Tag: India

India

  • GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্ক নীতির কারণে চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েও ভারতের (India) অর্থনীতি আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল গতিতে (GDP Growth Rate) এগিয়ে যাবে বলেই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৪ শতাংশ। এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও বহিঃবিশ্বের চাপ মোকাবিলার ক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি (GDP Growth Rate)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না করলেও, তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবে না বলেই কেন্দ্রের ধারণা। সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক সংস্কারের ফলে ভারত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে ভারত (India)। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি অ্যাডভান্স অনুমান। এই হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) পূর্বাভাস ৭.৩ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত ৭.৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে দেখা ৯.২ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির তুলনায় এটি এখনও কম (GDP Growth Rate)।

    অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান

    পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) বুধবার প্রকাশ করেছে প্রথম অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান। এই পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় গড় পূর্বাভাস ছিল ৭.৫ শতাংশ, যা সরকারি অনুমানের খুব কাছাকাছি (India)। সরকারি আধিকারিকরা জানান, ভবিষ্যতে এই সংখ্যাগুলি সংশোধিত হতে পারে। কারণ, জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই পরিবর্তনের প্রভাব ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত জিডিপি তথ্য অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

    বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা

    নমিনাল বা নামমাত্র হিসেবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ হতে পারে, যেখানে তার আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৯.৭ শতাংশ। রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ (GVA) বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ, যা আগের বছরের ৬.৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে ৭.৭ শতাংশ (India)। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে থাকা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য ধীরগতির। সরকারি ব্যয় ৫.২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি গত অর্থবর্ষের ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি (GDP Growth Rate)। বেসরকারি বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হতে পারে।

    ম্যানুফ্যাকচারিং খাত

    উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত, যা জিডিপির ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রাখে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাড়তে পারে  ৭ শতাংশ হারে। এটি আগের বছরের ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বড়সড় উন্নতি। নির্মাণ খাতের বৃদ্ধি ৭ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৯.৪ শতাংশ (India)। কৃষি খাতে বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩.১ শতাংশ। এই খাত ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান জোগায় এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে স্থিতিশীল উৎপাদনের। দেশীয় অর্থনীতির জোরালো বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের রফতানি ক্ষেত্রেও দেখা গেল অপ্রত্যাশিত শক্তি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পণ্য রফতানি বছরে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরের শুরুতেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা (GDP Growth Rate)।

    ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ

    বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা অক্টোবরের তীব্র পতন থেকে বড়সড় ঘুরে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে আমদানি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, মূলত সোনা, তেল ও কয়লার আমদানি হ্রাস পাওয়ায়। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি নেমে এসেছে প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা জুনের পর সর্বনিম্ন (India)। চড়া শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গয়না এবং ওষুধ শিল্প (GDP Growth Rate)। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, শুল্ক বাধা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    চিনে রফতানি

    এদিকে, চিনেও ভারতের রফতানি নজরকাড়াভাবে বেড়েছে। নভেম্বরে চিনে রফতানি ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক ইলেকট্রনিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী। স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও তানজানিয়ার মতো দেশেও রফতানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ভারতের। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের রফতানির এই স্থিতিস্থাপকতার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কিছু খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় রফতানিকে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দুর্বল রুপির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে (GDP Growth Rate)। এছাড়া, গত বছর লোহিত সাগর সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগায় তুলনামূলক কম ভিত্তির ওপর এবছর বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (India)।

    রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর

    ভারত সরকারও রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর দিচ্ছে। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো এবং ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বাজারেও নতুন সুযোগ খুঁজছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে জিডিপি পূর্বাভাস ও রফতানি তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুল্ক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বদলে যাওয়া বাণিজ্য বাস্তবতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দিকে (India) এগোতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈদেশিক বাণিজ্য – দুই-ই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভরসা জোগাচ্ছে (GDP Growth Rate)।

