Tag: health tips

health tips

  • Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে! সকালের কুয়াশা আর সন্ধ্যার ঠান্ডা হাওয়ায় কাবু বঙ্গবাসী। তবে শীতের মরশুমে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীত পড়তেই অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন। বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যায় জেরবার। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে। তার উপরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস না থাকলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    কেন শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে?

    জল পর্যাপ্ত পরিমাণে না খাওয়া!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে জল তেষ্টা কম পায়। তাই অনেকেই ফি-দিনের জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন। শরীর সুস্থ রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা এড়াতে শরীরে পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। নিয়মিত কমপক্ষে চার লিটার জল খাওয়া দরকার। শিশুদের নিয়মিত দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু শীতে অনেকেই এই পর্যাপ্ত জল খায় না। তার জেরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে।

    অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শরীরে ফাইবারের জোগান ঠিকমতো থাকা জরুরি। কিন্তু শীতের মরশুমে অনেকেই নানান উৎসব উদযাপন করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, বিভিন্ন উদযাপনেই থাকে দেদার খানাপিনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠানের খাবারের মেনুতে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় শাক-সব্জি থাকে না। শরীর সবুজ শাক-সব্জি থেকেই প্রয়োজনীয় ফাইবার সংগ্রহ করে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

    শারীরিক কসরতের অভাব!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ক্লান্তিভাব বাড়ে। অনেকেই বছরভর শারীরিক কসরত করলেও, শীতে নিয়মিত যোগাভ্যাস কিংবা নিয়ম মাফিক হাঁটাচলা করেন না। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে। শারীরিক কসরত করলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়।

    হজমের সমস্যা!

    হজম ঠিকমতো না হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়বে। শীতের মরশুমে হজমের সমস্যা বাড়ে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার কিংবা তেলেভাজা বেশি খান। আর এর ফলেই হজমের সমস্যা হয়। যার জেরেই এই মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে‌।

    কীভাবে সমস্যা কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি করলেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভোগান্তিও কমবে।

    ফাইবার জাতীয় খাবার জরুরি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের নিয়মিত ফাইবার জাতীয় ফল ও সব্জি খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন পালং শাক, গাজর, ব্রোকলির মতো সব্জি, কলা, কমলালেবুর মতো ফল নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ওটস কিংবা বাজরার মতো দানাশস্য নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

    নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি!

    শরীর সুস্থ থাকলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করবে এই অভ্যাস। বিশেষত বয়স্কদের জন্য এই অভ্যাস খুব উপকারি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এর ফলে হজম ভালো হবে। অন্ত্র, পাকস্থলী, লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়বে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে শিশুদের নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জল পর্যাপ্ত খাওয়া হচ্ছে কিনা সে দিকে নজর জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতেও শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। নিয়ম মাফিক প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Child Anger Issues: একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ! নেপথ্যে কি হরমোন নাকি অন্য কোনও সমস্যা?

    Child Anger Issues: একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ! নেপথ্যে কি হরমোন নাকি অন্য কোনও সমস্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দোকানে থাকা পছন্দের খেলনা কেনার বায়না হোক কিংবা অতিরিক্ত সময় স্ক্রিন টাইম পাওয়ার ইচ্ছেপূরণ, প্রতিদিনের যেকোনও সামান্য বিষয়েই ‘না’ শোনার অভ্যাস নেই বাড়ির খুদে সদস্যের। আর তাই বাড়ছে বিপদ! একরত্তির বয়সের সঙ্গে বাড়ছে রাগ। অপছন্দের যে কোনও বিষয়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবক। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের এই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু নির্দিষ্ট উপায় রয়েছে। তবে তার আগে রাগের কারণ সম্পর্কে অভিভাবকদের ওয়াকিবহাল হওয়া জরুরি। তিন থেকে চার বছর বয়স থেকেই এই বিষয়ে অবগত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে অনেকক্ষেত্রেই ছোটোবেলায় পরিবারের অসতর্কতার জেরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ হয় না। বয়ঃসন্ধিকালে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিষয়ত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই রাগ মারাত্মক ভাবে প্রকাশিত হয়। যা খুব সংবেদনশীল ভাবেই মোকাবিলা করা জরুরি।

    সন্তানের অতিরিক্ত রাগের নেপথ্যে কী?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের অতিরিক্ত রাগের নেপথ্যে মূলত রয়েছে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশুই এই সমস্যায় ভোগেন। এটি একটি আচরণগত সমস্যা। যেকোনও কিছুর বায়না করলে অভিভাবকদের থেকে আদায় করার জন্য তারা অতিরিক্ত রাগ দেখায়। অনেক সময়েই রাগ সামলানোর জন্য পরিবার তাদের দাবি মেনে নেয়। সেক্ষেত্রে শিশুর মনে হয় তার পছন্দের জিনিস পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো রাগের বহিঃপ্রকাশ।

