Tag: Madhyom

Madhyom

  • Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু ধর্মীয় আচার নিয়ে শরজিল ইমামের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয় সংবিধানকে ‘ফ্যাসিবাদী’ এবং মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা বলে অভিহিত করেছেন বলে একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে (Sharjeel Imam)। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ‘মিথ্যা ও ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট সামনে এনে সমালোচকেরা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন (Anti Hindu Rhetoric)।

    সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য (Sharjeel Imam)

    প্রকাশিত নিবন্ধের দাবি, সাক্ষাৎকারে শরজিল ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোকে মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিবন্ধটির লেখক দাবি করেছেন, ইমাম ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী কাঠামোর অংশ বলে মনে করেন এবং সেই কাঠামোর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    এ ছাড়া, ভারতের প্রাচীন হিন্দু সভ্যতাভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ের ধারণাকেও তিনি প্রশ্ন করেছেন বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশভাগের জন্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তিকে দায়ী করা এবং মুসলিম লিগের ভূমিকা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    তবে এসব বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ প্রতিলিপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই না করে অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

    দুর্গাপুজো সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন

    শরজিল ইমামের পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের উল্লেখ করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, হিন্দু ধর্মীয় আচার এবং প্রতিমা উপাসনা নিয়ে তাঁর আপত্তি নতুন নয়। ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

    সমালোচকদের বক্তব্য, ওই পোস্টে দুর্গাপুজো এবং প্রতিমা উপাসনা সম্পর্কে অবমাননাকর ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির এমন ধর্মীয় অবস্থান তাঁর ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

    তবে মূল পোস্টের সম্পূর্ণ পাঠ এবং তার প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। শুধু সমালোচকদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির সামগ্রিক রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থান নির্ধারণ করা সমীচীন নয়।

    ‘শিরক’ ধারণা ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিতর্ক

    নিবন্ধটিতে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের আর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শরজিল ‘শিরকে’র বিভিন্ন মতাদর্শগত রূপ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামি ধর্মতত্ত্বে শিরক বলতে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাসনা বা ঐশ্বরিক মর্যাদায় অংশীদার করার ধারণাকে বোঝানো হয়। সমালোচকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পোস্টে প্রতিমা উপাসনা, জাতীয়তাবাদ, মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বস্তুবাদকে এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

    নিবন্ধটির লেখকের মতে, জাতীয়তাবাদকে ‘ওয়াতান-পরস্তি’, মানবতাবাদকে ‘ইনসান-পরস্তি’ এবং বস্তুবাদকে ‘মাদ্দা-পরস্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ইমাম একাধিক মতাদর্শের সমালোচনা করেছেন। লেখক আরও দাবি করেছেন, বস্তুবাদকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত করা মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী ভিত্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক (Sharjeel Imam)।

    তবে এই ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট পোস্টের মূল বক্তব্য, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরিভাষাগুলির ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। তাই মূল নথি যাচাই ছাড়া এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

    মার্ক্সবাদ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং একই সঙ্গে ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাখ্যার মধ্যে মতাদর্শগত টানাপোড়েন রয়েছে।

    এদিকে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দিলেই তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে হবে—এমন অতিসরল সিদ্ধান্ত টানা যায় না। মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণ বক্তব্য ও যুক্তি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    বিতর্কের কেন্দ্রে সংবিধান, পরিচয় ও সহাবস্থান

    শরজিলকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার, মূল সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি (Anti Hindu Rhetoric)।

    একটি বহুধর্মীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিক। সেই বিতর্কে কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু অভিযোগ, মতামত এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখাও সমান (Sharjeel Imam) গুরুত্বপূর্ণ।

     

  • Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় শিক্ষার নামে পরিচালিত একটি মাদ্রাসায় শিশুদের আবাসন, পড়াশোনা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের (Gwalior Madrasa Raid) অভিযোগ উঠল। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ঝাঁসি রোডে অবস্থিত দার-উল-কোরান মাদ্রাসায় পরিদর্শন চালিয়ে একাধিক অসংগতি সামনে এনেছে প্রশাসন। শুক্রবারের ওই পরিদর্শনে উদ্ধার করা হয়েছে সাত থেকে ১৩ বছর বয়সি ১৮ বালক এবং চার থেকে ১৩ বছর বয়সি আট বালিকাকে (Girls Rescued)। গভীর রাতে মহকুমা শাসক অতুল সিং, ঝাঁসি রোডের নগর পুলিশ আধিকারিক এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকের উপস্থিতিতে মাদ্রাসাটি সিল করে দেওয়া হয়। শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন, শিক্ষা দফতর, নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর এবং শিশু কল্যাণ কমিটির যৌথ দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে। কমিশনের চেয়ারপার্সন চিকিৎসক নিবেদিতা শর্মার নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা, আবাসনের ব্যবস্থা, পড়াশোনা, কর্মীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

    দু’টি ঘরে বহু শিশু, শৌচাগারে দরজা নেই (Gwalior Madrasa Raid)

    পরিদর্শনে শিশুদের থাকার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল তাদের। মেঝেতে চাদর পেতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা ছিল। রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতাও সন্তোষজনক ছিল না। শৌচাগারগুলিতেও দরজা ছিল না। শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবও নজরে এসেছে তদন্তকারীদের। পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন নিবেদিতা শর্মা। তাঁর কথায়, “এভাবে শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া যায় না। আপনারা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারেন, কিন্তু প্রত্যেককে নিয়ম মানতেই হবে।”

    তিনি আরও জানান, সরকারি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই মাদ্রাসাটিকে আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুরা সেখানে সারাদিন থাকলেও, তারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি বলে দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও তাদের উত্তীর্ণ করানোর ব্যবস্থা চলছিল। কয়েক জন বালিকাকে আদৌ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। কমিশনের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য, পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা না থাকা এবং মাত্র দু’টি ঘরে এত শিশুকে রাখা তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতার শামিল। কয়েক জন শিশু নিজেরাই জানিয়েছে, তারা সেখানে থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

    মসজিদের কুঠুরিতে আট বালিকা

    পরিদর্শনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল বালিকাদের থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের পিছনে এক কোণে ছোট একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পৌঁছতে চারটি দরজা পেরোতে হয়। বালিকাদের দেখাশোনার জন্য এক জন শিক্ষিকা প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য আসতেন বলে জানা গিয়েছে। ঘরটিতে ঘুমোনোর জন্য কেবল চাদরের ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তার জন্য লাগানো নজরদারি ক্যামেরাগুলিও বন্ধ ছিল। ফলে বালিকাদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং মহিলা কর্মীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুদের সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানে বাইরের লোকজনের প্রবেশের উপর কীভাবে নজর রাখা হয়, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নথিতে গরমিল!

    মাদ্রাসার নথিতে ৪২ বালক এবং ১৫ বালিকার নাম রয়েছে। অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৭। অথচ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিল মাত্রই ২৬ শিশু। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিশু বাড়ি চলে গিয়েছিল। তবে নথিভুক্ত সংখ্যা ও বাস্তবে উপস্থিত শিশুদের সংখ্যার মধ্যে এত বড় ব্যবধান কেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পরিদর্শনের সময় শিশুদের ভর্তি সংক্রান্ত নথি, উপস্থিতির খাতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে নেন আধিকারিকেরা। নথিতে থাকা বাকি শিশুরা কোথায় থাকে, কীসের ভিত্তিতে তাদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানে শিশুদের আসা-যাওয়ার হিসাব কীভাবে রাখা হয়, তাও জানার চেষ্টা চলছে (Girls Rescued)। অভিযোগ, মাদ্রাসায় বালিকা থাকার বিষয়টিও আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। পরিদর্শনকারী দলকে প্রথমে কয়েক জন জানিয়েছিলেন, সেখানে কোনও বালিকা নেই। কিন্তু পরে তল্লাশির সময় একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া যায় (Gwalior Madrasa Raid)।

