Tag: news in bengali

news in bengali

  • Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রেলযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন কেন্দ্র দিঘা রুটে চালু হতে পারে সেমি-হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ (Vande Bharat Express)। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, “নির্দিষ্ট একটি রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেই দিঘায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পথ সুগম হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে দিঘাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দিঘায় মুম্বই-চেন্নাইয়ের আদলে প্রশস্ত মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।

    প্রশস্ত হচ্ছে দিঘার মেরিন ড্রাইভ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর উপকূলবর্তী সড়কের আদলে দিঘার মেরিন ড্রাইভকেও চওড়া ও আধুনিক করা হবে।” পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মেরিন ড্রাইভের নামে অতীতে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পর্যটকদের সুবিধার্থে সেই রাস্তাকে ন্যূনতম দুই লেনে (২-লেন) উন্নীত করা হবে।”

    মুক্ত হচ্ছে পর্যটন কর, ১ জুলাই থেকে স্বস্তি

    দিঘায় আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের আর মাথাপিছু ১০ টাকা করে ‘চাঁদা’ বা কর দিতে হবে না। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে পর্যটকপিছু এই টাকা নেওয়া হতো, যা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নন্দকুমার-দিঘা জোড়া রেললাইন ও জমি অধিগ্রহণ

    জেলা শাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত রেললাইনকে দ্বিমুখী (Vande Bharat Express) করার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। ইতিপূর্বেও রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা শাসকের এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।”

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রায় সমস্ত প্রধান উপকূলবর্তী শহরই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু পূর্বতন প্রশাসনের নেতিবাচক মনোভাব ও জমি প্রদানে অনীহার কারণে দিঘা এই আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই জট কাটাতে তৎপর। নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭৪ একর জমি রেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি মাত্র ৬ একর জমির প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    রানাঘাট রুট নিয়েও আশার আলো

    দিঘার পাশাপাশি নদিয়া জেলার রানাঘাট স্টেশন হয়েও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রানাঘাটের উত্তর-পশ্চিমের বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর শাখার তৃতীয় লাইনের কাজ সম্পন্ন হলেই এই রুট দিয়েও ছুটতে পারে প্রিমিয়াম সেমি-হাইস্পিড ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই রেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনই সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

    দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগের সরকারকে তোপ

    একই ভাবে দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে কার্যকর হতে দেখতে পারবেন। ডিপার্টমেন্টগুলি খতিয়ে দেখে বোঝা গিয়েছে, অন্তত অত দুই বছর আগের সরকার এখানে কোনও কাজ করেনি।”

    হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যূনতম কোনও পরিষেবা নেই। একটাও আইসিইউ বেড নেই, একটাই অ্যাম্বুলেন্স। ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেই। ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক বা অর্থোপেডিক নেই। বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, গোটা সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। তাঁদের অর্থবৃদ্ধি করার কথা বলেছি।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর

    এদিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সম্মানে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামক এই কর্মসূচিটি ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। আজ, সোমবার দুপুর ৩টেয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় (ছোট লালবাড়ি) যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

    পুরসভার প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও যোগ দিবসের আহ্বান

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর বর্তমানে পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরের সময় পুর প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর কোনও বিশেষ বৈঠক হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

    আগামী ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় মূল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এই যোগ-যজ্ঞে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে শামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

  • FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল। এত গোল বিশ্বকাপে আগে কবে হয়েছে, তা ভেবে দেখতে হবে। ভারতীয় সময় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চার ম্যাচে মোট ১৯ গোল হল। বড় জয় পেল জার্মানি, সুইডেন। ড্র হল নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচ। জিতল আইভরি কোস্টও।

    কুরাসাওকে ৭ গোল জার্মানির

    শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এ বারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় কুরাসাও। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দেয়। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন— সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসকে রুখল জাপান

    রবিবার নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল চলছিল। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ। সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে।

    টিউনিশিয়াকে হারাল সুইডেন

    সুইডেনের খেলা দেখে মনে হল, এ বারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া তারা। গত বার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পোল্যান্ডের কাছে হেরে। এ বার সেই পোল্যান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচেই সুইডেন বুঝিয়ে দিল, তাদেরকে হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। এদিন পাঁচ গোল করলেও অন্তত সাত গোল করার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ড্র করায় এই গ্রুপ থেকে আপাতত শীর্ষে সুইডেন। তারা যে খেলাটা দেখাল, তাতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের সামনেও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।

    ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

    বাকি তিন ম্যাচে ১৮ গোল হলেও এই ম্যাচে মাত্র এক গোল হল। তা-ও একেবারে শেষ মুহূর্তে। দেখে মনে হচ্ছিল, ড্র হবে খেলা। কিন্তু ৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট। হারতে হল লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে।

  • Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দেশের ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়ায় গিয়েছেন (Bratislava Visit)। তাঁর এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (Narendra Modi)

    দু’দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলিগ্রিনি (Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico)-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি মোদি স্লোভাকিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। স্লোভাকিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে জানান, এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, তৈরি করবে নয়া সহযোগিতার ক্ষেত্র। তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ও প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের আশাও ব্যক্ত করেন।

    ঐতিহাসিক সফর

    এর আগে ফ্রান্স সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে অংশ নেন নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানাঁর (Juraj Blanár) স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। মোদিকে স্বাগত জানানো বন্দেমাতরম গানে।  তাঁকে স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এটি দেশটির আতিথেয়তা, সম্মান ও শুভেচ্ছার প্রতীক। সফরের আগে মোদি একে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে গতিতে এগিয়েছে, এই সফর তারই (Narendra Modi) ধারাবাহিকতা। তাঁর আশা, স্লোভাক নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরের আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্লোভাকিয়া সফর করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনিও ভারতে এসেছিলেন (Bratislava Visit)। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন, রেলওয়ে নির্মাণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেও নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি

    স্লোভাকিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের আভিয়োঁ-তে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআই-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করবেন। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম (Narendra Modi) বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন, যেখানে (Bratislava Visit) উপস্থিত থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্টও।

  • India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাইশ গজে দাপট ভারতের। পুরুষ হোক বা মহিলা, একই ছবি দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের সামনে খেলতে নামলেই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে পাকিস্তানকে (India vs Pakistan)। শুরুটা ভাল করলেও যত ম্যাচ গড়ায় তত পিছিয়ে পড়ে তারা। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও (ICC Women T20I World Cup 2026) সেই ছবি দেখা গেল। ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের। ব্যাট হাতে নায়ক স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষ। বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে দাপট দেখালেন দীপ্তি শর্মা।

    দুরন্ত বাংলার রিচা

    এই জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দীপ্তি। হরমনপ্রীত দুই ক্রিকেটারকে জয়ের প্রধান কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন স্মৃতি মন্ধানা ও দীপ্তি শর্মা। অধিনায়ক বলেন, “যখনই দরকার পড়ে, ওরা এগিয়ে আসে। দলকে জেতায়। ওদের নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। ওদের খেলায় আমি খুব খুশি। আশা করছি, আগামী দিনেও ওরা এ ভাবে খেলবে।” ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। দেখে মনে হচ্ছিল, এই পিচে ব্যাট করা কঠিন। পিচ ততটাও কঠিন ছিল না বলে জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলেন, “পিচ ঠিকই ছিল। আমার মনে হয়, শুরুতে অকারণে বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আমি ও স্মৃতি জুটি বাঁধলাম। সেখান থেকে খেলায় ফিরলাম।” ভারতের রান ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব রিচা ঘোষের। ১৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন বাংলার রিচা। হরমন চান, রিচা শুরু থেকে খেলুন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। হরমনপ্রীত বলেন, “আমি চাই রিচা প্রথম বল থেকে ব্যাট করুক। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে ওকে শুরুতে নামাতাম। কিন্তু এই দলে ওর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সেটাই ও খুব ভাল ভাবে পালন করছে।”

    দীপ্তির আভায় উজ্জ্বল ভারত

    ভারতের জয়ের নেপথ্যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার (Deepti Sharma)। এই ম্য়াচে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায় যোগ করেছেন। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীপ্তি ৫ উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান। কোন মন্ত্রে এই সাফল্য! ম্য়াচ শেষ হতেই ফাঁস করলেন সিক্রেট। টিম ইন্ডিয়ার ম্য়াজিশিয়ান বললেন, একটি ছোট্ট পরিবর্তন করেই সফল হয়েছেন তিনি। দীপ্তি বলেন, “আমি এই ধরনের পিচে বল করতে ভালবাসি। বলের গতি কিছুটা কম রাখছিলাম। উইকেট লক্ষ্য করে বল করছিলাম। বাকিটা পিচ করে দিয়েছে।” যে ভাবে সমর্থকেরা তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন সে কথাও জানিয়েছেন হনুমানজির ভক্ত দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন তিনি।

