Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সারদের দুরন্ত সাফল্য অব্যাহত। শনিবার (১ আগস্ট) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সোনার পদক জিতলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ফাইনালে তিনি কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো-কে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত রায়ে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে ষষ্ঠ সোনা তুলে দেন।এর কিছুক্ষণ পরেই মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ-কে পরাজিত করে দেশের সপ্তম সোনার পদক নিশ্চিত করেন। একই দিনে অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য আসে। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।

    ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রীতি

    ২২ বছর বয়সি প্রীতি পাওয়ার গোটা ফাইনালেই ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। পাঁচ বিচারকই তিনটি রাউন্ডেই তাঁকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণ বজায় রেখে আরও একটি ৫-০ স্কোর আদায় করেন প্রীতি। তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং কার্যকর কাউন্টার-পাঞ্চিংয়ের সামনে ডেলগাডো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পুরো লড়াই জুড়েই ভারতীয় বক্সারের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

    দুরন্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা

    ২০২৬ সালটি প্রীতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। এর আগেই তিনি ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এর শিরোপা জিতেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় নেমে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে সোনা জয় করলেন তিনি। সেমিফাইনালেও প্রীতি ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপে-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেই জয়ের ফলে ভারতের অন্তত রুপো নিশ্চিত হয়েছিল। পরে ফাইনালে একতরফা জয় তুলে নিয়ে সেই পদককে সোনায় রূপান্তরিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কানাডার ডেলগাডো সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লরেন ম্যাকি-কে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।

    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়ার হাতেও সোনা

    মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনার পদক জেতেন। লড়াইটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জেসমিনই এগিয়ে থাকেন। ফল ঘোষণার পর দুই বক্সার একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেসমিন নিজেই ওয়ালশের হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণের আহ্বান জানান।

    ট্রিপল জাম্পে রুপো ও ব্রোঞ্জ

    অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের ঝুলিতে এল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপোর পদক জেতেন। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের পর কমনওয়েলথ গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে, সেলভা প্রভু থিরুমারণ ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক। এই ইভেন্টে ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনার পদক জেতেন জামাইকার জর্ডান স্কট।

  • Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    Hamim Mondal Case: এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা! ‘হানিট্র্যাপ’ করে চলত রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরা করে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁসিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হতেন অর্পিতা। তদন্তকারীদের দাবি, এই তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য হামলার ছক তৈরি করা হত।

    হামিমকে জেরা করেই সামনে আসে অর্পিতার নাম

    শুক্রবার বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের STF হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রের দাবি, জেরার সময় হামিমের কাছ থেকেই অর্পিতা সরকারের নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে চলত তথ্য সংগ্রহ?

    তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতাকে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হত। তাঁর কাজ ছিল বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রশাসনিক আধিকারিক, আমলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। অভিযোগ, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হত। এসটিএফ-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, হামিমের নির্দেশেই এই যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ একাধিক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামিমের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। একই সঙ্গে জানতে চাইছেন, গোটা নেটওয়ার্কে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল এবং আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

    বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের নিশানায় রাখার অভিযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি ও আরএসএস নেতার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে হামিম সেই পরিকল্পনায় কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছত, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার অভিযোগ

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হামিমের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি এসটিএফ-এর। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যে রাস্তায় যাতায়াত করতেন, সেই রুটে হামিম রেকিও করেছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক যোগ মিলেছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এসটিএফ তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    জিম থেকেই ধরা পড়ে হামিম

    শুক্রবার সকালে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন রেনেসাঁ হাউজিং কমপ্লেক্সের জিম থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামের বাসিন্দা। তবে তার পরিবারের শিকড় মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামেও রয়েছে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন। কয়েক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সের রোহিনী টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন ফ্ল্যাটে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীদের দাবি, হামিমের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের কথা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা কখনও চোখে পড়েনি।