  • Pakistan: অপারেশন সিঁদুর থামাতে আমেরিকার হাতে-পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান! প্রকাশ্যে মার্কিন নথি

    Pakistan: অপারেশন সিঁদুর থামাতে আমেরিকার হাতে-পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান! প্রকাশ্যে মার্কিন নথি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিল পাকিস্তান (Pakistan)। মার্কিন সরকারি নথি থেকে জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযানের (অপারেশন সিঁদুর) থামাতে পাকিস্তান সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ দাবি করে। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে জমা দেওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে সব মিলিয়ে ৬০ জনেরও বেশি মার্কিন সরকারি কর্তা, নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনও উপায়ে, যেনতেন প্রকারে ভারতের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টি করা।

     কী বলছে ফাঁস হওয়া নথি? (Pakistan)

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচারাভিযানের লক্ষ্য ছিল, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা কর্তারা, মার্কিন বিদেশ দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এবং প্রভাবশালী মার্কিন সাংবাদিক ও নীতিবিশেষজ্ঞরা। এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল, ভারতের সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া। সংবাদ মাধ্যমে (Pakistan) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি আমেরিকার চেয়ে কার্যত হাতে-পায়ে পড়ে গিয়েছিল। কূটনৈতিক ভাষায় বলা হলেও, বার্তা ছিল পরিষ্কার, ভারতের অভিযান যেভাবেই হোক থামাতে হবে (Operation Sindoor)।

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে কোণঠাসা মনে করছে। বিশেষত, দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষকে টানার পাকিস্তানি প্রবণতা ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে।ভারত সরকার অবশ্য আগেই স্পষ্ট করেছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষামূলক প্রয়াস, এবং এতে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই (Pakistan)। মার্কিন ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় জমা দেওয়া এই নথিগুলিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা অন্তত ৫০টিরও বেশি বৈঠক করেছেন বা বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে (Operation Sindoor)।

    পাকিস্তানের এই লবিং

    জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের এই লবিং অভিযানে কেবল কাশ্মীর ইস্যুই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কাশ্মীর সংকট, বিরল খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস, পাকিস্তান–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। অনেক ক্ষেত্রেই পাক প্রতিনিধিরা প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার ও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ের আবেদনও করেছেন (Pakistan)। এই নথির একাধিক এন্ট্রিতে পাকিস্তানের এই কার্যকলাপকে সরাসরি “অনগোয়িং রিপ্রেজেন্টেশন অফ পাকিস্তান” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ই-মেল, ফোন এবং সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি এই লবিং অভিযানের তীব্রতা ও পরিকল্পিত চরিত্রকেই স্পষ্ট করে (Operation Sindoor)। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই লবিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় করে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে নরম করা। ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করেই ইসলামাবাদ ভারতের চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা নিতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য

    এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, সংঘর্ষ চলাকালীন এমন সক্রিয় লবিং কতটা ন্যায্য?, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রভাব কতটা গভীর? ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই লবিং অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে (Pakistan)। জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ মহলে দ্রুত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে পাকিস্তান গত কয়েক বছরে ব্যাপক লবিং করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদ প্রায় ছ’টি ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল, যার আর্থিক মূল্য বছরে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি (Operation Sindoor)। এই লবিং প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল পূর্বাতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলের ফল খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Pakistan)।

    লবিং কার্যকলাপ

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সেইডেন ল এলএলপির সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যারা জ্যাভেলিন অ্যাডভাইসরসের মাধ্যমে লবিং কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আতিথ্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Operation Sindoor)। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং পাকিস্তানের সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক ও লবিং প্রচেষ্টারই প্রত্যক্ষ ফল। বিশ্লেষকদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার অবস্থান মজবুত করতে এবং মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন পেতে এই ধরনের লবিং কৌশলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পাকিস্তান সরকারের তরফে এই বৈঠকের বিষয়ে (Operation Sindoor) বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি (Pakistan)।

  • Assam: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের পর্দাফাঁস অসম পুলিশের

