Tag: Madhyom

Madhyom

  • PM Modi: তাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী কর্মসূচি রয়েছে?

    PM Modi: তাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী কর্মসূচি রয়েছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ৩ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফর করবেন। এই সফরের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৪ এপ্রিল ব্যাংককে ষষ্ঠ বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন সামিট-এ (বিমস্টেক) শীর্ষ সম্মেলনে (BIMSTEC Summit) অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি ঘোষিত মহাসাগর নীতির অধীনে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোয় ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই সফর করা হচ্ছে। এই সামিট শেষে ৪ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি শ্রীলঙ্কা সফর করবেন।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (PM Modi)

    অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে একদিনের সংক্ষিপ্ত, অথবা সর্বাধিক দু’দিনের শ্রীলঙ্কা সফর করেছিলেন। এবার তিনি যাবেন তিনদিনের সফরে। কলম্বোর বাইরে সম্ভাব্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়েকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শ্রীলঙ্কা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এটি হবে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) তৃতীয় তাইল্যান্ড  সফর। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রীর তাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফর এবং ৬ষ্ঠ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ভারতের ‘প্রথমে প্রতিবেশী’ নীতি, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি, ‘মহাসাগর’ দর্শন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দর্শনের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করবে।” ‘মহাসাগর’ বা “মিউচুয়াল অ্যান্ড হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ অ্যাক্রস রিজিয়নস” দর্শন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মরিশাস সফরের সময়ই ঘোষণা করেছিলেন।

    বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলন

    বিমস্টেকের (BIMSTEC Summit) সদস্য দেশগুলি হল ভারত, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনের পর এটি হবে প্রথমবারের মতো বিমস্টেক নেতাদের মুখোমুখি বৈঠক। পঞ্চম (PM Modi) বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২২ মার্চ, শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। এই শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা বিমস্টেক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নেতারা বিমস্টেক কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সক্ষমতা নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত বিমস্টেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ, স্থল, সামুদ্রিক ও ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন, খাদ্য, শক্তি, জলবায়ু ও মানব নিরাপত্তায় সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।” বিমস্টেক (BIMSTEC Summit) ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩ এপ্রিল তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটোংটান শিনাওয়াত্রার সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে, দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করবেন এবং ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বের জন্য রূপরেখা তৈরি করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কা সফর করবেন

    তাইল্যান্ড সফর শেষ করে, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ২০২৫ সালের ৪ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুর কুমার দিসানায়ক প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই দুই নেতা “একটি সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা” যৌথ দর্শনের অধীনে সম্মত সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। এটি গৃহীত হয়েছিল শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময়। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় হাইকমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত ঐতিহ্যগতভাবে শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে একটি এবং শ্রীলঙ্কা সার্কে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে একটি।

    বাণিজ্য বিভাগের খবর

    বাণিজ্য বিভাগের খবর, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পণ্য বাণিজ্য ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ভারতের রফতানির পরিমাণ ৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর শ্রীলঙ্কার রফতানির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিভিন্ন ঋণ লাইন ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য একটি ঋণ সুবিধা দ্বারাও সমর্থিত ছিল। এফটিএ-র পরিধি (PM Modi) আরও বিস্তৃত করার জন্য এবং উৎপত্তির নিয়মগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য, পণ্য এবং পরিষেবা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তির (ইটিসিএ) প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত

    ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহের সফরের পরে ফের আলোচনা (BIMSTEC Summit) শুরু হয়েছে দুই দেশের। এখানে ইটিসিএ নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত ১৪ দফা আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ আলোচনাটি হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, কলম্বোয়। শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি, ভারত শ্রীলঙ্কায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম অবদানকারীদের মধ্যে একটি, যার মোট পরিমাণ ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের প্রধান বিনিয়োগগুলি হল জ্বালানি, আতিথেয়তা, রিয়েল এস্টেট, উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে (PM Modi)।

  • PM Modi: রামনবমীতে রামানাথাস্বামী মন্দিরে পুজো দেবেন মোদি, করবেন পামবান রেল সেতুর উদ্বোধন

    PM Modi: রামনবমীতে রামানাথাস্বামী মন্দিরে পুজো দেবেন মোদি, করবেন পামবান রেল সেতুর উদ্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৬ এপ্রিল রামনবমীর দিন তামিলনাড়ুর রামেশ্বরামের রামানাথাস্বামী মন্দিরে পুজো দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)। এরপর তিনি উদ্বোধন করবেন পামবান রেল সেতুর। প্রসঙ্গত ভারতের প্রথম ‘ভার্টিকাল লিফট সি-ব্রিজ’ হল পামবান সেতু। সমুদ্রের ওপর তৈরি হওয়া সর্বাধিক দৈর্ঘ্যের সেতু এটি। এমনভাবে এই ব্রিজকে নির্মাণ করা হয়েছে যে উপরে ছুটবে ট্রেন আবার জাহাজ এলেই সরে যাবে সেতু।

    রামনবমীর পুণ্য তিথিতেই কেন সেতু উদ্বোধন?

    তবে রামনবমীর পুণ্য তিথিতেই এই সেতুর উদ্বোধন কেন? অনেকেই বলছেন, হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রামেশ্বরম হল সেই জায়গা যেখানে ভগবান রামচন্দ্র এবং তাঁর সেনাবাহিনী মিলে তৈরি করেছিলেন রাম সেতু। এরপরেই রাবণের হাত থেকে মাতা সীতাকে উদ্ধার করা হয়। রামনবমীর পুণ্য তিথিতে রামানাথাস্বামী মন্দিরের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) যাওয়া এবং সেতু উদ্বোধন তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। দেশ জুড়ে রাম ভক্তদের মধ্যে এনিয়ে উন্মাদনাও ছড়িয়েছে।

