Tag: news in bengali

news in bengali

  • Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Delhi)। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। কয়েক মাস আগেই সেচ দফতর গঙ্গা ভাঙন নিয়ে একটি রিপোর্ট কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টে গঙ্গাভাঙনের (Ganga River Bank Erosion) মোকাবিলা বিহার, ঝাড়খণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছিল। সেই রিপোর্ট পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিন রাজ্যের প্রধানদের বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। গঙ্গাভাঙন নিয়ে দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীভাঙন রুখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ড্রেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গে বৈঠক

    সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দিল্লি সফরের কারণ স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। বিভিন্ন মহলে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। তিনি জানান, এই সফর কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। তাঁর কথায়, “না না, রাজনৈতিক সফর নয়। কাল মালদা, মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন এবং বন্যাকে স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বৈঠক ডেকেছেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দফতরকে নিয়ে, মুখ্য সচিবরাও থাকবেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।” গঙ্গা ভাঙন সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে তিনি এর আগে জানান, “কাল তিন রাজ্যের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মিশনের বৈঠক রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল মহাশয় সভাপতিত্ব করবেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে যাব। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।”

    নদীভাঙন রুখতে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সংশ্লিষ্ট জলসম্পদ সংস্থা এবং এনএইচপিসির সঙ্গে নদীভাঙন মোকাবিলায় একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে মালদহ থেকে নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের দলের কাজের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “নদীভাঙন রুখতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য ঝাড়খণ্ডের প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বিহার ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সহযোগিতায় ড্রেজিং এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।”

  • SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জবাবে এই বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩৬ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলির সম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই যৌথ হলফনামাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই মামলা এবং অন্যান্য আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা।

    এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানাল কমিশন?

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে হলফনামায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিশনারের পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে একা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়ে তৈরি (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই বক্তব্য পেশ করেছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্ট নথিতে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।

    ফর্ম ৬ সংশোধন নিয়ে কী দাবি কমিশনের?

    এসআইআর বিতর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬ (Form 6)-এ পরিবর্তন এনেছে। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বরং ভোটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম চালু করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের অথবা বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধনের সময়কার ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া না গেলে নির্ধারিত সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে। বিহারে এসআইআর পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রের কাঠামো সহজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের সময় ঘোষণাপত্রটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে যে মূল ফর্মটিতেই সংশোধন আনা হয়েছে—হলফনামায় এই বিষয়টি স্বীকার করেছে কমিশন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ঘোষণাপত্রটি পৃথক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেমনটি কাগজে পূরণ করা ফর্মের ক্ষেত্রে করা হয়। এর ফলে আবেদনকারীদের একবারই ওটিপি এবং ই-সই ব্যবহার করতে হবে বলে আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    ভোটারদের নাম বাদ পড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা?

    এসআইআর-এর কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই এবং যাঁদের তথ্য পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) নোটিস দিতে হবে। এ ছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা যাচাইয়ের জন্য আপলোড করবেন। এই ধরনের ভোটারদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি গৃহহীন ব্যক্তি এবং নাইট শেল্টারে বসবাসকারীদের মতো অসহায় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হবে।

    আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীন থাকবে। আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে কী বক্তব্য?

    ইসিআইনেট (ECINet) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও হলফনামায় বক্তব্য রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer)-এর নির্দেশ ছাড়া ইসিআইনেট-এ কোনও ভোটারের নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয় না। এই ব্যবস্থার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আইআইটি মুম্বই এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন।

    গোয়ার ৯৭ ভোটার এবং বাংলার আবেদন নিয়ে বক্তব্য

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জন ইতিমধ্যেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন এবং তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছ’জন দেশের বাইরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী অথবা বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা আপিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরা ওই আবেদনগুলি দায়ের করেছিলেন। বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের নজরে আনা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ কমিশনের

    ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চলতি বছরের মে মাসের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত নথিপত্র চাওয়া যেতে পারে।

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলে ২৬তম নেসেট (সংসদ) নির্বাচনের (Israel Election 2026) দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীদের হাত ধরে আসবে নতুন সরকার—এই প্রশ্নের মধ্যেই উঠে আসছে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের (India Israel Relation) ভবিষ্যৎ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ইজরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটের গঠন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি বদল আসবে?