    হাওড়ায় চাকরির আড়ালে চলছিল নাশকতার প্রস্তুতি?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিম হাওড়ার পিলখানার একটি রেডিমেড পোশাক কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করত। কিন্তু এসটিএফ-এর দাবি, এই চাকরির আড়ালেই সে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল নিউটাউনেও।তদন্তকারীরা এখন হামিম ও অর্পিতার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে গোটা নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগ এবং আরও কোনও সহযোগী এই চক্রে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে STF। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রীতিমতো চমক দিয়ে জুডোতে জোড়া সোনা জয় ভারতের। দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) সেরার মুকুট পরলেন ত্রিপুরার বাঙালি মেয়ে অস্মিতা দে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপর সোনাটি জেতেন হর্ষ সিং। এছাড়াও এই ইভেন্টে মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন যামিনী মৌর্য। শুক্রবার সবার নজর অবশ্য ছিল জ্যাভেলিন থ্রোয়ে নীরজ চোপড়ার দিকে। কিন্তু, আশা জাগিয়েও সোনা হাতছাড়া ভারতীয় তারকার। প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ৮৫.৮৩ মিটারের থ্রোয়ে রুপো জিতলেন তিনি। এদিন, জ্যাভলিনে ডাবল পোডিয়াম ভাগ করে নিল ভারত। ব্রোঞ্জ জিতে চমক দিলেন ভারতের যশবীর সিং (৮৫.৪১)।

    বাবাকে সোনা উৎসর্গ অস্মিতার

    গ্লাসগোয় জুডোর ম্যাটে এদিন যথার্থ অর্থেই আলো ছড়িয়েছেন ভারতীয়রা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে অস্মিতা হারালেন কানাডার হিডি কোয়াচকে। নির্ধারিত সময়ের লড়াই ১-১ থাকার পর গোল্ডেন স্কোরে বাজিমাত (২-১) করেন তিনি। পুরস্কার প্রদানের সময় জাতীয় সংগীত বেজে উঠতেই আবেগে চোখ ছলছল করল দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছোট্ট শহর বিলোনিয়ায় বেড়ে ওঠা জুডোকার। বাবা অর্জুন কুমার ছিলেন সাইকেল মেকানিক। গত ডিসেম্বরেই মারা গিয়েছেন তিনি। গেমসের সোনা তাঁকেই উৎসর্গ করলেন কন্যা। অস্মিতার কথায়, ‘এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। অবশেষে স্বপ্ন সফল। জুডো থেকে দেশকে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা এনে দিতে পেরে আমি ধন্য। মাত্র ৮ মাস আগে বাবাকে হারিয়েছি। এই সাফল্য তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’

    সোনার ছেলে হর্ষ সিং

    পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পথে হর্ষ সিং ১০-০ পয়েন্টে উড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার জোসুয়া কাটজকে। কেরিয়ারে এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে নেমেছিলেন হর্ষ। আর অভিষেকেই বাজিমাত করলেন। অলিম্পিয়ান জোশুয়া কাটজ়কে এই বিভাগের অন্যতম সেরা এবং সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় ছক কষে লড়াই করে চমক দিলেন হর্ষ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দীর্ঘক্ষণ কেউই সে ভাবে সুবিধা পাননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৪১ সেকেন্ড আগে দুর্দান্ত একটি ওয়াজা-আরি (Waza-ari) মুভে এগিয়ে যান হর্ষ। জুডোয় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরিং টেকনিক। এর পরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি।

    লড়াই করেও রুপোতেই থামলেন যামিনী

    সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন অস্মিতা দে। নজর ছিল আর এক মহিলা জুডোকা যামিনী মৌর্যর দিকেও। ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে দারুণ লড়াই করেও ইংল্যান্ডের অ্যাসেলিয়া টোপ্রাকের কাছে হেরে যান তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। অবশেষে পেনাল্টিতে বাজিমাত করে যামিনীকে হারিয়ে সোনা জেতেন টোপ্রাক। রুপো জেতেন যামিনী।

    দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট

    ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্সে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেন তেজস্বিন শঙ্কর (Tejaswin Shankar)। শুক্রবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) পুরুষদের ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হয়ে উঠলেন তেজস্বিন। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হাই জাম্পে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। হাই জাম্পার থেকে ডেকাথলিটে রূপান্তরিত হওয়া তেজস্বিন গ্লাসগোতে ১০টি ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ৭,৯৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। মাত্র ২৪ পয়েন্টের জন্য তিনি ৮,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। সোনা জিতেছেন গ্রেনাডার ভিক্টর লিন্ডন (৮,০৯৬), আর কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নার (৮,০৩৬) জিতেছেন রুপো।

