Amit Shah: বিচার ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী, ৩টি নতুন অ্যাপ চালু অমিত শাহের

GUJfKvma4AAVZSx

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি নির্ভর বিচারব্যবস্থা। ফৌজাদারি বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অ্যাপ (New Apps) উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ই-সাক্ষ্য (e-Sakshya), ন্যায় সেতু (Nyaya Setu), ন্যায় শ্রুতি (Nyaya Shruti) ও ই-সমন (e-Summon) ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চণ্ডীগড়ে নয়া অ্যাপের উদ্বোধন করে তিনি জানান, নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন, ভারতে ব্রিটিশ আমলের আইন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে সাহায্য করবে এই আইনগুলি। এতে দণ্ডের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ন্যায়ের ওপর। অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবের রাজ্যপাল এবং চণ্ডীগড়ের প্রশাসক শ্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

২১ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কার

নতুন অ্যাপগুলি বিচারব্যবস্থাকে প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে। ন্যায় পাবেন সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর ভাষণে বলেন, “আজ আমরা ২১ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কারের সাক্ষী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির দ্বারা আনা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (BSA) আমাদের ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ ও ভারতীয়ত্বের সুগন্ধ বহন করে।” তাঁর কথায়, “১৫০ বছর আগে তৈরি করা আইন আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে না। বছরের পর বছর মানুষ ন্যায়বিচার পায়নি, বরং বিচার ব্যবস্থায় শুধুমাত্র শুনানির নতুন তারিখ প্রদান করে দোষারোপ করা হয়েছে। মোদি সরকার ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে নতুন আইন বাস্তবায়ন করেছে।”

প্রযুক্তি-সক্ষম বিচার ব্যবস্থা

নতুন আইনগুলি পূর্ণ বাস্তবায়নের পরে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং প্রযুক্তি-সক্ষম ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা পাবে, বলে আশা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। তিনি জানান, এই আইনগুলির সঠিক প্রয়োগের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং আটটি রাজ্যে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। আরও আটটি রাজ্যে ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

নতুন অ্যাপগুলির সুবিধা

ই-সাক্ষ্য (e-Sakshya) অ্যাপের (New Apps) মাধ্যমে সমস্ত ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি এবং সাক্ষ্যগুলি ই-এভিডেন্স সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। ই-সমন (e-Summon) অ্যাপের মাধ্যমে সমন ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো হবে। ন্যায় সেতু (Nyaya Setu) ড্যাশবোর্ডে পুলিশ, মেডিক্যাল, ফরেন্সিক, প্রসিকিউশন এবং প্রিজন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ন্যায় শ্রুতি (Nyaya Shruti) অ্যাপের মাধ্যমে আদালত ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সাক্ষীদের শুনতে পারবে।

চণ্ডীগড়ে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন

এই অ্যাপগুলির (New Apps) সঠিক প্রয়োগের জন্য চণ্ডীগড়ে ২২ জন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং ১২৫ জন তথ্য বিশ্লেষক নিয়োগ করা হয়েছে। সমস্ত পুলিশ স্টেশনে ১০৭টি নতুন কম্পিউটার, স্পিকার এবং দুটি ওয়েব ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। ১৭০টি ট্যাবলেট, ২৫টি মোবাইল ফোন এবং ১৪৪টি নতুন আইটি কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। চণ্ডীগড় নতুন ফৌজদারি আইনগুলির ১০০ শতাংশ বাস্তবায়নের পথে প্রথম প্রশাসনিক ইউনিট হতে পারে।

নাগরিক-কেন্দ্রিক আইন

অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আমাদের প্রচার একটি সরকারি প্রচার নয়, বরং এটি আমাদের নতুন প্রজন্মকে মাদকাসক্তির বাইরে নিয়ে আসার প্রচার। নতুন আইনগুলির মাধ্যমে ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কারের সাক্ষী হচ্ছে। এই আইনগুলিতে প্রযুক্তি (New Apps) এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে এটি আগামী ৫০ বছরের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে। তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত রায় পাওয়া সম্ভব হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে আইনগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বলেন এবং গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি নয়া আইন প্রয়োগে নাগরিকদের সক্রিয় এবং গঠনমূলক অবদান রাখার অনুরোধ করেন।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share