Tag: Madhyom

Madhyom

  • Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্য সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বাংলাকে এবং দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বার্তা

    নবান্নের বৈঠকে মূলত রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, ফ্রেট করিডর, রেল নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাধা দূর হয়েছে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    মেট্রো প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মেট্রো রেল সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকার বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার মানুষ যাতে আধুনিক মেট্রো পরিষেবা না পান, তার জন্য বিগত সরকার বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাইকোর্টের রায় পছন্দ না হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র রেলের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও বলেন, “ইউপিএ সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ মোদী সরকারের আমলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।”

    কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে নজির

    কলকাতা মেট্রো নিয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মেট্রো প্রকল্প শুরু হওয়ার পর পরবর্তী ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উন্নত মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে।”

    দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা

    দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা।
    অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য দেশের পূর্বাঞ্চলকে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। (এনজেপি থেকে নয়াদিল্লি বুলেট ট্রেনের প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম।) প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে লখনউ, বারাণসী এবং পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে পৌঁছনো সম্ভব হবে। রেলমন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহণেই বিপ্লব আনবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন ঘটাবে।

    ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির কথাও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই করিডর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে। পরিবহণ ব্যয় কমবে, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানকুনি পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স হাব। নতুন করিডর কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও রফতানি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়

    বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অভিযোগে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে। রেলমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একই লক্ষ্যে কাজ করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনও বাধা থাকবে না।

    নতুন বাংলার রেল রোডম্যাপ

    বুলেট ট্রেন, মেট্রো সম্প্রসারণ, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, অমৃত ভারত স্টেশন এবং শত শত ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক উচ্চাভিলাষী রেল রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

  • Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষা-স্বাস্থ্যের পর এবার রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রেও (Bengal Football) দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূলের নেতা-কর্মী তথা মন্ত্রী-সাংসদদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু করছে নয়া সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার সব স্তরের দুর্নীতি রুখতে বদ্ধ পরিকর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে যুক্ত ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে (Diamond Harbour FC) ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্ত করতে চলেছে। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik) জানিয়েছেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে এবং প্রতিটি অভিযোগই বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকেও। তিনি ঘটনাচক্রে বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও। স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর এবং অরূপের বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজকর্ম নিয়ে সরব হয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তও। তাঁর দাবি, জোর করে বৈঠক ভেস্তে দেওয়া, স্পনসর আসতে না দেওয়া, এমনকি যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও সিন্ডিকেটবাজি করা হয়েছে।

    অভিষেকের ক্লাব-এর অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

    এ বছরই আই লিগ (Indian Football League) জিতে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। ঠিক তার আগেই ক্লাবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সংবাদমাধ্যমকে নিশীথ জানান, ক্লাবের গঠন এবং কার্যকলাপ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে সরকারের কাছে। নিশীথের কথায়, “ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সঠিক নিয়ম মেনে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি ক্লাব চালানোর অর্থ কোথা থেকে আসে, কোথায় অর্থ খরচ করা হয় তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলোচনার জন্য স্পনসরদের ডাকা হতে পারে।”

    ফুটবল-ক্লাব ঘিরেও দুর্নীতি অভিষেকের!

    ডায়মন্ড হারবার যে মাঠে অনুশীলন করে, বিধাননগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সেই মাঠ জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগও জমা পড়েছে। নিশীথ বলেছেন, “দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সব প্রকাশ্যে আনা হবে।”তিনি আরও বলেছেন, “ক্রীড়া দফতর তদন্ত শুরু করেছে। আমরা নিয়মিত আইএফএ-র সঙ্গে আলোচনা করছি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নিশীথের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের কিছু ফুটবলার সরকারি চাকরি করছেন। নিশীথ বলেন, “আমরা চাই সব ক্লাব ভাল খেলুক এবং উন্নতি করুক। কিন্তু অনৈতিক কোনও কাজ করলে কোনও ভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না।” প্রয়োজন হলে তদন্তে ইডি-র সাহায্যও নেওয়া হবে।

    সল্টলেক স্টেডিয়ামে সিন্ডিকেট-রাজ

    রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তোলাবাজি ও নানা অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম (যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন) চত্বরে তাঁর বিরুদ্ধে জেনারেটর সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর রাজ্য ফুটবল মহলেও তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও হন। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সল্টলেক স্টেডিয়ামে দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন স্বরূপ। এমনই দাবি করলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাঁর কথায়, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে যারাই খেলা আয়োজন করে, তাদের জেনারেটর ভাড়া নিতে হয়। অথচ সরকারের চারটে জেনারেটর রয়েছে। তবু সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং স্বরূপের চেনাজানা লোকের থেকে সেটা ভাড়া নিতে হত। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, আইএফএ— সবাইকে একই কাজ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে কাউকে ডেকে আনা সম্ভব ছিল না। কারণ ওঁদের লোক পুরো সেট-আপ জানত।”

    সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়!

