Tag: news in bengali

news in bengali

  • West Bengal Elections 2026: নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

    West Bengal Elections 2026: নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। ভোট গণনার ঠিক পূর্বমুহূর্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বুথ অর্থাৎ মোট ২৮৫টি কেন্দ্রেই ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) হবে, ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।

    কেন কমিশন ফের ভোট করবে (West Bengal Elections 2026)?

    বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের তদন্তে দেখা গিয়েছে, একদিকে বুথের ভিডিও ফুটেজ সম্পূর্ণ নয়। পরে সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এসেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেকর্ড ইচ্ছাকৃত ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩টি বুথের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বড়সড় তথ্য লোপাটের ঘটনা সামনে এসেছে। ভোটকক্ষে বারবার একাধিক অনুমতি নেই এমন লোকজনের অবাধ প্রবেশও দেখা গিয়েছে। ভোটারদের (West Bengal Elections 2026) ওপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করতে দেখা গিয়েছে। একই ভাবে স্ক্রুটিনির নোটিশ রাজনতিক দলের প্রার্থীদের দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র ইমেলে বা মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হয়েছে। এই কাজ নির্বাচনী বিধিভঙ্গের শামিল। তাই এবার পর্যবেক্ষকরা (Election Commission India) ফলতায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

    কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলতার বহু ভোটকেন্দ্র থেকে গুরুতর নির্বাচনী বিধিভঙ্গ (West Bengal Elections 2026) এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ মিলেছে। বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টে ইভিএমে কারচুপি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে আসায় বাতিল করা হয়েছে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, “এটি একটি সাহসী ও সময়োচিত পদক্ষেপ। যে সব ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল।”

    শাসক দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা স্থগিত রেখে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।

    গণনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব

    ৪ মে রাজ্যের অবশিষ্ট ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট (West Bengal Elections 2026) গণনা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে। কমিশনের মতে, একটি মাত্র কেন্দ্রের গণনা স্থগিত থাকায় সামগ্রিক ফলে (Election Commission India) তেমন কোনও বড় প্রভাব পড়বে না। তবে গণনা ও ফল প্রকাশের এই অন্তর্বর্তী সময়ে ফলতাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে।

  • Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুনের মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিধানসভার সদস্যপদ হারালেন কর্নাটকের (Karnataka) প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ভারতীয় সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ জারি করেছে বিধানসভা সচিবালয়।

    ঘটনার বিবরণ ও আদালতের রায় (Congress MLA Vinay Vulkarni)

    ধারওয়াড় জেলা (Karnataka) পঞ্চায়েত সদস্য যোগেশ গৌড়া খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ২০১৬ সালে একটি জিম থেকে বেরোনোর সময় যোগেশ গৌড়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর বিশেষ আদালত বিনয় কুলকার্নিকে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951) অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দুবছর বা তার বেশি মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি অবিলম্বে তাঁর পদের যোগ্যতা হারান। সেই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কুলকার্নির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

    ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর

    বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni) কর্নাটকের ধারওয়াড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধি ছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর এই অপসারণ কর্নাটক (Karnataka) কংগ্রেসের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে লিঙ্গায়েত ভোটব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

    কর্নাটক বিধানসভা থেকে বিনয়কে পদচ্যুত করা হয়েছে। ২ মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ধরওয়াড় বিধানসভা আসনটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ

    নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ধারওয়াড় আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তবে কুলকার্নির (Congress MLA Vinay Vulkarni) আইনজীবীরা এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়, তবেই তাঁর সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকবে।

  • West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট গণনা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ইভিএমের (West Bengal Elections 2026) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। লক্ষ্য, গণনার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ইভিএমের সুরক্ষা তদারকি করা।

    বাইরে অতন্দ্র প্রহরী (West Bengal Elections 2026)

    বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান চলবে সোমবার সকাল পর্যন্ত। যতক্ষণ না দলের প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করছেন, ততক্ষণ মহিলা কর্মীরা স্ট্রংরুমের (West Bengal Elections 2026) বাইরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবস্থান করবেন। প্রতিটি জেলার নেতৃত্বকে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কমিশনকে (Election Commission India) সময়ে সময়ে অভাব অভিযোগ জানাবেন মহিলা কর্মকর্তারা।

    ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’