    তবে এছাড়াও শিশুর অতিরিক্ত রেগে যাওয়ার অন্যতম কারণ উদ্বেগ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুরাও মানসিক উদ্বেগে ভোগে। অনেক সময়েই পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্কদের সমস্যা কিংবা জটিলতা শিশুর সামনেই আলোচনা হয়। শিশুর পক্ষে সবকিছু বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু তারা কিছুটা নিজেদের মতো করে বোঝার চেষ্টা করে। আর মানসিক উদ্বেগ তৈরি হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে শিশুর এই উদ্বেগ বাড়ে। অনেক সময়েই রাগের মাধ্যমেই সেই উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

    শৈশব থেকেই এই অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বয়ঃসন্ধিকাল তার জটিলতা বাড়ে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের শরীরে একাধিক হরমোন পরিবর্তন ঘটে। যার জেরে কমবেশি সব ছেলেমেয়েদের মধ্যেই নানান ধরনের মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ তৈরি হয়। তার জেরে রাগ, মন খারাপ কিংবা খিটখিটে মেজাজ দেখা যায়। তবে শৈশবে রাগের সমস্যা থাকলে তাদের মানসিক জটিলতা আরও বাড়ে। বিশেষত শৈশবে কোনো কারণে ট্রমা বা কোনো ঘটনায় অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকলে, ভয় পেলে বয়ঃসন্ধিকালে তা অতিরিক্ত রাগের কারণ হয়ে ওঠে। তখন পরিস্থিতি সামলানো আরও কঠিন হয়।

    সন্তানের অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে প্রথম থেকেই নজরদারি করলে এবং সতর্ক থাকলে সন্তানের অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ কিছুটা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, শিশুর অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শুধুই বকাবকি করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং এই ধরনের আচরণগত সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের পরামর্শ জরুরি। কিছু থেরাপির মাধ্যমে এই আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

    শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ প্রথম থেকেই জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাধারণত মোবাইলের পর্দায় যেসব জিনিস শিশুরা দেখে, সেগুলো অতিরিক্ত দ্রুত ঘটে। এমন একাধিক ভিডিও রয়েছে, যেখান কয়েক মিনিটের মধ্যে নানান অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে। লাগাতার এই ধরনের ভিডিও দেখার ফলে শিশুর মস্তিষ্কে একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ু উত্তেজিত হওয়ার জেরে মানসিক অস্থিরতা হয়। যার ফলে সামান্য কারণেও শিশু তীব্র প্রতিক্রিয়া করে।

    বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের রাগের অন্যতম কারণ হরমোন ঘটিত পরিবর্তন। তাই এই বয়সের ছেলেমেয়েদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে আরও বেশি সংবেদনশীলতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত রেগে গেলে জানা জরুরি, তারা কোনও হেনস্থার শিকার হচ্ছে কিনা। স্কুল বা পরিবারের কেউ তাদের শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে হেনস্থা করছে কিনা। আবার সোশাল নেটওয়ার্ক সাইটেও এখন বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েরা খুব সক্রিয়। সেখানে তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সে সম্পর্কেও অভিভাবকদের ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তবে এই সব কিছুই করতে হবে কথা বলে, সংবেদনশীল ভাবেই। তবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব।

    প্রথম থেকেই শিশুর যোগাভ্যাস থাকা জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। আবার মস্তিষ্কের স্নায়ু ঠিকমতো কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। সন্তানের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সে দিকেও নজরদারি জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুম ঠিকমতো হলে তবেই মস্তিষ্ক ঠিকমতো সক্রিয় থাকবে। স্নায়ু সচল থাকবে। হরমোন ঘটিত সমস্যা কমবে। রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই সন্তান যাতে প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমোতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হোক কিংবা তেরো বছর! অতিরিক্ত রাগের সমস্যা থাকলে, তা মোকাবিলা করার জন্য কখনোই অভিভাবক রেগে গেলে চলবে না। রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটলে সন্তানের রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Magnesium Deficiency: প্রায়ই খিটখিটে মেজাজ কিংবা হাঁটতে গেলেই পেশির টান! কীসের লক্ষণ?

    Magnesium Deficiency: প্রায়ই খিটখিটে মেজাজ কিংবা হাঁটতে গেলেই পেশির টান! কীসের লক্ষণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে গেলেও সমস্যা।‌ মাঝেমধ্যেই পেশিতে টান। খিঁচুনির জেরে ভোগান্তি। হাড়ের মধ্যেও যন্ত্রণা! যার জেরে সাধারণ কাজ করতেও অসুবিধা হয়। আবার মাঝেমাঝেই মন খারাপ! মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। সামান্য কারণেও রাগ! যার জেরে সম্পর্কে অবনতি। এমন নানান সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। বিশেষত মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। আর এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে একটি খনিজ পদার্থ! যার ঘাটতির জেরেই শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব নানান ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে বহু মহিলা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে‌ ভুগছেন। এর ফলে তাঁরা নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই খনিজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। তাই ভোগান্তি আরও বেশি।

    ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

    পেশিতে খিঁচুনি, স্নায়ুর অসাড়তা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় পেশি এবং স্নায়ু। হাত ও পায়ের পেশিতে খিঁচুনি, স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই এই ধরনের সমস্যার জেরে ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। হঠাৎ করে হাতে ও পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরার অনুভূতির জেরে পড়ে যান। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন‌ ব্যহত হয়।

    মানসিক স্বাস্থ্যে জোরালো প্রভাব!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব শরীরের পাশপাশি মনের উপরেও পড়ে। মানসিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব গভীর। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতাও কমে। হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব দেখা যায়। এর ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। যার জেরে ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কাজের জগতেও নানান জটিলতা তৈরি হয়। যা মানসিক চাপ তৈরি করে। ম্যাগনেশিয়াম অভাব ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন করে।

    অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করে!

    ম্যাগনেশিয়ামের অভাব অনিদ্রার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত রাতে ঠিকমতো গভীর ঘুম হয় না। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনিদ্রার ফলে শরীরে ক্লান্তি বোধ বাড়ে। কাজে মনোযোগ ঠিকমতো হয় না।

    শরীরে দূর্বলতা বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির জেলে পেশি ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এর ফলে খিদে না পাওয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। যার প্রভাবে শরীরে দূর্বলতা বাড়ে।

    হাড়ের সমস্যা তৈরি হয়!

    ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে হাড়ের নানান সমস্যা দেখা যায়। হাড়ের মধ্যে যন্ত্রণা হয়। হাড়ের শক্তি কমে। এর ফলে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দেয়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি, বিশেষত হার্ট অ্যাটাকের মতো বিপদ দেখা দিতে পারে।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ কীভাবে হবে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে পারে খাবার। ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ধরনের সমস্যা সহজেই এড়ানো যায়। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত ব্রোকলি, পালং শাক, কলমি শাকের মতো সবুজ সব্জি ও শাক খেলে শরীর সহজেই ম্যাগনেশিয়াম পায়। ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

    পাশাপাশি সকালের জলখাবার হোক কিংবা সন্ধ্যার স্ন্যাকস টাইম, অন্যান্য খাবার খাওয়ার পাশপাশি নানান ধরনের বীজ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হবে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, সূর্যমুখীর বীজ, মিষ্টি কুমড়োর বীজে থাকে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম। আবার এর পাশপাশি বাদাম ম্যাগনেশিয়াম ভরপুর খনিজ। কাজুবাদাম, কাঠবাদামের মতো বাদাম নিয়মিত খেলে সহজেই ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।

    সোয়াবিন, ছোলার মতো খাবার ম্যাগনেশিয়াম ভরপুর। তাই এই ধরনের খাবার মেনুতে রাখলে ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। এগুলোর পাশপাশি দুধ, পনীর, ডার্ক চকলেট খেলেও শরীর ম্যাগনেশিয়াম পায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Kolkata Air Pollution: বায়ুদূষণে দিল্লিকে টেক্কা কলকাতার! ‘প্রশাসনের গাফিলতি’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    Kolkata Air Pollution: বায়ুদূষণে দিল্লিকে টেক্কা কলকাতার! ‘প্রশাসনের গাফিলতি’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কলকাতার বাতাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কলকাতার বাতাসের ‘বিষ’ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসক থেকে পরিবেশ কর্মী, সব মহল! শীতের মরসুমে সেই উদ্বেগ আরও বাড়ল। কারণ, সম্প্রতি, কলকাতার বায়ুদূষণের মাত্রা ছাপিয়ে গেল দিল্লিকেও! বায়ুদূষণ নিয়ে কথা হলেই দিল্লির কথা প্রথমেই আলোচনায় আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট মহল। মানুষের স্বাস্থ্যে এর গভীর প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    গত কয়েক দিন ধরেই রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আশপাশের এলাকায় AQI (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ছিল ৩৪২-র আশপাশে। যা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। ওই সময় দিল্লির একিউআই ছিল ২৯৯। কলকাতার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ময়দান এলাকায় বায়ুর এই গুণমান সূচক নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ অবশ্য জানাচ্ছেন, দিন কয়েকের সমস্যা নয়। দেশের অন্যতম দূষিত শহর হল কলকাতা। কলকাতায় বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। যার ক্ষতিকারক প্রভাব পরিবেশ স্পষ্ট জানান দিচ্ছে। তবে কলকাতার পাশপাশি এ রাজ্যে হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক শহরেও বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়ঙ্কর। এ নিয়ে প্রশাসন সতর্ক না হলে আগামি দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন কলকাতা ও আশপাশে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জনসচেতনতা অভাব এবং প্রশাসনের সক্রিয়তার ঘাটতি কলকাতার দূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় নানান নির্মাণ কাজ চলছে। মেট্রো রেল সম্প্রসারণ সহ একাধিক নির্মাণ কাজ চলাকালীন সেই জায়গা ঢেকে রাখাই নিয়ম। যাতে সেখানে ধুলোবালি সহজে বাতাসে মিশে না যায়। কিন্তু সেই ঢেকে রাখার ব্যবস্থা রাজ্য প্রশাসনের তরফে করা হয়নি। তাই যে কোনও নির্মীয়মান জায়গার ধুলিকণা সহজেই বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এছাড়া শীতে শুষ্কতা বাড়ে। তাই এই সময়ে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত গাড়ি যেসব এলাকায় চলে সেখানে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সেই সব এলাকায় দিনে একাধিকবার জল ছেটানোর বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় সে ব্যবস্থা নেই। তাই বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়াও জনসচেতনতাকেও এজন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবেশবান্ধব যানবাহন অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করেন না। তাই বায়ুদূষণ লাগামহীন।