    ২০২৩ সালে অনির্বাণ সচিব নির্বাচিত হওয়ার সময় স্বরূপও সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। শোনা যায়, তাতেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর চাপ ছিল। অনির্বাণ বললেন, “এটা মানতেই হবে যে, সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়। একটা ম্যাচ করতে হলেও স্টেডিয়াম লাগবে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘অনুরোধ’ সেই সময়ে রাখা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমার ভাই কেন থাকতে পারবে না? ওকেও রাখতে হবে।” অনির্বাণ জানান, স্বরূপ নিজে থেকে কলকাঠি নাড়তেন না। পুরো ব্যাপারটিই করতেন আইএফএ-র গভর্নিং বডিতে থাকা স্বরূপের ‘কাছের লোকেরা’। অনির্বাণ নাম করে তাঁদের ভূমিকার তুলোধনা করলেন। বললেছন, “স্বরূপের সঙ্গে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা দিনের পর দিন আইএফএ-কে বিরক্ত করেছেন। রবীন ঘোষ, নজরুল ইসলাম, সৌরভ পালেরা লাগাতার আইএফএ-কে অকারণে চিঠি দিয়েছেন, মামলা করেছেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন গভর্নিং বডির বৈঠকে।”

    প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা চলত

    আইএফএ সচিবের দাবি, তিনি দায়িত্বে আসার পর প্রথম থেকে এতটা অসহযোগিতা ছিল না। আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। অনির্বাণের দাবি, “প্রথমে হয়তো ওঁদের ধারণা হয়েছিল যে, আইএফএ-তে আমি হাতের পুতুল হয়ে থাকব। ওঁরা ইচ্ছেমতো দাপাদাপি করবেন। যখন দেখলেন সেটা হচ্ছে না, তখন ঝামেলা করা শুরু করলেন। প্রথম বছর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল। আইএফএ-র ঘরে বসে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ওঁরা। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কখনও এমন ঘটেনি। স্পনসর সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী সব জানতেন। কিছু সুবিধা হয়নি। ছ’জন ভূমিপুত্র খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোচেস কমিটির বৈঠকে ওঁদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিশেষ এক জনকেই কোচ করতে হবে। তা হলে কোচেস কমিটির ভূমিকা কী?” সবক্ষেত্রেই বিগত সরকারের একনায়কতন্ত্র চলত বলে দাবি করেন আইএফএ সচিব। রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করবে বলেই আশা অনির্বাণের।

  • Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বারবার ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক কারণে আপত্তির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও রেলবোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়নের সূচনা’ হিসেবে তুলে ধরছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

    নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, নতুন রেল প্রকল্প, অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণ এবং জমি সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনও পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেনি। বরং জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে বহু প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন বিনিয়োগ, নতুন রেললাইন, অমৃত ভারত স্টেশন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

    নবান্নে রেলমন্ত্রী-রেলবোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে রেল মন্ত্রক ও রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে কালী মূর্তি উপহার দেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, জমি অধিগ্রহণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং রেল সংযোগ সম্প্রসারণ।

    ‘আগের সরকারের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ১১ কোটি মানুষ’

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনও রেলের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেননি।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রেল উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন রেললাইন, স্টেশন উন্নয়ন, সেতু, আন্ডারপাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রেল বাজেটে বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,২০৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ৪০টির বেশি প্রকল্পে এনওসি দেওয়া হয়েছে

    রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি রেল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেব যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় রেল পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা করা হবে।”

    ৬১টি প্রকল্পে গতি, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস

    বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। রেলপথ ও সড়কপথের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এলাকা

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এখনও রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত বা সীমিত পরিষেবা পাওয়া বহু অঞ্চল সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পর্যটন, শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    উন্নয়নের বার্তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের

    নবান্নের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৬১টি প্রকল্প, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস এবং ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মতো ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন গতি পাবে। আর সেই কারণেই নবান্নের এই বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বাংলার উন্নয়ন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

  • Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জন্য আবারও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির যৌথ প্রকল্পের দরজা খুলে দিল রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের (SPIEF) ফাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে আলাপচারিতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের কাছে নতুন করে সুখোই সু-৫৭ (Su-57) স্টেলথ ফাইটার জেটের যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম উন্নত এই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে মস্কোর কোনও আপত্তি বা সীমাবদ্ধতা নেই। পুতিনের এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এখনও পর্যন্ত কোনও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে, চীন ও পাকিস্তান দ্রুত নিজেদের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন চাপ তৈরি করছে।

    ‘কোনও বাধা নেই, কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে ভারতকে সু-৫৭ প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সময় রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (FGFA) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিল। পুতিন বলেন, “আমরা আগে ভারতকে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই সময় ভারতীয় অংশীদাররা চেয়েছিলেন রাশিয়া নিজে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাক এবং পরে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছিল।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমানে যদি ভারত আগ্রহ দেখায়, তাহলে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও বাধা থাকবে না।

    কেন ২০১৮ সালে প্রকল্প থেকে সরে এসেছিল ভারত?

    ভারত ও রাশিয়ার বহু প্রতীক্ষিত এফজিএফএ প্রকল্প ২০১৮ সালে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ভারত প্রাথমিক নকশা ও গবেষণা পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক আপত্তি ছিল।

    প্রধান উদ্বেগগুলির মধ্যে ছিল—

    • ● সু-৫৭-এর স্টেলথ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
    • ● উন্নত ইঞ্জিন তৈরিতে দীর্ঘ বিলম্ব
    • ● পর্যাপ্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরের অভাব
    • ● প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যয়
    • ● যুদ্ধবিমানের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই কারণগুলির জেরেই ভারত শেষ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

    এবার কী বদলেছে?

    প্রতিরক্ষা মহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থা রসোবরোনএক্সপোর্ট এখন ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শর্ত প্রস্তাব করছে। মস্কোর তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভারত চাইলে দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করে বৃহৎ আকারে সু-৫৭ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের কাছে প্রস্তাবটিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    নতুন টুইন-সিট সু-৫৭ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার নতুন প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ হল সু-৫৭-এর একটি নতুন টুইন-সিট বা দ্বি-আসন বিশিষ্ট সংস্করণ। সাধারণ প্রশিক্ষণ বিমানের মতো এটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের জন্য নয়। দ্বিতীয় ককপিটটিকে একটি বিশেষ যুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিতীয় আসন থেকে—

    • ● ‘লয়্যাল উইংম্যান’ ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
    • ● একাধিক মানববিহীন যুদ্ধবিমান পরিচালনা সম্ভব হবে
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করা যাবে
    • ● নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল শক্তিশালী হবে

    ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে যেখানে মানবচালিত ও মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে কাজ করবে, সেখানে এই ধরনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চিন-পাকিস্তানের চাপে ভারতের উদ্বেগ

    ভারতের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল প্রতিবেশী দেশগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণ। চিন ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যায় জে-২০ (J-20) স্টেলথ ফাইটার মোতায়েন করছে। একই সঙ্গে তারা আরও উন্নত যুদ্ধবিমান উন্নয়নের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা চিনের জে-৩৫এই (J-35AE) পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য আগামী দশকে বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।

    অ্যামকা আসতে এখনও অনেক দেরি

    ভারত নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট বা সংক্ষেপে অ্যামকা (AMCA) প্রকল্পে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামকা-র প্রথম প্রোটোটাইপ উড়তে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং পূর্ণমাত্রায় অপারেশনাল পরিষেবায় আসতে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ভারতের সামনে একটি ‘ক্যাপাবিলিটি গ্যাপ’ তৈরি করছে, যা পূরণ করার জন্য অন্তর্বর্তী সমাধান খুঁজছে নয়াদিল্লি।

    এফ-৩৫ বনাম সু-৫৭: ভারতের সামনে দুই পথ

    ভারতের কাছে অন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রস্তাব ও রুশ প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    এফ-৩৫-এর ক্ষেত্রে—

    • ● প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সীমিত
    • ● স্থানীয় উৎপাদনের নিশ্চয়তা নেই
    • ● অপারেশনাল বিধিনিষেধের সম্ভাবনা রয়েছে
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সংবেদনশীল

    অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে—

    • ● পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি সহযোগিতা
    • ● যৌথ উৎপাদন
    • ● মেক ইন ইন্ডিয়া অংশীদারিত্ব
    • ● দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহযোগিতা

    এই কারণেই সু-৫৭ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভারতের সিদ্ধান্ত কোন পথে?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই অনুমোদিত মাত্রার নিচে রয়েছে। একই সময়ে চিন ও পাকিস্তানের আধুনিকীকরণ দেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে তিনটি বড় বিকল্প রয়েছে—

    • ● দেশীয় অ্যামকা প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করা।
    • ● রাশিয়ার সঙ্গে সু-৫৭ যৌথ উৎপাদন প্রকল্পে যোগ দেওয়া।
    • ● মার্কিন এফ-৩৫ বা অন্য কোনও বিদেশি প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা করা।

    পুতিনের সর্বশেষ বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মস্কো ভারতের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। এখন নজর থাকবে নয়াদিল্লি এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতিতে কোন পথ বেছে নেয় তার দিকে।

  • R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ে দাবায় (Norway Chess Title) খেতাব জিতলেন ভারতীয় গ্র‌্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। শুক্রবার শেষ রাউন্ডে তিনি হারান জার্মানির ভিনসেন্ট কেমারকে। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন চেন্নাইয়ের ২০ বছরের তরুণ। শেষ দিনের খেলা শুরুর আগে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ বজায় রেখে ক্লাসিক্যাল বিভাগে জয় তুলে নেন তিনি। এই জয়ের ফলে তিন পয়েন্ট পেয়ে প্রজ্ঞার পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৮-তে। যার ফলে তিনি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় চ‌্যাম্পিয়ন হন।

    প্রজ্ঞানন্দের জয়ের পথ

    দ্বিতীয় বারের মতো নরওয়ে দাবায় অংশ নেওয়া প্রজ্ঞানন্দ শুরুতে কিছুটা ধীর গতিতে এগোলেও প্রতিযোগিতার দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তার অভিযানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল নরওয়ে দাবায় সাত বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ম‌্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারানো। এই বিরল কীর্তিই তাঁর জয়ের রাস্তাটা অনেকাংশে খুলে দেয়। এদিন প্রজ্ঞানন্দের সেরার সেরা হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হয় যখন শেষ রাউন্ডে ১৫.৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো প্রতিদ্বন্দ্বী আলিরেজা ফিরৌজার বিরুদ্ধে ড্র করেন৷ ফলে তাঁদের ম্যাচ গড়ায় আর্মাগেডন টাইব্রেকে। এই ফলাফল ভারতীয় দাবাড়ুর আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেয়৷ কারণ তিনি জানতেন দশম রাউন্ডে জয় পেলেই ভারতীয় দাবার ইতিহাসে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করবেন। সেটাই সত‌্যি হল।

    প্রথম ভারতীয় হিসেবে নজির

    চলতি বছরের শুরুতে ক‌্যান্ডিডেটসে হতাশাজনক ফলের পর নরওয়ে দাবায় নিজের প্রতিভার জোরালো প্রমাণ দিলেন প্রজ্ঞানন্দ। শেষ পর্যায়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়লেও ভারতের আশা বাঁচিয়ে রাখেন প্রজ্ঞানন্দ এবং শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ করতেও সমর্থ হন। ২০১৩ সালে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর ভারতীয় দাবার কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ বা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশও নরওয়ে দাবার খেতাব অর্জন করতে পারেননি।

  • Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে পালানোর আগেই গ্রেফতার ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla Arrested)। পালিয়েও মিলল না রেহাই ৷ অবশেষে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র জালে ধরা পড়লেন শওকত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ’র আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা অনেকদিন ধরেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শওকত এলাকা ছাড়া ছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। শেষে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর। শওকত মোল্লার মেয়ে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে তাঁর বাবা গ্রেফতার হননি, আত্মসমর্পন করেছেন৷

    বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা

    এনআইএ সূত্রে দাবি, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শওকত মোল্লা। এমনকী, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান। সীমান্তবর্তী কয়েকটি রুট নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছিলেন শওকত, এমনই দাবি এনআইএ-র (NIA Arrest Saokat)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এনআইএ তথ্য পায় যে শওকত আরও এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ বিএসএফ-কে সতর্ক করে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে শওকত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে জানা যায়। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শওকত মোল্লা বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    কোথায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত

    এনআইএ সূত্রে খবর, দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা বাতিল হতেই কলকাতার কাছাকাছি একটি জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন, শওকত তৃতীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছিলেন। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই সূত্র ধরেই এনআইএ তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করে। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় ফেরার চেষ্টা করার সময় এনআইএ শওকত মোল্লাকে আটক করে। সোনারপুরের কামালগাছি থেকে তাকে ধরা হয়েছে। এরপরই তাকে সরাসরি এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, ।

    কেন গ্রেফতার শওকত

    ভোটের আগে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার ভোরে জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছন এনআইএ’র আধিকারিকরা। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে তালা ঝুলছে। এরপর তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান। দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। তদন্তে সহযোগিতা না-করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রথমে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করার পর সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শওকতের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। এনআইএ-র এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছি। আজ, অর্থাৎ শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

  • Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম ভেঙেও ক্লান্তি যায় না। মাথা ধরে থাকে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই কাজে মনোযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাথা ব্যথা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়েও ভোগান্তি! শারীরিক পরীক্ষায় জটিল অসুখ ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার মাথা ব্যথা শরীরের ভোগান্তি বাড়ায়। আবার কাজের দক্ষতাও কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে! এমন সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ ভারতীয়! বিশেষত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে এক সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। আর কম বয়সি ভারতীয়দের এই ভোগান্তির নেপথ্যে মূলত দুটো কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা!

    ভারতীয়দের মাথা ব্যথা কতখানি বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে? কাদের ভোগান্তি বেশি?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাইগ্রেন এবং অন্যান্য কারণে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত যাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ভুক্তভোগীদের তালিকায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। কর্ণাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক বড় রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাথা ব্যথার ভোগান্তি বেশি। বিশেষত মাইগ্রেনের সমস্যায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-৪৫ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের ৩১ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় কাবু। পুরুষদের ভোগান্তির হার ১৮ শতাংশ। ফলে মাইগ্রেন জাতীয় মাথা ব্যথায় মহিলাদের ভোগান্তি বেশি। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বেশি। তরুণ প্রজন্মের শহুরে ভারতীয়রা এই সমস্যায় অধিক ভুগছেন। বিশেষত যাদের পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রতিযোগিতা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বহুজাতিক সংস্থায় সেলস, মার্কেটিংয়ের মতো বিভাগে কর্মরত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই ভোগান্তি বেশি দেখা গিয়েছে।

    মাথা ব্যথার ভোগান্তির নেপথ্যে কোন দুই কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ার নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিবেশ দূষণ এবং দ্বিতীয়ত মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা।

    পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে মাথা ব্যথার ভোগান্তি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক। বছরভর নানান উৎসবে বাজি পোড়ানো হয়। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার হার খুবই কম। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদান বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ভারতের অধিকাংশ শহরে শব্দ দূষণ মারাত্মক পরিমাণে বেশি। লাগাতার তীব্র শব্দ দূষণ মাইগ্রেন সহ একাধিক ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে। ভারতের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের মাথা ব্যথার নেপথ্যে এই দূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার তীব্র আওয়াজ এবং বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একদিকে স্নায়ুকে দূর্বল করে দেয়। আরেকদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথার মতো ভোগান্তি বাড়ে।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা!

    শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং একাধিক নানান মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা হয়। অর্থাৎ, স্ট্রেস, ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে। শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাথার যন্ত্রণার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অবসাদ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের মাথা ব্যথার বিশেষত মাইগ্রেনের মতো স্নায়ুঘটিত সমস্যার নেপথ্যে থাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। মহিলাদের জীবনে একাধিকবার হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা তার পরবর্তী পর্বেও নানান পরিবর্তন ঘটে। তার জেরেই মাইগ্রেন এবং অন্যান্য ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    ভোগান্তি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমাতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন থাকা জরুরি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন‌ বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিবেশ সচেতনতার পাশপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পেশাগত বা ব্যক্তিগত চাপ থাকলেও নিয়ম মাফিক যোগাভ্যাস চালানো প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা রুখতে সুবিধা হবে। মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হলেই মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমবে। তাছাড়া মানসিক চাপ, অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবেই তরুণ প্রজন্মের এই ভোগান্তি কমবে।

  • Daily Horoscope 06 June 2026: ধর্মস্থানে যেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 06 June 2026: ধর্মস্থানে যেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    মেষ

    ১) সকালের দিকে দাম্পত্য কলহের কারণে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

    ২) কোনও আধ্যাত্মিক কাজে যোগ দিতে হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) বিদেশযাত্রার জন্য আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২) অতিরিক্ত ক্রোধের জন্য হাতে আসা কাজ নষ্ট হতে পারে।