    দুই বালিকার অভিযোগে বাড়ল উদ্বেগ

    পরিদর্শনের সময় কমিশনের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। দুই বালিকা জানায়, তারা মাদ্রাসায় থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে। তারা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    এর পর শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তদন্তকারীদের মতে, কোনও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখা হলে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

    নিবন্ধন ও স্বীকৃতির নথি নিয়ে প্রশ্ন

    পরিদর্শনের সময় মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। যদিও, প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যায়নি বলে অভিযোগ। সেখানে শিশুদের কোরান পড়ানো হয় বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কতটা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মহম্মদ সাবিরের দাবি, ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সেখানে প্রায় ৪০ বালক এবং ১৪ থেকে ১৫ বালিকা পড়াশোনা করে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দুও পড়ানো হয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনা নিয়ে সংশয়

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কিছু শিশুর নাম বিদ্যালয়ে নথিভুক্ত থাকলেও, তারা নিয়মিত ক্লাসে যায় না বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের নথিতে তাদের উপস্থিতি দেখানো হয় এবং সরাসরি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

    বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা দফতরকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। উপস্থিতির নথিতে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে বিষয়টি শুধু মাদ্রাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হতে পারে।

    শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করার মূল উদ্দেশ্য নিয়মিত ও যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা। সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না, তা-ই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    ধর্মীয় বইয়ের বিষয়বস্তুও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    মাদ্রাসায় শিশুদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় একটি ঘরে রাখা বইপত্র পরীক্ষা করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। সেখান থেকে কয়েকটি হিন্দি ও উর্দু বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি হিন্দি বইয়ে হিন্দুধর্ম, ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য রয়েছে। তবে বইগুলিতে ঠিক কী লেখা রয়েছে এবং শিশুদের কী ধরনের বিষয়বস্তু পড়ানো হচ্ছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    মাদ্রাসা সিল করাই শেষ পদক্ষেপ নয়

    দার-উল-কোরান মাদ্রাসা সিল করার ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কোনও ধর্মীয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ আবাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সম্মানজনক আচরণ (Girls Rescued) এবং নিয়মিত শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকা জরুরি।

    পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়ম এবং শিশুদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে মাদ্রাসা সিল করা হলেও, এর পর প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি, শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা যাচাই এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা। শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনওভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব (Gwalior Madrasa Raid)।

     

  • France: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে মেরিন ল্য পেন, দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে মেলাঁশোঁ-ফিলিপ

    France: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে মেরিন ল্য পেন, দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে মেলাঁশোঁ-ফিলিপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে (Presidential Election 2027) প্রথম দফার ভোটে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী নেত্রী মেরিন ল্য পেন। সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষাগুলিতে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ঢের বেশি (France)। এদিকে, রাজনৈতিক মেরুকরণ বৃদ্ধি, বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে ঘিরে অস্থিরতা এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর প্রশাসনের প্রতি জনঅসন্তোষের জেরে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

    তবে সাম্প্রতিক হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরেও ভোটারদের মনোভাবে তাৎক্ষণিক বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ল্য পেনের নির্বাচনী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক সমীক্ষার ফলে সেই সম্ভাবনার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    ল্য পেনের জাতীয় সমাবেশ দলের সমর্থন এবং কট্টর বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবোডের নেতা জঁ-লুক মেলাঁশোঁর জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক হিংসার পরেও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ১৭ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এই সমীক্ষা করা হয়। এর পরেই নির্বাচনে এই অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    অন্য একটি সমীক্ষায় ল্য পেনের সমর্থন ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে করা ওই সমীক্ষায় মেলাঁশোঁর সমর্থন ১৮ থেকে ১৮.৫ শতাংশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের সমর্থন ১৭ শতাংশ এবং আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতালের সমর্থন ১১ শতাংশ। দু’টি সমীক্ষার ফলে কিছু পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে জাতীয়তাবাদী ও কট্টর বামপন্থী শক্তির উত্থান এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে মেলাঁশোঁ, ফিলিপও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (France)