    বক্সিং রিংয়ে তেরঙা ঝড়

    বক্সিং রিংয়েও বইল তেরঙা ঝড়। এই ইভেন্ট থেকে সবচেয়ে পদক জিততে চলেছে ভারত। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১০ জন বক্সার সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আগেই তা নিশ্চিত করেছিলেন। শুক্রবার তাঁদের প্রত্যেকেই ফাইনালে জায়গা পাকা করলেন। দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা জয়ের আশা উজ্জ্বল করলেন লভলিনা বড়গোঁহাই, অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল, প্রীতি পাওয়ার, জাসমিন লাম্বোরিয়া, অরুন্ধতী চৌধুরি, জাদুমনি সিং, সাক্ষী চৌধুরি, প্রিয়া গাংহাস, শচীন সিওয়াচ ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। আর ফাইনালে হারলেও নিদেনপক্ষে রুপো নিশ্চিত তাঁদের। এদিকে, পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলনে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ভুলতে পারছেন না লাভপ্রীত সিং। দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও রুপোতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নেভি জওয়ানকে। স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে লাভপ্রীত তোলেন ৩৮৮ কেজি ওজন।

    জ্যাভলিনে জয়যাত্রা

    নীরজের কমনওয়েলথ যাত্রা বরাবরই বিশেষ। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস (Gold Coast Commonwealth Games)-এ ৮৬.৪৭ মিটার থ্রো করে তিনি সোনা জিতে এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছিলেন। যদিও ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস (Birmingham Commonwealth Games)-এ চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৬ সালে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে সোনা না এলেও রুপোর পদক জিতে আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম এখনও নীরজ চোপড়াই। আর যশবীরের ব্রোঞ্জ ভারতের ভবিষ্যৎ জ্যাভলিন শক্তির দিকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। এই ফলাফলের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিনে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। প্রথমবার একই আসরে দুই ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতে দেশের অ্যাথলেটিক্সে নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।

    পদক তালিকায় কোথায় ভারত

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের রথ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রোতে নীরজ চোপড়ার রুপো এবং যশ বীর সিংয়ের ব্রোঞ্জ জয়ের পর ভারতের মোট পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। ভারতের ঝুলিতে এখন ৫টি সোনা, ১২টি রুপো এবং ৬টি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এই সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় ভারত দশম স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

  • Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    Kulgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে কুলগামে জঙ্গি হামলা! নাম জিজ্ঞেস করে দুই হিন্দু পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি, দায় স্বীকার টিআরএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ফের লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেল্লাম (Kellam) গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত দু’জনই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    কী ঘটেছিল কুলগামের জঙ্গি হামলায়?

    পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলে একাধিক অ-স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছিলেন। জঙ্গিরা প্রথমে শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চায়। এরপর দুই হিন্দু শ্রমিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। নিহতদের নাম দীপক ও ভূপেন্দ্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দীপকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ভূপেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    দায় স্বীকার টিআরএফ-এর, নজরে লস্কর যোগও

    হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। এই সংগঠনটি লস্কর-ই-তইবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৫ সালের পাহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়িয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই হামলায় এক স্থানীয় এবং এক বিদেশি জঙ্গির জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মহম্মদ লতিফ, যে গত বছর লস্কর-ই-তৈবা বা টিআরএফ-এ যোগ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযান

    হামলার পরপরই সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথভাবে কেল্লাম গ্রাম ঘিরে ফেলে। শুরু হয় ব্যাপক কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল জানান, তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক নলিন প্রভাত-সহ শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জঙ্গিদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    অমরনাথ যাত্রার মাঝেই বাড়ছে উদ্বেগ

    এই হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় লক্ষ্যভিত্তিক জঙ্গি হামলা। এর আগে অনন্তনাগ জেলায় এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকার ৬৭০টি অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করেছে।

    পাহেলগাম হামলার পর আবার টিআরএফ-এর সক্রিয়তা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছিল ভারত। পরবর্তীতে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকদিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কুলগাম হামলাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ।

    শোকপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “এই মানুষগুলো স্রেফ নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে এসেছেন। কোনো সভ্য সমাজে এই বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা দাবির সত্ত্বেও এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করে।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। তাঁর অভিযোগ, উপত্যকার শান্তি নষ্ট করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কারা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, বিজেপি নেতা রবীন্দর রায়না, আপনি পার্টির সভাপতি আলতাফ বুখারি এবং পিপলস্ কনফারেন্স-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।

    অতীতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা

    কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় বিহারের দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে পঞ্জাবের দুই অ-স্থানীয় শ্রমিক জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান যখন চোখ-কান বন্ধ করে থাকেন, তখনই দুর্নীতি একেবারে গোড়য় গেঁথে যায়। আগের সরকারের সময় রাজ্যে তাই হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। বীরভূমের পাথর ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান এবং বিপুল ধনসম্পদ উদ্ধারের খতিয়ান তুলে ধরে নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলু মণ্ডলের নামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি, সোনা-রুপো-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভ। পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সম্পদেরও হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে কেবল একটি জেলা থেকেই রাজ্য সরকারের বিপুল রাজস্বের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় পাচার চক্র বছরের পর বছর চলা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বিগত সরকারের আমলে পাথর খাত থেকে মাসে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। আর আমাদের সরকারের সময়ে কঠোর নজরদারির ফলে কেবল গত এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রেভিনিউ সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ে তৃণমূল নেতারা যে বালি ডাম্প করে রেখেছিল, আমরা এসে তা খোলা নিলাম (Auction) করাই। সেই বালি নিলাম করেই রাজ্য সরকারের ভাণ্ডারে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসেছে।”

    রাজ্য পুলিশ দক্ষ

    সাধারণত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এই ধরনের বিশাল ক্র্যাক ডাউন করতে দেখা যায়। তবে রাজ্য পুলিশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পুলিশও যে কতটা দক্ষ, তা এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই পাচারের টাকা বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।” শুভেন্দু আশাপ্রকাশ করেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজ্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

  • Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানোর অভিযোগে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এসটিএফ-এর ডিজি, সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ফাঁক ছিল কি না, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে— সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হবে।

    হামিদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

    বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু বর্ধমান নয়, হাওড়াকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল এই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হামিদ একা কাজ করছিল না। এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্তত চারজন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিদ নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য অবস্থান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে কাশ্মীরে থাকা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পাঠাত। এই তথ্যের বিনিময়ে সে নিয়মিত অর্থও পেত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

    ছাপোষা জীবনের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

    তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ময়কর। বাইরে থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাওড়ার পিলখানায় তার পরিবারের বসবাস। বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও দীর্ঘদিন সেই কারখানাতেই কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে সে দর্জির কাজও করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পিলখানা এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর সে বর্ধমানে চলে আসে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং-এ থাকছিল সে। এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় থেকেই কি নতুন করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

    পূর্ব ভারতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্ব?

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া— একাধিক দায়িত্ব সামলাত সে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। গোয়েন্দাদের মতে, তার সাধারণ চেহারা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই ছিল সবচেয়ে বড় আড়াল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পেরেছিল সে।

    শুধু বাংলা নয়, উত্তর-পূর্বেও সক্রিয় একই নেটওয়ার্ক

    এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অসমে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং একাধিক সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্লিপার সেল গঠন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত। গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ ও অপারেশন পরিচালনার চেষ্টা চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া— বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম— ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ, ভয়েস নোটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত হামিদ কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সদস্য। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, টার্গেটেড কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাকে একই সূত্রে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

    মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা বলয়ের প্রতিটি স্তর নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধৃত হামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। হামিদের ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।

  • New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যমিক নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (New Syllabus) কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গেই এবার সিলেবাস পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস আমুল বদলে যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যে সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বদল করা হবে সিলেবাসে। ২০২৭-এর শিক্ষাবর্ষেই পড়ুয়ারা পরিমার্জিত সিলেবাস পাবে। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ে বদল আসবে। আর ২০২৮ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস। ফের বদলাবে বই।

