Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করল কুয়েত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি (JDC)-র বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকটি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-কুয়েত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতাপত্র (MoU) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুয়েত সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

    প্রথমবার বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম JDC বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অমিতাভ প্রসাদ। কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আলসাকরান। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO), সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা পরিষেবা এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য এই কমিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কুয়েতের প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লির ডিপিএসইউ ভবন-ও পরিদর্শন করে। সেখানে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কুয়েতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়।

    ভারত-কুয়েত চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারত-কুয়েত জেডিসি বৈঠকের ঠিক একদিন আগে কুয়েত ও পাকিস্তান প্রোটোকল এগ্রিমেন্ট ২০২৬ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়েছে। পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার কথা রয়েছে। তবে ভারত-কুয়েতের সাম্প্রতিক বৈঠককে সরাসরি পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ ভারত ও কুয়েতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে এবং ২০২৪ সালেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সময়ের দিক থেকে পরপর এই দুই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ভারত-কুয়েত বৈঠককে অবশ্যই বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ১৯৬২ থেকে সম্পর্ক, ২০২৪-এ ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’

    ভারত ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৬২ সালে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসংযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির কুয়েত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাও এই অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কুয়েতে বসবাসকারী বিপুল ভারতীয় সম্প্রদায়ও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কুয়েতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে আরও এক ধাপ

    জেডিসি গঠনের ফলে ভারত ও কুয়েতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনার একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হল। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ বা মহড়াই নয়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক পরিচিতিও আরও বাড়তে পারে। সামরিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথভাবে সেরা পদ্ধতিগুলি গ্রহণেরও সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণাকে আলোচনার আওতায় আনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত সামরিক বিনিময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পেও কুয়েতকে পাশে চাইছে ভারত

    ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির কাছে নিজেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরছে। JDC বৈঠকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর এবং ডিআরডিও-র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রকল্প চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা এবং কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের উপর।

    উপসাগরীয় নিরাপত্তায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি

    সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতা বাড়ছে। কুয়েতের জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে গভীরতর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তার বৃহত্তর কৌশলগত উপস্থিতি শক্তিশালী করে। কারণ এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং বিপুল প্রবাসী ভারতীয় জনগোষ্ঠীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠককে নিছক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এল এই জেডিসি।

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

  • Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচরচক্রের হদিশ পাওয়ার দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দিল্লির বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হওয়া দু’জন হল ২৫ বছরের সাহিল এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী সমীরা। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা একাধিক ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তদন্তে দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলেও জানিয়েছে স্পেশাল সেল।

    পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সমীরা মোট ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। এর বিনিময়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।  তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। পুলিশের আরও অভিযোগ, ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গ্রুপে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা।

    সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ— কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলাররা ভারতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এর মধ্যে কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরাও থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, শুধু সিম কার্ড পাচার নয়, ভারতের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে।

    সামরিক এলাকায় রেকি করার অভিযোগ

    এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গিয়ে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে অভিযোগ।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, সামরিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চলা কোর্ট মার্শাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া কিছু ভারতীয় সেনাকর্মীর সম্পর্কেও সাহিল তথ্য সরবরাহ করেছিল। ফলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য সংগ্রহ ছিল না। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, সেনা সদস্য এবং সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ।

    ইনস্টাগ্রাম থেকেই শুরু যোগাযোগ

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের প্রথম যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমীরার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাহিল ২০২২ সালে সমীরার সঙ্গে আলাপ হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। এরপর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই এজেন্টই পরে দম্পতিকে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা অপারেটিভ আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দম্পতিকে গুপ্তচরচক্রে কাজ করতে রাজি করায়।  এরপর তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল দিল্লিতে নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাঠানো এবং নতুন ব্যক্তিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও ফিল্ড অপারেশনে যুক্ত করার চেষ্টা।

    মোবাইল ফোন থেকেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

    চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে সাহিলকে প্রথমে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তিনি মহম্মদ আশফাকের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  সাহিলের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে বলে দাবি। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সমীরার ভূমিকার বিষয়ে জানতে পারেন।

    এরপর সমীরাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ফোনে সাহিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতির কাছ থেকে মোট দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং ভারতে থাকা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগাযোগ ও কার্যকলাপের তথ্য রয়েছে।

    কারা এই সাহিল ও সমীরা?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম সাহিল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে কলায় স্নাতক পাশ করেছে। সে এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করত এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে সে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে বেকার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম সমীরা কেশবপুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরে করেসপন্ডেন্স-এর মাধ্যমে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে। গ্রেফতারের আগে নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।

    কীভাবে সামনে এল পুরো নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের কাছে প্রথমে খবর আসে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার  এবং স্লিপার সেলকে দিল্লি থেকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সাহিলের নাম সামনে আসে। তার মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। এরপর সেই সূত্র ধরে সমীরার কথিত ভূমিকা এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে স্পেশাল সেল।

    তদন্তে এখন নজর কোথায়?

    দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতার করার ফলে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে থাকা তাদের কথিত যোগাযোগকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।বিশেষ করে ভারতীয় সিম কার্ড কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছত, সেই সিম ব্যবহার করে কারা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাত, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল এবং সামরিক এলাকার কোন কোন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছেছিল— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি সত্যি হলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নয়; বরং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের মাটিতে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের মধ্যে কীভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম কার্ড এবং স্থানীয় লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে আনতে পারে এই মামলা। তবে এই সমস্ত অভিযোগই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে; আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

  • Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার অতি সুরক্ষিত প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। জেল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কারা দফতর ও রাজ্য পুলিশে।

    কারা সূত্রে খবর, গত ১৩ অগাস্ট প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয় দুটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন এবং দুটি রাউটার। এর পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি কার্ড রিডার, পেনড্রাইভ, ওটিজি (অন-দ্য-গো) কেবল এবং ওটিজি অ্যাডাপ্টার। একটি হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছে কীভাবে এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।

    জেলের ভিতর থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ?

    আফতাব আনসারির সেল থেকে একসঙ্গে এতগুলি যোগাযোগ ও ডেটা-সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জেলের ভিতরে বসে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও রাউটারগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেগুলি দিয়ে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশেষ করে রাউটার, স্মার্টফোন, আইফোনের পাশাপাশি কার্ড রিডার ও ওটিজি সংক্রান্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার বা তথ্য আদানপ্রদানের কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    আগেও উঠেছিল করাচিতে যোগাযোগের অভিযোগ

    আফতাব আনসারিকে ঘিরে জেলের ভিতর থেকে যোগাযোগের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে করাচিতে থাকা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই জেলবন্দি এই কুখ্যাত জঙ্গির যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা সামনে আসে। নতুন করে তাঁর সেল থেকে একাধিক মোবাইল ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

    হেস্টিংস থানায় এফআইআর

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে হেস্টিংস থানায় আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছেন কারা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পৌঁছনোর পিছনে কোনও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকা বন্দির সেলে কীভাবে একাধিক স্মার্ট ডিভাইস ঢুকল, তা নিয়েও জেল প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী

    আফতাব আনসারি কলকাতার আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী হিসেবে পরিচিত। ওই হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি রয়েছেন।

    এমন একজন উচ্চ-ঝুঁকির বন্দির সেল থেকেই যদি একসঙ্গে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং ডেটা-ট্রান্সফারের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—এই ডিভাইসগুলি কীভাবে জেলে ঢুকল, কারা তা সরবরাহ করল এবং সেগুলি ব্যবহার করে আফতাব আনসারি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

  • Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা সফরে গিয়ে নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে (ISKCON) গেলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in New York)। শুক্রবার ২৬, সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে গিয়ে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। পাশাপাশি গৃহহীনদের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। ইসকনের গভর্নিং বডি কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে জানান, ভাগবতের উপস্থিতিতে ‘জিরো হাঙ্গার নিউ ইয়র্ক’ উদ্যোগের আওতায় খাবার বিতরণ করা হয়। ১৯৬৬ সালে শ্রীল প্রভুপাদ এই স্থান থেকেই ইসকনের যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সনাতন ধর্ম

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে গৌরাঙ্গ দাস জানান, মোহন ভাগবতের এই সফর ‘ঐতিহাসিক’। তাঁর কথায়, বিশ্বজুড়ে ইসকনের (Mohan Bhagwat Visits ISKCON) প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ১২০টি দেশে ইসকনের প্রায় ১,৩০০টি মন্দির রয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরেই হিন্দু সনাতন ধর্ম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরএসএস এবং ইসকন কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান গৌরাঙ্গ দাস। ইসকনের যোগাযোগমন্ত্রী তথা গভর্নিং বডি কমিশনার অনুত্তম দাসও আরএসএস প্রধানের সফরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মেরুকরণের এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ঈশ্বরচেতনা ও কৃষ্ণচেতনার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কীভাবে আরও কাজ করা যায়, তা নিয়ে ইসকন ভাবনাচিন্তা করছে।

