Tag: Madhyom

Madhyom

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম লস্কর-ই-তৈবার এক পাকিস্তানি কমান্ডার (Lashkar Commander Killed)। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম ইয়াসির। শনিবার মধ্য কাশ্মীরের ইউসমার্গের দুর্গম উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় এই সংঘর্ষের (Gunfight) ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযানে স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্যরা অংশ নেন। তল্লাশির সময় জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষেই ইয়াসিরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল ইয়াসির (Lashkar Commander Killed)

    নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইয়াসির লস্কর-ই-তৈবার সুলেমান মুসা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক বছর আগে সে ওই গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর নিজের মতো করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল সে। কিছুদিন ধরে ইউসমার্গ এলাকায় তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় লস্করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ হিসেবে ইয়াসিরের প্রভাব বাড়ে বলেও সূত্রের দাবি। ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় তার উপস্থিতির খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানই শেষ পর্যন্ত গড়ায় এনকাউন্টারে। ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লস্কর-ই-তৈবার অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কতটা ছিল, ওই অঞ্চলে সে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাত এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার কোনও ভূমিকা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইউসমার্গের এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে (Lashkar Commander Killed)।

    কে এই সুলেমান মুসা?

    সুলেমান মুসা, যিনি হাশিম মুসা নামেও পরিচিত, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পরিচিত ছিল (Gunfight)। হামলার কয়েক মাস পরে শ্রীনগরের দাচিগাম অরণ্য এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিকেশ হয় মুসা (Lashkar Commander Killed)।

     

  • Suvendu on Teachers’ Day: প্রতি জেলায় ২টি ‘সিএম শ্রী’ স্কুল, সিলেবাসে ইতিহাস ও দেশপ্রেমে জোর রাজ্য সরকারের

    Suvendu on Teachers’ Day: প্রতি জেলায় ২টি ‘সিএম শ্রী’ স্কুল, সিলেবাসে ইতিহাস ও দেশপ্রেমে জোর রাজ্য সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী প্রজন্মের মনে দেশপ্রেম ও রাজ্যের প্রকৃত ইতিহাস গেঁথে দিতে এবার রাজ্য সরকার সিলেবাসে (School Syllabus) রদবদল আনছে। শিক্ষক দিবসের (Teachers’ Day) মঞ্চ থেকে পাঠ্যক্রমের আমূল পরিবর্তন ও শিক্ষায় একগুচ্ছ সংস্কারের রূপরেখা পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান পাঠ্যসূচির সমালোচনা করে তিনি জানান, অতীতে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়েছিল। শনিবার নিউ টাউনে (Teachers’ Day) অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় ঘোষণাও করেন তিনি। কেন্দ্রের ‘সেন্ট্রাল স্কুল’ ও ‘জহর নবোদয় বিদ্যালয়’-এর ধাঁচে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অন্তত দুটি করে অত্যাধুনিক মডেল স্কুল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বিশেষ বিদ্যালয়গুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিএম শ্রী ইনস্টিটিউট’ (CM Shri Institute)।

    এ রাজ্য কীভাবে সৃষ্টি হল, জানবে নতুন প্রজন্ম

    মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রচলিত পাঠ্যবইয়ে ‘টাটাদের রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়াকে মহৎ কর্ম’ বলে দাবি করে এক পৃষ্ঠা জুড়ে রাখা হলেও, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল—তার কোনও উল্লেখই নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyamaprasad Mukherjee) ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদানকে আড়াল করার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি আজ পশ্চিমবঙ্গে বসে বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা ভোগ করছেন। অথচ এ রাজ্য কীভাবে সৃষ্টি হল, তা নতুন প্রজন্ম জানাবে না? একদল যখন ভারত ভাগ করেছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কীভাবে পাকিস্তান ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করেছিলেন—তা ছাত্র-ছাত্রীদের জানতে দেওয়া হবে না?”