    একাধিক নির্বাচনী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে করা সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ল্য পেনের সমর্থন ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তাঁর তুলনায় অন্য প্রার্থীরা অনেকটাই পিছিয়ে। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় কোনও প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রথম দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার লড়াই হয়। ফলে ল্য পেনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পর্বে কে লড়বেন, তা নির্ধারণে দ্বিতীয় স্থানের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কট্টর বামপন্থী শিবিরের নেতা মেলাঁশোঁ সমীক্ষাগুলিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অথবা ওই স্থানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কয়েকটি পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে ফিলিপ এবং মধ্য-বামপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানের ব্যবধান খুবই কম। ফলে দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় মধ্যপন্থী শিবিরের পক্ষে একক প্রার্থীর পিছনে সমর্থন একত্রিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি জাতীয়তাবাদী এবং কট্টর বামপন্থী প্রার্থীদের সামনে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে (France)।

    ল্য পেন ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২২ সালে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে তিনি দ্বিতীয় দফায় পৌঁছলেও দু’বারই মাক্রোঁর কাছে পরাজিত হন। মেলাঁশোঁও ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে লড়েছিলেন, কিন্তু কোনওবারই দ্বিতীয় দফায় পৌঁছতে পারেননি।

    সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মেলাঁশোঁর বিরুদ্ধে লড়াই হলে ল্য পেন বড় ব্যবধানে জিততে পারেন। ফিলিপের বিরুদ্ধেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সে ক্ষেত্রে ব্যবধান তুলনায় কম হতে পারে।

    অশান্তি ঠেকাতে বড় পুলিশি অভিযানের প্রস্তুতি

    রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ফ্রান্সে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর শঙ্কাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২৪ অক্টোবর আরও বিক্ষোভের ডাক অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সে যে হলুদ জ্যাকেট আন্দোলন দেশজুড়ে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, সাম্প্রতিক অস্থিরতা তেমন দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু ২০ অক্টোবর আরও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন। তিনি এই মোতায়েনকে ‘বিপুল’ বলে বর্ণনা করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৌশলগত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয় এমন একটি সামরিক ইউনিটকেও কাজে লাগানো হবে। ১৯ অক্টোবর দেশের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে নৈশকালীন কার্ফু জারি করা হয়। ২০ অক্টোবর রাতেও সেই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে কি না, তা স্থানীয় ও আঞ্চলিক প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    নতুন করে বিক্ষোভের সম্ভাবনা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। হিংসার পর প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রধান প্রার্থীদের সমর্থনে বড়সড় পরিবর্তন দেখা না গেলেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ভূমিকা এবং তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে নজরদারি বেড়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২ মে হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আগামী কয়েক মাস প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের সমর্থন সুসংহত করা এবং দ্বিতীয় দফায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা (France) বাড়ানোই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

    জনমত সমীক্ষায় ল্য পেনের ধারাবাহিক এগিয়ে থাকা তাঁকে নির্বাচনী প্রচারের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা এখনও অনিশ্চিত (Presidential Election 2027)। মেলাঁশোঁ, ফিলিপ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে সেই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই ধারণা নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের।

     

     

     

  • Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উমা বিদায়ের পরই বাঙালির ঘরে ঘরে চলে মা লক্ষ্মীকে বরণ করার প্রস্তুতি। ২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন, পুজো ২৫ অক্টোবর হবে, নাকি ২৬ অক্টোবর? পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যাতেই লক্ষ্মীপুজো করা হবে। কারণ, পূর্ণিমা তিথি ২৫ অক্টোবর সকালেই শুরু হচ্ছে এবং রাতেও থাকছে। ২৬ অক্টোবর সকালে তিথি শেষ হয়ে যাবে। তাই কোজাগরী পূর্ণিমার রাতেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার আয়োজন করতে পারেন ভক্তরা। তবে বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকায় পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে পরের দিন সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময় সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।