    প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরাম বা পামবান দ্বীপকে জুড়তেই তৈরি হয়েছে নয়া এই রেলব্রিজ (Pamban Bridge)। সমুদ্রের উপরে তৈরি হওয়া নতুন সেতু উদ্বোধনে খরচ পড়েছে মোট ৫৪০ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই। এরপর কাজ শুরু ২০২০ সালের গোড়ার দিকে। পরবর্তীকালে করোনা মহামারীর কারণে কাজ বন্ধ থাকে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, গত মাসেই এই রেল সেতুতে প্রথম ট্রায়াল রানও সম্পন্ন হয়েছে। এবার আগামী মাসেই রামনবমীতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে (PM Modi) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এই সেতুর। জানা যাচ্ছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় খুব সহজেই প্রতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে এই নতুন রেল সেতু হয়ে ছোটানো যাবে ট্রেনগুলি। একই সঙ্গে, জাহাজ পারাপার করানোর জন্য মাঝখান থেকে ১৭ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠে যেতে পারে ব্রিজটি।

  • Daily Horoscope 29 March 2025: ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 29 March 2025: ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) স্ত্রীর কথায় বিশেষ ভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    ২) খেলাধুলায় নাম করার ভাল সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ৩) দাম্পত্য জীবন ভালো কাটবে।

    বৃষ

    ১)  ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ২) নিজের অজান্তেই কোনও কাজের সুবাদে সকলের প্রীতিলাভ করবেন।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    মিথুন

    ১) কর্মক্ষেত্রে সম্মান পাবেন।

    ২) একাধিক পথে আয় বাড়তে পারে।

    ৩) সমাজে খ্যাতি বাড়বে।

    কর্কট

    ১) বন্ধুদের জন্য অশান্তি বাড়তে পারে।

    ২) আগুন থেকে বিপদের আশঙ্কা।

    ৩) সারা দিন সাবধানতা অবলম্বন করে চলুন।

    সিংহ

    ১) অশান্তি থেকে সাবধান থাকা দরকার।

    ২) ব্যবসায় বাড়তি লাভ হতে পারে।

    ৩) অর্থ রোজগার ভালোই হবে।

    কন্যা

    ১) ব্যবসায় কাজের দায়িত্ব বাড়তে পারে।

    ২) নেশার প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

    তুলা

    ১) লোকে দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।

    ২) ব্যবসায় সমস্যা বাড়তে পারে।

    ৩) শত্রুদের থেকে সাবধান থাকুন।

    বৃশ্চিক

    ১) দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সময়।

    ২) ব্যবসায় চাপ বাড়তে পারে।

    ৩) সতর্কভাবে লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন।

    ধনু

    ১) অর্শের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) ব্যবসায় অশান্তি বাড়তে পারে।

    ২) চাকরির স্থানে উন্নতির সুযোগ পেতে পারেন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে সবাই আপনার নাম করবে।

    কুম্ভ

    ১) শারীরিক সমস্যার জন্য ব্যবসায় সময় দিতে পারবেন না।

    ২) দাম্পত্য সম্পর্কে উন্নতির সময়।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে শুভ সময় কাটাবেন।

    মীন

    ১) চিকিৎসার জন্য খরচ বৃদ্ধি।

    ২) কোনও বন্ধুর সঙ্গে বিবাদের যোগ রয়েছে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

     DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না

     

     

  • S Jaishankar: “ভারত চেষ্টা করেও প্রতিবেশীর মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারছে না”, পাকিস্তানকে তোপ জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: “ভারত চেষ্টা করেও প্রতিবেশীর মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারছে না”, পাকিস্তানকে তোপ জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নয়াদিল্লি বারংবার স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু একটি প্রতিবেশী দেশের (পড়ুন, পাকিস্তান) উন্মত্ত ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারছে (Pakistan) না।” শুক্রবার লোকসভায় কথাগুলি বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে জয়শঙ্কর পাকিস্তানে ফেব্রুয়ারি মাসে হিন্দুদের ওপর হওয়া ১০টি হামলার ঘটনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর মধ্যে সাতটি ঘটনায় অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, দুটি ঘটনায় অপহরণ এবং একটি ঘটনায় হোলি উদযাপনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

    শিখ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত তিন ঘটনা (S Jaishankar)

    জয়শঙ্কর বলেন, “পাকিস্তানে শিখ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনায় একটি শিখ পরিবারকে আক্রমণ করা হয়। অন্য ঘটনায় একটি পুরানো গুরুদ্বার পুনরায় খোলার কারণে একটি শিখ পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই সম্প্রদায়ের একটি মেয়ের অপহরণ ও ধর্মান্তরকরণের সমস্যাও ছিল। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি মামলাও ছিল। একটি ঘটনায় একটি মসজিদ সিল করে দেওয়া হয় এবং অন্য ঘটনায় ৪০টি কবর ভেঙে ফেলা হয়। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মামলাও ছিল, যেখানে একজন খ্রিস্টানকে, ঈশ্বরনিন্দার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর কঠোর অবস্থানের মতো কোনও কঠোর পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) বলেন, “একটি সরকার ও দেশ হিসেবে আমরা প্রতিবেশীর ধর্মান্ধ ও সংকীর্ণ মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারি না। ইন্দিরা গান্ধীও তা পারেননি (Pakistan)।” ২৬ মার্চ হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বলে যে, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে সাহায্য ও ন্যায়বিচার এখনও অধরা রয়েছে।

    হিউম্যান রাইটস ফোকাস (S Jaishankar) পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নাভিদ ওয়াল্টার বলেন, “পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হামলা, হত্যা, ঈশ্বরনিন্দার অভিযোগ, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও জোরপূর্বক বিয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য। তাদের দুর্দশা ও অবহেলার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়া আরও বেশি বেদনাদায়ক (Pakistan)।”

  • India China Border: চিনা আক্রমণ রুখতে মাস্টারপ্ল্যান! পূর্ব লাদাখে স্থায়ী নয়া সেনা ডিভিশন মোতায়েন করছে ভারত

    India China Border: চিনা আক্রমণ রুখতে মাস্টারপ্ল্যান! পূর্ব লাদাখে স্থায়ী নয়া সেনা ডিভিশন মোতায়েন করছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখে ফের সেনাবল বৃদ্ধি করল ভারত। চিনের (China) সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মাঝে ভারতীয় সেনার (Indian Army) এই পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, পূর্ব লাদাখে (Eastern Ladakh) প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অর্থাৎ, এলএসি (LAC) বরাবর নতুন পদাতিক ডিভিশন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Defense Ministry Of India) সূত্রের খবর, লাদাখের (India China Border) রাজধানী লেহ্‌তে মোতায়েন ১৪ নম্বর কোরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে নবগঠিত ওই ৭২ পদাতিক ডিভিশন।