    মাতঙ্গিনী হাজরার কাহিনী পাঠ্যবইয়ে

    একই সঙ্গে ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাতে শাঁখা ও জাতীয় পতাকা নিয়ে গুলি খেতে খেতে মাতঙ্গিনী হাজরার ‘বন্দে মাতরম্’ (Vande Mataram) ধ্বনি দেওয়ার মতো আত্মত্যাগের ইতিহাসও পাঠ্যক্রমে সবিস্তারে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবোধ ও মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্য সরকার যে কোনও কার্পণ্য করবে না, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের অন্তরাত্মায় গাথা ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি প্রতিটি স্কুলের প্রার্থনাসভায় গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকার যে কোনও আপস বা রফা করবে না, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    ‘সংস্কৃত দিবস’ উদযাপন

    শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি প্রাচীন সংস্কৃত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন, যার জন্য ‘সংস্কৃত দিবস’ উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে রাজ্যজুড়ে এই সমস্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সফল করতে শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সিএম শ্রী’ প্রতিষ্ঠান চালু

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ‘সিএম শ্রী’ প্রতিষ্ঠানগুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়াদের ভর্তি করা হবে। স্কুলগুলিতে থাকবে সেরা মানের শিক্ষক, আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব ও স্মার্ট বোর্ড। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে প্রথম দফায় ১ হাজার ১৯৭টি সাধারণ বিদ্যালয়ে আধুনিক পঠনপাঠনের সুবিধার্থে স্মার্ট বোর্ড বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্রীড়া পরিকাঠামোর প্রসারে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় ক্রীড়া কেন্দ্র (Sports Institutes) তৈরির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেও এসএসসি-র মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘প্রচুর ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাত্রছাত্রীরা যাতে আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফল হতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রাচীনতম খেলাধুলো, খোখো, হাডুডু, ফুটবল ইত্যাদি খেলাধুলো প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ফিরে আসুক। এছাড়া মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালু রাখার বিষয়টিতেও সিলমোহর দেন তিনি।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা

    পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে শিক্ষা পরিকাঠামোর চরম বেহাল দশাকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেই জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত দরকারি ছিল। শিক্ষা দফতরের বৈঠকে জানতে পারি, রাজ্যে এখনও প্রায় ১৯ হাজার এমন স্কুল রয়েছে যেখানে ন্যুনতম পরিকাঠামোটুকু নেই; এমনকি পরিশ্রুত পানীয় জল বা ছাত্রীদের জন্য পরিচ্ছন্ন বাথরুম পর্যন্ত নেই।” এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়গুলিতে তবলা সহ সাংস্কৃতিক ও এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের সরঞ্জাম সরবরাহ করে স্কুলগুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাব

    মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের উপর মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে, তিনি গুজরাটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। শুভেন্দু বলেন, “মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাব রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের উপর। গুজরাটে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ সব সিদ্ধান্ত নিলে আমার ভোট কমে যেতে পারে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘গুজরাটে দেখুন, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে হাত দিতে দেওয়া হয় না। ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে মোবাইল ফোন। রাত দেড়টা-দু’টোর আগে বাচ্চারা ঘুমোতে যায় না, সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটছে। বাবা-মা শুয়ে পড়েছে, আড়াল হতেই মোবাইল ঘাঁটা আরম্ভ করে দিচ্ছে।’ তাঁর কথায়, ‘এই সমস্ত সংস্কার যদি না করেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনও মানেই থাকবে না।’ শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে ৩১ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে, তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যকে সেরা দশের তালিকায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

  • India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হতে চলেছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভারের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বেলজিয়ামের ১৫টি প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিরা। অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারত শুধুমাত্র বিদেশ থেকে তৈরি অস্ত্র কেনার পথে হাঁটছে না। বরং যৌথভাবে প্রযুক্তি তৈরি, ভারতে উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরি করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেশের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    জোর জোরাওয়ার ট্যাঙ্কে বেলজিয়ামের ৩১০৫ টারেট

    ভারতীয় সেনার হালকা ট্যাঙ্ক জোরাওয়ার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বেলজিয়াম-ভিত্তিক জন ককেরিল ডিফেন্স-এর ৩১০৫ টারেটের। এই টারেটে রয়েছে ১০৫ মিলিমিটার কামান। জোরাওয়ারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপেও এই টারেট ব্যবহার করা হয়েছে।

    উচ্চ পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই জোরাওয়ার ট্যাঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-চিন সীমান্তের মতো উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই হালকা ট্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই প্রকল্পে বেলজিয়ামের সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ওআইপি সেন্সর সিস্টেম ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সাঁজোয়া যানের জন্য উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

    অন্যদিকে, জন ককেরিল ডিফেন্স উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের উপযোগী উন্নত ট্যাঙ্ক টারেট প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। টারেটের পরীক্ষা ও সংযুক্তিকরণের কাজ এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারতে উৎপাদনের লক্ষ্যে জন ককেরিল ভারতীয় সংস্থা ইলেক্ট্রো নিউম্যাটিক্স অ্যান্ড হাইড্রলিক্স-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

