Author: ishika-banerjee

  • T-20 World Cup: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’! বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও খাদের কিনারে আনল ইউনূস প্রশাসন

    T-20 World Cup: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’! বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও খাদের কিনারে আনল ইউনূস প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে, এখান থেকে ফেরা সহজ নয়। ভারত-বিদ্বেষে অন্ধ কট্টরপন্থীদের তোয়াজ করতে গিয়ে দেশের ক্রিকেটকে গাঢ়় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। টি-২০ বিশ্বকাপ শুধুই একটি টুর্নামেন্ট নয়, আইসিসি-র-র এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ক্রিকেট বিশ্বে একটি দেশের, একটি দলের ভবিষ্যত্‍ তৈরি হয়। আর সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’ বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্ত হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিল আইসিসি। ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে নিজেদের জেদ বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। একাধিক বৈঠক, আল্টিমেটামের পরেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তাই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হল না। টুর্নামেন্টের মূল তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়ে গ্রুপ ‘সি’ তে জায়গা দেওয়া হল স্কটল্যান্ডকে। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ইমেল পাঠিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    আইসিসি-র প্রোটোকল ভঙ্গ

    টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আলোচনার পর বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথ বেছে নেয়। বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন’ কমিটির কাছে আপিল করা হলেও কমিটি জানিয়ে দেয়, এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ক্ষমতা তাদের নেই। আইসিসির এক গোপন সূত্র জানায়, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইনের মধ্যে বিসিবি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি দল ভারত সফর করবে কি না। উল্টে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান জানানোর কারণে প্রোটোকল ভঙ্গ হয়েছে এ অভিযোগও উঠে আসে। ফলে আইসিসি আর অপেক্ষা না করে বিকল্প দল নির্ধারণের পথেই হাঁটে।

    এই সিদ্ধান্ত সংগঠনিক

    বিসিবি চূড়ান্তভাবে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপে ভারত সফর না করার কথা জানায়। এর ফলে সময় নষ্ট না করে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টুর্নামেন্ট শুরু ১৫ দিনেরও কম সময় বাকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত সংগঠনিক দিক থেকেও অনেকটাই সুবিধাজনক বলে মনে করেন আইসিসি কর্তারা। আরও একটি ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে এ ক্ষেত্রে। আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানোর আগেই ঢাকায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেখানেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও জানান, তাঁরা বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান। এই ঘটনার ফলে আইসিসি-র নিয়ম ভঙ্গ করে বাংলাদেশ। সে কারণেই কড়া পদক্ষেপ আইসিসি-র। বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে। স্কটল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার কথা।

    বাংলাদেশের সূচি অনুযায়ী খেলবে স্কটল্যান্ড

    স্কটল্যান্ড সরাসরি বাংলাদেশের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’তে খেলবে। তাদের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলবে ইউরোপের প্রতিনিধিরা। যোগ্যতা অর্জনের মানদণ্ডে স্কটল্যান্ডই ছিল সবচেয়ে এগিয়ে আইসিসি টি ২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এখনো বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া দলগুলির মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও পূর্ণ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ডের লড়াকু ধারাবাহিকতা আইসিসির সিদ্ধান্তকে আরও যুক্তিযুক্ত করে।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত

    ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বল গড়াবে। তার আগে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে চলছিল টালবাহানা। নিরাপত্তার আশঙ্কায় ভারতে না খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও ছাড় দেয়নি বাংলাদেশকে। আইসিসিও বাংলাদেশের ভেন্যু ভারত থেকে সরাতে নারাজ ছিল। আইসিসি বোর্ডের সভায় ভোটাভুটিতে হারও মেনেছিল বাংলাদেশ। বুধবার আইসিসি একপ্রকার আলটিমেটাম দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ যদি ভারতের মাটিতে এসে না খেলে তাহলে তাদের পরিবর্তে বিশ্বকাপে ঢুকে যাবে স্কটল্যান্ড। আদতে তাই হল। বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের!

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের কী হবে

    ক্রিকেটে নিজেদের রাজনৈতিক ও কট্টরপন্থী অ্যাজেন্ডাকে চরিতার্থ করতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গাঢ় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল বিসিবি। ইউনূস সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে মশগুল হয়ে বিসিবি-কে বলে দিল, ভারতে গিয়ে খেলা যাবে না। বিসিবি-রও হাত-পা বাঁধা। প্লেয়ারদের কী হবে? বাংলাদেশ ক্রিকেটের কী হবে? বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট ট্রফি জেতেনি। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ঠাঁই পেয়েছিল জগমোহন ডালমিয়ার (তত্‍কালীন আইসিসি সভাপতি) দয়ায়। টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষত। স্পনসররা বিদায় নেবে, র‍্যাঙ্কিং পড়ে যাবে, ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলিও অনিশ্চিত।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের আত্মহত্যা!

    সবচেয়ে বড় আঘাত হল, ২০৩১ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার কথা। সেই স্বপ্নও চুরমার হয়ে গেল। বেসিক্যালি, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কবর দেওয়ার সব রকম বন্দোবস্ত করে ফেলল ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিতর্কের আবহ ২০৩১ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই আশঙ্কা আইসিসি-র কর্তাদেরই। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চের কোনও ব্যাক আপ হয় না। বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেট সাংবাদিক শান্ত মাহমুদের সতর্কবার্তা, বয়কটের সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা এবং কেরিয়ারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এত বড় মাপের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ না নিতে পারলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং কেরিয়ারের অগ্রগতিও থমকে যেতে পারে। বিশ্ব ক্রিকেটে স্থান পাওয়া কঠিন, কিন্তু হারানো খুব সহজ। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই প্রান্তে দাঁড়িয়ে। যদি বাংলাদেশের কাছ থেকে বিশ্বকাপের আয়োজনও হাতছাড়া হয় , তাহলে তা খেলার কাছে নয়, রাজনীতির কাছে হারা হবে।

  • Hind Di Chadar: ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ, নান্দেদে মহা আয়োজন

    Hind Di Chadar: ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম বর্ষ, নান্দেদে মহা আয়োজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিখ ধর্মের নবম গুরু, ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৩৫০তম শহিদি সমাগম উপলক্ষে নান্দেদে বহু ভক্তের সমাগম হয়েছে। এই উপলক্ষে আজ, শনিবার ২৪ ও রবিবার, ২৫ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে শিখ, শিকলিগর, বঞ্জারা, লবানা, সিন্ধি, মোহিয়াল, বাল্মীকি, ভগত নামদেব এবং উদাসী—এই নয়টি সমাজ ও সম্প্রদায়ের মানুষ নান্দেদে একত্রিত হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির ত্যাগ, বলিদান এবং মানবতার জন্য শহিদ হওয়ার ইতিহাস দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া।

    ভারতের রক্ষক শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজি

    ধর্ম, রাষ্ট্র ও মানবতার জন্য যাঁরা নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেন শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জি তঁদেরই একজন। অমর গাথার এক অনুপ্রেরণার কাহিনি হল ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জির জীবনকথা। সমগ্র বিশ্ব তাঁকে ভারতের রক্ষক হিসেবে স্মরণ করে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায় ও সহিষ্ণুতার রক্ষার্থে তাঁর বলিদান ভারতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আদেশে তাঁকে আগ্রায় বন্দি করে দিল্লিতে আনা হয়, সেখানে তাঁকে ধর্মান্তরের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের আদর্শের সঙ্গে কোনও আপস করেননি। অবশেষে ১৬৭৫ সালে দিল্লির চাঁদনি চকের শীশগঞ্জে তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়।

    ১০ লক্ষ ভক্তের সমাগম

    শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব জি-র শহীদ দিবসকে স্মরণ করে নান্দেদে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে প্রায় ১০ লক্ষ ভক্ত সমাগম হবে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও ওয়াকফ প্রতিমন্ত্রী মাধুরী মিসাল তাঁর বার্তায় শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজ্য, দেশ-বিদেশ থেকে শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির লক্ষ লক্ষ ভক্ত নান্দেদে সমবেত হয়েছেন। এই উপলক্ষে শিখ, শিকলিগর, বঞ্জারা, লবানা, সিন্ধি, মোহিয়াল, বাল্মীকি, ভগত নামদেব ও উদাসী—এই নয়টি সমাজ ও সম্প্রদায় একত্রে মিলিত হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে ২৬টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, থাকার জায়গা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ সমস্ত সুবিধার ব্যাপক আয়োজন করা হচ্ছে।পাশাপাশি যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্তরে রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ভক্তদের সুবিধার্থে “https://gurutegbahadurshahidi.com” এই ওয়েবসাইটে সড়ক, রেল, বাস, যান চলাচল ব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

  • Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ইউনূসের (Muhammad Yunus)। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে ‘বাঙলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সভায় অডিও বার্তায় এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সদস্য সহ বহু বিশিষ্টজন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে।

    দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত

    ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হবার পর এই প্রথম অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারকে (Muhammad Yunus) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন হাসিনা। অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র নির্বাসনে। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিরাপত্তা নেই।” প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় আগাগোড়া তিনি নিশানা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে কখনও ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও ‘টাকা পাচারকারী’, আবার কখনও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ শানান হাসিনা।

    বিদেশিদের হাতের পুতুল ইউনুস

    শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। দীর্ঘ বক্তৃতায় ইউনূসের সরকারকে ‘অবৈধ’ এবং ‘হিংসাত্মক’ বলেও আক্রমণ শানান তিনি। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, অরাজকতা এবং গণতন্ত্রহীন এক যুগ ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। পড়শি দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধানের জন্য এক অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। এবং ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল হয়ে যাওয়া’ এই সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন হাসিনা। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘এক বিশাল জেলখানা, এক বধ্যভূমি এবং এক মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হাসিনা।

    স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ

    তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন! যে সময়ে তিনি দেশ থেকে উৎখাত হয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেটাই তাঁর শেষ ‘টার্ম’ ছিল। ২৪ ঘণ্টা আগে শেখ হাসিনার ছেলে জয় এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে এবার আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী? এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর একটা অডিয়ো বার্তা! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ নিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট ইউনূস প্রশাসনকে উৎখাতের ডাক দিলেন। গোটা এই পরিস্থিতির জন্য কেবল ইউনূস প্রশাসনকেই দায়ী করেননি তিনি। এর পিছনে বাংলাদেশের সম্পত্তি লুঠের জন্য বিদেশি শক্তির মদতকেও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ এখন একটি অনির্বাচিত ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত, যেখানে সন্ত্রাস চলছে। বাংলাদেশের ভূমি-সম্পদ লুঠের জন্য বিদেশি শক্তি সক্রিয়।” এই ‘অন্ধকার যুগ’ থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশবাসীকে আরও একবার মুক্তিযুদ্ধের শপথ নেওয়ার ডাক দিলেন হাসিনা।

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনূস ও সহযোগীরা, এদিন তা-ও জানান হাসিনা। বললেন, “২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে।” এ প্রসঙ্গেই ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূসের বিরুদ্ধে বলব, নিজের দেশের লোককেই উপেক্ষা করা বন্ধ করুন।” পাশাপাশি তিনি বলেন দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা, ইউনূস প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেদিন থেকে দেশ সন্ত্রাসের কবলে।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ধূলোয় মিশে গিয়েছে। দেশের মেয়ে-নারীরা নির্যাতিত। বিচারব্যবস্থা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

    হতাশ না হবার বার্তা

    এদিন শেখ হাসিনার মুখে শোনা গেছে হতাশ না হবার বার্তা। তিনি বলেছেন, “আশা ছাড়বেন না। যারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাঁদের হাত থেকে আমাদের দেশকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করুন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আওয়ামি লিগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, অবর্ণনীয়ভাবে দেশের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের সঙ্গে মিশে আছে। এই দল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের গর্বিত ঐতিহ্যের রক্ষক। এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে উৎখাতের ডাক দেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির উচিত একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় শপথ নেওয়া।

     

  • SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২৯৪ সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার, কী ভাবছে নির্বাচন কমিশন?

    SIR in Bengal: রাজ্যে আসছেন আরও ২৯৪ সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার, কী ভাবছে নির্বাচন কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR in Bengal) কাজে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকে ২৯৪ জন সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার আসছেন বাংলায়। রাজ্যের কাজে আর কোনওরকম ভরসা করতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। অগত্যা তাই স্ক্রুটিনি ও নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য নির্বাচন কমিশন এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।

    কেন এই পদক্ষেপ

    পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (State and Union Territory) এই মুহূর্তে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে, যাকে বলা হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR in Bengal)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কমিশনের থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল তিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়েছিলেন ২৯৪ জন আধিকারিককে এই রাজ্যে পাঠানোর জন্য। যাদের সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজে ব্যবহার করা হবে রাজ্যের এসআইআর এর চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী সোমবারের মধ্যে এই ২৯৪ জন আধিকারিক রাজ্যে এসে পৌঁছে যাবেন এবং প্রত্যেকেই ২৯৪ টি এলাকার ইআরওদের সঙ্গে মিলে কাজ করবেন। একদিকে স্ক্রুটিনি, অন্যদিকে নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই রাজ্যের ওপর আর কোনওরকমেই ভরসা করতে পারছে না। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।

    সিনিয়র মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে রাজ্য সরকারের কাছে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের জন্য বারংবার চিঠি দিলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। সেই কারণেই রাজ্যে চলা এসআইআর (SIR in Bengal) এর কাজে অনেক বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তাই আর সময় নষ্ট না করে এবং কোনওভাবেই রাজ্যের ওপর ভরসা না করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা ক্ষেত্রে ২৯৪ জন সিনিয়র মাইক্রো অবজারভারকে নিয়োগ করার। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে শনিবার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে। সেখানেও দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। এখনও পর্যন্ত সব তালিকা প্রস্তুত নেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় এই তালিকা শনিবার কতটা প্রকাশ পায় সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কাছে।

  • Election Commission: গাফিলতি দেখলেই পদক্ষেপ করতে পারবেন সিইও! বিএলও-দের কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

    Election Commission: গাফিলতি দেখলেই পদক্ষেপ করতে পারবেন সিইও! বিএলও-দের কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কড়া বার্তা দিল দিল্লির নির্বাচন সদন (Election Commission of India)। পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সামনে রেখেই এই হুঁশিয়ারি বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ সিইও-দের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিধি মেনেই সব রাজ্যের সিইও-দের সেই এক্তিয়ার দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ইতিমধ্যেই সব রাজ্যের সিইও-দের কাছে চিঠি করেছেন। কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএলও-দের গাফিলতিতেই ভুল

    বিএলও-দের বিরুদ্ধে আরও কড়া কমিশন (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে বিএলওদের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে কমিশনকে দোষী হতে হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিভ্রান্তি, অভিযোগ আর অসন্তোষ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এই পরিস্থিতিতে আর নরম মনোভাব নয়, স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হল দিল্লি থেকে। নির্দেশিকায় পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1950) অনুযায়ী বিএলওরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ কর্মচারী। তাঁদের দায়বদ্ধতা একমাত্র কমিশনের প্রতিই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় কমিশনের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে নিজের মতো করে কাজ করছেন তাঁরা। এই প্রবণতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

    কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ

    যদি কোনও বিএলও কোনও ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতিতে যুক্ত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও (District Election Officer), যিনি পদাধিকার বলে জেলাশাসক (District Magistrate), তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ওই বিএলওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজে কোনও ঢিলেমি নয়। নিয়ম ভাঙলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেই। এবার থেকে সিইও-রা নিজে থেকেই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করতে পারেন। এর মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা বা এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিতে পারেন সিইও। এত দিন সিইও-কে বাদ রেখে জাতীয় কমিশন সিদ্ধান্ত নিত৷ এবার সেই স্বাধীনতা দেওয়া হল সিওকে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি, অসদাচরণ, কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা, কিংবা ভোটার নিবন্ধন বিধি অমান্য করলে, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারেন সিইও। পাশাপাশি, কোনও এসআইআর-এর কাজে বিএলও-দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও তৎক্ষণাৎ এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Budget 2026-27: রেলওয়ের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ার ইঙ্গিত, পৌঁছতে পারে ২.৭-২.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা

    Budget 2026-27: রেলওয়ের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ার ইঙ্গিত, পৌঁছতে পারে ২.৭-২.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় বাজেটে রেলমন্ত্রকের অর্থ বরাদ্দ বাড়তে চলেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রেল মন্ত্রকের জন্য প্রায় ২.৭–২.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ সরকারি আধিকারিকরা। এটি গত বাজেটের আনুমানিক ২.৬৫ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২–৪ শতাংশ বেশি। প্রস্তাবিত এই বরাদ্দের মাধ্যমে সরকার রেল খাতে মূলধনী ব্যয়ের গতি বজায় রাখতে চায়। এর পাশাপাশি কেন্দ্র রেল নেটওয়ার্ক জুড়ে গুণগত মান উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি

    সরকারি সূত্র অনুযায়ী, মহামারির পরবর্তী সময়েও ভারতীয় রেলে বিনিয়োগ স্থিতিশীল রয়েছে এবং নীতিনির্ধারকদের মতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নিয়মিত সরকারি অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। একজন শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “প্রতি বছর ন্যূনতম ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয় প্রয়োজন—এ বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ স্তরেও স্বীকৃত। বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগত আমূল পরিবর্তন, ক্রয় ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত করা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগই প্রধান লক্ষ্য।” রেল মন্ত্রকের এক সিনিয়র আধিকারিক জানান, আসন্ন বাজেটের জন্য প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে, তবে গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকার করেন। আধিকারিকরা আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ভারতীয় রেলকে ধারাবাহিক সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

    রেলে আরও গতি বাড়াতে চায় সরকার

    গত বছরের অক্টোবরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শিল্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিলেন যে, ক্রয় প্রক্রিয়ায় মানদণ্ড আরও কঠোর করা হবে। তিনি বলেন, “এখন আর ধাপে ধাপে সামান্য উন্নতি যথেষ্ট নয়। প্রস্তুত থাকুন—যাঁরা মানোন্নয়ন করবেন না, তাঁরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।” শিল্প মহলের মতে, সরকার উন্নতমানের যন্ত্রপাতিতে বেশি ব্যয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্র্যাক বিদ্যুতায়ন প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় আগামী দিনে রেলের মূল নজর থাকবে জট কমানো। রেল চলাচলে গতি বাড়ানোর দিকে। এর মধ্যে নতুন রুট নির্মাণ, গেজ পরিবর্তন, ডাবল লাইন সম্প্রসারণ এবং ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোরের সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়াও, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্রেন পরিচালনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে ঘোষণা করতে পারেন নির্মলা সীতারামন। আগে রেল বাজের আলাদা করে পেশ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অর্থ বাজেটের সঙ্গেই রেলের বাজেট পেশ করা হয়। আলাদা করে রেল বাজেট পেশ করেন না রেলমন্ত্রী। রেল নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে। কারণ, বাজেটের মাধ্যমেই জানা যায়, নতুন কোনও ট্রেন চালু হবে কি না, রেলের ভাড়া বাড়ছে কি কমছে? ইত্যাদি।

  • Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা (Tesla)। ২০২৫ সালে টেসলা ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে ইলন মাস্কের সংস্থা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী

    সূত্রের খবর, চলতি বছরে ভারত থেকে যন্ত্রাংশ কেনায় টেসলার মোট ব্যয় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে পৌঁছতে পারে। তুলনায় ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। চিন ও তাইওয়ানের মতো প্রচলিত উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার কৌশলের সঙ্গে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। শিল্প মহলের মতে, উত্তর আমেরিকার বাইরে টেসলার দ্রুততম বর্ধনশীল সোর্সিং হাবগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ভারত। একাধিক ভারতীয় টিয়ার-১ কম্পোনেন্ট সরবরাহকারী ইতিমধ্যেই ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গত এক বছরে টেসলা ভারত থেকে যে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে, তার পরিমাণ বহুগুণে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধি টেসলার অভ্যন্তরীণ কোডনেমযুক্ত প্রকল্প “রেডউড”-এর সঙ্গে যুক্ত। এটি একটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা একটি কমপ্যাক্ট ক্রসওভার হিসেবে বিশ্ববাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই এন্ট্রি-লেভেল মডেলের সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কারণেই বহু বিলিয়ন ইউরোর কম্পোনেন্ট অর্ডার তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশ পূরণ করছে ভারতীয় সরবরাহকারীরা।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক শুল্কজনিত চাপের তুলনায় টেসলার (Tesla) সোর্সিং সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে খরচে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, প্রকৌশল দক্ষতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটির ডিরেক্টর পুনীত গুপ্ত বলেন, “ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব টেসলার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে খরচ কমে, দ্রুত লোকালাইজেশন সম্ভব হয় এবং চিনের ওপর নির্ভরতা কমে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি লাভজনক। টেসলার সঙ্গে কাজ করা বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে টেসলার সঙ্গে কাজ করা ভারতীয় সংস্থাগুলোর গুরুত্ব বাড়ে।” ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর ফলে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হলেও, ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে টেসলার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

  • Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    Suspect Registry: সাইবার জালিয়াতি দমনে বড় সাফল্য, লক্ষাধিক জাল লেনদেন রুখল কেন্দ্রের ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া জাতীয় সাইবার অপরাধ ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’  (Suspect Registry) ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই রেজিস্ট্রির মাধ্যমে লক্ষাধিক প্রতারণামূলক লেনদেন রিয়েল-টাইমে আটকানো সম্ভব হয়েছে।

    কী এই ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই রেজিস্ট্রির উদ্বোধন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) এই উদ্যোগটি পরিচালনা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য—সাইবার অপরাধীদের আগেভাগেই শনাক্ত করে অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ করা। এই রেজিস্ট্রি তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এ নাগরিকদের জমা দেওয়া অভিযোগ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিভিন্ন পুলিশ দফতরের তথ্যের ভিত্তিতে।

    কীভাবে কাজ করে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি

    বর্তমানে এই রেজিস্ট্রিতে প্রায় ১৪ লক্ষের বেশি সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়। যখনই ইউপিআই, নেট ব্যাঙ্কিং বা ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে কোনও লেনদেন শুরু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট গেটওয়ে সেই তথ্য সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যদি কোনও সন্দেহভাজন সাইবার অপরাধীর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়, তাহলে লেনদেনটি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর আগেই তা আটকানো সম্ভব হচ্ছে।

    এআই প্রযুক্তির ব্যবহার

    এই রেজিস্ট্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ডেটা অ্যানালিসিস ও প্যাটার্ন রিকগনিশন টুল। নতুন অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রিটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, যা একে আরও কার্যকর করে তুলছে। সাসপেক্ট রেজিস্ট্রির অ্যাক্সেস রয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ এই রেজিস্ট্রি ব্যবহার করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ইতিমধ্যেই সব ব্যাঙ্ককে এই রেজিস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    কতটা সাফল্য মিলেছে

    সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ চালু হওয়ার পর প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই— ৬.১০ লক্ষের বেশি প্রতারণামূলক লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৮,০৩১.৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, এই সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি জিএসটি জালিয়াতি শনাক্ত করার জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র ফিশিং, অনলাইন প্রতারণা, ভুয়ো অ্যাপ, আইডেন্টিটি থেফট ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি। এই রেজিস্ট্রি তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকদের গোপনীয়তাও বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি ভারতের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রতারণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনবে।

  • Jammu and Kashmir: কাশ্মীরের ডোডায় খাদে পড়ল সেনার গাড়ি, নিহত ১০ জওয়ান

    Jammu and Kashmir: কাশ্মীরের ডোডায় খাদে পড়ল সেনার গাড়ি, নিহত ১০ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু একাধিক সেনা জওয়ানের। কাশ্মীরের ডোডা জেলায় খাদে পড়ে গিয়েছে সেনার একটি গাড়ি। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। একাধিক জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর। ডোডা জেলায় খান্নি টপে ভাদেরওয়া-চাম্বা রোডের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    কীভাবে ঘটে এই দুর্ঘটনা

    দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার,১৭ জন সৈন্য বহনকারী একটি সামরিক যান উঁচু পোস্টের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ডোডার ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খানি টপের কাছে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দশজন সৈন্য নিহত হন, অন্যরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে সহায়তা করতে সেখানে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযানের সময় ১০ জন সৈন্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত সৈন্যদের উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তিনজনকে হেলিকপ্টার করে উধমপুরের কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডোডা মেডিক্যাল কলেজ থেকেও ডাক্তার ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের একটি দলকে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আহত সৈন্যদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণ হারানো সৈন্যদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিন‍্‍হা সেনা জওয়ানদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে উপরাজ্যপাল সিনহা লেখেছেন, “ডোডা জেলায় সেনার গাড়ি দুর্ঘটনায় আমরা ১০ জন জওয়ানকে হারিয়েছি ৷ এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সাহসী সেনাদের অসামান্য বীরত্ব ও তাঁদের আত্মত্যাগ সর্বদা স্মরণ করব। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।” ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা৷ এক্স হ্যান্ডেলে নিহত সেনা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।কয়েকদিন আগেই গুলমার্গ সেক্টরে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ২ জন সেনা পোর্টার। সেই গাড়িটিও খাদে পড়ে গিয়েছিল।

  • Kolkata Air Pollution: কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট! শিশু এবং বয়স্কদের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ

    Kolkata Air Pollution: কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট! শিশু এবং বয়স্কদের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধূলিকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার নয়, বরং শহরের বাতাসের গুণমাণ নষ্ট করার নেপথ্যে খলনায়ক বিষাক্ত গ্যাস। নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) এবং গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন (O₃)-এর মতো ক্ষতিকারক গ্যাসগুলি কলকাতার বাতাসকে (Kolkata Air Pollution) বিষিয়ে তুলছে। শহরের বায়ুদূষণের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ জায়গায় পৌঁছেছে। বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। তিনি বলেছেন, দিল্লি এবং কলকাতার কারণে দূষণ বাড়ছে। দু’টি শহরের কাছে কোনও সমুদ্র নেই। ফলে যে দূষণ তৈরি হচ্ছে, তা বসে যাচ্ছে। দক্ষিণা বাতাস না থাকায় সেই দূষণ শহর থেকে বেরিয়ে যেতে পারছে না। ফলে বায়ু দূষণের মাত্রা এই জায়গায় পৌঁছেছে।

    কলকাতার দূষণ মানতে বাধ্য হল পুরসভা

    পরিবেশবিদদের মতে, কলকাতার দূষণ কখনোই মানতে চাননি পুরসভার কর্তারা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যত মেয়র বাধ্য হলেন কলকাতা পুরসভায় পরিবেশ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকতে। গত কয়েকদিন ধরে শহরের বায়ুদূষণের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বায়ু দূষণের সূচক অনুযায়ী, বাতাসের দূষণের মাত্রা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বুধবার রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সম্প্রতি ‘রেস্পাইরার লিভিং সায়েন্সেস’-এর (Respirer Living Sciences) একটি সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে । তাদের ‘অ্যাটলাস একিউ’ (Atlas AQ) প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ৮২ দিন এমন ছিল, যখন বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) নিয়ন্ত্রিত হয়েছে মূলত বিষাক্ত গ্যাসের দ্বারা। অর্থাৎ, পার্টিকুলেট ম্য়াটার বা ধূলিকণার থেকেও এই দিনগুলিতে বাতাসে গ্যাসের প্রকোপ ছিল বেশি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কলকাতার দূষণ এখন আর একমুখী নয়, বরং তা ‘মাল্টি-পলিউট্যান্ট’ বা বহু উপাদান-নির্ভর হয়ে উঠছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ৮২ দিন ধূলিকণা প্রধান দূষক ছিল না, তার মধ্যে ৬৮ দিনই বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের আধিপত্য ছিল। ১২ দিন দাপট দেখিয়েছে গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন এবং ২ দিন কার্বন মনোক্সাইড। তবে বছরের বাকি দিনগুলিতে অবশ্য ধূলিকণাই ছিল প্রধান। ১৬৬ দিন পিএম ১০ (PM10) এবং ১১৭ দিন পিএম ২.৫ (PM2.5) ছিল দূষণের মূল কারণ ৷ কিন্তু গ্যাসের এই ক্রমবর্ধমান দাপট নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পরিবেশবিদদের কপালে।