    কোথায় মোতায়েন থাকবে নয়া ডিভিশন

    কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে ধারাবাহিক আলোচনার ফলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও এখনও পূর্ব লাদাখের (India China Border) প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এই আবহে এলএসির নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পুরোদস্তুর একটি নতুন ডিভিশন গড়ছে ভারতীয় সেনা। সেনাবাহিনীর যে কোনও ডিভিশনে একজন মেজর জেনারেলের নেতৃত্বে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার সৈন্য থাকে। তিন থেকে চারটি ব্রিগেড আছে যেগুলো একজন ব্রিগেডিয়ার দ্বারা পরিচালিত হয়। পূর্ব লাদাখে ৭২ ডিভিশনের অধীনে ইতিমধ্যেই একটি ব্রিগেড সদর দফতর খোলা হয়েছে। এখান থেকে কাজও শুরু হয়েছে। লেহ-এর ১৪ ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোরের অধীনে ৭২ ডিভিশনকে স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে, এই এলাকায় একটি কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ইউনিট ইউনিফর্ম ফোর্স রয়েছে, যারা শীঘ্রই ৭২ ডিভিশনকে কমান্ড হস্তান্তর করবে।

    এই বাহিনী তৈরির প্রস্তুতি

    মনমোহন সিং সরকারের শেষলগ্নে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ড্রাগনের মোকাবিলায় ভারতীয় সেনার পৃথক ‘মাউন্টেন স্ট্রাইক কোর’ তৈরি হবে। ২০১৩-য় ৬৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভারতীয় সেনার প্রায় ৯০ হাজার অফিসার ও জওয়ান নিয়ে ওই বাহিনী মঞ্জুর হয়। লক্ষ্য ছিল, এই বাহিনীই ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-চিন সীমান্তে ‘পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি’-র গতিবিধির উপরে নজর রাখবে। এর পর পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে গড়ে ওঠে ১৭ নম্বর মাউন্টেন স্ট্রাইক কোরের একটি ডিভিশন। পূর্ব ভারতে মাউন্টেন কোরের প্রথম ডিভিশন তৈরির পরে লাদাখকে নজরে রেখে ২০১৭-য় পঠানকোটে দ্বিতীয় ডিভিশন তৈরির কাজ শুরু হয়। পরবর্তীকালে, ২০১৭ সালে লাদাখের জন্য পঠানকোটে দ্বিতীয় ডিভিশন গঠনের কাজ শুরু হয়।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর ফোর্স গঠনে সক্রিয়তা

    ২০২০-র এপ্রিলে পূর্ব লাদাখে (Eastern Ladakh) চিনা আগ্রাসন এবং গালওয়ানে রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে দ্রুত মাউন্টেন স্ট্রাইক কোরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে সময় প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণে উঁচু অবস্থানগুলি দখলে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল পানাগড়ের বাহিনী। ঝটিতি অভিযানে সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কালা টপ, মুকপরী এবং রেজাংলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তারা। এর ফলে প্যাংগংয়ের দক্ষিণে স্পাংগুর হ্রদ লাগোয়া উপত্যকায় মোতায়েন চিনা বাহিনীও চলে এসেছিল ভারতীয় সেনার ‘নাগালে’। পাশাপাশি থাকুং সেনাঘাঁটির অদূরে হেলমেট টপ এলাকা থেকে রেচিন লা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাতেও ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয় ১৭ নম্বর মাউন্টেন স্ট্রাইক কোরের সৌজন্যে। এইসব ঘটনার পর ভারত বুঝতে পারে যে, পূর্ব লাদাখের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হলে আরও শক্তিশালী ডিভিশন মোতায়েন করা দরকার।

    সম্প্রতি স্থিতিশীল সীমান্ত

    গত বছর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খুব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। এরপর ভারত এবং চিনের (India China Border) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উন্নয়নের রাস্তায় ফেরাতে গত ২১ অক্টোবর দিল্লির তরফে জানানো হয়, ডেপসাং এবং ডেমচকের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সহমত হয়েছে দুই দেশ। সীমান্ত থেকে এলএসি-তে পাঁচটি জায়গায় ভারত ও চিনের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল – ডেপসাং, ডেমচোক, গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো এবং গোগরা হট স্প্রিং। ২০২০ সালের পর কয়েক দফা আলোচনার পরে, উভয় দেশের সেনাবাহিনী গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো এবং গোগরা হট স্প্রিং থেকে পিছু হটেছিল। তবে ডেপসাং ও ডেমচোকে সেনা মোতায়েন করায় সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি চুক্তির পর ভারত ও চিনা সেনারা পাঁচটি স্থান থেকে সরে গিয়েছে এবং এখানে আগের মতোই টহল শুরু হয়েছে।

    নিরাপত্তা নিয়ে আপোষ নয়

    তবুও দেশের নিরাপত্তা (India China Border) নিয়ে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় মোদি সরকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাই পূর্ব লাদাখের এলএসিকে ‘পাখির চোখ’ করে পাঠানকোটের পরিবর্তে পার্বত্যযুদ্ধে পারদর্শী ৭২ নম্বর ডিভিশনকে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। ভারতীয় সেনার নর্দার্ন কমান্ডের অধীনে পূর্ব লাদাখের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হয়। কারণ কারাকোরাম পাসের কাছে দৌলত বেগ ওল্ডি পোস্ট থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ের মাঝে একটি সমতল এলাকাও রয়েছে, যা সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, ডেমচোক সিন্ধু নদীর কাছে পড়ে। এখানে চিনের নিয়ন্ত্রণ থাকলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে জল সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই অঞ্চলে কড়া পাহারার কথাই ভাবল কেন্দ্র, এমনই অনুমান কূটনীতিকদের।

  • Mithun Chakraborty: ট্রেলার দেখিয়েছে বাংলাদেশ! এক হোন হিন্দু বাঙালিরা, আহ্বান মিঠুনের