    স্বাস্থ্য সঙ্কট কি দেখা দিতে পারে?

    বায়ুদূষণ স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে ১৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি দূষণের মাত্রা থাকলেই স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে। কিন্তু কলকাতায় সেই মাত্রা কয়েকগুণ বেশি। তাই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশ লাগামহীন বায়ুদূষণের জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। শ্বাসকষ্ট, কাশির মতো নানান সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি হাঁপানি আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। শিশুদের পাশপাশি বয়স্কদের জন্যেও এই পরিবেশ বিপজ্জনক। শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বায়ুদূষণকেই সেই জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জনসচেতনতা এবং প্রশাসনের সক্রিয়তা হলে তবেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

  • Nolen Gur Health Benefits: নতুন গুড় শুধু শুধুই স্বাদে-গন্ধে এগিয়ে? নাকি এতে রয়েছে স্বাস্থ্যের গুণাগুণও?

    Nolen Gur Health Benefits: নতুন গুড় শুধু শুধুই স্বাদে-গন্ধে এগিয়ে? নাকি এতে রয়েছে স্বাস্থ্যের গুণাগুণও?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পায়েস হোক কিংবা পুলি-পিঠে, শীতের আমেজ জমিয়ে দেয় বাঙালির রান্নাঘরের এই মরশুমের বিশেষ রান্না! হিমেল হাওয়া আর কুয়াশা যেমন শীতের জানান দেয়, তেমনি বাঙালির রান্না ঘরে নতুন গুড়ের গন্ধ ম-ম করলেই শীতের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পিঠে-পুলি-পায়েসের মতো নানান রকমের পদে গুড়ের ব্যবহার হয়। কিন্তু বাঙালির এই চিরকালীন প্রিয় নলেন গুড় (Date Palm Jaggery) কি শুধুই গন্ধে আর স্বাদে এগিয়ে থাকে! একেবারেই নয়! স্বাদের পাশপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও নলেন গুড় (Nolen Gur Health Benefits) এগিয়ে থাকবে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতের গুড় শরীরের পক্ষে খুবই উপকারি।

    গুড় খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গুড়ে রয়েছে একাধিক খনিজ পদার্থ। গুড় আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো উপাদানে ভরপুর। তাই গুড় খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাই যেকোনও সংক্রামক রোগ রুখতে শরীর বাড়তি শক্তি পায়। ভোগান্তি কম হয়।

    আয়রনের ঘাটতি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পূর্ব‌ ভারতের মহিলাদের মধ্যে আয়রনের অভাব যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা মেয়েদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। এর ফলে রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি নানান অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। গুড় খেলে শরীরে আয়রনের জোগান হয়। তাই রক্তাল্পতা রুখতেও সাহায্য করে।

    হাড়ের ক্ষয় রুখতে সাহায্য করে!

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হাড়ের ক্ষয় রোগ বাড়ছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর আগেই আর্থ্রাইটিস সহ একাধিক রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। হাড় দূর্বল হওয়ার জেরেই এই ধরনের নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গুড়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। তাই গুড় খেলে হাড় মজবুত হয়।

    হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে হজমের সমস্যা বাড়ে। নানান কারণে এর ফলে লিভারেও চাপ পড়ে। গুড় হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গুড়ে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। লিভার সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।

    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গুড়ে ভিটামিন বি ৬ উপাদান থাকে। এই উপাদান মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার এই উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বাড়ায়। তাই গুড় খেলে মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

    সর্দি-কাশি রুখতে বিশেষ সাহায্য করে!

