Tag: bjp

bjp

  • Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের (Kerala) রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। তিরুবনন্তপুরম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে নিজেদের প্রথম মেয়র পেল গেরুয়া শিবির। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ গ্রহণ করেছেন বিজেপি নেতা ভি ভি রাজেশ। বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে রাজ্যের রাজধানী শহরে এই জয় বিজেপির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    কেরলে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল দেখে আসছে। সেখানে বিজেপির এই উত্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির এই সাফল্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেরলের ভারপ্রাপ্ত নেতা শিবরাজ সিং চৌহান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “কেরল বিজেপির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় শ্রী ভি ভি রাজেশকে আন্তরিক অভিনন্দন।”

    বিকল্প খুঁজছে মানুষ

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই জয়কে দলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই জয় প্রমাণ করে যে কেরলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বিজেপির বিকল্প খুঁজছেন। এই জয় কেবল একটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা দখল নয়, এটি কেরলের রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীর মেয়র পদ দখল করা দলের জন্য এক বড় মাইলফলক। ভিভি রাজেশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখের, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী, প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সিকে পদ্মনাভন, ভি মুরলীধরন, কুম্মানাম রাজাশেখরন, কে সুরেন্দ্রন এবং যুব মোর্চা রাজ্য সভাপতি ৷ পুরনিগমের মেয়র নির্বাচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর ৷ তিনি জানান, এই দিনটি কেরল বিজেপির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন ৷ ভিভি রাজেশ জানিয়েছেন, তিনি তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমের ১০১টি ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট হিসেবেই দেখবেন ৷ তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য, উন্নয়নের দিক দিয়ে তিরুঅনন্তপুরম যেন দেশের প্রথম তিনটি শহরের মধ্যে থাকে ৷ এর জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার ৷”

  • Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ হিংসার মাঝে পড়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দোষী ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটি দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই সাজায় (Samserganj Verdict) অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নিহতদের পরিবারের পাশে বিজেপি

    সামশেরগঞ্জের (Shamsergunj) ঘটনা নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত যে রায় শুনিয়েছে তাতে যেমন খুশি নন হরগোবিন্দ দাস (Hargovinda Das) ও চন্দন দাসের (Chandan Das) পরিবার, তেমনই অখুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায়ের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাবেন। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এও বলেন, তাঁদের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি দোষীদের। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও চন্দন দাসের মা পারুল দাস। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও পুলিশ (WBP) আধিকারিকরা বলে এসেছিলেন যে ফাঁসি হবে, কিন্তু হল না। তাঁরা ফাঁসি ছাড়া কিছু চাইছেন না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশের সিট (SIT) সবাইকে একই দোষে দোষী দেখিয়েছিল। আসলে লক্ষ্য একটাই – এদের বাড়ির ভাতের বদলে জেলের ভাত খাওয়ানো। এদের বাঁচিয়ে রাখা। বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি সাহায্য করবেন। দরকারে কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে।

    কীভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা

    ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত জনতা জাফরাবাদ এলাকায় হত্যা করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, দাঙ্গা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব ওরফে কালু নাদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, হাজরত আলি, আকবর আলি ওরফে একবার শেখ এবং ইউসুফ শেখ। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই মামলাটি রাজ্যের অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা। ২৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয়।”

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

    আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে দুই দফা হামলা প্রতিহত করেছিলেন নিহতরা। তবে তৃতীয়বার হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাঁদের হত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা আদালতে ঘটনার বিবরণ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের দাবি, পুলিশের জন্যই দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়নি। তাদের যাবজ্জীবন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছালে প্রাণহানি এড়ানো যেত। নিহত চন্দন দাসের মা পারুল দাস জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য দেখে তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। এসআইটি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক দাবি

    ঘটনার সময় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দায়িত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন, এই ধরনের রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। যদিও বিচারচলাকালীন দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গড়া হয় জেলা পুলিশের তরফে। একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্তরা। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চলে শুনানি। ২২ তারিখ, সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জঙ্গিপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২), ৩১০(২), ৩৩১(৫), ১৯১(৩), ১২৫(২), ১২৬(২) , ৩৩২( এ) এবং ৩(৫) ধারায় মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক।

    রাজ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

    মুর্শিদাবাদের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে দোষীদের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আন্দোলনের সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি।

  • BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে জার্মানিতে রয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সেখানকার বার্লিনে হার্টি স্কুলে ‘পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অফ লিসিনিং’ শীর্ষক এক অধিবেশনে ভাষণ দেন রাহুল। সেখানে তিনি আবারও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন এবং (BJP) ভারতে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ভোট চুরির অভিযোগ রাহুলের (BJP)

    রাহুলের দাবি, কংগ্রেস ২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন ঠিকঠাকভাবে হয়নি। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতভূমির মাথা হেঁট করায় রাহুলের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ বিজেপি। যার জেরে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে পদ্মশিবির। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বারবার ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

    সাংসদকে নিশানা বিজেপির

    বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ভারতের নেতা হওয়ার প্রতি তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর চিন্তাধারায় ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার কথাও ভাবা উচিত নয়। এতেই বোঝা যায়, এই মানুষগুলি ভারতের কত বড় শত্রু।” ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিওয়ারি বলেন, “আজ বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলির মধ্যে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যাব।” একই সুরে রাহুলের সমালোচনা করেন বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়ালও। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশে যান, তখনই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এজন্য দেশের মানুষ তাঁকে কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের বিষয়ে যা বলার, তা দেশের সঙ্গে যুক্ত মঞ্চেই বলা উচিত (BJP)।”

    প্রসঙ্গত, জার্মানির ওই সভায় রাহুল বলেন, “আমরা তেলঙ্গনা ও হিমাচল প্রদেশে নির্বাচন জিতেছি। ভারতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। বিরোধীরা প্রমাণ পেশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবও চেয়েছেন।” ভোটার তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “হরিয়ানায় ভোটার তালিকায় এক ব্রাজিলীয় মহিলার নাম ২২ বার ছিল।” রাহুলের আরও (BJP) অভিযোগ, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চলছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্যবসায়িক মহলকে আর্থিকভাবে বিজেপিকে সমর্থন করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে (Rahul Gandhi), যা একটি ‘কুইড প্রো কো’ বা পারস্পরিক সুবিধার বিনিময়মূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত বহন করে।

  • Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সূচনা করলেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক জনসভায় দলের পতাকা উন্মোচন করে তিনি জানান, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে। সভায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তিনি সর্বোচ্চ ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এবং নির্বাচনের পরে নিজেকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করাই তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য।

    ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন

    নতুন দল তৈরির দিনই বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজে বিধানসভা নির্বাচনে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বহিষ্কার করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। নতুন দলের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও তিনি খোলা রাখছেন। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীর নিজে রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

    কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী, ব্রিগেডের ডাক

    সোমবার দুপুর ১টায় নিজের রাজনৈতিক দলের নাম এবং রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ করা হয় দলের পতাকাও। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রথম প্রার্থীর নামও। হাজী ইবরার হোসেনকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকেই খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। মালদার বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী হচ্ছেন মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী করা হচ্ছে মনীষা পাণ্ডেকে। এরআগে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। অর্থাৎ শুধু মালদা-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রেও ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা দিলেন। সেইসঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, ৯০ আসন জিততে পারলে তাঁর দল রাজ্যে সরকার গঠনের কাণ্ডারি হবে ৷ পাশাপাশি এদিন মঞ্চ থেকে হুমায়ুন জানিয়ে দেন আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি।

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়,  প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির জয় জয়কার। রবিবারই প্রকাশিত হয়েছে এই নির্বাচনের ফল। সেখানে জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংহভাগ আসনই জিতেছে বিজেপি। আর এই নির্বাচনে কার্যত পাত্তা পায়নি কংগ্রেস। মোট আসনের ৯৭ শতাংশেরও বেশি জিতে রাজ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এই ফলাফল রাজ্যের উন্নয়নে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ওপর জনগণের আস্থারই প্রতিফলন বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচনী জয়কে সুশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজেপির জয়-জয়কার

    অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) নির্বাচন কমিশনের অফিস সূত্রে খবর, সেখানকার জেলা পরিষদের ২৪৫টি আসনের মধ্যে ১৭০টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে ৫৯টি আসনে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে, জেলা পরিষদের ২৮টি আসনে জিতেছে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল। সেখানে জেলা পরিষদের মাত্র ৭টি আসন এসেছে কংগ্রেসের দখলে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৫টি আসনে এবং নির্দল ও অন্যান্যরা জিতেছে ২৩টি আসনে। একই ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮২০৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬০৮৫টি আসনে। এর মধ্যে ৫২১১ আসনেই বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ২১৬টি আসনে। এর মধ্যে ১১১টি আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া জয় পেয়েছে কংগ্রেস।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজেপির এই সাফল্যে বলেন, “অরুণাচল প্রদেশের মানুষ সুশাসনের রাজনীতির প্রতি অটল সমর্থন দেখিয়েছেন। বিজেপির প্রতি যে ভালোবাসা তাঁরা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এতে রাজ্যের রূপান্তরের লক্ষ্যে আমাদের সংকল্প আরও দৃঢ় হলো। তৃণমূল স্তরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা বিজেপি কার্যকর্তাদেরও সাধুবাদ জানাই।” মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুও রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি দলের কর্মী ও নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব ও দিশানির্দেশে অরুণাচলকে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট

    আর এক দিকে, ইটানগর পুরসভার ২০টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে বিজেপি। পাসিঘাট পুরসভার নির্বাচনে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল জিতেছে ৫টি আসনে। সেখানে বিজেপি দু’টি আসনে এবং নির্দল জিতেছে একটি আসনে। এই দু’টি পুরসভাতে খাতাই খুলতে পারেনি কংগ্রেস। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায় উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট। দলের কথা, “জেলা পরিষদ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত—সব স্তরেই বার্তা পরিষ্কার: শান্তি, অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার পক্ষে অরুণাচল; নেতৃত্বে এনডিএ।”

  • PM Modi:  “বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিন, দেখুন কত দ্রুত উন্নয়ন হয়”, বললেন মোদি

    PM Modi:  “বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিন, দেখুন কত দ্রুত উন্নয়ন হয়”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘন কুয়াশার জেরে শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরের জনসভায় সশরীরে যোগ দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শেষমেশ কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি ওই জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। এই ভাষণের মাধ্যমেই (BJP) প্রধানমন্ত্রী বাংলায় জঙ্গলরাজের মুক্তি ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখান। ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের স্লোগানের আগে প্রচারের সুরও বেঁধে দেন তিনি। বলেন, এবার “আমাদের স্লোগান হল বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।”

    ঘন কুয়াশার জের (PM Modi)

    এদিন, তাহেরপুরের আকাশে বেশ কয়েকবার চক্কর কেটেও নদিয়ার মাটিতে অবতরণ করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। ঘন কুয়াশার জেরে দৃশ্যমানতা কম থাকায় কলকাতায় ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই ভাষণ দেন অডিও মাধ্যমে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই জানিয়ে দেন, বাংলাকে নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, “মোদি আপনাদের জন্য অনেক কিছু করতে চায়। পয়সা, ইচ্ছে আর যোজনা, কোনওটাই কমতি নেই। বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন। দেখুন আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করি।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    ত্রিপুরার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “বামেরা ত্রিপুরাকে তিন দশক ধরে বরবাদ করে দিয়েছিল। কিন্তু ওখানকার মানুষ বিজেপিকে একবার সুযোগ দিতেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। ডাবল ইঞ্জিনের সরকার সেখানে উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে এসেছে।” তিনি বলেন, “বাংলায়ও বামেদের সরিয়ে মানুষ অনেক আশা নিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাঁদের সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে (BJP)।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বামেরা যাওয়ার পর আশা ছিল ভালো কিছু হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের যাবতীয় খারাপ গুণগুলিকে আত্মস্থ করে নিয়েছে। ফলে অন্যায়-অবিচার আগের থেকেও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এবার তৃণমূলের সরকারকে সরিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে সুযোগ দিলে দ্রুত গতিতে বাংলার বিকাশ হবে।

    বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ

    ত্রিপুরার পর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিজেপির বিপুল জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত মাসে বিহারে এনডিএ সরকার বিরাট জনাদেশ পেয়েছে। তার পরে বলেছিলাম, গঙ্গাজি বিহার থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলায় পৌঁছয়। গঙ্গা বাংলায়ও বিজেপির জয়ের রাস্তা তৈরি করেছে। বিহারে এক সময়ে জঙ্গলরাজ ছিল। বিজেপি তা উপড়ে দিয়েছে (PM Modi)। পশ্চিমবঙ্গে যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে, তার থেকে আমাদের মুক্তি চাই। তাই পশ্চিমবঙ্গের সব গ্রাম, শহর, সব গলি ও পাড়া বলছে, বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই (BJP)।”

    তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা

    অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে এদিন আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “বাংলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্যই এসআইআরের বিরোধিতা করছে। তাঁর কথায়, গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারী বলা উচিত। কিন্তু ওরা গো ব্যাক মোদি বলে। অনুপ্রবেশকারীদের গো ব্যাক বলে না। ওদের ক্ষেত্রে চুপ করে থাকে।” তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। টেনে আনেন কাটমানির প্রসঙ্গও। বলেন, “রাজ্যকে সাহায্য করার সদিচ্ছা বা প্রয়োজনীয় অর্থের কোনও অভাব নেই কেন্দ্রের। কিন্তু রাজ্যে এমন এক সরকার চলছে, যারা ‘কাট’ আর ‘কমিশন’ ছাড়া এক পা-ও এগোতে চায় না। এই কমিশন-রাজ বা কাটমানি কালচারের জেরে কেন্দ্রের পাঠানো হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, এই দুর্নীতির কারণেই সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন শুধু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকারের সমন্বয় থাকলেই রাজ্যের অগ্রগতি নিশ্চিত করা যাবে।” তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একবার বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার বানিয়ে দেখুন। অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের স্নেহধন্য। বহু অনুপ্রবেশকারীকে বাঁচাতেই পশ্চিমবঙ্গে (PM Modi) এসআইআরের (SIR) বিরোধিতা করছে তৃণমূল।”

    ‘বন্দে মাতরম’

    প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল ভাষণে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ। সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি বন্দেমাতরমের গুণগান করা হয়েছে সংসদে। এই বাংলায়ই জন্মেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যখন দেশ পরাধীন, বঙ্কিমবাবু তখন স্বাধীনতার মন্ত্র দিয়েছিলেন বন্দে মাতরম। আর এখন বিকশিত ভারতের মন্ত্রও হয়ে উঠেছে এই বন্দে মাতরম। উল্লেখ্য যে, এদিন তাহেরপুরে যেতে না পারার কারণে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “জয় নিতাই, বড়রা প্রণাম নেবেন (BJP)। সকলকে শুভেচ্ছা। আবহাওয়া খারাপ থাকায় পৌঁছতে পারিনি। এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী (PM Modi)।”

  • BJP: ‘‘রাজ্যে শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছে’’, বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভকে ‘অশ্বডিম্ব’ উল্লেখ শমীক-শুভেন্দুর

    BJP: ‘‘রাজ্যে শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছে’’, বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভকে ‘অশ্বডিম্ব’ উল্লেখ শমীক-শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার এক আমজনতার আইওয়াশের চেষ্টা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)! বুধবার থেকে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভ। মুখ্যমন্ত্রীর এই আইওয়াশের চেষ্টাকে তুলোধনা করল বিজেপি (BJP)। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, বেঙ্গল বিজনেস সামিটে একের পর এক মউ স্বাক্ষরিত হলেও, রাজ্যে শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পোন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি তাদের। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে যতগুলি বেঙ্গল বিজনেস সামিট হয়েছে, তাতে কতগুলি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কত টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেভইয়ার্ড’ (BJP)

    ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেভইয়ার্ড’ নামের এই পুস্তিকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, বিজিবিএসে মোট কত টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ফি বছর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে রাজ্যে আয়োজন করা হয় বেঙ্গল বিজনেস সামিটের। দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরা অংশ নেন এই সামিটে। রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের উদ্দেশে আয়োজন করা হয় এই সম্মেলনে। সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজন হয় ভুরিভোজেরও। বিরোধীদের অভিযোগ, শেষে সেই সামিট প্রসব করে আক্ষরিক অর্থেই অশ্বডিম্ব। নতুন বছরের মার্চ-এপ্রিলেই যেহেতু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, তাই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ২০২৬ সালের বিজিবিএস হবে ভোটের পরে। তবে এর গতি বজায় রাখতে সরকার আয়োজন করেছে এই কনক্লেভের।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ-বাণ