    ভারতে তৈরি হবে ৭০ মিলিমিটার রকেট

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল ৭০ মিলিমিটার রকেট। বেলজিয়ামের থ্যালেস এবং ভারতের কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস লিমিটেড এই বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    এই অংশীদারিত্বের আওতায় আনগাইডেড এবং লেজার-গাইডেড—দুই ধরনের রকেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। থ্যালেস প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহ করবে এবং ভারতে উৎপাদন, পরীক্ষা ও সিস্টেম সংযুক্তিকরণের দায়িত্ব নেবে কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস। লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট প্রস্তুত করা।

    থ্যালেসের প্রযুক্তি অনুযায়ী, এই ধরনের রকেট আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র—তিন ধরনের অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। দেশেই উৎপাদন বাড়লে আমদানির উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

    সমুদ্রের মাইন শনাক্ত করবে রোবোটিক ব্যবস্থা

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বেলজিয়ামের এক্সাইল রোবোটিক্স জলের নিচে থাকা মাইন শনাক্ত, চিহ্নিত এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

    আধুনিক নৌযুদ্ধে সামুদ্রিক মাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। তুলনামূলক কম খরচে সমুদ্রপথ, বন্দর এবং নৌঘাঁটির প্রবেশপথ বিপজ্জনক করে তুলতে পারে এই ধরনের মাইন। তাই সেগুলি শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা একটি আধুনিক নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা, বন্দর সুরক্ষা, জলের নিচের পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    বছরে ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে বেলজিয়ামের লাক্রোয়া এবং ভারতের টেম্বো ক্লাসিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চুক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতে একটি নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করা হবে। সেখানে বছরে প্রায় ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কারখানায় দুই ধরনের গোলাবারুদের জন্য সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন থাকবে। পাশাপাশি আরও দুই ধরনের ক্যালিবারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টুলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও কারখানা স্থাপনের কাজ ২০২৮ ও ২০২৯ সালে করা হবে।

    এই প্রকল্প সফল হলে ভারতে সামরিক গোলাবারুদের বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হবে।

    ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোনেও নজর

    আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিভিন্ন সংঘাতে সস্তা ও ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভারতও ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ক্ষেত্রেও বেলজিয়ামের এফএন হার্স্টাল এবং কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ভারতে যৌথ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় থাকতে পারে—

    • ● নজরদারি ড্রোন
    • ● কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি
    • ● স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম
    • ● উন্নত সেন্সর ও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা

    অর্থাৎ, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ও মানবহীন যুদ্ধপ্রযুক্তির দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    শুধু অস্ত্র কেনা নয়, প্রযুক্তি তৈরি ও উৎপাদনেও জোর

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত এখানেই। ভারত এখন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে শুধু প্রস্তুত অস্ত্র বা সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    জোরাওয়ারের টারেট, ৭০ মিলিমিটার রকেট, গোলাবারুদ উৎপাদন, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং ড্রোন-কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশীদার করা হচ্ছে।

    এর ফলে একদিকে বিদেশি সংস্থার উন্নত প্রযুক্তি ভারতে আসবে, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি উৎপাদন, পরীক্ষা, সংযুক্তিকরণ এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়নে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

    সামরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি কাঠামোও তৈরি

    শুধু শিল্পক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের সরকারও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে।

    এর আওতায় রয়েছে—

    • ● সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক আদানপ্রদান
    • ● আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ
    • ● যৌথ সামরিক মহড়া
    • ● প্রতিরক্ষা গবেষণায় সহযোগিতা
    • ● সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সমন্বয়

    পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্প সংস্থাকে এই অংশীদারিত্বে যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব তিনটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য বিদেশে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

    বিশেষ করে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স এবং উন্নত সেন্সরের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় বেলজিয়ামের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামো একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প-ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে।

    অর্থাৎ, ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা শুধু নতুন অস্ত্র কেনা নয়—‘বিদেশি প্রযুক্তি + ভারতীয় উৎপাদন + যৌথ উন্নয়ন’-এর মাধ্যমে আগামী দিনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা।

  • Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার নিয়ে এসেছিলেন এক অভিনব উপহার—পুরোটাই বেলজিয়ান চকোলেট (India Gate in Chocolate) দিয়ে তৈরি ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। কিন্তু ভারতে পৌঁছনোর আগেই সেই ‘মিষ্টি উপহার’-এ ঘটে বিপত্তি। দীর্ঘ যাত্রার ধকল সামলাতে না পেরে ভেঙে যায় চকোলেটের তৈরি ইন্ডিয়া গেট। শুক্রবার বেলজিয়ামের দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভেঙে যাওয়া চকোলেটের ভাস্কর্যের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ডি ওয়েভার এই বিশেষ উপহারটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই সেটি ভেঙে যায়। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, উপহারটি ভেঙে গেলেও তা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে ডি ওয়েভার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বেলজিয়ামে এর একটি ‘ব্যাক-আপ’ প্রতিকৃতিও রয়েছে। ফলে নতুন করে তৈরি করে সেটি ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, তবে যাত্রার জন্য নয়’