    গুড় রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গুড় খেলে সর্দি-কাশি কম হয়। গুড়ে‌ থাকা নানান খনিজ পদার্থ ফুসফুসের সংক্রমণ রুখতেও বিশেষ সাহায্য করে।

    গুড় কি চিনির বিকল্প হতে পারে?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে গুড় খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমাণের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। গুড়ে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে গুড় খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাবে। এর ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। আবার ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য নানান জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে রান্নায় চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার সকালে আদার সঙ্গে অল্প পরিমাণ গুড় মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি মোকাবিলা আরো সহজ হবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Malaria in Winter: একমাসে আক্রান্ত ১৫০! শীতেও রাজ্যে দাপট ম্যালেরিয়ার, প্রশাসনের গাফিলতিই দায়ী, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Malaria in Winter: একমাসে আক্রান্ত ১৫০! শীতেও রাজ্যে দাপট ম্যালেরিয়ার, প্রশাসনের গাফিলতিই দায়ী, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দরজায় শীত কড়া নাড়লেও মশার দাপট চলছেই। তাই ডিসেম্বরেও রাজ্যবাসীর মশাবাহিত রোগ থেকে রেহাই নেই। এমনটাই খবর রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্দরে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের একাধিক জেলায় বছরভর ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো উদ্বেগজনক। শীতের মরশুমে মশা বাহিত রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমবে বলেই আশা করেছিলেন চিকিৎসক মহল। কিন্তু ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    কী বলছে স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে নতুন করে প্রায় দেড়শো জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং নদিয়ার মতো একাধিক জেলায় ম্যালেরিয়ার দাপট রয়েছে। তবে কলকাতার শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, টালিগঞ্জের মতো এলাকায় নভেম্বর মাস জুড়ে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিল। এই এলাকা থেকেই গত এক মাসে প্রায় ৬০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন।

    কেন ডিসেম্বরেও মশাবাহিত রোগের দাপট অব্যহত?

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মশাবাহিত রোগ মূলত বর্ষাকালেই হয়। সেই হিসাব মতো সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর এই দুই মাস মশাবাহিত রোগের দাপট রাজ্যে বেশি থাকে। বর্ষায় জমা জল মশার আতুর ঘর। তাই এই সময়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির মতো রোগের সংক্রমণ বেশি হয়। কিন্তু চলতি বছরে শীতের মরসুমেও মশাবাহিত রোগের দাপট চলছে। বিশেষজ্ঞ মহল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকেই এর জন্য দায়ী করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয় না। পার্ক, পুকুর সংলগ্ন এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। আগাছা পরিষ্কার হয় না। এর ফলে মশার বংশবিস্তার সহজ হচ্ছে। তাই শীত পড়লেও মশাবাহিত রোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাচ্ছে না।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে প্রশাসনের সক্রিয়তার পাশপাশি জনসচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, এলাকার পরিচ্ছন্নতার পাশপাশি বাড়ি ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রয়েছে কিনা সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে। ছাদে বা বাগানে জল জমতে দেওয়া যাবে না। অনেকেই ছাদে টবে গাছ রাখেন।‌ বাগান করেন। বিশেষত কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় ছাদে বাগান‌ তৈরির রেওয়াজ বাড়ছে। কিন্তু সেই বাগানে জল জমছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, এলাকায় পুকুর কিংবা পার্ক থাকলে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম মাফিক, তার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজরদারি জরুরি। আগাছা পরিষ্কার করা, পুকুরের জল যাতে পরিষ্কার থাকে, সেদিকে নজর রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কেও সচেতনতা প্রসার জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় আক্রান্তকে দ্রুত চিহ্নিত করা। বারবার জ্বর আসা, মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো দরকার। যাতে রোগ চিহ্নিত সহজ হয়। পরিবারের কেউ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হলে বাকিদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়া দরকার। রোগীকে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। অন্যদের ও কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে রোগ সংক্রমণ বেশি না ছড়ায়।

  • Liver Problems: শীতের মরসুমে বাড়ছে যকৃতের সমস্যা! কীভাবে এই সময়ে লিভার সুস্থ রাখবেন?

    Liver Problems: শীতের মরসুমে বাড়ছে যকৃতের সমস্যা! কীভাবে এই সময়ে লিভার সুস্থ রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের কুয়াশা আর সন্ধ্যা হতেই ঠান্ডা হাওয়া জানান দিচ্ছে শীত এসেছে! তাপমাত্রার পারদ কমছে। কিন্তু শীত মানে শুধুই আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়। শীত নিয়ে আসে নানান উৎসব আর উদযাপন। বাঙালির শীতকালে থাকে একাধিক পারিবারিক উৎসব, বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক আর বছর শেষের নানান উদযাপন। তাই ডিসেম্বর মাসজুড়ে চলে দেদার খানাপিনা। শীতের মরসুমে এই উৎসব উদযাপনের জেরেই লিভারের নানান ভোগান্তি বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রতি বছর বছরের শেষের সময়ে অনেকেই লিভারের সমস্যায় ভোগেন। এর ফলে নানান জটিলতা তৈরি হয়।

