Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    Mental Stress: প্রতি ৭ জনে ১ জন মানসিক চাপের শিকার! কেন ভারতে বাড়ছে মানসিক চাপ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর আর মনের সীমানাতেই আটকে নেই সমস্যা। জীবন যাপন এমনকি অর্থনীতির উপরেও প্রভাব ফেলবে এই সঙ্কট। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে মানসিক চাপে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে এই সমস্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিয়েছে। তাই এপ্রিল মাস জুড়ে চলছে মানসিক চাপ নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুই সচেতনতা যথেষ্ট নয়। বরং, প্রয়োজন জীবন যাপনে পরিবর্তন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের স্লোগান, ‘বি দ্যা চেঞ্জ’। নিজের জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আবার এক সঙ্গে আশপাশের মানুষের জীবনেও যাতে মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি‌। তাঁদের আশঙ্কা পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। যার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক চাপের শিকার। অবসাদ, উদ্বেগ সহ একাধিক মানসিক সমস্যার নেপথ্যে থাকছে মানসিক চাপ। সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের ৫০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ হল মানসিক চাপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টেলি মানস’ সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ একটা নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা জানাতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। গত এক বছরে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ টেলি মানস-এ নিজের মানসিক চাপে শিকারের কথা জানিয়েছেন। যাদের অধিকাংশের সমস্যা যথেষ্ট জটিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৩৫ বছরের নীচে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মানসিক চাপে ভুগছেন।

    কেন শরীর ও মনের পাশপাশি আর্থিক সঙ্কট তৈরি করতে পারে মানসিক চাপ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মানসিক চাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশপাশি আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হতে চলেছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে কর্মক্ষমতা ও কর্ম দক্ষতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। আগের থেকে কম দক্ষ ও নিপুণতা কমে যাওয়ায় কাজের মান কমছে। অনেক সময়েই মানসিক চাপের কারণে কাজের গুণমান খারাপ হচ্ছে। এর ফলে কাজ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আবার মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তাই এগুলোর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতির উপরে পড়ছে। এছাড়া মানসিক চাপ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। আর্থিক উন্নতিতে এর প্রভাব পড়ছে। তাই মানসিক চাপ কেবল স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। এর প্রভাব আরও গভীর।

    কেন মানসিক চাপ বাড়ছে?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রতিযোগী পরিবেশ, এর অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আধুনিক অর্থনীতিতে কর্মজীবনেও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাজের নিশ্চয়তা কমছে। আর্থিক উন্নতির জন্য এক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই যেতে হচ্ছে। এগুলো মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাছাড়া শহুরে জীবনে বদলে যাচ্ছে পরিবারের সমীকরণ। নিজের উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ শহুরে ভারতীয় একাকিত্বে ভুগছেন। যা মানসিক চাপ তৈরি করছে। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি ভারতে মানসিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে অপর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে। আবার ভার্চুয়াল জগত জীবন যাপনের ধারায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এগুলো মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

    মানসিক চাপ শরীরের জন্য কতখানি বাড়তি বিপজ্জনক?

    মানসিক চাপ উদ্বেগ, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজের মতো একাধিক সঙ্কট তৈরির পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোকের নেপথ্যেও থাকে মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই একাধিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সেই প্রভাব দেখা যায়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে মানসিক চাপ কমাবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। বরং কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে তাকে কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে যাতে বড় বিপদ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে। তাঁদের পরামর্শ, মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীর চর্চা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস, ধ্যান করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম ঘুম মানেই মানসিক চাপ বাড়বে। নিয়মিত যাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য বরাদ্দ জরুরি। অর্থাৎ গান গাওয়া, ছবি আঁকা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিক চাপ কমবে। তবে নিজের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব কমাতে না পারলে মানসিক চাপ বাড়বে। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া টানাপড়েন কাটিয়ে ফের দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে ঢাকা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে মঙ্গলবার ভারতে (India Bangladesh Relation) এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, এই সফরে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ, জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় সভাপতি পদে ভারতের সমর্থন আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। সূত্রের খবর, ভারতে থাকাকালীন খলিলুর বৈঠক করতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে।

    কতদিন ভারতে থাকবেন খলিলুর

    বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) তারেক রহমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে এই প্রথম ভারত সফরে আসছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মূলত মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লিতে নামেন তিনি। কয়েক মাস আগেই ভারতে এসেছিলেন খলিলুর রহমান। তবে তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এবার তিনি তারেক রহমানের সরকারের বিদেশমন্ত্রী। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শীতলতা দূর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ। আর এবার খলিলুরের ভারত সফরের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কিছুটা ইতিবাচক গ্রাফে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খলিলুর ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ভারতে থাকবেন। ভারতে আসার আগে খলিলুর এই সফর নিয়ে বলেন, “আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।”

    বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির আশা

    ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তারেকের অধীনে বাংলাদেশ ফের ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। বর্তমানে ভারত দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। স্থলবন্দর দিয়েও বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রফতানি করেতে পারছে না বাংলাদেশ। এই সব নিয়ে বেশ চাপে আছে ঢাকা। এরই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে যে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চায় বাংলাদেশ। এই আবহে খলিলুরের এই সাক্ষাৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

    নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র

    প্রথম বৈঠকই হতে চলেছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র ও চুক্তি বিগত বছরগুলিতে কঠোরভাবে রক্ষিত হয়েছে। হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি আসার পরিমাণ কমে গিয়েছে, এই তথ্য খলিলুরকে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আশা প্রকাশ করা হবে, যাতে ওই প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারও পালন করে। দোভালের সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আলোচনায় উঠে আসবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি ও ভারত বিরোধিতার বিষয়টি। বুধবার খলিলুর রহমান ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একঝাঁক বকেয়া চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদী।

    ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বকেয়া চুক্তি হল ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি। যা ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হচ্ছে। তাই কীভাবে সেই চুক্তি রিনিউ করা যায়, সেই রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ দাবি উত্থাপন করলেও, এখনই পদক্ষেপ করছে না দিল্লি। এছাড়া, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থমকে যাওয়া বা ধীরগতি সম্পন্ন একাধিক রেল ও সড়ক প্রকল্পের কাজ পুনরায় দ্রুত শুরু করার বিষয়েও জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়েও এই সফরে আলোচনা করতে পারেন খলিলুর।

    তারেকের সঙ্গে বৈঠক ভারতীয় হাই কমিশনার

    বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারতে আসার আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে তারেক এবং প্রণয়ের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানান, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা হয় বৈঠকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকে তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রণয় বর্মা। এদিকে বৈঠকে নাকি প্রণয়কে তারেক বলেন, “ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।” ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাও বলেন, “আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।”

  • PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন (West Bengal Election 2026) দোরগোড়ায়। পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে উত্তপ্ত বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য, পাল্টানোর জন্য, বিজেপিকে জেতানোর জন্য কার্পেট বম্বিং করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১১ এপ্রিল, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। পরের দিন ১২ এপ্রিল, রবিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রোড শো করার কথা রয়েছে মোদির। এছাড়াও কলকাতায় দুটি রোড শো করতে পারেন তিনি। অর্থাৎ বঙ্গের সিংহাসন দখল করতে মোদিকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে বিজেপির। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এমনকি দলের প্রচারের জন্য রাজনাথ সিং, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকড়ি সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকায় তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

    ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা মোদির

    বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

  • Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠ কন্যা কস্তুরির পর এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুও (Anil Basu’s Son Joins BJP)। পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে ঘিরে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে সভা করল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরামবাগের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখা গেল সেই সভায়। সৌম্য এক সময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই করেছেন। তবে আজ তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

    বিজেপি দেশভক্তের দল

    অনিল বসু বাম আমলের প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে সিপিএম এর সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ছ’বার। ২০০৪ সালে শেষবার আরামবাগ থেকে রেকর্ড প্রায় ছ’লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন অনিল বসু। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যে রাজনৈতিক দলকে তাঁর পছন্দ, সে তার সঙ্গেই থাকুক। বিজেপি দেশভক্তের দল। সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি ধন্যবাদ জানিয়েছি উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।”

    বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাম শিবির ছেড়েছেন প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যাও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী। এবার বাম আমলের দৌর্দন্ডপ্রতাপ অনিল বসুর ছেলে ভোটের মুখে গেলেন গেরুয়া শিবিরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। আলোচনার ঝড়, সিপিএম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও। তিনি বলেন, “আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজ্যে বামেদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

  • 800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস-এলআর (লং রেঞ্জ) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য বড় অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা, প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস?

    বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে স্থল, নৌ ও বায়ু—তিন বাহিনীতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াতে এবার ৮০০ কিমি পাল্লার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মোসের এই উন্নত ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন সংস্করণটি মাক ৩ (শব্দের তিনগুণ বেশি) গতিবেগ বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গভীর এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে, এই মিসাইলের একাধিক উড়ান পরীক্ষা চলছে।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠক শীঘ্রই!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই বড় ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৃহৎ অর্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘স্ট্যান্ড-অফ ডিটারেন্স’ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ তৈরি করে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজসেও তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাত কী শেখাচ্ছে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছিল। ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ ভারতীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে। একই সঙ্গে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাতও দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থার উপর। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানবসম্পৃক্ততার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

    সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত নিজেদের বাহিনী কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে। বড় সংখ্যায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আর্টিলারি ও পদাতিক রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনকি সেনার নিজস্ব কর্মশালায় বড় আকারে ড্রোন উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক মিসাইল ফোর্স গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক মাল্টি-ডোমেইন স্ট্রাইক ফোর্স গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।

    কৌশলগত বার্তা কী?

    ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা—ভারত ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যেখানে গতি, নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আঘাতই হবে মূল নির্ধারক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের অনুমোদন মিললে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ এগোবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ শুধু একটি অস্ত্র নয়—এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতীক।

  • SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR In Bengal) পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি হয়ে গেল। সোমবার রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সোমবার রাতেই ফ্রিজ হয়েছে প্রথম দফার ভোটের ভোটার তালিকা। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। সোমবার রাতেই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকা ফ্রিজ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। কলকাতা উত্তরে তুলনামূলক বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

    রাজ্যে ভোটার তালিকায় কত জনের নাম

    ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR In Bengal) কাজ শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম। অর্থাৎ, রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই মুহূর্তে নাম রয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮ জনের।

    নাম বাদ পড়ার নিরিখে প্রথমে কে

    যাচাইকরণে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় ওই জেলা থেকে বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের হিসেব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ওই জেলা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম। যাচাইকরণে উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। তবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা ধরলে ওই জেলা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬, যা সমগ্র এসআইআর-এর নিরিখে সর্বাধিক। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় মালদা থেকে বাদ পড়েছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৫ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই জেলা থেকে বাদ পড়ল মোট ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জনের নাম। এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও ১কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে, কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা কোটির গণ্ডি পেরোয়নি। যে ১১টি রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, তার মধ্যে বাদ যাওয়া ভোটারের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগীর রাজ্যে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোন জেলায় কত বাতিল

    নদিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা- প্রায় ২.০৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ২.২২ লক্ষ ভোটার এবং বীরভূমে প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হুগলিতে প্রায় ১.২০ লক্ষ, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ৭৪ হাজার এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ১.৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। কোচবিহারে বাদ পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম, জলপাইগুড়িতে ৩৫ হাজার ৩৫৬, দার্জিলিংয়ে ৪৪ হাজার ২৩০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৬ হাজার ৭৬৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কলকাতা দক্ষিণ থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ২১ হাজার ১৫১ জনের নাম। সোমবারের পর এই তালিকায় যুক্ত হল ২৮ হাজার ৪৬৮টি নাম। অর্থাৎ, বাদ গেল মোট ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১৯ জনের নাম। কলকাতা উত্তর থেকে বাদ গেল মোট ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৭৫ জনের নাম। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৪ হাজার ১০০, হাওড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭, পুরুলিয়ায় ৫ হাজার ৯৪২, বাঁকুড়ায় ৬ হাজার ৫৩৩, বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯, আলিপুর দুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পঙে ২ হাজার ৪০৭, ঝাড়গ্রামে ১ হাজার ২৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে।

  • Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion Against CEC Rejected) খারিজ করে দেওয়া হল। রাজ্যসভা ও লোকসভার উভয় কক্ষেই খারিজ হয়েছে এই প্রস্তাব। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্য সভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রইল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আর এগোবে না।

    সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে সিদ্ধান্ত

    ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সকল দলগুলি সাংসদে নোটিস জমা করেছিলেন। সোমবার সেটাই গ্রহণ করা হয়নি। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে সরানোর জন্য এমন নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতৃত্বে বিরোধীরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা গৃহীত হয়নি। গত ১২ মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি জমা পড়ার পর রাজ্য়সভার চেয়ারম্যান বিষয়টির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও অভিযোগ বিশদে পর্যালোচনা করেন। এরপর বিচারপতি (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সংসদ সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে নেওয়া হয়েছে।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ

    বিরোধী শিবির লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই এই বিষয়ে নোটিস জমা দিয়েছিল। ১০ পাতার ওই নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া (Mass Disenfranchisement)। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) অস্বচ্ছতা। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য দেখানো। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তগুলি অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তার কাজকর্মে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।

  • SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (SIR in Bengal) থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া (ডিলিটেড) নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়ার সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়াল (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫)। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসআইআর-এ বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষের কাছাকাছি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়ে গিয়েছে, বলে আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই চিঠিও পড়ে শোনান ৷

    কোন জেলায় কত নাম বাদ

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। মালদায় এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর করা হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকাতেও আরও কিছু নাম সংযুক্ত হতে পারে। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম।

    রাজ্য মেশিনারি ব্যর্থ

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনাও সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে আপনাদের মারার জন্য ৷ ক্রমাগত এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে ৷’’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আপনারা শুনুন, একজন মহিলা বিচারক ভয়ে কীভাবে কেঁদে আর্ত চিৎকার করছেন ৷’’ যা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য মেশিনারি যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো স্পষ্ট ৷’’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গঠিত হবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দ্বারা ৷ তবে আগে ট্রাইবুনালের কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকতে হবে ৷ ১৫ জন বিচারপতিকে দিয়ে ১৯ দিনে সব কাজ করতে বললে তো বিশৃঙ্খলা হবেই ৷ আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচাপতিকে বলব, তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন ৷ এবং সেই কমিটি দেখবে ট্রাইবুনালের কাজ৷’’

    ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

    এসআইআর নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছেন যাঁরা তাঁরা ফের অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ নিতে হবে। সোমবার, এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে এসআইআর-এ (SIR in Bengal) নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গ ৷ রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘‘যার আঁকা ছবি ছাড়া ভারতের সংবিধান অসম্পূর্ণ থাকত, তাঁর পরিবারের লোকের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে ৷’’ এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া ট্রাইবুনাল নিয়ে এদিন বিশেষ কয়েকটি নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয় পরবর্তী শুনানি।

LinkedIn
Share