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিনব উপহারের কথা জানান ডি ওয়েভার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপযুক্ত একটি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই কারণেই বিশ্বের অন্যতম সেরা বেলজিয়ান চকোলেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। তবে মজার ছলে ডি ওয়েভার বলেন, “আসল ইন্ডিয়া গেট প্রায় এক শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তার চকোলেট সংস্করণটি বেলজিয়াম থেকে ভারতে আসার পথটুকুও টিকতে পারল না।” এরপরই তাঁর রসিক মন্তব্য, “কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, কিন্তু কূটনৈতিক যাত্রার জন্য যে খুব একটা ভালো নয়, তা আমরা বুঝতে পেরেছি।” তবে উপহারটি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ডি ওয়েভার। তিনি জানান, বেলজিয়ামে এর আরেকটি প্রতিকৃতি প্রস্তুত রয়েছে এবং যে কোনওভাবে সেটি অক্ষত অবস্থায় মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

    কেন বেছে নেওয়া হল ইন্ডিয়া গেট?

    চকোলেট দিয়ে ইন্ডিয়া গেট তৈরির সিদ্ধান্তের পিছনেও রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ডি ওয়েভারের কথায়, ইন্ডিয়া গেট ভারত ও বেলজিয়ামের অতীতের যৌথ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের প্রতীক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডসে বহু ভারতীয় সেনা যুদ্ধ করেছিলেন এবং প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই ভারতীয় সৈনিকদের সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতিও বহন করে এই উপহার। ডি ওয়েভার বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ফ্ল্যান্ডার্সে লড়াই করা ভারতীয় সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগ বেলজিয়াম এখনও ভোলেনি। তাঁদের সেই অবদান দুই দেশেরই যৌথ ইতিহাসের অংশ। তাঁর মতে, এই স্মৃতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—শান্তি কখনওই নিশ্চিত বা চিরস্থায়ী ধরে নেওয়া যায় না। ফলে শেষ পর্যন্ত চকোলেটের ইন্ডিয়া গেট ভেঙে গেলেও, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভারত-বেলজিয়ামের বন্ধুত্ব, ইতিহাস এবং কূটনৈতিক বার্তাটি অটুটই রয়ে গেল।

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • Siliguri Corridor: শিলিগুড়ি করিডরে নতুন চার লেনের মহাসড়ক, ২,০০০ কোটির বেশি বরাদ্দ কেন্দ্রের

    Siliguri Corridor: শিলিগুড়ি করিডরে নতুন চার লেনের মহাসড়ক, ২,০০০ কোটির বেশি বরাদ্দ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে (Connecting Northeast) মূল ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল শিলিগুড়ি করিডরকে (Siliguri Corridor) আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় পরিকাঠামোগত উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩১.০২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের নতুন মহাসড়ক নির্মাণের জন্য ₹২,০৭৭.১৮ কোটি বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। নতুন এই মহাসড়কটি বাগডোগরা থেকে পানিট্যাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গলগলিয়া পর্যন্ত যাবে। রাস্তাটির নাম হবে জাতীয় সড়ক ৩২৭ (NH-327)। নতুন মহাসড়কটি বর্তমান এনএইচ-২৭-এর সমান্তরালে, প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে নির্মাণ করা হবে। এর ফলে শিলিগুড়ি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট তৈরি হবে।

    কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর

    প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের একমাত্র স্থল সংযোগ। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। একদিকে নেপাল ও বাংলাদেশ এবং অন্যদিকে ভুটান ও চিন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চল দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানান, নতুন প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সংযোগ উন্নত করবে।

    কমবে যানজট, দ্রুত হবে বাণিজ্যিক পরিবহণ

    নতুন চার লেনের সড়ক তৈরি হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কি এলাকার যানজট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত হবে। কৃষি, উদ্যানপালন, চা-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পণ্য দ্রুত বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রকল্পের আওতায় থাকবে তিনটি বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতি চলাচলের আন্ডারপাস এবং রাস্তার দু’পাশে সার্ভিস রোড। বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আর যানজটে আটকে উড়ান মিসের আশঙ্কায় ভুগতে হবে না। প্রতিদিন পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করা শত শত পণ্যবাহী ট্রাকের পরিবহণ-সময় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে এলাকার চা-বাগান, ফল, আনারস ও শাকসবজি উৎপাদনকারী কৃষক, উদ্যানপালক, ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে উপকৃত হবেন। স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও কম খরচে দেশের বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরও শক্তিশালী করবে।