    কেন বছর শেষে লিভারের সমস্যা বাড়ে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লিভারের নানান সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। এই রোগের প্রকোপ বাড়ার জন্য বিশেষজ্ঞ মহল মূলত জীবন যাপনের ধরনকেই দায়ী করছেন। শীতে এই ধরনের লিভারের অসুখ আরও বেড়ে যায় বলেই তাঁরা জানাচ্ছেন।

    শীতে ঘাম কম হয়। ফলে ক্যালোরি ক্ষয় আরও কমে যায়। অনেকেই আবার শীতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করেন না। তার উপরে শীত পড়লেই অনেকেই ‘ওভার ইটিং’ বা অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া শুরু করেন। লিভার রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই শীত পড়তেই নানান রকমের মাংস, মাছ জাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে খেতে শুরু করেন। তার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে সবুজ সব্জি কিংবা দানাশস্য খান না। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকারক। একদিকে শারীরিক পরিশ্রম কম করা, আরেকদিকে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া, এই দুই কারণেই লিভারের সমস্যা বাড়ে। তাছাড়া, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশের কাছে উৎসব উদযাপন মানেই মদ্যপান। এই অভ্যাস লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মদ্যপানের জেরেও লিভারের সমস্যা দেখা দেয়। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই হজমের সমস্যা দেখা যায়। বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যা দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে।

    শীতের কোন খাবার লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের একাধিক খাবার লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের এই মরশুমি সব্জি এবং ফল নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন। তাহলেই লিভারের নানান অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    শীতকালে বাজারে দেদার পালং শাক পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পালং শাকে থাকে ক্লোরোফিল। এই উপাদান লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। কারণ ক্লোরোফিল সহজেই লিভারের টক্সিন দূর করে।

    এই মরশুমে আরেকটি শাক, লিভারের জন্য বিশেষ উপকারি। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মেথি শাক লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নানান রকমের মশলাদার খাবার লিভারের উপরে চাপ তৈরি করে। সপ্তাহে অন্তত দুদিন মেথি শাক খেলে লিভারের ডিটক্সিফিকেশনে বিশেষ সাহায্য হয়।

    ব্রকোলি এবং ফুলকপির মতো সব্জি লিভারের জন্য বিশেষ উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সব্জি এনজাইম সক্রিয় করে লিভারকে সুস্থ রাখে। বিটরুট লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সব্জির পাশপাশি নানান ধরনের বেরি জাতীয় ফল এই সময়ে বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। এই ধরনের ফলগুলো লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, লিভার সুস্থ রাখতে নানান রকমের সব্জি, ফল খাওয়ার পাশপাশি অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। প্রাণীজ প্রোটিন বিশেষত চর্বি জাতীয় মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি শরীরের ওজন সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি। তাই ওজন যাতে অতিরিক্ত না হয়, তাই নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। তাহলে লিভার সুস্থ থাকবে। কার্যক্ষমতা বাড়বে। ভোগান্তি কমবে।‌

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Orange Eating Benefits: শীতে প্রতিদিন শিশুদের ব্রেকফাস্টে থাকুক একটা কমলালেবু, কতখানি উপকারি এই ফল?

    Orange Eating Benefits: শীতে প্রতিদিন শিশুদের ব্রেকফাস্টে থাকুক একটা কমলালেবু, কতখানি উপকারি এই ফল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ নামতেই বাজারে হাজির কমলালেবু! বাঙালির শীতকালের সঙ্গে কমলালেবুর সম্পর্ক চিরকালীন। সকালের প্রাতঃরাশের থালায় হোক, কিংবা স্কুলের টিফিন বাক্সে, কমলালেবুর উপস্থিতি জানান দেয় শীতের দাপট! তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বাদে ও গন্ধে শুধু নয়, কমলালেবু স্বাস্থ্য গুনেও ভরপুর! তবে কিছুক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তবেই কমলালেবু খাওয়ার উপকার পাওয়া যাবে।

    নিয়মিত বাচ্চাকে কমলালেবু দিলে কী হয়?

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কমলালেবু খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। এই ফল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই নিয়মিত এই ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। শিশুরা শীতের সময়ে অনেকেই নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষত ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাস ঘটিত জ্বর-কাশি-সর্দিতে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ে। তাই নিয়মিত কমলালেবু খেলে এই ধরনের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে। ভোগান্তিও কম হবে।

    হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    শীত মানেই নানান উৎসবের মরশুম। পিকনিক হোক কিংবা পারিবারিক উৎসব, নানান অনুষ্ঠান চলে। তাই খানাপিনাও দেদার চলে। বিশেষত প্রাণীজ প্রোটিনের নানান পদ খাওয়া বেশি হয়। এই সময়ে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে শিশুদের বমি কিংবা পেটের সমস্যার মতো নানান ভোগান্তি বাড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, হজমের অসুবিধার জন্য এই ধরনের সমস্যা হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত কমলালেবু খেলে শিশুদের হজম শক্তি বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, জলখাবারের পরে কিংবা স্কুলের টিফিন শেষে নিয়মিত কমলালেবু খেলে হজম শক্তি বাড়বে।

    ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্লান্তি দূর করতে কমলালেবু বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা দিনভর নানান কাজ করে। ছোটাছুটিও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা বেশি করে। তাই তাদের বাড়তি এনার্জি প্রয়োজন। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং এনার্জির চাহিদা পূরণ করতে কমলালেবু খুব উপকারি। কমলালেবুতে একাধিক ভিটামিন রয়েছে। তাই নিয়মিত কমলালেবু খেলে শরীরে এনার্জির ঘাটতি হয় না।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে!