    ভারতের কাছে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের মধ্যে জোট-আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

    অটুট থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা বলেন, “কে নির্বাচিত হবেন, তা-নির্বিশেষে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাক, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত ইজরায়েলি দূতাবাস। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের মেয়াদের উপর নির্ভরশীল নয়।

    মোদি-নেতানিয়াহু সম্পর্কের পর ভবিষ্যৎ সমীকরণ কী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তবে ইজরায়েলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক পোলার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারত ও ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিই থাকবে সহযোগিতার মূল ভিত্তি

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন সরকার পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের অবস্থান কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেও নজর রাখবে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয় দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ইজরায়েলে নির্বাচনী লড়াই

    ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নেতা নেতানিয়াহু আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তাঁর লিকুদ পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী সহযোগী দলগুলিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইজরায়েলের ভোটের আগে ফের এক বার ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। আজ, মঙ্গলবার ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে।

    ইজরায়েলি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা (Mishelle Sirota) ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই জানান, ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভারতকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি দৃঢ় ও অভিন্ন ঐক্যমত্য বা ‘ক্রস-পার্টি কনসেনসাস’ রয়েছে। তাই জরায়েলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক বা যে নেতাই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার সরকার এবং জোটের পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও ইজরায়েলের এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে।

  • Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহামের নাম সামনে এনে বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠনগুলির একটি নেটওয়ার্ক ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এই বিতর্কে কংগ্রেস, বিরোধী নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সাংবাদিক বৈঠকে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাহুল গান্ধী, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, অনলাইন জুয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির প্রসঙ্গ। বিজেপির দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

    কে এই নেভিল রয় সিংহাম?

    নেভিল রয় সিংহাম একজন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিচিত অর্থদাতা। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা থট ওয়ার্কস (Thoughtworks)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সালে প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থার কাছে প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন ডলারে সংস্থাটি বিক্রি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহাম নিউ ইয়র্কভিত্তিক বামপন্থী অলাভজনক সংগঠন দ্য পিপলস ফোরাম (The People’s Forum)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী জোডি ইভান্স যুদ্ধবিরোধী সংগঠন কোডপিঙ্ক (CODEPINK)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থা বিক্রির পর সিংহাম আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রচার সংগঠন এবং থিঙ্কট্যাঙ্ককে অর্থসাহায্য করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কেন্দ্র সাংহাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই অর্থসাহায্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তবে সিংহম চিন সরকারের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    কী এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযোগ?

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের কিছু রাজনৈতিক ও কর্মী সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কার্যকলাপ ভারতের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী ‘Global Chaos Inc Grows to 101 Groups’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্কের কথা বলা হয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার, সংগঠন বা প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে ভারত, ফ্রান্স, স্পেন এবং আলবেনিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সিংহামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা কিছু সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে যোগসূত্র থাকার দাবি থেকেই ভারতে সরকার পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা প্রমাণিত হয় না।

    রাহুল গান্ধীকে ঘিরে নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন

    এই বিতর্কে সরাসরি কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধী ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন জুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা বিভিন্ন মহলের কার কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুবে আরও প্রশ্ন করেন, ওই মহলের কেউ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কি না। বিদেশ সফরের সময় তাঁর বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি সংক্রান্ত দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলিকেও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে বিজেপি।

    ২০২৩ সালেই ভারতে আলোচনায় উঠে আসে সিংহামের নাম

    ভারতে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সিংহামের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটিতে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের (NewsClick) সঙ্গে সিংহামের আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগও উঠে আসে। নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর পুরকায়স্থ। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটি অর্থ পেয়েছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউজক্লিকের অর্থের উৎস এবং বিদেশি অর্থপ্রবাহ নিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লি পুলিশ প্রবীর পুরকায়স্থ এবং নিউজক্লিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি বিদেশি অর্থসাহায্য এবং চিনপন্থী প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

    ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও দিল্লির প্রতিবাদের মধ্যে যোগসূত্র?

