Tag: news in bengali

news in bengali

  • University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র বিতর্ক, শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাস হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ (University Staff Teacher Transfer Bill)। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছে ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। এই ১৫ জনের মধ্যে (West Bengal) কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিধানসভার দুই কংগ্রেস বিধায়ক।

    বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে, তবে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে ‘মমতায়নে’র কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পরেই ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বিধায়করা।

    শুভেন্দুর সাফ কথা (University Staff Teacher Transfer Bill)

    বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো, জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ন! আমরা তার কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।”

    এদিকে, বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হত না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতেই বিলটি পাস করা হল।”

    জুটার ‘ইতিহাস’ সরকারের কাছে রয়েছে: শুভেন্দু

    বিল নিয়ে আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে একাধিকবার। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বলেন, জুটার সদস্যরা অতীতে কোথায়, কখন কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।

    বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাঁদের, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব, যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত বিলের গুরুত্ব প্রথম দিকে বিরোধী দল এবং অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের অবস্থান এবং বিলের সম্ভাব্য প্রয়োগের বিষয়টি আঁচ করেই বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

    যাদবপুরে ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক স্লোগান এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষেনজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না (University Staff Teacher Transfer Bill)।”

    তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মকে যারা কেবল সাংস্কৃতিক মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাঁদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।”

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে।”

    অনুদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেন একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। সেখানে দেশ ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ‘কিষেনজি লাল সেলাম’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান লেখা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব। কিষেনজির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না।”

    সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিক্ষা বিল সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উঠতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের এবং নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের উপরে।”

    স্বায়ত্তশাসন থাকবে, সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে’

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কি দেশের বাইরে? আইনের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলেছে, তার উত্তরে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই আইন জরুরি। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল, তৃণমূলের টুকরোরা মমতায়ন করেছিল, আমরা অবশ্য গৈরিকীকরণ করব না।”

    বদলি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত। অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলের কোনও অপপ্রয়োগ হবে না। বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আটটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়ারাও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন (West Bengal)। ব্যঙ্গের সুরে শুভেন্দু বলেন, “তথাকথিত সমাজবাদ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের বিরাট মেধাকে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কাজে লাগাতে চাই। এতে আপত্তির কী আছে (University Staff Teacher Transfer Bill)?” বিল নিয়ে বিতর্কের গোটা পর্বে বার বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে ‘দুর্গাপুজো’ (Durga Puja) বলা ও লেখার উপরেই জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে কোনও পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজোর নামকরণ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোয় ‘পুজো’ শব্দটি এড়িয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি কোনও স্টল করেন এবং সেখানে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তা বাতিল করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজোই বলতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে সেই স্টল বাতিল করা হবে।”

    বৈষম্য বরদাস্ত নয় (Suvendu Adhikari)

    এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বারবার দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। দুর্গাপুজোকে ‘সার্বজনীন উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।

    রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা উচিত নয়।

    বিক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশই পালন করবে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিদের হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়ার প্রয়োজন নেই।

    ‘হিংসা ছড়াবেন না’

    অতীতের কয়েকটি আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন (Suvendu Adhikari)।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেউ গেরুয়া পোশাক পরলে, মাথায় শিখা রাখলে কিংবা ধর্মীয় মালা পরলে তাঁকে আলাদা করে নিশানা করা যাবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বক্তব্যের শেষাংশে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির (Durga Puja) উদ্দেশে পুজোর আয়োজন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে (BRICKS Summit)। নিরাপত্তা, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাস দমন, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার পাশাপাশি রাশিয়ার অত্যাধুনিক সু-৫৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার ও রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে পুতিনের পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার। সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠককে তাই কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি-পুতিন (PM Modi)

    গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি ও পুতিন। এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি জানিয়েছিলেন, “এখন সময় এসেছে অন্তহীন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর।” ফলে আসন্ন বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনও আলোচনা হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বৈঠকে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মাদক পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। সেই সম্পর্কের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে খতিয়ে দেখা হতে পারে (PM Modi)।

    বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে সু-৫৭ যুদ্ধবিমান। পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি আলোচনার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তা নিয়েও রাশিয়া আলোচনা করতে প্রস্তুত। ফলে বৈঠক থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় কি না, তা নিয়েও জন্ম হয়েছে (BRICKS Summit) প্রত্যাশার।

