Tag: Madhyom

Madhyom

  • ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    ONGC West Bengal: বাংলার মাটির নিচে কি লুকিয়ে তেল-গ্যাসের ভাণ্ডার? চার জেলায় অনুসন্ধানে ওএনজিসিকে সবুজ সঙ্কেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল। রাজ্যের চারটি জেলায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের (West Bengal Oil Exploration) জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনকে অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার (ONGC West Bengal)। শিল্পমহলের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে শুধু জ্বালানি ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    কোন কোন জেলায় অনুসন্ধান?

    রাজ্য সরকারের অনুমোদন (ONGC West Bengal) পাওয়া চারটি জেলা হল নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের বাজেট পেশের সময় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ২০২৫ সালের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী ওএনজিসিকে (ONGC) এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়া- এই তিন জেলায় প্রায় ২,৮৭২.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধানের কাজ হবে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর প্রকল্পেও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলেছে।

    রাজ্যের আয় বাড়ার আশা

    সরকারের আশা, এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসবে। বিশেষ করে অশোকনগর প্রকল্প থেকেই প্রায় ১০৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। অন্য তিন জেলার ক্ষেত্রেও চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন থেকে রাজ্যের নির্ধারিত অংশ রাজস্ব হিসেবে মিলবে।

    শিল্প ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

    তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে শিল্প দফতর। অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ঘিরে একাধিক সহায়ক শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সংক্রান্ত আরও প্রকল্পে বিনিয়োগের পথও খুলতে পারে।

    আগেই মিলেছিল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

    রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বহু বছর ধরেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওএনজিসি (ONGC)। এর আগে কেন্দ্র জানিয়েছিল, উত্তর ২৪ পরগনার কনকপুর এলাকায় প্রায় ২,৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। একইভাবে নদিয়ার রানাঘাটেও প্রায় ২,৭১৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে এই অঞ্চলে অনুসন্ধান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    ভারত এখনও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশের মাটিতে নতুন জ্বালানির উৎস খুঁজে পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে চারটি জেলায় অনুসন্ধানের অনুমতি সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর থাকবে অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে। যদি পর্যাপ্ত মজুতের সন্ধান মেলে, তাহলে আগামী দিনে বাংলার মাটিতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

  • India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী বাংলাদেশ। সে দেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর জন্য সরকার অপেক্ষা করছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা ভারত সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না মিললেও, মনে করা হচ্ছে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি না হলে এ বছরের সেপ্টেম্বের বাংলাদেশ সফরে যাবে ভারতীয় দল (India vs Bangladesh)।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল!

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরের শুরুতেই ঘোষণা করেছিল, ২০২৫ সালে স্থগিত হওয়া ভারত সফরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ও তিনটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। ২০২৫ সালের নির্ধারিত সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়েছিল। একই পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন ঢাকার সরকার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ভারত সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

    তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারত সিরিজের টেলিভিশন ও মিডিয়া সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করায় সফরটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো হয়। পাশাপাশি আগস্টে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচিতে টি-২০ ম্যাচ না থাকায় বাংলাদেশ সফরের জন্য সময় বের হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভারতের সিরিজে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। যদিও মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির দরপত্র আহ্বান করার পরও ভারত সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সবাই সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাংলাদেশে এলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনার কারণে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”

    ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা

    এমনিতে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার সুর বেচে তথাকথিত নেতারা নিজেদের কেরিয়ারের গ্রাফ উপরে তোলার চেষ্টা করতেন। যার প্রভাব পড়ে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তারইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে ২০২৬ সালের আইপিএল (IPL 2026) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। সামনেই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন। ভোটের ময়দানে ফায়দা লুটতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। তবে তাতেও নির্বাচনে ফায়দা লুটতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মহল। বরং ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। যে সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট-তিক্ততা

