Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    Sonam Yeshey: ৭ রানে ৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নজির ভুটানের সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৭ রানে ৮ উইকেট নয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ভুটানের সোনম ইয়েশি। গত শুক্রবার ক্রিকেট দুনিয়ার নজর যখন ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অ্যাশেজ সিরিজের টেস্টে তখনই বাইশ গজে নয়া ইতিহাস রচনা করলেন ভুটানের তরুণ। নিঃশব্দে মায়ানমারের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়েন ২২ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজির ছিল মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুসের দখলে। ২০২৩ সালে চিনের বিরুদ্ধে তিনি ৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

    সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণি

    চলতি বছরের শুরুতে বাহরিনের আলি দাউদ ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ভুটানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে সকলকে ছাপিয়ে গেলেন সোনম। গোলফু আন্তর্জাতিক মাঠে টস জিতে ভুটানকে ব্যাট করতে পাঠায় মায়ানমার। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ১২৭ রান তোলে। ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সোনমের দুরন্ত ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম চারটি বলের মধ্যে তিনটিতেই উইকেট তুলে নেন সোনম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে নেন চতুর্থ উইকেট। শেষ দুই ওভারে নেন আরও চারটি উইকেট। সোনমের ধাক্কায় মাত্র ৪৫ রানে শেষ হয়ে যায় মায়ানমারের লড়াই। ৮২ রানে জয়ী হয় ভুটান।

    অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন সোনম 

    ২০২২ সালের জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় সোনাম ইয়েশির। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে আসছেন তিনি। অভিষেক ম্যাচেই ১৬ রান খরচ করে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এখন পর্যন্ত খেলা ৩৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। ভুটান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) সহযোগী সদস্য। এই স্তরের বহু দেশের ক্রিকেটার এখনও অপেশাদার। তবে ভুটান ব্যতিক্রম। পুরুষ ও মহিলা জাতীয় দল মিলিয়ে ৩৬ জন ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় বেতন পান। বর্তমানে ভুটান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ নম্বরে, মায়ানমার রয়েছে ৯৫ নম্বরে।

     

     

     

     

     

     

  • Bangladesh Polls 2025: তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল: ঢাকা-১৭ আসন, ২০২৬ নির্বাচন

    Bangladesh Polls 2025: তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল: ঢাকা-১৭ আসন, ২০২৬ নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Bangladesh Polls 2025) আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অরাজকতা, সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চরমে পৌঁছে গিয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা (Bangladesh Polls 2025)

    ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিতারিত করার পর দেশের ইতিহাসে এটি একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রহমান তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসেন। তাঁর হয়ে দলের নেতারা ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারেক রহমান আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (Bangladesh Polls 2025) ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রটি সেগুনবাগিচা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর, শনিবার তারেক ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এরপরেই বিএনপি নেতারা তাকে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করেন।

    মাতৃভূমির মাটিতে ফিরে পরিবর্তনের ডাক

    তারেক রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র (Bangladesh Polls 2025) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে নিজ দেশে তিনি যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স‘ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেন, “প্রিয় বন্ধু, বোন ও ভাইয়েরা, সারা বাংলাদেশে, গত বৃহস্পতিবার এমন একটি দিন ছিল যা আমি চিরকাল হৃদয়ে ধরে রাখব, যেদিন ১৭টি দীর্ঘ বছর পর আমি আমার মাতৃভূমির মাটিতে ফিরে এসেছি। আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, ঢাকার রাস্তা ধরে মুখচ্ছবিগুলোর সমুদ্র এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রার্থনা—এসব মুহূর্ত আমি কখনো ভুলব না। আমার গভীরতম ধন্যবাদ সবাইকে। শব্দে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয় আমাদের পরিবার এবং আমার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য কেমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনুভব করছি। আমাদের সেইসব সমর্থকদের প্রতি, যারা প্রতিটি কঠিন সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন এবং কখনও আশা হারাননি, আপনাদের সাহস আমাকে শক্তি জুগিয়ে চলেছে।”

    সব মামলায় মুক্ত তারেক

    তারেক রহমান (Tarique Rahman) ২০০৭-০৮ সালের সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সপরিবারে লন্ডনে যান এবং দেশে ফিরে আসেননি। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত সাত বছর ধরে তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার লড়বেন নির্বাচনে (Bangladesh Polls 2025)।

    হিন্দু নির্যাতন কি কমবে?

