Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও (PM Modi Video Row) মুছে ফেলার ঘটনায় সরাসরি মার্ক জুকেরবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওই প্যানেলের মাথায় রয়েছেন। মেটা এ ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু প্যানেলের বক্তব্য, সংস্থার তরফে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। কী ভাবে এটা ঘটল, তার জন্য কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানাতে হবে। ক্ষমা চাইতে হবে মেটা-র মালিক স্বয়ং মার্ক জুকেরবার্গকে। জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বানানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও হঠাৎ করেই ফেসবুক থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

    শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন?

    সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ কথা, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এই ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ‘মেইটি’ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন রয়েছে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেটার কর্তাদের।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করে নিশিকান্ত জানান, গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকেরবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’ নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকেরবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’’

    মেটাকে ‘সেফ হারবার’ নয়

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে, মেটার এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হলে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা অপরাধ’

    প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত একমাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে সিজেপি। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এরমধ্যেই গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটা লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।’’ তিনি জানান, দোষীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাড়ে ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর এক বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াস নিমেষেই রেকর্ড গড়ে ফেলে। ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা ৩০৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড! এই আবহে সেই ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ, বলে দাবি করে সংসদীয় প্যানেল।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে!

    বৈঠকে বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ মেটার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ মেটা কর্তাদের প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করা হল কেন? ফেসবুক অন্য আপত্তিকর কনটেন্ট যেখানে সরায় না, সেক্ষেত্রে ওই ভিডিওটিই কেন সরানো হল প্ল্যাটফর্ম থেকে? এর দায় কে নেবে?” মেটার তরফে জানানো হয়, ওই ভুলের জন্য ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইলেই হল না। দায় নিতে হবে। করতে হবে আইনি পদক্ষেপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এভাবে সরানো গেলে, সাধারণ নেটিজেনদের সুরক্ষা কোথায়, জানতে চান ওই বিজেপি সাংসদ।

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

  • Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার টানটান অ্যাকশন দৃশ্য! পাকিস্তানের বুকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’-দের (unknown gunmen model) একের পর এক সফল নিশানা। সিনেমার মতো বাস্তবেও এখন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সাজানো বাগান তছনছ। গত তিন-চার বছরে পাকিস্তানের (Pakistan) অভ্যন্তরেই খতম ৩০-এর বেশি জঙ্গি, অবশেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই বড়সড় হারের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল খোদ লস্কর-ঘনিষ্ঠ এক নেতা! তাঁদের কথায়, দলের মধ্যে ভারতের এজেন্ট ছদ্মবেশে থেকেই অধিকাংশকে হত্যা করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত ‘অজানা বন্দুকধারী’ (unknown gunman model) কৌশল।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও নিরাপদ নয়!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা রিজওয়ান হানিফ দাবি করেন, পাকিস্তানের পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফ্ফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোট-সহ একাধিক এলাকায় সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মে মাসে তৈরি ওই ভিডিওতে হানিফ বলেন, “গত তিন থেকে চার বছরে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের হাতে আমাদের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।” হানিফ আরও দাবি করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও (PoK) তাদের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

    ভাইরাল ভিডিও-য় বিরল স্বীকারোক্তি

    বিশ্লেষকদের মতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে সংগঠনের এত বড় ক্ষয়ক্ষতির প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অত্যন্ত বিরল। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জঙ্গি নেতা ও সদস্য রহস্যজনকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। এসব ঘটনার জন্য পাকিস্তান একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। নিজের বক্তব্যে রিজওয়ান হানিফ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি দাবি করেন, লস্করের সদস্যদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল তাদের ধর্মীয় পরিচয়। পাশাপাশি তিনি হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখেন।

    কী এই লস্কর-ই-তৈবা?