    Assam: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের পর্দাফাঁস অসম পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের (Jihadi Module) পর্দাফাঁস করল অসম পুলিশ। মঙ্গলবার অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ কথা জানান। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আত্মগোপন করে থাকা জেহাদিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তিনি লিখেছেন, “কয়েকদিন আগেই অসম পুলিশ একটি জেহাদি মডিউলের পর্দা ফাঁস করেছে। রাজ্যে অনেক জেহাদি লুকিয়ে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।”

    ভিডিও বার্তা (Assam)

    ওই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সেই বার্তায় তিনি জানান, জেহাদিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমে জেহাদিরা আছে, এবং আমরা গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত এর প্রমাণ পাচ্ছি। রাজ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাব। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট থেকেই জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। এই বাংলাদেশভিত্তিক জেহাদি মডিউলটি অসমের যুবকদের মৌলবাদী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করছিল। তারা পুবা-আকাশের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়োগ, মতাদর্শ প্রচার এবং জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থায়ন করত।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    মুখ্যমন্ত্রীর করা পোস্টে এও জানানো হয়েছে, অসম পুলিশ বাংলাদেশ থেকে হ্যান্ডলার এবং স্থানীয় অপারেটিভদের নিয়ে আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি সংযোগ উন্মোচন করেছে (Assam)। এসটিএফ এবং অসম পুলিশের দ্রুত অভিযানে অসম ও ত্রিপুরাজুড়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এটি একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে সাহায্য করেছে (Jihadi Module)।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অসম সরকার রাজ্যে উগ্রপন্থার প্রচার বন্ধ করতে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার আল ইসলাম / প্রো-একিউআইএস এবং অন্য সহযোগী গোষ্ঠীর মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও মৌলবাদী বা জেহাদি উপাদানের প্রকাশ, প্রচার এবং দখল নিষিদ্ধ করেছিল। এতে আরও বলা হয়েছে, অসম পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট, জেলা সিনিয়র পুলিশ সুপার, সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই বিজ্ঞপ্তির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে (Assam)। এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার প্যাট্রোলিং রিপোর্ট এবং অসম পুলিশ ও স্পেশাল টাস্কফোর্স, অসমের সাম্প্রতিক তদন্তে ওই নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত মৌলবাদী কিংবা জেহাদি সাহিত্য প্রকাশনা, নথি এবং ডিজিটাল প্রচার সামগ্রীর (Jihadi Module) ক্রমাগত প্রচার, দখল, বিতরণ এবং ডিজিটাল ট্রান্সমিশনও (Assam)।

  • Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও শুল্ক চাপানোর হুমকি। কখনও আবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য। প্রায় প্রতি দিনই ‘বিতর্কিত’ বিবৃতি দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump-Modi) হু-হু করে কমছে জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিমত, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার।

    কেন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা

    ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন— যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের সামরিক অভিযান— কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল তিনি নাও পেতে পারেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বদলে যেতে পারে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের তুলনা করে বলেছেন, মোদি দীর্ঘসময় ধরে জনপ্রিয়তার কারণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু দেশের ভিতরেই ট্রাম্পের বিরোধিতা অনেক বেশি। ট্রাম্পের বয় ৮০ বছর। প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত সীমিত—এবং পরবর্তী কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করে দিতে পারে। ব্রেমার বলেন, চিনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের মোদির মতো স্থায়ী নেতৃত্ব নেই মার্কিন নেতৃত্বে, যেখানে প্রতি চার বছর পরপর শাসক পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণে অনেক নীতি ও পদক্ষেপ কার্যবসিত হয় না।

    ভেনেজুয়েলার তেল, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ

    ভেনেজুয়েলাতে তেলের বড় মজুদ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন, বলে মনে করেন ব্রেমার। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা আগের ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। তেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগগুলোতে বিশ্বাস থাকতে হয়— তাই মাত্র কয়েক বছর মেয়াদি একজন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তা রূপান্তর করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ব্রেমার বলেন, “তাই এমন ভাবনা ঠিক নয় যে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব তেল দখল করে নেবে।”