    হাতির করিডরেও বিশেষ নজর

    নতুন মহাসড়কের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল পাঁচটি প্রস্তাবিত এলিফ্যান্ট আন্ডারপাস। এনএইচ-৩২৭ এর যে অংশ কার্শিয়ং বন বিভাগের মধ্য দিয়ে যাবে, সেখানে একাধিক এলাকাকে হাতি পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন দফতরের পক্ষ থেকে মহাসড়কের নিচ দিয়ে হাতি চলাচলের জন্য পৃথক পথ তৈরির দাবি জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে ধান কাটার মরসুমে এই এলাকায় হাতির চলাচল বেড়ে যায়। আন্ডারপাস তৈরি হলে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় হাতির মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রেল ও বিমান যোগাযোগেও বড় পরিকল্পনা

    শুধু সড়ক নয়, সামগ্রিকভাবে শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত উচ্চগতির রেল করিডর এবং শিলিগুড়ির কাছে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি মালদহ থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন বসানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসিমারায় ভারতীয় বায়ুসেনার একটি রাফাল স্কোয়াড্রন রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকরি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই প্রকল্প শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। নতুন সড়কপথ তৈরি হলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের চলাচল আরও দ্রুত ও সহজ হবে। ফলে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্য, পর্যটন, কৃষি ও চা-শিল্পেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনএইচ-২৭-এর পাশাপাশি এনএিচ-৩২৭ তৈরি হলে শিলিগুড়ি করিডরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়কপথ তৈরি হবে। ফলে এই কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’-এর যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নতুন এই মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    খুশি সব মহল

    পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘‘এই সড়ক উত্তরবঙ্গের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে । শিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত ও উন্নত করতে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বাত্মকভাবে সচেতন, আর এই নতুন রাস্তা তারই একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’’ পর্যটন শিল্পেও এর ফলে নতুন জোয়ার আসবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্প মহলেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ এর উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক শাখার চেয়ারম্যান সতীশ মিত্র বলেন, ‘‘এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি রিং রোড তৈরির এটিই প্রথম ধাপ। চার লেনের সড়ক চালুর ফলে শিলিগুড়ির পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং অঞ্চলে নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’’

  • Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার বদলের পর রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তিন মাসের হিসাবেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন কোনও কর চাপানো হয়নি, অথচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এর আগে (Suvendu Adhikari) প্রথম এক মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধিকে (Revenue Collection) তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিপুল ঋণের দায়, অন্যদিকে সামাজিক প্রকল্প, সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং পরিকাঠামো খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সব মিলিয়ে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানো এখন অর্থ ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

    নজর কর ফাঁকি ও রাজস্ব ফাঁক বন্ধে (Suvendu Adhikari)

    রাজ্য সরকারের বক্তব্য, করের হার বাড়িয়ে নয়, আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেই এই সাফল্য এসেছে। স্টেট জিএসটি, আবগারি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি, মোটর ভেহিকল ট্যাক্স, বিদ্যুৎ শুল্ক এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উপর ভ্যাট—রাজ্যের নিজস্ব কর-রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    খনি, পাথর খাদান ও বালি-সহ প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য অর্থ নিশ্চিত করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়্যালটি আদায়, খনিজ পরিবহণের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা এবং করযোগ্য লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    জেলাভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথায় প্রত্যাশার তুলনায় সরকারি আয় কম হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, নিয়মিত করদাতাদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কর সংগ্রহের পরিধি এবং দক্ষতা বাড়ানো।

    তিন মাসেও ঊর্ধ্বমুখী রাজস্ব

    সরকারের প্রথম মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান সামনে এসেছিল। পরে আড়াই মাসের হিসাবেও রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছনোর কথা জানানো হয়। তিন মাসের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর সেই হার আরও বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। অর্থ দফতরের কর্তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রথম মাসের সাময়িক সাফল্য পরের দু’মাসেও ধরে রাখা গিয়েছে।

    রেভিনিউ লিকেজ’ বন্ধে জোর

    সরকারি মহলের একটি বড় অংশের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল এতদিনের ফাঁকফোকর বন্ধ করা। বিশেষ করে খনি, খাদান, বালি ও পাথরের ব্যবসায় সরকারের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি কোষাগারে পৌঁছচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথি ছাড়া খনিজ পরিবহণ, রয়্যালটি ফাঁকি কিংবা করযোগ্য লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি ব্যবস্থার বাইরে থেকে গেলে রাজস্বের বড় অংশ হারিয়ে যায়। সেই ধরনের অনিয়ম রুখতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আশা, এই ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে (Suvendu Adhikari)।

    তবে এই সাফল্যের স্থায়িত্ব নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন। একটি আর্থিক বছরের কয়েক মাসে রাজস্ব বাড়লেই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না। বছরের শেষ পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ধরে রাখা সম্ভব হয় কি না, সেটাই হতে চলেছে সরকারের সামনে পরবর্তী পরীক্ষা।

    বিপুল ঋণের মধ্যে বাড়তি রাজস্বের গুরুত্ব

    রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো খরচ।

    এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো গেলে সরকারের উপর অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য আর্থিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    সরকারের অবস্থান, করের হার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের উপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানো এবং ফাঁকি রোখাই আপাতত বেশি কার্যকরী পথ। প্রথম মাসে অতিরিক্ত রাজস্ব এবং তিন মাসে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে সেই নীতির প্রাথমিক ফল হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

    দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য শিল্প ও বিনিয়োগ জরুরি

    অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, শুধু কর ফাঁকি বন্ধ করা বা প্রশাসনিক নজরদারি বাড়িয়ে দীর্ঘদিন রাজস্ব বৃদ্ধির একই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন। শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকে তাই রাজস্ব বৃদ্ধির স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার (Suvendu Adhikari)। প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান আপাতত রাজ্য প্রশাসনকে স্বস্তি দিয়েছে। তবে এই গতি আগামী মাসগুলিতেও অব্যাহত থাকে কি না, আর রাজস্ব বৃদ্ধির (Revenue Collection) সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা গতি পায়— আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

     

  • Food Safety Raids: বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে কড়া নজরদারি, প্রথম তিন দিনেই প্রকাশ্যে ৮৮% প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

    Food Safety Raids: বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে কড়া নজরদারি, প্রথম তিন দিনেই প্রকাশ্যে ৮৮% প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে খাবারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্য লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Raids)। ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে ‘স্পেশাল ফুড সেফটি উইক’। সেই কর্মসূচির প্রথম তিন দিনেই রাজ্যের ২,৩৩৭টি খাদ্য ও পানীয় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২,০৫৬টি প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়মের হদিশ মিলেছে। অর্থাৎ, পরিদর্শন করা (West Bengal) প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ শতাংশের বিরুদ্ধেই কোনও না কোনও বড় ধরনের অসঙ্গতি সামনে এসেছে।

    সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ (Food Safety Raids)

    দফতর সূত্রে খবর, অনিয়ম ধরা পড়ার পর ২,০৩৯টি ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১,২৭৭টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ৪২৮টি, ২ সেপ্টেম্বর ৪৭৩টি এবং ৩ সেপ্টেম্বর ৩৭৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শুধু নজরদারি নয়, অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপও করা হয়েছে। ১৬টি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ১৭টি প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। ১৭টি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১ সেপ্টেম্বর ৯০৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। পরের দিন ৮২৪টি এবং তার পরের দিন আরও ৬০৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

    মালদায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    তিন দিনের অভিযানে মালদায় একাধিক খাদ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘টেস্টি ফুড প্রোডাক্টে’র ক্ষেত্রে বৈধ ও আপডেট খাদ্য লাইসেন্স দেখাতে না পারার অভিযোগ ওঠে। তার উপর কেক তৈরির জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পরিস্থিতির জেরে সেখানে খাদ্যপণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    একই জেলায় ‘হায়দরাবাদি বিরিয়ানি’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৈধ খাদ্য লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নথি দেখাতে না পারার পাশাপাশি খোলা জায়গায় নর্দমার উপর রান্না করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানেও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মালদার পানীয় জল প্রস্তুতকারী ‘পিওর বুন্দ’ এবং ‘পাইলট পানি’র ক্ষেত্রেও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। খাদ্য সুরক্ষা বিধিতে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য আবশ্যিক শর্ত মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দুই সংস্থার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে (Food Safety Raids)।