    একেই কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “এবার মুখ্যমন্ত্রী ভারাক্রান্ত এবং ক্লান্ত। তাই নিউটাউনে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের বদলে তাঁর বাড়ির কাছে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে দু’দিনের বিজনেস সামিট করছেন। রাজ্যের (BJP) বিপর্যয়ের বিষয়টি পুস্তিকার আকারে প্রকাশ করেছি। বিজেপি এই পুস্তিকা আগামী কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের (Mamata Banerjee) সব স্তরে এবং বুথ স্তরে ক্যাম্পেনিংয়ের আকারে পৌঁছে দেওয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    শমীকের তির

    বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যে শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ভারী শিল্প ছাড়া বাংলা মুক্তি পাবে না। তৃণমূল ৯২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সিপিএম এমন অবস্থা করে দিয়ে গিয়েছে যে কেউ লিজ নিতেও চাইবে না। তাও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে সবটা দেখবে। কিন্তু তা হয়নি।” শমীকের কথায় উঠে আসে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গও। তিনি জানান, শিল্পের জন্য যদি জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয় (BJP), তাহলে সেটাও করতে হবে, তবে তার আর্থিক অংশীদারি দিতে হবে সেই সব কৃষকদের যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গেরুয়া সৈনিক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন বাংলাকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র হতে দেব না। অথচ সেই মহারাষ্ট্রেই বিদেশি বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বেশ কয়েকগুণ বেশি। পাততাড়ি গুটিয়ে এ রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছেন একের পর এক শিল্পপতি (Mamata Banerjee)।”

    শুভেন্দুর ফিরিস্তি

    শুভেন্দুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তার ঠিক পরের বছর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল ৯০টি, লগ্নির ঘোষণা করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। ২০১৭ সালে মউ চুক্তি হয়েছিল ১১০টি, ঘোষণা করা হয়েছিল বিনিয়োগ করা হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। উনিশে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল ৮৬টি। করোনা অতিমারির পরে ২০২২ সালে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার। তার পরের বছর ৩ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এই বছর মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৮৮টি। শুভেন্দুর অভিযোগ, এতগুলি মউ স্বাক্ষরিত হলেও কার্যকর হয়নি তার সিংহভাগই (BJP)।

    শিল্প কোথায়

    এই সম্মেলন করতে গিয়ে খরচ হয়েছে কত, তারও ফিরিস্তি দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ২০১৬ সালে বাণিজ্য সম্মেলনে ৩০ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৫ কোটি, ২০১৮ সালে ৪০ কোটি, উনিশে ৪৫ কোটি, ২৩ সালে ৫০ কোটি এবং ২০২৪ সালে খরচ হয়েছে ৬৭ কোটি টাকা (Mamata Banerjee)। মোট বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ২০ লাখ কোটি টাকা এবং ৮০০টি মউ স্বাক্ষরিত হলেও, কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে লগ্নির পরিমাণ শূন্য। যেটুকু বিনিয়োগ হয়েছে, তা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। বড় কোনও শিল্প এ রাজ্যে হয়নি (BJP)।

  • Kerala Local Body Polls: ভেঙে পড়ল চার দশকের বামদূর্গ! তিরুঅনন্তপুরমে বিপুল জয় বিজেপির, ধন্যবাদ মোদির

    Kerala Local Body Polls: ভেঙে পড়ল চার দশকের বামদূর্গ! তিরুঅনন্তপুরমে বিপুল জয় বিজেপির, ধন্যবাদ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণে জয়-পতাকা উড়ল বিজেপির। কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে (Kerala Local Body Polls) তিরুঅনন্তপুরমে ঐতিহাসিক জয় পেল এনডিএ। পাঁচ দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ওই পুরনিগমে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরম কর্পোরেশনের মোট ১০১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫১টি ওয়ার্ড গিয়েছে এনডিএ জোটের থলিতে। বামফ্রন্ট এগিয়ে রয়েছে ২৯টি ওয়ার্ডে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর থলিতে গিয়েছে ১৯টি ওয়ার্ড। দু’টি ওয়ার্ডে জিতেছে দু’জন নির্দলীয় প্রার্থী। বাকি একটি ওয়ার্ডে নির্বাচন হয়নি।