    স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন শহরবাসী

    রেস্পাইরার লিভিং সায়েন্সেস-এর সিইও রৌনক সুতারিয়া বলেন, “আমরা প্রায়শই বাতাসের গুণমান বা একিউআই বলতে শুধুই ধূলিকণা-জনিত দূষণকে বুঝি । কিন্তু তথ্য বলছে পরিস্থিতি আরও জটিল। শহরবাসীরা এমন সব স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা শুধুমাত্র ধূলিকণার হিসেব দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়।” তিনি সতর্ক করে জানান, শহরগুলি যদি দূষণকে শুধুমাত্র ধূলিকণার সমস্যা হিসেবে দেখে, তবে জনস্বাস্থ্যের উপর যে বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে, তার একটা বড় অংশ অদেখা থেকে যাবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড বাড়লে শ্বাসনালীতে প্রদাহ, হাঁপানির টান বাড়া এবং বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, গ্রাউন্ড-লেভেল ওজোন ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

    কেন এই অবস্থা

    বসু বিজ্ঞান মন্দিরের অধ্যাপক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এবছর তাপমাত্রা কম থাকায় মানুষ উষ্ণতার জন্য প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়িয়েছেন। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী পলিনিউক্লিয়ার অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন বাতাসে মিশছে, যা গুরুতর শ্বাসকষ্টের কারণ।” তিনি আরও জানান, এই দূষকগুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘পারোক্সিয়াসিটাইল নাইট্রেট’ (PAN) তৈরি করে, যা এবছর শীতের সকালে দেখা দেওয়া ধোঁয়াশার অন্যতম কারণ ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ধূলিকণা কমানোর চেষ্টা করলেই হবে না, বিষাক্ত গ্যাস নিয়ন্ত্রণেও অবিলম্বে বহুমুখী কৌশল বা ‘মাল্টি-পলিউট্যান্ট স্ট্র্যাটেজি’ নেওয়া প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে কড়া নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

    দূষণের কারণ ও জনস্বাস্থ্যের সতর্কতা

    শহরের (Kolkata Air Pollution) ডানলপ, উল্টোডাঙা, মৌলালি, রবীন্দ্র সরোবর এবং হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাগুলিকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আবহাওয়ার কারণে শহরের দূষণ বাড়ছে, তেমনটা নয়। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজের ধুলো এবং স্থানীয় কলকারখানার ধোঁয়া কলকাতার দূষণের মূল কারণ। যার জেরে তাপমাত্রা বাড়লেও দূষিত বাতাস মাটি থেকে উপরে উঠতে পারছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের এই সময়ে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দূষণ কমাতে নির্দেশ

    কলকাতা পুলিশকে (Kolkata Air Pollution) মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন, দূষণ যাচাই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট যে গাড়িগুলিতে নেই, সেগুলি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়িগুলিকে ভালভাবে পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায়, এখানে যেভাবে ধোঁয়া বেরোচ্ছে, তাতে দূষণ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত গাড়িগুলিকে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করাতে হবে। যানজট মুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে কলকাতা পৌরসভার আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাস্তায় বালি যাতে না পড়ে থাকে। পাশাপাশি, রাস্তায় যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকছে। যেখান থেকে ধুলো উড়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে মত পরিবেশবিদদের। একইসঙ্গে নির্মীয়মান আবাসন বা নির্মাণের কাজ চললে সেগুলোকে বাইরে দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কাপড় দিয়ে বা নির্দিষ্ট আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে না রাখলে, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মেয়রের তরফে। অপরদিকে, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শহর জুড়ে একাধিক জায়গায় মেট্রোর কাজ চলছে। বেশ কিছু জায়গায় খোঁড়ার কাজ হয়েছে। লাইন বসানো হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হচ্ছে না। ঠিকমতো ঢেকে না রাখার জেরে, সেই জায়গাগুলি থেকে ধুলো উড়ে পরিবেশ দূষণ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে শহরে স্প্রিংকলার এবং ফগ ওয়াটার মেশিন ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহর জুড়ে জল স্প্রে করে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মেয়র জানিয়েছেন। প্রয়োজনে শহরে আনাচে-কানাচে জলের ট্যাঙ্ক রাখা হবে। সেখান থেকে জল সরবরাহ করে স্প্রে করা হবে।

LinkedIn
Share