মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার দুপুরে চন্দননগর ডুপ্লে কলেজের সামনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। দুপক্ষের মধ্যে মারপিট, লাঠি, ঘুষি, কিল, চড় কিছুই বাদ যায়নি। দুপুরে এরকম ঘটনার সাক্ষী রইল কলেজ সংলগ্ন ঐতিহ্যশালী স্ট্র্যান্ড রোড। আটক করা হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সম্বুদ্ধ দত্ত এবং তাঁর অনুগামী অলীক সামন্ত এবং অর্ণব ঘোষ নামে দুই ছাত্রনেতাকে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গন আরও একবার বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।
কেন হাতাহাতি?
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সম্বুদ্ধ দত্তকে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তারপর থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসের রাজত্ব কার কাছে থাকবে, এই নিয়ে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের (TMCP) অন্দরে দুই গোষ্ঠীর লড়াই চলছিল। ক্যাম্পাসের আধিপত্য বজায় রাখতেই এদিন এই সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ, সংঘর্ষ হয় সম্বুদ্ধ দত্ত ঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীদের অভব্য আচরণের জেরে। কলেজ ক্যাম্পাসের আশেপাশে মেয়েদেরকে বহুদিন ধরেই সমাজবিরোধীরা হেনস্থা করছিল বলে বিশেষ অভিযোগ উঠছিল। কলেজের পর্যবেক্ষক সুইটি কোলে অভিযোগ করেন, পাপ্পু চৌধুরী সহ কয়েকজন সমাজবিরোধী কলেজের বাইরে তাঁদের বেশ কয়েকদিন ধরে উত্যক্ত করছিল। দিন দিন এটা সহ্যের সীমাকে অতিক্রম করে গিয়েছিল। প্রতিকার হচ্ছে না বলে কিছু একটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছিলেন তাঁরা। তাই প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে মিছিল করতে করতে চন্দননগর থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কলেজে ফেরার সময় সম্বুদ্ধ দত্ত মদতপুষ্ট বহিরাগত দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। দেখতে দেখতে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আমিশা নামে এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তাঁদের ওপর সম্বুদ্ধ ও তাঁর দলবল চড়াও হয়ে তাঁর গায়ে হাত তোলে। তাঁর সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। অন্যদিকে পাপ্পু চৌধুরীকেও বেধড়ক মারধর করার ফলে তাকে চন্দননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বিরোধীদের বক্তব্য
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) বর্তমান জেলা সভাপতি শুভদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, বহিরাগতদের সঙ্গে কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের একটা গণ্ডগোল হয়েছে। জানা গেছে, সম্বুদ্ধ দত্ত সেই সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে দলের কোনও ব্যাপার নেই। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশ আইন অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থা নেবে। বিরোধী ছাত্র সংগঠন মনে করছে, তৃণমূলের শাসনে বহুদিন ছাত্র নির্বাচন বন্ধ। ভর্তির জন্য কাটমানি কে নেবে, নবীনবরণ উৎসবের নামে টাকা কে তুলবে-এই নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীসংঘর্ষের ফলাফলস্বরূপ এমন ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় যদি দলের কোনও বিষয় না থাকে, তবে দলের নেতারা দাঁড়িয়ে থেকে কেন এই ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন? উত্তর মেলেনি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতার বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
পুলিশের ভূমিকা
স্থানীয় চন্দননগর থানায় দুপক্ষের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) অভিযুক্ত দুপক্ষের নেতাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল থানায়। পুলিশ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করে। রাত অবধি আটকে রাখা হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযুক্তদের।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply