মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার মাঝেই দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ফের অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) আমদানি শুরু করল ভারত। ২০১৯ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে নতুন করে প্রাণ (Iran-India) ফিরে পেল।
নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম পদক্ষেপ (Crude Oil)
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস (Crude Oil) মন্ত্রক শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় রিফাইনারিগুলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সঙ্কট মেটাতে ইরান (Iran-India) থেকে তেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মে ২০১৯-এর পর এটিই প্রথম সরকারিভাবে স্বীকৃত তেলের চালান।
পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধে নেই কোনও বাধা
ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের (Crude Oil) সঙ্গে এই লেনদেনের ক্ষেত্রে পেমেন্ট বা অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই। এর আগে কিছু সংবাদে দাবি করা হয়েছিল যে পেমেন্ট সমস্যার কারণে একটি জাহাজ চিন (Iran-India) অভিমুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সরকার সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আমেরিকার নমনীয় অবস্থান
জানা গিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের জোগান (Crude Oil) স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ওয়াশিংটনের এই গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরই ভারত (Iran-India) এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এলপিজি সরবরাহ
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ৪৪,০০০ মেট্রিক টন ইরানি এলপিজি (LPG)-ও আমদানি করেছে। ‘সি বার্ড’ নামক একটি ট্যাঙ্কারে করে এই চালানটি ম্যাঙ্গালোর বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী মাসগুলিতে ভারতের জ্বালানির (Iran-India) প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলির কাছে বাণিজ্যিক সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছে তার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে (Crude Oil) জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের উৎসগুলি বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার পর এবার ইরানের বাজারের দিকেও ভারত ঝুঁকছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply