) প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় আইনি ধাক্কা। সিএনএন, এমএস নাও (MS NOW) এবং পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ টিম কেলি নির্দেশ দেন, তিনটি সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কেলি। সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে (White House Ban On CNN) সাংবাদিকদের প্রবেশ আটকে দেওয়ার কয়েকদিন পর সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে‘মিথ্যা ও কল্পিত খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়।

    ‘প্রথম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন’

    মামলায় তিন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বেছে বেছে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিন সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার কোনও সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে সংবাদ পরিবেশন করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। তাদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ না করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের সরকারি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনওভাবেই ‘অধিকার হিসেবে নিশ্চিত’ নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথম সংশোধনী সংবাদ প্রকাশের অধিকার রক্ষা করে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কোনও সাংবাদিকের বাধ্যতামূলকভাবে প্রেস পাস, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে থাকার অধিকার থাকবে। ট্রাম্পও তাঁর প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আক্রমণ করেন।

    সরকারের পক্ষে ভিত্তিহীন যুক্তি

    সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ’ বলে যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারক উল্লেখ করেন, ‘মামলা চলাকালীন বাদীপক্ষের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বা পাস বাতিল রাখা কেন আবশ্যক—নথিপত্রে সরকারের এই দাবির স্বপক্ষে বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে জানান যে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ‘কথিত অসত্যতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’র কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস কিংবা উক্ত তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তিনটি সংবাদমাধ্যমের “অনবরত কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।” অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ইরান যুদ্ধ ও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা মার্কিন মুলুকে এখন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও খর্ব করা হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক টিম কেলি উল্লেখ করেন, ‘ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট’-এর দুটি পূর্ববর্তী নজির থেকে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের আইনি প্রক্রিয়াগত অধিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে না যে হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অর্থপূর্ণ সুযোগ দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবী বিচারক কেলিকে জানান, কোনো প্রকার আইনসম্মত আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে নজিরবিহীন, অযৌক্তিক এবং অত্যন্ত কঠোর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল

    এই সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন শনিবার সিএনএন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিক আকায়লা গার্ডনার জানান, কাজের জন্য হোয়াইট হাউসে পৌঁছনোর পর তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে পলিটিকো জানায়, তাদের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর প্রেস ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি জ্যাকুই হাইনরিখ সতর্ক করে বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমকে তার সংবাদ পরিবেশনের কারণে বাদ দেওয়ার যে নীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।

    সিএনএনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে টিভি পুলের কভারেজ বন্ধ

    হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের প্রভাব অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও পড়ে। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচি কভার করার দায়িত্বে থাকা টেলিভিশন পুল থেকে সিএনএনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের জন্য ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের কভারেজও ছিল। পাঁচটি বড় মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত ওই পুলের চেয়ারম্যান এবং ফক্সের ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ব্রায়ান বটন এক ই-মেলে জানান, সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনও নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অন্য নেটওয়ার্কগুলিও অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ‘পুল কভারেজ’ স্থগিত রাখবে।

    অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সংহতি

    এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য সংবাদ সংস্থাও সিএনএন এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলির পাশে দাঁড়ায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম সোমবার প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রভাবও চোখে পড়ে। ওই দিন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিকপ্টার অবতরণ দেখান এবং বক্তব্য রাখেন। কিন্তু টেলিভিশন পুলের কোনও ক্যামেরা সেখানে উপস্থিত ছিল না, ফলে তাঁর বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক টেলিভিশন কভারেজও হয়নি। বিচারকের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে এখন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউস কভারেজের অধিকার পুনর্বহালের পথে বড় আইনি অগ্রগতি হয়। মামলাটি একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা পা দিয়েই দু’-দু’টি মউ স্বাক্ষর করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার রাজ্যে পা রাখেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাত সকালে কালীঘাটে পুজো দিয়ে নিউটাউনে দু’হাজার শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’র শিলান্যাস করতে ছোটেন আদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্বয়ং, তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, পুত্র করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন আদানি। ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে (Gautam Adani) বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার এবং অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ তৈরি হচ্ছে আদানি আরোগ্য মন্দির। প্রস্তাবিত এই হাসপাতাল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় সংযোজন হতে চলেছে। হাসপাতালটির জন্য চার হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দশ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অলাভজনক এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দু’হাজার শয্যার মধ্যে এক হাজার শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় থাকা যোগ্য রোগীরা সেই সুবিধা পাবেন।

    শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    হাসপাতালের শিলান্যাসের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন আদানি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথা। আদানি জানান, ভারতের অল্প কয়েকটি রাজ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ, যোগাযোগের সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় রয়েছে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বাংলাকে বেছে নিয়েছে তাঁর সংস্থা।

    শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা। বন্দর নির্মাণ ও উন্নয়ন, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বণ্টন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন শিল্পপতি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীর।

    আদানি মনে করেন, বৃহৎ পরিকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও নয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, “পরিকাঠামো লাখ লাখ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।” প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে (Suvendu Adhikari)।

    বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর

    এদিকে, আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গোটা আদানি পরিবার পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে রাজ্য। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলার শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে রাজ্যের হারানো শিল্পসমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে চায় (Writers Building Restoration)।

    নিজের বক্তব্যে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পায়নের পরিবর্তে ভাতা বিতরণ এবং তোষণের রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বন্দর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত জমির অভাবের কথা জানিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে (Gautam Adani) না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠী

    শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠীকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সংস্থাটির সঙ্গে দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কলকাতার ঐতিহাসিক মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার সংক্রান্ত। অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    শুভেন্দু বলেন, বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। এবার সেই উৎসবের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার নির্বাচিত আটটি দুর্গাপুজো কমিটিকে ২৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলার দুর্গাপুজোর শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পুজো পরিদর্শনের আয়োজনও করা হচ্ছে (Suvendu Adhikari)।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। একসময় রাজ্য প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র ছিল মহাকরণ। সেই ভবনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিল্প এবং পরিকাঠামোর পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও আদানি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রাজ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমের পরিধি বাড়াচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এদিন সকালে স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান তিনি। সেখানে মা কালীর পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শিল্পপতি। কলকাতায় বৃষ্টির মধ্যে কালীঘাটে পুজো দেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই জানান তিনি (Gautam Adani)। একই সঙ্গে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। তার পরেই (Suvendu Adhikari) দিনের অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।

     

  • Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ত্র ছেড়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এলেন নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীর তিন শীর্ষ কমান্ডার। রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ তথা পুনর্বাসন নীতির ওপর আস্থা রেখে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও যৌথ অভিযানের মুখে অস্ত্র সংবরণ করলেন তাঁরা। তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রীর আত্মসমর্পণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ায়। দীর্ঘদিন জঙ্গলে সক্রিয় থাকার পর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বাঁকুড়া (Bankura) পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন কারা

    পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। নয়নতারা সাহু ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। এ ছাড়াও জবা মাহাতোও ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন রাজ্যগুলো মিলিয়ে মোট ৮০-এর বেশি মামলা রয়েছে। রামপ্রসাদ মান্ডি, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো ১ টি একে ৪৭, ২ টি ইনসাস বন্দুক নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এ ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০ টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজও জমা দেন ওই ৩ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী। তাঁরা জানিয়েছেন, একসময় জঙ্গলমহল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বঞ্চনা ও সমস্যার কারণে তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আর সেই কারণেই এই দীর্ঘ সময় পর তাঁরা সেই পথ থেকে সরে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন।

    চলবে আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনের প্রয়াস

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোটা দেশ থেকে মাওবাদী মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। আর তারই প্রক্রিয়া হিসেবে সারা দেশেই ক্রমাগত অভিযান চলছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। আর তাতে ক্রমশই কোনঠাসা হচ্ছে মাওবাদীরা। এবার সেই প্রক্রিয়াতেই এল বড় সাফল্য। এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ার পিছনে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং মাওবাদীদের উপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উঠে এসেছে। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি পুনর্বাসন ও আত্মসমর্পণ প্যাকেজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের এডিজি বলেন, “আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পায় তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।” প্রশাসনিকভাবে নির্দিষ্ট যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁরা কী কী সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারিত হবে। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র কার্যকলাপের পর তিন মাওবাদী ক্যাডারের আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।

LinkedIn
Share