    সম্প্রতি কলকাতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুম— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ এবং সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু অভিযোগ সামনে আসে। শাসক ও বিরোধী (West Bengal Elections 2026)— উভয় পক্ষই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার রেশ টেনেই বিজেপি এবার তাদের মহিলা বাহিনীকে স্ট্রংরুম পাহারার গুরুদায়িত্ব দিয়েছে।

    তৃণমূল ও কমিশনের ভূমিকা

    এর আগে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজাও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন। তবে কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তাঁরা সেই অবস্থান তুলে নেন। এবার বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ত্রিস্তরীয় বলয়ে মোড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সর্বেক্ষণ নজরদারি (West Bengal Elections 2026) চালানো হচ্ছে।

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

  • Cocaine Seized: “মাদক চক্রকে নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার”, বললেন শাহ

    Cocaine Seized: “মাদক চক্রকে নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মাদক চক্রকে (Cocaine Seized) নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার।” শুক্রবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মুম্বইয়ে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) ১,৭৪৫ কোটি টাকার ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন উদ্ধার করার পর এই মন্তব্য করেন তিনি। শাহ একে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় সাফল্য বলেই উল্লেখ করেন।

    শাহের বক্তব্য (Cocaine Seized)

    এক্স হ্যান্ডেলে শাহ লিখেছেন, “আমরা মাদক চক্রকে নির্মমভাবে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। অ্যাট দ্য রেট নার্কোটিক্সব্যুরো (@narcoticsbureau) মুম্বইয়ে ১,৭৪৫ কোটি টাকার ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন উদ্ধার হয়েছে। এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। সূত্রের খবর, এটি নিচু স্তর থেকে ওপরের স্তর পর্যন্ত তদন্তের এক যুগান্তকারী উদাহরণ, যেখানে সংস্থাটি একটি ছোট চালান ধরে বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য টিম এনসিবিকে অভিনন্দন।”

    মাদক পাচারকারী মোহাম্মদ সলিম দোলা

    এদিকে, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে, ‘অপারেশন গ্লোবাল-হান্টের’-এর অধীনে পলাতক মাদক পাচারকারী মোহাম্মদ সলিম দোলাকে তুরস্ক থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। শুক্রবার ভোরে নয়াদিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাকে হেফাজতে নেয় এনসিবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) মতে, “মুম্বইয়ের বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সি সলিম দোলার বিরুদ্ধে ভারতের অনুরোধে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। ভারতে একাধিক মাদক পাচার মামলায় তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল (Cocaine Seized)।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিগত কয়েক বছরে দোলা মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের একাধিক দেশে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্র গড়ে তুলেছে। গত দু’দশকে তার অপরাধমূলক কাজকর্মের জেরে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে হেরোইন, চরস, মেফেড্রোন, ম্যান্ড্রাক্স এবং মেথামফেটামিনের একাধিক বড় চালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, “ভারতে সরবরাহ শৃঙ্খলের নীচের স্তরে বড় সরবরাহকারী হিসেবে দোলার নাম বারবার উঠে এসেছে। এছাড়াও এটিএস গুজরাট ও মুম্বাই পুলিশও তাকে খুঁজছিল। এর আগে ২০২৫ সালে তার ছেলে তাহিল সলিম দোলা এবং অন্য সহযোগীদের ইউএই-র প্রত্যর্পণের পর মুম্বই পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এই (Amit Shah) অভিযান তুরস্ক, ইন্টারপোল ও ভারতীয় সংস্থাগুলির ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার উদাহরণ (Cocaine Seized)।”

     

  • India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর আবারও সম্পর্কের উন্নতির পথে হাঁটছে ভারত ও বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation)। মহম্মদ ইউনূসের পরবর্তী জমানায় ঢাকায় নতুন সরকারের গঠন ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থে সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে। অন্যদিকে, ভারত সরকারও ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতীয়দের জন্য ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি চালু

    বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের ভিসা সেন্টারগুলো এখন পুরোপুরি কার্যকর। বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ (Riaz Hamidullah) জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর মাসে যে পরিষেবাগুলি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলি ফেব্রুয়ারি থেকেই ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। গত দুই মাসেই ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা এবং পারিবারিক কারণে ভিসা দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

    ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে ভারতও

    বাংলাদেশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেও ভারত এখনও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বর্তমানে আগের তুলনায় মাত্র ১৫–২০ শতাংশ হারে চলছে। জরুরি ও চিকিৎসাজনিত আবেদনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সফরে এসে ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। এর কিছুদিন পরই ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri) ঢাকায় যান। তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এছাড়া নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi) নিয়োগ এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নানাবিধ অশান্তির প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবায় কড়াকড়ি করেছিল। কেবল চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ‘ডবল-এন্ট্রি’ ছাড়া বাকি সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অনির্দিষ্ট কালের জন্য। তবে এ বার সেই পরিষেবাও চালু হচ্ছে। সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, ভিসা পরিষেবা চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

    ফের পর্যটনে সাড়া

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় বিদেশি পর্যটক উৎস। ২০২৩ সালে প্রায় ২১.২ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ১৭.৫ লক্ষে। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা তীব্রভাবে নেমে আসে প্রায় ৪.৭ লক্ষে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো শহরে ভারতীয় মিশনের সামনে বিক্ষোভের জেরে পরিষেবা কমানো হয়েছিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা পরিষেবা সহজ করা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম ধাপ। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে দুই দেশ। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত ডিজেল সরবরাহ করেছে। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দুই পক্ষই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

  • Assembly Election 2026: গণনা-পর্ব বিঘ্নহীন করতে অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Election 2026: গণনা-পর্ব বিঘ্নহীন করতে অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026)। ভোট গণনা হবে ৪ মে, সোমবার। গণনাও বিঘ্নহীন করতে অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগ করছে (Police Counting Observers) নির্বাচন কমিশন। ১৬৫ জন নতুন কাউন্টিং অবজার্ভার এবং ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে। ১৬৫টি বিধানসভার গণনাকেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে কাউন্টিং অবজার্ভারদের। একাধিক গণনাকক্ষ সম্বলিত গণনাকেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে তাঁদের।

    কাউন্টিং অবজার্ভার নিয়োগ (Assembly Election 2026)

    কমিশন সূত্রে খবর, একাধিক গণনা কক্ষ রয়েছে, এমন গণনাকেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে কাউন্টিং অবজার্ভারদের। গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত পুলিশ অবজার্ভারও। শান্তিপূর্ণ, ভয়মুক্ত ও স্বচ্ছ গণনাপ্রক্রিয়ার জন্যই অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, কাউন্টিং ও পুলিশ অবজার্ভাররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখেই কাজ করবেন। প্রসঙ্গত, ভোট গণনায় কেন কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের রাখা হচ্ছে, প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে মুখ পোড়ানোর (নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ বহাল রাখায়) পর সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। আরও একবার মুখ পুড়িয়ে রণে ভঙ্গ দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শীর্ষ আদালত কমিশনের ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকায়ই শিলমোহর দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাঁরা যদি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন, তাহলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নাকি রাজ্য সরকারের কর্মী, তাতে কী এল, প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ (Assembly Election 2026)।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্য

    এই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, “গণনা কেন্দ্রে সমস্ত দলের এজেন্ট থাকবে, তাহলে অসুবিধা কোথায়? কমিশনের কাছে কেন্দ্র-রাজ্য উভয় কর্মীদের মধ্যে থেকে আধিকারিক বাছার অধিকার রয়েছে। কমিশন যদি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করেন, তাতে অসুবিধা কোথায়? রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র, এঁরা সবাই সরকারি কর্মী।” তাই এই বিভাজন আসছে কোথা থেকে, প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি পিএস নরসিংহ। ১৩ এপ্রিল যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কমিশন, সেই অনুযায়ীই কাজ হবে, আলাদা করে নির্দেশ দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই বলেও জানিয়ে দেয় বেঞ্চ (Police Counting Observers)। এর পরেই অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগের কথা জানায় কমিশন। কী কাজ করবেন এই কাউন্টিং অবজার্ভার এবং পুলিশ অবজার্ভাররা? সূত্রের খবর, গণনা চলাকালীন পর্বে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, গণনা প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তা দেখবেন অতিরিক্ত কাউন্টিং অবজার্ভাররা। পুলিশ অবজার্ভাররা গণনাকক্ষে ঢুকতে পারবেন না। তাঁরা শুধু দেখবেন বাইরে কোনও গন্ডগোল হচ্ছে কিনা (Assembly Election 2026)।

     

  • Post Poll Violence: বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় মারধর, খুনের হুমকি! নির্বাচনোত্তর হিংসায় তপ্ত ফলতা, পুলিশকে বড় নির্দেশ কমিশনের

    Post Poll Violence: বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় মারধর, খুনের হুমকি! নির্বাচনোত্তর হিংসায় তপ্ত ফলতা, পুলিশকে বড় নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনোত্তর হিংসার জেরে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটের ফল বের হওয়ার কথা সোমবার। তার আগেই এলাকায় তৃণমূল অশান্তি শুরু করে দিয়েছে বলে (Post Poll Violence) অভিযোগ। রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে হাসিমনগর এলাকা। বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ছেন তাঁরা। মারধরের পাশাপাশি খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শনিবার হাসিমনগরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পদ্ম-কর্মী-সমর্থকরা। এই পরিস্থিতিতে ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর দুই ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিল কমিশন। এমনকী, নির্দেশ না মানলে পুলিশের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (Post Poll Violence)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, মায় জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ পর্ব চুকে যাওয়ার পর সেই সন্ত্রাস আরও বেড়েছে বলেই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। তাদের দাবি, যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারধরও করা হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুরু থেকেই খবরের শিরোনামে ফলতা কেন্দ্র। ভোটের আগে থেকেই এই কেন্দ্রে বারবার উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন বিরোধীরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের বাড়ির সামনে গিয়ে ‘সিংহম’ নামে পরিচিত এই আধিকারিকের কড়া বার্তা তখনই আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল।

    পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

    ভোট-পর্ব শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ফলতার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ফলতার অন্তত ২৩টি বুথে পুনর্নির্বাচন হোক। অভিযোগ, ওই বুথগুলিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি ভোট প্রক্রিয়া (Post Poll Violence)। এহেন আবহে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দোষীদের গ্রেফতারির পাশাপাশি নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিতেও সরব হন তাঁরা। এই ঘটনায় উঠে এসেছে জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইস্রাফুল চোকদার নাম। তাঁর নেতৃত্বেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁর গ্রেফতারির দাবিও করেন বিক্ষোভকারীরা (BJP)।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

    আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন রানি মণ্ডলও। তিনি বলেন, “পুরো হাসিমনগর জ্বলছে৷ আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে৷ ঘরে তালা দিয়ে দিচ্ছে৷ ৪ তারিখে (ভোট গণনার দিন) আমাদের বাড়িতে বোমা ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বাচ্চাদের মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এই অত্যাচার আমরা মেনে নেব না৷ আমরা সাধারণ মানুষ। আর এটা গণতান্ত্রিক দেশ৷ তাই আমরা যাকে খুশি ভোট দিতেই পারি৷ এতদিন জোর করে আমাদের ভোট দিতে দেয়নি৷ এখন ভোট দেওয়ায় মেরে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে৷ আমরা তৃণমূল সরকার চাই না৷” বিক্ষোভের খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় জওয়ানদের। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় যায় (Post Poll Violence)। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমরা ইসরাফিলের (তৃণমূল নেতা) গ্রেফতারি চাই। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। আর চাই ফলতায় দু’টি বুথ আছে, যেখানে পুনর্নির্বাচন করা হোক (BJP)।’’

    পুনর্নির্বাচনের দাবি

    এ রাজ্যে দু’দফায় হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ২৯ এপ্রিল হয় দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন। এদিনই ভোট হয় ফলতায়ও। সেদিনও দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল ফলতা। এই বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছিল। শুধু ওই দুই বুথ নয়, আরও কয়েকটি বুথ থেকেও নানা অভিযোগ আসতে থাকে। বিরোধীরা ফলতার ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। তবে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মতো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠান বিশেষ পর্যবেক্ষক (BJP)।

    সুব্রত গুপ্তর রিপোর্ট

    সূত্রের খবর, তিনি ফলতার ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করার কথা জানিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কমিশনকে (Post Poll Violence)। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ভোটের দিন সকালে ফলতার একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। দুপুর একটার সময় ‘টেপ রিভিউড’ বলে তথ্য দেওয়া হয় প্রিসাইডিং অফিসারের তরফে। যদিও ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় রয়েছে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও (Post Poll Violence)।

    এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ

    এদিকে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, ইস্রাফুল এবং অপর এক জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ সুজাদ্দিন শেখের নামোল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশ না মানলে পুলিশের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে পুলিশকেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে হবে।

  • Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। রহস্যমৃত্যু আরও এক ভারতশত্রুর। দিল্লির হিট লিস্টে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই জঙ্গির। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরি এই জঙ্গি উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড। তার মৃত্যু পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য বিরাট ধাক্কা।

    অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। এ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন মৃত্যুর (Death) কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনও সংঘাত। সাজ্জাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    কে এই সাজ্জাদ

    সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সাজ্জাদ। এরপর ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল। কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় সাজ্জাদ। সেখানে বসেই ভারতীয় বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নামে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের নানা প্রান্তে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা ছিল এই জঙ্গির। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের হিট লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে নাম ছিল এই জঙ্গির। ভারতে সন্ত্রাসী হামলাগুলির অন্যতম অপারেটর হিসেবে গণ্য করা হত এই জঙ্গিকে। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা বিভাগের জন্য নিশ্চিতভাবে স্বস্তির।

    ভারত-বিরোধীদের মৃত্যু

    সাম্প্রতিক সময়ে পাকভূমে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসীর। আড়ালে থাকা এই হামলাকারীদের হিরো হিসেবে গণ্য করছে ভারতের জনগণ। সাজ্জাদের হত্যাও এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।

    শেখ ইউসুফ আফ্রিদির হত্যা: সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত হামলায় মৃত্যু হয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদির। জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে লস্করের সংগঠনের প্রধান ছিল আফ্রিদি। মূলত এখান থেকে মুজাহিদদের (আত্মঘাতী জঙ্গি) প্রশিক্ষণ দিয়ে কাশ্মীর-সহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এর উপরেই। বহুবার হাফিজ সইদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা এই আফ্রিদিকে।

    সালমান আজহারের মৃত্যু: দু’দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আসলে পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হলে আরও সমস্যায় পড়তে পারে পাক সরকার। তাই পুরোটাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়।

  • Weather Forecast: দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিন জারি থাকবে ঝড়বৃষ্টি, ভোট গণনার দিন বাড়বে কালবৈশাখীর দাপট

    Weather Forecast: দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিন জারি থাকবে ঝড়বৃষ্টি, ভোট গণনার দিন বাড়বে কালবৈশাখীর দাপট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়বৃষ্টির জেরে রাজ্যে দক্ষিণবঙ্গে কমেছে গরমের দাপট (Weather Forecast)। ঠান্ডা হয়েছে কলকাতাও। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আপাতত আরও কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে থাকতে পারে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া (South Bengal)। তবে সোমবার, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বাড়বে কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টির দাপট। তীব্র ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ শিলাবৃষ্টির ভ্রুকুটি বঙ্গে।

    বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি (Weather Forecast)

    হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আজ, শনিবারও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। তবে, রবিবার থেকে ফের বাড়বে বৃষ্টির দাপট। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ বেড়ে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে। মঙ্গলবারও শহরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যেহেতু সোমবার ঝড়বৃষ্টির দাপট থাকবে সবচেয়ে বেশি, তাই সেদিনের জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। এদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই দিনই হবে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা (Weather Forecast)। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতেও রয়েছে একই পূর্বাভাস।

    দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র দুর্যোগের সম্ভাবনা

    পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় রবিবারও ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরেও মাঝেমধ্যে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। তাই উত্তাল সমুদ্র। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে সোমবার পর্যন্ত। ঝড়বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গেও। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পঙে শনিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। জলপাইগুড়িতে ভারী বর্ষণ চলবে রবিবার পর্যন্ত। উত্তরের জেলাগুলিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সব জেলায়ই সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস (South Bengal)।

    জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জের

    গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর যে ঘূর্ণাবর্তটি ছিল, সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন এলাকার ওপর আর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে (Weather Forecast)। সমুদ্রতলের চেয়ে ৩.১ থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় তার অবস্থান। এই জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে এখনও জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। তাই রয়েছে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি। ঝড়বৃষ্টির কারণে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রাও এক লপ্তে কমে গিয়েছে বেশ খানিকটা। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বা দক্ষিণের কোথাও আগামী সাত দিনে তাপমাত্রার বড় কোনও হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রসঙ্গত, বিরল মে মাস দেখতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। এ মাসে তাপপ্রবাহের বদলে (South Bengal) দেখা যাবে শুধুই বৃষ্টির দাপট। তার জেরে এ মাসে বঙ্গবাসীকে গরমের অস্বস্তি ভোগ নাও করতে হতে পারে বলেই পূর্বাভাস হওয়া অফিসের (Weather Forecast)।

LinkedIn
Share