    জোটে পরিণত হয়েছে ব্রিকস

    এদিকে আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্রিকসের বর্তমান ভূমিকা নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পেসকভ। তাঁর দাবি, ব্রিকস এখন আর শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, বরং কার্যত একটি জোটে পরিণত হয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে এই জোটের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা গড়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পেসকভ বলেন, “এই ধারণাগুলির সঙ্গে অনেক দেশই (PM Modi) একমত। একমেরু ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে। একমেরু ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আঘাত করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ব্রিকসে প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্বের বৃহত্তর অংশ এমন একটি ভিন্ন কাঠামো চায়, যেখানে প্রতিটি দেশ অন্য দেশের সমান মর্যাদা পাবে।”

    মোদি-পুতিন বৈঠক এবং ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরের সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত এমন কোনও ধারণা বা প্রস্তাব খুঁজে দেখতে চাইছে, যা সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে।

    যুদ্ধের অবসানে…

    তিনি বলেছিলেন, “আমরা দেখার চেষ্টা করছি, এমন কোনও ধারণা ও প্রস্তাব রয়েছে কি না, যা কোনওভাবে বাস্তবায়িত হয়ে সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং আদর্শভাবে সংঘাতের অবসানে সাহায্য করতে পারে।” যুদ্ধের অবসানে ভারত “যে কোনও উপায়ে যে কোনও ধরনের সাহায্য” করতে (BRICKS Summit) প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।

    এদিকে পুতিনের আসন্ন ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে (PM Modi) নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেটার নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তিনটি সামরিক বিমান অবতরণ করে। সদ্য চালু হওয়া এই বিমানবন্দরে বিদেশি বিমানের এটিই প্রথম অবতরণ। রাশিয়ার সামরিক পরিবহণ বিমান আইএল-৭৬-সহ তিনটি বিমান ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামে।

    রাশিয়ার একটি দল এবং সামরিক আধিকারিকরা ওই বিমানগুলিতে ভারতে পৌঁছেছেন। পুতিনের ভারত সফর এবং দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই বিমানগুলির আগমন বলে মনে করা হচ্ছে।

    নয়া বিমানবন্দরে অবতরণ রাশিয়ার বিমানের

    বুধবারও তিনটি রাশিয়ার সামরিক বিমান বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও বিমানগুলির নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এতদিন ভারতে আসা বিদেশি সামরিক বিমানগুলি সাধারণত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করত। সেই জায়গায় জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ নতুন বিমানবন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (PM Modi)।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আসর। একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। পুতিনও সম্মেলনে অংশ নেবেন। তাঁর সফর এবং সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অতিথিদের যাতায়াত ও কূটনৈতিক প্রোটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে (BRICKS Summit)।

    শুক্রবারের মোদি-পুতিন বৈঠক তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখেই নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার অবস্থান আগামী দিনের কূটনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সে (PM Modi) দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের জনসেবা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের সময়কাল পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) শুরু করতে চলেছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এক মাস ধরে সামাজিক সেবা, জনসংযোগ, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে যুক্ত করে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    জন্মদিনে ‘সেবা দিবস’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan)

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) জন্মদিন। ওই দিনটিকে ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। সারা দেশে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় দেশের প্রতিটি বুথে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। মোদির ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রদীপ জ্বালাবেন মানুষ ।

    অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলগুলিতে ‘আমার স্বপ্নের ভারত’ বিষয়ের উপর ছবি আঁকা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা ছবি ও বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    ‘নমো সেবা—অকথিত কাহিনি’ কর্মসূচির আওতায় সংগীত ও নাট্য পরিবেশনেরও আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘আঙন মিলন সেবা’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং আশা কর্মীদের সম্মানিত করা হবে।

    উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ

    ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ নেবেন। অভিযানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মোট ২৫টি পৃথক সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও ব্লক স্তরে ‘সেবা সেতু অভিযান’ পরিচালনা করা হবে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন, সে জন্য শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে সহায়তা করা হবে।

    এক মাসব্যাপী এই অভিযানের সমাপ্তি হবে ১৭ অক্টোবর ‘সুশাসন সেবা সংবাদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে সুশাসন ও জনসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    বুধবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবর মোদির ২৫ বছরের জনসেবা যাত্রা পূর্ণ হবে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল।

    ‘সেবা সংকল্প অভিযান’

    নিতিন নবীন বলেন, “আজ আমরা এখানে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছি। ৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসেবায় ২৫ বছর পূর্ণ করবেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত ২৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবার যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। জনসেবা থেকে দেশসেবায় উত্তরণের মন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন।”

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দাবি, মোদির নেতৃত্বে ভারত “হতাশা ও অন্ধকার” থেকে বেরিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