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানের পথে। যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। রবিবার, ১৪ জুন তিনি ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সম্মত হয়েছে। লেবানন সহ সমস্ত জায়গায় মিলিটারি অপারেশন বন্ধ করা হবে অবিলম্বে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালীও খুলে গিয়েছে (Strait of Hormuz Re-Opening)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও জাহাজকে টোল বা ট্যাক্স দিতে হবে না। ট্রাম্প বলেন যে এই শান্তিচুক্তি ওই এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরাতে বিরাট বড় পদক্ষেপ। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রথম এই ঘোষণা করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিচ্ছি। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।” এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধের “তাৎক্ষণিক সমাপ্তি” ঘটছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে নতুন আলোচনা শুরু হবে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে?

    • হরমুজ প্রণালী: প্রথমেই ট্রাম্প জানান যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা কর মুক্ত হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবে শান্তিচুক্তি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে চুক্তির নিয়মে।
    • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়: আমেরিকা ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসার যে পথগুলি বন্ধ করে রেখেছিল, তাও তুলে নেবে ৩০ দিনের মধ্যে। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহার করা হবে।
    • ইরানকে আর্থিক সাহায্য: খসড়া প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করবে। ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বিদেশি ভাঁড়ারে। সেই টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। শান্তিচুক্তিতে সই করার আগেই এই তহবিলের অর্ধেক টাকা দাবি করা হয়েছে।
    • ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাকি এই চুক্তিতে আপত্তি করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা ফাঁস করে দেন সাংবাদিক বৈঠকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকলেও, এই চুক্তি ইজরায়েলকে সম্ভাব্য বিরাট বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনাও হবে এই শান্তিচুক্তিতে, তা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু শক্তি নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের মিলিটারি অভিযান শুরু হবে।

    আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি

    চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের পথে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

    বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

    শান্তিচুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতেই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “এই চুক্তির ফলে শুধু এখনই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও জ্বালানির দাম কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলবে।”

    যুদ্ধের অবসান!

    গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে দুই দেশ এগোলেও, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত বিশ্ববাসীর নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

    শান্তিচুক্তি না হলে কী হবে?

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সম্মতি না দেয়, তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। আর যদি এই চুক্তিই ভেঙে যায়, তাহলে তিনি হয় তেহরানে ফের হামলা শুরু করবেন, নয়তো আমেরিকাকে মধ্য প্রাচ্যের অভিভাবক (Guardian of the Middle East) করে তুলবেন। এর বিনিময়ে তাদের ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া রাজস্বের ২০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে।

  • Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবন যাপনের সময় বেড়েছে! আধুনিক চিকিৎসা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার জেরে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার সুযোগ বেড়েছে! কিন্তু জীবন যাপনের মান বেড়েছে কি? এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সাম্প্রতিক তথ্য! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মানুষের জীবনকাল বাড়লেও, প্রৌঢ় বয়সে তাঁদের জীবন যাপনের মান বাড়েনি। বরং বিশ্ব জুড়ে বয়স্কদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে! যার ফলে, তাদের জীবন যাপন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব তাঁদের স্বাস্থ্যের উপরেও পড়ছে। তাই ১৫ জুন ওয়ার্ল্ড ওল্ডার অ্যাবিউজ অ্যাওয়ারনেস ডে-তে বিশ্ব জুড়ে নানান সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। হেনস্থা হলে কী করতে হবে, সেই সম্পর্কে জানানোর পাশপাশি এ বছরে জোর দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা হওয়ার আগেই কীভাবে সবকিছু আটকে দেওয়া যায়।

    কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সমস্ত দেশেই প্রবীণ নাগরিকদের উপরে হেনস্থা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। অর্থাৎ ৬০ বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক মানুষেরা নানান ভাবে হেনস্থার শিকার হন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ৬ জন প্রবীণ নাগরিকের মধ্যে ১ জন হেনস্থার শিকার হন। আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। তবে বাদ নেই ভারত! প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কাজ করা এক সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ১১ শতাংশের বেশি প্রবীণ নাগরিক হেনস্থার শিকার হন। যা তাঁদের স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। সমাজের পক্ষেও এই ঘটনা ঠিক নয়।

    কী ধরনের হেনস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, অধিকাংশ হেনস্থা হয় মানসিক। একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষ পরবর্তী প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে এক ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গেও মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে তাঁদের অধিকাংশ কাজ করতে অনেকটা সময় লাগে‌। বুঝতেও সময় লাগে‌। অনেক সময়েই তাঁদের ‘বোঝা’ উপলব্ধি করানো হয়। তার ফলে তাঁরা নানান মানসিক সমস্যার শিকার হন। তাঁদের মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়ে‌‌। তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন। এগুলো মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি করে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মনে রাখার শক্তি হ্রাস পায়। অ্যালজাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেক সময়েই পরিবারের প্রবীণ মানুষদের দিনের অধিকাংশ সময় একা থাকতে হয়। এর ফলে তাঁদের মধ্যে একটা একাকিত্ব গ্রাস করে। এর ফলেও নানান স্নায়ুঘটিত সমস্যা তৈরি হয়।

    সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার শিকার বয়স্করা

    অনেক সময়েই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি হেনস্থার জন্য দায়ী বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে অবসর নেওয়ার পরে বহু মানুষ নানান মানসিক জটিলতায় ভোগেন। তাঁরা নিজেদের কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অনেক সময়েই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এর ফলে পরিবারে অনেক সময় গুরুত্ব কমতে থাকে। এই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলা, তাঁদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। তাঁরা যেকোনো কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে প্রতি দিনের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর হয়ে পড়েন। এর জেরে তাঁদের হেনস্থার সুযোগ বাড়ে‌। এছাড়াও বিশ্ব জুড়ে প্রৌঢ় হেনস্থার অন্যতম দিক হল আর্থিক হেনস্থা। এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের প্রৌঢ় সদস্যের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হয়। আবার বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স্কদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত না থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় তাঁদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হচ্ছে। এগুলো বয়স্কদের আর্থিক ও শারীরিক ভাবে ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    হেনস্থা বন্ধের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল?

    বিশ্ব জুড়ে চলতে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনায় নানান আইনি সাহায্য রয়েছে। ভারতেও একাধিক শক্তিশালী আইন রয়েছে। যে আইনের সাহায্যে বয়স্ক মানুষদের হেনস্থাকারীদের শাস্তি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা হলে কী কী করতে হবে, সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে হেনস্থার ঘটনা না ঘটে। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা কীভাবে আটকানো যায়, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। আর্থিক প্রতারণা আটকাতে প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে আরো বেশি কর্মশালা জরুরি। প্রযুক্তিগত একাধিক বিষয়ে, তাঁরা অবগত থাকেন না। ফলে, নানানভাবে প্রতারিত হতে পারেন। তাই তাঁদের সতর্ক করতে নানান কর্মশালা জরুরি। সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও, তাঁরা কোনো রকম হেনস্থার শিকার হলে, কী কী আইনি সাহায্য নেবেন, সে সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি।

    বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি

    মানসিক হেনস্থা রুখতে নিজেদের কমিউনিটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়স্কদের হেনস্থার অন্যতম কারণ একাকিত্ব। তাঁদের সঙ্গে কেউ নেই, এই ভাবনা থেকেই হেনস্থার ঘটনা ঘটছে।‌ তাই বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি। যাতে তাঁদের মনের কথা প্রকাশের জায়গা থাকে। তাহলেই অবহেলা বোধ কমবে। দিনের কিছুটা সময় নিজেদের মতো, নিজের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো জরুরি। এতে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে। একাকিত্বের বোঝাও কমবে। এর ফলে মানসিক অবসাদের ঝুঁকিও কমবে‌। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে বাড়তি বোঝা পড়বে না। একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা দীর্ঘ জীবনের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু জীবন যাপনের মান বাড়াতে সামাজিক পরিবর্তন জরুরি। প্রৌঢ়কালেও নিজেদের মতো ভালো থাকা যায়, এই আত্মবিশ্বাস জরুরি। বয়স বাড়লেই, অন্যের বোঝা নয়, এই অনুভব করানো প্রয়োজন। তবেই তাঁরা মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। মানসিক চাপ ও অবসাদ কমলেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্নায়ুর সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে‌। ভোগান্তি কমবে। স্বাস্থ্য সঙ্কট কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • PM Modi: ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এর মঞ্চে তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী, জোর দিলেন ভারত-ফ্রান্স প্রযুক্তি অংশীদারিত্বেও

    PM Modi: ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এর মঞ্চে তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী, জোর দিলেন ভারত-ফ্রান্স প্রযুক্তি অংশীদারিত্বেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের (France) নিস শহরে অনুষ্ঠিত ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এর মঞ্চে দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের ভূয়সী প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) মুখে। তিনি জানান, আধুনিক যুগে উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরার জন্য ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এর সূচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। চলতি বছর শুরু হওয়া ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশনে’র ধারাবাহিকতায় ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এর সূচনা হয়েছে।” অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তার উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসী ও উদ্যমী নয়া  ভারতের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। তাঁর কথায়, “বর্তমান ভারত শুধু প্রযুক্তিগত সমাধানের ভোক্তা নয়, বরং বিশ্বকে নতুন সমাধান উপহার দেওয়ার অন্যতম অংশীদার। কেউ এআই (AI) ব্যবহার করে গ্রামীণ ভারতের উন্নয়নে কাজ করছেন, আবার কেউ স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের সাহায্য করছেন।

    টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত দ্রুতগতিতে এবং বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন করছে। একই সঙ্গে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং বিশ্বকল্যাণে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই দেশের লক্ষ্য।” তিনি জানান, একবিংশ শতাব্দীতে ভারত বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের হাত ধরে দেশ এখন স্টার্টআপ বিপ্লবের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। নতুন প্রজন্মের ভারতীয় যুবক-যুবতীরা মানবকল্যাণে জটিল সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করছেন, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ সেই বিশ্বমানের উদ্ভাবনগুলিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

    অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন যাঁরা

    প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স সফরের সূচনা হয়েছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি এভিয়াঁ এবং প্যারিসেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন, যার লক্ষ্য ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা (PM Modi)। ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’-এ প্রায় ১২০ জন ভারতীয় উদ্ভাবক, ১৫টির মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৫০০-রও বেশি বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত রয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সংস্থা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের প্রতিনিধি, বিশ্বখ্যাত সিইও এবং শিল্পক্ষেত্রের নেতারা। অনুষ্ঠানে অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও উৎপাদন শিল্প-সহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের ডিপ টেক ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে বিশ্ববাজারের সামনে তুলে ধরাই এই (France) অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডিপ টেক, গবেষণা ও উন্নয়ন, স্টার্টআপ সম্প্রসারণ এবং সীমান্ত-পার বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (PM Modi)।

     

  • Donald Trump: ৮০তে পা ট্রাম্পের, কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Donald Trump: ৮০তে পা ট্রাম্পের, কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ৮০তে পা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে এই জন্মদিন নিয়ে তিনি নিজেই খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন বলেই জানান ট্রাম্প। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার (Turns 80) অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক মেহমেত ওজের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে হবে না। কারণ এই জন্মদিন নিয়ে আমি খুব একটা খুশি নই। ৮০ এমন একটি সংখ্যা, যা আমার ভালো লাগে না। তবুও আমি এখানে আছি।”

    জন্মদিনে এলাহি আয়োজন (Donald Trump)

    এদিন নিজের জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিশাল আকারের একটি আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) ইভেন্টের আয়োজন করেছেন ট্রাম্প। ইউএফসি প্রেসিডেন্ট ডানা হোয়াইটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সাতটি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী এবং ফ্ল্যাগ ডে উপলক্ষেও এই অনুষ্ঠানকে বিশেষভাবে উদযাপন করা হচ্ছে বলেও খবর।সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে মজা করে ওজ হোয়াইট হাউসের লনে তৈরি অক্টাগনের দিকে ইঙ্গিত করলে ট্রাম্প তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ধন্যবাদ দিলেও ফের বলেন, “আমায় শুভ জন্মদিন বলতে হবে না।”

    জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও কাজ!

    জন্মদিন উদযাপনের মধ্যেও অবশ্য ইরানকে ঘিরে চলা উত্তেজনা নিরসন করতে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও, সম্ভাব্য কোনও সমঝোতার বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, আদালতের একটি রায়ের পর ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও চর্চার বিষয় হয়েছে। জন্মদিন উদযাপনের আবহেই মধ্যেই শুরু হয়েছে এই নতুন বিতর্ক (Donald Trump)। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের এই আয়োজনের সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ৮০তম জন্মদিনের উদযাপনের পার্থক্যও মার্কিন মুলুকে চর্চার বিষয় হয়েছে। ২০২২ সালে বাইডেন হোয়াইট হাউসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জন্মদিন পালন করেছিলেন।

    আয়োজন নিয়ে বিতর্কের জবাবে সাফাই

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যালিসন শুস্টার ইউএফসি আয়োজনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “ফ্ল্যাগ ডে এবং আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে জনগণের বাড়ি হোয়াইট হাউসে এমন একটি আয়োজন দেশের জন্য উপযুক্ত শ্রদ্ধার্ঘ্য।” যদিও সমালোচকদের দাবি, ইরান সঙ্কট, মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রশাসনের জনপ্রিয়তা হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কেউ কেউ একে প্রাচীন রোমের ‘ব্রেড অ্যান্ড সার্কাসেস’ কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউএফসি ব্যয় বহন করলেও, অনুষ্ঠানস্থল সাজাতে ৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এবং বিপুল শ্রমঘণ্টা ব্যয় হয়েছে (Turns 80)। ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল বিজয়ী যোদ্ধাদের জন্য আড়াই লাখ ডলারের বিশেষ বোনাস স্পনসর করায়ও নয়া বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে (Donald Trump)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৭ থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    জমি জালিয়াতির অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুর সোমানাহাল্লিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিশাল এক জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কবরস্থানের জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একর ছয়েক জমি একটি মুসলিম পরিবারকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ স্থানীয় হাজার হাজার হিন্দুর জন্য রয়েছে খুবই ছোট আকারের একটি সমাধিস্থল এবং শ্মশান। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, কবরস্থান করতে গিয়ে এলাকার একটি পুরনো হনুমান মন্দির সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ।কর্নাটকে ২০ লাখের কাছাকাছি অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছে—ভাইরাল হওয়া এমন একটি দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নয়া বিতর্কের। এহেন দাবির সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও, অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

    ধর্মান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

    উত্তরপ্রদেশে আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলির ধর্মান্তরকে ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এবং মানসিক চাপের মাধ্যমে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের পালঘরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তাঁর নাবালিকা বোনের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। কর্নাটকের ধারওয়াড়ে তফশিলি জাতির এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে লালসার শিকার হয়েছিল সে। স্থানীয়দের চাপে পড়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

    গো-মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে বিতর্ক

    অসমের গোলপাড়া জেলার একটি স্কুলে গরুর মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল এক ছাত্র। সে সেই বিরিয়ানি তার দুই হিন্দু সহপাঠীকে খেতে উৎসাহিত করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রের মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    হিন্দু নির্যাতন বাংলাদেশেও

    ভারতের পাশাপাশি হিন্দু নির্যাতন চলছে পড়শি দেশ বাংলাদেশেও। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের অভিযোগেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ, মহিলাদের ওপর হিংসা এবং সামাজিক ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা মালোপাড়া গ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তির জেরে জখম হন একটি সংখ্যালঘু পরিবারের আট সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, সশস্ত্র হামলায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতরভাবে জখম হন। তদন্ত করছে পুলিশ।জয়পুরহাটে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিনমজুর শ্যামল চন্দ্র মালিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    রামের মূর্তি গড়া বন্ধ

    বাংলাদেশেরই (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরে ভগবান রামের একটি মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। মূর্তি নির্মাণের  কাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি নির্মাণের কাজ।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জের। এসবই ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত রয়েছে বলে দাবি। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দু-বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যৌক্তিকতার অভাব লক্ষ্য (Hindus Under Attack) করলে দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

LinkedIn
Share