    কৃষ্ণ চেতনা-ই মানুষকে একত্রিত করে

    মন্দিরে নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে ভাগবত ইসকনকে একটি ‘অনুপ্রেরণাদায়ী স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকে ‘শ্রীকৃষ্ণ চেতনা’-র এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, সেখানে এসে তিনি ‘বিশুদ্ধ সাত্ত্বিক ভালোবাসা’-র অনুভূতিতে আপ্লুত হয়েছেন। মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, বিশ্বে মতপার্থক্য, সংঘাত ও বিভাজন থাকলেও মানুষকে একত্রিত করতে পারে চেতনা। তাঁর কথায়, “আজকের পৃথিবীতে এত সংঘাত, এত দ্বৈততা। একমাত্র যে জিনিস মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, তা হল চেতনা। সেই চেতনা হল কৃষ্ণ চেতনা।” উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোহন ভাগবত বর্তমানে তিন দেশ—আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন সফর করছেন। আজ, শনিবার ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-এর অংশ হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

  • PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Central Asia Tour)। শনিবার থেকে শুরু এই সফরে তিনি উজবেকিস্তান ও কিরঘিজস্তান যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন মোদি। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের আমন্ত্রণে ২৯ ও ৩০ অগাস্ট উজবেকিস্তান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৩১ অগাস্ট কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও (SCO Summit) সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।

    মোদি-পুতিন সাক্ষাৎ

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের (PM Modi Meet Putin) সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে। বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারত ও রাশিয়ার দুই নেতার মধ্যে একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।” তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সামগ্রিক পরিসর নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। সম্মেলনের ফাঁকে মোদির আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলির সূচি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে। মোদি পুতিন বৈঠকের আগে চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া সফর করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মস্কো সফরে তিনি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

    এসসিও সম্মেলনের গুরুত্ব

    এবারের এসসিও সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই বিষয়গুলির উপর ভারতের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। সিবি জর্জ বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রপন্থার মোকাবিলা করাই এসসিও প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বর্তমানেও এই সমস্যাগুলি আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে ভারত এসসিও-র পূর্ণ সদস্য হয়।

    ভারতের কৌশলগত দিক থেকে মধ্য এশিয়ার গুরুত্ব

    ভারতের কৌশলগত হিসেব-নিকাশে মধ্য এশিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। স্থলবেষ্টিত হলেও সম্পদে সমৃদ্ধ এই পাঁচটি প্রজাতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া এবং চিনের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তাদের কাছে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং ক্রমবর্ধমানভাবে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকার বিপুল মজুদ রয়েছে। শিল্প আধুনিকীকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা অর্জনে সচেষ্ট জ্বালানি-আমদানিকারী ভারতের জন্য এই সম্পদগুলো মূল্যবান বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দেয়। আফগানিস্তান পাকিস্তান অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং অস্থিতিশীলতা নিয়ে এই অঞ্চলটিও ভারতের উদ্বেগের অংশীদার। কিন্তু ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পৃক্ততাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। পাকিস্তান সরাসরি স্থলপথে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ায়, ইরানের চাবাহার বন্দর এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর (INSTC)-এর মাধ্যমে দীর্ঘতর বহুমুখী সংযোগ পথের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে হয়।

    ভারতের সঙ্গে সখ্যতা-প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক সদিচ্ছা

    চিন ক্রমান্বয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন সংঘাত রাশিয়ার সক্ষমতাকে সংকুচিত করলেও দেশটি তার অবশিষ্ট নিরাপত্তা প্রভাব বজায় রেখেছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় অংশীদাররা তাদের নিজস্ব বহুমুখী যোগাযোগ প্রসারিত করেছে। মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো নিজেরা ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি অনুসরণ করে এবং এমন অংশীদার খোঁজে যাদের সাথে আধিপত্যবাদী বোঝা যুক্ত নেই। ভারত এই পছন্দের সঙ্গে খাপ খায়। এর বিরুদ্ধে কোনও ঐতিহাসিক হুমকির আশঙ্কা নেই এবং সভ্যতাগত সখ্যতাও রয়েছে। ভারত নিজেকে একটি বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একটি উন্নয়নমূলক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে। ২০১৫ সালে মোদির পাঁচটি প্রজাতন্ত্র সফর, ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপ ও শীর্ষ সম্মেলনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং ২০১৭ সাল থেকে এসসিও-র পূর্ণ সদস্যপদ—এই সবকিছুই সম্পর্কটিকে ক্রমান্বয়ে উন্নত করেছে। এই সাম্প্রতিক সফরের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে আরও বাস্তব কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তরিত করা।

    উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্য

    উজবেকিস্তানে এটি মোদির চতুর্থ সফর। সেখানে প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। তাশখন্দে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি দুই দেশের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উজবেকিস্তান এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং ভারতের অন্যতম সক্রিয় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিরঘিজস্তান সফরে মোদি ষষ্ঠ বিশ্ব নোমাড গেমস (World Nomad Games)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। মধ্য এশিয়ার যাযাবর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেবে ভারত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা আছে, সেটার পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে (পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর)’ লিখতে হবে। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলতে হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার, রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari in Jadavpur)। পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকার যা করেছে, তাঁর সরকার সেই পথে হাঁটবে না। যাদবপুরে দাঁড়িয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, এ বার হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। তাঁর কথায়, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ভারতকে নিয়ে কোনও স্লোগান দেয় না। বদলে বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। তাঁরা সিঁদুর অভিযানের সময় পথে নেমে বলে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দাবি মানবে না, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    কোনও সমঝোতা নয়