    এই বিতর্কে ফক্স নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি। ওই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের দাঙ্গা এবং দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে বলে বিজেপির বক্তব্য। প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয়, আয়োজন অথবা প্রচারে ভূমিকা রাখছে। বিজেপি এই দাবিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনও সংগঠন প্রতিবাদের পক্ষে প্রচার চালালেই তার পিছনে বিদেশি সরকারের নির্দেশ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্ক মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
    – বিদেশি অর্থসাহায্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে দেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে তা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
    – রাজনৈতিক প্রতিবাদের স্বাধীনতা: কোনও প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থন থাকলেই সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
    – রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জবাবদিহি: রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে যোগাযোগের অস্তিত্ব এবং বেআইনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ এক বিষয় নয়।
    সব মিলিয়ে, নেভিল রয় সিংহামকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে বিদেশি অর্থসাহায্য, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

  • Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোচবিহার (Coochbehar) জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বালি পাচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সানিয়াজান নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিল। বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ওই দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (Bangladeshi Sand Smugglers)। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ অক্টোবর, শনিবার, মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোতবাড়ি গ্রামের কাছে সানিয়াজান নদী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, নদী থেকে বালি ও পাথর সংগ্রহ করছিল বাংলাদেশের দিক থেকে আসা ওই দলটি। বিএসএফের জওয়ানেরা তাঁদের বাধা দিতে গেলে বাঁশের লাঠি, রড ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে তাঁরা জওয়ানদের দিকে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ।

    বিএসএফকে আক্রমণের অভিযোগ (Coochbehar)

    বালি পাচারের খবর পেয়ে কোশি সীমান্ত চৌকিতে মোতায়েন বিএসএফের ৬২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নদীতে নেমে অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। অভিযোগ, সংখ্যায় বেশি থাকায় ওই দলটি বিএসএফের জওয়ানদের উপর লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন জওয়ানেরা। এর পরেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় দলটি। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে সংঘর্ষের সময় চিৎকার-চেঁচামেচির দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার অভিযোগ

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সানিয়াজান নদী থেকে বালি ও পাথর তোলার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বিএসএফ মাঝেমধ্যে পদক্ষেপ করলেও বাংলাদেশের দিক থেকে আসা লোকজন বারবার নদীতে ঢুকে ওই সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে।মেখলিগঞ্জ এলাকায় সীমান্তের বেড়া থাকলেও, সানিয়াজান নদী ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেপরোয়াভাবে নদী থেকে বালি তোলা চলতে থাকলে নদীর গতিপথ বদলে যেতে পারে। এর ফলে নদী সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন এবং বসবাসকারী মানুষের নানা সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার রায়ের দাবি, বিএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় ৪০ থেকে ৫০ জন নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বলেন, “বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে ওই দলটি তাঁদের কথা শোনেনি। উল্টে জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনীকে গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।” প্রশান্ত আরও বলেন, নদীটি ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছে। তাই বারবার বালি ও পাথর তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে (Coochbehar)।

    সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন (Bangladeshi Sand Smugglers) স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে খবর। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Coochbehar)।

     

  • Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যারা এশিয়ান গেমসে মোট ১১৪টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। ইতিহাসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করলেন ভারতের ক্রীড়াবিদরা। এত পদক এর আগে কোনও এশিয়ান গেমসে জেতেনি ভারত। ঝুলিতে তাঁরা পুরেছে মোট ৩০টি সোনা। দেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সাফল্য গোটা দেশের জন্য গর্বের, গোটা দেশ ক্রীড়াবিদদের জন্য গর্বিত। দেশের প্যারা এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এটাই সেরা সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গোটা দেশের জন্য গর্বের

