TMC: পঞ্চায়েত ভোটের আগে আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক, কেন জানেন?

TMC_(37)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছাড়া ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের হিরিক শুরু হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় শাসকদলের নিচু তলায় ক্ষোভ বিক্ষোভ পঞ্চায়েত ভোটের আগে যথেষ্টই অস্বস্তিতে ফেলেছে দলের জেলা নেতৃত্বকে। যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে অনেক জায়গায় অযোগ্য ও বিতর্কিতদের দল প্রার্থী করায় শাসকদলের এই কোন্দল ক্রমশ চওড়া হয়েছে। পুরনো অনেক তৃণমূল নেতা অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ কংগ্রেসে নাম লিখিয়ে সেই দলের প্রার্থী হয়েছেন। কেউ কেউ আবার নির্দল হয়ে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন। পঞ্চায়েত ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কারা তৃণমূল (TMC) ছাড়লেন?

আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সহ-সভাপতি সুরেশ চন্দ্র রায়,তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জন রায়, বঞ্চুকামারী অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান জগদীশচন্দ্র রায় সহ অনেকেই দলীয় পথ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তোমার গ্রামের একসময়ের তৃণমূলের বিধানসভার প্রার্থী স্বপন কুজুর নিজে অনুগামীদের নিয়ে দুদিন আগে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবারে বিরোধীদল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

কী বললেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল (TMC) নেতা?

দলের নেতৃত্বের উপর ক্ষুব্ধ আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সহ-সভাপতি সুরেশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ১২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনে আমাকে দল প্রার্থী করবে বলে অনেক আগে থেকেই সেখানে সাংগঠনিক কাজকর্ম ও রাজনৈতিক কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছিলাম।  কিন্তু, শেষ মুহূর্তে দেখা যায় বাইরে থেকে একজনকে এনে সেখানকার জেলা পরিষদ আসনে প্রার্থী করা হয়। দলের নীচু তলার কর্মী সমর্থকরা কেউ এটা মানতে পারছেন না। তাদের কাছে আমাকেও জবাবদিহি করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই দলীয় পদ থেকে ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছি। সুরেশবাবু দলীয় পদ থেকে সরে যেতেই ১২ নম্বর জেলা পরিষদ আসনের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শাসকদলের ভোটারদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সুরেশবাবু রাজবংশী সমাজের একজন বুদ্ধিজীবী মানুষ। রাজবংশী সমাজে আলিপুরদুয়ার জেলার গ্রামীণ এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে। ফলে, সামনের পঞ্চায়েত ভোটে সুরেশবাবুকে দল টিকিট না দেওয়ায় তার ফল শাসক দলকেই  ভোগ করতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

কী বললেন তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব?

শাসক দলের এই ভাঙন এবং ক্ষোভ, বিক্ষোভ পঞ্চায়েত ভোটের মুখে যথেষ্টই চাপে ফেলে দিয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। যদিও তৃণমূলের (TMC) জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, দল যাদেরকে প্রার্থী করেছে তাদেরকেই মানুষ সমর্থন করবেন। আমরা দেখে শুনে বিচার বিশ্লেষণ করেই দলের সমস্ত প্রার্থী ঠিক করেছি। ফলে এই সময় যারা দলের বিরোধিতা করছেন তারা কেউ দলকে ভালবাসতে পারেন না। মানুষ তাদেরকে যোগ্য জবাব দেবেন।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share