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের করা মামলাগুলি থেকে তারেক (Tarique Rahman) একে একে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়েছে। বিএনপি এর আগে ১৩তম সংসদ নির্বাচনের জন্য আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বগুড়া-৬ আসন থেকে ভোট দেবেন।

    তবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে (Bangladesh Polls 2025) ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে হিন্দুদের উপর কট্টর মৌলবাদীদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেই চলছে। ভালুকা, রাজশাহী, পিরোজপুরে লাগাতার হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে। কাউকে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অপবাদ পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আবার কোথাও বাইরে থাকে ঘরে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কর্মকাণ্ড চলছে। সবটা মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যা লঘুদের উপর ফের একবার বিপর্যয় নেমে এসেছে।

  • Bengal Assembly Election: ‘আমি আমার কাজ করতে এসেছি’: বিএলএ ইস্যুতে অচল শুনানি, নির্বাচনী আধিকারিকের গাড়িতে হামলা

    Bengal Assembly Election: ‘আমি আমার কাজ করতে এসেছি’: বিএলএ ইস্যুতে অচল শুনানি, নির্বাচনী আধিকারিকের গাড়িতে হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ-লেভেল এজেন্টদের (BLA) শুনানিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত শুনানি বন্ধ রাখতে হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে বিশেষ রোল অবজারভার সি মুরুগানের গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের এসআইআর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আইএএস অফিসার সি মুরুগান মগরাহাট ১ ও ২ ব্লকে পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং একটি দরজার হাতল ভেঙে যায়। ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন মুরুগানকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

    ভয় পাওয়ার কিছু নেই

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানান, এই ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককেও রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এই উত্তেজনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত থেকে। যেখানে কমিসন সূত্রে বলা হয় এসআইআর শুনানিতে রাজনৈতিক দল মনোনীত বিএলএদের উপস্থিতি অনুমোদিত নয়। বিক্ষোভ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মুরুগান। তিনি বলেন, “আমি আমার কাজ করতে এসেছি এবং তা করবই। আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি একজন আইএএস অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এখানে এসেছি। আমাকে নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব।”

    শুনানি হতে দেব না

    একই সময়ে হুগলি ও মেদিনীপুরেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়। হুগলির চুঁচুড়া-মগরা ব্লক অফিসে তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বিএলএদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “বিএলএদের অনুমতি না দিলে বা লিখিতভাবে জানানো না হলে আমরা শুনানি হতে দেব না।” এরপর ব্লক অফিসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুনানি পুনরায় চালু করেন। মেদিনীপুরে জেলাশাসকের দফতরে শুনানির সময় বিএলএরা ঢুকে পড়ে এবং ভিতরে থাকার দাবি জানায়। তাঁদের সরানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য শুনানি বন্ধ রাখতে হয়।

    নিজের অবস্থানে অনড় কমিশন

    তবে নির্বাচন কমিশন নিজের অবস্থানে অনড়। সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “শুনানি কক্ষে বিএলএদের প্রবেশাধিকার নেই। বিহার বা অন্যান্য রাজ্যেও এসআইআর চলাকালীন এই নিয়মই মানা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র ইআরও, এইআরও, বিএলও, বিএলও সুপারভাইজার, মাইক্রো অবজারভার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারই শুনানি কক্ষে থাকতে পারবেন। ভার্চুয়াল শুনানির কোনও বিধানও নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আগরওয়াল বলেন, প্রয়োজন হলে রাজ্য সরকারই সেই অনুরোধ জানাবে।

  • Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির প্রস্তুতির হিসেব নিলেন শাহ, আজ সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় এখনও পর্যন্ত মরসুমের শীতলতম দিন। ১২ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা। তবে ভোটের পারদ ক্রমশ চড়ছে বাংলায়। তিনদিনের সফরে সোমবারই শহরে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরেই সাংবাদিক বৈঠক করার কথাও আছে তাঁর। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সেই আবহে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রে খবর, ভোটের আগে রাজ্য জুড়ে পথসভা, জনসভা বা রথযাত্রার যে পরিকল্পনা রয়েছে পদ্মশিবিরের, তার প্রস্তুতি বা ভাবনা সম্পর্কে শাহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।