    হলুদে মেটানিল ইয়েলো, বন্ধ দুধঘর

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের ‘দুধ ঘরে’ বৈধ খাদ্য লাইসেন্স না থাকার অভিযোগের পাশাপাশি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সন্ধান মেলে। স্পট টেস্টে হলুদ গুঁড়োয় ‘মেটানিল ইয়েলো’ নামে অননুমোদিত রং শনাক্ত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকেও খাবারের মেশানো রং উদ্ধার হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, খাদ্য বিক্রির উপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

    হুগলিতে বন্ধ পানীয় জল প্রস্তুতকারী সংস্থা

    হুগলির পুইনানে ‘নূর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পানীয় জল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ হয়েছে। খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পক্ষের তরফে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা এনফোর্সমেন্ট শাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    লাইসেন্স নেই, জল পরীক্ষার রিপোর্টও অনুপস্থিত

    ৩ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের দেবগ্রামের ‘তারা মা হোটেল’ এবং চাপড়ার ‘জনপ্রিয় হোটেলে’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। দুই প্রতিষ্ঠানই বৈধ খাদ্য লাইসেন্স দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি পানীয় জলের পরীক্ষার রিপোর্ট অনুপস্থিত ছিল এবং খাবার সংরক্ষণ ও রান্নার পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত ছিল না। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত বাসনপত্রের ঘাটতিও নজরে আসে (Food Safety Raids)।

    পশ্চিম বর্ধমানে জরিমানা

    পশ্চিম বর্ধমানেও অভিযান চালিয়ে সাতটি খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে, কলকাতার তাজ বেঙ্গলে পরিদর্শনের সময় বড় কোনও নিয়মভঙ্গ নজরে আসেনি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ (West Bengal) করা হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল খাদ্যপণ্যের গুণমান বজায় রাখা, খাদ্য সুরক্ষা বিধি কার্যকর করা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়ম মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ নজরদারি। ফলে আগামী দিনগুলিতে আরও বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান এবং নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে (Food Safety Raids)।

     

  • Durga Puja Drone Show: তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটবে দুর্গাপুজোর গল্প, মহালয়া থেকে অষ্টমী— মেগা অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা রাজ্যের

    Durga Puja Drone Show: তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটবে দুর্গাপুজোর গল্প, মহালয়া থেকে অষ্টমী— মেগা অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার আলো, আনন্দ আর উৎসবের রঙ। এবার সেই উৎসবের আকাশেই যোগ হতে চলেছে এক নতুন মাত্রা। ২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের (Durga Puja Drone Show) অভিনব লাইট শো। মহালয়া থেকে অষ্টমী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে আয়োজন করা হবে একাধিক মেগা অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালি সংগঠন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে সেই উৎসবে।

    তিন হাজার ড্রোনের অভিনব লাইট শো

    রাজ্যের পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, এবার দুর্গাপুজোয় কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে অভূতপূর্ব দৃশ্য। কমপক্ষে ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর নানা অনুষঙ্গ। ড্রোনের আলোয় আকাশজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে বাংলার সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র। একের পর এক ড্রোন নির্দিষ্ট বিন্যাসে উড়ে তৈরি করবে আলোকচিত্র ও বিভিন্ন আকৃতি—যা মাটিতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের কাছে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। জানা গিয়েছে, পুজোর রাতের পাশাপাশি মহালয়াকে ঘিরেও থাকছে বিশেষ বর্ণাঢ্য আয়োজন। দুর্গাপুজোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে সাজানো হতে পারে এই অনুষ্ঠান। এর আগে কলকাতার গঙ্গার তীরে ড্রোন ও লেজার শো দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়ে এবার দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন হতে চলেছে বলে খবর।

    দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬

    ‘বিশ্ব জুড়ে বাঙালির আবেগ – দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ নামে এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। গোটা আয়োজনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিজ্ঞ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাই করতে ইতিমধ্যেই রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারি নথি অনুযায়ী, দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।

    অনাবাসী ভারতীয়রাও আড্ডায় মাতবেন

    এই কর্মসূচির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘গ্লোবাল বেঙ্গলি কানেক্ট’ বা ‘ঢাক কানেক্ট’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাঙালি সংগঠন, অনাবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষকে বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে সরকার। এর জন্য বিদেশের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিশনগুলির সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিভিন্ন শহরের বাঙালি সংগঠনের অনুষ্ঠান, ঢাক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে লাইভ যুক্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে দুই প্রান্তের মধ্যে সরাসরি কথোপকথনের ব্যবস্থাও থাকবে। অনুষ্ঠান যাতে মাঝপথে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রতিটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যান্ডউইথ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আগে থেকে পরীক্ষা করা হবে। সব লাইভ ফিড পরিচালনার জন্য থাকবে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম।

