Tag: health tips

health tips

  • Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    Thyroid Problem: থাইরয়েড সমস্যা মোকাবিলার চাবিকাঠি লুকিয়ে ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রে! কীভাবে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা বিপজ্জনক। সচেতনতা আর সতর্কতা থাকলে একাধিক বিপদ কাটানো সহজ হয়ে যায়। থাইরয়েডের সমস্যার ক্ষেত্রেও এই পথেই হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়ছে। বহু মানুষের থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকছে না।‌ এমনকি শিশুদের শরীরেও এই ভারসাম্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। জানুয়ারি মাস থাইরয়েড অ্যাওয়ারনেস মান্থ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, সে সম্পর্কে রোগী অনেক সময়েই জানতে পারেন না। রোগ দেরিতে নির্ণয় হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জেরে অনেক সময়েই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগেও আক্রান্ত হয়। তাই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাই এই বছরে প্রথম থেকেই সচেতনতায় বাড়তি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘চেক ইয়োর নেক’ মন্ত্রেই থাইরয়েডের বিপদ কমানো যাবে। নিজের শরীর সম্পর্কে জানা এবং সে সম্পর্কে সচেতন হলে রোগের জটিলতা আটকানো সহজ।

    কীভাবে মোকাবিলা হবে থাইরয়েড?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, থাইরয়েডের উপসর্গ সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সতর্কতা বাড়লে মানুষের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। গলা বা ঘাড় ফুলে গেলে, গলায় লাগাতার অসুবিধা হলে, ঘাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভব হলে, মাংস পিন্ড উঁচু হয়ে যাচ্ছে এমন অনুভূতি হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গিলতে অসুবিধা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ঘাড় বা গলার সমস্যা হলে তাকে ঠান্ডা লাগার সমস্যা বলে অবহেলা করেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন লাগাতার ঘাড় বা গলায় সমস্যা হলে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষা করা জরুরি। তবেই দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ঘাড় ও গলায় কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা সে নিয়ে নজরদারি করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    কেন থাইরয়েড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    শরীর সুস্থ রাখতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকা জরুরি। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শরীরের অন্যান্য হরমোনের ক্ষরণেও গভীর সমস্যা তৈরি হয়। তাই মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়। থাইরয়েড বন্ধ্যাত্বের কারণও তৈরি করতে পারে। আবার থাইরয়েড মানসিক অবসাদ, উদ্বেগের কারণ। যেহেতু এই হরমোন অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করে, তাই এই থাইরয়েড গ্রন্থিতে সমস্যা থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি অনিদ্রার সমস্যাও বাড়ে।

    এছাড়া, থাইরয়েডের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পেশির দূর্বলতা বাড়ে। পেশির শক্তি কমলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। থাইরয়েড ত্বকের সমস্যা তৈরি করে। ওজন হ্রাস করে। ফলে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। কার্যশক্তি কমে। ফলে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় করে সমস্যা মোকাবিলা জরুরি। দীর্ঘদিন থাইরয়েড অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    ভারতে থাইরয়েড কতখানি বিপজ্জনক?

    ভারতে থাইরয়েডের সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের এই থাইরয়েড সমস্যা কার্যত জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যার শিকার হচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই থাইরয়েড নিয়ে সচেনতা জরুরি। রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Dehydration During Winter: শীতেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! বাড়তি বিপদ শিশুদের, কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    Dehydration During Winter: শীতেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন! বাড়তি বিপদ শিশুদের, কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    ভোরের আলোর দেখা পাওয়াই মুশকিল। সকালের অনেকটা সময়েই কুয়াশা ঢাকা থাকছে। রাজ্যের সর্বত্র জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও বিপদ বাড়াচ্ছে ডিহাইড্রেশন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আবহাওয়াতেও শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর নানান রকম রোগের দাপটের নেপথ্যে থাকছে ডিহাইড্রেশন। তাই শীত পড়লেও সন্তানকে সুস্থ রাখতে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কেন শীতেও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় জলের পরিমাণ কমে গেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শীতের আমেজেও এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তার মূল কারণ কম পরিমাণে জল খাওয়া। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শিশুদের দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু এই আবহাওয়ায় অনেকেই এই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাচ্ছেন না। এর ফলে শরীরে জলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সক্রিয় থাকে। তারা দিনভর ছোটাছুটি করে, নানান রকমের খেলাধুলা করে। তাই তাদের বাড়তি এনার্জি প্রয়োজন। আর শরীরে জলের ঘাটতি হলে সেই এনার্জির ঘাটতি তাড়াতাড়ি হয়। তখন ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