    বর্তমানের উপযোগী সিলেবাস

    দীপক বর্মণ বলেন, “আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটা করা হবে। মাঝে মাঝেই এভাবে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সেরকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই ওই কমিটি সিলেবাস তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    নীল-সাদা রং নয়, বাদ বিশ্ব বাংলা লোগো

    স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে। ২০১৮-য় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে নীল-সাদা রং করার জন্যে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালের পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, সরকারি নিয়মে যে রঙের কথা বলা আছে, সেটাই করতে হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদাই ছিল সরকারি রং। সেজন্য অর্থ সরকারই দিয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু স্কুল অবশ্য সেই পথে এখনও হাঁটেনি।

    স্কুল-ছুট রুখতে পদক্ষেপ

    পাশাপাশি স্কুল-ছুট রুখতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’ (এনআইওওএস)-এর সঙ্গে মউ সই হয়েছে সরকারের। এক রাজ্য থেকে অন্যত্র কোনও পরিবার বা পড়ুয়া স্থানান্তিরত হলে যাতে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই মউ সই হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরেও যাতে এমন সেন্টার খোলা যায়, সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

     

     

     

     

  • NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    NIA Police Station: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক যুগ পর! নিউটাউনে এনআইএ-র নিজস্ব থানা, এক্তিয়ারে গোটা বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০১৪। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর রাজ্যে প্রথম তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার এক যুগ পর পশ্চিমবঙ্গে থানা পেল এনআইএ। সপ্তাহখানেক আগেই ক্যাবিনেট বৈঠকে থানা (NIA Police Station) তৈরির ছাড়পত্র মেলে। এবার তৈরি হল এনআইএ থানা। এবার থেকে আর রাজ্যের অন্য কোনও সাধারণ বা স্থানীয় থানার পরিকাঠামোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে । বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউটাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে এনআইএ-র নিজস্ব থানা কাজ শুরু করবে।

    এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি

    সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এনআইএ-র থানার ভৌগোলিক পরিধি। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই একটি মাত্র থানার এক্তিয়ারেই থাকবে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ, রাজ্যের যেকোনও প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনে এই নির্দিষ্ট থানাতেই এফআইআর দায়ের বা মামলা রুজু করতে পারবে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) বা ২০২৩ সালের ৪৬ নম্বর আইনের অধীনে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আইনের ২(১)(ইউ) ধারায় রাজ্য সরকারকে যেকোনও স্থানকে থানা হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল এই থানার অনুমোদন দিয়েছেন। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। নবান্নের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির নম্বর হল ১৯৭৫-পিএল/পিবি/৪পি-০২/২০২৬।

    কোথায় হয়েছে এনআইয়ের থানা

    সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের এনআইএ আইনের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই মূলত এই থানা কাজ করবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-তে অবস্থিত এনবিসিসি স্কোয়ারের ১৬ তলায় এই থানার আনুষ্ঠানিক ঠিকানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থানার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি পুলিশ স্টেশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’। তার ঠিক পাশেই এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা হিসেবে ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য থানার মতোই এই থানাতেও ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলের মতো পোস্ট থাকে। এ রাজ্যে কোনও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকলে, তা তদন্ত করা হবে এই থানা থেকে। রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক মামলার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের মামলাতেও একাধিকবার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ। সম্প্রতি রাজ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে থানা তৈরির বিষয়টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্প্রতি অমিত শাহও রাজ্য সফরে এসে এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    এনআইয়ের নিজস্ব থানার সুবিধা

    তৃণমূল সরকারের আমলেই থানা খুলতে চেয়েছিল এনআইএ। তবে বিভিন্ন সমস্যায় সেই থানা খোলা যায়নি বলে দাবি। তবে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনমাসের মধ্যে ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যে খোলা হবে এনআইএ থানা। সেই সিদ্ধান্তের পরই খুলে গেল থানা। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র নিজস্ব কোনও পূর্ণাঙ্গ থানা ছিল না। ফলে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের নানা আইনি এবং পদ্ধতিগত জটিলতার মুখে পড়তে হত। কোথাও তল্লাশি চালানো, কাউকে গ্রেফতার করা বা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির উপর নির্ভর করতে হত। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াতেও অহেতুক সময় নষ্ট হত বলে অভিযোগ ছিল। নতুন এই থানা চালু হওয়ার ফলে সেই পরিকাঠামোগত সমস্যা আর থাকবে না। এখন থেকে সরাসরি নিজেদের থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এনআইএ আধিকারিকরা।

