Tag: Madhyom

Madhyom

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026)-এর পুনর্পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা এই পুনর্পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিট পুনর্পরীক্ষাকে (NEET-UG Re-Exam) সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

    একাধিক কঠোর পদক্ষেপ

    দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবার যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহণের সময় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    ১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ

    দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

    প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

    এছাড়াও, দেশজুড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষার উপর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

    কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি

    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্রিয় সরকার

    বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

  • Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।

    সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!

    প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম

    তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন।‌ ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।

    কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?

    গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।

    সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার

    তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়‌। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুদি দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং—ভারতের সর্বত্রই এখন ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেনের জয়জয়কার। এই ডিজিটাল বিপ্লবে এবার যুক্ত হতে চলেছে বাড়ির ছোট সদস্যরাও। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি অত্যন্ত অভিনব ফিচার নিয়ে এসেছে, যার মাধ্যমে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা পাঠাতে পারবেন।

    দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচার (NPCI)

    ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (NPCI) নতুন সংযোজন—’ইউপিআই সার্কেল’ (UPI Circle)। অনেক বাবা-মা সন্তানদের ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা দিতে চাইলেও, নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বা অত্যন্ত সংবেদনশীল ইউপিআই পিন (UPI PIN) শেয়ার করার বিষয়ে দ্বিধাবোধ করেন। অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে, যা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে খরচের ওপর সম্পূর্ণ নজরদারি রাখার সুযোগ দেবে।

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ আসলে কী?

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ হল এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একজন প্রাথমিক ইউপিআই অ্যাকাউন্টধারী (Primary User) অন্য কোনও বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সেকেন্ডারি ইউজারকে (Secondary User) তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন করার অনুমতি দিতে পারেন। এই সেকেন্ডারি ইউজার হতে পারেন আপনার সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা ইউপিআই পিন কারো সঙ্গে শেয়ার করতে হয় না। উল্টে, সন্তান বা পরিবারের সদস্য কত টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা (Spending Limit) নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। ফলে খরচের ওপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ থাকে ষোলআনা।

    কীভাবে কাজ করে এই ফিচার?

    ইউপিআই (NPCI) সার্কেল ব্যবহার করার জন্য প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে প্রথমে তাঁর ইউপিআই অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে ‘সেকেন্ডারি ইউজার’ হিসেবে যুক্ত করতে হবে। এরপর ওই সেকেন্ডারি ইউজার সীমিত আকারে পেমেন্ট করার অধিকার পাবেন। এই ফিচারটি মূলত দুটি ভিন্ন মোড বা পদ্ধতিতে কাজ করে:

    ১. ম্যানুয়াল অ্যাপ্রুভাল মোড (অনুমোদন সাপেক্ষ পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে সেকেন্ডারি ইউজার (যেমন আপনার সন্তান) কোনও পেমেন্ট বা লেনদেন শুরু করলেই, তা সম্পন্ন হওয়ার আগে প্রাথমিক ব্যবহারকারীর (অভিভাবক) অনুমতির প্রয়োজন হবে। সন্তান লেনদেনের অনুরোধ পাঠালে তৎক্ষণাৎ অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসবে। অভিভাবক সেই পেমেন্ট অনুমোদন করলেই টাকা কাটবে, অন্যথায় নয়। যে সমস্ত অভিভাবকরা সন্তানের প্রতিটি খরচের নিখুঁত হিসাব রাখতে চান, তাঁদের জন্য এই মোডটি অত্যন্ত কার্যকরী।

    ২. অটোমেটিক অ্যাপ্রুভাল মোড (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে অভিভাবকরা আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট খরচের সীমা বা লিমিট সেট করে দিতে পারেন। সেকেন্ডারি ইউজারের খরচের পরিমাণ যদি সেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তবে লেনদেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সফল হবে; প্রতিবার আলাদা করে অভিভাবকের অনুমতির (NPCI) প্রয়োজন পড়বে না।

    উদাহরণস্বরূপ

    অভিভাবক যদি সন্তানের জন্য মাসে সর্বাধিক ২,০০০ টাকা খরচের সীমা বা লিমিট নির্ধারণ করে দেন, তবে সন্তান সেই সীমার মধ্যে ছোটখাটো প্রয়োজনীয় পেমেন্ট নিজেই করে নিতে পারবে।

    সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘ইউপিআই সার্কেল’-এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল লেনদেনের স্বাধীনতা পাচ্ছে, তেমনই খরচের রাশ এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকছে অভিভাবকদের হাতেই।

  • Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের একটি তোলাবাজির মামলায় সোমবার মধ্যরাতে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও খুনের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে (TMC Ex MLA) থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন। পচা ডিম, টমেটো, গোবরে ‘স্বাগত’ জানায় উত্তেজিত জনতা।

    আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা (Sabyasachi Dutta)

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিধাননগর উত্তর থানার সামনে এবং আদালত চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেন। সব্যসাচী দত্তকে কড়া পুলিশি পাহারায় থানা থেকে বের করে আনা হলেও উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ আটকানো সম্ভব হয়নি। তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও টমেটো ছুড়ে মারেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। এমনকি পুলিশের গাড়ির দরজার ফাঁক দিয়েও তাঁর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। উপস্থিত জনতার একাংশকে “চোর” (TMC Ex MLA) স্লোগান দিতেও শোনা যায়। সেখানে উপস্থিত এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নেতা (Sabyasachi Dutta) ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়েছেন। আজ তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে।”

    অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

    যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সব্যসাচী দত্ত (TMC Ex MLA)। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “২০১৮ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ টাকাও নেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন, তবে আমি যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব। যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই ওই একই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।” ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিধাননগর এবং তৎসংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করল রাজ্য সরকার। নবগঠিত এই টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে। মুখ্যসচিব ছাড়া এই কমিটিতে আরও ১৯ জন উচ্চপদস্থ সদস্য রয়েছেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কলকাতা সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (State Government) রেলের সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করতেই নবান্নর এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।

    টাস্ক ফোর্সের মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি (Task Force)

    • নিয়মিত পর্যালোচনা: রাজ্যে প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পগুলির কাজ কতদূর এগোল, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
    • জটিলতা নিরসন: জমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা রাস্তা নির্মাণ সংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলি থমকে রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • সমন্বয় সাধন: রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক অনুমতি মেলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

    বৈঠকের সময়সূচি

    প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে অন্তত একবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্সের (Task Force) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে মাসে একাধিকবারও বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া, কাজের গতি বজায় রাখতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ প্রতি সপ্তাহে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যসচিব (State Government) জানিয়েছিলেন যে, প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে রাজ্যে রেলের প্রায় ৭০টি প্রকল্প থমকে ছিল। রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠনের ফলে সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র দুই দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের (Fifa Football World Cup 2026)। কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের (Football World Cup 2026) আসর বসতে চলেছে। নিঃসন্দেহে এবারের টুর্নামেন্ট উল্লেখযোগ্য থাকবে বিশ্ব ফুটবলের ২ মহারথী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির জন্য। দু’জনে তাঁদের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন। তবে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের জন্য়ও একটি বিশেষ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় ২০ বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ফুটবলার বিশ্বকাপের আসরে নামতে চলেছেন। তাও আবার একজন নয়। চার চারজন।

    ২০০৬-এর পর ২০২৬

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চার ফুটবলার। ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team) এবারও বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও, এই প্রথম একসঙ্গে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিজেদের দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৬ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন বিকাশ ধোরাসু। তিনি ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত। এরপর ফুটবল বিশ্বকাপের চারটি সংস্করণে কোনও ভারতীয়কে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত চারটি বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে নামবেন। তাঁরা হলেন তাহসিন মহম্মদ জামশিদ, নিশান ভেলুপিল্লাই, স্যামুয়েল মুতুসামি ও সরপ্রীত সিং।

    তাহসিন মহম্মদ জামশিদ

    সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কাতারের তরুণ উইঙ্গার তাহসিন মহম্মদ জামশিদ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি কাতার স্টার্স লিগে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। দোহায় জন্ম নেওয়া তাহসিনের বাবা-মা কেরলের মালয়ালি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা কেরলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলও খেলেছিলেন। এবার কাতারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