    ডিহাইড্রেশন কোন বিপদ বাড়িয়ে দেয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশন হলে শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। শিশুরা বারবার ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হলে কিডনিতে পাথর, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের মতো নানান রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মূত্রনালীতে সংক্রমণের ভোগান্তিও বাড়ায়।‌ বিশেষত এই শীতের আবহাওয়ায় বহু শিশু ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফরমেশনের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার জেরেই এই ধরনের সংক্রমণ হচ্ছে। আবার ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে জল খুব জরুরি। জল পর্যাপ্ত খেলে তবেই শরীরের সমস্ত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় থাকবে। ফলে শরীরে ক্লান্তি বোধ কমবে। ডিহাইড্রেশন হলে তাই বারবার মাথা ঘোরা, চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময়েই শিশুদের ডায়রিয়া ও বমির মতো সমস্যা দেখা যায়। যার নেপথ্যে ডিহাইড্রেশন থাকে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই আবহাওয়াতেও ডিহাইড্রেশন হচ্ছে। তাই এই সমস্যা এড়াতে এবং সন্তানকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়াতে হবে। গরম হোক বা শীতকাল, শরীর সুস্থ রাখতে জল জরুরি। তাই শিশুকে দিনে দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়াতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় শিশু কতখানি জল খাচ্ছে, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। শীতে নিয়মিত স্নান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই শীতে সন্তানকে নিয়মিত স্নান করান না। এটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। নিয়মিত স্নান করলে শুধু ত্বক পরিষ্কার থাকে এমন নয়। শরীর সুস্থ থাকে। শরীরের শুষ্কতা কমে। জলের পাশপাশি শীতে নানান রকমের স্যুপ খাওয়ায় পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের রাতের কিংবা দুপুরের খাবারের মেনুতে নানান পদের স্যুপ রাখা যেতে পারে। স্যুপে নানান সব্জি থাকে। তরল জাতীয় এই খাবার পুষ্টিকর আবার শরীরে তরলের জোগান দেবে। সবমিলিয়ে একাধিক উপকার পাওয়া যাবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে। রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট। বিশেষত বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, পুরুলিয়ার মতো রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষ শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে নাজেহাল। শীতের এই প্রবল দাপট প্রতিদিনের কাজের গতিও কমিয়ে দিচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা সন্ধ্যার পরে বাইরে যাওয়া এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এমনকি ঘরের ভিতরের নিত্যদিনের কাজ এখন শ্লথ! শীত ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। শরীরের এনার্জি কমিয়ে দিচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে জবুথবু ভাব। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও শীতের দাপটে জবুথবু ভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়াতে শরীরে বাড়তি এনার্জির জোগান জরুরি। সেই কাজে কয়েকটি ঘরোয়া খাবারেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কোন খাবার এই শীতে ক্লান্তি কাটাবে?

    সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি করবে বাজিমাত!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে সুস্থ থাকতে এবং প্রয়োজনীয় এনার্জি সংগ্রহের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জিতেই তাঁরা ভরসা রাখছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিট, গাজর, শাক আলু, মূলোর মতো মূল জাতীয় সব্জি এই আবহাওয়ায় খুব উপকারি। এই ধরনের সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে। পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ পদার্থ শরীরের ক্লান্তিকে সহজেই দূর করে। তাই এই ধরনের সব্জি খেলে ক্লান্তি বোধ কমে। তাছাড়া, মটরশুঁটি, পালং শাক, সিম কিংবা বাঁধাকপির মতো সবুজ সব্জি খনিজ পদার্থের পাশপাশি ফাইবার ভরপুর। ফাইবার শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। তাই শীতকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন জরুরি!

    প্রাণীজ প্রোটিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন শরীরে এনার্জির চাহিদা সহজেই পূরণ করে। তাই শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত পাতে মাছ, মাংস কিংবা ডিমের মতো প্রাণীজ প্রোটিন রাখলে উপকার হবে। এতে পেশি মজবুত হবে। ক্লান্তি ভাব সহজেই কমবে। তবে তাঁদের পরামর্শ, প্রাণীজ প্রোটিন রান্নার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন রান্না করলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাতে ক্ষতি বেশি। তাই কম তেল ও মশলা ব্যবহার করে স্যুপ বা স্ট্রু জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার।

    সন্ধ্যায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ রাতের ঠান্ডা মোকাবিলা করবে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার সন্ধ্যার মেনুতে রাখলে শরীরে বাড়তি উপকার হবে। এই আবহাওয়ায় উপকার পাওয়া যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তার মতো বাদামে খনিজ পদার্থের পাশপাশি উপকারি ফ্যাট থাকে। যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এনার্জির জোগান দেয়। পাশপাশি তিল, তিসি, কুমরো কিংবা সূর্যমুখী ফুলের বীজ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ পতন শুধু কাজের গতি শ্লথ করে না। পাশপাশি এই আবহাওয়ায় হৃদরোগ সহ একাধিক জটিল সমস্যার দাপট বাড়ে। সন্ধ্যায় নানান ধরনের বীজ খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে। স্বাভাবিক কাজ করাও সুবিধা হয়।