    সারা দেশের এই মাসব্যাপী কর্মসূচিতে সামাজিক সেবা, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, জনসম্পৃক্ততা এবং সমাজের (PM Modi) বিভিন্ন অংশের মানুষের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোদির ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রাকে (BJP Seva Sankalp Abhiyan) সামনে রেখে সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে বড়সড় বদল। রাজ্যপাল তথা আচার্যের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুই আধিকারিককে ৷ ছ’মাসের জন্য অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। যাদবপুরের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জায়গায় নয়া রেজিস্ট্রার (JU Registrar Removed) হলেন দেবজিৎ দত্ত। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। একই ভাবে সরানো হল ফাইন্যান্স অফিসারকেও। তাঁর জায়গায় এসেছেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ দত্ত। ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আচার্যের নির্দেশ মতো কাজ

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবজিৎ দত্তকে রেজিস্ট্রার এবং ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’জনকেই তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছ’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই এই মেয়াদ কার্যকর হবে, অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত-যেটি আগে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির ২৬ অগাস্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে । নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হবে। আচার্যের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শুরু করা যেতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের কার্যকালের মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত পদের মেয়াদ ছ’মাসের বেশি দীর্ঘায়িত করা যায় না। কিন্তু কর্মসমিতি (ইসি) স্থায়ী আধিকারিক নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া চালুর বদলে অস্থায়ী আধিকারিকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল মনে করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। সেই কারণেই ১৯৮১ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৭(৩) ধারায় নিজের পর্যালোচনা ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছেন তিনি।

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি, ‘অ্যাক্টিং’ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও আইনে নির্ধারিত সময়সীমার বেশি চালু রাখা হয়েছিল বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম, অ্যাকাডেমিক গভর্ন্যান্স এবং আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থের পরিপন্থী। সেই কারণেই এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আচার্য নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী পদাধিকারী নিয়োগের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ছ’মাসের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন দুই আধিকারিককে এই দায়িত্ব সামলাতে হবে। মূল কাজের অতিরিক্ত হিসেবেই তাঁরা এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশ

    নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পুরনো রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে সমস্ত সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, রেজিস্টার, আর্থিক রেকর্ড, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল, সরকারি সিল, চাবি, সম্পত্তি-সহ তাঁদের কাছে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পৃথক হ্যান্ডওভার-টেকওভার স্টেটমেন্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে বলা হয়েছে, সমস্ত বিধিবদ্ধ নথি, গোপনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকদেরই সেগুলিতে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রসঙ্গত, একাধিকবার দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের তরফে এই দাবি তোলা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ম ছিল, এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁরা এখন সেই পদে রয়েছেন।

    উত্তপ্ত যাদবপুর

    এ দিকে, বুধবার অর্থাৎ আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই এমন পরিবর্তন। বস্তুত, বিগত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। সম্প্রতি তিনি যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আবার দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তা করা হয়েছে পুরসভার তরফে। এবার বদল করা হল রেজিস্ট্রারকে।

  • NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণের সামগ্রী (Child Sexual Exploitation and Abuse Material বা CSEAM) প্রচার এবং তা কেনাবেচার পথ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্তে এবার মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের তলব করল জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মেটা ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রধানকে কমিশনের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) গ্রহণ করে এনসিপিসিআর (NCPCR Summons Meta )। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ৩ জুলাই ২০২৬ মেটা প্ল্যাটফর্মস, ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল কমিশন। মেটার পক্ষ থেকে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সেই নোটিসের জবাব দেওয়া হয়। তবে মেটার জবাব পর্যালোচনা করার পর এনসিপিসিআর মনে করেছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর পিছনের পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিবিসির অনুসন্ধানে কী অভিযোগ?

    বিবিসি আই-এর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপনগুলিতে ‘রেপ ভিডিও’ এবং ‘চাইল্ড ভিডিও’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, বিজ্ঞাপনগুলিতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রামের বাইরে টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে ওই ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী অর্থের বিনিময়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কিছু সামগ্রীর দাম মাত্র ৯৯ টাকা থেকেও শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এগুলি শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির আপলোড করা সাধারণ পোস্ট ছিল না। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পেইড বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনগুলি ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এবং কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ব্যবহারকারীদের সামনে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    মেটার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সেগুলি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু একটি অভিযোগযুক্ত বিজ্ঞাপন বিবিসির পক্ষ থেকে ইনস্টাগ্রামের নজরে আনার পরও পরদিন প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছিল যে বিজ্ঞাপনটি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ লঙ্ঘন করেনি। এর ফলে মেটার স্বয়ংক্রিয় মডারেশন ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত নিষিদ্ধ সামগ্রী কীভাবে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ফাঁক গলে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছতে পারে, তা নিয়েই তদন্তকারীদের আগ্রহ। এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর তদন্তে তাই খতিয়ে দেখা হতে পারে—কীভাবে ওই বিজ্ঞাপনগুলি অনুমোদিত হয়েছিল, মেটার কোন কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল, কোনও সতর্কবার্তা বা রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পর সংস্থাটি কী পদক্ষেপ নিয়েছিল।