    তিন দিনের সফরে কলকাতায় শাহ

    বছরশেষে তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন শাহ। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বিমান পৌঁছোয় দমদম বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যান সল্টলেকে বিজেপির দফতরে। রাতেই সেখানে রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও। প্রায় ঘণ্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মূলত জনসংযোগের বিষয় আলোচনা হয়েছে। জনসংযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব কী কী পরিকল্পনা করেছেন, সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে— সেই সব সম্পর্কে জানতে চান শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সেই হিসেবই তুলে ধরেন তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবারের বৈঠক মূলত ছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিষয়ে। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেনেছেন শাহ।

    রথযাত্রার পরিকল্পনা রাজ্যে

    রাজ্যে ভোটের দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই জনসংযোগের দিকে মনোনিবেশ করেছে রাজ্য বিজেপি। সদস্য সংগ্রহ থেকে মণ্ডলে মণ্ডলে পথসভা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজ করছে তারা। সূত্রের খবর, সেই সব বিষয়ে খোঁজখবর নেন শাহ। কোন কোন মণ্ডলে পথসভা হয়েছে, কাদের ডাকা হয়েছে, কারা এসেছিলেন, কেমন প্রতিক্রিয়া— এমন নানা প্রশ্নের উত্তর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের থেকে জেনে নিতে চান শাহ। জনসংযোগ হিসেবে এ রাজ্যে রথযাত্রারও আয়োজন করবে বিজেপি। পাঁচ দিক থেকে রথ এসে জড়ো হবে এক জায়গায়। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কেও শাহ জেনেছেন।

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক

    মঙ্গলবার দলের কোর গ্রুপের বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক ও কলকাতার দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময় হবে বলেও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন শাহ। শাহর নেতৃত্বে রাতের বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। রাজ্য নেতারা দলের সংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন শাহকে। সরকার গঠন হচ্ছেই, বৈঠকে জানান প্রত্যয়ী শাহ। প্রচারে কোন বিষয় জোর দিতে হবে সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি যেমন রয়েছে তেমনই শিল্প কৃষি, সড়ক পরিবহন, মহিলাদের ক্ষমতায়নের মতো বিকল্প উন্নয়নের মডেল প্রচারে আনার কথা বলেছেন বলে খবর। আজ মধ্যাহ্নভোজনের পর হোটেলে নির্দিষ্ট কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা।

    সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে

    মঙ্গলবার বিকেলে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ। কেশব ভবনে হবে সেই বৈঠক। এর আগেও একাধিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে এবং প্রচারের অভিমুখ নির্ধারণে নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন‍্য আলাদা করে সংঘ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক আগে কখনও করেননি তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারে সর্বাত্মক ভাবে ঝাঁপানোর আগে সংঘের সঙ্গে সমন্বয় সেরে নিতে চাইছেন তিনি। শাহের কর্মসূচিতে সংঘের সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। কাল বুধবার সায়েন্স সিটিতে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন, জেলা এবং রাজ্যস্তরের নেতৃত্বদের নিয়ে সভা করবেন শাহ। তার আগে যাবেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

     

     

     

     

     

  • Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি-এর চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮০। অশীতিপর বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে সিসিইউ-তে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশে।

    বাংলাদেশ প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

    শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসাবে যেমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন হাসিনা, তেমনই খালেদার পরিচিতি ছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবে। স্বামীর মৃত্যুর পর অবশ্য নিজেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন খালেদা। হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)-র। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। তাঁর কিডনির সমস্যা অনেক পুরনো। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্টের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। সূত্রের খবর, বয়সজনিত কারণে পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে উঠেছিল। কারণ, তাঁর শরীরে আগে থেকেই একাধিক সমস্যা ছিল। একটির চিকিৎসা করতে গেলে অন্য রোগের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। কিডনির কার্যকারিতাও অনেকটা কমে গিয়েছিল খালেদার।

    ছোটবেলায় খালেদা

    ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন খালেদা। নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। তাঁর বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তাঁরা তিন বোন এবং দুই ভাই। জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। খালেদা একদম ছোট বয়সে মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। ৫ বছরেই সেখানে ভর্তি হন। এরপর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন ১৯৬০ সালে। সেই বছরই তাঁর বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তখনই তাঁর নাম হয় খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। পরবর্তী সময় তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

    স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ

    ১৯৮১ সালে খালেদার জীবন এক কঠিন সময় আসে। সেই বছর ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান। এরপরই খালেদার রাজনীতিতে প্রবেশ। তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপি-তে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এরপরই তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের জেরে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি।

    ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

    সালটা ছিল ১৯৯১। সেই বছরই প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তারপর আবার ১৯৯৬ সালে তাঁর মাথায় চাপে একই দায়িত্ব। তবে সেই দফায় রাজনৈতিক চাপে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এরপর আবার তিনি ২০০১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০০৭ সাল থেকে খালেদা জিয়ার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। এই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তাঁকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী এবং বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব খালেদা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হাত ধরেই জমি শক্ত করেছিল তাঁর দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। তাঁর আমলেই মহাশক্তিশালী হয়ে ওঠে জামাত-ই-ইসলামি-সহ অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠন। ভারতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক যে খুব একটা মধুর ছিল না তা সবার জানা। মুজিব হত্যার পর রাজাকারদের আশ্রয় দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর একই কাজ করে গিয়েছেন খালেদা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের আমলে আরও অশান্ত হয়ে উঠেছিল ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ বা ‘সাত বোন’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অশান্তির মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জানা যায়, উত্তর–পূর্ব ভারতে আলফা, এনডিএফবি, এনএলএফটি, এটিটিএফ–এর মতো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি সেই সময়ে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই সংগঠনগুলির নেতাদের বেশিরভাগই আশ্রয়স্থল ছিল বাংলাদেশ। সেদেশের মাটি ব্যবহার করেই ভারতে একের পর এক হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল তারা।

    দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় খালেদার দল বিএনপি। প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর পত্নি খালেদা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে খালেদা নজর দেন কিন্তু বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর শাসনে বাংলাদেশে মৌলবাদ চরম আকার নেয়। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, হিংসা মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ পরের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের কাছে হারের মুখ দেখতে হয় মুজিব চেতনাকে দুরমুশ করা পাকপন্থী বিএনপিকে। ক্ষমতা হারালেও বিরোধী নেত্রী হিসেবে দাপটের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ২০০১ সালে ফের ক্ষমতায় আসে তার দল। আবারও প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। সমস্ত ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে নিয়ে ফের শুরু হয় খালেদার দাপট। গণআন্দোলন, জনমত এবং জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করে ক্ষমতায় এলেও অচিরেই তাঁর শাসনে অরাজকতা ও দুর্নীতি ভয়াবহ আকার নেয়। সাম্প্রদায়িক হিংসা ব্যাপক বাড়ে বাংলাদেশে। মৌলবাদ ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও লাগামছাড়া আকার নেয়। তার মেয়াদকালে দুর্নীতির সূচকে (২০০১-২০০৫) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উঠে আসে।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) যে কোনও কাজে সুনাম পেতে পারেন।

    ২) ব্যবসায় সহকর্মীর দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    বৃষ

    ১) স্ত্রীর কারণে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।

    ২) কোনও ঝুঁকিপ্রবণ কাজ করতে হতে পরে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মিথুন

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে চিন্তা হতে পারে।

    ২) গরিব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    কর্কট

    ১) শত্রুভয় কাটাতে পারবেন।

    ২) ব্যবসায় ফল নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে আরও বেশি।

    সিংহ

    ১) কাজের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা থাকবে।

    ২) ব্যবসার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকুন, বুদ্ধিভ্রংশ ঘটতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কন্যা

    ১) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

    ২) আপনার বক্তব্য সকলের মন জয় করতে পারবে না।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    তুলা

    ১) আর্থিক টানাটানির যোগ।

    ২) কর্মস্থলে পদন্নোতির যোগ রয়েছে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    বৃশ্চিক

    ১) কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করাই ভাল হবে।

    ২) ভ্রমণে গেলে সমস্যা হতে পারে।

    ৩) সতর্কতা অবলম্বন করুন সব কাজে।

    ধনু

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) গুরুজনদের উপদেশে কর্মে উন্নতি।

    ৩) অলসতা ত্যাগ করুন।

    মকর

    ১) নিজের ভুল সংশোধন করার ফলে ব্যবসায় উন্নতি ও দারুণ অর্থপ্রাপ্তির যোগ।

    ২) গুরুজনের শরীর নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কুম্ভ

    ১) কাজের চাপ বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসায় শুভ ইঙ্গিত।

    ৩) বড়দের কথা মেনে চলুন।

    মীন

    ১) সহকর্মীরা ক্ষোভপ্রকাশ করায় মানসিক চাপ বাড়বে।

    ২) প্রেমে একটু কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Bangladesh: পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ! সংখ্যালঘুদের ওপর ফের আক্রমণ বাংলাদেশে