    লেবু, আদা এবং রসুন বাড়তি উপকারী!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত লেবু খাওয়া জরুরি। কমলালেবু, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, মাল্টা, কিউই এই জাতীয় যেকোনও ধরনের ফল নিয়মিত খেলে শীতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে সর্দি-কাশির ভোগান্তিও কমে। আর ক্লান্তি বোধ দূর হয়। জবুথবু ভাব কমে। ফলের পাশপাশি আদা ও রসুনের মতো মশলা বিশেষ উপকারি। এই মশলা শরীরের নানান ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। শরীরে এনার্জি জোগান করে। তাই রান্নায় এই দুই মশলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স আট হোক কিংবা পঞ্চাশ, শরীর সুস্থ রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওজন! কোন খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কেন অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে এই নিয়ে এখন স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষ পুষ্টি সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল নন। আর তাই ওজন নিয়ে এত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টির মতো সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। তাঁদের পরামর্শ, হেলদি ওয়েট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ওজন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল থাকলেই নানান জটিলতা এড়ানো সহজ হয়‌।

    দ্রুত ওজন কমানো কি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথে বাধা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, হাড়ের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজেন। কিন্তু তাতেই বিপদ আরও বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব দ্রুত শরীরের ওজন ঝরানোর জন্য অনেকেই ডায়েট করেন, কিংবা অতিরিক্ত সময় জিমে কাটানো শুরু করেন। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে গেলেও নানান দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। যা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে প্রোটিন সম্পূর্ণ বাদ দেন। যা শরীরে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে। প্রোটিন শরীরের পেশি মজবুত রাখতে খুব জরুরি। তাছাড়া ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি জোগানের জন্য ও প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন বর্জিত খাবার খেলে পেশি দূর্বল হয়ে যায়। হাত-পায়ে খিঁচ ধরে। ক্লান্তি ভাব বাড়ে। ফলে স্বাভাবিক কাজ করাও মুশকিল হয়ে পড়ে।

    শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ভিটামিন,ফ্যাট প্রয়োজন। ইচ্ছেমতো যেকোনও উপাদান বাদ দিলেই শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অসচেতন ভাবেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট চার্ট তৈরি করেন। দ্রুত ওজন কমাতে খাবারের তালিকা থেকে বহু উপাদান বাদ পড়ে। আর এর ফলে অপুষ্টির সমস্যা তৈরি হয়। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

    তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে অনেকেই কম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করার পথ বেছে নেন। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ এবং জল বেরিয়ে যায়। যার জেরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    পুষ্টির ঘাটতি এবং পেশির দূর্বলতা শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশি শিথিল হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ডায়েট মানসিক অবসাদ তৈরি করে। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    জানুয়ারি মাসে হেলদি ওয়েট অ্যাওয়ারনেস পালন হয়। অতিরিক্ত ওজন কতখানি বিপজ্জনক সে সম্পর্কে সতর্ক করার পাশপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথ বাছতে হবে সে সম্পর্কেও সচেতনতা চলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ঠিকমতো ডায়েট। প্রথম থেকেই বাড়িতে তৈরি, কম তেল মশলার খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। ভাত, রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কিন্তু অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, সব্জি, ডাল, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে অবশ্যই মাছ-মাংস-ডিম কিংবা পনীর-সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। পরিমিত পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ। নিয়মিত ফল ও বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। তাতে শরীর সুস্থ থাকে। আর প্রতিদিন আধ ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস এবং হাঁটার অভ্যাস নিয়মিত থাকলে হরমোন ক্ষরণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এই পথেই চললে সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনকে কাবু করে সুস্থ থাকা সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Candida Auris: বিশ্বজুড়ে বিপদ বাড়াচ্ছে বিশেষ ছত্রাক! নতুন বছরের শুরুতেই আশঙ্কাবার্তা ‘হু’-র, কতটা ঝুঁকি ভারতে?