    Mithun Chakraborty: ট্রেলার দেখিয়েছে বাংলাদেশ! এক হোন হিন্দু বাঙালিরা, আহ্বান মিঠুনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রেলার দেখিয়েছে বাংলাদেশ! হিন্দু বাঙালিরা এক হোন। ঠিক এই ভাষাতেই হিন্দু ঐক্যের (Hindu Unity) আহ্বান জানালেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিজেপির একটি দলীয় কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই সভায় যোগদান করে হিন্দু বাঙালিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দিলেন অভিনেতা। এদিন মিঠুন চক্রবর্তীর ভাষণে ছিল আগাগোড়াই হিন্দুত্বের ছোঁয়া। অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি কিন্তু বলি, গর্ব করে বলো যে আমি সনাতনী। আমরা সনাতনী। যদি ভগবান সনাতনী হিসাবে জন্ম দিয়ে থাকেন তাহলে মরব সনাতন হিসাবে। কিন্তু অন্য হাতে ওই ভাবে মার খেয়ে মরব না।’’

    বারাকপুরের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আয়োজন করে বসন্ত উৎসব

    এদিন সন্ধ্যায় নিউ বারাকপুরের কৃষ্টি ভবনে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা মিলে আয়োজন করেছিলেন বসন্ত মিলন অনুষ্ঠান। সেখানেই মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ট্রেলার দেখিয়ে দিয়েছে। যদি না জিততে পারেন তাহলে পশ্চিমবাংলায় হিন্দু বাঙালি বলে কেউ থাকবে না। এখনও ৯ শতাংশ হিন্দু আমাদের ভোট দেন না। এবার ওরা জিতে এলে কিন্তু নির্বংশ করে দেবে।’’ প্রসঙ্গত, এদিন অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে হাজির ছিলেন মিঠুন। এছাড়াও বারাকপুরে বিজেপির এই দলীয় কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ সমেত ওই লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ডল ও জেলাস্তরের বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

    অন্য দলের হিন্দুরা কী করবেন, না – করবেন আমরা জানি না

    মিঠুনের (Mithun Chakraborty) সভা ঘিরে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ ছিল একেবারে তুঙ্গে। গোটা সভাগার ছিল ভর্তি। সভা মঞ্চ থেকে এদিন মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অন্য দলের হিন্দুরা কী করবেন, না করবেন আমরা জানি না। কিন্তু বিজেপির হিন্দু বাঙালিরা থাকবে না, এটা কিন্তু মনে করে চলবেন। এরা তৈরি হয়ে বসে আছে, আবার যদি জিতে আসি, নির্বংশ করে দেব। সেজন্য কিছু না ভেবে জিতুন।’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘু সমাজের ওপর আক্রমণ আঘাত নেমে এসেছে তাতে উদ্বিগ্ন হয়েছে বিভিন্ন মহল। প্রশ্ন উঠেছে ইউনূস জমানার আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়েও। এই আবহে নিজের ভাষণে মিঠুন, মমতা ও ইউনূসের শাসনকে এক করে দেখাতে চাইলেন।

    এখনও ৯ শতাংশ হিন্দু ভোট দেয় না, আমি চিৎকার করে অনুরোধ করছি, এবার ভোট দিন

    বারাকপুরে দলীয় কর্মসূচি শেষ করে মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ‘‘এখনও ৯ শতাংশ হিন্দু ভোট দেয় না। আমি চিৎকার করে তাঁদের অনুরোধ করছি, এবার ভোট দিন। বাংলাদেশ একটা ট্রেলার দেখিয়েছে আপনাদের। এর পর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বাঙালি থাকবে কি না তা নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। যে ৯ শতাংশ হিন্দু এখনও ভোট করে না, তাঁদের অনুরোধ করছি, এবার ভোট করুন। নইলে আসন্ন নির্বাচনে, যদি আমরা জিততে না পারি, তাহলে হিন্দু বাঙালি যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জন্য খুবই কষ্টের দিন আসতে চলেছে। খুব সাবধানে থাকুন। কারণ যে সব মিটিং চলছে সেগুলো আপনারা খবর রাখেন না। প্রকাশ্যে সেটা বলতে পারব না। বিজেপি বিরোধী দলগুলো যে মিটিং করছে শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে। কিছুদিন পর সব বেরিয়ে যাবে মার্কেটে। বেরিয়ে আসুন, ভোট দিন। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।’’

    হিন্দু ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির, তারই প্রতিধ্বনি মহাগুরুর গলায়!

    বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। এই আবহে হিন্দু ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির। কলকাতার পাশাপাশি একাধিক জেলা, শহরতলিতে হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই পোস্টারও সামনে এসেছে। একইসঙ্গে গেরুয়া শিবিরের একাধিক সভায় বার্তা দেওয়া হয়েছে হিন্দু ঐক্যের। দিনকয়েক পরেই রয়েছে রামনবমী। সেই রামনবমীকে কেন্দ্র করে চড়ছে বঙ্গ রাজনীতির পারদ। এবারের রামনবমীকে কেন্দ্র করে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রামনবমীর উৎসবকে সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে গোটা সংঘ পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বারুইপুরে সভা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে রামনবমী নিয়ে। বারুইপুরের সভা থেকেই ভালো করে রামবনবমী পালনের বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, হিন্দুরা জেগে গেছেন। এবার বড় করে রামনবমী হবে, তারপর পালন করা হবে হনুমান জয়ন্তী। ঠিক এই আবহে হিন্দু ঐক্যের বার্তা দিয়ে বক্তব্য রাখতে শোনা গেল মিঠুন চক্রবর্তীকেও (Mithun Chakraborty)।

  • Waqf Amendment Bill: ভোট কুড়োতে ওয়াকফ বিল নিয়ে মিথ্যা প্রচার, রহস্যের পর্দা ফাঁস ‘মাধ্যম’-এর

    Waqf Amendment Bill: ভোট কুড়োতে ওয়াকফ বিল নিয়ে মিথ্যা প্রচার, রহস্যের পর্দা ফাঁস ‘মাধ্যম’-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অধিবেশনেই সংসদে পেশ হতে পারে ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Amendment Bill) ২০২৪। এই বিল নিয়ে জনমানসে, বিশেষ করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন বিরোধীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই তাঁরা এসব করে বেড়াচ্ছেন। আজ আমরা ফাঁস করব আসল রহস্য। জানব আসলে ঠিক কী বলা হয়েছে বিলে। তার আগে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ওয়াকফ সম্পত্তি কী?

