মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকালে অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram mandir) কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা কর্মীরা তিন কাশ্মীরি মুসলিমকে গ্রেফতার করেছে। কঠোর নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে ঢুকে মন্দির প্রাঙ্গণের ভিতরে ওই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের (Kashmiri Muslims) নামাজ পড়তে দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের হিন্দু মন্দির প্রাঙ্গণের ভেতরে ইসলাম ধর্মের বিশেষ নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখেই বেশ সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সীতা রসোই এলাকায় আটক (Ram mandir)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জন পুরুষ (Kashmiri Muslims) এবং একজন মহিলা। প্রত্যেকেই কাশ্মীরি পোশাক পরে ডি ১ গেট দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে (Ram mandir) প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন মূল মন্দির থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে সীতা রসোই এলাকার কাছে বসে নমাজ পড়তে শুরু করে। তবে, নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাটি দেখতে পেয়েই তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ইসলাম ধর্মীয় স্লোগান দেন
নমাজ পড়া প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হল বছর পঞ্চান্নর আবু আহমেদ শেখ। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা। মহিলার নাম সোফিয়া, যদিও তৃতীয় যুবকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা কর্মীরা যখন তাদের থামায় তখন তিনজন ইসলাম ধর্মীয় স্লোগান দেন। তাঁদের এই কর্মকাণ্ডের পিছনে কোন বড় ধরনের নাশকতা মূলক কাজের ইঙ্গিত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহত্তর উদ্দেশ্য বা নেটওয়ার্ক জড়িত
অভিযুক্তদের কাছে কাজু এবং কিশমিশের মতো জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, যা সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ জঙ্গিরা প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের সময় বেঁচে থাকার জন্য এই জাতীয় শুকনো ফল সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় (Ram mandir) পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে তাদের উদ্দেশ্য, ভ্রমণের বিবরণ এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর উদ্দেশ্য বা নেটওয়ার্ক জড়িত কিনা তা নির্ধারণের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন বা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট (Ram mandir) এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি (Kashmiri Muslims) করেনি। এই ঘটনা আবারও রাম মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরেছে, যেখানে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাম লালার অভিষেকের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। মন্দিরটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা চব্বিশ ঘন্টা পাহারা দেওয়া হয়। পুলিশ ইউনিট থেকে প্রায় ২০০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র এবং ড্রোন-বিরোধী কেন্দ্র গড়া হবে
বিগত মাসগুলিতে, রামমন্দিরকে (Ram mandir) ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা হুমকি এসেছে নানা মহল থেকে।, যার মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, ফোন কল এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে বোমা মারার হুমকি। অযোধ্যায় এখন একটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের (এনএসজি) হাব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্র এবং ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থায় সজ্জিত পুলিশ, সিআরপিএফ, এসএসএফ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের জন্য ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সহায়তা কেন্দ্রও গড়া হবে। আসন্ন মকর সংক্রান্তি উদযাপনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে মন্দির নগরীতে প্রচুর জনসমাগম হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। আর তাই সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।
কতটা কঠিন ছিল রামমন্দির?
উল্লেখ্য, রাম মন্দির ভারতের অন্যতম ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্র। ৫০০ বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় আন্দোলনের পর এই মন্দির ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মন্দির নির্মাণ হলেও বাবরের উত্তরসূরীদের মনে শান্তি নেই। সব সময় হিন্দু আস্থার কেন্দ্রে ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠন রাম মন্দির নিয়ে উস্কানি এবং বোমা মারার হুমকি দিয়েছে। বাবর যে শ্রী রামের মন্দির ভেঙে মসজিদ বানিয়েছিলেন, এ কথা এখন সত্য। তাই ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে নয়, এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ারই সময় আমাদের।

Leave a Reply