    মেটার কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাইবে কমিশন

    এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর সামনে মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের হাজিরার সময় বিজ্ঞাপনগুলির উৎস, মডারেশন প্রক্রিয়া, সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিবিসির অনুসন্ধানের পর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় শুধু নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। যে নেটওয়ার্ক, নির্দিষ্ট শব্দ, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবহারকারীর আচরণকে কাজে লাগিয়ে শিশু যৌন শোষণের সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, সেগুলিও শনাক্ত করা জরুরি।

    দিল্লি পুলিশকেও তদন্তের নির্দেশ

    একই অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-ও পদক্ষেপ করেছে। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী প্রচারের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিশেষ করে, মেটা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা পসকো (POCSO) আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি গ্রহণ করে। পাশাপাশি ৬ জুলাই তারিখের একটি অভিযোগও কমিশনের কাছে জমা পড়েছিল। এরপর ৮ জুলাই দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে একই অভিযোগকে ঘিরে এখন দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এনসিপিসিআর মূলত অভিযোগের সত্যতা, মেটার ভূমিকা এবং সংস্থার জবাব পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এর নির্দেশে দিল্লি পুলিশও এই বিষয়ে তদন্ত করবে।

    তদন্তের মুখে মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    এই ঘটনা ফের বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বিশ্বের অন্যতম বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থাকে। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী এবং বিশাল বিজ্ঞাপন পরিকাঠামোর কারণে অপরাধী চক্রগুলি সেই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যদি নিষিদ্ধ সামগ্রী বা তার লিঙ্ক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং মেটা বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

     

     

     

     

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) এক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে জাল নোট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার এনআইএর শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭.২৯ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট (Fake Currency Case) বৃহত্তর কোনও চক্রের অংশ কি না, এবং সেই চক্র আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কাজ করছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে গ্রেফতার পিএনবির ম্যানেজার (NIA)

    সোমবার জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই মামলায় নাম থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি। সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে ভারতীয় জাল নোট শনাক্ত হওয়ার পর পিএনবির যে তিন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে আসেন, অমিত তাঁদের অন্যতম।

    পিএনবি কর্তার এই গ্রেফতারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্দেহভাজন জাল নোট কোনও ব্যক্তিগত বাহক, গোপন আস্তানা বা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়নি; বরং তা উদ্ধার হয়েছে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢুকল এবং তার কোনও অংশ পরবর্তী কালে বৈধ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না।

    এনআইএ জানিয়েছে, মামলাটি পিএনবির কারেন্সি চেস্টে জাল নোট সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে পুরো “ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ চিত্র” উদঘাটন এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তদন্তে তিন পিএনবি আধিকারিক

    তদন্তে চিহ্নিত তিন পিএনবি আধিকারিক হলেন— সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের তথাকথিত যোগসূত্র সামনে আসার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন তিনজনকেই।

    পরবর্তী কালে এসআইটি (SIT) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিন আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে। তাঁদের যোগাযোগ, গতিবিধি এবং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে ওই সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে তদন্তভার

    ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত করেছে। এর আগে ২৯ অগাস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১৭৮-এর অধীনে মূল এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জাল নোট উদ্ধারের আগে মুদ্রাগুলি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল, সেই গোটা গতিপথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন (Fake Currency Case) তদন্তকারীরা।

    কীভাবে জাল নোট ঢুকল মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায়?

    তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে ১১১ কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রা কারেন্সি-হ্যান্ডলিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) জয়পুর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানে লেখা ছিল— ৫০০ টাকার নোটের ১,৯০০ বান্ডিল এবং ২০০-এর ৮০০ বান্ডিল।

    চালানটির প্যাকিং ও পাঠানোর প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক গৃহপরিচারকের হাতে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা জাল নোটগুলি মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    জাল নোটের অনিয়ম ধরা পড়ার আগে কারেন্সি চেস্ট থেকে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা এবং এটিএম-এ ওই নোটগুলির কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (NIA)। এই তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন হল—সন্দেহমূলক জাল নোটের কতটা ইতিমধ্যেই বাজারে ঢুকে পড়েছে। কারেন্সি চেস্টের বাইরে কত পরিমাণ নোট গিয়েছিল, আদৌ গিয়েছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    নেপালের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত

    তদন্তে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের দিকটিও সামনে এসেছে। তিন অভিযুক্তের যোগাযোগ ও গতিবিধি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বা সীমান্তের ওপারে সক্রিয় (Fake Currency Case) কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    তবে নেপালের সঙ্গে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা আপাতত একে তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবেই দেখছেন। সাহারানপুরের এসএসপি অভিনন্দন এর আগে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। সেই (NIA) কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়।

     

LinkedIn
Share