    লস্কর-ই-তৈবা ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন (Hafiz Muhammad Saeed), জাফর ইকবাল (Jaffar Iqbal) এবং আবদুল্লা আজ (Abdullah Azzam)। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় গঠিত এই সংগঠন পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে জঙ্গি কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউনাইটেড নেশন এবং বিশ্বের একাধিক দেশ লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত-সহ একাধিক পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর কাছ থেকে এই সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মদত পেয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলা জড়িত ছিল লস্কর। ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরাই খুন হয়েছেন ও হচ্ছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে, ভারতে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা চাপায় লস্করের উপরে।

    ‘টার্গেট কিলিং’

    সাধারণত দলের সদস্যদের খতম হওয়ার কথা স্বীকার করে না জঙ্গি সংগঠনগুলি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। ওই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের অনেক সদস্যকে নিকেশ করা হয় বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তবে এই দাবি উড়িয়ে দেয় লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। তবে এ বার অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী পাকিস্তানের ভেতরেই সংগঠনটির প্রায় ৩০ সদস্যকে হত্যা করেছে বলে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি নেতা । একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী এই ‘টার্গেট কিলিং’ করেছে বলেও দাবি করেন হানিফ।

    ‘অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ’ ও টার্গেটে থাকা জঙ্গি 

    সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হন ভারতে একের পর এক হামলার নেপথ্যে থাকা লস্করের দ্বিতীয় নেতা আমির হামজা, হাফিজ সইদের পর যার নাম উঠে আসে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর বুকে আইআইএসসির অন্দরে হামলার ঘটনার নেপথ্যেও হামজার হাত ছিল। যে হামলা চালিয়েছিল লস্কর ই তৈবা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ওয়ান্টেড লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জিয়া-উর-রহমান ওরফে নাদিম অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়। তাকে ২০২৪ সালের ৯ই জুনের রিয়াসি বাস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হত, যে হামলায় সন্ত্রাসীরা নয়জন তীর্থযাত্রীকে হত্যা এবং ৪১ জন আহত হন। হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুফতি কায়সার ফারুকও করাচিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১০ সালে ভারতের হেফাজতে ছিল শাহিদ লাতিফ। পরে তার ঠাঁই হয় পাকিস্তানে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী, জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) জঙ্গি শাহিদ লতিফ শিয়ালকোটের দাসকা এলাকার একটি মসজিদের ভেতরে নিহত হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি ৮১৪-এর অন্যতম ছিনতাইকারী জহুর মিস্ত্রি করাচির আখতার কলোনিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর গুলিতে নিহত হয়। যে জাহুরকে পাকিস্তানি মিডিয়া, ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে দাবি করে।

    ভারতীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি দেখেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যে ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তিনি ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ওই লস্কর সদস্যদের খতম করার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আছে বলে দাবি করেছেন হানিফ। তবে তার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। এরই পাশাপাশি,  ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন হানিফ বলেও জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক শীর্ষ ক্যাডারের মৃ‌ত্যুতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে লস্কর বাহিনী। তাই ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ ও মৌলবাদ ছড়ানোর কৌশলকেই অস্ত্র করতে চাইছে লস্কর-ই-তৈবা।

  • UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক কোটি মানুষ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (সংক্ষেপে ইউটিআই)  আক্রান্ত হন। মূত্রনালীর সংক্রমণের জেরে ভোগান্তি বাড়ে। অনেকেই বছর একাধিকবার এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য জানাচ্ছে, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই ভোগান্তি বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়, উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে ছ’মাস অন্তর আবার সেই সংক্রমণ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বারবার সংক্রমণ ফিরে আসছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    কেন পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে এই ভোগান্তি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি কারণে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন নরম পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি। অতিরিক্ত পরিমাণে নরম পানীয় খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশপাশি, অতিরিক্ত মশলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ মশলাদার খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সবচেয়ে বিপদ বাড়ায় চিনি এবং চকলেট। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিনি শরীরের একাধিক ক্ষতি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি এবং চকলেট খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণ মিষ্টি খাওয়ায় প্রবণতা রয়েছে। আর সেই অভ্যাস ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    রোগ রুখতে কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানে ভরসা করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি অভ্যাসে নজর দেওয়া এবং কিছু খাবার নিয়মিত খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।

    নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই শিশুর জল খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।‌ শিশুর জন্মের ছ’মাস পর থেকেই সে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেই পরিমাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। শরীরে জলের ঘাটতি হলেই একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন অন্যতম। তাই এই রোগের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। একজন স্কুল পড়ুয়ার নিয়মিত ৪ থেকে ৬ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ভাতের পাতে টক দই জরুরি!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন কমাতে টক দই জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা অন্ত্র, মূত্রনালী ও একাধিক অঙ্গের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমে। তাই তাঁদের পরামর্শ, স্কুল থেকে ফিরে খাওয়ার শেষ পাতে নিয়মিত টক দই দেওয়া জরুরি। সন্তান নিয়মিত টক দই খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল!

    কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকি কিংবা কিউই যেকোনো একটি ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন সি ঘাটতি হলে চলবে না। নিয়মিত তাই যেকোনো একটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। ছোটো থেকেই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হবে। ফলে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ছোটো থেকেই পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষত মেয়েদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বিশেষ পাঠ দেওয়া জরুরি। কারণ মহিলারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভোগেন। তাই শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতার দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি ভিজে কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা যাবে না।‌ সুতির পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার পাঠ জানা জরুরি।‌তাছাড়া, মল ও মূত্র ত্যাগের পরে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ঠিকমতো পরিষ্কার করার অভ্যাস থাকাও জরুরি। তবেই একাধিক সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

  • Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে ফেরার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এবার দিল্লির গোপন বাসভবন ছেড়ে প্রকাশ্যে আসছেন মুজিব কন্যা। আগামী বুধবার দিল্লির দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেই সম্মেলনের পুরোটাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে। সূত্রের খবর, ৫ আগস্ট ক্লাবের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে সন্ধে ৬টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই সাংবাদিক সম্মেলন হবে। সেখানে হাসিনা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেশ ছাড়ার পর প্রথম গণমাধ্যমের সামনে

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসেন। সেই সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতে আসার পর শেখ হাসিনা লিখিত ও ই-মেইল সাক্ষাৎকার এবং দলীয় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে এটিই হবে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ। এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৎকালীন সাংসদ সাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন এবং মানবাধিকারকর্মী মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক ও শাহ মো.বখতিয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি দক্ষিণ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

    বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা

    শেখ হাসিনা এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনার বক্তব্য, দেশে ফিরে তিনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এসব মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্রিকস সম্মেলন-এর আগে কী ইঙ্গিত

    আগামী সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, এই আমন্ত্রণ তারা খতিয়ে দেখছে। কয়েকদিন আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে বলা হয়, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জল্পনা চলছিল, ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে তারেক দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসবেন। হাসিনার আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে, দেশে ফেরার আগে এই সাংবাদিক সম্মেলন। এর ফলে জল্পনা তুঙ্গে যে, সব পক্ষের ‘ব্যাক চ্যানেল’ আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠাচ্ছে, এই বার্তা না দিয়ে হাসিনাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন—এই বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

    দেশে ফিরলেই গ্রেফতার!

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তাঁকে ভারতে থেকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

  • Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাইজেরিয়ার ( Nigeria Terror) মধ্যাঞ্চলে ফের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৪ থেকে ২৯ জুলাই-এর মধ্যে বেনুয়ে ও কাদুনা রাজ্যে ধারাবাহিক হামলায় ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা এসব হামলার জন্য ফুলানি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রুথ নাইজেরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই বেনুয়ে রাজ্যে অন্তত ৬১ জন খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। যদিও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক ক্ষেত্রে হামলা প্রতিরোধ বা দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনায় বিগত কয়েক বছর ধরেই জর্জরিত আফ্রিকার অন্যতম এই দরিদ্র দেশটি। যে অঞ্চলগুলিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী, সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি বসাবস করেন বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠী এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বিবাদ। সূত্রের খবর, শরিয়তি আইন স্থাপনের জন্য খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে ভয়ানক হামলা চালানো হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম মানুষজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের। সন্ত্রাসের রেশ এখনও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘরবাড়ি জ্বালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে চলেছে গুলি।