    তৈরি হবে এনআইএ আদালত-ও

    শুধু থানা নয় এনআইএ আদালতও তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেই কাজ হবে বলে জানা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরি হবে। কোথায় হবে আদালত, তা ঠিক করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ মামলাগুলিরই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলাগুলির আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে দেশজুড়ে এনআইএ-এর মামলাগুলোর জন‍্য সুনির্দিষ্ট ও পৃথক আদালত গঠন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এই আদালত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিচারভবনে মুখ্য বিচারকের এজলাসের উপর এনআইএ-এর আদালতের দায়িত্ব দিয়েছে রেখেছে হাইকোর্ট। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় তাদের মামলার সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। এবার পৃথক থানা তৈরি হয়ে গেল। এবার আদালত গঠন হলে মামলার কাজ দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এনআইএ সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, দেশদ্রোহিতা, জালনোট কারবার বা বিস্ফোরক আইনের মতো গুরুতর এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধের তদন্ত করে থাকে। নিজস্ব থানা না থাকায় অনেক সময় ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়া বা লকআপে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হত। এখন নিউটাউনের এই ঠিকানাই হবে রাজ্যে এনআইএ-র মূল কন্ট্রোল রুম। এখান থেকেই গোটা রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তদন্তের কাজে গতি আসবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখাও অনেক বেশি সহজ হবে।

  • JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে, যিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি তদন্তকারীদের। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিআইপি মুভমেন্ট সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল তথ্য ছিল। এই তথ্য উদ্ধারের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে এসটিএফের অভিযান

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং বর্ধমান পুলিশ। সেখান থেকেই হামিদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি কিছু সময় কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও অবস্থান করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে তাঁর যোগাযোগের পরিধি এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার

    তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের কাছ থেকে এমন কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন কর্মসূচি, যাতায়াতের রুট, ভিআইপি মুভমেন্ট, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য এবং চলাচলের বিভিন্ন খুঁটিনাটি উল্লেখ রয়েছে।

    সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল—

    • ● মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়িতে যাতায়াত করেন
    • ● কখন গাড়িতে ওঠেন
    • ● কোন রুট ব্যবহার করেন
    • ● কোথায় পার্কিং করা হয়
    • ● গাড়ির চালক সংক্রান্ত তথ্য
    • ● ভিআইপি মুভমেন্টের সময়সূচি
    • ● লোকেশন ট্র্যাকিং এবং ফলো করার নির্দেশ সংক্রান্ত নথি
    • ● মোবাইল চার্ট-সহ একাধিক ডিজিটাল তথ্য

    এই সংবেদনশীল নথি উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, শুধুই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও হামলার পরিকল্পনা ছিল।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহ

    এসটিএফ সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল কাশ্মীরের কুখ্যাত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি তথা পুলওয়ামা আক্রমণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি শুধু সংগঠনের সমর্থক নন, বরং ওই গোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগী হিসেবেও কাজ করতেন বলে সন্দেহ রয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিদের ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং রাজ্যে তাঁর সম্ভাব্য সহযোগীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি

    ধৃত হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ হেফাজতে এনে কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের আশা, জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, স্থানীয় যোগাযোগ এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

    বিজেপি বিধায়কের প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক এবং প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে সরকার বদলের পর পুলিশের মাইন্ডসেট বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তাদের কাজ আরও ভালো হয়েছে। এই জঙ্গিরা ওভার দ্য গ্রাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেমন তাদের সাপোর্ট ভাঙা হয়েছে, আমাদের এখানেও তাই করতে হবে।”

    তদন্তে এখনও একাধিক প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার কোনও নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের কথা নিশ্চিত করেনি। তবে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সংবেদনশীল নথি, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। হামিদ মণ্ডলের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

LinkedIn
Share