Tag: Bengali news

Bengali news

  • Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্যামপুকুরের বাটীতে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীশ্রীবিজয়া দশমী। ১৮ই অক্টোবর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ (৩রা কার্তিক, ১২৯২, রবিবার)। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শ্যামপুকুরের বাটীতে আছেন। শরীর অসুস্থ — কলিকাতায় চিকিৎসা করিতে আসিয়াছেন। ভক্তেরা সর্বদাই থাকেন, ঠাকুরের সেবা করেন। ভক্তদের মধ্যে এখন কেহ সংসারত্যাগ করেন নাই—তাঁহারা নিজেদের বাটী (Kathamrita) হইতে যাতায়াত করেন।

    সুরেন্দ্রের ভক্তি—‘মা হৃদয়ে থাকুন’

    শীতকাল সকাল বেলা ৮টা। ঠাকুর অসুস্থ, বিছানায় বসিয়া আছেন। কিন্তু পঞ্চমবর্ষীয় বালকের মতো, মা বই কিছু জানেন না। সুরেন্দ্র আসিয়া বসিলেন। নবগোপাল, মাস্টার ও আরও কেহ কেহ উপস্থিত আছেন। সুরেন্দ্রের বাটিতে ৺দুর্গাপূজা হইয়াছিল। ঠাকুর যাইতে পারেন নাই, ভক্তদের প্রতিমা দর্শন করিতে পাঠাইয়াছিলেন (Kathamrita)। আজ বিজয়া, তাই সুরেন্দ্রের মন খারাপ হইয়াছে।

    সুরেন্দ্র—বাড়ি থেকে পালিয়ে এলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারকে)—তাহলেই বা। মা হৃদয়ে থাকুন!

    সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন।

    ঠাকুর সুরেন্দ্রকে দেখিতে দেখিতে অশ্রু বির্সজন করিতেছেন। মাস্টারের দিকে তাকাইয়া গদ্‌গদস্বরে বলিতেছেন (Kathamrita), কি ভক্তি! আহা, এর যা ভক্তি আছে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কাল ৭টা-৭৷৷টার সময় ভাবে দেখলাম, তোমাদের দালান। ঠাকুর প্রতিমা রহিয়াছেন, দেখলাম সব জ্যোতির্ময়। এখানে-ওখানে এক হয়ে আছে। যেন একটা আলোর স্রোত দু-জায়গার মাঝে বইছে!—এবাড়ি আর তোমাদের সেই বাড়ি!

  • Smithsonians National Museum: ভারতের চুরি যাওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ফেরত দেবে স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম

    Smithsonians National Museum: ভারতের চুরি যাওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ফেরত দেবে স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট (Smithsonians National Museum) ভারত থেকে চুরি হওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি (Three Historic Bronze Sculptures) ফেরত দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত স্মিথসোনিয়ানের ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট’ (NMAA) ঘোষণা করেছে, “তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মন্দির থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ভারত সরকারকে ফেরত দেওয়া হবে। দীর্ঘ গবেষণার পর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, এই মূর্তিগুলো কয়েক দশক আগে বেআইনিভাবে পাচার করা হয়েছিল।”

    মূর্তি তিনটির বিবরণ (Smithsonians National Museum)

    চুরি যাওয়া তিনটি মূর্তির মধ্যে ছিল-

    ১. শিব নটরাজ

    চোল আমলের (প্রায় ৯৯০ খ্রিস্টাব্দ) এই মূর্তিটি তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার শ্রী ভব ঔষধেশ্বর মন্দির থেকে চুরি হয়েছিল। ২০০২ সালে নিউ ইয়র্কের ডরিস উইনার গ্যালারি থেকে মিউজিয়ামটি (Smithsonians National Museum) এটি কেনে, যদিও পরে জানা যায় গ্যালারিটি ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করেছিল।

    ২. সোমাস্কন্দ

    ১২তম শতাব্দীর চোল আমলের এই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি মান্নারগুড়ির আলাত্তুর গ্রামের বিশ্বনাথ মন্দির থেকে নেওয়া হয়েছিল।