    Candida Auris: বিশ্বজুড়ে বিপদ বাড়াচ্ছে বিশেষ ছত্রাক! নতুন বছরের শুরুতেই আশঙ্কাবার্তা ‘হু’-র, কতটা ঝুঁকি ভারতে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের শুরুতেই বিপদের জানান দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আবার বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বিশ্বের একাধিক দেশ। ভোগান্তিও বাড়তে পারে। কারণ এত বছরের পরিচিত দাওয়াই আর কাজে আসছে না। তাই বিপদ বাড়ছে। আগাম সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই তাই আপাতত লড়াই চলুক বলে জানাচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    নতুন বছরে কোন বিপদের আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    নতুন বছরের শুরুতেই বিপদ বাড়াচ্ছে ছত্রাক। ‘ক্যানডিডা অরিয়াস’ নামে এক ছত্রাক বিশ্ব জুড়ে দাপট দেখাতে শুরু করেছে। আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে। আর তার জেরেই আবার নতুন করে স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ক্যানডিডা অরিয়াস নামে এই ছত্রাককে ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমেরিকার একাধিক জায়গায় অসংখ্য মানুষ এই ছত্রাক সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। বাদ নেই দক্ষিণ এশিয়ার নানান দেশ। ত্বক ও রক্তের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে এই ছত্রাক আরেকজনের দেহে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর তার ফলেই নানান জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এমনকি প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে।

    কেন ‘বিপজ্জনক’ এই ছত্রাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্যানডিডা অরিয়াস নামে এই ছত্রাক ত্বকের স্পর্শে ছড়িয়ে পড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ মাপার যন্ত্র কিংবা ক্যাথিটারের মতো চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেও এই ছত্রাক বাসা বাঁধছে। ত্বকের থেকেই রক্তে মিশেছে এই ছত্রাক। আর তারপরেই শরীরে নানান জটিলতা তৈরি করছে। এই ছত্রাকে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান স্পর্শ করলেই খুব দ্রুত এই ছত্রাকের সংক্রমণ হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির অসুখে আক্রান্তের এই ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম থাকলে এই ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে‌। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতাল থেকেই এই ছত্রাক সংক্রমণ দ্রুত হচ্ছে। বিশেষত, ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের শরীরে এই সংক্রমণ দ্রুত দেখা দিচ্ছে। আর তার থেকেই অন্যদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই ছত্রাক ঠেকাতে মূল চ্যালেঞ্জ হল, ওষুধ কাজ করছে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, এত বছর ধরে এই ধরনের ছত্রাক সংক্রমণের বিপদ কমাতে যে ধরনের ওষুধ বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতো, সেগুলো আর এখন কাজ করছে না। আর তার জন্যই এই ছত্রাক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ক্যানডিডা অরিয়াস শরীরে বাসা বাঁধলে বারবার জ্বর, শ্বাসনালীর সংক্রামণের মতো উপসর্গ দেখা যায়। রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া, পুঁজ জমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যশক্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি বিপদের আশঙ্কা রয়েছে?

    ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তরফে জানানো হয়েছে, দেশ জুড়ে ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বাড়ছে। নানান ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কারণে রোগের ভোগান্তিও বাড়ছে। আর এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষমতা হ্রাস। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্টের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। অকারণে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার জেরে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই ব্যাকটেরিয়া কিংবা ছত্রাককে কাবু করতে পারছে না।‌ তাই শরীরে এই ধরনের সংক্রমণ বিপদ বাড়াচ্ছে।

    অন্যান্য দেশের মতো ক্যানডিডা অরিয়াস ভারতের জন্যও বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বাড়তি সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে পরিচ্ছন্নতা জরুরি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শরীর পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরা, হাত ও পা সাবান দিয়ে ধোয়া এবং শুকনো করে মুছে ফেলা জরুরি। অতিরিক্ত সময় ভেজা থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। বাড়িতে শিশু থাকলে পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলক ভাবে কম থাকে। তাই ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। কেউ এই ছত্রাকে আক্রান্ত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, যে আক্রান্তকে দেখভাল করছেন, তাঁরও আলাদা থাকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কারণ সংক্রমণ রুখতে এই আলাদা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই লাগামহীন দূষণ! আর তার জেরেই কলকাতাবাসীর জন্য কয়েক গুণ বিপদ বাড়ল। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।‌ নতুন বছরের শুরুতে উদযাপনে গা ভাসিয়েছেন আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ! কিন্তু এই উৎসব-উদযাপনের মরশুমেই কলকাতার বায়ুদূষণ (Kolkata Air Pollution) টেক্কা দিচ্ছে দেশের অন্যান্য শহরকেও! তাই নতুন বছরে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কেন কলকাতার ‘বাতাস’ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন কলকাতা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল বেশ উদ্বেগজনক। বাতাসের মান তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিনে কলকাতার অধিকাংশ জায়গায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Kolkata AQI Level) ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিধাননগরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিলো ৩৫৩, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ৩৪৩, বালিগঞ্জে ৩৬১। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এআইকিউ ৫০ মধ্যে থাকলে তবেই সেই বাতাস শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মক খারাপ। তার ফলে নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ফুসফুসের একাধিক রোগের কারণ!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই মারাত্মক বায়ুদূষণের জেরে শরীরে গভীর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই আবহাওয়ার জেরে ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হন। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের কাশি-সর্দির মতো নানান ভোগান্তি বাড়ে। আবার অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। তার উপরে এই মারাত্মক বায়ুদূষণ সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে গেলে, দূষিত উপাদানের মাত্রা বাড়লে ফুসফুসের উপরে চাপ বাড়ে। দূষিত উপাদান ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়াও হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), নিউমোনিয়ার মতো নানান রোগের দাপট বাড়াতে পারে। তাই বায়ুদূষণ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে!