    মোদির জনপ্রিয়তা বেশি

    ব্রেমার মনে করেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়ত, তাঁর শুল্কনীতির জেরে ক্ষতি হচ্ছে দেশের তাবড় বড় শিল্পপতিদের। তা ছাড়া বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতার বিদেশনীতি নিয়েও সেখানকার আমজনতার মধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, ‘বন্ধু’দের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছেন ট্রাম্প। আর ‘সুপার পাওয়ার’ থাকার গর্বে আন্তর্জাতিক স্তরে ধীরে ধীরে একা হচ্ছে আমেরিকা। দেশেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সময় বাতিল বা বদলে যেতে পারে। মোদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। ভারতে তাঁর স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেই।

  • JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেএনইউয়ের চিফ সিকিউরিটি অফিসার বসন্ত কুঞ্জ (নর্থ) থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ, জেএনইউ ক্যাম্পাসের সবরমতী হস্টেলের বাইরে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিটি সংগঠিত করে জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পড়ুয়া।

    আইনানুগ ব্যবস্থা (JNU)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হিংসার ষষ্ঠ বার্ষিকী পালন করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল “এ নাইট অফ রেজিস্ট্যান্স উইথ গেরিলা ধাবা”। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির আড়ালে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক কিছু স্লোগানও দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (JNU)।

    উসকানিমূলক স্লোগান

    ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর (PM Modi)। চিঠিতে এও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই অনুষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, কনিষ্ক, পাকিজা খান, শুভম-সহ আরও কয়েকজন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরেই অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও সুর বদলে যায়। সেই সময় কিছু ছাত্রছাত্রী অত্যন্ত আপত্তিকর, উসকানিমূলক এবং জ্বালা ধরানো ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন (JNU)।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মত

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি অবমাননা। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই (PM Modi) ধরনের স্লোগান, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেএনইউয়ের কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘন করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ওই চিঠিতেই দাবি করা হয়েছে, স্লোগানগুলি ছিল শুনতে পাওয়া যায় এমন, ইচ্ছাকৃত এবং বারবার উচ্চারিত। অর্থাৎ, এটি কোনও তাৎক্ষণিক বা আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচেতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ। এই ধরনের ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় এই ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করার অনুরোধ জানানো হয়েছে (JNU)।

    উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ

    চিঠি থেকেই জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পর, ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্রদের একাংশের তরফে একাধিক উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগানগুলি দিল্লির হিন্দু-বিরোধী দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, জেএনইউয়ে এই স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জেএনইউয়ের (PM Modi) আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (JNU)।

    জেএনইউ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএনইউ সবসময় গণতান্ত্রিক আলোচনার পক্ষে থাকলেও, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন (PM Modi) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (JNU)।

  • Chenab Hydropower: চেনাব নদীতে একের পর এক বাঁধ, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান

    Chenab Hydropower: চেনাব নদীতে একের পর এক বাঁধ, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) জলজীবনরেখায় ভারতের চাপ আর কেবল কৌশলগত ধারণায় সীমাবদ্ধ নেই। জম্মু ও কাশ্মীরের (Chenab Hydropower) পাহাড়ি অঞ্চলে সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।

    চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Chenab Hydropower)

    স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চেনাব নদীর অববাহিকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ জারি করেছে। সরকারি সূত্রে খবর, পাকাল দুল (Pakal Dul) এবং কিরু (Kiru) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দু’টি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই চালু করতে বলা হয়েছে। ক্বার (Kwar) প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাটলে (Ratle) বাঁধের নির্মাণ কাজও দ্রুত গতিতে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সাম্প্রতিক জম্মু ও কাশ্মীর সফর। টানা দু’দিন ধরে তিনি চেনাব নদী সংলগ্ন একাধিক বাঁধ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, ওই পরিদর্শনের সময়ই তিনি স্পষ্ট করে দেন, এবার আর সময়সীমা নিয়ে কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।

    পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব (Chenab Hydropower) নদী পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলসম্পদ। ভারতের এই দ্রুত বাঁধ নির্মাণ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ইসলামাবাদের ওপর ভবিষ্যতে বড় কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে জল এখন যে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত (Pakistan)। চেনাব নদী সিন্ধু অববাহিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা পাকিস্তানের জলনির্ভর অর্থনীতির মূল ভিত্তি। পাকিস্তানের মোট জলসম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে সেই নদীগুলি থেকে, যেগুলি ভারতের ওপর দিয়ে গিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। এই সিন্ধু অববাহিকার ওপর নির্ভর করেই পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। দেশটির মোট কৃষিকাজের ৯০ শতাংশেরও বেশি এই অববাহিকার জলের ওপর নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রায় সব সম্পূর্ণ বাঁধ ও খাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এই অববাহিকাকে কেন্দ্র করেই (Chenab Hydropower)।

    ৯ জনই এমন জল ব্যবহার করেন

    বলতে গেলে, পাকিস্তানের প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে ৯ জনই এমন জল ব্যবহার করেন, যা ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ থেকেই স্পষ্ট হয়, কেন চেনাব নদী সংক্রান্ত ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব বা সিন্ধু অববাহিকা নিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার জল নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি কেবল (Pakistan) শক্তি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কৌশলগত ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে (Chenab Hydropower)। চেনাব নদী অববাহিকায় ভারতের জলবিদ্যুৎ কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় অবস্থিত পাকাল দুল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পটিই চেনাব নদীর অববাহিকায় ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাকাল দুল প্রকল্পটি শুধু উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকেই নয়, কৌশলগত গুরুত্বেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৬৭ মিটার উচ্চতার এই বাঁধটি বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি ভারতের প্রথম জলাধারভিত্তিক (storage) প্রকল্প, যা এমন একটি নদীর ওপর তৈরি হয়েছে, যার জল গড়ায় পাকিস্তানেও (Chenab Hydropower)। চেনাব নদীর একটি উপনদীর ওপর নির্মিত এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ২০১৮ সালের মে মাসে। বর্তমানে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) কার্যত স্থগিত অবস্থায় থাকায়, পাকাল দুল প্রকল্প দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র (Pakistan)। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে ভারত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, জলপ্রবাহের সময় ও নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা অর্জন করবে, যা দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের উদ্বেগের কারণ (Chenab Hydropower)। পাকাল দুলের পাশাপাশি একই জেলার আর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কিরু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকেও একই সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রের সাফ কথা

    চেনাব নদীর ওপর নির্মিত ১৩৫ মিটার উঁচু কিরু বাঁধটি একটি রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প হলেও, এর কৌশলগত গুরুত্ব কম নয়। কারণ এটি চেনাব নদীর ওপর অবস্থিত একাধিক ঊর্ধ্ব ও নিম্নপ্রবাহের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি ধারাবাহিক জলবিদ্যুৎ কাঠামোর অংশ (Pakistan)। কেন্দ্র সাফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পাকাল দুল ও কিরু—দু’টি প্রকল্পই একসঙ্গে চালু করার লক্ষ্য। চেনাব নদীতে ভারতের জলবিদ্যুৎ উদ্যোগের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ক্বার প্রকল্পটি। এটি একটি রান-অফ-দ্য-রিভার (Run-of-the-River) ধরনের বাঁধ, যার উচ্চতা ১০৯ মিটার (Chenab Hydropower)। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জিত হয়, যখন নির্মাণকাজের সুবিধার্থে সফলভাবে চেনাব নদীর প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এই নদী-প্রবাহ ঘোরানোর ঘটনার ওপর শুধু ভারতই নয়, পড়শি পাকিস্তানও শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।