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট তিক্ততা দূর করতে এবার ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশের ক্রীড়ামহল। এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রক। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেও পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত যদি বাংলাদেশে খেলতে যায় সে ক্ষেত্রে চার বছর পর ঢাকা সফরে যাবেন গিলরা। এই সফরে দুই দল তিনটি করে ওডিআই ও টি-২০ ম্যাচ খেলবে। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য বিসিবি হঠাৎ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির তোড়জোড় শুরু করার পরই আশার আলো দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিসিবির এক কর্তা সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমরা সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। যদিও এখনও বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত আসেনি। দল পাঠাবে না, এমন কথাও বলেনি ভারতীয় বোর্ড। আশা করছি, খুব দ্রুত বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাব।’’ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বৈঠকে গিয়েছিলেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ় আয়োজনের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। উল্লেখ্য, তামিম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক রক্ষা করতে চান।

     

     

     

     

  • Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বুধবার (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে কমিশন বা অন্তর্ভুক্ত হল ‘আইএনএস মালভান’ (INS Malvan)। এটি মাহে-ক্লাসের (Mahe-class) অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওাটার ক্র্যাফট (ASW-SWC) সিরিজের দ্বিতীয় স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম, যা আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং-এর উপস্থিতিতে জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম নৌ-কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাত্সায়নও।

    কেন বিশেষ আইএনএস মালভান?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘সাবমেরিন হান্টার’ আইএনএস মালভান আকারে ছোট হলেও যুদ্ধক্ষমতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। উপকূলীয় ও অগভীর জলসীমায় দ্রুত অভিযান চালানো, শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর জন্যই এটি বিশেষভাবে তৈরি। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজটি ‘‘ক্ষিপ্র, নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের উপযোগী’’, যা অগভীর জলসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শত্রুর সাবমেরিনের জন্য কেন ভয়ঙ্কর?

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান কাজ অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW)। উপকূলীয় অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে দ্রুত আক্রমণ চালানোর জন্য এতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর বসানো হয়েছে।

    জাহাজের প্রধান অস্ত্রসম্ভার—

    • ● আরবিইউ-৬০০০ (RBU-6000) অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার
    • ● দুই পাশে ৩২৪ মিমি ট্রিপল লাইটওয়েট টর্পিডো টিউব
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন মাইন বসানোর ব্যবস্থা
    • ● টর্পিডো ডিকয় লঞ্চারসহ ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ডিফেন্স স্যুট
    • ● ৩০ মিমি নৌ-কামান
    • ● দুটি ১২.৭ মিমি স্ট্যাবিলাইজড রিমোট-কন্ট্রোলড গান

    এছাড়াও জাহাজটি লো-ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস্ বা সংক্ষেপে লিমো (LIMO) এবং মাইন ওয়ারফেয়ার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

    উপকূলীয় যুদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকর

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের অগভীর জলসীমায় শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই ধরনের লিটোরাল (Littoral) বা অগভীর অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে ছোট, দ্রুতগামী এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন হয়। আইএনএস মালভান ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই তৈরি।

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    মাহে-ক্লাস যুদ্ধজাহাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্টেলথ ডিজাইনও ব্যবহার করা হয়েছে।

    প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭৮–৮০ মিটার
    • ● ওজন (ডিসপ্লেসমেন্ট): প্রায় ৯০০–১,১০০ টন
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ২৫ নট
    • ● অপারেশনাল রেঞ্জ: ১,৮০০ নটিক্যাল মাইল (১৪ নট গতিতে)
    • ● সমুদ্রে টানা থাকার ক্ষমতা: ১৪ দিন
    • ● ইঞ্জিন: তিনটি ৬ মেগাওয়াট মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন
    • ● প্রোপালশন: ওয়াটার জেট/পাম্প-জেট প্রোপালশন, যা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োগগুলির একটি

    জাহাজটিতে স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এর রেডার, শব্দ এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার অনেক কম থাকে। ফলে শত্রুর পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন।

    দেশীয় প্রযুক্তির বড় সাফল্য

    আইএনএস মালভানে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), মহীন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা। কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত মাহে-ক্লাসের মোট আটটি যুদ্ধজাহাজ ধাপে ধাপে অগাস্ট ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮-এর মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    নামের পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    ‘মালভান’ নামটি নেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর মালভান থেকে, যার সঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সমুদ্র প্রতিরক্ষার ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৩ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত পুরনো আইএনএস মালভান-এর ঐতিহ্যও এই নতুন যুদ্ধজাহাজ বহন করবে। কমিশনিংয়ের আগে ভারতীয় নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জাহাজটির ক্রেস্টও প্রকাশ করেছে। সেখানে শিবাজির বিখ্যাত ‘বাঘ নখ’ (Bagh Nakha)-কে সাহস, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্ধর্ষ মনোভাবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রেস্টে রয়েছে ‘Silent Claws’ মন্ত্র, আর নৌবাহিনীর বার্তা— ‘Silent. Swift. Lethal.’ ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন এই ‘সাবমেরিন হান্টার’ শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, স্টেলথ সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতারও শক্তিশালী প্রতীক।