    ফুসফুসের পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় বায়ুদূষণ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে রক্তপ্রবাহেও দূষিত উপাদান প্রবেশ করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    মস্তিষ্কের বিকাশের পথে বাধা!

    বায়ুদূষণের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র। এমনটাই জানাচ্ছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন দূষিত বাতাসের জেরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতে বিশেষত স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য দূষণহীন আবহাওয়া জরুরি। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত নয়। এই বাতাসে নানান স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুদের পাশপাশি দূষিত বাতাস বড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদের মতো নানান সমস্যা তৈরি হয়।

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত পরিবেশ ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাতাসের এই খারাপ গুণমান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, বক্ষঃনালীর জন্য বিপজ্জনক। এই ক্ষতিকারক উপাদান নিঃশ্বাসের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে শরীরে প্রবেশ করছে। আর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। লাগাতার দূষিত উপাদান শরীরে প্রবেশের জেরে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশু, কিশোর এবং বয়স্কদের। তাঁরা সবচেয়ে বেশি এর ফলে স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হন। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, বায়ুদূষণ রুখতে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের একযোগে সচেতনতা ও সক্রিয়তা জরুরি। তবেই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হবে।

  • Coriander Leaves: শীতের রকমারি রান্নায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ধনেপাতা কুচি! শরীরে এর কী প্রভাব পড়ছে?

    Coriander Leaves: শীতের রকমারি রান্নায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ধনেপাতা কুচি! শরীরে এর কী প্রভাব পড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফুলকপি, সিম দিয়ে বাঙালির শীতকালীন মাছের ঝোল হোক কিংবা মটরশুঁটির কচুরির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গী হওয়া আলুর দম! উপকরণ বা পদ যাই হোক না কেন, শীতের মরশুমে যেকোনও রান্নার শেষে কুচি করা ধনেপাতা ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও গরম ভাতের সঙ্গে ধনেপাতা বাটা বা ধনেপাতার চাটনি, বাঙালির অতি প্রিয় শীতকালীন পদ। কিন্তু এই ধনেপাতা শরীরের জন্য কতখানি উপকারি! শীতকালে ধনেপাতা খেলে কি, স্বাস্থ্যের বাড়তি কোনও লাভ হয়! চিকিৎসকদের একাংশ অবশ্য জানাচ্ছেন, ধনেপাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। নিয়মিত রান্নায় ধনেপাতা ব্যবহার করলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। বিশেষত শীতের নানান স্বাস্থ্য বিপর্যয় সহজেই এড়ানো যায়‌।

    ধনেপাতা খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

     

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে!

    ডায়াবেটিসের বোঝা বাড়ছে। কম বয়সী এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আর তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ধনেপাতা বিশেষ সাহায্য করে। ধনেপাতা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ধনেপাতা খাওয়া বাড়তি লাভজনক।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই পিঠে, পায়েস কিংবা কেক জাতীয় নানান মিষ্টির পদ খান। একাধিক উৎসব উদযাপনের ভোজে শেষ পাতে এক টুকরো মিষ্টি মুখে দেওয়া হয়। আর সেটাই বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করে। এই অবস্থায় রান্নায় নিয়মিত ধনেপাতা ব্যবহার করলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়‌।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রেই হৃদরোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ধনেপাতা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। শীতের মরশুমে অনেকেই চর্বি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খান। এর ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আবার ধনেপাতা শরীরের উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে!

    শীতে রক্তচাপের সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কমে। এর ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। তাই রক্তচাপ ওঠানামা করে। অধিকাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। আর তার জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকিও এই সময়ে বেড়ে যায়। ধনেপাতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই নিয়মিত ধনেপাতা খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে। এছাড়াও ধনেপাতা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের খনিজ পদার্থে ভরপুর। এর ফলে নিয়মিত ধনেপাতা খেলে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ সহজ হয়। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল থাকলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। জ্বর-সর্দি বা ফুসফুসের সংক্রমক। আর এই সব ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে রোগ প্রতিরোধ শক্তির অভাব। সংক্রামক রোগের ভোগান্তি কমাতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো জরুরি। সেই কাজে ধনেপাতা সাহায্য করে।

    শীতে ত্বকের সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ সাহায্য করে!

    ধনেপাতা ভিটামিনে ভরপুর। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতা খেলে ত্বকের সমস্যা কমে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ধনেপাতা কোলারেজ তৈরিতে বিশেষ সাহায্য করে। শীতে অনেকেই ত্বকের একাধিক সমস্যায় ভোগেন। ধনেপাতা সেই সমস্যা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Vitamin B: শরীরে কতখানি জরুরি ভিটামিন বি? কীভাবে ঘাটতি মেটাবেন?

    Vitamin B: শরীরে কতখানি জরুরি ভিটামিন বি? কীভাবে ঘাটতি মেটাবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ করার শক্তিও থাকছে না। সামান্য কারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। হাত-পা অসাড়‌! মাঝেমধ্যেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়। আবার খাবার ইচ্ছেও থাকে না। সবমিলিয়ে বাড়ছে ক্লান্তি বোধ। একধরনের বিষন্নতা গ্রাস করছে। ক্রমশ এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে একটি ভিটামিনের ঘাটতি। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভিটামিন বি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতাই এই ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর তার ফলে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ছে।

    ভিটামিন বি ঘাটতি শরীরে কী সমস্যা তৈরি করে?

    রক্তাল্পতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি ঘাটতি হলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি লোহিত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এই লোহিত কোণিকা রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেই উপাদান পর্যাপ্ত তৈরি না হলেই রক্তাল্পতার সমস্যা হয়।

    অন্ত্রের একাধিক রোগ!

    অন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন বি খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি অভাব ঘটলে অন্ত্রের নানান সমস্যা হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। লাগাতার পেটের সমস্যা হতে থাকে। খাওয়ার ইচ্ছে কমতে থাকে। এর ফলে দূর্বলতা, অপুষ্টি আরও বাড়ে।

    স্নায়ুর রোগের কারণ!

    ভিটামিন বি অভাবে স্নায়ুর একাধিক সমস্যা হয়। এই ভিটামিনের অভাবে ক্লান্তি বোধ বাড়ে। হাত ও পায়ের স্নায়ুর শক্তি কমে। সামান্য হাঁটাহাঁটি করলেই ঝিনঝিন ভাব বাড়ে। অসাড়তা হয়। চলার ভারসাম্য কমে। স্নায়ুর শক্তি কমার জেরেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও কমে। স্মৃতিশক্তি কমে। ভারসাম্য নষ্ট হয়। জীবনের নানান কাজে এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করে।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা তৈরি করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেও এই ভিটামিনের অভাব প্রভাব ফেলে। ভিটামিন বি ঘাটতি হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ক্লান্তি বোধ অতিরিক্ত রাগের কারণ হয়ে ওঠে। অকারণেই রাগ, বিষন্নতা মনকে আচ্ছন্ন করে। যা মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    ত্বক ও চুলের একাধিক সমস্যার কারণ!

    ভিটামিন বি অভাব ত্বকের উপরে গভীরভাবে পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়। ত্বকের উপরে ঘা হয়। ত্বকের পাশপাশি চুলের সমস্যাও দেখা যায়। চুল পড়ার অন্যতম কারণ ভিটামিন বি ঘাটতি।

    গর্ভবতীর জন্য বাড়তি বিপদ!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভবতীর জন্য ভিটামিন বি ঘাটতি খুবই বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের ভিটামিন বি অভাব হলে শিশুর স্নায়বিক গঠনে ত্রুটি হতে পারে। যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।

    কীভাবে ভিটামিন বি ঘাটতি মেটাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি ঘাটতি পূরণ করবে খাবার। নিয়মিত কিছু ঘরোয়া খাবার মেনুতে রাখলেই এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। কিন্তু পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত মেনুতে ডাল থাকা জরুরি। মুগ, মুসুর, মটর কিংবা ছোলা, যেকোনও ডাল নিয়মিত খেলে ভিটামিন বি ঘাটতি মেটানো সহজ হয়। ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে ডাল অবশ্যই খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে ভিটামিনের ঘাটতি সহজেই পূরণ হয়।

    ডালের পাশপাশি পালং শাক, ব্রোকলির মতো সব্জি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত সবুজ সব্জি খেলে ভিটামিন বি ঘাটতি সহজেই পূরণ হয়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের নানান পুষ্টি ঘটিত সমস্যার মূল কারণ পর্যাপ্ত সবুজ সব্জি না খাওয়া। নিয়মিত সবুজ সব্জি খেলে এই ধরনের সমস্যা সহজেই এড়ানো‌ যায়।