    নিজের সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স ভারতের ক্রীড়াবিদদের জন্য। ১১৪টি পদক জিতেছে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। এটা গোটা দেশের জন্য গর্বের। প্রত্যেকে দেশের জন্য নিজেদের সেরা পারফরম্য়ান্সটা দিয়ে থাকেন। আমি প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। প্রত্যেক অ্য়াথলিট তাঁদের সেরাটা দিয়েছেন।’২০২৩ এশিয়ান গেমস হাংঝাউতে মোট ১০৮টি পদক জেতে। সেবার ২৭টি সোনা জিতেছিলেন ভারতের প্যারা অ্য়াথলিটরা। এবার পুরুষদের শটপাট এফ ৪৬ ইভেন্টে ভারতের প্যারা ক্রীড়াবিদরা ‘ক্লিন সুইপ’ করে তিনটি পদকই জিতেছিল। প্যারা তিরন্দাজি, প্যারা সাঁতার ও পাওয়ারলিফটিংয়েও ভারত পদক পেয়েছে।

    কোন বিভাগে কয়টি পদক

    এবারের প্যারা এশিয়ান গেমসে ২০৪টি সোনা, ১১৫টি রুপো ও ১০৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে প্রতিযোগিতায় একক আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষে শেষ করেছিল চিন। ৬৩টি সোনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও ৪৫টি সোনা জিতে তৃতীয় স্থান দখল করেছে উজবেকিস্তান। ভারতের এবারের পদক তালিকায় সাফল্যের সিংহভাগ এসেছে প্যারা অ্য়াথলেটিক্স থেকে। সেখানে থেকেই ভারত সর্বাধিক ৬৫টি পদক জিতেছে। এরমধ্য়ে ২২টি সোনা ছিল। এছাড়া প্যারা ব্যাডমিন্টন থেকে এসেছে ১৬টি পদক ও প্যারা সাঁতার থেকে এসেছে ১১টি পদক। অন্যদিকে প্যারা-আর্চারি থেকে ৬টি ও প্যারা শ্যুটিং থেকে ৫টি পদক এসেছে এবারের প্যারা এশিয়ান গেমস থেকে।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্স: ২২টি সোনা, ১৯টি রুপো, ২৪টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৬৫টি পদক

    প্যারা সাঁতার: ০টি সোনা, ৩টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১১টি পদক

    প্যারা টেবিল টেনিস: ০টি সোনা, ০টি রূপো ও ৭টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৭টি পদক

    প্যারা শ্যুটিং: ২টি সোনা, ২টি রূপা ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৫টি পদক

    প্যারা জুডো: ০টি সোনা, ১টি রুপাে ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২টি পদক

    প্যারা পাওয়ারলিফটিং: ০টি সোনা, ২টি রূপা, কোনও ব্রোঞ্জ জেতেনি এই ইভেন্টে ভারত, মোট ২টো পদক

    প্যারা আর্চারি (তিরন্দাজি): ৩টি সোনা, ৩টি রুপাে, কোনও ব্রোঞ্জ নেই, মোট ৬টি পদক

    প্যারা ব্যাডমিন্টন: ৩টি সোনা, ৫টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১৬টি পদক

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের লক্ষ্মীদের ভালো রাখতে বদ্ধ পরিকর সরকার। লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়ির পুজোয় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এল নাবালিকা বিবাহ (prevention of child marriage) থেকে নেশার কবলের মতো সমাজের সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের প্রসঙ্গও। সে বিষয়ে শুধু একা সরকার নয়, মানুষের সাহায্যও চাইলেন তিনি।

    নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যের নাবালিকা বিবাহ এবং সন্তান প্রসবে নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নাবালিকাদের সন্তান প্রসবের ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগের। তিনি এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, গত ছয় মাসে মুর্শিদাবাদে মোট ১২,৮৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১২,৫৮৫ এবং শহরাঞ্চলে ২৬৫টি ঘটনা বলে জানানো হয়েছে। বয়সের নিরিখে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৮টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৮১৭টি এবং ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ৬,৫২৭টি ঘটনা রয়েছে। ১৮ বছর বয়সে নথিভুক্ত ঘটনা ৫,৪৮৩টি। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে মোট ৪,১৭৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ৪,০৬৩ এবং শহরাঞ্চলে ১১৫টি। বয়সভিত্তিক হিসাবে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ৫টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৪৪টি, ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬৯টি এবং ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬০টি ঘটনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সমস্ত ঘটনাই হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব (institutional delivery) হওয়ায় নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে এই পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা ঘটনা থাকলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

    নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্র বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এর মধ্যে বড় অংশই ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরী, এমনকি ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সের প্রসূতিও রয়েছে সেখানে। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮) ও পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭)। এর পর পর্যায়ক্রমে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে। ধর্মীয় পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হলেও, আইন ও অপরাধের বিচার সব নাগরিকের জন্য সমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্তান প্রসবকারী নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তাঁদের স্ত্রীদের বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের বয়স ২১ বছর হওয়ার আইনি যোগ্যতা ও বয়সের প্রমাণ পেশ করতে বলা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়সের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নাবালিকা বিবাহ এবং নাবালিকাদের সন্তান প্রসব—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান

    সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধু সচেতনতা বা সতর্কবার্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তাই বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা প্রসবের ঘটনাগুলি চিহ্নিত করে মামলা, গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নাবালিকা বিবাহ করেছেন তাঁদের স্বামীদের বয়স ২১ পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এবং ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি হওয়ায় স্বাস্থ্য দফতর থেকে এই সব ব‍্যক্তিদের কাছে নোটিশ যাবে। শুধু তাই নয়, এই সব পরিবারের লোকজন বিয়ে দিয়ে থাকলে সব রকম সরকারি প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত থাকবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন।

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘অভিভাবক, অভিভাবিকাদের বলব, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেবেন না। এই কারণে বহু প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ১৫-১৪ বছরের বাচ্চা মেয়েদের তো এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। কিন্তু তাদেরও ১৮-র নীচে বিয়ে হচ্ছে এবং সন্তান প্রসব হচ্ছে হাসপাতালে। এ এক ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। এইটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ তাঁর কথায় উঠে এল বাল্যবিবাহ এখনও গ্রামীণ বাংলার একটা বড় সমস্যা। এখানে শুধু বাংলার মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষাই নয়, তাঁদের জীবন-মরণের মতো বড় একটা সমস্যার শিকড়ও জুড়ে রয়েছে। সরকারের কাজ কী? শুধু তো ভাতা দেওয়া বা রাস্তা তৈরি করা নয়। সরকারের কাজ সমাজের মধ্যে সংস্কার আনা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সংস্কার আনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়করা শুধু নয়, জনগণকে যুক্ত করে করতে হবে এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    নেশামুক্ত সমাজ, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ

    প্রশাসনের ভূমিকা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের আরও পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আরও শক্ত হাতে আইন কার্যকর করতে হবে।’কিন্তু এখানে আইনের কার্যকর হওয়ারও একটা বড় গুরুত্ব রয়েছে। তা মনে করিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮ জনের মতো ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়ে আছে, তার মধ্যে ছটা পকসো (POCSO) মামলা। তাদের ডেথ পানিশমেন্ট হয়ে আছে। তাদের যে শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না, এর ফলে বেপরোয়া ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। এই জায়গা থেকে আমাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এক নম্বর।’ শুধু আইন নয়, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেশার মতো ভয়ানক সামাজিক ব্যাধির কোপও। তা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘নেশামুক্তি না ঘটলে বাংলার আমাদের মা-বোন, দিদি-কন্যারা সুরক্ষিত থাকবে না। আমি মনে করি, এই বিকৃত মানসিকতার মূলে রয়েছে নেশা। এই জায়গা থেকে বাংলাকে, ভারতবর্ষকে যেমন নেশামুক্ত করতে বলছে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকেও নেশামুক্ত করতে হবে।’