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • 7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর চেষ্টা করবে রাজ্য। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা চালু হতে পারে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on DA)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একুশে জুলাইয়েই বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি হয়েছে। তা চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই কমিশন গঠন করা হবে।

    কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল‌ সময়। নকিং দ্য ডোর।’’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে।

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি হয়। আমি ২০১৬-তে মন্ত্রী হই। ২০১৯-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। আমি বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রী ভুল বলছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, আর তখন কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ টাকা নেই। আমি বলি, এটা দিয়ে দিন। সেই ২০২০-তে আপনারা ষষ্ঠ পে কমিশন পান। তবে ডিএ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই হয়, তাতে আমারও একটা ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’

    সরকারি কর্মীদের পাশে রাজ্য সরকার

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কমিশন এবং ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এর ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম প্রধান দাবি ডিএ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর পর কমিশন তার কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালুর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

    বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা

    ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, সেই ব্যবধান একবারে নয়, ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

    বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা

    দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুভেন্দুর সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্মচারীদের সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের গ্যাপ ধীরে ধীরে মেটাব। আপনারা ভেবেছিলেন হয়তো একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০ — কোনওটাই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।’ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দফতরে ভয়ভীতি কাটিয়ে মন খুলে কাজ করুন।’ মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিদ্যুৎ দফতরে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নয়া কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

  • BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শতাব্দীপ্রাচীন দলের নেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP) নিতিন নবীন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল এবং পবন খেরার নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার পদে থেকে রাহুল গান্ধীর আচরণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়”।

    নৈরাজ্যের প্রতীক (BJP)

    নিতিন নবীন বলেন, “রাহুল গান্ধীর আচরণ থেকেই স্পষ্ট, তিনি বিরোধী দলনেতার পদের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেন না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, রাহুল গান্ধী ক্রমশ নৈরাজ্যের প্রতীক হয়ে উঠছেন। সংসদের কিছু সাংবিধানিক পদ কোনও একক দলের সম্পত্তি নয়। প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের নেতা নন, তিনি ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীদের আচরণ এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা প্রমাণ করে, এটি মতপার্থক্যের রাজনীতি নয়, বরং নৈরাজ্যের রাজনীতি। আরও উদ্বেগের বিষয়, প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।”

    বিজেপি সীমা লঙ্ঘন করেনি

    তিনি এও বলেন, “আমরাও দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে ছিলাম, কিন্তু কখনও এই ধরনের সীমা লঙ্ঘন করিনি। রাহুল গান্ধী যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর বিরোধী দলনেতার সেই অবস্থান থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক। সংসদের ভেতরে যে কোনও ধরনের আলোচনার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু শিষ্টাচার ভঙ্গ এবং বিরোধী শিবিরে যে নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা দেশকে উদ্বিগ্ন করছে। দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন।”

    ব্যাহত লোকসভা-রাজ্যসভার কার্যক্রম

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নিকে আটক করে। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখা যায় রাহুলকে পুলিশের বাসে করে তুলে নিয়ে যেতে (BJP)। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকেও পুলিশ আটক করে। সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “ওরা ভীতু। ওরা আমাদের ভয় পায়। কিন্তু আমরা ওদের ভয় পাই না (Rahul Gandhi)।” এদিকে, নিট-স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো (BJP) লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

     

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হওয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প। শিল্পমহল এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রপণ্যের রফতানি (India Textile Exports) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। আগামী কয়েক বছরে অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে প্রশ্ন একটাই- শুল্ক উঠে যাওয়াই কি ভারতের জন্য যথেষ্ট? না কি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে?

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (India-UK CETA)?