    নিয়মিত মাছ, মুরগীর মাংস, ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের প্রাণীজ খাবার প্রোটিনের পাশপাশি ভিটামিন বি চাহিদা সহজেই পূরণ করে। তাছাড়া এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে রোজ দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত দুধ খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা পূরণ সহজ হয়।

    পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে, ঘরের তৈরি রুটি, সব্জি, ডাল কিংবা ডিম সেদ্ধ, চিকেন স্ট্রুর মতো খাবার শরীরের জন্য খুবই উপকারি। এগুলো অতিরিক্ত ওজনের কারণ হয় না। বরং শরীরের প্রয়োজনীয় সমস্ত চাহিদা পূরণ করে। নানান রোগ রুখতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেলে একাধিক রোগ মোকাবিলাও সহজ হয়ে যায়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে! সকালের কুয়াশা আর সন্ধ্যার ঠান্ডা হাওয়ায় কাবু বঙ্গবাসী। তবে শীতের মরশুমে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীত পড়তেই অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন। বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যায় জেরবার। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে। তার উপরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস না থাকলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    কেন শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে?

    জল পর্যাপ্ত পরিমাণে না খাওয়া!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে জল তেষ্টা কম পায়। তাই অনেকেই ফি-দিনের জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন। শরীর সুস্থ রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা এড়াতে শরীরে পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। নিয়মিত কমপক্ষে চার লিটার জল খাওয়া দরকার। শিশুদের নিয়মিত দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু শীতে অনেকেই এই পর্যাপ্ত জল খায় না। তার জেরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে।

    অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শরীরে ফাইবারের জোগান ঠিকমতো থাকা জরুরি। কিন্তু শীতের মরশুমে অনেকেই নানান উৎসব উদযাপন করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, বিভিন্ন উদযাপনেই থাকে দেদার খানাপিনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠানের খাবারের মেনুতে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় শাক-সব্জি থাকে না। শরীর সবুজ শাক-সব্জি থেকেই প্রয়োজনীয় ফাইবার সংগ্রহ করে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

    শারীরিক কসরতের অভাব!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ক্লান্তিভাব বাড়ে। অনেকেই বছরভর শারীরিক কসরত করলেও, শীতে নিয়মিত যোগাভ্যাস কিংবা নিয়ম মাফিক হাঁটাচলা করেন না। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে। শারীরিক কসরত করলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়।

    হজমের সমস্যা!

    হজম ঠিকমতো না হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়বে। শীতের মরশুমে হজমের সমস্যা বাড়ে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার কিংবা তেলেভাজা বেশি খান। আর এর ফলেই হজমের সমস্যা হয়। যার জেরেই এই মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে‌।

    কীভাবে সমস্যা কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি করলেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভোগান্তিও কমবে।

    ফাইবার জাতীয় খাবার জরুরি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের নিয়মিত ফাইবার জাতীয় ফল ও সব্জি খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন পালং শাক, গাজর, ব্রোকলির মতো সব্জি, কলা, কমলালেবুর মতো ফল নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ওটস কিংবা বাজরার মতো দানাশস্য নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

    নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি!

    শরীর সুস্থ থাকলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করবে এই অভ্যাস। বিশেষত বয়স্কদের জন্য এই অভ্যাস খুব উপকারি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এর ফলে হজম ভালো হবে। অন্ত্র, পাকস্থলী, লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়বে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে শিশুদের নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জল পর্যাপ্ত খাওয়া হচ্ছে কিনা সে দিকে নজর জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতেও শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। নিয়ম মাফিক প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Child Anger Issues: একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ! নেপথ্যে কি হরমোন নাকি অন্য কোনও সমস্যা?

    Child Anger Issues: একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ! নেপথ্যে কি হরমোন নাকি অন্য কোনও সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দোকানে থাকা পছন্দের খেলনা কেনার বায়না হোক কিংবা অতিরিক্ত সময় স্ক্রিন টাইম পাওয়ার ইচ্ছেপূরণ, প্রতিদিনের যেকোনও সামান্য বিষয়েই ‘না’ শোনার অভ্যাস নেই বাড়ির খুদে সদস্যের। আর তাই বাড়ছে বিপদ! একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ। অপছন্দের যে কোনও বিষয়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবক। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের এই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু নির্দিষ্ট উপায় রয়েছে। তবে তার আগে রাগের কারণ সম্পর্কে অভিভাবকদের ওয়াকিবহাল হওয়া জরুরি। তিন থেকে চার বছর বয়স থেকেই এই বিষয়ে অবগত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে অনেকক্ষেত্রেই ছোটোবেলায় পরিবারের অসতর্কতার জেরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ হয় না। বয়ঃসন্ধিকালে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিষয়ত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই রাগ মারাত্মক ভাবে প্রকাশিত হয়। যা খুব সংবেদনশীল ভাবেই মোকাবিলা করা জরুরি।