     

     

     

     

  • Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাদের অনুপ্রবেশের (Islamist Entryism) অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গত ৮ অক্টোবর গৃহীত একটি প্রস্তাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগসূত্র থাকা সংগঠনগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির মোকাবিলায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Muslim Brotherhood)। এই প্রস্তাবে এমন সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মুসলিম ব্রাদারহুডের চারটি শাখাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেও ইউরোপের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কড়া রাজনৈতিক বার্তা (Islamist Entryism)

    প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য সেলিন ইমার্ট এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “এই ভোট ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।” প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইমার্ট। তবে সমাজতন্ত্রী ও চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির একাংশের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি বয়কট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্রপন্থা-বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক লরেঞ্জো ভিডিনোর মতে, এই ভোট ইউরোপের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শিবির এবং বামপন্থীদের মধ্যে মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী প্রতিনিধি প্রস্তাবটির পক্ষে থাকলেও বামপন্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর বিরোধিতা করেছে। ভিডিনো আরও জানান, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া প্রায় এক দশক ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। তাঁর মতে, বিষয়টিকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধের দৃষ্টিতে না দেখে ইউরোপীয় সমাজের সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, নারী-পুরুষের সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবে ইউরোপীয় মূল্যবোধকে ভিতর থেকে দুর্বল করার কাজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে—এমন নেটওয়ার্কগুলিকে অর্থায়ন, পরামর্শ বা বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী নীতিকে ইসলাম নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংগঠিত ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই নীতির অপব্যবহার করা উচিত নয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজের সিনিয়র ফেলো এবং ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এডমন্ড ফিটন-ব্রাউন এই প্রস্তাবকে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের সূচনা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রস্তাবের সুপারিশগুলিকে বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করা সহজ হবে না।

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন, অহিংস ইসলামপন্থাকে হিংসাত্মক উগ্রপন্থার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, পদ্ধতি আলাদা হলেও দুই ধরনের গোষ্ঠীর লক্ষ্য কখনও কখনও একই হতে পারে।

    অর্থায়ন ও বিদেশি প্রভাবের উপর বাড়তি নজরদারির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে ইউরোপীয় কাউন্সিলকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনগুলিকে ইইউয়ের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অনুসরণযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড বা রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলিকে দেওয়া অনুদান খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয় কমিশনের পর্যালোচনারও প্রস্তাব রয়েছে (Islamist Entryism)।

    বিদেশি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের উপর আরও কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে কাতার বা তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারকারী ধর্মীয় বক্তাদের তালিকা তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রস্তাবটি। একই ধরনের তালিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্তরেও তৈরির পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শেনজেন ব্যবস্থার পাশাপাশি ইইউয়ের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিনোর মতে, এই প্রস্তাব ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা এবং সরকারগুলিকে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আরও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে পারে। তবে এর ফলে অবিলম্বে বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি নিজেদের কার্যকলাপ আড়াল করতে সহযোগী সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করতে পারে।

    বামপন্থী সংগঠনের বিরোধিতা, উঠল ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক এগেনস্ট রেসিজম (ইএনএআর)। ইউরোপজুড়ে বর্ণবৈষম্যবিরোধী কাজ করা এই সংগঠনটি প্রস্তাবটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছে।

    ইএনএআরের অভিযোগ, ইউরোপীয় পিপলস পার্টি এমন কিছু অভিযোগকে সামনে এনেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় মুসলিম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির ফোরাম (ফেমিসো)-সহ বিভিন্ন সংগঠনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই অভিযোগগুলি খারিজ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অন্যায্যভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন, ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করা গোষ্ঠী এবং মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা ব্যক্তিদের নিশানা করেছে।

    ইএনএআরের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে পারে। সংগঠনটির মতে, গণতন্ত্র, সমতা এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ঘোষিত অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও এই ভোট নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

    এই বিতর্কে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এক পক্ষের মতে, ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির কার্যকলাপ এবং বিদেশি অর্থায়নের উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত

    ইউরোপে অভিবাসন, সামাজিক সংহতি, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের সঙ্গেও এই সংঘাত যুক্ত। জাতীয়তাবাদী দলগুলির একাংশ বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামপন্থী উদ্দেশ্য প্রচারের সন্দেহে থাকা সংগঠনগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, বামপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে (Muslim Brotherhood)।

    এখন নজর থাকবে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাস্তবে কী পদক্ষেপ করে। অর্থায়ন, বিদেশি অংশীদারিত্ব, সন্দেহভাজন ইসলামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউরোপীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তের (Islamist Entryism) উপর।

    প্রস্তাবের সমর্থকদের কাছে এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভিতরে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সূচনা। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে তখনই, যখন প্রস্তাবের সুপারিশগুলি বাস্তব নীতি ও আইনে রূপান্তরিত হবে।

     

  • Brazil Election: ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট লুলা, চমকপ্রদ জয়ে ধরাশায়ী বলসোনারোর ছেলে

    Brazil Election: ব্রাজিলে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট লুলা, চমকপ্রদ জয়ে ধরাশায়ী বলসোনারোর ছেলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নজিরবিহীন চতুর্থবারের মতো জয় পেলেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (Brazil Election)। রবিবারের নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে তথা সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে ফের ক্ষমতা দখল করলেন বছর আশির লুলা। জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাসকে কার্যত ভুল প্রমাণ করে দিল তাঁর এই জয়। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উত্থানের ধারার মধ্যেও ব্যতিক্রমী নজির গড়লেন তিনি (Lula Wins)।

    এই জয় লুলার রাজনৈতিক জীবনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তন। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২২ সালে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছিলেন লুলা। এ বারও মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সরকারের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তা সত্ত্বেও নতুন করে জনসমর্থন আদায় করে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হলেন তিনি।

    প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো (Brazil Election)

    নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। বাবার উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনকে ফের শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে নেমেছিলেন তিনি। তবে জনমত সমীক্ষকদের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভোটদানের হার শেষ পর্যন্ত প্রশস্ত করেছে লুলার জয়ের পথ।

    পরামর্শদাতা সংস্থা থিঙ্ক পলিসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতো বলেন, “মানুষ এখন পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে এক দিকে, অন্য দিকে পরিচিত পথের মধ্যে একটি বেছে নিচ্ছেন। পরিচিত পথ অন্তত কিছু অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।”

    প্রচারের একাধিক পর্যায়ে লুলার জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তাঁর ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ বাড়ছিল। পাশাপাশি, সমাজের পরিবর্তন এবং অ্যাপ-নির্ভর কাজের প্রসার তরুণ ভোটার ও ব্রাজিলের ক্রমবর্ধমান অসংগঠিত শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে লুলার রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।

    ব্রাজিলে বামপন্থীদের প্রত্যাবর্তন

    নির্বাচনী প্রচারে দারিদ্র্য, আর্থিক বৈষম্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা এবং বন উজাড়ের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেন লুলা। পাশাপাশি, বলসোনারো ক্ষমতায় ফিরলে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় কমানো, গত কয়েক দশকে অর্জিত সামাজিক অগ্রগতির কিছু পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার উপর নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    লুলার জয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ব্রাজিলের ক্ষমতায় বলসোনারো পরিবারকে ফেরানোর পক্ষে ছিল ওয়াশিংটনের প্রশাসন। এই ফলের জেরে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে চলা দক্ষিণপন্থী সরকারগুলির জোটেও আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল না।

    লুলার আমলের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সেলসো আমোরিম মনে করেন, লাতিন আমেরিকায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন লুলা।