    সরপ্রীত সিং

    নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন সরপ্রীত সিং। পাঞ্জাবি পরিবার থেকে উঠে আসা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ২০১৮ সাল থেকেই ‘অল হোয়াইটস’ দলে নিয়মিত মুখ। ইউরোপিয় ফুটবলেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত নাম। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে সই করে একসময় বড় চমক দিয়েছিলেন সরপ্রীত। ২০১৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখে কুতিনহোর বদলে মাঠে নেমেছিলেন সরপ্রীত। সে দিন তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে খেলেছিলেন বুন্দেশলিগায়। পাঞ্জাব থেকে সরপ্রীতের বাবা–মা পাড়ি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। অকল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তে পাপাতোয়তোয় অঞ্চলে বাড়ি তাঁদের। সেখানেই শুরু ফুটবল। তার পরে খেলেছেন ওনেহুঙ্গা ক্লাবে। সেখান থেকেই নজরে পড়ে যান ওয়েলিংটন ফিনিক্স যুব টিমের। তার পরে এই টিমের হয়েই খেলেছেন এ লিগে। তার পরে বায়ার্নের দ্বিতীয় ও প্রথম টিম এবং জার্মানির আরও কয়েকটি টিমে খেলে গত মরশুমে খেলেছেন পর্তুগালের ইউনিয়াও দে লেইরিয়াতে। আর ২০১৮ সালে অভিষেকের পরে ধীরে ধীরে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন নিউ জিল্যান্ড টিমে।

    নিশান ভেলুপিল্লাই

    অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নিশান ভেলুপিল্লাই। এই আগুন গতির উইঙ্গারের মা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং বাবা মালয়েশিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ইতিমধ্যেই ‘সকারুজ়’ দলে নিজের জায়গা পাকা করতে শুরু করেছেন নিশান।

    স্যামুয়েল মাউতোসামি

    ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর হয়ে খেলবেন স্যামুয়েল মাউতোসামি। ফ্রান্সের প্যারিসে জন্ম হলেও, মায়ের সূত্রে তিনি কঙ্গোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর বাবা ইন্দো-গুয়াডেলুপিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ফরাসি লিগ ওয়ানে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ

    ভারতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে না থাকলেও, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চার ফুটবলারের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিতে চলেছে। মোট ১০৪টি ম্য়াচ হবে। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্য়াচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো মুখোমুখি হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই ফাইনাল ম্য়াচ। গত বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল কাতারে। সেবার ফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্তিনা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি পারবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে?

    ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট

    মোট ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেবে। এর আগে বিশ্বকাপে ৩২টি দল খেলত। শেষবার ১৯৯৮ সালে দলসংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। দলসংখ্যা বাড়ায় এবার ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে চলেছে কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই চার দেশের অভিষেক বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৪৮টি দলের মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত সংখ্যক ফুটবলার আগে কখনও অংশ নেননি। এই ফুটবলাররা বিশ্বের ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

  • India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত, রাশিয়া এবং চিনের (India-China Relation) মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করল বেজিং। চিনের মতে, ইউরেশিয়ার এই তিন প্রধান শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, রাশিয়া-ভারত-চিন (RIC) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে বেজিং নয়াদিল্লি ও মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত।

    ভারত-রাশিয়া-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুই নেতা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান এবং সংলাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। লিন জিয়ান বলেন, “চিন, রাশিয়া এবং ভারত—তিনটিই উদীয়মান অর্থনীতি। এই তিন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যও সহায়ক।” তিনি আরও বলেন, “তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চিন প্রস্তুত।”

    আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হয়েছে এবং তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। ভারত-চিন সম্পর্ককে তিনি “জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধানে বাইরের হস্তক্ষেপ বিশেষ সাহায্য করবে না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত-সহ একাধিক ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও বেজিং নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই সহনশীল ভূমিকা সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় অভিমত পুতিনের।

    সীমান্ত পরিস্থিতি ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’

    ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে লিন জিয়ান জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে দেখা। লিন জিয়ান বলেন, “দুই দেশকে সঠিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য একে অপর সুযোগ, হুমকি নয়।” লিনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পথে এগোনো উচিত দুই দেশের।

    ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট 

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে চিনের মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ মেটানোর এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”

    মতপার্থক্য দূর হওয়ার পথে

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক জোটের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আরআইসি কাঠামোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও নানা মতপার্থক্য থাকলেও, বেজিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    জিয়ানের এই মন্তব্য চিন-ভারত সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিকৃত’ মানচিত্র নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। গালওয়ান ক্ষতের উপর নুন ছিটিয়েছে করাচির সঙ্গে বেজিংয়ের সখ্যতা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটেনি। এই আবহে জিয়ানের এই মত, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ— সেরকমটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

    চিনকে বিশ্বাস করা যায়!