    ওয়াকফ সম্পত্তি কী? (Waqf Amendment Bill)

    ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Properties) হল সেই স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, যা দলিলের মাধ্যমে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে দেওয়া হয়। (অনেকটা হিন্দুদের দেবত্র সম্পত্তির মতো। তবে হিন্দুদের দেবত্র সম্পত্তিতে সব হিন্দুর অধিকার থাকে না। ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিশ্বের সব মুসলমানের অধিকার থাকে।) এই সম্পত্তি চ্যারিটি কিংবা সেবার কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার উত্তরসূরি হিসেবে ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করেন। ওয়াকফ সম্পত্তি কখনও হস্তান্তর করা যায় না। এই সম্পত্তি মূলত ব্যবহার করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবর, মসজিদ কিংবা গরিব মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য। ওয়াকফ সম্পত্তি যাদের দায়িত্বে থাকে, আইনি ভাষায় তারাই ওয়াকফ বোর্ড। ১৯৬৪ সালে তৈরি হয় সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিল। দেশজুড়ে ওয়াকফ বোর্ডগুলি এই কাউন্সিলের নজরদারিতে চলে। এই ওয়াকফ সম্পত্তিতে নানা সময় উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। সেই দুর্নীতিই দূর করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

    এবার জেনে নেওয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিলের আইনি পরিবর্তন এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বার্তা দেওয়ার বিষয়টি।

    প্রশ্ন: ওয়াকফ সম্পত্তি বাতিল করা হবে কি?

    উত্তর: বৈধভাবে ওয়াকফ ঘোষিত কোনও সম্পত্তি বাতিল করা হবে না। একবার কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ ঘোষিত হলে, তা স্থায়ীভাবে ওয়াকফ হিসেবেই থাকার কথা। বিলটি শুধুমাত্র ভালো ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার জন্য নিয়মগুলি স্পষ্ট করে। এটি জেলা কালেক্টরকে এমন সম্পত্তি পর্যালোচনা করার অনুমতি দেয় যেগুলি ভুলবশত ওয়াকফ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে সেগুলি যদি সরকারি সম্পত্তি হয়। বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে।

    প্রশ্ন: ওয়াকফ সম্পত্তির সমীক্ষা হবে না?

    উত্তর: সমীক্ষা করা হবে। এই বিলে সার্ভে কমিশনারের পুরানো ভূমিকা জেলা কালেক্টর দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। জেলা কালেক্টর বর্তমান রাজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে সমীক্ষা করবেন। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য সমীক্ষা প্রক্রিয়া বন্ধ না করে রেকর্ডের নির্ভুলতা উন্নত করা (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: অমুসলিমরা কি ওয়াকফ বোর্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে?

    উত্তর: না, বোর্ডগুলিতে অমুসলিম সদস্য থাকবে, কিন্তু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে না। এই বিলে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল এবং রাজ্য বোর্ডগুলিতে অন্তত দু’জন অমুসলিম সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে, বেশিরভাগ সদস্য মুসলিম সম্প্রদায়েরই থাকবেন। এই পরিবর্তনটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল না করেই দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা আনার জন্য করা হয়েছে (Waqf Properties)।

    প্রশ্ন: নয়া সংশোধনীতে কি মুসলিমদের ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে?

    উত্তর: কোনও ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। এই বিল শুধুমাত্র ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি, যেগুলি ওয়াকফ হিসেবে দান করা হয়নি, সেগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় ও আইনত ওয়াকফ হিসেবে উৎসর্গীকৃত সম্পত্তিই নয়া নিয়মের আওতায় পড়ে।

    প্রশ্ন: সরকার কি এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করবে?

    উত্তর: এই বিল জেলা কালেক্টরকে পর্যালোচনা ও যাচাই করার ক্ষমতা দেয় যে কোনও সম্পত্তি ভুলভাবে ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে কিনা—বিশেষ করে যদি সেটি সরকারি সম্পত্তি হয়—কিন্তু এটি বৈধভাবে ঘোষিত ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অনুমোদন দেয় না।

    প্রশ্ন: এই বিল কি অমুসলিমদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার অনুমতি দেয়?

    উত্তর: সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল এবং রাজ্য বোর্ডগুলিতে অন্তত দুজন অমুসলিম সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে তাঁদের যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত দক্ষতা ও তদারকি করার জন্য। অধিকাংশ সদস্য মুসলিম সম্প্রদায়েরই থাকবেন, যার ফলে ধর্মীয় বিষয়গুলিতে সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণই কায়েম থাকবে (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: ঐতিহাসিক ওয়াকফ স্থানগুলির (যেমন মসজিদ, দরগা ও কবরস্থান) ঐতিহ্যপূর্ণ মর্যাদা কি ক্ষুণ্ণ হবে?

    উত্তর: এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তির ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক চরিত্রে হস্তক্ষেপ করে না। এর উদ্দেশ্য হল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জাল দাবি রোধ করা—এই পবিত্র স্থানগুলির প্রকৃতি পরিবর্তন করা নয়।

    প্রশ্ন: ‘ব্যবহারকারীর দ্বারা ওয়াকফ’ বিধান তুলে নেওয়া মানে কি দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে?

    উত্তর: এই বিধানটি অপসারণের উদ্দেশ্য হল সম্পত্তির ওপর অননুমোদিত বা মিথ্যা দাবি প্রতিরোধ করা। এটি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে, কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তিগুলিকেই স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে। এর ফলে বিরোধ কমে, তবে ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ ঘোষণাকে সম্মান করা হয় (Waqf Properties)।

    প্রশ্ন: বিলটি কি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে?

    উত্তর: বিলটির মূল লক্ষ্য হল রেকর্ড-সংরক্ষণ উন্নত করা, মিসম্যানেজমেন্ট কমানো এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় দান-অনুদান পরিচালনার অধিকার কেড়ে নেয় না। বরং এটি একটি কাঠামো তৈরি করে যাতে করে এই সম্পত্তিগুলি স্বচ্ছ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয় (Waqf Amendment Bill)।

    প্রশ্ন: ১৯২৩ থেকে ২০১৩ সালে ওয়াকফের সংজ্ঞা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?