    এসো মা লক্ষ্মী, বসো ঘরে

    দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালি হিন্দু পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হয়। সংসারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কো জাগর্তি’ থেকে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং যাঁরা রাত জেগে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের আশীর্বাদ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জেগে পুজো করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। কথিত রয়েছে, এই পূর্ণিমার রাতে নাকি দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিক্রমায় বেরন। তিনি দেখেন কেউ সারারাত জেগে আছেন কিনা। অনেকে এ-ও বলে থাকেন, ওইদিন রাতে যে ব্যক্তি জেগে থাকেন তাঁকে মা লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি দান করেন।

    কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালনের রীতি

    প্রথমে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে লক্ষ্মীর আসন সাজিয়ে নিন। বাংলায় বাড়ির প্রবেশপথে চালের গুঁড়ি দিয়ে আলপনা ও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে। ফুল, ফল, মিষ্টি, নারকেল, চিঁড়ে, খই ও অন্যান্য নৈবেদ্য দিয়ে পুজোর আয়োজন করতে পারেন। পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করুন। রাত জেগে পুজো করার রীতি থাকলেও নিজের পারিবারিক প্রথা ও পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলুন। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার প্রতিটি ঘর মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনিতে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষি সমাজ। এই পুজো হয় মূলত প্রতিমা, সরা, নবপত্রিকা কিংবা থোড়ের তৈরি নৌকোয়। লক্ষ্মীর সরাও হয় নানারকমের। যেমন – ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি, সুরেশ্বরী এবং শান্তিপুরী সরা।

  • Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জর্ডনের রাজধানী আম্মানের থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১০ মাইল) দক্ষিণে একটি চার্চের ভিতরে চলছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেই সময়েই তিন বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ে সেখানে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। জর্ডনের একটি চার্চে এই ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, জর্ডনের কারাক (Karak) এলাকায় রয়েছে গ্রিক অর্থোডোক্স চার্চ। সেখানেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা জর্ডনজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

    চার্চে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি তিন বন্দুকবাজের

    জর্ডনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কারাকের হামুদ (Hammoud) গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স চার্চে (Greek Orthodox Church) যখন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। প্রার্থনা সভাতে সেই সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জর্ডনের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে প্রথমে হাতে পিস্তল নিয়ে চার্চে ঢুকেছে ২ জন। চার্চের ভিতরের দিকে এগোতে এগোতে নাগাড়ে গুলি চালাচ্ছে তারা। তৃতীয় আরেক বন্দুকবাজকেও দেখা গিয়েছে এই ফুটেজে। তার হাতে আবার ছিল সেমি-অটোম্যাটিক রাইফেল। চার্চে ঢুকে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এই তিনজন বন্দুকবাজ। চার্চে থাকা এই ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই বন্দুকবাজদের হামলার সময়ে ছবি, ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেছেন।

    কারা হামলা চালাল, কঠোর শাস্তি

    চার্চে থাকা অনেকে বলেছেন চারজন বন্দুকবাজ ছিল। গুলি চালানোর ঘটনায় কতজন যুক্ত ছিল তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, কেন এভাবে চার্চের ভিতর গুলি চালানো হল – কোনও কিছুই স্পষ্টভাবে জানা যায়নি এখনও। এই ঘটনায় জর্ডনে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান (Jafar Hassan)। হামলাকারীদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, এভাবে নিরীহ মানুষজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অপরাধীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী মতাদর্শের ফল বলে উল্লেখ করেছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী। এই ভয়াবহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (King Abdullah II)। এক্স (X)-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কারাককে লক্ষ্য করে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলাকে কঠোরতম উপায়ে দমন করা হবে।” নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর দুর্গাপুজো থেকে আর টানা ছুটি পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত, প্রায় ১০ দিন ছুটি আর হবে না। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন এ কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর পাঁচটা সরকারি দফতরের মতো স্বাস্থ্য দফতর নয়। স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে জরুরি পরিষেবা দিতে হয়। মানুষের স্বার্থে পুজোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ!