    ৩. সন্ত সুন্দরার ও পারাভাই

    ১৬তম শতাব্দীর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের এই মূর্তিটি কাল্লাকুরিচি জেলার বীরসোলাপুরম গ্রামের শিব মন্দির থেকে পাচার হয়েছিল।

    গবেষণা ও প্রমাণ

    ২০২৩ সালে ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ পন্ডিচেরির আলোকচিত্র সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত ছবির সাথে মিলিয়ে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে এই মূর্তিগুলো (Three Historic Bronze Sculptures) তামিলনাড়ুর মন্দিরগুলোতেই ছিল।

    আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) এই প্রমাণগুলো খতিয়ে দেখে নিশ্চিত করেছে যে, মূর্তিগুলো ভারতের প্রাচীন সম্পদ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে নেওয়া হয়েছিল।

    ভারত সরকার এবং মিউজিয়ামের মধ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ‘শিব নটরাজ’ মূর্তিটি দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ভিত্তিতে আপাতত ওই মিউজিয়ামেই থাকবে। এর মাধ্যমে মিউজিয়ামটি দর্শকদের কাছে মূর্তির আদি ইতিহাস এবং এটি কীভাবে চুরি ও ফেরত আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো—তার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরবে।

    সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা দায়বদ্ধ

    মিউজিয়ামের (Smithsonians National Museum) পরিচালক চেজ এফ. রবিনসন বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা দায়বদ্ধ এবং আমাদের সংগ্রহের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘ গবেষণার পর এই মূর্তিগুলো ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত মিউজিয়াম পদ্ধতির প্রতি আমাদের নিষ্ঠারই প্রমাণ।”

    এই পদক্ষেপটি ভারতের চুরি হওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ (Three Historic Bronze Sculptures) পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চোল আমলের ব্রোঞ্জ মূর্তিগুলো দক্ষিণ ভারতের ধাতুশিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং এগুলো মন্দিরের ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে মূর্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

  • UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) ২০২৬ সালের নতুন ‘ইকুইটি’ (সাম্য) সংক্রান্ত সার্কুলেশনের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ থাকা উচিত, যা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে তুলে ধরে। তাই বৈষম্য নয় সাম্যের বিষয়ে কোনও আপোষ থাকা উচিত নয়।

    পুরানো নিয়ম বহাল (UGC)

    ইউজিসির (UGC) নতুন ২০২৬ সালের নিয়মাবলি স্থগিত করে আদালত জানিয়েছে, আপাতত ২০১২ সালের ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে। যাতে কোনো অভিযোগকারী প্রতিকারহীন না থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

    বিভাজনমূলক আশঙ্কার ওপর গুরুত্ব

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন, নতুন সার্কুলেশনের ভাষা অস্পষ্ট এবং অপব্যবহার হতে পারে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, “এই নিয়মগুলো সমাজকে বিভক্ত করতে পারে এবং দেশের ওপর এর বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।”

    জাতপাতহীন সমাজের লক্ষ্য

    আদালত (Suprim Court) প্রশ্ন তুলেছে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর যেখানে আমরা একটি ‘জাতপাতহীন সমাজ’ (casteless society) গড়ার পথে এগিয়েছি, সেখানে এই ধরনের নিয়ম আমাদের পেছনের দিকে (regressive) নিয়ে যাচ্ছে কি না।” বিচারপতির কথায়, “আমেরিকার মতো বর্ণবিদ্বেষী আলাদা আলাদা স্কুল বা হোস্টেলের ব্যবস্থা ভারতে কাম্য নয়। হোস্টেলে সব সম্প্রদায়ের ছাত্ররা (UGC) একসাথে থাকে এবং সেখান থেকেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়।”