    উত্তর: ২০১৩ সালে প্রধান সংজ্ঞাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছিল, যখন ‘ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনও ব্যক্তির স্থায়ী উৎসর্গ’ এই অভিব্যক্তিটি প্রতিস্থাপিত হয় ‘যে কোনও ব্যক্তির স্থায়ী উৎসর্গ’ দ্বারা। এই সংশোধনের পরে ওয়াকফ যে কোনও ব্যক্তির সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ডে উৎসর্গ করার পথ উন্মুক্ত করবে।

    রাষ্ট্রীয় ওয়াকফ বোর্ডের গঠনের সম্প্রসারণ

    এই সংশোধনীটি নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রীয় ওয়াকফ বোর্ডে শিয়া, সুন্নি, বোহরা, আগাখানি এবং পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে কমপক্ষে একজন করে সদস্য শিয়া, সুন্নি এবং পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকবেন। এর লক্ষ্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যাকে প্রতিফলিত করা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নিশ্চিত করা (Waqf Properties)।

    রটনা!

    প্রসঙ্গত, সাংসদ সদস্য এবং সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ, জামায়াতে ইসলামি হিন্দের মতো সংগঠন-সহ একাধিক স্টেকহোল্ডার এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের যুক্তি, এটি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ২৫, ২৬ এবং ৩০০এ-এর মতো সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করে, যেখানে সমতা, বৈষম্যহীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিলটির একটি বিতর্কিত দিক হল, ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বদলে সরকার কর্তৃক মনোনীত হওয়ার ব্যবস্থা। বিরোধীদের দাবি, এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে এবং সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর অত্যধিক নিয়ন্ত্রণ পাবে (Waqf Properties)। সরকারের যুক্তি হল, ‘ব্যবহার দ্বারা ওয়াকফ’ বিধানটি বাতিল করলে সম্পত্তির অবৈধ দখল রোধ করা যাবে (Waqf Amendment Bill)।

    ঘটনা

    সংশোধনী বিলটিতে দুর্নীতি রোধ ও দক্ষতা উন্নত করার একগুচ্ছ ব্যবস্থা রয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডগুলিকে তাদের কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অপসারণ করা হয়েছে, যাতে হাইকোর্ট আপিলের মাধ্যমে জুডিশিয়াল স্ক্রুটিনি বৃদ্ধি পায়। এটি সম্ভাব্য ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা দেয়, যার ফলে ওয়াকফ সম্পত্তি বিবাদের আইনি তদারকি শক্তিশালী হয়। আর্থিক নিরীক্ষা এবং স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে তহবিলের অপব্যবহার রোধ করা হবে। ওয়াকফ দাবির জন্য দলিলি প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা আরোপের পাশাপাশি এই আইনের উদ্দেশ্য হল জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ (Waqf Properties) প্রতিরোধ করা এবং বেসরকারি ও সরকারি জমিকে মিথ্যা দাবি থেকে রক্ষা করা (Waqf Amendment Bill)।

  • Malda: মালদার মোথাবাড়িতে হিংসা, তৃণমূল সরকারকে একযোগে নিশানা শুভেন্দু-সুকান্ত-মালব্যর

    Malda: মালদার মোথাবাড়িতে হিংসা, তৃণমূল সরকারকে একযোগে নিশানা শুভেন্দু-সুকান্ত-মালব্যর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার (Malda) মোথাবাড়িতে হিংসা ছড়িয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এগুলির সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি মাধ্যম। এই ভিডিওগুলিতে দাবি করা হয়েছে যে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী হিন্দুদের দোকান এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলিকে বেছে বেছে হামলা চালাচ্ছে। এই আবহে মোথাবাড়ি ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এ নিয়ে সরব হয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব (West Bengal)। মোথাবাড়ি হিংসার ঘটনায় তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। একযোগে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনেছেন শুভেন্দু-সুকান্ত-মালব্য। সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১টা নাগাদ লুট ও হিংসা শুরু করে মৌলবাদীরা।

    গ্রেটার বাংলাদেশের অভিসন্ধি ক্রমশই প্রকাশ্যে, মমতাকে তোপ সুকান্তর

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই একটি ভিডিও পোস্ট করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। সুকান্তর দাবি, ‘‘ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির গোপন অভিসন্ধি ক্রমশই সফল করে তুলছেন।’’ সুকান্ত মজুমদারের ওই পোস্ট করা ভিডিওতে বেশ কিছু যুবককে ধর্মীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে। তারপরেই ওই ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে রাস্তার পাশে দোকানের ভাঙা শেড।

    হিন্দুদের ঘরবাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে গাড়ি, দাবি সুকান্তর

    ভিডিওটি পোস্ট করে সুকান্তবাবু লিখেছেন, ‘‘তোষণসর্বস্ব ব্যর্থ পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের হিন্দুদের অস্তিত্ব ক্রমশ আশঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এই ভয়াবহ ছবি আজকের দক্ষিণ মালদার মোথাবাড়ি (Malda) অঞ্চলের চৌরঙ্গী মোড়ের। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে হিন্দুদের ৬০-৭০ টি দোকান ভেঙে লুট করা হয়েছে, হিন্দুদের ঘরবাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে এবং মূল রাস্তায় দখল নিয়ে যথেচ্ছাচারে গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। এলাকার হিন্দুরা ত্রস্ত, আতঙ্কিত কিন্তু এলাকায় কোনও পুলিশের দেখা নেই! সংখ্যালঘু তোষণ করতে করতে রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির গোপন অভিসন্ধি ক্রমশই সফল করে তুলছেন। বাংলার নিপীড়িত অসহায় হিন্দুরা সম্মিলিত হয়ে এই অন্যায় তোষণ নীতির প্রতিশোধ নেবেন ২০২৬-এ।’’

    পুলিশকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি

    নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকেও তুলোধনা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, মোথা বাড়িতে যখন ভয়ঙ্করভাবে হিংসা ছড়িয়েছে, তখনই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আশ্চর্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর আরও দাবি, ‘‘এটাই হল (মালদার মোথাবাড়ি হিংসা) নির্লজ্জ তোষণের রাজনীতির মূল্য। হিন্দুদের প্রতি অত্যাচার।’’

    মোথাবাড়ির ঘটনায় পুলিশকে নিধিরাম সর্দার বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘তোষণবাজ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের হিন্দুদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলছেন। মালদা জেলার মোথাবাড়ি (Malda) অঞ্চলে বেছে বেছে হিন্দুদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। মূল রাস্তা দখল করে জেহাদিরা যথেচ্ছাচারে কি ভাবে গাড়ি ভাঙচুর করছে দেখুন। জেহাদিদের সামনে পড়ে ‘নিধিরাম সর্দারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া মমতা পুলিশ কে দেখুন, হাত জোড় করে যেনো করুণা প্রার্থনা করছে !’’