    ওতুকপোতে ভোরের হামলায় বহু নিহত

    সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ২৮ জুলাই ভোরে বেনুয়ে রাজ্যের ওতুকপো কাউন্টির এফেই-উতিকপি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র হামলাকারী ২৫টিরও বেশি মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার সময় তারা ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওচে আদাহ জানান, হামলায় অন্তত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরদিন এমিচি ও নওয়াবা ওজু এলাকাতেও হামলা চালিয়ে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে ২৭ জুলাই ইপোম গ্রামেও একজন নিহত হন। গত দুই সপ্তাহে একই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৬ জন খ্রিস্টান নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    বেনুয়ে রাজ্যের আইনসভার সদস্য মাইকেল অডু বলেন, “এই ধরনের হামলা আমাদের এলাকায় বারবার ঘটছে। মানুষ প্রতিনিয়ত স্বজন হারাচ্ছে এবং আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।” ওতুকপো কাউন্টির চেয়ারম্যান ম্যাক্সওয়েল ওগিরি অভিযোগ করেন, এলাকায় সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগাম তথ্য থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কৃষক ও গ্রামবাসীরাও হামলার শিকার

    কোয়ান্ডে কাউন্টির আবাজি এলাকায় ২৭ জুলাই খামারে কাজ করার সময় তেরেহেম্বা নামে এক খ্রিস্টান নারী নিহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ইগবা তের্না জানান, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে ওহিমিনি কাউন্টির আগাদাগবা ও ওচোবো এলাকায় ২৪ ও ২৫ জুলাই দুই দফা হামলায় একজন পথচারী ও দুজন স্থানীয় প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পরও প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    কাদুনায় রাতের হামলায় ৩০ জন নিহতের দাবি

    একই সময়ে কাদুনা রাজ্যের কৌরু এলাকায় ২৬ জুলাই রাতে আরেকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারিডন গ্রামের ওপর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়। গ্রামের প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, এক পরিবারে এক রাতেই পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিকটবর্তী নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের খুব কাছে অবস্থান করলেও দীর্ঘ সময় হামলা চলার পরও কার্যকর হস্তক্ষেপ করেনি।

    প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    কাদুনা রাজ্যের গভর্নর উবা সানি হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী প্লেটো রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনুয়ে, কাদুনা, প্লেটো ও তারাবা রাজ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব

    ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মূলত দু’টি জঙ্গি গোষ্ঠী। একটি হলো বোকো হারাম। নাইজেরিয়ায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপহরণ, হামলা, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর একটি সংগঠন হলো ইসলামিক স্টেট অফ ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স। এরা এক সময়ে বোকো হারামেরই অংশ ছিল। ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে যায়। এদেরও ইসলামিক শাসন কায়েম করাই লক্ষ্য। তবে ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স সাধারণ মানুষের বদলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরেই বেশি হামলা চালায়।

  • Fake Military Uniform Racket: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক! নকল আর্মি-ড্রেস তৈরির চক্র ভাঙল সেনা ও রাজস্থান পুলিশ

    Fake Military Uniform Racket: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক! নকল আর্মি-ড্রেস তৈরির চক্র ভাঙল সেনা ও রাজস্থান পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেনার পোশাক পরে অশান্তি ঘটানোর ছক বানচাল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা এবং রাজস্থান পুলিশের যৌথ অভিযানে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলায় নকল সেনা পোশাকের কাপড় সরবরাহকারী একটি চক্রের হদিস মিলেছে। অভিযানে বিভিন্ন দোকান থেকে প্রায় ১,০০০ মিটার অননুমোদিত আর্মি-প্যাটার্ন কমব্যাট কাপড় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের নকশা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত কমব্যাট ইউনিফর্মের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। তদন্তকারীদের মতে, এই কাপড় ব্যবহার করে ভুয়ো সেনা পোশাক তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারত।

