Mpox: মাঙ্কি পক্স রুখতে কোন নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক? কেন করোনার মতোই তৎপরতা?

Mpox

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে দাপট। আর তাই উদ্বেগও বাড়ছে। কয়েক বছর আগের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাজা। ফের কেউ সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইছেন না। তাই আগাম আটঘাট বেঁধে রাখতে চাইছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। দেশ জুড়ে তারা বাড়াচ্ছে সতর্কতা। গত বছরে মাঙ্কি পক্স (Mpox) বেশ কিছু দেশে প্রকোপ বাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই ভাইরাস ফের সক্রিয় হয়েছে। তাই সজাগ স্বাস্থ্য প্রশাসন।

কোন দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক? (Mpox)

করোনা-কালে অন্য দেশ থেকে আসা মানুষদের থেকেই ভারতে এই মহামারি ছড়িয়েছিল। তাই মাঙ্কি পক্সের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে চাইছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের সবকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষত বেঙ্গালুরু এবং মুম্বই বিমানবন্দরে এই ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কারণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এই সব বিমানবন্দরে বেশি যাতায়াত হয়। তবে বাদ নেই কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই সহ অন্যান্য বিমানবন্দরও। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিদেশ থেকে কেউ ভারতে আসলেই তার নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরেই সেই ব্যক্তির অবাধ যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। যদি মাঙ্কি পক্সের নমুনা কোনও ব্যক্তির দেহে পাওয়া যায়, তাহলে ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হবে। একদম করোনার পথেই মাঙ্কি পক্সের দাপট রুখতে চাইছে কেন্দ্র।

কেন উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক?

গ্রীষ্মপ্রধান দেশে মাঙ্কি পক্সের দাপট বেশি। রেইন ফরেস্ট এলাকা থেকেই এই রোগের (Mpox) প্রকোপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বিভিন্ন দেশে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে চলতি বছরে মাঙ্কি পক্সের দাপট বেড়েছে। মূলত আফ্রিকার দেশগুলোতে এই বছরে এই ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। আফ্রিকার দেশ থেকে বহু মানুষ ভারতে আসেন। পর্যটক হিসেবে যাতায়াতের পাশপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক কারণেও বিভিন্ন দেশের মানুষ ভারতে আসেন। ফলে যোগাযোগ যথেষ্ট নিবিড়। তাই বাড়তি সতর্ক না থাকলে ভারতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসনের একাংশ।

মাঙ্কি পক্স কতখানি ভয়াবহ? (Mpox)

চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, মাঙ্কি পক্স নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। চিকেন পক্সের মতোই এই রোগে জ্বর হয়। গোটা শরীরে লাল চাকা দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রক্তনালীর ভিতরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাঙ্কি পক্স থেকে মৃত্যুও হতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মূলত পশুর দেহ থেকেই এই রোগ মানুষের শরীরে আসে। কিন্তু এই রোগের সংক্রমণ ক্ষমতা মারাত্মক। আক্রান্তের নাক, চোখ, মুখের লালা রস থেকে এই রোগ ছড়াতে পারে।‌ এমনকী আক্রান্তের ব্যবহার করা পোশাক থেকেও এই রোগ ছড়াতে পারে বলে জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। তাই সংক্রমণ রুখতে মরিয়া চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তবে এই রোগ সম্পর্কে জন সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার জন সচেতনতা। জ্বর, কাশি কিংবা শরীরের বিভিন্ন জায়গা হঠাৎ লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। যাতে এই রোগের (Monkey Pox) দাপট বাড়ার আগেই মোকাবিলা সম্ভব হয়।

 

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share