    ইউজিসির অস্পষ্ট সংজ্ঞা

    নতুন সার্কুলেশন ৩(সি) ধারা নিয়ে আদালত আপত্তি তুলেছে, যেখানে ‘জাতিগত বৈষম্য’-এর সংজ্ঞাটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি যেমন এসসি, এসটি, ওবিসি (SC, ST, OBC) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই সংজ্ঞাটি বৈষম্যমূলক, কারণ এতে সাধারণ শ্রেণির (General Category) ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সুরক্ষার কোনো উল্লেখ নেই।

    বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

    সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, প্রবীণ আইনজ্ঞ এবং পণ্ডিতদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হোক। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর এই নিয়মের প্রভাব কী হতে পারে।

    র‍্যাগিং-এর ইস্যু

    আদালত লক্ষ্য করেছে, যেখানে র‍্যাগিং ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেখানে এই নতুন সার্কুলেশনে র‍্যাগিং-এর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর-দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়েও যে বৈষম্য হয়, তার সমাধানের অভাব এখানে রয়েছে।

    প্রেক্ষাপট

    গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নতুন নিয়মগুলো ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিটি কলেজে ‘ইকুইটি কমিটি’ (UGC) এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন খোলার কথা বলা হয়েছিল। এর পরেই সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং সুপ্রিম কোর্টে (Suprim Court) একাধিক পিটিশন জমা পড়ে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে এক বছরে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলা, ৬১ জন অমুসলিম নিহত! মানবাধিকার চরম বিপন্ন

    Bangladesh: বাংলাদেশে এক বছরে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলা, ৬১ জন অমুসলিম নিহত! মানবাধিকার চরম বিপন্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ২৯ জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বাংলাদেশে ৫২২টিরও বেশি (Communal attacks) সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে ৬১টি খুনের ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরে অমুসলিম সমাজের মধ্যে ব্যাপক ভয়ের বাতাবরণের ঘটনা ঘটেছে।

    ২৮টি ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন (Bangladesh)

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত (Bangladesh) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৫২২টি ঘটনা (Communal attacks) ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬১টি খুন, ২৮টি ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা। ৯৫টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্থানে হামলা, দেব-দেবীর মূর্তি অবমাননা এবং ভাঙচুর। ২১টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে জমি দখল। ১০২টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা। আর ৪৭টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর হুমকি এবং নির্যাতন।

    ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত

    বাংলাদেশ (Bangladesh) মানবাধিকার কমিশন ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সংখ্যালঘুদের হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনির ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে স্পষ্ট মত প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বিক্ষোভ চলাকালীন ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। পরে এই সংখ্যা বেড়ে ১,৫০০-তে পৌঁছে গিয়েছিল।

    হিন্দু মেকানিককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা 

    পরিষদের পক্ষে প্রতিবেদনে ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সালের ঘটনাটি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নরসিংদী জেলায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি দল কমপক্ষে ১২ জন বাংলাদেশি সাংবাদিককে আক্রমণ করে আহত করেছে। সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাও ঘটনাটির সত্যতা প্রকাশ্যে এনেছে। প্রতিবেদনে নরসিংদীতে একজন হিন্দু মেকানিককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সংখ্যালঘু সমিতির দাবি

    সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সমিতি বাংলাদেশের (Bangladesh) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু দাবিও জানিয়েছে। এরকম একটি দাবি হলো নির্বাচন কমিশনকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সংখ্যালঘু ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে তাদের ভোট দিতে পারেন এবং সমতার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

    নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কোনও উল্লেখ নিষিদ্ধ করা উচিত। যেসব নেতা, প্রার্থী এবং দল তা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো মূল্যে সংখ্যালঘুদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে হব।

  • Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    Economic Survey 2025-26: ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেলে ব্যবহারে হ্রাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইকোনমিক সার্ভে (অর্থনৈতিক সমীক্ষা) ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025-26) অনুযায়ী, ভারতের ইথানল (Ethanol) মিশ্রণ কর্মসূচি দেশকে ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে। আবার সেইসঙ্গে প্রায় ২৪৫ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমিয়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস (Economic Survey 2025-26)

    সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচির ফলে বহুমুখী সুবিধা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে — অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন কমানো এবং ইথানল (Ethanol) উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহকারী কৃষকদের আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি (Economic Survey 2025-26)।

    কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য

    ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত যে সাফল্যগুলি অর্জিত হয়েছে, তা পরিবহন জ্বালানিতে ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রাকেই প্রতিফলিত করে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে যে, মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ই-২০ (E20)-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মসূচি এখন প্রথাগত চিনি-ভিত্তিক কাঁচামালের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে ভুট্টা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই বৈচিত্র্যকরণের ফলে ইথানল (Ethanol) মিশ্রণের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের বিকল্প ব্যবহারের মাত্রা আরও বেড়েছে।

    ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে

    সমীক্ষায় আরও লক্ষ্য করা গিয়েছে, সরকার নির্ধারিত ইথানলের মূল্য এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভুট্টা-ভিত্তিক ইথানলের নির্ধারিত দাম বার্ষিক ১১.৭ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষক ও উৎপাদকদের উৎসাহিত করেছে।

    তবে একই সঙ্গে, সমীক্ষায় (Economic Survey 2025-26) সতর্ক করা হয়েছে, ইথানল মিশ্রণের ক্রমবর্ধমান মাত্রার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। ইথানলের কাঁচামালের চাহিদার কারণে চাষাবাদের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ফসলের বৈচিত্র্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কর্মসূচিটি যত পরিপক্ক হচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যের সঙ্গে কৃষি খাতের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

  • Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Wings India 2026) ভারত–রাশিয়া মহাকাশ সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন (UAC) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২৮ জানুয়ারি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন-এর জেনারেল ডিরেক্টর ভাদিম বাদেখা এবং হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ড. ডি. কে. সুনীল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী গেন্নাদি আব্রামেনকভ, ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ, বাণিজ্য প্রতিনিধি আন্দ্রেই সোবোলেভ এবং রোসাভিয়াতসিয়ার এভিয়েশন ইকুইপমেন্ট সার্টিফিকেশনের প্রধান দিমিত্রি কোপিসভসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    নয়া চুক্তির কী কী শর্ত

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সুখোই সুপারজেট ১০০ বিমানের টাইপ সার্টিফিকেট ভারতে স্বীকৃতি ও বৈধকরণ (Certification and Validation) প্রক্রিয়ায় হ্যাল, ইউএসি-কে সহায়তা করবে। এর বিনিময়ে হ্যাল ভারতে এই বিমান তৈরি, বিক্রি এবং রক্ষণাবেক্ষণের লাইসেন্স পাবে। পাশাপাশি, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপাদান উৎপাদনের অধিকারও থাকবে হ্যাল-এর হাতে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থা রোস্তেকের অধীনস্থ ইউএসি, হ্যাল-কে প্রযুক্তিগত পরামর্শ, নকশা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরিষেবা দেবে, যাতে ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০-এর অ্যাসেম্বলি লাইনের জন্য উৎপাদন পরিকাঠামো পুনর্গঠন করা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মস্কোতে দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নতুন এই চুক্তি সেই আলোচনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কীভাবে কাজের বণ্টন হবে

    এই চুক্তিকে একটি বিস্তৃত ‘মাস্টার এগ্রিমেন্ট’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতের সময়সূচি, আর্থিক কাঠামো এবং দুই পক্ষের মধ্যে কাজের বণ্টন বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হবে। সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) হলো মূল সুখোই সুপারজেটের একটি আধুনিক ও পুনর্নকশাকৃত সংস্করণ, যা সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ায় তৈরি উপাদান ও সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত ফ্রাঙ্কো-রুশ ইঞ্জিনের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ায় নির্মিত পিডি৮ ইঞ্জিন। ফলে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ‘ইমপোর্ট-সাবস্টিটিউটেড’ রাশিয়ান আঞ্চলিক জেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দুটি সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) প্রোটোটাইপ ১০টি দেশের আকাশসীমা পেরিয়ে হায়দ্রাবাদে পৌঁছয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব সরকারের ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ (UDAN) কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির উন্নয়ন। ভারতে স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) -এর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রফতানির সুযোগও বাড়বে।