    শ্রীগঙ্গানগরের একাধিক দোকানে অভিযান

    গত ৩০ জুলাই সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশ শ্রীগঙ্গানগরের একাধিক দোকানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নতুন ধরনের কমব্যাট কাপড় উদ্ধার হয়, যা বিক্রি বা ব্যবহারের জন্য কোনও সরকারি অনুমোদন ছিল না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের নকশা সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন পোশাকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ এই ধরনের কাপড়ের অবৈধ ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    বেরেলির অভিযানের সূত্র ধরেই তদন্ত

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত জুন মাসে উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে নকল সেনা কমব্যাট কাপড় বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনার তদন্ত থেকেই এই চক্রের সূত্র মেলে। সেই তদন্তে সরবরাহ শৃঙ্খল অনুসরণ করে শ্রীগঙ্গানগরের একটি উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট গোপন তদন্ত চালিয়ে একটি স্থানীয় সংস্থাকে এই জাল নেটওয়ার্কের অন্যতম মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে। অভিযোগ, ওই সংস্থা শ্রীগঙ্গানগর শহর ছাড়াও লালগড় জাট্টান, সুরতগড় এবং আশপাশের বাজারে নকল আর্মি-প্যাটার্ন কাপড় সরবরাহ করছিল।

    বড় নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্ত

    নিরাপত্তা সংস্থার মতে, সেনাবাহিনীর পোশাকের অনুরূপ কাপড় অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়লে অসাধু ব্যক্তিরা সেনা সদস্য সেজে প্রতারণা বা অন্য অপরাধমূলক কাজে তা ব্যবহার করতে পারে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সেনাবাহিনীর কমব্যাট ইউনিফর্মের নকশার কাপড় রাখা, বিক্রি বা ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই জাল সরবরাহ চক্র রাজস্থানের বাইরে অন্য রাজ্যেও সক্রিয় ছিল কি না। উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনে আরও অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

  • Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছে সন্ত্রাসীরা। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঁথির বাড়ি থেকে সেই বুলেটপ্রুফ গাড়িতেই কলকাতার রবিবার উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী সাধারণত প্রতি সপ্তাহান্তে কলকাতা থেকে নিজের কাঁথির বাড়িতে যান। আবার রবিবার ফিরে আসেন। তাঁর যাওয়ার রাস্তাই ১৬ নং জাতীয় সড়ক। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি গোটা রুটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    কেন বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিমকে বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেফতার করার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এতদিন যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন, তা বুলেটপ্রুফ ছিল না। হামিম ধরা পড়ার পর জানা যায়, পাকিস্তান থেকে হ্যান্ডলাররা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির তথ্য চেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আনগার্ডেড মুভমেন্ট থাকলে, জানাতে বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করা উচিত। জ্যামার থাকা দরকার। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাতায়াত করা উচিত। এসটিএফ সেইমতোই ভাবনা চিন্তা করল।

    সাধারণের জন্য ব্রতী মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষ শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে রয়েছেন। আর পরিবারের একজন হিসেবে আমাদের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এসটিএফ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে বাংলার প্রত্যেকটি মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন।” হামিমকে ধরার জন্য রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। বারবার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এতে কি তাঁরা উদ্বিগ্ন? এই নিয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “গতকাল যেভাবে বাড়ি এসেছিলেন, আজও সেভাবে গিয়েছেন। তাঁর নিরাপত্তায় বাড়তি কিছু কি লক্ষ্য করেছেন আপনারা? তিনি চান, সাধারণ মানুষের একজন প্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তার জন্য যদি প্রাণ দিতে হয়, তার জন্য আমরা তৈরি রয়েছি।”

