TMC Rajya Sabha: রাজ্যসভায় তৃণমূলের সমকামী প্রার্থীর মনোনয়ন, এই সিদ্ধান্ত ‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী’, বললেন মৌলানা রিজভী

trinamool-congress-nomination-of-gay-candidate-to-rajya-sabha-sparks-heated-debate-maulana-rizvi-says-decision-goes-against-islamic-teachings

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) আসন্ন রাজ্যসভা (TMC Rajya Sabha) নির্বাচনের জন্য একজন সমকামী (Homosexual) মেনকা গোস্বামীকে মনোনীত করে টিকিট দেওয়ার পর রাজ্যে নতুন করে বিরাট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মগুরু মৌলানা শাহাবুদ্দিন রিজভী।

তৃণমূলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত (TMC Rajya Sabha)

তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Rajya Sabha) সম্প্রতি তাদের রাজ্যসভা প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে এমন একজন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যিনি প্রকাশ্যেই নিজের সমকামী পরিচয়ের কথা স্বীকার করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই প্রথম কোনও প্রধান রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষে পাঠানোর জন্য এমন কোনও প্রার্থীকে বেছে নিল। আর এখানেই মুসলিম নেতাদের তীব্র আপত্তির সূত্রপাত। অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের সভাপতি মৌলানা শাহাবুদ্দিন রিজভী এই মনোনয়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সমকামিতা  (Homosexual) ইসলামি শরীয়ত এবং নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী। একজন সমকামীকে সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো মুসলিম সমাজের মূল্যবোধে আঘাত করার শামিল। সমকামিতাকে উৎসাহ দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। মেনকা গোস্বামীর একজন মহিলা সঙ্গীও রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিকোণে এই ভাবনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী

মৌলানা রিজভী আরও উল্লেখ করে বলেন, “পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে সমকামিতাকে (Homosexual) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC Rajya Sabha)  কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানাই। এই পদক্ষেপ মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ভুল বার্তা দেবে।”

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

এই মনোনয়ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। বিজেপি নেতাদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Rajya Sabha) তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে তারা ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক ঐতিহ্য—উভয়কেই উপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি তারা প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) সমাজ গঠনে বিশ্বাসী।

তৃণমূলের অবস্থান

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Rajya Sabha) শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্কের জবাবে জানিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন বা যৌন পরিচয় তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। দল যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করেছে। দল সব ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে।

সামাজিক উত্তেজনা

এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ধরণের মত দেখা যাচ্ছে। একদল এই পদক্ষেপকে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকারের জয় হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো একে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তবে মাওলানা রিজভি নানা সময়ে নানা ভাবে বিতর্কের জড়িয়েছেন। যেমন—২০২৫ সালের মহাকুম্ভের স্থান ওয়াকফ সম্পত্তি, ম্যাচের সময় শামির বিরুদ্ধে রোজ না পালন করায় সমালোচনা করেন। বেরেলির বিশ্বাসকে সমুদ্র আর দেওবন্দীদের শিয়া সম্প্রদায়কে নদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৫ সালে নববর্ষ উদযাপনকে হারাম ঘোষণা করেছেন। নিজের গুণে নিজে কুখ্যাত হয়েছেন এই মুসলিম ধর্মগুরু।

রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের (TMC Rajya Sabha) এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে প্রগতিশীল চিন্তাধারা (Homosexual) এবং অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতির সংঘাত এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share