Tag: Madhyom

Madhyom

  • MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে সতর্ক করেছে মন্ত্রক। একইসঙ্গে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রকের বক্তব্য, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও সম্প্রচারবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, সংবাদ পরিবেশনের নামে এমন কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না, যা দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি কিংবা সংবেদনশীল পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    জঙ্গি দমন অভিযানের লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা

    নতুন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। এ ধরনের অভিযানের সময় টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য বা দৃশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে অভিযানের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কিংবা ঘটনাস্থলের এমন কোনও বিবরণ প্রচার করা উচিত নয়, যা অভিযানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

    পাশাপাশি, অপরাধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হিংসাত্মক ঘটনার খবর দেখানোর ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সংবাদ পরিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। উত্তেজনা তৈরি করা বা দর্শক টানার জন্য ঘটনার সংবেদনশীল দিকগুলিকে অতিরঞ্জিত করা কোনওভাবেই কাম্য নয়—নির্দেশিকার মূল বক্তব্য এমনটাই।

    সাম্প্রদায়িক ও দেশবিরোধী মনোভাব ছড়ায়, এমন বিতর্কে নিষেধাজ্ঞার বার্তা

    টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন কোনও আলোচনা, বিতর্ক বা প্যানেল শো সম্প্রচার করা যাবে না, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদচ্যানেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরাসরি বিতর্কের চল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে প্রকৃত বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনও বাড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু, অতিথিদের বক্তব্য এবং সঞ্চালকের ভূমিকার উপর সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। তবে নির্দেশিকার এই অংশের মূল লক্ষ্য কেবল বিতর্কের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং সম্প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া আটকানো।

    এআই দিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও লাগাম

    টেলিভিশন সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্র। এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক এবং অন্যান্য কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রকের নির্দেশ, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই-কে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যেন খবরের নির্ভুলতা, সত্যতা এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্প্রচারকারী সংস্থার।

    বিশেষ করে, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনও ছবি বা দৃশ্য যদি বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংবেদনশীল ঘটনা, অপরাধ কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত খবরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই-নির্ভর উপাদান ব্যবহারের আগে তার যথার্থতা যাচাই এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের মানচিত্র থেকে যৌন নির্যাতনের শিকারদের পরিচয়—একাধিক বিষয়ে নির্দেশ

    নতুন নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলিকে।

    যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন কোনও তথ্য বা দৃশ্য সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    এ ছাড়া সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষার ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও হিংসার খবরের ক্ষেত্রেও সংযত এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রচারবিধি মানার ক্ষেত্রে আইডিসি-র পর্যবেক্ষণ

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটি বা আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে একই বিষয় নিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর এবং দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে আইন ও সম্প্রচারবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, টেলিভিশনের পর্দায় অনুপযুক্ত আচরণ এবং আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার যেন ক্রমশ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ, কেবল খবরের বিষয়বস্তু নয়, সংবাদ পরিবেশনের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মানও এই নির্দেশিকার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ

    নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংবাদমাধ্যমগুলির অভ্যন্তরীণ সম্পাদকীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছে মন্ত্রক। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, সম্প্রচার এবং টেলিকাস্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    এর অর্থ, সম্প্রচারের আগে কোনও খবরের তথ্য, ভাষা, ছবি বা ভিডিও যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, হিংসাত্মক ঘটনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং এআই-নির্ভর সংবাদ উপাদানের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে কেবল সতর্কবার্তাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৫-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন

    কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। একদিকে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের সময় সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবের সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এআই-নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে আইন মেনে চলা, সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখা এবং এআই-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে রাখা। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরেই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

  • Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক। অমৃতসর থেকে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন অনিল পণ্ডিতের নামও উঠে এসেছে।

    এই ঘটনায় রাজস্থানের কোটা থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে মুম্বইয়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।

    কী এই ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি?

    পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় অস্ত্র রেখে দেওয়া হয়। যাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের সেই জায়গার ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা সরাসরি জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তদন্তকারীদের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন। অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই তথ্য তাঁদের আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে অস্ত্রগুলি ঠিক কে সেখানে রেখে গিয়েছিল, তা কুণাল ও সুমিত জানেন না বলে দাবি।

    এই কাজের জন্য কুণাল ও সুমিতকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ওই টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় রাধা ও বাবিতাকে। অভিযোগ, এই দুই মহিলা অস্ত্রগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

    কীভাবে অস্ত্র পৌঁছেছিল মুম্বইয়ে?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কুণাল চলতি বছরের জুলাই মাসে সোনিপতের জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয়। পরে একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুণালকে অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কাজে নিজের বান্ধবী রাধাকে ব্যবহার করেন কুণাল। রাধার সঙ্গে বাবিতাও মুম্বইয়ে যান।

    পুলিশের দাবি, রাধা ও বাবিতা সোনিপতের একটি কারখানায় কাজ করতেন। তাঁদের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের দাদরে গিয়ে তিনজনের হাতে অস্ত্রের একটি বড় চালান তুলে দেন। এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    কোটা থেকে মুম্বইয়ে তিন অভিযুক্ত

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্ত হল রেহান ওরফে সুক্কা, হরিয়ানার বাসিন্দা ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন, যিনি মুম্বইয়ে থাকতেন।

    কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করানো হলে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। বুধবার সকালে সড়কপথে মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁদের জিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের দফতরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শুধু টাইগার নয়, টার্গেটে ছিলেন সলমন-আমির-অক্ষয়ও!

    প্রায় ১৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রার সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই তালিকায় সলমন খান, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, সলমন খানের কড়া নিরাপত্তার কারণে তাঁকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে বলে মনে করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। জুহুতে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে টাইগার আসবেন বলে কেউ তাঁদের জানিয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমনকী, গত ১১ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেদিন অভিনেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

    জুহুতে কী ঘটেছিল?

    রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দু’জন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’টি গুলি চালানো হয়েছিল। অভিনেতা বড়সড় আঘাত এড়ালেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন।

    ঘটনার পর অন্ধেরিতে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে সুরাটে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠে। পরে বাসে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ।

    দিল্লি থেকে আরও চারজন গ্রেফতার

    মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় কুণাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) এবং বাবিতা (২৩) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশেই কুণাল ও সুমিত অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাধা ও বাবিতা তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের সন্দেহ। তবে এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

    চারজনকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে আদালতে পেশ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মুম্বই, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের অনুমতি চায়। আদালত সেই অনুমতি দেয়। এরপর মুম্বই পুলিশ তাঁদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড পায়।

    তদন্তে কোন দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ঘটনায় তদন্তকারীদের মূল নজর তিনটি বিষয়ে—গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশদাতা কে, অস্ত্র সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত এবং হামলার পিছনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত ভূমিকা কী।

    রেহান ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে একটি অযাচাইকৃত পোস্টে ওই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা যে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের নিয়ে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের।

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা গোয়েন্দাদের কৌশলী ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ সেনা (India China) আধিকারিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গান্ধীনগর থানায় ২৯০/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়

    প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ লেখার জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও লেখালেখি করতে উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের আড়ালে ওই ব্যক্তিরা কৌশলে মহিলার কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকতে পারেন। গোয়েন্দা মহলে এই ধরনের কৌশলকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সন্দেহ

    সূত্রের দাবি, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার গতিবিধি ও যোগাযোগের উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিন-সহ একাধিক বিদেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় তথ্য পাচারের পরিমাণ

    তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলির পরিচয় কী এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কীভাবে ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং দেশের নিরাপত্তার উপর এর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগে উত্তাল ইউরোপের (Europe Crisis) একাধিক দেশ। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক দেশে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু’পক্ষেরই অনেকে, কোথাও আবার গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। বামপন্থী দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিটি দেশে আলাদা।

    ফ্রান্স: বিক্ষোভের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

    ইউরোপের চলতি অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির খবর মিলেছে ফ্রান্স থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিকাঠামোর দুরবস্থা, বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকে পথে নামেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শ্রমিক সংগঠন CGT-র হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

    অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্সেইয়ের টাউন হলে ভাঙচুরের পাশাপাশি লিয়ঁর একটি পর্যটন দফতরেও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে এসেছে।

    প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ-সহ একাধিক শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান এবং বৈদ্যুতিন পণ্যের বিপণিও হামলার লক্ষ্য হয়। প্যারিসে মুখোশধারী কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ক্যামেরা বিচ্ছিন্ন করে দোকানের কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সাঁ-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী হাতটি হারানোরও খবর পাওয়া গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দাবি, চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় হিংসার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এদিকে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর আন্দোলনের বিরুদ্ধে হিংসাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিও ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ ব্যানারে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি।

    বিক্ষোভের সঙ্গে প্যালেস্তাইনপন্থী আন্দোলন, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    আলবেনিয়া: টানা পাঁচ দিন বিক্ষোভ, আহত বহু

    ফ্রান্সের পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ক্ষোভের জেরে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দেন।

    বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রলবোমা, মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে দাবি।

    আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৭ জন বিক্ষোভকারী। পুলিশ প্রধান স্কেন্দের হিতার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনে ১৩২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধিতা চলছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী রামা পদত্যাগের দাবি নাকচ করে বিরোধী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দুরেস শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডাকঘরের জানলা ভাঙচুর এবং জ্বলন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ইতালি: মিলান ও বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

    ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের দাবি তোলেন।

    পর্তুগাল: আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে মিছিল

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন CGTP-র ডাকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মজুরি ও পেনশন বাড়াতে হবে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। বামপন্থী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্তুগালের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সর্বত্র তৈরি হয়েছিল, এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বেলজিয়াম: শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো তরুণ-তরুণী শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—এমন সংস্কারের আশঙ্কায় প্রতিবাদে অংশ নেন। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিয়ঁজ শহরেও শিক্ষা খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের নাগাল নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। প্রতিবেশী ফ্রান্সের আন্দোলন বেলজিয়ামের প্রতিবাদকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—পাঁচটি দেশের বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। কোথাও আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, কোথাও আবার ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন নিজেদের নির্দিষ্ট দাবিতে পথে নেমেছে। বিভিন্ন দেশে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, সব দেশের অস্থিরতাকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল হিসেবে দেখার আগে পৃথকভাবে ঘটনাগুলি যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত যোগসূত্র নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ইউরোপের এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে—অর্থনৈতিক চাপ ও জনপরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

  • Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র, পড়ার সামগ্রী, গদি, চেয়ার-সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠল আদালতেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘরটির তালার চাবি ছিল এজাজ হোসেন নামের এক আইনজীবী কাছে। হাইকোর্টের প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর হাতে ওই ঘরের চাবি কীভাবে এল, তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ঘরের চাবি সংরক্ষণের পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিকিউরিটি কমিটিকে।

    তবে পরিদর্শন রিপোর্টে ছাদের ওই ঘরকে মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত আদালতের নজর ঘরটির ব্যবহার, সেখানে থাকা সামগ্রী এবং চাবির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।

    ছাদে নামাজ পড়া হত কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত

    সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিকে আদালত ভবনের ছাদ পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ছাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ পড়তেন কি না এবং পড়লে দিনের বেলায় কত ঘনঘন তা হত, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    সেই নির্দেশ মেনে পরিদর্শন চালায় রেজিস্ট্রি। রঙিন ছবিসহ রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানা যায়, ছাদে একটি ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল।

    ঘরে কী কী পাওয়া গেল?

    পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরটিতে কাঠের তৈরি দু’টি দরজা ছিল। দু’টিই তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। চাবির খোঁজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই চাবি রয়েছে আইনজীবী এজাজ হোসেনের কাছে। তিনি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ১২ নম্বর ঘর ব্যবহার করেন। পরে এজাজ হোসেন আরও তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। এরপর তালা খুলে ঘরটি পরিদর্শন করা হয়।

    ঘরের ভিতর থেকে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

    • ● ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই ও ধর্মীয় পাঠ্যসামগ্রী

    • ● গদি ও প্লাস্টিকের চেয়ার

    • ● স্ট্যান্ড ফ্যান ও একটি আলমারি

    • ● বালতি, গামলা ও জলের পাত্র

    • ● চটি রাখার একটি ঝুড়ি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী

    এই সামগ্রীগুলি ঘরটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরিদর্শন রিপোর্টে সেখানে মসজিদ থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, তা-ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    আইনজীবীর কাছে চাবি কেন? প্রশ্ন আদালতের

    ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হাইকোর্টের ছাদের একটি তালাবন্ধ ঘরের চাবি প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে থাকা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘর, দরজা, এজলাস, সিঁড়ি এবং আদালত ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি হাইকোর্ট প্রশাসনের হেফাজতে থাকা উচিত। আদালত চত্বর, ভবন ও টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে পরিচালিত হয়।

    এই প্রেক্ষিতে এজাজ হোসেনের কাছে দু’টি তালার চাবি কীভাবে এল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। মামলাকারীকে আদালতের নির্দেশের একটি কপি ওই আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে সিকিউরিটি কমিটি

    শুধু ওই ঘরের চাবি নয়, আদালত ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আনতে চায় হাইকোর্ট। সেই কারণে রেজিস্ট্রিকে সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের নির্দেশের কপি হাইকোর্টের সিকিউরিটি কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ছাদের ওই ঘর এবং ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি কার হেফাজতে থাকবে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

    তদন্তের মূল প্রশ্ন কী?