    এতদিন ব্রিটেনে ভারতীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রফতানির (India Textile Exports) ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হত। ফলে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি দামের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ত। এখন সেই শুল্কের বড় অংশ উঠে যাওয়ায় ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে ব্রিটেনের বাজারে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।

    রফতানি কতটা বাড়তে পারে?

    শিল্পমহলের অনুমান, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্রিটেনে ভারতের বস্ত্র রফতানিতে (India Textile Exports) প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক, গৃহস্থালির বস্ত্র, সুতি কাপড়, কার্পেট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে।

    প্রতিযোগিতায় কী বদলাবে?

    এতদিন বাংলাদেশ শুল্ক- সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের বাজারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে চিনের শক্তি তার বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা। নতুন চুক্তির ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, দামের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা ছিল, তা অনেকটাই কমে গেল। ফলে ব্রিটিশ ক্রেতাদের কাছে ভারত এখন আরও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থা এক দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তারা ভারতের দিকে আরও বেশি নজর দিতে পারে।

    কোন কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে?

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে- তামিলনাড়ু, গুজরাট, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পাটশিল্প এবং কিছু তৈরি পোশাক রফতানিকারক সংস্থাও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারে।

    লাভ হতে পারে আরও অনেক ক্ষেত্রে

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ফলে উপকৃত হতে পারে- চামড়া শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রও। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি শিল্প নয়, দেশের সামগ্রিক রফতানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে কি সব সমস্যার সমাধান?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। শুধু শুল্ক কমে গেলেই রফতানি বাড়বে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভারতের সামনে এখনও রয়েছে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের উপর জোর দিতে হবে।

    সুযোগের পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ

    নতুন বাণিজ্য চুক্তির (India-UK CETA) ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে শুধু শুল্ক-সুবিধা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর আরও জোর দিতে হবে। এই ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি করতে পারলে ভারত ব্রিটেনের বাজারে নিজের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে সক্ষম হবে এবং বিশ্ব বস্ত্র বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

    ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি

    ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাজ্য সফরের সময় লন্ডনে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিঃসন্দেহে রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সুযোগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে উৎপাদন, গুণমান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, চুক্তি সুযোগ এনে দিয়েছে, এখন সেই সুযোগকে সাফল্যে বদলে দেওয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাস দমন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা থেকে স্পর্শকাতর অভিযানে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়। সেই দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। আগামী ১ আগস্ট পুনেতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

    লোকমান্য তিলক পুরস্কার

    জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট। ১ অগাস্ট, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনেতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হবে। ১৯৮৩ সালে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট এই জাতীয় সম্মান চালু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর ১ অগাস্ট, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়- একটি স্মারক, একটি সম্মানপত্র ও এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। সমাজবাদী নেতা এস. এম. যোশি ছিলেন এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

    কেন এই সম্মান পাচ্ছেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval)?

    অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, সিকিম, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামাবাদ এবং লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে একাধিক কূটনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোকলাম অচলাবস্থা মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

    পুরস্কার প্রাপকরা

    এই সম্মানে (Lokmanya Tilak Award) ভূষিত হয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নরেন্দ্র মোদি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নিতিন গড়করি, এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, সুধা মূর্তি-সহ আরও অনেকে।

    লোকমান্য তিলকের চার আদর্শ

    ট্রাস্টের সভাপতি রোহিত তিলক জানিয়েছেন, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চারটি মূল আদর্শ (স্বরাজ, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা, বিদেশি পণ্য বর্জন) আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজিত ডোভালের ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এ বছর দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হতে চলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

  • MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনে বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভারতের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy) করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। একই সঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে ভারত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    ১৯ জুলাই, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ MV Golden Leo। জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলার পরেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজে মোট ছিলেন ১৭ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন ভারতীয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    কী বলেছে বিদেশ মন্ত্রক?

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    রাশিয়ার কাছে কী দাবি ভারতের?

    ঘটনার জেরে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy)। চার ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়াদিল্লির। হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে ভারত।

    ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

    আহত ভারতীয় নাবিকের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নজরে রাখছে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকারও ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

    যুদ্ধের আবহেই নতুন উত্তেজনা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কৃষিপণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

LinkedIn
Share