    সন্তানের অতিরিক্ত রাগের নেপথ্যে কী?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের অতিরিক্ত রাগের নেপথ্যে মূলত রয়েছে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশুই এই সমস্যায় ভোগেন। এটি একটি আচরণগত সমস্যা। যেকোনও কিছুর বায়না করলে অভিভাবকদের থেকে আদায় করার জন্য তারা অতিরিক্ত রাগ দেখায়। অনেক সময়েই রাগ সামলানোর জন্য পরিবার তাদের দাবি মেনে নেয়। সেক্ষেত্রে শিশুর মনে হয় তার পছন্দের জিনিস পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো রাগের বহিঃপ্রকাশ।

    তবে এছাড়াও শিশুর অতিরিক্ত রেগে যাওয়ার অন্যতম কারণ উদ্বেগ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুরাও মানসিক উদ্বেগে ভোগে। অনেক সময়েই পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্কদের সমস্যা কিংবা জটিলতা শিশুর সামনেই আলোচনা হয়। শিশুর পক্ষে সবকিছু বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু তারা কিছুটা নিজেদের মতো করে বোঝার চেষ্টা করে। আর মানসিক উদ্বেগ তৈরি হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে শিশুর এই উদ্বেগ বাড়ে। অনেক সময়েই রাগের মাধ্যমেই সেই উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

    শৈশব থেকেই এই অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বয়ঃসন্ধিকাল তার জটিলতা বাড়ে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের শরীরে একাধিক হরমোন পরিবর্তন ঘটে। যার জেরে কমবেশি সব ছেলেমেয়েদের মধ্যেই নানান ধরনের মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ তৈরি হয়। তার জেরে রাগ, মন খারাপ কিংবা খিটখিটে মেজাজ দেখা যায়। তবে শৈশবে রাগের সমস্যা থাকলে তাদের মানসিক জটিলতা আরও বাড়ে। বিশেষত শৈশবে কোনো কারণে ট্রমা বা কোনো ঘটনায় অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকলে, ভয় পেলে বয়ঃসন্ধিকালে তা অতিরিক্ত রাগের কারণ হয়ে ওঠে। তখন পরিস্থিতি সামলানো আরও কঠিন হয়।

    সন্তানের অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে প্রথম থেকেই নজরদারি করলে এবং সতর্ক থাকলে সন্তানের অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ কিছুটা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, শিশুর অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শুধুই বকাবকি করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং এই ধরনের আচরণগত সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের পরামর্শ জরুরি। কিছু থেরাপির মাধ্যমে এই আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

    শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ প্রথম থেকেই জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাধারণত মোবাইলের পর্দায় যেসব জিনিস শিশুরা দেখে, সেগুলো অতিরিক্ত দ্রুত ঘটে। এমন একাধিক ভিডিও রয়েছে, যেখান কয়েক মিনিটের মধ্যে নানান অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে। লাগাতার এই ধরনের ভিডিও দেখার ফলে শিশুর মস্তিষ্কে একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ু উত্তেজিত হওয়ার জেরে মানসিক অস্থিরতা হয়। যার ফলে সামান্য কারণেও শিশু তীব্র প্রতিক্রিয়া করে।

    বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের রাগের অন্যতম কারণ হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাই এই বয়সের ছেলেমেয়েদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে আরও বেশি সংবেদনশীলতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত রেগে গেলে জানা জরুরি, তারা কোনও হেনস্থার শিকার হচ্ছে কিনা। স্কুল বা পরিবারের কেউ তাদের শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে হেনস্থা করছে কিনা। আবার সোশাল নেটওয়ার্ক সাইটেও এখন বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েরা খুব সক্রিয়। সেখানে তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সে সম্পর্কেও অভিভাবকদের ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তবে এই সব কিছুই করতে হবে কথা বলে, সংবেদনশীল ভাবেই। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব।

    প্রথম থেকেই শিশুর যোগাভ্যাস থাকা জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। আবার মস্তিষ্কের স্নায়ু ঠিকমতো কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। সন্তানের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সে দিকেও নজরদারি জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুম ঠিকমতো হলে তবেই মস্তিষ্ক ঠিকমতো সক্রিয় থাকবে। স্নায়ু সচল থাকবে। হরমোন ঘটিত সমস্যা কমবে। রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই সন্তান যাতে প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমোতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হোক কিংবা তেরো বছর! অতিরিক্ত রাগের সমস্যা থাকলে, তা মোকাবিলা করার জন্য কখনোই অভিভাবক রেগে গেলে চলবে না। রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটলে সন্তানের রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share