মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবী পক্ষে সেই কৈলাশ থেকে মর্তে বাপের বাড়িতে এসেছিলেন মা দুর্গা। মর্তবাসী চারদিন ধরে জাঁকজমকভাবে তাঁর পুজোপাঠ করেছেন। দেবী ফিরে যাবেন কৈলাশে। এই বিশেষ দিনে যার দর্শন পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বলে মানা হয়ে থাকে, তা হল নীলকন্ঠ পাখি। পোষ্য সেই নীলকন্ঠ পাখিকে সঙ্গে করে নিয়ে এদিন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার (Katwa) মুস্থূলী ও ঘোড়ানাশ গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দর্শন করালেন বধূ বাণী রায়। ওই পাখির কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে তারপর এই দুই গ্রামের গৃহস্থ পরিবারের বধূরা ও বাণীদেবী একে অপরের সিঁথিতে সিন্দুর পরিয়ে দিলেন। বাণী রায়ের দৌলতে এভাবেই বছরের পর বছর দশমীর পর নীলকন্ঠ পাখির দর্শন পেয়ে আসছেন মুস্থূলী ও ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দারা।
দশমীর দিনে দুটি নীলকন্ঠ পাখিকে ওড়ানো হয়
এই ’নীলকন্ঠ পাখিকে নিয়ে হিন্দুদের ভক্তিভাব ও আবেগের অন্ত নেই। পাখিটির পোষাকি নাম ‘ইন্ডিয়ান রোলার’। আর বিজ্ঞানসম্মত নাম হল ‘কোরাসিয়াস বেনঘালেনসিস’। হিন্দুদের কাছে পাখিটির আদরের নাম নীলকন্ঠ। দুর্গাপুজোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে এই পাখির। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুয়ায়ী, নয় দিন মর্তে বাপের বাড়িতে কাটিয়ে দশমীর দিনে গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে কৈলাশে ফিরে যান মা দুর্গা। দেবীর সেই আগমন বার্তা নাকি নীলকন্ঠ পাখি-ই কৈলাশে মহাদেবকে পৌঁছে দেয়। সেই বিশ্বাসে ভর করে দশমীর দিনে দুটি নীলকন্ঠ পাখিকে ওড়ানোর রীতি মানা হয়ে থাকে। প্রথমটি ওড়ানো হয় মন্দির থেকে দেবী দুর্গার যাত্রা শুরুর সময়। আর দ্বিতীয় নীলকন্ঠ পাখিটি ওড়ানো হয় দেবীর প্রতিমা বিসর্জনের পর। এও বলা হয়, রাবণবধের আগে এই নীলকন্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। আবার অনেকের মতে ,নীলকন্ঠ পাখি-ই নাকি রামচন্দ্র ও তাঁর বাহিনীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এইসব নানা বিশ্বাস ও প্রচলিত ধারণা থেকে নীলকন্ঠ পাখির দর্শন লাভ শুভ বলে মনে করেন হিন্দুরা। কাটোয়ার (Katwa) এই গ্রামে বছরের পর বছর ধরে সেই রেওয়াজ চলে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা কী বললেন?
কাটোয়া-২ (Katwa) নম্বর ব্লকের জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অখড়া গ্রামে বাড়ি বাণী রায়ের। তিনি বলেন, ‘দশমীর দিন সকাল থেকে উপবাসে থেকে নতুন বস্ত্র পরে পরিবারের পোষ্য নীলকন্ঠ পাখিটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। এলাকার গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়ির বধূদের নীলকন্ঠ পাখি দর্শন করাই। কেন পাখিটিকে বিভিন্ন জনের বাড়ি বাড়ি নিয়ে দিয়ে দর্শন করান? তার উত্তরে বাণীদেবী বলেন, বংশপরম্পরায় আমাদের পরিবারের বধূরা দশমীর পর এলাকার গৃহস্থদের নীলকন্ঠ পাখির দর্শন করিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের মা, বাবা সহ সকলের শান্তি ও মঙ্গল কামনা এবং সংসারের কল্যাণের জন্য এদিন নীলকন্ঠ পাখি দেখাই। পাখি দেখানো শেষে দুপুরে বাড়ি ফিরে গিয়ে স্নান সেরে দুর্গা মাকে প্রণাম জানিয়ে তার পর মুখে অন্ন দিয়ে থাকি। আর মুস্থূলী ও ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, দশমীর পর বাণীর মাধ্যমে জীবন্ত নীলকন্ঠ পাখির দর্শন পেয়ে আমরাও তৃপ্ত হই। এদিন সকাল থেকে বাণীর জন্য আমরা বাড়ির বউয়েরাও পথ চেয়ে বসে থাকেন।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply