Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা গোয়েন্দাদের কৌশলী ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ সেনা (India China) আধিকারিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গান্ধীনগর থানায় ২৯০/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়

    প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ লেখার জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও লেখালেখি করতে উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের আড়ালে ওই ব্যক্তিরা কৌশলে মহিলার কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকতে পারেন। গোয়েন্দা মহলে এই ধরনের কৌশলকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সন্দেহ

    সূত্রের দাবি, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার গতিবিধি ও যোগাযোগের উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিন-সহ একাধিক বিদেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় তথ্য পাচারের পরিমাণ

    তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলির পরিচয় কী এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কীভাবে ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং দেশের নিরাপত্তার উপর এর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগে উত্তাল ইউরোপের (Europe Crisis) একাধিক দেশ। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক দেশে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু’পক্ষেরই অনেকে, কোথাও আবার গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। বামপন্থী দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিটি দেশে আলাদা।

    ফ্রান্স: বিক্ষোভের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

    ইউরোপের চলতি অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির খবর মিলেছে ফ্রান্স থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিকাঠামোর দুরবস্থা, বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকে পথে নামেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শ্রমিক সংগঠন CGT-র হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

    অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্সেইয়ের টাউন হলে ভাঙচুরের পাশাপাশি লিয়ঁর একটি পর্যটন দফতরেও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে এসেছে।

    প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ-সহ একাধিক শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান এবং বৈদ্যুতিন পণ্যের বিপণিও হামলার লক্ষ্য হয়। প্যারিসে মুখোশধারী কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ক্যামেরা বিচ্ছিন্ন করে দোকানের কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সাঁ-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী হাতটি হারানোরও খবর পাওয়া গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দাবি, চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় হিংসার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এদিকে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর আন্দোলনের বিরুদ্ধে হিংসাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিও ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ ব্যানারে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি।

    বিক্ষোভের সঙ্গে প্যালেস্তাইনপন্থী আন্দোলন, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    আলবেনিয়া: টানা পাঁচ দিন বিক্ষোভ, আহত বহু

    ফ্রান্সের পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ক্ষোভের জেরে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দেন।

    বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রলবোমা, মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে দাবি।

    আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৭ জন বিক্ষোভকারী। পুলিশ প্রধান স্কেন্দের হিতার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনে ১৩২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধিতা চলছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী রামা পদত্যাগের দাবি নাকচ করে বিরোধী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দুরেস শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডাকঘরের জানলা ভাঙচুর এবং জ্বলন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ইতালি: মিলান ও বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

    ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের দাবি তোলেন।

    পর্তুগাল: আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে মিছিল

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন CGTP-র ডাকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মজুরি ও পেনশন বাড়াতে হবে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। বামপন্থী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্তুগালের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সর্বত্র তৈরি হয়েছিল, এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বেলজিয়াম: শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো তরুণ-তরুণী শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—এমন সংস্কারের আশঙ্কায় প্রতিবাদে অংশ নেন। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিয়ঁজ শহরেও শিক্ষা খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের নাগাল নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। প্রতিবেশী ফ্রান্সের আন্দোলন বেলজিয়ামের প্রতিবাদকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—পাঁচটি দেশের বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। কোথাও আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, কোথাও আবার ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন নিজেদের নির্দিষ্ট দাবিতে পথে নেমেছে। বিভিন্ন দেশে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, সব দেশের অস্থিরতাকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল হিসেবে দেখার আগে পৃথকভাবে ঘটনাগুলি যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত যোগসূত্র নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ইউরোপের এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে—অর্থনৈতিক চাপ ও জনপরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

  • Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র, পড়ার সামগ্রী, গদি, চেয়ার-সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠল আদালতেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘরটির তালার চাবি ছিল এজাজ হোসেন নামের এক আইনজীবী কাছে। হাইকোর্টের প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর হাতে ওই ঘরের চাবি কীভাবে এল, তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ঘরের চাবি সংরক্ষণের পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিকিউরিটি কমিটিকে।