    সময়সীমা

    এখন কেন্দ্রীয় সরকার ক্বার প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চেনাব নদীর অববাহিকায় ভারতের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Chenab Hydropower)। চেনাব নদীর ওপর নির্মীয়মাণ রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা আরও একবার সামনে এসেছে। ৮৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি ভারত-পাকিস্তান জলবিরোধের অন্যতম বিতর্কিত প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী এই প্রকল্পের বাঁধের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাটলে প্রকল্পকে এখন ফাস্ট-ট্র্যাক করা হচ্ছে (Pakistan)।

    ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ

    চেনাব নদীর ওপর নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে, বিশেষ করে বাঁধের স্পিলওয়ে নকশা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এই নকশা ইন্দাস জলচুক্তির পরিপন্থী। যদিও ভারত বারবার জানিয়েছে, প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক বিধি মেনেই তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই চেনাব নদীর জল টানেলের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। সরকারি সূত্রের খবর, ২০২৮ সালের মধ্যেই রাটলে বাঁধ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা (Chenab Hydropower)।

    দুলহস্তি-১ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ

    রাটলে প্রকল্পের পাশাপাশি চেনাব নদীর ওপরই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, দুলহস্তি স্টেজ-২ নিয়েও এগোচ্ছে ভারত। গত বছরের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পটি পরিবেশমন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। এটি দুলহস্তি-১ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, যা ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। তবে এখানেও আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, দুলহস্তি স্টেজ-২ প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয়ে তাদের আগাম জানানো হয়নি। ভারত এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পাকিস্তানকে আলাদা করে জানানো বাধ্যতামূলক নয় (Pakistan)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব নদীর অববাহিকায় একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত কেবল শক্তি উৎপাদনই নয়, কৌশলগতভাবেও নিজের অবস্থান মজবুত করছে। আক্ষরিক অর্থেই পাকিস্তানকে ভাতে মারতে চাইছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Chenab Hydropower) ভারত।

  • Shivraj Singh Chouhan: চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ ভারত

    Shivraj Singh Chouhan: চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশে পরিণত হল ভারত (India)। বুধবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) এ কথা জানান। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারতে চাল উৎপাদন হয়েছে ১৫০.১৮ মিলিয়ন টন, যেখানে চিনের উৎপাদন ১৪৫.২৮ মিলিয়ন টন।”

    ভারতের অগ্রগতি (Shivraj Singh Chouhan)

    কৃষিমন্ত্রী জানান, শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, ভারত এখন বিদেশেও রফতানি বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাল রফতানি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এদিকে, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) উদ্ভাবিত ২৫টি মাঠফসলের ১৮৪টি উন্নত জাতের আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচন করেন শিবরাজ সিং চৌহান। এই ১৮৪টি জাতের মধ্যে রয়েছে, ১২২টি শস্যজাত ফসল, ৬টি ডাল, ১৩টি তেলবীজ, ১১টি পশুখাদ্য ফসল, ৬টি আখ, ২৪টি তুলো এবং ১টি করে পাট ও তামাক (Shivraj Singh Chouhan)।

    উচ্চ ফলনশীল বীজ

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যাতে এই নতুন জাতের বীজ দ্রুত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, এই উন্নত জাতগুলি কৃষকদের অধিক ফলন এবং উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি কৃষকের জমিতে যেন উন্নতমানের বীজ পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে (Shivraj Singh Chouhan)।” শিবরাজ সিং চৌহান কৃষি বিজ্ঞানীদের ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, এই দু’টি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জন করাই এখন দেশের প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, “উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত এক নতুন কৃষি বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। এই সাফল্য সম্ভব (India) হয়েছে আইসিএআরের সর্বভারতীয় সমন্বিত প্রকল্প, কেন্দ্র ও রাজ্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বীজ সংস্থাগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় (Shivraj Singh Chouhan)।”

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার (Unjust Tariff) হুমকি দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে চাপ বাড়ালেন ভারতের ওপর। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রাসী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নীতি বহু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মানজনক এবং অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচিত হচ্ছে।

    ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ (Donald Trump)

    ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ছ’টি দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সরাসরি ভারতের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন হুমকি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানি খাতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় শিল্প ও রফতানিকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা (Donald Trump)।

    বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা

    দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের কৃষি ও দুধের বাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বাজার খুলে দিতে রাজি হয়নি নয়াদিল্লি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বিপন্ন হবে খাদ্য নিরাপত্তা। ওয়াশিংটনের লাগাতার চাপ সত্ত্বেও ভারত এই বিষয়ে তার নীতি থেকে এক চুলও সরেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটিই ভারতের নীতিগত স্বাধীনতার প্রকাশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থান মেনে নিতে না পেরে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতকে শাস্তি দিতে চাইছে বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। গত বছর সেপ্টেম্বর–নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল ভারত-মার্কিন এই বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু তা এখনও ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও পড়েছে প্রশ্নের মুখে (Donald Trump)।

    মার্কিন হুমকি!

    ভারতের ওপর চাপ আরও খানিক বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অধিকারকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প প্রশাসন ভয় দেখিয়ে আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ (Donald Trump)।

    ট্রাম্পের পদক্ষেপে অস্থিরতা

    ভারত ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চিনের নৌবাহিনীর সম্ভাব্য তৎপরতা গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাঁর এই বক্তব্য ফের একবার ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নিয়ম, কূটনৈতিক শালীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি অবহেলার শামিল বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানে, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন (Donald Trump)।

    মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।” এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পূর্ব এশিয়ায়ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে চিন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Unjust Tariff)। এদিকে, মার্কিন আগ্রাসী কূটনীতি ও একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সংকট বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বৈশ্বিক বাজারে। লগ্নিকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।

    সোনার দামে প্রভাব

    আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক লাফে ১২৬ মার্কিন ডলার বেড়ে পৌঁছেছে ৪,৪৫৮ ডলারে। ভারতের বাজারেও সোনার দাম দ্রুত বেড়েছে। সোমবারই সোনার দাম বেড়েছে ১,৭৬০ টাকা প্রতি আউন্স। বিশ্ববাজারে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই সোনার দাম আরও ২,০০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। একই সঙ্গে বাড়তে পারে রুপোর দামও।সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের মুখোমুখি সংঘাতমুখী নীতি—যার মধ্যে শুল্ক হুমকি, সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা রয়েছে, শুধু ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এর ঠিক উল্টো দিকে তাকালে দেখা যাবে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কৃষক, শ্রমিক ও দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় আপোসহীন মনোভাব বজায় (Unjust Tariff) রেখে নয়াদিল্লি দায়িত্বশীল ও সার্বভৌম বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছে (Donald Trump)।

  • Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Bengal SIR) চলছে। তাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যের সিইওর দফতর সূত্রে খবর, অন্তত ১৪ জন ব্যক্তি একই সঙ্গে ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র (Indian Epic Cards) এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। অনুমান, ওই ১৪ জনই আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। এই তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের সিইও দফতর কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে।

    বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট (Bengal SIR)

    সম্প্রতি এফআরআরও, কলকাতা সিইও দফতরকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের প্রত্যেকের কাছেই বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। তারা সকলেই বৈধ ভিসায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর বাংলাদেশে ফিরে যায়নি।পরবর্তীকালে তারা বেআইনিভাবে বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে, যার মধ্যে অন্যতম হল ভোটার পরিচয়পত্র। সিইও দফতরের এক সূত্রের খবর, এই ১৪ জনের নাম ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এই ১৪ জনকে রাজ্যের তিনটি জেলায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলি হল উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। যার জেরে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Bengal SIR)।

    জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কারবার

    গত এক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভুয়ো পাসপোর্ট ও জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্বের নকল নথি তৈরি করে দেওয়া (Indian Epic Cards)। তদন্তে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত চার ধাপের মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করা হচ্ছিল (Bengal SIR)। প্রথম ধাপে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার পর অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের গোপনে রাখা হত।

    কীভাবে চলত কারবার?

    দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র এবং রেশন কার্ড বানানো হত। তৃতীয় ধাপে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও রেশন কার্ডের ভিত্তিতে তৈরি করা হত আধার কার্ড ও প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্র (Bengal SIR)। চতুর্থ তথা শেষ ধাপে এই সব নকল নথির ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড় করে দেওয়া হত, যার মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে যাতায়াত করতে পারত বা বিদেশেও যাওয়ার চেষ্টা করত (Indian Epic Cards)। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের চক্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের চক্র সক্রিয় থাকাটা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (Bengal SIR)। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালাল ও নথি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও বড়সড় নাম সামনে আসতে পারে বলে ইডি ও রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর (Indian Epic Cards)।

  • Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি এবং ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (FMR) বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার (Manipur)। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ভুক্ত একাধিক জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সমর্থনকারী খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির নেপথ্যে রয়েছে গভীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ (Indian Passport)।

    জঙ্গি সংগঠনের জোটের শীর্ষ নেতা (Manipur)

    নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রের দাবি, বহু বছর ধরে খোলা ভারত-মায়ানমার সীমান্ত জঙ্গিদের অবাধ যাতায়াতের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকায় দুই দেশের জঙ্গিরা অনায়াসেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, মণিপুরে সক্রিয় ৮টি কুকি জঙ্গি সংগঠনের জোটের বর্তমান শীর্ষ নেতা মায়ানমারের নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, ভারতবিরোধী কার্যকলাপেও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি কীভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    পাসপোর্ট পেলেন কীভাবে

    সূত্রের খবর, থাংগালিয়ানপাউ গুইটে, যিনি জোমি রিইউনিফিকেশন অর্গানাইজেশন (ZRO) ও তার সশস্ত্র শাখা জোমি রেভল্যুশনারি আর্মি (ZRA)–এর সভাপতি, তিনি আদতে মায়ানমারের নাগরিক। এই সংগঠনটি বর্তমানে ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট (UPF)–এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ের মোট ৮টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলি বর্তমানে ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস (SoO)’ চুক্তির আওতায় রয়েছে (Manipur)। মণিপুরের মুখ্য সচিবকে পাঠানো এক নোটিশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানতে চেয়েছে, কীভাবে একজন মায়ানমারের নাগরিক ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, কীভাবেই বা তিনি বছরের পর বছর ভারতে বসবাস করছেন (Indian Passport)।

    মায়ানমারের চিন রাজ্যের বাসিন্দা

    নোটিশে বলা হয়েছে, “থাংগালিয়ানপাউ গুইটে মায়ানমারের চিন রাজ্যের টনজাং টাউনশিপের পাংমুয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯০ সালে তিনি জোমি ন্যাশনাল কংগ্রেস (ZNC) দলের প্রার্থী হিসেবে মায়ানমারের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে গ্রেফতারের আশঙ্কায় মায়ানমার থেকে পালিয়ে যান।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত–মায়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং এফএমআর বাতিল করা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে উত্তর–পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

    চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে ১৯৯৫ সাল থেকে মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন। এর পর তিনি আর জন্মভূমি মায়ানমারে যাননি। বর্তমানে তাঁর কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ভোটার আইডি রয়েছে (Manipur)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্য মণিপুরের ভোটার। এর অর্থ হল, তিনি শুধু দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসই করছেন না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ও অংশ নিয়েছেন (Indian Passport)। এদিকে, ভারত সরকার মায়ানমার সীমান্ত ঘিরে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মোট ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ‘নো কাট, নো ক্লাইম্ব’ ধরনের নিরাপত্তা বেড়া বসানো হবে (Manipur)।

    ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিক চিহ্নিত

    ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি ভারত-মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার বসানো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয়। এদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিককে চিহ্নিত করেছে। এদের অধিকাংশই বর্তমানে মিজোরাম এবং মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলিতে বসবাস করছেন বলে খবর (Indian Passport)। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই এই পদক্ষেপগুলি করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে (Manipur)।

LinkedIn
Share