    দলের জয়ে শুভেচ্ছা মোদির

    কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের কেন্দ্র, কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের পুরসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং সিপিএম নিয়ন্ত্রিত এলডিএফ জোটকে পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নিল বিজেপি। এই জয়ের জন্য ইতিমধ্যে তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই আঞ্চলিক নির্বাচনে দিবারাত্রি পরিশ্রম করা কার্যকর্তাদেরও। আমি এটাও নিশ্চিত ওই রাজ্যের উন্নয়ন ও বিকাশ নিয়ে মানুষের মনে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের দলই পূরণ করতে পারবে।’কার্যকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এতদিন যে পরিশ্রম করলেন, আজ সেগুলির স্মৃতিচারণের দিন। আমি প্রতিটি বিজেপি কার্যকর্তাকে শুভেচ্ছা জানাই। এই সাফল্য সেই পরিশ্রমেরই ফলাফল।’

    বামেদের দুর্গে ফাটল ধরাল বিজেপি

    এর আগে কেরলের ত্রিশূরের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। তিরুঅনন্তপুরমে লোকসভায় আগের বার দ্বিতীয় স্থানে উঠেছিল গেরুয়া শিবির। এবার পুরনিগম দখল। গেরুয়া শিবির স্বপ্ন দেখছে এবার হয়তো তাদের জন্য কেরল এবং দক্ষিণের রাস্তা খুলবে। তিরুঅনন্তপুরম পুরসভায় বামেদেরই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। বিরোধী হিসাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তবে এ বারের নির্বাচন ছিল ত্রিমুখী। ইউডিএফ, এলডিএফ আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। শনিবার সকালে ভোট গণনা শুরুর পরে প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। বেলা গড়াতেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। ১০১ আসনের তিরুঅনন্তপুরম পুরসভার ৫১টিতে জয় হাসিল করে নেয় এনডিএ। একই সঙ্গে টানা ৪৫ বছর পরে লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জমানার অবসান ঘটল। ক্ষমতাসীন এলডিএফ জিতেছে মাত্র ২৯টি আসনে। পাশাপাশি এলডিএফের হাত থেকে ত্রিপুনিথুরা পুরসভাও ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি জোট।

  • Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে দু’দিনের আলোচনার শেষে জবাবি ভাষণে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে সরব হলেন অমিত শাহ (Amit Shah on SIR)। কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা কবচ দিতেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব। এমনই দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘একজনও বিদেশিকে ভোট দিতে দেব না। আমাদের নীতি হল, ডিকেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।’’ একই সঙ্গে ২২১৬ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এখনও ৫৬৩ কিলোমিটার বেড়া না হওয়ায় দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই।

    ভিনদেশিরা কেন ভোট দেবেন?

    লোকসভায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) আলোচনা-পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ- প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা কেন এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করছেন? ভিনদেশি ভোটারদের কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে? বিরোধীদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘এসআইআর আর কিছু নয়, এটা স্রেফ ভোটার তালিকার সংশোধন। আমি মেনে নিচ্ছি যে এটার কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঘা লাগবে। ওই দলগুলির প্রতি একদিক থেকে আমার সহানুভূতিও আছে। কারণ দেশের ভোটাররা তো ভোট দেন না। কয়েকটি ভোট বিদেশিরা দিয়ে দিতেন, সেটাও চলে যাবে। কিন্তু ভারতীয় হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে এই দেশের সাংসদদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে, রাজ্যের বিধায়কদের নির্বাচনের জন্য বিদেশিদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি? আমাদের মতে, সেটা দেওয়া উচিত নয়।’’

    ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ কেন?

    নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন যে বিজেপিও নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেনি। এখন মমতা, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্টালিনরাও কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। আগে শুধু কংগ্রেস সেই কাজটা করত। কিন্তু বন্ধুত্বের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে ইন্ডি জোটের দলগুলিতেও। তারইমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপরে চটে যান শাহ। বুধবার লোকসভায় শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। বুধবার লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় শাহ বাংলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের দিকে অনুপ্রবেশকারী তোষণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন শীঘ্রই পূর্ণ হবে

    পাশাপাশি, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে বলেই এদিন বার্তা দিলেন শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত হয়ে এদেশে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ছে। আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্য়ে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু ৫৬৩ কিলোমিটার এখনও বাকি। অসম, ত্রিপুরায় কাজ শেষ। শুধু বাংলা এখনও বাকি।’ এই কাঁটাতার না বসানোর নেপথ্যে অনুপ্রবেশকারী তোষণকেই দায়ী করেছেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘রাহুলের মতো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তৃণমূলেরও ওদের মতোই অবস্থা হবে। বিজেপি জয় ছিনিয়ে নেবে।’ অবশ্য শুধু অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই থেমে থাকেননি শাহ। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে আলোচনায় রাজ্য থেকে তৃণমূলকে ‘সাফ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের কথায়, ‘এসআইআর বিরোধিতা করলে বিহারের মতো বাংলা-তামিলনাড়ুতেও সাফ হয়ে যাবে।’

    রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র বিতর্ক

    এর পাশাপাশি বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর অতীতে করা অভিযোগেরও এদিন জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস সাংসদ হরিয়ানায় ভোটচুরির অভিযোগও করেছিলেন। এই নিয়ে রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। রাহুল সংসদে দাঁড়িয়ে শাহকে সাংবাদিক বৈঠক করা নিয়ে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ বলেন, ‘‘সংসদ এভাবে চলবে না। আমি যে ক্রমে কথা বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেব। আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ৩০ বছর ধরে বিধানসভা এবং সংসদে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’’

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা শাহের

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে ভোটচুরি প্রসঙ্গে এদিন শাহ বলেন, ‘‘আপনার পরিবার ভোটচোর। স্বাধীনতার পরে কংগ্রেসের অন্দরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন, যেখানে নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র দু’টি। কিন্তু প্যাটেলের বদলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু। এটিই ছিল দেশের প্রথম ভোটচুরি।’’ নেহরু প্রসঙ্গের পরে জরুরি অবস্থার কথা টেনে শাহ নিশানা করেন ইন্দিরাকে। তিনি বলেন, ‘‘এলাহাবাদ হাইকোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছিল। তখন তিনি গদি বাঁচাতে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন। এটি ছিল গণতন্ত্রের উপর আঘাত এবং ভোটচুরির দ্বিতীয় নির্লজ্জ উদাহরণ।’’ তাঁর নিশানা থেকে বাদ পড়েননি রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধীও। শাহ অভিযোগ করেন, ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘‘সোনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিক হওয়ার আগে কী ভাবে ভোটার হয়েছিলেন? ভোটচুরির এই তৃতীয় উদাহরণটি সম্প্রতি দেওয়ানি আদালতেও গিয়েছে।’’

  • SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ১৬ ডিসেম্বর এসআইআর-এর (SIR In Bengal) খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৬ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। সোমবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে।

    ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায়

    নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৩২। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান।

    মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২ টিতে

    অন্যদিকে, রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই বলে জানা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটারের খোঁজ মেলেনি। তার ফলে পূরণ করা সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম ফেরত আসে। এই অবাক করা তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। রিপোর্ট চায় তারা। এরপর ২২০৮টি যে বুথ ছিল সেটা কমতে কমতে এসে দাঁড়াল ২টি বুথে। প্রথমে ২,২০৮, দ্বিতীয়বার ৪৮০, তৃতীয়বার ২৯, চতুর্থবার ৭ ৭-এর পর এবার মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২টিতে! শুধুমাত্র হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেই এই বুথ রয়েছে। যেখানে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত হওয়া, ডুপ্লিকেট ভোটার নেই। অর্থাৎ, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশন যে ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কথা বলছিল বারবার, সেই প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক প্রমাণিত

    ২২০৮টি বুথে কোনও ‘আন-কালেক্টবল’ ফর্ম নেই, এ বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যের শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, “আমি শুধু একটা কথাই বলব, যদি কেউ মরতে না চান, যদি সারাজীবন বেঁচে থাকতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসুন। নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকবেন। ২০০০-এর উপর বুথে কোনও মৃত্যু হয়নি, কেউ অন্য কোথাও যায়নি, এটাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। অদ্ভুত এক ভূতুড়ে জায়গা। আর জেলা প্রশাসন হচ্ছে গেছো ভূত।” বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা আমাদের পিসি সরকারের ম্যাজিক। আমাদের যে পিসির সরকার…অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওই সমস্ত এলাকায় কেউ মারা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে বলব ওই এলাকাতেই, সবাই নিজের নিজের জেলায় যে বুথে কেউ মারা যায়নি, সেই বুথে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। যাতে কেউ মারা না যান। ওখানে গেলে আপনারা অমরত্ব লাভ করবেন।” এনিয়ে পাল্টা দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দেখা গেল বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক হলো।

LinkedIn
Share