    ভারতীয় শিশুরা স্থুলতার সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অতিরিক্ত ওজন পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। কমলালেবু ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কমলালেবু ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। তাই নিয়মিত এই ফল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অতিরিক্ত খাওয়া বা ‘ওভার ইটিং’-র প্রবণতা কমবে।

    হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমবে!

    বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সময় থেকেই বাড়ছে হাড়ের সমস্যা। বহু স্কুল পড়ুয়া ভিটামিন ডি-র অভাবে ভুগছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যা দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, স্কুলের টিফিনে শীতকাল জুড়ে থাকুক কমলালেবু। তাঁরা জানাচ্ছেন, কমলালেবুতে নানান রকম ভিটামিন থাকার পাশপাশি থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো নানান গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ। এই উপাদান হাড় মজবুত করতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই কমলালেবু নিয়মিত খেলে হাড়ের মজবুত হবে।

    বড়দের জন্যও সমান ভাবেই উপকারি

    শিশুদের পাশপাশি বড়দের জন্যও কমলালেবু সমান ভাবেই উপকারি। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কমলালেবু ত্বকের সমস্যা মেটাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই ত্বকের সমস্যায় জেরবার হন। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুলকানির মতো নানান উপসর্গ দেখা দেয়। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে ত্বকের শুষ্ক ভাব কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চার ধরে রাখতেও সাহায্য করে। পাশপাশি কমলালেবু হার্টের রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত শীতকালে হৃদরোগের সমস্যা বাড়ে। তাই এই সময়ে আরও বেশি স্বাস্থ্য সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। তাঁদের পরামর্শ নিয়মিত কমলালেবু খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। কমলালেবুতে থাকা পটাশিয়াম সহ একাধিক খনিজ সম্পদ রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

    তবে, খেয়াল রাখতে হবে…

    তবে কমলালেবুর উপকার পাওয়ার জন্য এই ফল খাওয়ার সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কমলালেবু খালি পেটে খেলে অম্বল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ভারি খাবার খাওয়ার পরে তবেই কমলালেবু খাওয়ার উপকারিতা পাওয়া যাবে। তবে দিনে দুটোর বেশি কমলালেবু খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে অন্যান্য সমস্যা দেখা যেতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের দিনে একাধিক কমলালেবু না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Blood Pressure: শীত এলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তচাপ! কোন কোন বিপদ বাড়ছে?

    Blood Pressure: শীত এলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রক্তচাপ! কোন কোন বিপদ বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডিসেম্বরের আগমনে শীতের জানান আরও বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্যজুড়ে শীতের আমেজ! কমছে তাপমাত্রার পারদ। বিশেষত ভোর ও রাতের দিকে শীতের উপস্থিতি ভালোই অনুভব করা যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শীত আরও স্পষ্ট জানান দেবে বলেই জানাচ্ছেন আবহবিদদের একাংশ। তবে শীতের আমেজ নানান উৎসব আর উদযাপনের ইঙ্গিত দিলেও, শীতে কিছু বাড়তি বিপদ ও জানান দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত পড়লেই বাড়তে থাকে রক্তচাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে এই সমস্যা বেড়েছে। তারমধ্যে শীতের আবহে সেই সমস্যা আরও বাড়ছে। এমনকি যাদের রক্তচাপ বছরভর স্বাভাবিক থাকে, তাঁদেরও, বছরের এই সময়ে রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

    কেন শীত পড়লেই রক্তচাপ বাড়ে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীত পড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। শরীরের সঙ্গে প্রকৃতির যোগ ওতোপ্রোতভাবে রয়েছে। তাপমাত্রার পারদ নামলেই রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ধমনীতে তার প্রভাব পড়ে। আর তার জেরেই রক্তচাপ বাড়ে। শীতের আবহে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন দেখা যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার পারদ নামলে নোরপাইনফ্রাইন, ক্যাটেকোলামাইনের মতো হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এগুলো শরীরে রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই শীত পড়লে রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।