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে অঘোষিত একটি রেওয়াজ ছিল যে, ষষ্ঠী মানেই অফিস-কাছারিতে পুজো-পুজো ভাব। সেই ছুটির রেশ চলে যায় একেবারে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। শারদ্বতের কথায়, ‘‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়া বন্ধ হোক। এত দিন ধরে এটা রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল।’’ তার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ বছরই বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে। পুজোর সময়ে পুরলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সাফাইয়ের দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সরাসরি ফোন করে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তাতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে উৎসবের মরশুমেও দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’ সরকারি কর্মীদের জনগণের করের টাকায় চলা পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ করানোর জন্যেও কি নির্দেশিকা জারি করতে হবে?’এ বারও পুজোর চার দিনের জন্যে বিশেষ রস্টার চালু থাকলেও আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য কর্মীদের জন্য আগের মতোই রস্টার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আগাম ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

  • Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুজোর আগেই বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার সকালের মধ্যেই সাগরে তৈরি হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়। তা ক্রমে উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোই আবহাওয়া ঠিক থাকবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়া বদল ঘটতে পারে বুধবার থেকে। সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে কোনও সতর্কতা নেই। মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ওই দিন থেকে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটারেও। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।

    কোথায় তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ!

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর শুক্রবার নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। তার আশপাশে ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে সমুদ্রতল থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায়। নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে শনিবার নিম্নচাপে পরিণত হবে। ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে সরতে সরতে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে রবিবার। সোমবার সকালের মধ্যে সমুদ্রেই গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। সেটি পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বুধবার থেকে। উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে ওই দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টি!

    কলকাতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে বুধবার থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে।

     

  • ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সঙ্গে প্রচলিত পদ্ধতিতে যুদ্ধে লড়াই করা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং চালকবিহীন ড্রোনের সাহায্যে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলাও করা সম্ভব। এমনই মন্তব্য করলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর। অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal) ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে আইটিবিপির শৌর্য প্লাটুনের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ রুখতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই বিশেষ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক। ২৪ অক্টোবর বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবস।

    শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোদের অসাধারণ দক্ষতা (ITBP)

    অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি সংঘাতের সময় শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চিনের মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করার কথা জানিয়ে শত্রুজিৎ বলেন, আইটিবিপির সমস্ত সদস্যকে বিশেষ আঘাত হানা ও প্রতিরোধমূলক অভিযানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সীমান্তের সামনের সারির সমস্ত চৌকিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজি আরও জানান, উচ্চ পার্বত্য সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য আইটিবিপি ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রচলিত গেরিলা যুদ্ধকৌশলে আইটিবিপির বিশেষ দক্ষতার উল্লেখ করে তিনি বাহিনীকে দেশের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় শক্তিকেও চ্যালেঞ্জ

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের প্রসঙ্গে শত্রুজিৎ জানান, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। তাঁর বক্তব্য, সামরিক শক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কারণে চিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতিতে লড়াই করা কঠিন। তবে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিশেষত চালকবিহীন ড্রোনের ব্যবহার এই সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের যুদ্ধের উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ইউক্রেনের মতো দেশও রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পেরেছে। কাপুরের কথায়, “প্রচলিত পদ্ধতিতে চিনের মোকাবিলা করা এখন কঠিন হবে। চিন তার সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে ছোট দেশও বড় দেশকে লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইরান-আমেরিকার সংঘাতেও আমরা তার উদাহরণ দেখেছি।” ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লেও, একই সঙ্গে জওয়ান ও সামরিক পরিকাঠামোকে ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান আইটিবিপি প্রধান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সীমান্তের সামনের সারির কয়েকটি চৌকিতে মাটির নীচে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাহিনীর প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ। নতুন ধরনের হুমকির মোকাবিলায় সরঞ্জাম, পরিকাঠামো এবং অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও উন্নত করা হচ্ছে (ITBP)।

    ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    ২০৩০ সালের মধ্যে বাহিনীর জন্য আরও বেশি আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন শত্রুজিৎ কাপুর। তাঁর বক্তব্য, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইটিবিপি নির্দিষ্টভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে (Arunachal)। আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাহিনীর চলাচলের সক্ষমতা এবং উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহের উপর। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচলে সক্ষম যান, স্বয়ংক্রিয় স্থলযান, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল যান এবং আধুনিক গোলাবারুদ সংগ্রহ। সীমান্তে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল (ITBP) লক্ষ্য।

     

  • Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল নথি জমা দিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিদেশি নাগরিকেরা ভারতের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। এই কাজে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে (Bombay HC)। অপরাধে তাঁদের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারপতি এএস গড়করি এবং বিচারপতি কমল খাতার ডিভিশন বেঞ্চ ১২ অক্টোবরের রায়ে ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষকে (ইউআইডিএআই) প্রয়োজনীয় আধার নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে নবি মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস) বাংলাদেশের নাগরিকদের বেআইনি বসবাস সংক্রান্ত যে মামলা করেছিল, সেই তদন্তের স্বার্থেই এই নথি চাওয়া হয়েছিল (Aadhaar Voter IDs)। রায়ে আদালত বলেছে, “ভারতের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি নাগরিকেরা দেশের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তেরা জাল নথি জমা দিয়ে প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

    গ্রেফতার পাঁচ বাংলাদেশি (Bombay HC)

    মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়গড় জেলার পানভেলের জুইগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় এটিএস। সেখানে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ। অভিযানে পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে মুন্না বা মাস্টার উসমান আনসারি, প্রবীণ আনন্দ পাটিল, অজয় ভীমরাও সুরভে এবং বিশাল জনার্দন শেড়গের সহায়তায় অভিযুক্তেরা ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য অভিযুক্তেরা আধার কার্ডের আবেদন করার সময় যে নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি হাতে পাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে বিচার আদালতে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন নম্বর ১৭৭ দায়ের করে প্রসিকিউশন পক্ষ। ওই বছরের ৪ এপ্রিল নবি মুম্বইয়ের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক পাঁচ অভিযুক্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

    অভিযুক্তের আধার নথি পায়নি তদন্তকারী সংস্থা

    তদন্তকারী সংস্থা ইয়াসিন জালাল শেখ, মহম্মদ রফিক আজ্জু শেখ, জামাল ইসমাইল হুসেন-সহ আরও এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি পেয়েছিল। কিন্তু বাকার হাসান শেখ নামে অন্য এক অভিযুক্তের নথি কর্তৃপক্ষ দেননি। এর পর ২০১৯ সালে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এটিএস। ২০১৯ সালের রিট পিটিশন নম্বর ৬০১৯-এ আধার আইন, ২০১৬-এর ৩৩(১) ধারা উল্লেখ করে বাকার হাসান শেখের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ও আধার যাচাইকরণের নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয় (Bombay HC)। আট বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া তদন্তে আধার নথি পাওয়ার এই দাবি অবশেষে হাই কোর্টে নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।

    সাহায্যকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    রায়ের সপ্তম অনুচ্ছেদে আদালত বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ এবং সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়ে পৃথকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতিদের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং সহ-অভিযুক্তদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। অপরাধে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, “তদন্তকে তার যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।” এটিএসের আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বাকার হাসান শেখের আধার কার্ড পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নথি রায়টি আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার তারিখ থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে (Aadhaar Voter IDs)। মহারাষ্ট্র সরকার বনাম ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির নম্বর রিট পিটিশন ৬০১৯/২০১৯। আপাতত আদালতের নির্দেশ এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পর্যবেক্ষণে বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পেতে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে আদালত (Bombay HC)।

     

LinkedIn
Share