    Bangladesh: পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ! সংখ্যালঘুদের ওপর ফের আক্রমণ বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) মুসলিম-প্রধান এলাকা পিরোজপুর জেলার দুমড়িতলা গ্রামে একটি হিন্দু গ্রামে অন্তত পাঁচটি বাড়ি অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা ঘটেছে গত ২৮ ডিসেম্বর। উল্লেখ্য এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ২৯ বছর বয়সী গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার কারণে মিথ্যা অভিযোগে একদল মুসলিম উন্মত্ত জনতা প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করেছিল এবং এরপর তাঁর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এই হিন্দু নির্যাতনের (Attacks On Minorities Hindu) ঘটনায় ভারতেও ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় একাধিক হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে।

    কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় (Bangladesh)

    স্থানীয় (Bangladesh) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কট্টরপন্থী হামলাকারীরা (Attacks On Minorities Hindu) ঘরের একটি ঘরে কাপড় গুঁজে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত সাহা পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই ঘটনা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হন নি। আগুন পরিকল্পনা করেই লাগানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে।

    পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, ভোরের দিকে আগুন দেখতে পেয়ে বুঝতে পারা যায় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলযার ফলে তারা ঘরের ভেতর আটকে পড়েন। পরে দুটি পরিবারের মোট আটজন সদস্য টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া কেটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ঘরবাড়ি ও সমস্ত আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকি আগুনে বাড়ির পোষা প্রাণীরাও মারা গেছে।

    এই ঘটনাস্থলটি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন একাধিক ঘরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

    আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি

    হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ (Bangladesh) মাইনরিটিজ (HRCBM) জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭১টি ঘটনার তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনা চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিলেটসহ ৩০টিরও বেশি জেলায় নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনার বিস্তার ও পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধর্মীয় অভিযোগকে ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।  

    পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা ইউনূসের

    প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দক্ষিণ এশীয় দেশটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ক্রমশ ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Bangladesh) ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশটি একটি অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে উগ্র ইসলামপন্থীদের উত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার মুছে ফেলার প্রচেষ্টা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তানের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ এই পাকিস্তানই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপক নির্যাতন (Attacks On Minorities Hindu) ও হত্যালীলা চালিয়েছিল।

    চরম হিন্দু নির্যাতন!

    বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিসরে নিয়মিত ভারতবিরোধী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, যার মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কিত উসকানিমূলক মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যের সূত্রপাত হয় মুহাম্মদ ইউনূসের ওই অঞ্চল নিয়ে করা এক মন্তব্য থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠী এই ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আড়ালে কট্টর মৌলবাদীরা রাজত্ব করছে।

    বাংলাদেশ যখন ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিচ্ছিন্ন হলেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, যা মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী শহরে আরেক হিন্দু ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটকে উন্মত্ত জনতা হত্যা করে। তবে বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর মামলা ছিল এবং ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। আসলে বাংলাদেশে এখন হিংস্রতা (Attacks On Minorities Hindu) চরম সীমায়।

  • Bihar: বিহারের মুঙ্গেরে পুলিশের সামনে অস্ত্রসহ ৩ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

    Bihar: বিহারের মুঙ্গেরে পুলিশের সামনে অস্ত্রসহ ৩ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের মুঙ্গের (Bihar) জেলায় ২৮ ডিসেম্বর, রবিবার তিনজন কট্টর মাওবাদী (Hardcore Maoists) সদস্য পুলিশের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। মুঙ্গের জেলার খড়াগপুরে একটি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বিহার পুলিশের ডিজিপি বিনয় কুমার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।

    মাথার দাম ছিল ৩ লক্ষ টাকা (Bihar)

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নকশালনেতাদের (Hardcore Maoists) মধ্যে নারায়ণ কোদা ও বাহাদুর কোদা—উভয়েই নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সাব-জোনাল (Bihar) কমান্ডার। রাজ্য সরকার তাদের প্রত্যেকের মাথার দাম হিসেবে আলাদাভাবে ৩ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তৃতীয় আত্মসমর্পণকারী হলেন বিনোদ কোদা। নারায়ণ ও বাহাদুর মঙ্গের জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। বিনোদ কোদা লখিসরাই জেলার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে। আত্মসমর্পণের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জমা করেছে। এর মধ্যে ছিল দুটি ইনসাস রাইফেল, চারটি এসএলআর, ১০টি ওয়াকিটকি এবং প্রায় ৫০০ রাউন্ড জীবিত কার্তুজ।

    সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে সাড়া

    বিহার পুলিশ (Bihar) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর যৌথ অভিযান এবং বিহার সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির ইতিবাচক প্রভাবেই এই আত্মসমর্পণ সম্ভব হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা মাওবাদীদের হিংসতার (Hardcore Maoists) পথ পরিত্যাগ করে মূলধারার সমাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি নীতি অনুযায়ী আত্মসমর্পণকারীদের ২.৫ লক্ষ টাকা অনুদান, আগামী তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১.১১ লক্ষ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    বর্তমানে বিহার সরকার মাওবাদী বিদ্রোহ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নক্সাল কার্যকলাপ এখন শুধুমাত্র কয়েকটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সীমাবদ্ধ, যা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫, যা ‘হেলথ সিকিউরিটি সেস’ নামেও পরিচিত, ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নের কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও শাসনগত সীমাবদ্ধতা সামনে আসার পর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতি বিশেষজ্ঞরা। এই বিলে পান মসলা, তামাকজাত দ্রব্য-সহ ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদনের উপর বিশেষ সেস আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও স্বাস্থ্য-ক্ষতিকর পণ্যকে এর আওতায় আনতে পারবে। এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে।

    উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর: একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ

    এই বিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কর আরোপের ক্ষেত্রে বিক্রয় নয়, বরং উৎপাদন ক্ষমতাকে ভিত্তি ধরা। সাধারণ পরোক্ষ কর যেখানে বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সেস ধার্য হবে উৎপাদন যন্ত্রের সক্ষমতার উপর। এর ফলে আয় লুকোনো, আংশিক রিপোর্টিং এবং খণ্ডিত বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি। যন্ত্রচালিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে উৎপাদিত পাউচ বা টিনের সংখ্যা এবং প্রতিটির ওজন অনুযায়ী সেস নির্ধারিত হবে। বিল অনুযায়ী, যন্ত্রচালিত প্রক্রিয়ার জন্য মাসিক সেসের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০১ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ম্যানুয়াল উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতার জন্য মাসিক প্রায় ১১ লক্ষ টাকা সেস ধার্য হবে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থায়িত্ব

    এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে জমা হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক নয়, তবুও নীতিগতভাবে ক্ষতিকর ভোগের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করার কথাই বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর ব্যবস্থা বিক্রয় বা চাহিদার ওঠানামার উপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় রাজস্ব প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন বিশেষভাবে কার্যকর।

    নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা

    বিলে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। উৎপাদন যন্ত্রের নিবন্ধন, ক্ষমতার ঘোষণা, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানা, পণ্য ও যন্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ, এমনকি গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল ও বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার সংযোগ

    এই বিলের মূল দর্শন হলো—স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর জাতীয় নিরাপত্তা আলাদা বিষয় নয়। উচ্চ রোগপ্রবণতা, জীবনধারা-জনিত অসুস্থতা এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় ও জরুরি প্রস্তুতির উপর দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায়ের মাধ্যমে সরকার সামাজিক খরচকে আংশিকভাবে অভ্যন্তরীণ করার চেষ্টা করছে। এটি একদিকে ভোক্তা আচরণের সামাজিক প্রভাবের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই উৎস থেকেই জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ সংগ্রহের পথ খুলে দিচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন

    তবে এই বিল কার্যকর হলে একাধিক প্রশ্নও উঠছে। ভবিষ্যতে কোন কোন পণ্য এর আওতায় আসবে, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারে কতটা স্বচ্ছতা থাকবে, এবং কঠোর নিয়ম ছোট ও ম্যানুয়াল উৎপাদকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এসব বিষয় বাস্তবায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫ কেবল একটি কর নীতি নয়, বরং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে আনার এই উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে—এই সেস থেকে সংগৃহীত অর্থ দেশের স্বাস্থ্য সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতায় কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার উপর।

  • Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) ফলে অসহায় বোধ করেছিল পাকিস্তান। আট মাস নীরবতার পর অবশেষে একথা মানল ইসলামাবাদ। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় চালানো নির্ভুল ও কৌশলগত হামলার প্রভাব স্বীকার করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। দিলেন পরিসংখ্যানও। দাবি, সিঁদুর অভিযানের সময় টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ৮০টি ড্রোন হামলা করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেসে আঘাত লেগেছিল, ক্ষতি হয়েছিল পরিকাঠামোর, আহত হয়েছিলেন পাক বায়ুসেনার একাধিক জওয়ান, এ কথা প্রথমবার সরকারি ভাবে মেনে নিলেন ইশাক।

    ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন হামলা

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মে মাসের শুরুতে ভারত পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক ড্রোন পাঠিয়েছিল। তাঁর দাবি, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন ঢুকেছিল পাকিস্তানের আকাশসীমায়। তার মধ্যে ৭৯টি তারা ভূপাতিত করতে পেরেছে বলে দাবি করলেও, একটি ড্রোন নূর খান এয়ারবেসে আছড়ে পড়ে। তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিস্তান বায়ুসেনার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। দারের কথায়, ওই ঘটনায় কয়েক জন পাক সেনা জওয়ান আহতও হন। মে মাসে ভারতের হামলায় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এত দিন কার্যত অস্বীকারই করে এসেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল পাকিস্তান। প্রকাশ্যেই পুরোটা স্বীকার করল পাকিস্তান সরকার।

    ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত স্বীকার

    উল্লেখ্য, ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে ভোররাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এর পেছনে ছিল ২৬ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাওঁ-এ সন্ত্রাসীদের হাতে ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইশাক দারের এই বক্তব্য পাকিস্তানের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। এতদিন ইসলামাবাদ ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত অস্বীকার বা খাটো করে দেখিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার নূর খান বিমানঘাঁটিতে ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। তবে এই স্বীকারোক্তির মধ্যেও দার বিতর্কিত দাবি তুলতে ভোলেননি। তিনি আবারও বলেন যে, ৭ মে’র আকাশযুদ্ধে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে যার পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। পাশাপাশি তিনি পুনরায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আসতে পারে কেবল জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের মাধ্যমেই।

    নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে

    সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ঘাঁটিটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ মজুত থাকে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নূর খান ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ভারত সম্ভবত ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ফরাসি তৈরি স্কাল্প (SCALP) এয়ার-লঞ্চড ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, অথবা উভয়ই ব্যবহার করেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ব্রহ্মোস নিক্ষেপ করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে এবং স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের স্বীকারোক্তি শুধু পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানের বড় পরিবর্তনই নয়, বরং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব যে ইসলামাবাদ গভীরভাবে অনুভব করেছে, তারও স্পষ্ট প্রমাণ।

    ভয় পেয়েছে পাকিস্তান

    ইশাক দার আরও দাবি করেন, এই সংঘর্ষ থামাতে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তাঁর সংযোজন, ‘আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি।’ নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি কার্যত ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই ঘাঁটির পাশাপাশি সরগোধার মুশাফ, জ্যাকবাবাদের শাহবাজ, করাচির ভোলারি, মুরিদকে ও রফিকি এয়ারবেসও ভারতীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি।

    পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভারতের

    পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে ভারত থেকেও। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কনওয়ালজিৎ সিং ধিলোঁ ইশাক দারের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইশাক দার মিথ্যা বলতেই অভ্যস্ত। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যটাই বেরিয়ে আসে।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভি নিজেই ১৪ অগস্ট, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে, ১৩৮ জন সেনাকে মরণোত্তর বীরত্ব পদক দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল। ধিলোঁর দাবি, এই সংখ্যা থেকেই বোঝা যায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০-র মধ্যে। এর আগেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বীকার করেছিলেন, ৯-১০ মে রাত আড়াইটে নাগাদ সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাঁকে ফোন করে নূর খান এয়ারবেসে হামলার কথা জানিয়েছিলেন। জুলাই মাসে তাঁর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানান, ভারতের ছোড়া ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল নূর খান এয়ারবেসের দিকেই আসছিল। ইসলামাবাদের হাতে তখন মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ছিল বোঝার জন্য, ওই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড রয়েছে কি না।

    স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের

    এই সব দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে স্যাটেলাইট ছবিও। মার্কিন সংস্থা ম্যাক্সার টেকনোলজির ১৩ মে তোলা ছবিতে নূর খান, মুশাফ, ভোলারি ও শাহবাজ; এই চারটি পাকিস্তানি এয়ারবেসে স্পষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। হামলার আগে ২৫ এপ্রিল এবং হামলার পরে ১০ মে তোলা ছবির তুলনায় ধ্বংসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের এত দিনের বয়ানকে কার্যত উল্টে দিল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share