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর (Commonwealth Games 2026) অভিযান শেষ করল ভারত। রবিবার গভীর রাতে দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে বসেছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আসর। সেই মঞ্চেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস হবে গুজরাটের আমেদাবাদে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

    সাফল্যের নেপথ্যে সরকার

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ১৩ সোনা, ১৭ রুপো এবং ৯ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ পদক জিতে নজর কেড়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং জুডো—একাধিক ইভেন্টে পদক জিতে ভারতের ঝুলিতে এল রেকর্ড সাফল্য। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত হাই-পারফরম্যান্স ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেখানে কেন্দ্র সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI), টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS), জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন (NSF) এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) একসঙ্গে কাজ করেছে।

    পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে পদকজয়ী সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছা তালিকায় রয়েছেন বক্সার প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘানঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পাংঘাল, লাভলিনা বরগোহাইন, জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলিট সোমন রানা ও শুভম জুয়াল, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল ও সেলভা প্রভু থিরুমারণ, জুডোকা উন্নতি শর্মা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ গুলবীর সিংকেও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

    পদক প্রাপকদের প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ পৃথক পোস্ট করে প্রত্যেক পদকজয়ীকে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে ভারতের বক্সারদের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা জয়ী সোমন রানার পারফরম্যান্সকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলেট ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পদকজয়ীদেরও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

    বিশ্বমানের প্রশিক্ষণেই তৈরি সাফল্যের ভিত

    গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা।

    বক্সিংয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে। ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো জিতে পদক তালিকার শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে এত বড় সাফল্য কখনও আসেনি।

    ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন—

    প্রীতি পাওয়ার (মহিলা ৫৪ কেজি)
    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া (মহিলা ৫৭ কেজি)
    সাক্ষী চৌধুরী (মহিলা ৫১ কেজি)
    প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলা ৬০ কেজি)
    অরুন্ধতী চৌধুরী (মহিলা ৭০ কেজি)
    সচিন সিওয়াচ (পুরুষ ৬০ কেজি)
    অঙ্কুশ পাংঘাল (পুরুষ ৮০ কেজি)

    রুপো জিতেছেন—

    লাভলিনা বরগোহাইন (মহিলা ৭৫ কেজি)
    জাদুমণি সিং (পুরুষ ৫৫ কেজি)
    নরেন্দ্র বেরওয়াল (পুরুষ ৯০ কেজির বেশি)
    রোমাঞ্চকর জয় সচিনের, দুরন্ত অঙ্কুশ

    পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের ডিমেজি শিট্টুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনা নিশ্চিত করেন অঙ্কুশ পাংঘাল।

    দিনের অন্যতম সেরা লড়াই উপহার দেন সচিন সিওয়াচ। নামিবিয়ার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

    অরুন্ধতী চৌধুরী ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। একইভাবে প্রীতি পাওয়ার কানাডার স্কারলেট সাভানাহ ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে এবং সাক্ষী চৌধুরী ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। প্রিয়া ঘানঘাসও ফাইনালে কানাডার মেরি-ব্যাথুল আল-আহমাদিয়েহকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সোনার ঝুলি আরও ভারী করেন।

    অন্যদিকে, লাভলিনা বরগোহাইন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপো পান। জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়ালও ফাইনালে পরাজিত হয়ে রুপো জেতেন।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস, অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক

    পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোমন রানা সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী তিনি। একই ইভেন্টে শুভম জুয়াল রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও বাড়ান। অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে গুলবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ পদকজয়ী হন।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন

    কমনওয়েলথ-এর মঞ্চেও বেজে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। রবিবার গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারত। একসঙ্গে গলা মেলান দুই দেশের সঙ্গীতশিল্পীরা। ভারতের অনুষ্ঠানে ছিল মোট তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের সঙ্গে ভারতের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। দেখানো হয় আমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share