    আইনি পথেই মোকাবিলা করা হবে, বললেন বিরোধী দলনেতা

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক অতীতে গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে খবরের শিরোনামে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকা। নিজের সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে ওই অঞ্চলগুলির নামও তুলে ধরেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এনিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজের পোস্টে লিখেছেন, ‘‘তবে আমিও প্রতিজ্ঞা করলাম, এর শেষ দেখে ছাড়ব। আইনি পথে যেমন হাওড়া, শ্রীরামপুর, ডালখোলা, খিদিরপুর, রিষড়া, মোমিনপুরের জেহাদিদের বাগে এনেছি ঠিক একই ভাবে এদের কেও শিক্ষা দেবো।’’

    মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্যর

    বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। এই ভিডিও মোথাবাড়ির সাম্প্রদায়িক হিংসার সাথে বলে দাবি করেছেন তিনি নিজের পোস্টে। এক্স মাধ্যমে ওই ভিডিওটি পোস্ট করে মালব্য লিখেছেন, ‘‘দক্ষিণ মালদার মোথাবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হিংসা চলছে। উগ্র মৌলবাদীরা রাস্তায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। বেছে বেছে হিন্দু বাড়ি, দোকান এবং গাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লন্ডনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নিজের রাজ্যের এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার প্রতি তিনি উদাসীন।’’

  • Earthquake in Myanmar: ৭.৭ তীব্রতার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতি মায়ানমার, তাইল্যান্ডে! ‘‘সাহায্যে প্রস্তুত ভারত’’, আশ্বাস মোদির

    Earthquake in Myanmar: ৭.৭ তীব্রতার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতি মায়ানমার, তাইল্যান্ডে! ‘‘সাহায্যে প্রস্তুত ভারত’’, আশ্বাস মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পর পর দু’বার ৭ মিনিটের ব্যবধানে জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মায়ানমার (Earthquake in Myanmar)। রিখটার স্কেলে প্রথমটির কম্পনের মাত্রা ৭.৫ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ৭ বলে জানিয়েছে ভারতের ভূকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। তবে আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৭। দ্বিতীয়টির ৬.৪। কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশেও। মৃদু কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে কলকাতায়। ভূমিকম্পের জেরে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দেন, যে কোনও ধরনের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ভারত। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডের ভূমিকম্পের পর, সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সকলের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। ভারত যে কোনও সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। এই বিষয়ে, আমাদের কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, বিদেশ মন্ত্রককে মায়ানমার এবং তাইল্যান্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।’’

    কখন অনুভূত হয় কম্পন

    ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটি হয় ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে। আর দ্বিতীয় কম্পনটি হয় ১২টা ২ মিনিটে। প্রথমটির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের (Earthquake in Myanmar) বর্মা প্রদেশের ১২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। আর দ্বিতীয়টির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের লকসকের ১৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। দু’টি কম্পনের ক্ষেত্রেই উৎপত্তিস্থলটি ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার নীচে। আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাগাইংয়ের ১৬ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে। কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে, ৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও হোটেল, শপিং মল কাঁপতে শুরু করে। সেখানে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলোচ্ছাস দেখা গিয়েছে বড় বড় হোটেলের সুইমিং পুলেও।

    কেন এত ভয়ঙ্কর কম্পন 

    ১২টা ২ মিনিটে মায়ানমারের (Earthquake in Myanmar) মান্দালে থেকে ৯০ কিমি দূরে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিমি নীচে কম্পনের কেন্দ্র ছিল। যেহেতু ভূপৃষ্ঠের এত কাছে, অগভীর কম্পনের উৎসস্থল ছিল, তাই মাটির উপর ধাক্কা অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে। জানা গিয়েছে, এখানে ইন্ডিয়ান প্লেট বার্মা প্লেটের নীচে ঢুকে গিয়েছে। দুই প্লেটের সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণে শক্তি জমা হচ্ছে ভূগর্ভে। সেই শক্তিই ভূমিকম্প রূপে বেরিয়ে এসেছে

    ভূমিকম্পের প্রভাব

    এই ভূমিকম্পের (Earthquake in Myanmar) প্রভাব পড়েছে ভারত-বাংলাদেশেও। কম্পন অনুভূত হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তরে সিকিম-সহ একাধিক জায়গায়। তীব্র কম্পনের জেরে মায়ানমারে ভেঙে পড়েছে একের পর এক বহুতল। মায়ানমারের মান্দালয়ের ঐতিহাসিক আভা সেতুটি ইরাবতী নদীতে ধসে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই কম্পনের যে ছবি-ভিডিও ছড়িয়েছে তাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আফটার শকেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • Mamata Banerjee in London: রাজ্যে হিন্দুরা কি সুরক্ষিত? শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে লন্ডনে কড়া প্রশ্নের মুখে মমতা

    Mamata Banerjee in London: রাজ্যে হিন্দুরা কি সুরক্ষিত? শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে লন্ডনে কড়া প্রশ্নের মুখে মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কেলগ কলেজে বক্তৃতার মাঝেই তাল কাটল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee in London)। মমতার ভাষণের মধ্যেই বাংলায় হিন্দুদের উপর অত্যাচার ও মমতার সাম্প্রদায়িক তোষণ নীতি নিয়ে লন্ডনের কলেজে প্রশ্ন তুললেন হিন্দু ছাত্ররা। সিঙ্গুর থেকে টাটার চলে যাওয়া থেকে আরজি কর কাণ্ড, প্রশ্ন এল দর্শকাসন থেকে। দর্শকদের একাংশের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় মমতার। সমালোচকদেরই সাম্প্রদায়িক স্বৈরাচার মনোভাব সম্পন্ন বলে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।