    বাম সরকার ৩৪ বছর ধরে তাঁদের মদত দিয়েছে। তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে নিজের স্বার্থে ‘সমঝোতা’ করেছে। কিন্তু এবার হিসেব শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বামেদের পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মদত দিয়েছে তৃণমূল। পড়ুয়াদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তাঁর কথায়, ‘‘৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত।’’ কেন সমঝোতা করত, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়ারা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদি। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’’তার পরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না।

    কিসের আজাদি? প্রশ্ন শুভেন্দুর

    যাদবপুরের পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কিসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হাতে গীতা নিয়ে ক্ষুদিরাম বসুরাই আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, এক হাতে শঙ্খ নিয়ে তমলুকের বানপুকুরে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, আরও পিছিয়ে গেলে ঋষি অরবিন্দ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা কীসের আজাদি চান?’’

    হয় এরা থাকবে, নয় আমরা

    শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে ‘কমিউনিস্টদের সাফাই’ করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে ‘মাওবাদীদের সাফাই’ করা হয়েছে, সে ভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়া লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’’

    ভয় দেখিয়ে আন্দোলন নয়

    শুভেন্দুর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি।’’

    ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই বন্দে মাতরম

    এদিন, বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।’’ তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যজুড়ে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan Festival)। শুক্রবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে যেমন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সৌভাতৃত্ব ও সম্পর্কের বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্বাধীনতার এত বছর পরেও পরও ‘দেশবিরোধী’দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ লেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে রবি ঠাকুরের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় এই উৎসব ঘিরে পুনর্জাগরণের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দের (Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর (Grand Chess Tour) খেতাব জিতলেন ২১ বছরের এই তরুণ তুর্কি। পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন প্রজ্ঞানন্দ। ফাইনালে এক সময় ছ’পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর কারুয়ানাকে দু’টি র‌্যাপিড গেমে হারিয়ে দেন। তার পর ব্লিৎজ গেমে ১৫-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রমেশবাবু। ফাইনালে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টারকে। তবে, আগ্রাসী দাবা খেলে ফাইনাল জমিয়ে দেন তিনি।

    ভারতীয় দাবায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    ভারতীয় দাবাকে আরও একবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন প্রজ্ঞানন্দ।এই খেতাব জিতে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার পেলেন প্রজ্ঞানন্দ। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার সমান। প্রজ্ঞানন্দের কেরিয়ারে এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিরোপা। এদিন র‌্যাপিড রাউন্ডে চাপে ছিলেন দুই দাবাড়ুই। কারণ চার গেমের এই রাউন্ডই হয়ে ওঠে আসল ফাইনাল। সেখানেই চাপ সামলে কিস্তিমাত করেছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রথম গেমে কিছুটা চাপে পড়ে যান ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও সময়ের চাপে ভুল চাল দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেন। কারুয়ানাও ভুল করলে ম্যাচ ড্র হয়। পরের ম্যাচগুলি জিতে ১৫-১৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন প্রজ্ঞানন্দ।

    পরবর্তী লক্ষ্য দাবা অলিম্পিয়াড

    বছরের শুরুটা প্রজ্ঞানন্দের জন্য ভাল হয়নি। ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার নেমেই ব্যর্থ। কিন্তু এরপর স্বপ্নের ফর্মে ফেরেন। নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) দু’বার হারিয়ে শিরোপা জয়। জেতেন সেন্ট লুইস র‍্যাপিড ও ব্লিটজ খেতাবও। সিঙ্কফিল্ড কাপেও যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন। প্রজ্ঞানন্দের কথায়, ‘ক্যান্ডিডেটস জিতলে ভাল লাগত ঠিকই। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট জেতাও দারুণ একটা ব্যাপার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই এই টুর্নামেন্টের স্থান। এই স্তরের প্রতিযোগিতায় জিততে গেলে অনেক মানসিক দৃঢ়তা লাগে। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে পেরে খুশি।’টানা একমাস দাবার বোর্ডে মগ্ন থাকার পর প্রজ্ঞার পরবর্তী লক্ষ্য এখন দাবা অলিম্পিয়াড (Chess Olympiad)। আগামী ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে ভারতীয় দল। সেখানেও অন্যতম প্রধান ভরসা প্রজ্ঞানন্দ।

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

LinkedIn
Share