মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনে ছাত্র রাজনীতির উত্তাপে শোরগোল পড়েছে। ২০১৯ সালের রূপান্তরকামীরদের জন্য আনা বিল সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার দাবিতে সভা করে এসএফআই। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (Visva Bharati) সংলগ্ন এলাকায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং ডানপন্থী সংগঠন এবিভিপি-র কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে (Shantiniketan)।
ঘটনার সূত্রপাত (Visva Bharati)
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্পাসের (Visva Bharati) অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। এবার রূপান্তরকামী আইনকে কেন্দ্র করে সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। উভয় পক্ষের ছাত্ররা একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান এবং আক্রমণের অভিযোগ এনেছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
সংঘর্ষের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার (Visva Bharati) জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এসএফআই-এর দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতদের নিয়ে এসে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে এবিভিপির সমর্থকরা। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। পাল্টা গেরুয়া শিবিরের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে (Visva Bharati) অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি করছে এবং তাদের কর্মীদের ওপর বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ করা হয়েছে। এবিভিপি-র এক কর্মী বলেন, “এসএফআই সব সময়ই দেশবিরোধী কার্যকলাপ করে থাকে। ভারত মাতার জয়-বন্দে-মাতরম শুনলে তো ওদের রক্ত গরম হয়ে যায়। সেই কারণে ওদের জ্বলন হয়। এরপর ওদের কয়েকজন এখানে চলে আসে। ধস্তাধস্তি করে। আমাদের গায়ে হাত দিয়েছে। আমরা প্রতিরোধ করি। পরে বাধ্য হয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ এসেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিশ্বভারতী (Visva Bharati) কর্তৃপক্ষ এই অপ্রীতিকর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে অশান্তি এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল জারি রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। শান্তিনিকেতনের (Shantiniketan) মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এহেন বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ আশ্রমিক ও সাধারণ অভিভাবক মহল।

Leave a Reply