    ৩) দিনটিতে বিবাদে জড়াবেন না।

    মিথুন

    ১) অভিনেতাদের জন্য ভালো সুযোগ আসতে পারে।

    ২) প্রেমের বিষয়ে খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়ানো উচিত।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কর্কট

    ১) কোনও ভয় আপনাকে চিন্তায় ফেলতে পারে।

    ২) স্ত্রীর সুবাদে কোনও বিশেষ কাজের সুযোগ পাবেন।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    সিংহ

    ১) বেকারদের নতুন কিছু করার চেষ্টা বাড়তে পারে।

    ২) মাতৃস্থানীয়া কারও সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য্য ধরতে হবে বেশি।

    কন্যা

    ১) মানসিক কষ্ট বাড়তে পারে।

    ২) কোনও ভালো জিনিস নষ্ট হওয়ার যোগ।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    তুলা

    ১) অপরকে সুখী করতে গেলে স্বার্থত্যাগ করতে হবে।

    ২) অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) কোনও নামী ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ে লাভবান হতে পারেন।

    ২) ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় আপনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    ধনু

    ১) সম্মান নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন নিয়ে ঝামেলা বাধতে পারে।

    ৩) সংযমী হতে হবে।

    মকর

    ১) সঞ্চয়ের ইচ্ছা খুব বাড়তে পারে।

    ২) সকলের সঙ্গে কথা খুব বুঝে বলবেন।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ।

    কুম্ভ

    ১) ব্যবসায় তেমন লাভ হবে না।

    ২) অর্থক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    মীন

    ১) চাকরির ক্ষেত্রে দিনটি খুব ভালো।

    ২) ব্যবসায় বিশেষ লাভের শুভ যোগ দেখা যাচ্ছে।

    ৩) ভালোই কাটবে দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত (রিয়েল) জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবর্ষের ৭.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ পর্বে জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) প্রভিশনাল জিডিপি অনুমানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    ৩২৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল প্রকৃত জিডিপি

    মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষের নিরিখে দেশের প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমান মূল্যে (নমিনাল) ভারতের জিডিপি হয়েছে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৩১৮.০৭ লক্ষ কোটি টাকা।

    জিভিএ-তেও শক্তিশালী বৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA)-তেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৭.৩ শতাংশ। প্রকৃত জিভিএর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯৪.৯১ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বছরে ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

    শেষ ত্রৈমাসিকে আরও গতি

    অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে অর্থনীতির গতি আরও বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এই সময়ে নমিনাল জিডিপি বেড়ে ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। একইসঙ্গে প্রকৃত জিভিএ ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, নির্মাণ, পরিষেবা, পরিবহণ এবং কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

    কৃষি ও পরিকাঠামো খাতের বড় অবদান

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গিয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৫.৩ শতাংশ। ধান, গম এবং অন্যান্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। পরিকাঠামো খাতে সিমেন্ট উৎপাদন বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ এবং সমাপ্ত ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ, যা নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে জোরালো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহন বিক্রি বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ এবং তিন চাকার গাড়ির বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৮ শতাংশ। গৃহস্থালি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ১৭.৪ শতাংশ, যাত্রী পরিবহণ যান ১৪.৭ শতাংশ এবং পণ্যবাহী যান ১৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    পরিষেবা ও রফতানি খাতের শক্তিশালী ভূমিকা

    ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতও বড় ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহণ বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৭ শতাংশ। রেলপথে যাত্রী পরিবহণও ৫.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা রফতানি বেড়েছে ৯.৩ শতাংশ, যদিও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.১ শতাংশ। বিশেষভাবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি ১৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    রাজস্ব আদায়েও উন্নতি

    কেন্দ্র সরকারের রাজস্ব সংগ্রহেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। শুল্ক (কাস্টমস) আদায় বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক বেড়েছে ১৩.৯ শতাংশ এবং সিজিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষকদের সহায়তায় সার ভর্তুকি ২১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানগুলি ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে তৈরি নতুন জিডিপি সিরিজের আওতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নতুন সিরিজ চালু করা হয়। চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রভিশনাল অনুমানগুলি দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমানের পরিবর্তে প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, জিএসটি সংগ্রহ, কর্পোরেট ফলাফল, কৃষি উৎপাদন, পরিবহণ, বাণিজ্য এবং সরকারি আর্থিক তথ্যের মতো একাধিক সূচকের ভিত্তিতে এই হিসেব তৈরি করা হয়েছে।

    বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম ভারত

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছানো এবং শেষ ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

  • Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    Tiananmen Square: তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কী ঘটেছিল? ৩৭ বছর পরেও কেন ১৯৮৯-এর সেই গণহত্যাকে ভয় পায় চিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের নিজস্ব কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু একনায়কতন্ত্রের চেয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনেক ভালো। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য বহু দেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছে, লড়াই করেছে, এমনকি প্রাণও দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে চিনে এমনই একটি সাহসী কিন্তু ব্যর্থ আন্দোলন ঘটেছিল। ৪ঠা জুন তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার ৩৭ বছর পূর্ণ হলো, যাকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) হালকা করে দেখায় এবং এটিকে ‘৪ঠা জুনের ঘটনা’ বলে অভিহিত করে। তিয়ানানমেন স্কোয়ারের (Tiananmen Square) প্রতিবাদ ১৯৮৯ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল এবং ৩রা ও ৪ঠা জুন ১৯৮৯-এর মধ্যে একটি হিংসাত্মক সামরিক দমনপীড়নের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। অন্তর্নিহিত ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, চিনে আর কখনো এই ধরনের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দেখা যায়নি। যেহেতু সিসিপি (CCP) চিনকে একটি কমিউনিস্ট ইউটোপিয়া (আদর্শ রাষ্ট্র) হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই চিনের ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টি মনে রাখা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ: গণতন্ত্রের সন্ধানে

    ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠা করার পর রিপাবলিকান নেতা চিয়াং কাই-শেক তাইওয়ানে চলে যান। এরপর থেকে চিন কখনো গণতন্ত্র দেখেনি। চিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র বড় প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে।

    ১৯৮৯ সালের ১৫ই এপ্রিল কমিউনিস্ট পার্টির সংস্কারপন্থী প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হু ইয়াওবাং-এর মৃত্যুর পর এই গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তাকে ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হতো। বেজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কোয়ারে বিপুল সংখ্যায় শোকগ্রস্ত মানুষ সমবেত হন। এই সমাবেশ শীঘ্রই মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি, সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে এবং বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে একটি ব্যাপক প্রতিবাদের রূপ নেয়।

    যখন হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিয়ানানমেন স্কোয়ারে জড়ো হয়েছিল, তখন সিসিপি-র মুখপত্র ‘পিপলস ডেইলি’ এই প্রতিবাদকে “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত” বলে আখ্যায়িত করে।

    ১৯৮৯ সালের মে মাসের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ছাত্র স্কোয়ার সমবেত হন এবং ১৩ই মে থেকে অনশন শুরু হয়। আন্দোলনকারী ছাত্ররা বিপুল জনসমর্থন পান এবং শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকরাও শীঘ্রই তাদের সাথে যোগ দেন। ঝাও জিয়াং-এর মতো মধ্যপন্থী নেতারা আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে সহানুভূতি জানালেও, শেষ পর্যন্ত শীর্ষ নেতা ডেং জিয়াও পিং এবং চিনের প্রিমিয়ার লি পেং-এর সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

    সামরিক আইন ঘোষণা এবং কুখ্যাত তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যা

    ডেং জিয়াও পিং এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট পার্টি নেতারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন।

    তিয়ানানমেন প্রতিবাদ দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায়, স্টেট কাউন্সিল ২০শে মে সামরিক আইন (Martial Law) ঘোষণা করে এবং বেজিংয়ের রাস্তায় ৩,০০,০০০-এরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করে। চিনের প্রিমিয়ার লি পেং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন।

    সৈন্যরা বেজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ১৯৮৯ সালের ৪ঠা জুনের ভোররাতে রাজধানী শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র এই সৈন্যরা প্রদর্শনকারী ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিক উভয়কেই হত্যা করে। চিনা সেনারা এমনকি পথচারী বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদেরও রেহাই দেয়নি।

    যদিও চিনা সরকারি পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ক্র্যাকডাউনে পিএলএ সেনাসহ মাত্র ২০০-৩০০ জন মারা গেছে, তবে স্বতন্ত্র সূত্রগুলোর অনুমান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১০,০০০-এরও বেশি। সিসিপি তাদের সিংহাসনের প্রতি এই হুমকিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষকে আহত বা গ্রেফতার করা হয়েছিল। আর এই আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল রাজনৈতিক নেতা ঝাও জিয়াংকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