    আবহাওয়ার পাশপাশি শীতে জীবন যাপনের ধরনেও পরিবর্তন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে ঘাম কম হয়। শারীরিক পরিশ্রমও কম হয়। বয়স্কদের একাংশ শীত পড়তেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। এর ফলে রক্তচাপ বাড়ে। শীতকাল মানেই পিকনিক কিংবা নানান আনন্দ উৎসব। আর সব উৎসবের উদযাপনেই থাকে ভুরিভোজ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই অতিরিক্ত পরিমাণ প্রাণীজ প্রোটিন, চর্বিজাতীয় খাবার খান। আর তার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।

    উচ্চ রক্তচাপ কোন বিপদ বাড়িয়ে দেয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়লে হার্টের উপরে চাপ বেশি পড়ে। তাই উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্যান্য হৃদরোগের অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির উপরেও প্রভাব পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির উপরে চাপ পড়ে। যার জেরে কিডনির কার্যকারিতা কমতে থাকে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়লে মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    শীতেও কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

    শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন পালং শাক খেলে রক্তচাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম‌্যাগনেশিয়াম। এই দুই উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শীত আর কমলালেবু বাঙালির কাছে প্রায় সমার্থক শব্দ। সকালের ঘরোয়া জলখাবারের সঙ্গে হোক কিংবা পিকনিকের শেষ বেলায় বাঙালির পাতে থাকে কমলালেবু। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই কমলালেবু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফল হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।

    শীতের বাজারে সহজেই পাওয়া যায় বিট। এই সব্জি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিট থেকে শরীর স্বাভাবিক নাইট্রেট পায়। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশপাশি নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত যোগাভ্যাস জরুরি। এতে শরীরে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন হয়। আবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যও ঠিক থাকে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Influenza Vaccine: ছোটদের মতো বড়দের জন্যও জরুরি, ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় টিকায় ভরসা চিকিৎসকদের!

    Influenza Vaccine: ছোটদের মতো বড়দের জন্যও জরুরি, ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় টিকায় ভরসা চিকিৎসকদের!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সংক্রামক রোগ রুখতে টিকাকরণ জরুরি। বসন্ত রোগ হোক কিংবা করোনা, মহামারির দাপট কমাতে পারে টিকা। তেমনি ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট রুখতেও বিশেষজ্ঞেরা টিকাকরণেই ভরসা রাখছেন। শিশুদের পাশপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ সমান ভাবে জরুরি বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এই ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতেই তাই ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন অ্যাওয়ারনেস উইক পালন হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা কতখানি বিপজ্জনক এবং টিকাকরণ কেন জরুরি, এই নিয়ে দেশ জুড়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা কী? কতখানি বিপজ্জনক এই ভাইরাস?

    বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা একধরনের ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ। যা মূলত নাক, গলা ও ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রামিত হয়। রোগীকে স্পর্শ না করেও এই ভাইরাস একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। কারণ বাতাসের মাধ্যমেও এই রোগ সংক্রামিত হয়।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কিছুক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণদের জন্য এই ভাইরাস প্রাণঘাতীও হতে পারে। আবার কোনো জটিল রোগে আক্রান্তকে এই ভাইরাস সহজেই কাবু করে। ফলে ভোগান্তি বাড়ে। পাশাপাশি এই ভাইরাস নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।‌ টাইপ এ ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারির আকার ধারণ করতে পারে। তাই এই ভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    ভারতে ইনফ্লুয়েঞ্জা কতখানি বিপজ্জনক?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়। প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের মধ্যে এই রোগের দাপট বেশি। ঋতু পরিবর্তনের সময় এই রোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষত বর্ষার শুরুতে এবং শীতের সময়ে অনেকেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ লাগাতার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা রুখতে টিকাকরণ কেন জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া থাকলে, এই ভাইরাসের সাধারণ হোক কিংবা সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রকৃতি হোক, যেকোনও আক্রমণ থেকেই শরীর রক্ষা পাবে। সর্দি-কাশির ভোগান্তিও কমবে। বারবার ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ থেকেই নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসের মতো নানান জটিল রোগের দাপট দেখা যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে এই ধরনের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে। প্রাণ সংশয় কমবে।

    কেন প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ দেশে শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও, প্রাপ্ত বয়স্কদের এই টিকাকরণের হার খুব কম। তাঁরা জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা নিউমোনিয়া সহ একাধিক ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ভারতে গত কয়েক বছরে বায়ু দূষণ সহ একাধিক কারণে ফুসফুসের অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত পঞ্চাশোর্ধ মানুষের মধ্যে নানান ফুসফুসের অসুখের প্রকোপ বেশি। এই পরিস্থিতিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট বাড়লে তাঁদের প্রাণ সংশয় দেখা দেবে। জীবন যাপনের মান কমবে। কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্কদের এই ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে বারবার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। ফলে সুস্থ থাকবে। অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমবে। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা কিডনি, হার্ট কিংবা লিভারের রোগে আক্রান্তদের এই টিকা নেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে সমস্যা থাকলে, তাঁদের ভাইরাস ঘটিত রোগে কাবু হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই তাঁদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। তাহলে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share