    তবে পরিদর্শন রিপোর্টে ছাদের ওই ঘরকে মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত আদালতের নজর ঘরটির ব্যবহার, সেখানে থাকা সামগ্রী এবং চাবির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।

    ছাদে নামাজ পড়া হত কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত

    সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিকে আদালত ভবনের ছাদ পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ছাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ পড়তেন কি না এবং পড়লে দিনের বেলায় কত ঘনঘন তা হত, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    সেই নির্দেশ মেনে পরিদর্শন চালায় রেজিস্ট্রি। রঙিন ছবিসহ রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানা যায়, ছাদে একটি ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল।

    ঘরে কী কী পাওয়া গেল?

    পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরটিতে কাঠের তৈরি দু’টি দরজা ছিল। দু’টিই তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। চাবির খোঁজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই চাবি রয়েছে আইনজীবী এজাজ হোসেনের কাছে। তিনি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ১২ নম্বর ঘর ব্যবহার করেন। পরে এজাজ হোসেন আরও তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। এরপর তালা খুলে ঘরটি পরিদর্শন করা হয়।

    ঘরের ভিতর থেকে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

    • ● ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই ও ধর্মীয় পাঠ্যসামগ্রী

    • ● গদি ও প্লাস্টিকের চেয়ার

    • ● স্ট্যান্ড ফ্যান ও একটি আলমারি

    • ● বালতি, গামলা ও জলের পাত্র

    • ● চটি রাখার একটি ঝুড়ি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী

    এই সামগ্রীগুলি ঘরটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরিদর্শন রিপোর্টে সেখানে মসজিদ থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, তা-ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    আইনজীবীর কাছে চাবি কেন? প্রশ্ন আদালতের

    ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হাইকোর্টের ছাদের একটি তালাবন্ধ ঘরের চাবি প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে থাকা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘর, দরজা, এজলাস, সিঁড়ি এবং আদালত ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি হাইকোর্ট প্রশাসনের হেফাজতে থাকা উচিত। আদালত চত্বর, ভবন ও টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে পরিচালিত হয়।

    এই প্রেক্ষিতে এজাজ হোসেনের কাছে দু’টি তালার চাবি কীভাবে এল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। মামলাকারীকে আদালতের নির্দেশের একটি কপি ওই আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে সিকিউরিটি কমিটি

    শুধু ওই ঘরের চাবি নয়, আদালত ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আনতে চায় হাইকোর্ট। সেই কারণে রেজিস্ট্রিকে সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের নির্দেশের কপি হাইকোর্টের সিকিউরিটি কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ছাদের ওই ঘর এবং ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি কার হেফাজতে থাকবে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

    তদন্তের মূল প্রশ্ন কী?

    এই ঘটনায় আপাতত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ছাদের ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেখানে পাওয়া ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রী কীসের জন্য রাখা হয়েছিল এবং ঘরটির চাবি একজন আইনজীবীর কাছে থাকার কারণ কী।

    উল্লেখযোগ্য, ঘরে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র পাওয়া যাওয়াই সেখানে মসজিদ ছিল বা নিয়মিত নামাজ হত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে হওয়া পরিদর্শন থেকে এখনও সেই দাবির নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

    এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আইনজীবীর ব্যাখ্যা এবং সিকিউরিটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঘরটির ব্যবহার ও চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের চলতি জনগণনা প্রক্রিয়ায় এনুমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগের পরিধি বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষক বা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাই নন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করণিক এবং অন্যান্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণনা সংক্রান্ত নিয়মে এই সংশোধনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে জনগণনার মতো বৃহৎ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হল।

    জনগণনার নিয়মে কী বদল আনল কেন্দ্র?

    রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Census Rules, 1990 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে জনগণনার কাজে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে—

    • ● সরকারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সাহায্যহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

    • ● কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণিক ও আধিকারিক।

    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাঙ্ক, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, সমিতি ও ট্রাস্টের কর্মী।

    • ● রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের বিবেচনায় উপযুক্ত বলে গণ্য যে কোনও ব্যক্তি।

    আগে সাধারণত সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের উপরই জনগণনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল। সংশোধিত নিয়মে সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হল।

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

    কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আগে হরিয়ানায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স (Haryana Progressive Schools Conference) পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা করে। তাদের আপত্তি ছিল, সরকারি সাহায্য না-পাওয়া বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা যায় কি না।

    সংগঠনটির যুক্তি ছিল, Census Act, 1948-এর ৪এ ধারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়ে প্রযোজ্য। তাদের দাবি, সরকারি সাহায্যহীন বেসরকারি স্কুল সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে আইনের পরিধি বাড়ানো যায় না।

    গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার হরিয়ানা সরকারের এমন দুটি নির্দেশের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে জনগণনার কাজে নিয়োগের জন্য শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। মামলাটি আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি সামনে এল। তবে সংশোধিত নিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    কবে শুরু হবে জনগণনার পরবর্তী পর্যায়?

    স্বাধীনতার পর দেশের অষ্টম জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকাভুক্তি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা বা Population Enumeration। এই পর্যায়ে জাতিভিত্তিক জনগণনার তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

    গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চল বাদে অন্যান্য অংশে ১ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের বাকি অংশে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

    কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে?

    জনসংখ্যা গণনার সময় প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জনতাত্ত্বিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্যও।

    এই তথ্য দেশের জনসংখ্যার গঠন, মানুষের স্থানান্তর, পরিবার ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নমূলক নীতি নির্ধারণেও জনগণনার তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    মণিপুর, লাদাখ ও তুষারাবৃত অঞ্চলের পরিস্থিতি

    মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা জাতিগত হিংসার পরিস্থিতির কারণে সেখানে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অন্যদিকে, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলিতে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    কোভিডের কারণে পিছিয়েছিল জনগণনা

    প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা পরিচালনার নিয়ম থাকলেও ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কোভিড অতিমারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ১১,৭১৮ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।

    প্রশাসনিক গুরুত্ব কোথায়?

    জনগণনার মতো বিশাল কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছনো এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এনুমারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে নিয়োগের পরিধি বাড়লেই যে মাঠপর্যায়ে কাজের সমস্ত সমস্যা মিটবে, তা নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নের সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের শর্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    সব মিলিয়ে, জনগণনার কর্মী নিয়োগে কেন্দ্রের এই সংশোধন প্রশাসনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে, সংশোধিত নিয়মের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কীভাবে কর্মী নিয়োগ করে এবং নির্ধারিত সময়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

  • Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশে ২০২৬ সালের ‘Sanctioning Russia and Iran Act’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা আপাতত কমল।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ছাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার উপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলে দেখার সুযোগ নেই। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত আগের নির্বাহী নির্দেশগুলির আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল থাকবে।

    কী ছিল গ্রাহাম আইনের প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘Lindsey O. Graham Act’ নামে পরিচিত আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রকে নিশানা করার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছিল।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাশিয়া থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের নতুন সরবরাহ কিনলে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচ বৃহত্তম দেশের পণ্যের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান ছিল।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ও বিধিনিষেধ প্রয়োগে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত ও চিনের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত?

    রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরবরাহের নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খরচের উপরেও পড়তে পারে।

    রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লি আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি আমদানিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হতে পারে। চিনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল।

    ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারতের উপর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্কের চাপ তৈরির আশঙ্কা কমেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। কারণ, নির্বাহী নির্দেশে রুশ জ্বালানি কেনাকাটা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

    আমেরিকায় জ্বালানির দাম, মধ্যবর্তী নির্বাচনও কি বড় কারণ?