    আমোরিম বলেন, “লাতিন আমেরিকায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। লুলা নিজেই সেই ভারসাম্যের প্রতীক (Brazil Election)।”

    লুলার রাজনৈতিক জীবন বারবার প্রত্যাবর্তনের নজিরে ভরা। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাঁকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল। পরে সেই মামলার রায় বাতিল হওয়ায় ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান তিনি। সেই নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট হন।

    এ বার আরও একটি নজির গড়েছেন লুলা। ১৯৮০-র দশকে ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনিই প্রথম প্রার্থী, যিনি নির্বাচনের প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলেন।

    রক্ষণশীল কংগ্রেসে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন লুলা। কারণ, ব্রাজিলের নতুন কংগ্রেসে গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে সবচেয়ে রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

    বলসোনারোর লিবারেল পার্টি এবং তাদের সহযোগী দলগুলি নিম্নকক্ষে ২৮০টিরও বেশি আসন এবং সেনেটে সর্বোচ্চ ৫০টি আসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে সংসদের দুই কক্ষেই দক্ষিণপন্থী শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

    সাও পাওলোর গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক অলিভার স্টুয়েনকেল মনে করেন, সংসদে এই সমীকরণের কারণে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে লুলাকে (Brazil Election)।

    তাঁর কথায়, “শুরু থেকেই তাঁর কার্যকর রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

    রক্ষণশীল কংগ্রেস লুলার নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা খর্ব করতে পারে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরির প্রক্রিয়া জটিল করে তুলতে পারে এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব কমাতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে অভিশংসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ফলে চতুর্থ মেয়াদে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা লুলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    নির্বাচনী প্রচারে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের ব্রাজিলীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লুলা। তাঁর ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল সপ্তাহান্তে সারা দেশে বিনামূল্যে গণপরিবহণ চালু করা, যদিও এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি, তাঁর সরকারের প্রধান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

    এ ছাড়া, শ্রম আইন সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর পক্ষেও সওয়াল করেছেন লুলা। কয়েক দশকের মধ্যে ব্রাজিলের অন্যতম বৃহৎ শ্রম সংস্কার হিসেবে বিবেচিত এই পদক্ষেপ কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পাস হয়েছে (Lula Wins)।

    অর্থনীতির চাপ সামলানোই বড় পরীক্ষা

    লুলার চতুর্থ মেয়াদ শুরু হতে চলেছে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে। চড়া সুদের হার, সরকারি ঋণের বৃদ্ধি এবং পরিবারগুলির ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ ইতিমধ্যেই বাড়ছে।

    ব্রাজিল সরকারের পূর্বাভাস, আগামী বছর দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৩ শতাংশ হতে পারে। অন্য দিকে, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত ৮২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারির পর থেকে যা সর্বোচ্চ স্তর। সরকারি ব্যয়ের কারণে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশের জন্য সুদ মেটানোর খরচকেই দায়ী করা হচ্ছে।

    বিনিয়োগ সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস, রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মডেলের প্রতি লুলার অঙ্গীকার বজায় থাকায় আগামী মেয়াদে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি অগ্রগতি নাও হতে পারে (Brazil Election)।

    পরিবারগুলির ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাওয়াও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় অনলাইন বেটিংয়ের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন লুলা। পাশাপাশি, ঋণের বোঝা কমাতে নতুন একটি কর্মসূচির কথা ঘোষণাও করেন তিনি।

    অন্য দিকে, নতুন কংগ্রেসে দক্ষিণপন্থী দলগুলির প্রভাব বাড়ায় ব্যবসাবান্ধব কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জোরদার হতে পারে। এর ফলে সরকারি ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির উপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, নির্বাচনে জয় এলেও লুলার (Lula Wins) সামনের পথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এক দিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, অন্য দিকে সরকারি ঋণ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পাশাপাশি রক্ষণশীল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে তাঁর চতুর্থ মেয়াদের প্রধান পরীক্ষা (Brazil Election)।

     

LinkedIn
Share