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেমিট্যান্স (India Remittances) বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে ১৩৫.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের বৈদেশিক হিসেবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা সমীক্ষায় জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলি থেকে রেমিট্যান্সের (India Remittances) অংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। রফতানিতে ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

    উৎপাদনভিত্তিক রফতানি (India)

    সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদনভিত্তিক রফতানি ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উৎপাদনশীলতাভিত্তিক শিল্পনীতি, ভ্যালু চেইনজুড়ে কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যয়ের সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ-মূল্য সংযোজিত পরিষেবা খাতের সমান্তরাল বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কড়াকড়ি হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট বিনিয়োগ প্রবাহ জিডিপির হার পৌঁছেছে ১৮.৫ শতাংশে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গ্রহণে ভারত শীর্ষস্থানে (India Remittances) রয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বড় এশীয় অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে (India)।

    গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ

    ২০২৪ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল। ওই বছরে এক হাজারের বেশি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ২০২০–২৪ সময়কালে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মোট ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর – এই পর্বে মোট এফডিআই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “ভারতে বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) বারবার প্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এই ওঠানামা অনেক সময় বৈশ্বিক আর্থিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চলতি অর্থবর্ষে ছ’মাস নিট বহিঃপ্রবাহ এবং তিন মাস নিট প্রবাহ দেখা গেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নিট অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।”

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

    এছাড়া, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (India Forex) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত), যা মার্চের শেষে ছিল ৬৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের পর্যাপ্ততার দিক থেকে বলা হয়েছে, এই সঞ্চয় প্রায় ১১ মাসের পণ্য আমদানি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে থাকা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। ফলে এটি একটি স্বস্তিদায়ক বাফার হিসেবে কাজ করছে (India)। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দেশের মুদ্রার কার্যকারিতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় সৃষ্টি, বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থিতিশীল এফডিআই আকর্ষণ এবং উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রফতানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতার ওপর (India Remittances)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা মার্চ ২০২৫ শেষে ছিল ৭৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯.২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অংশ ৫ শতাংশেরও কম। এর ফলে বৈদেশিক খাতজনিত ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত রয়েছে ।

     

  • Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    Vande Bharat Sleeper: এবার ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার তৈরির ঘোষণা ভারতীয় রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রিমিয়াম দূরপাল্লার রেল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল (Indian Railways) এখন ২৪ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশের প্রথম স্লিপার ভেরিয়েন্ট চালুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদা টাউন হয়ে হাওড়া ও কামাখ্যার মধ্যে চলাচলকারী ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই রেল কর্তৃপক্ষ এখন অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেন তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে।

    ব্যাপক যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি (Vande Bharat Sleeper)

    চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে এই নতুন ২৪ কোচের ট্রেনসেটটি বর্তমানে ডিজাইনের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানের ৮২৩টি বার্থের পরিবর্তে নতুন এই ট্রেনে ১,২২৪টি বার্থ থাকবে (৪০১টি বেশি)। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এর প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মোট ৫০টি রেক তৈরি করা হবে। এতে ১৭টি এসি ৩-টায়ার, ৫টি এসি ২-টায়ার, ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ এসি প্যান্ট্রিকার (Indian Railways) থাকবে।

    আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা

    যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের (Vande Bharat Sleeper) জন্য এই ভেরিয়েন্টে থাকছে—