    এই ঘটনায় আপাতত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ছাদের ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেখানে পাওয়া ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রী কীসের জন্য রাখা হয়েছিল এবং ঘরটির চাবি একজন আইনজীবীর কাছে থাকার কারণ কী।

    উল্লেখযোগ্য, ঘরে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র পাওয়া যাওয়াই সেখানে মসজিদ ছিল বা নিয়মিত নামাজ হত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে হওয়া পরিদর্শন থেকে এখনও সেই দাবির নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

    এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আইনজীবীর ব্যাখ্যা এবং সিকিউরিটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঘরটির ব্যবহার ও চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের চলতি জনগণনা প্রক্রিয়ায় এনুমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগের পরিধি বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষক বা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাই নন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করণিক এবং অন্যান্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণনা সংক্রান্ত নিয়মে এই সংশোধনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে জনগণনার মতো বৃহৎ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হল।

    জনগণনার নিয়মে কী বদল আনল কেন্দ্র?

    রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Census Rules, 1990 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে জনগণনার কাজে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে—

    • ● সরকারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সাহায্যহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

    • ● কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণিক ও আধিকারিক।

    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাঙ্ক, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, সমিতি ও ট্রাস্টের কর্মী।

    • ● রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের বিবেচনায় উপযুক্ত বলে গণ্য যে কোনও ব্যক্তি।

    আগে সাধারণত সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের উপরই জনগণনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল। সংশোধিত নিয়মে সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হল।

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

    কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আগে হরিয়ানায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স (Haryana Progressive Schools Conference) পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা করে। তাদের আপত্তি ছিল, সরকারি সাহায্য না-পাওয়া বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা যায় কি না।

    সংগঠনটির যুক্তি ছিল, Census Act, 1948-এর ৪এ ধারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়ে প্রযোজ্য। তাদের দাবি, সরকারি সাহায্যহীন বেসরকারি স্কুল সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে আইনের পরিধি বাড়ানো যায় না।

    গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার হরিয়ানা সরকারের এমন দুটি নির্দেশের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে জনগণনার কাজে নিয়োগের জন্য শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। মামলাটি আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি সামনে এল। তবে সংশোধিত নিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    কবে শুরু হবে জনগণনার পরবর্তী পর্যায়?

    স্বাধীনতার পর দেশের অষ্টম জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকাভুক্তি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা বা Population Enumeration। এই পর্যায়ে জাতিভিত্তিক জনগণনার তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

    গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চল বাদে অন্যান্য অংশে ১ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের বাকি অংশে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

    কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে?

    জনসংখ্যা গণনার সময় প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জনতাত্ত্বিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্যও।

    এই তথ্য দেশের জনসংখ্যার গঠন, মানুষের স্থানান্তর, পরিবার ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নমূলক নীতি নির্ধারণেও জনগণনার তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    মণিপুর, লাদাখ ও তুষারাবৃত অঞ্চলের পরিস্থিতি

    মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা জাতিগত হিংসার পরিস্থিতির কারণে সেখানে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অন্যদিকে, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলিতে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    কোভিডের কারণে পিছিয়েছিল জনগণনা

    প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা পরিচালনার নিয়ম থাকলেও ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কোভিড অতিমারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ১১,৭১৮ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।

    প্রশাসনিক গুরুত্ব কোথায়?

    জনগণনার মতো বিশাল কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছনো এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এনুমারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে নিয়োগের পরিধি বাড়লেই যে মাঠপর্যায়ে কাজের সমস্ত সমস্যা মিটবে, তা নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নের সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের শর্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    সব মিলিয়ে, জনগণনার কর্মী নিয়োগে কেন্দ্রের এই সংশোধন প্রশাসনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে, সংশোধিত নিয়মের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কীভাবে কর্মী নিয়োগ করে এবং নির্ধারিত সময়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

LinkedIn
Share