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানকে পদদলিত করে ৬২-তেই যুদ্ধে নেমেছিল চিন। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফ নেমেছে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছাড়াও নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্যপদ গ্রহণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার — একাধিক বিষয়ে ভারতের সামনে প্রাচীর তুলেছে চিন। ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে।

    ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’

    ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য সম্প্রতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। অতিমারিও এখন অতীত। কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই তিন দেশ পৃথক বলয় তৈরি করলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়বে। ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’ বা ‘রিক ট্রয়িকা’ বিশ্বকে চাপে রাখবে।

  • Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’ (WBSBCL) বা ‘বেভকো’ গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য আবগারি দফতরে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির, যা ঘিরে রাজ্যে আবগারি দুর্নীতির (WB-Excise Scam) বিতর্ক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, গোটা এই দুর্নীতির মাথায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishke Banerjee)। এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি এখন ব্যপক তোলপাড়।

    কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়ম (WB-Excise Scam)

    ২০১৭ সাল থেকেই শুরু, সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস) সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বিশেষ বদল আনা হয়। নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাতায়।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি ও দেশি মদের পাইকারি বা থোক বিক্রির (Wholesale) ব্যবসা মূলত বেসরকারি ডিলার ও লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মদের কালোবাজারি ও জোগান নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন এই কর্পোরেশন বা ‘বেভকো’ (WBSBCL) গঠন করা হয়। এরপর থেকে রাজ্যের মদের পাইকারি ব্যবসা এককভাবে এই সরকারি সংস্থার (WB-Excise Scam) হাতে চলে যায়।

    আবগারি কমিশনকে চিঠি

    আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি  দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, অবিলম্বে এই রাজস্ব আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেহেতু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করবে।’ বিজেপির নেতা অমিত মালব্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির সংস্কৃতিরই প্রমাণ। এই দুর্নীতি একটি সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত করে যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যকে আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।” অপরে রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সুমনা সরকারও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন। তদন্ত করে দোষীদের কুকর্ম তুলে ধরার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

    কীভাবে চলত দুর্নীতি?

    বেভকো’ গঠনের পর থেকে চালু বহুমুখী ব্যবস্থা ভেঙে একটি একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় কিছু ডিস্ট্রিবিউটরকে যুক্ত করা হয়, যারা মদ প্রস্তুতকারী এবং বোতলজাতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ। প্রতি ক্রেটে ৪ টাকা গুদাম ভাড়া এবং ৩ টাকা পরিবহণ খরচ বাবদ নেওয়া হত। অর্থাৎ, প্রতি ক্রেটে ৭ টাকা দিতে হত সংস্থাগুলিকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ‘অন্যত্র’ পৌঁছত।

    বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা চালুর নেপথ্যে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর সদিচ্ছার চেয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়মের উদ্দেশ্যই কাজ করেছিল। একই ভাবে আরও বলা হয়, মদের বরাত বণ্টন (Allocation), ব্র্যান্ডের নথিভুক্তি (Brand Registration) এবং বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটরদের একচেটিয়া সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য অভিযোগ কয়লা, গরু, বালি, পাথার পাচারের মতো এবার এই আবগারি দুর্নীতির টাকা সরাসরি চলে যেতো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বড়সড় কেলেঙ্কারির তদন্ত

    রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে রেশন দুর্নীতি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড়সড় কেলেঙ্কারির (WB-Excise Scam) তদন্ত যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে গতি পেয়েছে, ঠিক সেই আবহেই আবগারি দফতরের এই পুরনো সিদ্ধান্ত ও বেভকো-র কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক সব তথ্য ও অভিযোগ সামনে আসছে।

    নতুন নীতির ফলে রাজস্ব আদায়ের পুরনো এককালীন পদ্ধতি বাতিল করে দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর ফলে আবগারি রাজস্ব আদায়ে বিলম্ব এবং বিতরণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগে উৎপাদন বা বোতলজাতকরণের উৎসস্থলেই সম্পূর্ণ শুল্ক আদায় করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দুই ধাপে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

    তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মদের চোরাচালান রুখতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রাজ্য কোষাগারে স্বচ্ছ উপায়ে শতভাগ রাজস্ব নিশ্চিত করতেই বেভকো (WBSBCL) গঠন করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে, ২০১৭ সালের এই সরকারি পদক্ষেপকে ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতির উত্তাপ (WB-Excise Scam) এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

LinkedIn
Share