Uttarkashi Tunnel Rescue: ৪১ জন শ্রমিক বের হতেই জয়দেবের গ্রামে বেজে উঠল শঙ্খ, হল মিষ্টি বিতরণ

WhatsApp_Image_2023-11-29_at_1255.43_PM

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ফিরবেন, কাল ফিরবেন করে সতেরো দিন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, ঘরে ফেরেননি উত্তরকাশীর (Uttarkashi Tunnel Rescue) সুড়ঙ্গে আটকে থাকা হুগলির পুরশুড়ার দুই ছেলে সৌভিক পাখিরা এবং জয়দেব প্রামাণিক। ছেলেদের ঘরে ফেরা নিয়ে আশঙ্কা আর উদ্বেগে দিন কাটছিল পরিবারের লোকজনের। মঙ্গলবার সকাল থেকে উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু, বিকেলের পর আশার আলো দেখতে শুরু করেন জয়দেবের পরিবারের লোকজন। একে একে ৪১ জনের মধ্যে জয়দেবও বেরিয়ে এলেন।

মায়ের সঙ্গে কী কথা বললেন জয়দেব? (Uttarkashi Tunnel Rescue)

জয়দেবের মা তপতী দেবী ছেলে আটকে থাকার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। মঙ্গলবারও কান্নাকাটি করেছেন। অবশেষে ছেলে বেরোলেন। একগাল হাসি ফুটল মায়ের মুখে। ভিডিয়ো কলে কথাও হল। মা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন আছিস?” কয়েক সেকেন্ডের স্তব্ধতা। তার পর জবাব এল- ‘ভালো… ভালো।” মায়ের পরের প্রশ্ন, “বাড়ি কখন আসবি?” এবার জবাব এল, “এখন আর ফিরব না। কাজ আছে।” শুনেই হেসে ফেললেন মা। হাসছেন পরিবারের সবাই।

গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ

উত্তরকাশী (Uttarkashi Tunnel Rescue) জেলার ব্রহ্মতাল-যমুনোত্রী জাতীয় সড়কের উপর সিল্কিয়ারা এবং ডন্ডালহগাঁওের মধ্যে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে কাজ করতে গিয়েছিলেন হুগলির পুরশুড়ার বাসিন্দা জয়দেব প্রামাণিক। গত ১২ নভেম্বর হঠাৎই সেই সুড়ঙ্গের একাংশে ধস নামে। জয়দেবের পরিবারের সঙ্গে গোটা গ্রামের মানুষ গত কয়েকদিনে মুষড়ে পড়েছিলেন। ৪১ জন শ্রমিক উদ্ধার হওয়ার দিন গুনতেন। মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীর এসে জয়দেবের বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন। টিভির পর্দায় নজর রাখেন সকলেই। একে একে সকলে উদ্ধার হতেই জয়দেবের দিকে নজর ছিল সকলের। জয়দেব উদ্ধার হতেই গ্রামজুড়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। জয়দেবের উদ্ধারের খবর পেতেই শঙ্খধ্বনি শুরু হয় গ্রামে। মিষ্টিমুখ করলেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। গোটা গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ।

উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানালেন জয়দেবের বাবা

জয়দেবের বাবা তাপস প্রামাণিক ধন্যবাদ দিলেন উদ্ধারকারী দলকে। তিনি বলেন, ঈশ্বরকে বললাম, তোমরা আছো। ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও ভালো আছে। ছেলেদের সাহস দেখে তো আমরাও বল পেয়েছি। ভেবেছি, ওরা যদি ওভাবে আটকে থেকে এরকম থাকতে পারে, আমরা কেন সাহস নিয়ে থাকতে পারব না? গত কয়েক দিন দোকান খুলতে ইচ্ছে করেনি। আজ আমি খুশি। যে ভাবে আমার প্রতিবেশীরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি ধন্য।

 

 দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share