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর নতুন করে শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।

    নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্প্রতি রুশ ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্ব বাড়বে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

    মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে খর্ব করছে।

    রুবিওর ভারত সফরে রিলায়্যান্সের শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন মুম্বই ও জামনগর সফর বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, রুবিওর সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে একাধিক বৈঠকের পর রুবিও জামনগরে যাবেন। সেখানে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জামনগরেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে অন্যতম, যা রিলায়্যান্স পরিচালনা করে।

    গোর আরও জানিয়েছেন, আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়্যান্সের। ফলে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পেতে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে তাই শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানির জোগান, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

    নজরদারি চলবে, ভবিষ্যতে ফের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশের রুশ তেল ও গ্যাস কেনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রেসিডেন্টকে তা জানাতে হবে।

    এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন মনে করবেন যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের চাপ আপাতত কমল। তবে ওয়াশিংটনের নীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। ভারতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এলেও ভবিষ্যতে রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

  • Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (Swadeshi Jagran Manch)। গত ১৩ অক্টোবর এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানায় সংগঠনটি। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজনের দাবি, স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তি ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, স্যাটেলাইটের মধ্যে লেজার-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় সেই তথ্য ভারতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনে পৌঁছনোর আগে সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

    এসজেএমের বক্তব্য, বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে গুজব ও দেশবিরোধী প্রচার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, বিক্ষোভ-সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনেক সময় ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে। অশ্বিনী মহাজনের বক্তব্য, স্টারলিঙ্কের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশ দিলে দ্রুত ও নির্দিষ্ট এলাকায় পরিষেবা বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, স্টারলিঙ্ক এখনও এই শর্ত পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি। অথবা সংস্থাটির প্রযুক্তিগত কাঠামোতেই এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

    ইলন মাস্কের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

    ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে কেন্দ্র সেই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মাস্কের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে মহাজনের দাবি, ভারতের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করার পরিবর্তে জনমতকে কাজে লাগিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে স্টারলিঙ্ক। তাঁর মতে, সংস্থাটি যদি ভারতীয় নিয়ম মেনে চলতে প্রস্তুত না থাকে, তা হলে পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

    ইউক্রেন থেকে তাইওয়ান—বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার উল্লেখ

    স্টারলিঙ্কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউক্রেন, ইরান, রাশিয়া, চিন, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও সুদানের মতো বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত প্রভাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মহাজনের বক্তব্য, দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে সামান্য দেরি হলেও তাতে সমস্যা নেই। বরং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টারলিঙ্কের তুলনায় কম খরচে পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি তাঁর।

    লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর ছাড়পত্র মেলেনি

    উল্লেখ্য, ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালুর জন্য স্টারলিঙ্ক আবেদন করেছে। রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী গোষ্ঠী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবও এই পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে অনুমোদন পেয়েছে। তবে লাইসেন্স থাকলেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করা যাবে না। স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও পরিষেবা চালুর আগে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তারা মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন। ফলে স্টারলিঙ্কের ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের উপর। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের আপত্তি এই বিতর্ককে আরও জোরালো করল।

  • World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র নির্ধারিত থিম ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’—অর্থাৎ, ‘আজ উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি সুনিশ্চিতকরণ’। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং পুষ্টি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত ভারতকে। ১৯৬০-এর দশকে ‘শিপ-টু-মাউথ’ পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল ছিল দেশ। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার গত এক দশকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচের সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা

    কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। চাল উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুধ ও মিলেট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম এবং মাছ, ফল ও সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের অন্যতম বড় কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় প্রায় ৮১.৩৫ কোটি উপভোক্তা এই ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন। কোভিড অতিমারির সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আরও পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক চাপও কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে এই প্রকল্প দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও অপুষ্টি মোকাবিলায় উদ্যোগ

    শুধু পেট ভরলেই খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব বা ‘হিডেন হাঙ্গার’ দূর করাও সমান জরুরি। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় চালের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই চালের সঙ্গে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ যুক্ত করা হচ্ছে। গণবণ্টন ব্যবস্থা (PDS) এবং পিএম-পোষণ প্রকল্পের আওতায় এই চাল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১৭,০৮২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ১০০টিরও বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের নতুন জাত তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো।

    ‘শ্রী অন্ন’-এর প্রচার, মিলেটে বিশ্ববাজারের নজর

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে মিলেট বা বাজরা-জাতীয় শস্যের গুরুত্ব বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম জলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই শস্য চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। ভারতের উদ্যোগে রাষ্ট্রসংঘ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। দেশীয় এই শস্যকে ‘শ্রী অন্ন’ নামে প্রচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। মিলেট প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ এবং রফতানি বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রের সহনশীলতাও বাড়তে পারে।

    ডাল ও ভোজ্যতেলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

    খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ডাল ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র ডাল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তৈলবীজ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের জন্য ১১,৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ডালের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, দেশের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে জাতীয় ভোজ্যতেল মিশন—অয়েল পাম প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাম তেলের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এবং দেশীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিটাল কৃষি ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা

    কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন বা এগ্রিস্ট্যাকের জন্য ২,৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের জমির ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পে ১১ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT-র মাধ্যমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা জোগানোই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজের খরচ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হতে পারে।

    কৃষি রফতানি ও বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    দেশীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের কৃষিপণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট কৃষিপণ্য রফতানির পরিমাণ ৫৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নন-বাসমতি চাল রফতানির উপর ন্যূনতম রফতানি মূল্য ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে খাদ্যশস্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের অবদান তুলে ধরছে কেন্দ্র।

    খাদ্য নিরাপত্তা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা—নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এ ভারতের কৃষিক্ষেত্রের অগ্রগতি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনামূল্যে রেশন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই সমস্ত উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে উৎপাদনের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টি সুরক্ষায় রূপান্তরিত করতে হলে অপুষ্টি মোকাবিলা, কৃষকদের ন্যায্য আয়, জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎপাদক দেশে পরিণত হওয়ার যাত্রায় ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সেই অগ্রগতির পরবর্তী লক্ষ্য—প্রতিটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রকে আরও স্বনির্ভর ও টেকসই করে তোলা।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

  • Dipke Neha Face Chaos: নেহা-দিপকের বিরুদ্ধে ‘দূর হটো’ স্লোগান! সাংবাদিক সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা

    Dipke Neha Face Chaos: নেহা-দিপকের বিরুদ্ধে ‘দূর হটো’ স্লোগান! সাংবাদিক সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধীরে ধীর প্রভাব কমছে! সামনে আসছে চরিত্র! দিল্লিতে সিজেপির (CJP Protest) সাংবাদিক বৈঠকে চরম বিশৃঙ্খলা এবং হট্টগোলের ঘটনায় কী সের ইঙ্গিত? অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) এবং ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সভানেত্রী নেহা বোরার আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একাংশের প্রবল চিৎকারের জেরে উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় আবার রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যখন তাঁদের বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ করে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে শুরু করেন, “বন্ধ কর তোমাদের সম্মেলন। দূর হটো।”

    বাংলাদেশ মন্তব্যে অস্বস্তিতে নেহা-দিপকে

    এই পরিস্থিতিতে নেহা বোরার চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও অসন্তোষ ফুটে ওঠে। ঘটনার জেরে বাধ্য হয়েই তিনি এবং অভিজিৎ দিপকে তাঁদের আসন ছেড়ে উঠে চলে যান। তবে আসন ছাড়ার আগে নেহা আয়োজকদের স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও গোলমাল পাকানো ব্যক্তিদের দ্রুত বের করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক কিছু অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের দুটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসক দল বিজেপি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেছে। বিগত দিনে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত ছাত্র মুখ হিসেবে উঠে আসা নেহা সম্প্রতি প্রকাশ্যে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জেন জি (Gen Z) ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন যে সেই আন্দোলনই তাঁদের পথ দেখিয়েছে।

    বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা!

    বিজেপির প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে আইসা সভানেত্রীকে বলতে শোনা গেছে যে, ভারতে তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করার পেছনে মূলত ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের বড় অনুপ্রেরণা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনের একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে, ভারতে যে জেন জি আন্দোলন এখন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে এবং সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁদের অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দিপকে। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানে দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকদেরও উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন।

LinkedIn
Share