    বিদেশেও পুজোর প্রচার

    নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যার থেকে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। লন্ডনের পিকাডিলি লাইটস থেকে সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দর। এ বার বিশ্বের একাধিক আইকনিক জায়গায় দেখা যেতে পারে বাংলার দুর্গাপুজোর ঝলক। শুধু বিদেশে নয়, দেশের ১০টি বিমানবন্দর, ৫০টি রেলস্টেশন এবং বাংলার ১ হাজার পুজো প্যান্ডেলেও চলবে প্রচার। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ২০০ কোটি ভিউ ও ইমপ্রেশন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত একটি করে যৌথ প্রচারমূলক অনুষ্ঠান বা অ্যাক্টিভেশন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। শুধু ইংরেজিতে নয়, যে দেশে প্রচার হবে, সেই দেশের প্রধান ভাষাতেও বিজ্ঞাপন, ভিডিও এবং প্রচারের অন্যান্য উপকরণ তৈরি করা হবে।

    সরকারি মাধ্যমে সরাসরি পুজোর অনুষ্ঠান!

    রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও স্থাপত্য আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরকারি কাঠামোয় কেবলমাত্র স্থাপত্যভিত্তিক আলোকসজ্জা করা যাবে। সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনও মঞ্চ তৈরি বা জনসমাবেশ করা যাবে না। এই অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ভিভিআইপি অতিথিদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও মাথায় রাখা হয়েছে। প্রধান অনুষ্ঠানগুলি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রসার ভারতী, দূরদর্শন, আকাশবাণী এবং অনুমোদিত দেশি-বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানো হবে।

    থিম-বাংলার পুজো-বাঙালির আবেগ

    মহালয়ার পাশাপাশি পুজোর আরও দু’টি নির্ধারিত দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে একটি অনুষ্ঠান অষ্টমীকে কেন্দ্র করে হতে পারে। সেখানে ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। কোনও বড় স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম বা অন্য কোনও উপযুক্ত জায়গায় প্রায় চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দফতর। সেখানে জনপ্রিয় শিল্পী, সেলিব্রিটি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নেবে। ঢাক ও ধুনুচি নাচের পাশাপাশি ছৌ, ঝুমুর, বাউল, কীর্তন, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নেপালি সংস্কৃতি, লোকসঙ্গীত এবং সমকালীন শিল্পকলাকেও তুলে ধরা হবে। বাংলার থিম প্যান্ডেল, আচার-অনুষ্ঠান, খাবার, হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পও জায়গা পাবে প্রচারে।

    ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময়

    এই ড্রোন শোর জন্য আলাদা গল্প, স্টোরিবোর্ড, অ্যানিমেশন, থ্রি-ডি প্রিভিজুয়াল এবং সঙ্গীতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোরিওগ্রাফি তৈরি করা হবে। ড্রোনের চলাচল, আলো, সঙ্গীত এবং মঞ্চের অনুষ্ঠান – সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে দৃশ্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আয়োজনের আগে ডিজিসিএ-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। একাধিকবার পরীক্ষামূলক উড়ান ও নিরাপত্তা মহড়ার পরেই চূড়ান্ত ড্রোন শো হবে। যদি এই আয়োজন সম্পূর্ণ করা যায়, তাহলে ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচির ধোঁয়া, আলোর রোশনাইয়ের পাশাপাশি এবার কলকাতার আকাশও হয়ে উঠতে পারে দুর্গাপুজোর এক বিশাল ক্যানভাস—যেখানে হাজার হাজার আলোর বিন্দুতে ফুটে উঠবে মা দুর্গা, বাংলার সংস্কৃতি এবং শারদোৎসবের গল্প। তবে ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময় ও দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট ভিউয়িং জোন নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।

    ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা, পরিবেশবান্ধব আয়োজন

    তবে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পবিত্রতা ও বাঙালির চিরাচরিত রীতি যাতে কোনওভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুরোহিত, ধর্মীয় আচার-বিশেষজ্ঞ, সাংস্কৃতিক গবেষক ও ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। আয়োজনকে পরিবেশবান্ধব রাখার নির্দেশও রয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, ডিজিটাল আমন্ত্রণ ও রেজিস্ট্রেশন, বর্জ্য পৃথকীকরণ, বিদ্যুৎ ও জল সাশ্রয় এবং স্থানীয় পণ্য ও কর্মীদের ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

LinkedIn
Share