    রাজনীতি সংবাদ বিশ্লেষণ, ইনস্যুরেন্স, সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ

    তিয়ানানমেন স্কোয়ারের গণহত্যা ছিল চিনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট; সিসিপি নিশ্চিত করেছিল যে রাজনৈতিক উদারীকরণ যেন থমকে যায়। এরপর সিসিপি সরকার এমন অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করে, যাকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আসলে সেটা এই গণহত্যাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং অর্থনৈতিক উন্নতির চাকচিক্যে গা ভাসিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। হাতের কাছে থাকা প্রতিটি কৌশল ব্যবহার করে সিসিপি তিয়ানানমেন গণহত্যার ইতিহাস মুছে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।

    গত কয়েক বছর ধরে সিসিপি একটি কাল্পনিক আখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করছে যে, আন্দোলনকারী ছাত্ররা ছিল মার্কিনপন্থী এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। কমিউনিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে যে, তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রতিবাদ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘শাসনবদল অভিযান’ (regime change operation), যা তারা শক্ত হাতে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে যখন চিনা কমরেডরা ছাত্রদের হত্যা করছিল, তখন ভারতের কমিউনিস্টরা নীরব

    ভারতের কমিউনিস্টরা বিশ্বজুড়ে থাকা কমিউনিস্ট শাসনগুলোর প্রতি, বিশেষ করে চিনের প্রতি গভীর আনুগত্য পোষণ করে। ভারতের কমিউনিস্ট নেতারা চিনকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করেন। সম্ভবত এই মোহগ্রস্ততার কারণেই ভারতের কমিউনিস্টরা ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন গণহত্যার নিন্দা না করে এক সুবিধাজনক নীরবতা বেছে নিয়েছিল।

    দুই বছরের লজ্জাজনক নীরবতার পর, ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে সিপিআই(এম) মাদ্রাজের ১৪তম কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে তারা তিয়ানানমেন স্কোয়ারের প্রগতিশীল আন্দোলনকে “সফলভাবে” দমন করার জন্য তারা সিসিপি-র প্রশংসা করেছিল। সিপিআই(এম) তিয়ানানমেন প্রতিবাদ এবং গণহত্যাকে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে খারিজ করে দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বা ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করে।

    নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির (JNU) কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠনগুলো তিয়ানানমেন স্কোয়ারে প্রতিবাদকারী চিনা ছাত্রদের ‘সিআইএ-র দালাল’ (CIA lackeys), ‘কিশোর অপরাধী’ (juvenile delinquents) এবং ‘বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল’ (bourgeois reactionaries) বলে ডাকত।

    সিসিপি দেশের ভেতরে তিয়ানানমেন ঘটনার তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা নিশ্চিত করেছে, অনলাইনে ও অফলাইনে যেকোনো আলোচনা, স্মরণসভা বা পরোক্ষ উল্লেখ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে। সিসিপি এমনকি তিয়ানানমেন স্কোয়ার গণহত্যার কোনো প্যাটার্ন বা পরোক্ষ উল্লেখ খোঁজার জন্য এআই (AI) টুল ব্যবহার করে। ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল, পরিমার্জিত স্কুলের পাঠ্যক্রম এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে চিনের তরুণ প্রজন্ম ১৯৮৯ সালের গণহত্যা সম্পর্কে খুব কমই জানে বা কিছুই জানে না। শোকগ্রস্ত মানুষ, কর্মী, শহীদদের পরিবার—সবাইকে কয়েক দশক পরেও তিয়ানানমেন স্কোয়ারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললে হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়।

    ২০২১ সালে, চিনের ইনস্টাগ্রামের মতো একটি স্টার্টআপ ‘শিয়াওহংশু’ (Xiaohongshu), ১৯৮৯ সালের তিয়ানানমেন স্কোয়ার ক্র্যাকডাউনের বার্ষিকী ৪ঠা জুনে একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছিল, “জোরে বলো, আজ কত তারিখ?” পোস্টটি খুব দ্রুত নামিয়ে নেওয়া হয় এবং কোম্পানিটিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। চিনে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। কমিউনিস্ট শাসন তিয়ানানমেন প্রতিবাদকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখেছিল এবং তিন দশক পরেও তারা ১৯৮৯ সালের গণহত্যার সত্য ও স্মৃতিকে তাদের ক্ষমতার জন্য একটি হুমকি হিসেবেই দেখে চলেছে।

LinkedIn
Share