Bangladesh: হিন্দু পুলিশকে খুন করেছিল বুক ফুলিয়ে! বিদেশে পালানোর পথে দিল্লিতে আটক, ঢাকায় ফেরত পাঠানো হল সেই মেহেদিকে

hindu-policeman-killed-in-a-fit-of-rage-mehdi-arrested-in-delhi-while-fleeing-bangladesh

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ ছিলেন ডক্টর মহম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দু সমাজের উপর নেমে আসে বিরাট অত্যাচার। লুটপাট, খুন, ধর্ষণ, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা অতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। সেই সময় যেসব হিন্দু পুলিশ অফিসারকে নৃশংস ভাবে হত্যা (Killing Hindu) করা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ছিল আহমেদ রাজা হাসান মেহেদি। বুধবার অভিযুক্ত এই যুবককে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেফ ট্রানজিট হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় এই খুনি।

বুক ফুলিয়ে স্বীকার (Bangladesh)

আহমেদ রাজা হাসান মেহদি হল সেই ব্যক্তি যে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে স্বীকার করেছিল হিন্দু পুলিশ অফিসারকে হত্যার (Killing Hindu) কথা। যেহেতু বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠন করেছে তাই পুরনো খুন-হত্যার মামলার তদন্ত শুরু হতে পারে। এই আশঙ্কা এবং ভয়ে মেহেদি বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশে জামায়েত ইসলামি (জামাত শিবির) এবং কট্টর মৌলবাদীরা যাকে জুলাইয়ের বিপ্লব বলছে, তা আদতে একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্র ছিল। পুলিশ প্রশাসন, হাসিনার দল এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আক্রমণ করে কট্টরপন্থীরা । গোটা বাংলাদেশের আর্থিক, সামাজিক অস্থিরতায় দেশের জনজীবনকে ব্যাপক ভাবে ভয়াবহতার দিকে নিয়ে চলে গিয়েছে। এই সব চক্রের পিছনে অন্যতম নেতৃত্ব ছিল আহমেদ রাজা হাসান মেহেদিরও।

হত্যা করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়

বাংলাদেশের (Bangladesh) হবিগঞ্জের স্টুডেন্ট কো-অর্ডিনেটর ছিল আহমেদ রাজা হাসান মেহেদি। ২০২৪ সালে সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ কোটা বিরোধিতার নামে উত্তাল হয়ে ওঠে। উন্মত্ত ছাত্র জনতার হাতে নির্মম ভাবে খুন হন বেনিয়াচ্যাং থানার সব ইনস্পেক্টর সন্তোষ চৌধুরী। হত্যা করে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন সন্তোষ। মাত্র ১০ মাস হয়েছিল বিবাহের। সন্তোষের মৃত্যুর তিনমাস পরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। উল্লেখ্য মেহেদি নিজেই স্বীকার করেছিল, সে নিজে ওই পুলিশ অফিসারকে খুন করেছে। বাংলাদেশের একটি থানার ভিতরে বসে মেহেদির ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

‘‘সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম’’

মেহেদি বলেছিল, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম (Killing Hindu), এসআই সন্তোষকে (সন্তোষ চৌধুরী) জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।” ২০২৪ সালে থানায় বসে পুলিশের সামনে পুলিশ হত্যার কথা স্বীকার করে ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল মেহেদি। যদিও এই বক্তব্যের পর তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তবে কিছুদিন পরেই জামিনে মুক্তি পেয়ে গিয়েছিল। এবার বাংলাদেশে পট-পরিবর্তন হওয়ায় ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মেহেদি। সেই কারণে, ট্রানজিট করতে ভারতে এসেছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে এসেছিল মেহেদি। তার গন্তব্য ছিল ফিনল্যান্ডে। সেখানেই ভিসা আবেদন করতে আসে সে। এরপর সেখানেই তাকে অনেক চিনে ফেলেন। তার চলাফেরাকে ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরেই দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয় মেহেদিকে। তবে মেহেদির অভিযোগ, তাকে ফোন করে নাকি প্রচুর পরিমাণে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

ধরা পড়ার পর মেহেদির বক্তব্য

মেহেদির ভারত ও ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে ভারতী সরকারের কাছে পূর্ব তথ্য ছিল। এর ভিত্তিতে, দিল্লি বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগ  বিমান ওড়ার আগেই তাকে আটক করে। ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে মেহেদি অভিযোগ করে, আটকের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে  দুর্ব্যবহার করেছে। তাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল এবং তার ফোন পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশে ফিরে আসার পর এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় মেহেদি।

ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় আটক

জানা গিয়েছে, মেহেদি ভারতের পথ ধরে ইউরোপে পালিয়ে যাচ্ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশনে আটক করে বাংলাদেশের ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয় মেহেদিকে। বাংলাদেশ হাইকমিশনও মেহেদির ধরা পড়া এবং ঢাকায় (Bangladesh) ফেরত পাঠানোর বিষয়কে সুনিশ্চিত করেছে। আবার বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন আধিকারিকরা তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মেহেদিকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাকে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শেষে দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করে নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। দিল্লি থেকে ইন্ডিগোর উড়ানে নাকি ঢাকায় ফেরে মেহেদি।  বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share