    লন্ডনে প্রশ্নের মুখে মমতা

    বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বক্তৃতা রাখেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee in London)। রাজ্যের নারী, শিশুদের সামাজিক উন্নয়ন ও মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে ভাষণ দেন মমতা। সেখানেই প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সমালোচকদের প্রশ্ন, বাংলা থেকে টাটাকে তাড়িয়েছেন কেন? ভরা সভাতেই মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যেবাদী বলেও আক্রমণ করেন প্রশ্নকর্তা। এদিন শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, সাম্প্রদায়িক তোষণ ইস্যু নিয়েও কড়া প্রশ্নবাণের মুখে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় বিনিয়োগ নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়েই প্রশ্নের সম্মুখীন হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথার মাঝেই দর্শকদের একাংশ হাততালিও দিতে থাকেন।

    আরজিকর নিয়ে প্রশ্ন

    লন্ডনে গিয়ে আরজি কর কাণ্ড নিয়েও প্রশ্নের মুখে মমতা (Mamata Banerjee in London)। এদিনের বক্তব্যের বিষয়ই ছিল রাজ্যের নারী, শিশুদের সামাজিক উন্নয়ন ও মহিলাদের ক্ষমতায়ন। স্বাভাবিকভাবেই আরজি কর নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা ছিলই। কলেজের ভাষণে আরজি কর নিয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “ওটা বিচারাধীন বিষয়। আর এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।” শুরু থেকে অনুষ্ঠানের ছন্দ ঠিক থাকলেও তাল কাটে আর জি করের প্রসঙ্গে দর্শকদের তরফে প্রশ্ন উঠতেই। আরজি কর কাণ্ডে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন দর্শকরা। আরজি কর ক্রাউড ফান্ডিং প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। দর্শক আসন থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার রাজ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে আপনারা মন্ত্রীরা বলে আঙুল ভেঙে দেবে।’ দর্শকের এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ অনিকেত-দিলীপের

    আরজিকর কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগেছেন এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। তিনি বলেন, ‘অভয়ার ন্যায়বিচার যদি না দেন, তাহলে বাংলার মানুষ কেন, সারা বিশ্বের মানুষ অভয়ার পাশে দাঁড়াবেই। সকল বিশ্ববাসী পাশে আছে। আমাদের স্লোগানে আমরা বলেছিলাম, ‘আর জি কর দিচ্ছে ডাক, অভয়া বিচার পাক, বিশ্ব দিচ্ছে ডাক, অভয়া বিচার পাক। সেটাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আমরা চাই সিবিআইও দেখুক, বিচার দিক অভয়াকে। কারা নেপথ্যে ছিল, কারা প্রমাণ নষ্ট করেছিল প্রকাশ্যে আসুক।’ শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন, যে আরজি কর কলেজে কী ঘটেছে তার জবাব তাঁকে দিতে হবে। দিলীপ বলেন, “আমরা আগে বলেছিলাম যে তিনি যখন যুক্তরাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যাবেন, তখন তাঁকে আরজি কর কলেজে কী ঘটেছে তার জবাব দিতে হবে। বাংলায় আরজি কর-এর মতো ঘটনা ঘটছে। এখানে মহিলারা নিরাপদ নন। যদি কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করে, তাহলে তাঁকে উত্তর দিতে হবে। সেখানকার লোকেরা এখানে প্রশ্ন করবে।”

    হিন্দুরা কতটা সুরক্ষিত প্রশ্ন মমতাকে

    এদিন বক্তৃতার মাঝে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee in London) বলতে শোনা গিয়েছে, দিদি কিছু নিয়ে ভাবে না। কারও পরোয়া করে না। এরপরই দর্শকদের আচরণ সংযত করতেও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন লন্ডনে হিন্দু ছাত্ররা, মমতার কাছে জানতে চান বাংলায় কতজন হিন্দুকে মরতে হয়েছে। তিনি কেন মুসলিমদের তোষণ করে যান? সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন মমতা। তিনি বলেন, এমন আচরণ করে  ছাত্ররা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই অসম্মান করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এও বলতে শোনা গিয়েছে, “আমায় ধরতে পারলে ধরো। না ধরতে পারলে, লড়তে এসো না।”  হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবার জন্য, আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, সকলের ঐক্যের পক্ষে, আপনারা নন। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মের কথা বলবেন না, সব ধর্মের কথা একসঙ্গে বলুন।’ এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে দর্শক আসন থেকে’গো অ্যাওয়ে’ স্লোগানও ওঠে।

    সন্দেশখালিতে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, হিন্দুদের গণহত্যা

    ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা অমিত মালব্য একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ভিডিওতে দেখা যাওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন লন্ডনের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee in London) মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিজেপি মুখপাত্র অমিত মালব্য সোশ্যাল সাইটে লেখেন “লন্ডনের কেলগ কলেজে বাঙালি হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন, আরজি করের মহিলা ডাক্তারের ধর্ষণ ও হত্যা, সন্দেশখালিতে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, হিন্দুদের গণহত্যা এবং ব্যাপক দুর্নীতির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ স্লোগান তোলেন।” বিজেপি নেতা আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য “অপমান”। “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে টানা কয়েকটি পোস্টার… তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য কলঙ্ক। বাংলার ঐতিহ্য ধ্বংস করে তাদের এত অপমানের মধ্যে ফেলার জন্য হিন্দু বাঙালি প্রবাসীরা তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে চান।”

    ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

    এক ব্যবসায়ী প্রশ্ন করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে কিনা। মমতা এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমি ভিন্নমত পোষণ করি। বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা রয়েছে। যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিস্থিতি হয়, তবে কি আপনি মনে করেন আমরা লাভবান হতে পারব?” মমতার এই কথার প্রতিবাদ করেছেন বিজেপি নেতা প্রবীণ ভান্ডারি। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মমতার এই মন্তব্য ভারতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।

    হিন্দু ছাত্রদের অভিযোগ

    অনুষ্ঠান শেষে, হিন্দু ছাত্ররা জানায়, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “দুর্নীতিপূর্ণ এবং অগণতান্ত্রিক শাসন” এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা আরও বলেছে, মমতার (Mamata Banerjee in London) রাজ্যে ছাত্র নির্বাচন নেই, স্কুল ছুটের সংখ্যা বেড়েছে এবং ছাত্র আন্দোলন দমন করা হয়েছে। রাজ্যে সাম্প্রদায়িক তোষণ নীতি চালাচ্ছেন মমতা। হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে নানা জায়গায়। ভাঙা হচ্ছে দেবী মূর্তি। রাজ্য সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

LinkedIn
Share