    • আর্গোনমিক বার্থ, রিডিং লাইট, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট।
    • ওয়াই-ফাই, প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং ইনফোটেইনমেন্ট।
    • ভ্যাকুয়াম-অ্যাসিস্টেড টয়লেট এবং আধুনিক ইন্টিরিয়র।
    • দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সুবিধা: বিশেষ টয়লেট (Indian Railways) এবং র‍্যাম্পের ব্যবস্থা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    ট্রেন সংঘর্ষ এড়ানোর অত্যাধুনিক কবচ (Kavach) প্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ। সিসিটিভি ও আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ঘণ্টায় ১৬০ কিমি সর্বোচ্চ গতিবেগ এবং শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা।

    পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

    পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’, এলইডি লাইটিং এবং ভ্যাকুয়াম বায়ো-টয়লেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের (Indian Rail) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘রিমোট কন্ডিশন মনিটরিং’ সিস্টেমও যুক্ত করা হবে।

    ২৪ কোচের এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper) ভারতীয় রেলের (Indian Railways) আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের এক বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য যে, বিএইচইএল (BHEL) ইতিমধ্যেই এই ট্রেনের প্রপালশন সরঞ্জামের সরবরাহ শুরু করেছে।

  • Ramakrishna 569: “গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন”

    Ramakrishna 569: “গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২০শে ও ২৪শে সেপ্টেম্বর

                                                              অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য

    শ্রীরামকৃষ্ণের রোগ কেন?

    মাস্টারের প্রতি আত্মজ্ঞানের উপদেশ—‘দেহটা খোলমাত্র’

    বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর পূর্ণিমার দিন রাত্রে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁহার ঘরের ছোট খাটটির উপর বসিয়া আছেন। গলার অসুখের জন্য কাতর হইয়াছেন। মাস্টার প্রভৃতি ভক্তেরা মেঝেতে বসিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারের প্রতি)—এক-একবার ভাবি দেহটা খোল মাত্র; সেই অখণ্ড (সচ্চিদানন্দ) বই আর কিছু নাই।

    “ভাবাবেশ হলে গলার অসুখটা একপাশে পড়ে থাকে। এখন ওই ভাবটা একটু একটু হচ্ছে, আর হাসি পাচ্ছে।”

    দ্বিজর ভগিনী ও ছোট দিদিমা ঠাকুরের অসুখ শুনিয়া দেখিতে আসিয়াছেন; তাঁহারা প্রণাম করিয়া ঘরের একপাশে বসিলেন। দ্বিজর দিদিমাকে দেখিয়া ঠাকুর বলিতেছেন, “ইনি কে?— যিনি দ্বিজকে মানুষ করেছেন? আচ্ছা দ্বিজ এমন এমন (একতারা) কিনেছে (Kathamrita) কেন?”

    মাস্টার—আজ্ঞা, তাতে দুইতার আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—একে ওর বাবা বিরুদ্ধ; সব্বাই কি বলবে? ওর পক্ষে গোপনে (ঈশ্বরকে) ডাকাই ভাল।

    শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে দেয়ালে টাঙ্গানো গৌর নিতাইয়ের ছবি একখানা বেশি ছিল; গৌর নিতাই সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া নবদ্বীপে সংকীর্তন করছেন এই ছবি।

    রামলাল (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি)—তাহলে, ছবিখানা এঁকেই (মাস্টারকে) দিলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আচ্ছা; তা বেশ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও হরিশের সেবা

    ঠাকুর কয়েকদিন প্রতাপের ঔষধ খাইতেছেন। গভীর রাত্রে উঠিয়া পড়িয়াছেন, প্রাণ আই-ঢাই করিতেছে। হরিশ সেবা করেন, ওই ঘরেই ছিলেন; রাখালও আছেন; শ্রীযুক্ত রামলাল বাহিরে বারান্দায় শুইয়া আছেন। ঠাকুর পরে বলিলেন (Kathamrita), “প্রাণ আই-ঢাই করাতে হরিশকে জড়াতে ইচ্ছা হল; মধ্যম নারায়ণ তেল দেওয়াতে ভাল হলাম, তখন আবার নাচতে লাগলাম।”

LinkedIn
Share